Labels: , ,

ঈদে মিলাদুন্নবী মানা ফরযে আইন না কি উদ্দেশ্য প্রনোদিত?

ইদে মিলাদুন্নবী সর্ম্পকে আমার রাজারবাগী ভাইয়েরা যেই যুক্তি দিয়েছেন তা পর্যালোচনা করে দেখি যদিও পোস্ট টা একটু বড় তবে সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্য সব দিকে আলোচনা করা হয়েছে যা পাঠকের বিরক্তির কারন হবেনা বলে আশা করছি।

আমরা এখানে যৈক্তিক ভাবে আলোচনার মাধ্যমে তাদের এই পোস্টের Click This Link যুক্তি প্রমান সমুহ আবার পর্যবেক্ষন করবো

প্রথমত ওনারা এই আয়াতের কথা বলেন : আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ সূরা মারইয়াম-এর ১৫ নম্বর আয়াত -এ হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনার শানে ইরশাদ ফরমান " তার প্রতি শান্তি-যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে এবং যেদিন মৃত্যুবরণ করবে এবং যেদিন জীবিতাবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।"

এবং অনুরূপ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার নিজের বক্তব্য উল্লেখ করে কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে সূরা মারইয়াম-এর 33নং আয়াতে " আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।"

ভালকথা আমরা ইয়াহিয়া (আঃ) এবং ইসা (আঃ) এর জন্মদিন সম্পকে কোরআনে পেলাম মোহাম্মদ (সঃ) এর জন্মদিন সম্পকে কোরআনে আছে কি?

এরপর ওনারা বলছেন এই আয়াতের কথা :--- আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ সূরা ইউনূস-এর ৫৮ নম্বর আয়াত পাক-এ ইরশাদ ফরমান-
قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو خير مما يجمعون .
অর্র্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় অনুগ্রহ ও রহমত হিসেবে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন। সে কারণে তারা যেনো খুশি প্রকাশ করে। এই খুশি প্রকাশ করাটা সেসব কিছু থেকে উত্তম, যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।”----- উপরের এই বোল্ড করা অংশটা তাদের নিজের যোগ করা আসল টা দেখে নিন লিংক সহ

সূরা ইউনুস আয়াত 57-58 "হে মানবকুল, তোমাদের কাছে উপদেশবানী এসেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য। বল, আল্লাহর দয়া ও মেহেরবাণীতে। সুতরাং এরই প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিৎ। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে যা সঞ্চয় করছ।" Click This Link

ঈদে মিলাদুননবীর জন্য আরো যে আয়াত দেন ওনারা সেটি হলো
---মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ সূরা ফাতহ-এর ৮-৯ নম্বর আয়াত পাক-এ ইরশাদ ফরমান- অর্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শনকারীরূপে। অতএব, তোমরা আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনো এবং উনার খিদমত করো, তা’যীম-তাকরীম করো সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ দায়িমীভাবে উনার ছানা-ছিফত প্রশংসা করতে থাকো।”

হে ঈমানদার বান্দা-উম্মাহ! বর্ণিত আয়াত শরীফ-এ পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পেয়ে আমরা যাতে উনার যথাযথ তা’যীম-তাকরীম, সম্মানসহ সদা-সর্বদা উনারই ছানা-ছিফত বর্ণনা করতে থাকি। এখন এই আয়াত শরীফ-এর আদেশ মুতাবিক যদি উম্মাহরা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে-সম্মানে পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করতঃ তা’লীমী মাহফিল মজলিসের আয়োজন করে, সেটা কোন দলীলের ভিত্তিতে নাজায়িয প্রমাণ করা যাবে? আল্লাহ পাক তিনি যা হালাল করেছেন সেটাকে হারাম-বিদয়াত বলে কোনো ঈমানদার কি কখনো খোদাদ্রোহী ফিরআউনের ক্বায়িম-মাক্বাম হতে চায়?

এবার আসল আয়াতের অর্থ দেখুন ৪৮) সূরা আল ফাতহ আয়াত নং 8-9 "আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি অবস্থা ব্যক্তকারীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে সাহায্য ও সম্মান কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর।" ওনাদের আয়াতের অর্থ দেখুন আর আসল অর্থ দেখুন কেমন পরিবর্তন। Click This Link

নীচে মোহাম্মদ (সঃ) সর্ম্পকে কোরআনের কিছু আয়াত দিলাম দেখেন কোথাও কি ঈদে মিলাদুন্নবীর কথা বলা আছে?

