শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Showing posts with label মোহাম্মদ (সঃ). Show all posts
Showing posts with label মোহাম্মদ (সঃ). Show all posts
Labels: , ,

বউ পেটাবি? ইসলামি শরিয়ত মতেই পেটা।

ডমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে লেখালেখি করার অনুরোধ অনেকে করেন। আগেও লিখেছি বহুবার, আজকে আবারও লিখলাম। দেখা যাক কারও কোন পরিবর্তন ঘটে কিনা।

প্রথমেই একটা হাদিস বর্ণনা করি। সহিহ হাদিস। অনেকেই হাদিসটি শুনেছেন - এবং অবশ্যই হাদিসটি নিয়ে ইস্যু বানিয়েছেন। 

"যদি আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে সিজদাহ দেয়ার অনুমতি থাকতো তবে আমি নারীদের নির্দেশ দিতাম তাঁরা যেন তাঁদের স্বামীদের সিজদাহ দেয়।"

ও মাই গড! আল্লাহর নবী কী বলে ফেললেন! এ যে সুস্পষ্ট পুরুষবাদী মন্তব্য! আগেই বলেছিলাম, ইসলাম নারিপুরুষে বৈষম্য সৃষ্টি করে। মেয়েদের দমিয়ে রাখে। ব্লা ব্লা ব্লা।

হ্যাং অন মাই মাদার্স এন্ড সিস্টার্স ইন ইসলাম। চিন্তা ভাবনা না করে মন্তব্য করা তাসলিমা নাসরিনের কাজ। আপনাকে বুঝতে হবে কথাটার গভীরতা কী।

ইসলামে কেন আল্লাহকে সিজদাহ করতে বলে জানেন? কারন তিনি আমাদের “রব।” 
"রব" শব্দের অর্থ হচ্ছে যিনি একই সাথে আমার সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, লালনকর্তা, রক্ষাকর্তা ইত্যাদি, মোটকথা আমার পুরো অস্তিত্বের মালিক। মানে হচ্ছে তিনি হচ্ছেন আমার "আলটিমেট অথরিটি।" 
যাঁর প্রতি জেনুইন শ্রদ্ধায়, কৃতজ্ঞতায়, ভালবাসায় আমি আমার মাথা মাটিতে নত করি। 
তাহলে বুঝতে পারছেন প্রতিটা স্বামীকে তাঁর স্ত্রীর প্রতি কোন লেভেলের দায়িত্ব পালন করতে হবে যাতে তাঁর স্ত্রী (নবীর অনুমতি থাকলে) "জেনুইন" শ্রদ্ধায়-ভালবাসায়-কৃতজ্ঞতায় মাথা নত করে দিত? 
কাজটা ভয়ংকর কঠিনরে ময়না। বৌয়ের "জেনুইন শ্রদ্ধা" পাওয়ার তুলনায় এভারেস্ট জয় করা নিতান্তই ডাল ভাত।

কাজেই যেসমস্ত মহিলারা হাদিসটা শুনে কপালটা কুঁচকে গালাগালি শুরু করে দিয়েছিলেন, তাঁরা এখন দয়া করে কপালটা ইস্ত্রী করে ফেলুন।

এবং যে সমস্ত পুরুষেগণ হাদিসটার ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে এতদিন ফায়দা লুটে এসেছেন - তাঁরা তওবা করে আবারও কলিমা পরে মুসলমান হন। হাদিস বিকৃতি করাটাও ভয়াবহ শির্ক। 
কথা যখন উঠলোই, তখন আরেকটা হাদিস বলে নেই।

আমাদের দেশে একদল পারভার্ট বউ পিটিয়ে বিমলানন্দ লাভ করে। তাদের যখন বলা হয়, "ওহে জানোয়ার, তুই বউ পেটাস কেন?"
উত্তরে নপুংশকটা জবাব দেয় - "আল্লাহ কুরআনে অনুমতি দিয়েছে - তোমার কী?"