কোথাও কি মোহাম্মদ (সঃ) এর জন্মের কথা বলা আছে? নাই ,আছে শুধু ওনার গুনাবলীর প্রশংসা দেখুন

১। وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِّلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
আমিত তোমাক সমগ্র মানব জাতির প্রতি সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরুপে প্রেরণ করিয়াছি অধিকাংশ মানুষ জানেনা (৩৪ সুরা সাবাঃ২৮)

২।وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا রসুলাল্লাহর ভিতর রয়েছে উত্তম আদর্শ ( সুরা আল-আহযাবঃ২১)

৩।আমতো তোমাকে বিশ্বজগতের প্রতি রহমত স্বরুপ প্রেরন করেছি (সুরা আম্বিয়াঃ১০৭)

৪।“রসুলাল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ(৩৩-২১)

৫।“আমি তো তোমাকে বিশ্বজগতের প্রতি কেবল রহমত স্বরুপ প্রেরন করেছি”(২১-১০৭)

৬।“তুমি অবশ্যই মহৎ চরিত্রের উচ্চতম স্তরে অধিষ্টিত”(৬৮-৪)

৭।“দেখছেন, তারা আপনাকে দেখছে অথচ দেখছে না( অর্থাৎ চিনতে পারছেনা)(৭-১৯৮)

৮।আমিতো তোমাদের মতই একজন সাধারন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদিগের ইলাহ, একমাত্র ইলাহ”(১৮-১১০)

৯। “বল, আমি তো নতুন রসুল নহি। আমি জানি না, আমার ও তোমাদিগের ব্যাপার কি করা হবে। আমি আমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ হয় কেবল তারই অনুসরণ করি। আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র” (৪৬-৯)

কোরআনে সুরা মোহাম্মদ নামে একটি সুরাও রয়য়েছে সেখানেও ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পকে কিছু বলা নেই বরং বলা আছে

10. হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রসূলের (সাঃ) আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না। Sura Muhammad Sura number 47- Ayat 33

এখানে আল্লাহর আনুগত্য মানে কোরআনের নিদেশিত পথে এবং রাসুলের আনুগত্য মানে ওনার দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করা ওনি যেহেতু এটা পালন করেন নি বা সাহাবারাও করেননি আমরা নিশ্চই সাহাবাদের চেয়ে বেশি ঈমানদার নই আর যদি করেন তবে ঐ আয়াতের শেষে বলা আছে "নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না"

আরো দেখুন মোহাম্মদ (সঃ) জন্মের তারিখ সম্পকে সঠিক তারিখ জানা যায় না তবে দিন যে সোমবার সেটা নিয়ে মোটামুটি অনেক প্রমান আছে

আবু কাতাদা আনসারি বলেন যে মোহাম্মদ (সঃ) বলেছেন " ওনাকে একবার সোমবারে রোজা রাখা সম্পকে জিগ্গেস করলে ওনি বলেন এটি সেই দিন যেদিন আমি জন্মেছিলাম এবং যেদিন আমার প্রতি ওহি নাযিল হয়েছিল" - সহিহ বোখারি- কিতাব আস সাউমে পাবেন

ইসলামিক হিস্টোরিয়ান রা ১২ তারিখ নিয়েএকমত হতে পারেন নি আর গুগুলে “prophet muhammad exact date of birth” দিয়ে সার্চ করুন পেয়ে যাবেন আমি একটি সাইট থেকে কিছু তথ্য যোগ করলাম দেখুন বলাহয়েছে

কারো মতে, তাঁর জন্ম তারিখ অজ্ঞাত, তা জানা যায় নি, এবং তা জানা সম্ভব নয়। তিনি সোমবারে জন্মগ্রহণ করেছেন এটুকুই শুধু জানা যায়, জন্ম মাস বা তারিখ জানা যায় না। এ বিষয়ে কোন আলোচনা তারা অবান্তর মনে করেন।

কারো কারো মতে, তিনি মুহাররম মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।অন্য মতে, তিনি সফর মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন। কারো মতে, তিনি রবিউল আউআল মাসের ২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় হিজরী শতকের অন্যতম ঐতিহাসিক ও মাগাযী প্রণেতা মুহাদ্দিস আবু মা‘শার নাজীহ ইবন আব্দুর রহমান আস-সিনদী (১৭০হি) এই মতটি গ্রহণ করেছেন।

*অন্য মতে, তাঁর জন্ম তারিখ রবিউল আউআল মাসের ৮ তারিখ। আল্লামা কাসতাল্লানী ও যারকানীর বর্ণনায় এই মতটিই অধিকাংশ মুহাদ্দিস গ্রহণ করেছেন। এই মতটি দুইজন সাহাবী ইবনে আববাস ও জুবাইর ইবন মুতয়িম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও সীরাতুন্নবী বিশেষজ্ঞ এই মতটি গ্রহণ করেছেন বলে তারা উল্লেখ করেছেন। প্রখ্যাত তাবেয়ী ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আয-যুহরী (১২৫হি) তাঁর উস্তাদ প্রথম শতাব্দীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও নসববিদ ঐতিহাসিক তাবেয়ী মুহাম্মাদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতয়িম (১০০হি) থেকে এই মতটি বর্ণনা করেছেন।

* কাসতালানী বলেন: ‘‘মুহাম্মাদ ইবনে জুবাইর আরবদের বংশ পরিচিতি ও আরবদের ইতিহাস সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম তারিখ সম্পর্কিত এই মতটি তিনি তাঁর পিতা সাহাবী জুবাইর ইবন মুতয়িম থেকে গ্রহণ করেছেন। স্পেনের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফকিহ আলী ইবনে আহমদ ইবনে হাযম (৪৫৬হি) ও মুহাম্মাদ ইবনে ফাতুহ আল- হুমাইদী (৪৮৮হি) এই মতটিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেছেন।

*স্পেনের মুহাদ্দিস আল্লামা ইউসূফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল বার ( ৪৬৩ হি) উল্লেখ করেছেন যে, ঐতিহাসিকগণ এই মতটিই সঠিক বলে মনে করেন। মীলাদের উপর প্রথম গ্রন্থ রচনাকারী আল্লামা আবুল খাত্তাব ইবনে দেহিয়া (৬৩৩ হি) ঈদে মীলাদুন্নবীর উপর লিখিত ‘‘আত-তানবীর ফী মাওলিদিল বাশির আন নাযীর’’ গ্রন্থে এই মতটিকেই গ্রহণ করেছেন।

*অন্য মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম তারিখ ১০ই রবিউল আউয়াল। এই মতটি ইমাম হুসাইনের পৌত্র মুহাম্মাদ ইবন আলী আল বাকের (১১৪হি) থেকে বর্ণিত। দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আমির ইবন শারাহিল আশ শা‘বী (১০৪হি ) থেকেও এই মতটি বর্ণিত। ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ ইবন উমর আল-ওয়াকেদী (২০৭হি ) এই মত গ্রহণ করেছেন। ইবনে সা‘দ তার বিখ্যাত ‘‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’’-য় শুধু দুইটি মত উল্লেখ করেছেন, ২ তারিখ ও ১০ তারিখ [8]।

* কারো মতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম তারিখ ১২ রবিউল আউয়াল। এই মতটি হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (১৫১হি) গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন: ‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতীর বছরে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন” [9]। এখানে লক্ষণীয় যে, ইবনে ইসহাক সীরাতুন্নবীর সকল তথ্য সাধারণত: সনদ সহ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এই তথ্যটির জন্য কোন সনদ উল্লেখ করেন নি। কোথা থেকে তিনি এই তথ্যটি গ্রহণ করেছেন তাও জানান নি বা সনদসহ প্রথম শতাব্দীর কোন সাহাবী বা তাবেয়ী থেকে মতটি বর্ণনা করেন নি। এ জন্য অনেক গবেষক এই মতটিকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন [10]।

* অন্য মতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম তারিখ ১৭ই রবিউল আউয়াল।
* অন্য মতে তাঁর জন্ম তারিখ ২২ শে রবিউল আউয়াল।
* অন্য মতে তিনি রবিউস সানী মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।
* অন্য মতে তিনি রজব জন্মগ্রহণ করেছেন। ।
* অন্য মতে তিনি রমযান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন। ৩য় হিজরী শতকের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক যুবাইর ইবনে বাক্কার (২৫৬ হি) থেকে এই মতটি বর্ণিত। তাঁর মতের পক্ষে যুক্তি হলো যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বসম্মতভাবে রমযান মাসে নবুয়ত পেয়েছেন। তিনি ৪০ বৎসর পূর্তিতে নবুয়ত পেয়েছেন। তাহলে তাঁর জন্ম অবশ্যই রমযানে হবে [11]। সুত্র: Click This Link

The only way we could have been absolutely sure about it was if Prophet Muhammad would have told us that himself, which he actually didn’t. If we consider this fact we would be forced to leave all bid’aat (innovations) attached with 12th of Rabi ul Awwal. Click This Link

পরিশেষে এক তো আমরা মুহাম্মদ (সঃ) এর জন্মদিন সম্পকে নিশ্চিত জানি না শুধু সোমবার রবিউল আউয়াল মাস জানি। আর ওনার জন্মদিনের যখন সঠিক তারিখই পেলাম না সেখানে কি করে ওনার মৃত্যু দিবসে আমরা ঈদ পালন করবো?