বদমাইশটাকে যখন আরেকটা হাদিস (সহিহ)"হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর দাসীদের গায়ে হাত তুলো না" শুনিয়ে বলা হয় "নবীজি (সঃ) জীবনেও তাঁর স্ত্রীদের গায়ে হাত তোলেননি, তাহলে কী তিনি আল্লাহর নির্দেশ মানেন না?" 

তারপরেও ফকিরনিরা একই কথাই আওড়ায়, কুরআন শরীফের সুরাহ নিসায় আল্লাহ পাক বলেছেন, "বৌদের গায়ে হাত তোলা জায়েজ।"
বৌকে যদি ভালবাসতে না পারেন, তাহলে বিয়ে করবেন না। আর যদি কাউকে মারধর করতেই হয়, তবে বক্সিং ক্লাবে ভর্তি হন। মেয়ে মানুষ কোন বালির বস্তা না যে সেখানে আপনি বক্সিং প্র্যাকটিস করবেন।
কথা বাড়াবার আগে নবীজির (সঃ) হাদিসটা ব্যাখ্যা করি। বুঝবেন কেন এই ভদ্রলোক বিশ্বের সর্বকালের সর্বসেরা মানব। যাঁর প্রতিটা কথার গভীরতা অতল।

তিনি কিন্তু বলতে পারতেন, "তোমরা মেয়েদের/নারীদের গায়ে হাত তুলো না।" তিনি কেন বললেন "আল্লাহর দাসী?"
ব্যাখ্যাটা সহজ।
ধরুন আপনি একটি পার্কে গেলেন। পার্কের একটি বেঞ্চ খুঁজে বের করে হুদাই লাথি দিয়ে বেঞ্চটাকে ভেঙ্গে ফেললেন।
বেঞ্চটা যেহেতু সরকারী সম্পত্তি, শেখ হাসিনা নিশ্চই আপনার সাথে বেঞ্চ ভাঙ্গা নিয়ে ঝগড়া করতে আসবেন না।
কিন্তু আপনি যদি আমার ড্রয়িংরুমে এসে হুদাই আমার সোফা ভাঙ্গেন, তাহলে আমিও নিশ্চিত করবো যে আপনি আমার সদর দরজা দিয়ে হুইল চেয়ারে বসে বের হবেন।

"আল্লাহর দাসী" সম্বোধনের মধ্য দিয়ে নবীজি (সঃ) মানুষদের সাবধান করে দিয়েছেন যে এদের ঘাটাঘাটি করলে আল্লাহ নিজে ইনভল্ভড হবেন। এখন আল্লাহর বিরুদ্ধে যাবার সাহস তোমার আছে?
নিজের চোখে দেখা একটা কেস বলি। আপনিও আশেপাশে তাকান, এমন হাজারো কেস দেখতে পাবেন। 
এক মহিলাকে তার বর শুধুশুধু পেটাতো। কারন he is the man! Cowboy! 

একটা সময়ে ব্যাটা স্ট্রোক হয়ে বিছানায় পরে গেল। পনেরো বছর হয়ে গেছে - এখনও সে বিছানায় পরে পরে প্রতিমুহূর্তে মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করছে। তার দেখাশোনা করছে কে? সেই মার খাওয়া বউটা। আল্লাহর দাসী!

বউ পিটিয়ে কেউ জীবনে উন্নতি করতে পারেনা, সুখী হবারতো প্রশ্নই উঠেনা। চ্যালেঞ্জ দিলাম, পারলে ভুল প্রমান করে দেখান।

এখন আসি, কোরআনের সেই সর্বদা বিকৃতি ঘটানো আয়াতটিতে। যে আয়াতটি ভাঙিয়ে তসলিমা নাসরিন, আসিফ মহিউদ্দিনরা এখনও তাদের পেট পালে। তাদের কথা বিশ্বাস করে একদল লোক বেহুদা ফাল পাড়ে। আবার তাদের ফালাফালির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আরেকদল দল জলকে আরও বেশি ঘোলা করে।

কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে জন্মে, বাংলাদেশে বড় হয়ে, বাংলায় কথা বলে কোন সাধারন ছেলেকে যদি আমি মেঘনাদ বধ মহাকাব্য ধরিয়ে বলি "পড়ে শোনা," ছেলেটা মহাকাব্যের শক্তিশালী শব্দ ঝংকারে মুগ্ধ হতে হতে একেবারে কুপোকাত হয়ে বলতে বাধ্য হবে, "কী ভাষায় লিখছে ভাই? এইটা কী বাংলা?"
সেখানে ক্লাসিক্যাল আরবির (বর্তমান আরবদেরও পক্ষে সেই ভাষা কঠিন) অতি দূর্বল তর্জমা পড়ে কেউ যদি কুরআন শরীফের সমালোচনা করতে বসে - তাহাকে আহাম্মক না বলিয়া আর কী নামে ডাকা যায় তাহা আমার বোধগম্য নয়।

কথা না বাড়িয়ে পুরো আয়াতটা পড়া যাক।
"পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল (Protectors and maintainers of women) এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য (শারীরিক শক্তি) দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় (support them from their means) করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং "প্রহার" কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।"
পুরো আয়াতটি পড়লেই কিন্তু কোন কিছু ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়না। এত সুন্দরভাবে ব্যাখা করা হয়েছে যে না বুঝার কোন উপায়ই নেই।

তারপরেও পোলাপান যেহেতু বুঝতে পারেনা, কাজেই আরও সহজভাবে ব্যাখ্যা করছি।
প্রথম অংশে বুঝাই যাচ্ছে, আল্লাহ পুরুষদের দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর স্ত্রীদের জন্য খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করতে।

এখন মেয়েরা যারা ঘরে থাকে, তাঁদেরকে আল্লাহ বলেছেন, "তাঁরাই ভাল, যারা লোকচক্ষুর আড়ালেও নিজেদের হেফাজত করেন।"
ঐশ্বরিয়ার স্বামী বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলে তাঁর বাড়িতে কী ঘটে সেই খবর মানুষের জানার কথা না। এখন ঐশ্বরিয়া তখনই একজন আদর্শ নারী হবে যখন সে তাঁর স্বামীর অবর্তমানে আমাকে চুপি চুপি তাঁর ঘরে ডাকবে না।
এই পর্যন্ত ঠিক আছে? আশা করি সবাই একমত। 

যদি কেউ বলতে চান যে "প্রাপ্তবয়স্ক নারীপুরুষ পরষ্পরের সম্মতিতে ইয়ে করতেই পারে।" - তাঁদের বলছি, নিজেদের ঐশ্বরিয়ার স্বামীর অবস্থানে ফেলে কল্পনা করুন। ব্যপারটা যে অনৈতিক সেটা বুঝতে পারছেন?
না বুঝলে এইটা ভাবুন, ঠিক যে কারনে আপনি নিজের মাকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বাড়িতে একলা ছেড়ে আসবেন না। হু.ম.এরশাদ প্রাপ্তবয়ষ্ক, আপনার মাও প্রাপ্তবয়ষ্কা - কিন্তু তারপরেও কিছু সম্পর্কের বর্ডারে কাঁটা তারের বেড়া থাকতে হয়।

যাই হোক, ঐশ্বরিয়ার স্বামী দেখলো আমার সাথে রাতের পর রাত জেগে তাঁর স্ত্রী গল্প করে - টেক্সট ম্যাসেজ পাঠায় - শপিংয়ে ঘুরতে বেরোয়, এবং সবচেয়ে ভয়াবহ এবং বিরক্তিকর যা তা হলো সে প্রায়ই বাড়িতে এসে দেখে আমি বেরিয়ে যাচ্ছি।
আপনি হলে কী করতেন?
আমি বলি, এভারেজ অ্যামেরিকান দম্পতিদের ডমেস্টিক ভায়োলেশনের প্রধান কারনই গার্ল ফ্রেন্ড/ওয়াইফদের "চিটিং।" 
একজন সুস্থ মাথার পুরুষ জীবনেও, কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারবে না তাঁর জীবন সঙ্গিনী তাঁকে ফেলে আরেকজনের সাথে কেলিয়ে বেড়াচ্ছে।
এইসব কোন্দল অনায়াসে খুন খারাবি পর্যন্ত গড়ায়। 

জ্বী, আমি অ্যামেরিকান পুরুষদের কথা বলছি। পৃথিবীর সবচেয়ে মডার্ন, শিক্ষিত, সেকুলার, মুক্তমনা পুরুষদের জাত।
সেখানে কুরআন কী নির্দেশ দিয়েছে? প্রথমে "সদুপদেশ দাও।"
মানে যখন আপনি দেখবেন আপনার স্ত্রী আমার সাথে একটু বেশি বেশিই করছে, তখন প্রথমেই ঝগড়া টগরা না করে আপনি অতি মধুর কন্ঠে, ভদ্রতার সাথে বলবেন, "ডার্লিং, তুমি প্লিজ ঐ মঞ্জুর ছেলেটার সাথে এইভাবে মেলামেশা করো না। এই কাজটা ভাল না।"

কথা হচ্ছে, আপনি যখন আপনার স্ত্রীকে আমার সাথে এইভাবে ঘনিষ্ট মেলামেশা করতে দেখবেন, তখন কী বাস্তবে এমন ঠান্ডা মাথায় কথা বলতে পারবেন? কিন্তু কুরআন ঠিক এই নির্দেশটাই দিয়েছে। কাকে অধিকার বেশি দিল তাহলে?
তারপরেও যখন দেখবেন বউ আমার সাথে মেলামেশা বন্ধ করছেন না, তখন বলা হয়েছে - "শয্যা ত্যাগ কর।"

মানে বালিশ নিয়ে আলাদা শোয়া শুরু করুন। দেখুন মাঝরাতে অ্যাশ আপনাকে মানাতে আসেন কিনা।
যদি দেখেন আপনার সাথে শোয়া না শোয়ায় তাঁর কিছুই যায় আসে না, অন্য অর্থে অন্যের সাথে সে শোয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে - ঠিক তখনই আপনাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাঁকে "প্রহার" করতে। তবে এখানেও একটু ইন্টারেস্টিং ব্যপার লক্ষ্যনীয়। বাক্যটিতে যে verb (দারাবা) ব্যবহার করা হয়েছে - সেই একই verb তায়াম্মুমের (পানির সংকট থাকলে মাটি ঘসে পবিত্র হওয়ার যে সিস্টেম আমাদের ধর্মে চালু আছে) নির্দেশনামায় ব্যবহার করা হয়েছে। 

"ওয়াদরিবুহুন্না।" যার আক্ষরিক অনুবাদ করলে হবে 'তাদের প্রহার কর' বা 'strike them.' এর কোনটাই কিন্তু বাক্যটিতে ঠিকমতন ফিট করেনা। কারণ এটা যদি ফিট করে তাহলে বলতে হবে তায়াম্মুমের সময়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে মাটিকে পেটাতে। তার মানে ওদের প্রহার করলেও এমনভাবে করতে হবে যেভাবে আপনি তায়াম্মুম করেন। মানে হাল্কা হাত ঘষাঘষি। স্কলাররা বলেন মেসওয়াক (নিম ডালের টুথব্রাশ) দিয়ে আঘাত। তাও এমনভাবে যে শরীরে দাগ বসতে পারবেনা - মুখেতো মারতেই পারবেন না।আরও অনেক নিয়ম কানুন আছে। 

এবং সবার আগে মাথায় রাখতে হবে হাদিসটির কথা - "আল্লাহর দাসীদের গায়ে হাত তুলো না।"
চিন্তা করে দেখেন, কোন লেভেলের এক্সট্রিম অপরাধ করলে মেয়েদের গায়ে মেসওয়াক দিয়ে আঘাতের কথা বলা হয়েছে, আর আমাদের দেশ বিদেশের মূর্খ্য পুরুষ মানুষ ডালে সামান্য লবণ কম বেশি হলে মেয়েদের গায়ে হাত তোলে!

এখন মেয়েরা, আপনারা বুঝতে পারছেন যে কুরআন আসলে আপনাদের প্রাণ রক্ষা করেছে? কারন যেকোন পুরুষ যদি দেখে তাঁর প্রেয়সী অন্যের সাথে ইটিশপিটিশ করছে - প্রথম চিন্তাটা যা তাঁর মাথায় আসবে তা হচ্ছে আপনাকে খুন করে ফেলতে হবে। সেখানে আল্লাহ বলেছেন খুব বেশি হলে মেসওয়াক দিয়ে আঘাত করতে!