এবং আমরা দেখেছি ইয়াহিয়া (আঃ) এবং ইসা (আঃ) এর জন্মদিন সম্পকে কোরআনে পেলাম কিন্তু মুহাম্মদ (সঃ) এর জন্মদিন সম্পকে কোরআনে নাই কেন? আল্লাহ যদি এতই গুগুত্বপুর্ন মনে করতেন তবে অন্য নবীদের জন্মদিন সম্পকে কোরআনে নির্দেশ করতে পারলে মহানবী সম্পকে কেন নয়? আর তাদের আয়াতের ভুল ব্যখ্যাও প্রমান করলাম।

এই হাদিসটি একটু দেখুন "হুজুর (সা.) হিজরত করে মদিনায় আসার পর দেখলেন, মদিনার লোকেরা বছরে দু দিন আনন্দ-উৎসবের দিন হিসেবে আমোদফূর্তি এবং খেলাধুলায় লিপ্ত হয়। এটি ছিলো ইসলামপূর্ব জাহিলিয়াত যুগের রীতি। হুজুর (সা.) সাহাবীদেরকে এটি করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন যে, আল্লাহ তায়ালা এ দু দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দুটি দিন তোমাদিগকে দান করেছেন- ঈদুল আজহার দিন এবং ঈদুল ফিতরের দিন (মেশকাত: আবু দাউদ)" এখানে ঈদে মিলাদুন্নবী বা অন্য কোন ইদের কথা বলা হয় নি।

আর ঈদে মিলাদুন্নবীর ইতিহাস সর্ম্পকে দেখুন : শায়খ আলী মাহফুজ -রাহিমাহুল্লাহ- বলেন : “সর্বপ্রথম এ দিনটি উদযাপন করা হয় মিসরের কায়রোয় : ফাতেমি খলিফারা চতুর্থ শতাব্দীতে এর প্রচলন আরম্ভ করে। তারা ছয়টি মীলাদ বা জন্ম উৎসব প্রবর্তন করে : মীলাদুন্নবী, মীলাদে আলী -রাদিআল্লাহু আনহু-, মীলাদে ফাতেমাতুজ জোহরা- রাদিআল্লাহু আনহা-, মীলাদে হাসান ও হুসাইন- রাদিআল্লাহু আনহুমা- এবং বর্তমান খলিফার মীলাদ। সেই থেকেই তাদের দেশে এ মীলাদগুলো (জন্মানুষ্ঠান) যথারীতি পালন করা হচ্ছিল। অবশেষে এক সময়কার সেনাবাহিনী প্রধান আফজাল এসব মীলাদ রহিত করে দেন। খলিফা আমের বিআহকামিল্লাহ নিজ শাসনকালে পুনরায় এসব মীলাদ চালু করেন, অথচ মানুষ এসব মীলাদ ভুলতে আরম্ভ করেছিল। সপ্তম শতাব্দীতে “ইরবিল” শহরে সর্বপ্রথম এ মীলাদ আরম্ভ করেন বাদশাহ আবু সাঈদ, সেই থেকে আজ পর্যন্ত চলে আসছে তা, বরং তাতে আরও বৃদ্ধি ও সংযোজন ঘটেছে। তাদের রিপু ও প্রবৃত্তির চাহিদা মোতাবেক সব কিছু তারা এতে যোগ করেছে। তাদেরকে এর প্রত্যাদেশ করেছে মানব ও জিন শয়তানেরা”। “আল-ইবদা ফি মাদাররিল ইবতেদা” (পৃষ্ঠা নং: ২৫১)