তাও আবার আয়াতের শেষে আল্লাহ বলেছেন যদি কেউ ভুল বুঝতে পারে, এবং অনুতপ্ত হয় তাহলে তাঁকে ক্ষমা করে দিতে।
বাবারে! এত বড় কলিজা কোন পুরুষের আছে? কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ বলে কথা!

এবং পুরুষেরা, যারা পুরো আয়াত না পড়ে শুধুমাত্র একটা শব্দ ধরে নিয়ে বউদের গায়ে হাত তুলে এসেছেন, তাঁরা এখন কানে ধরে সেই বউদের সামনে উঠবস করে ক্ষমা চান। কারন তাঁরা ক্ষমা না করলে তাঁদের মালিক ব্যপারটাকে পার্সোনালি নিবেন - এবং তাহলেই আপনার খবর আছে। You have news. কারন আল্লাহ আয়াতটা শেষ করেছেন কিভাবে দেখেছেন? "নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ।" তুমি যতই বৌয়ের উপর কর্তৃত্ব ফলাও না কেন, তোমার উপরে একজন আছেন যিনি কারও পরোয়া করেন না।

0 comments
Labels: , , ,

কাব বিন আশরাফসহ যাদের অশ্লিল কবিতা লেখার অপরাধে মৃত্যুদন্ড হয়েছিল


কোপাকুপি নিয়ে কিছু প্রমানসহ একটা লেখা লিখলাম। প্রতিটা প্রমান দিলাম কার জীবনী থেকে? হযরত মুহাম্মদ (সঃ), দি আল্টিমেট মুসলিম/ইসলামিক স্কলার অন আর্থ। দিনের আলোর মতই বুঝিয়ে দিলাম ইসলামের নামে আর যাই হোক কোপাকুপি নিষিদ্ধ। কিন্তু অনেকেই আমার কথা মানতে নারাজ।
কেউ কেউ বলছেন, ওদের অশ্লীলতা এত প্রকট যে মেজাজ ঠিক রাখাটাই দায়।


সহিহ বাত। অবশ্যই মেজাজ খারাপ হবে। আমার মা বাপকে নিয়ে কেউ ফালতু কথা বললে ঘুষায়ে দাঁত ফেলে দিতে ইচ্ছে করে। আমার দেশকে নিয়ে কেউ উল্টাপাল্টা কথা বললে আমি মুখ দিয়ে মেশিন গান ছোটাই। ক্রিকেটারদের অপমান করাটাই যা আমরা মেনে নিতে পারিনা সেখানে আল্লাহ এবং নবীর (সঃ) স্থানতো আরও অনেক অনেক উপরে। অবশ্যই রাগ করা উচিৎ। আমরাতো রোবট না - আমাদের ইমোশন আছে। তবে সেই আল্লাহ এবং নবীই (সঃ) শিক্ষা দিয়েছেন রাগকে কন্ট্রোল করতে। ঠিক যেমনটা সুন্দরী মেয়ে দেখে আমার মনে প্রেম জাগে, কিন্তু তার মানে এই না যে আমি গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে ফেলবো। নিজের মনকে কন্ট্রোল করাটাই ইসলাম। নাহলেতো আমার আর জংলি জানোয়ারের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকেনা। 


অনেকেই আমাকে কিছু নাম দিয়ে বলছেন "এর সাথে তাহলে এমনটা হয়েছে কেন?"
তাঁদের আলাদা আলাদা করে বারবার একই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে আজকের দিনটাই শেষ হয়ে গেল। এরচেয়ে ভাল একটা আস্ত পোস্ট দিয়ে দেই। কারও উত্তরের প্রয়োজন হলে সরাসরি আস্ত পোস্ট কপি পেস্ট করে দিবেন। যদি তাঁদের সামর্থ্য থাকে, তাহলে আমার উল্লেখ করা ঘটনাগুলো মিথ্যা প্রমান করে দেখাক। ঘটনাগুলো ডক্টর ইয়াসির ক্বাদী এবং ওস্তাদ নোমান আলী খানের মুখ থেকে শোনা। এই মুহূর্তে বিশ্বখ্যাত দুই ইসলামিক স্কলার।
তাহলে শুরু করি? 


বিসমিল্লাহ। 

এক নম্বর নাম: কাব বিন আশরাফ। লোকটাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল। বিজ্ঞ জনের অভিমত এই কবি (তখনকার যুগের ব্লগার) ইসলাম, নবীজি (সঃ) ও মুসলিমদের বিশেষ করে মুসলিম নারীদের জড়িয়ে অশ্লীল থেকে অশ্লীলতম কবিতা (ব্লগ) রচনা করতো। একারনেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এই কাব বিন আশরাফ নিয়ে কথা তোলার আগে আমাকে বলুন সে কে ছিল? মানে তার গোত্র কী? বনু নাদির। জ্বী, এই সেই খন্দকের যুদ্ধের বিশ্বাস ঘাতক (আধুনিক টার্ম হবে "রাজাকার," মদিনাবাসী হয়েও মদিনা সনদ ভঙ্গ করে হানাদার কুরাইশদের সাহায্য করেছে যুদ্ধে - যদি সফল হতো মুসলিমরা এক ঝটকাতেই সব নিঃশেষ হয়ে যেত) বনু নাদির গোত্র। কাবকে শুধু একাই নয়, ওদের আস্ত গোত্রের যুদ্ধ করতে সমর্থ্য সব পুরুষদের মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল। আমাদের রাজাকার, আল বদর, আল শামসকেও সময় মতন এইভাবেই ঝুলিয়ে দিলে আজকে দেশটা অনেক সুন্দর হতো। নবীজির (সঃ) জীবনী থেকে আমরা কোন শিক্ষাই নিতে পারিনা, আফসোস।


যাই হোক, তা এই কাব বিন আশরাফ অশ্লীল, উস্কানিমূলক কবিতা লিখতো ঠিকই, কিন্তু স্রেফ কবিতা ছাড়াও এই একই লোক নবীজির (সঃ) খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিল। বদর যুদ্ধের পর আবু সুফিয়ানের (রাঃ) বাড়িতে গিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল তাঁকে হত্যার ব্যপারে। এখন আপনিই বলেন, যেকোন রাষ্ট্রে, যদি কেউ তার প্রধাণমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করে, attempt নিতে গিয়ে ধরা পড়ে - তবে তার শাস্তি কী হওয়া উচিৎ?


ঐতিহাসিক উদাহরণ আমাদের দেশেই আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা চলছে জেনেও চুপ করে ছিলেন, হত্যাকারীরা এর আগেও অভ্যুন্থান ঘটাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল এবং তিনি তাদের মাফও করে দিয়েছিলেন, বলেছিলেন "বাংলার মানুষ আমাকে মারবে না।"
- ফলাফল "অগাস্ট ট্রাজেডি।" 


রাষ্ট্র পরিচালনার কিছু রুলস আছে। কখনও কখনও শাসককে কঠোর হতেই হয়, নাহলে কিছুই লাইনে থাকেনা।
এখন আসি আরেকটা নামে। 


এই লোকটার নাম অনেকেই জানেনা, কিন্তু ঘটনা ঠিকই জানেন। চলুন আগে ঘটনা জেনে নেই।
মক্কা বিজয়ের দিন ছয় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামির (দুইজন বাদে যাদের সবাইকেই ক্ষমা করে দেয়া হয়) একজন কাবার গিলাফ জড়িয়ে ধরে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চাইছিল। সাহাবীরা এই নাটকীয় ঘটনায় দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েন। তাঁরা নবীজির (সঃ) কাছে যান, ঘটনা খুলে বলেন, এবং নবীজি (সঃ) তারপরেও মৃত্যুদন্ড ক্ষমা করেন না। 


লোকটা কী করেছিল? সে অশ্লীল কবিতা লিখতো (ব্লগিং) এবং সে দুইজন দাসী নিয়োগ করেছিল যারা ইসলাম, নবীজি (সঃ) ও তাঁদের সাহাবীদের নিয়ে অশ্লীল কবিতা লিখতো।
ব্যস, এই পর্যন্তই সবাই পড়েন। আর বেশি পড়তে চান না। আরেকটু পেছনে যাবার ধৈর্য্য কই?