এবং: শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ -রাহিমাহুল্লাহ- বলেছেন : “অনুরূপ কতক লোকের (মীলাদুন্নবী) আবিষ্কার, তারা হয়তো নাসারাদের অনুকরণে, অধিকন্তু তার জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে দ্বিমত তো রয়েছেই। যেমন তারা ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মানুষ্ঠান পালন করে, অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত ও সম্মানের খাতিরে, আল্লাহ তাদের এ মহব্বত ও সম্মানের প্রতি সাওয়াব দিতেও পারেন, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিনকে ঈদ হিসেবে পালন করার জন্য নয়,কারণ আমাদের পূর্বসূরি ও আদর্শ মনীষী কেউ এটা পালন করেননি, অথচ তখনো এর দাবি বিদ্যমান ছিল, কোন বাঁধা ছিল না, যদি এটা কল্যাণকর হতো অথবা ভাল হতো, তাহলে আমাদের পূর্বসূরিগণই এর বেশী হকদার ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত আমাদের চেয়ে তাদের মধ্যে বেশী ছিল। তারা তাকে আমাদের চেয়ে অধিক সম্মান করতেন। আমাদের চেয়ে তারা কল্যাণের ব্যাপারে অগ্রগামী ছিলেন। বস্তুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিপূর্ণ মহব্বত ও সম্মানের পরিচয় হচ্ছে, তার আনুগত্য ও অনুসরণ করা, তার নির্দেশ পালন করা এবং প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে তার সুন্নত জীবিত করা, তার আনিত দ্বীন প্রচার করা এবং এ জন্য অন্তর-হাত ও মুখ দ্বারা জিহাদ করা, কারণ এটাই আমাদের পূর্বসূরি মুহাজির, আনসার ও তাদের যথাযথ অনুসারীদের নীতি ও আদর্শ ছিল”। ইকতেদাউস সিরাত : (পৃষ্ঠা: ২৯৪-২৯৫)

এবার আসুন জানি কেন তারা পালন করতে চাইছে তার আসল উদ্দেশ্য :
টাকা দিলে বেহেস্তের টিকেট: মুজাদ্দিদে আ’যম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম-উনার ক্বওল শরীফ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তোমরা খরচ করো।’ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘সখী‘ বা দানশীল হচ্ছে ‘হাবীবুল্লাহ’।’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে যে ব্যক্তি এক দিরহাম খরচ করবে সে ‘হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম’ উনার সাথে জান্নাতে থাকবে, পবিত্র বদর ও পবিত্র হুনাইন জিহাদে শরীক থাকার ফযীলত পাবে, উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ দান করার ফযীলত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!
তাই সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে সাধ্য সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করা বা খিদমতের আঞ্জাম দেয়া। দেখুন ওদের ওয়েব সাইটে http://al-ihsan.net/

তার মানে ওরা এই আয়াতকে অস্বীকার করছে না? আমার তো তাই মনে হয় যেখানে সুস্পস্ট বলা আছে :"“বল, আমি তো নতুন রসুল নহি। আমি জানি না, আমার ও তোমাদিগের ব্যাপার কি করা হবে। আমি আমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ হয় কেবল তারই অনুসরণ করি। আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র” (৪৬-৯)"

ওদের ঐ পোস্টে জামিল হাসান বলেছেন: উৎসব বা অন্যান্য আনন্দ দিবসে প্রচুর টাকা খরচ করতে হয় টাকা খরচ আসলে হয়ে যায় । আল্লাহ্‌র রসূল সল্লালহআলাইহিসসালাম এর মৃত্যু দিবসে ঈদ ঘোষণা করা এটা পেট পূজারী ভণ্ড পীরদের টাকা ইনকাম করার একটা উপায় কেননা এটা ত ঈদ ।আর ঈদের দিন বকশিস হাদিয়া দেয়া ত বাংলাদেশে কালচার । ভক্তরা ত ভণ্ড পীরের পায়ে অনেক বকশিশ দিবে আর পীর মাল কামাবে তাই না কি বলেন?

আর রাসুল কে যারা ভালবাসে তারা যদি পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে ওনার দেখানো পথে জীবন চালায় তবেই তিনি বেশি খুশি হবেন কারন নামাজে আপনি দুরুদ পরেন আর ওনার জীবন ফলো করে সৎ ও ভালো থাকবেন সেটাইতো মুল উদ্দেশ্য তাই নয় কি। এর জন্যই তো আমাদের মহানবী (সঃ) এত কস্ট সয়েছিলেন মানুষকে ঠিক পথে রাখান জন্য আর সেই মানুষ যদি ওনার জন্মদিনের নামে টাকা পীরের দরবারে ঢালতে থাকে তবে সবচেয়ে অপমান মোহাম্মদ (সঃ) কেই করা হচ্ছে

পাচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যমে আপনি পাচ বার দুরুদ পরছেন মহান আল্লাহর সাথে মিলিত হচ্ছেন সে হিসেবে প্রতিদিনই তো খুশির দিন তাই না?আফসোস! আমরা তাও নিজেদের ইচ্ছামত আনন্দের দিন বানিয়ে নেই


এবং

আর আমরা সেইকথা কি করে ভুলে যাই যে আবু বকর মোহাম্মদ (সঃ) এর মৃত্যুর পর বলেন ": এখন যারা মোহাম্মদ (সঃ) কে উপাসনা করতে জেনে নাও তিনি মৃত্যু বরন করেছেন আর যারা আল্লাহর উপাসনা করে জেনে রাখ তিনি সদা বিদ্যমান এর পর তিনি সূরা আল ইমরান আয়াত ১৪৪ পাঠ করেন "আর মুহাম্মদ একজন রসূল বৈ তো নয়! তাঁর পূর্বেও বহু রসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে কি তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুতঃ কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে তাতে আল্লাহর কিছুই ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন। "

ইদে মীলাদুন্নবী (সঃ) যে ফরজে আইন নয় তার প্রমান হিসেবে ভিডিও: https://www.youtube.com/watch?v=yE9gX1JIKS4

1.



2. Fighting over Maulid/the Birthday of the Prophet PBUH? https://www.youtube.com/watch?v=Pfp3f6Bumm0

3.Celebrating Mawlid un Nabi innovation (Eid Milad un Nabi) Prophets Birthday-
https://www.youtube.com/watch?v=PhbXXuJ6grA




4. Is Celebrating Birthdays or Anniversaries forbidden (HARAM) in Islam Dr Zakir Naik 


আমার পোস্টের মুল কথা : ঈদে মিলাদুননবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত ও সম্মানের খাতিরে পালন করতে সমস্যা দেখিনা , আল্লাহ আমাদের এ মহব্বত ও সম্মানের প্রতি সাওয়াব দিতেও পারেন তবে এটি নিশ্চই নামাজের মত ফরযে আইন নয় সে বিষয়ে আপনারাও একমত হবেন?

আর যখন আমরা পালন করবো তো কি ভাবে পালন করলে সবচেয়ে ভাল হয়, হাদীস অনুযায়ী বলাযায় এই দিনে রোজা রাখা যায় আর আবু লাহাব যেমন করে দাসী কে ছেরে দিয়েছিলেন খুশিতে তেমনি এইদিনে আমরা গরীব দের কে সাহাজ্য করতে পারি সমাজ ও রাস্ট্রের উন্নয়নে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসুচী নিতে পারি বা মসজিদে মুহাম্মদ (সঃ) জীবনী নিয়ে আলোচনা করতে পারি , বাচ্চাদের ওনার সম্পকে জানাতে পারি তাই না। কোন এক নিদ্দিস্ট পীরের কাছে যেতে হবে কেন?

এবং উপরোক্ত কাজ সমুহ করতে আমার কোনই দ্বিমত নাই সমস্যা হলো যখনই এই ব্যপারটাকে ফরজে আইন বলা হচ্ছে যা ঠিক না আর তাদের দরবার শরীফে যেতে তারা ওনার সীরাত করারও বিরোধি তাইলে এইটা সুস্পস্ট ধান্দাবাজি করছে না?

আমি সত্য সবার সামনে তুলে ধরার জন্য যথা সম্ভব চেস্টা করেছি সঠিক তথ্য দিতে তবে আমারও ভুল হতে পারে ভুল হলে ধরিয়ে দিবেন যাতে শুধরে নিতে পারি তবে যৈক্তিক ভাবে তা তুলে ধরবেন আর ওনাদের জবাব জানতে চাইলে দেখতে পারেন যা নাকি ওনাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব তো যারা জবাব পেয়ে দাত খুয়াইতে চান এখানে গুতা মারেন Click This Link আমার দাত সহিহ সালামতে ঠিক আছে তাই এই পোস্টের অবতারনা

অরো জানতে এখানে দেখুন ইসলামে ঈদে মীলাদুন্নবী পালনের বিধানের উপর কিছু ফাইল http://www.quraneralo.com/miladunnabi-files/ এবং এখানে Click This Link
আল্লাহ সবাইকে বোঝার তৈফিক দিন। আর আমার ভুল গুলো ক্ষমা করুন। আমিন

লিখেছেন-  ফয়সাল হাসান

2 comments:

  1. সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে ভুল, বিভ্রান্তিমুলক কুফরী বক্তব্যের উপযুক্ত জবাব (সংকলন) গুলোর জানতে নিচের লিংক দেখুন

    http://shobujbanglablog.net/60054.html

    ReplyDelete