যাই হোক, যাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে তার নাম আবদাল্লাহ ইবন খাতাল (কোথাও কোথাও বলা হয়েছে আবদাল্লাহ ইবনে আখতাল, যেই নামেই ডাকা হোক সে একই ব্যক্তি)। কবিতা রচনার আগে এই লোকটা প্রথমে মক্কা থেকে মদিনায় গিয়ে হিজরত করে মুসলিম হয়েছিল। নবীজি (সঃ) তাকে এবং আরেকজন সাহাবীকে একটি সফরে পাঠান। এই বিশ্বাসঘাতক সেই সাহাবীকে হত্যা করে তাঁর মালপত্র লুট করে মক্কা পালিয়ে এসে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালায়। তারপর দুইটা দাসী কিনে ওদের দিয়ে মুসলিমদের ব্যঙ্গ করে কবিতা লেখায়। মাথায় রাখুন, সেই লোকটা কবিতা লিখার চেয়েও বড় অপরাধ করেছিল, সাহাবী হত্যা। একটা মানুষ হত্যা সহজ অপরাধ না।


 কুরআন বলে, "যে একজন নিরপরাধ মানুষ হত্যা করলো, সে যেন সমস্ত মানব জাতিকে হত্যা করলো।"
এবং লিস্টের তৃতীয় নাম তার দুই দাসীর (ফারতানা এবং সারা), যাদেরকেও মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। তবে কেবল একজনের বিরুদ্ধে সেটা কার্যকর করা হয় (ফারতানা)। দ্বিতীয়জনকে (সারা) ছেড়ে দেয়া হলো কেন? কেন? সে শুধু বলল "Sorry."
তারমানে প্রথমজনও যদি দুঃখিত হতো তাকেও মাফ করা হতো।


তারমানে আবদাল্লাহকেও মাফ করা হতো যদি না সে মানব হত্যার মতন জঘন্য পাপে পাপী হতো।
লজিক মিলছে? বাকি সত্য আল্লাহ জানেন। ভুল হলে তিনি মাফ করুন। আর সত্য হলে তিনি সবাইকে জ্ঞানী করুন। জোরে বলেন আমীন!


শেষ করি, কা'ব বিন আশরাফ থেকে শুরু করে দাসী ফারতানা পর্যন্ত উদাহরণগুলো যারা বারবার ব্যবহার করছেন, তাঁদের জ্ঞাতার্থে হযরত আয়েশার (রাঃ) একটি সহিহ হাদিস বয়ান করে, নবীজির (সঃ) জীবন সঙ্গিনী এবং সবচেয়ে বেশি হাদিস বয়ানকারী মা আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, "নবীজি (সঃ) জীবনেও নিজের ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে কাউকে শাস্তি দেননি।"
শুনেছেন? আবার শোনেন, তিনি, কখনও, নিজের ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে, কাউকে, শাস্তি দেননি। জীবনেও না।
এমনি এমনি কাউকে রাহমাতাল্লিল আলামিন ডাকা হয়না। 


এখন কথাটা মাথায় ভাল মতন ঢুকিয়ে নিয়ে বাড়িতে গিয়ে ঘুমান। কোন অশ্লীল ব্লগারের মাথা কাঁটার আগে ভাল করে নবীজির(সঃ) জীবনী, সাহাবীদের জীবনী, এবং অবশ্যই অবশ্যই আল কুরআনের বাণীগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ুন। 


তারপরে আপনার যদি কাউকে (যেকোন আল্লাহর বান্দা, হিন্দু হোক, মুসলিম হোক কিংবা নাস্তিক) গালি দিয়ে মনে মনে অনুতাপ না হয়, ভয় না হয় যে "আমি গালিটা না দিয়ে আরেকটু ভালভাবে বুঝালেও পারতাম, গালির জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে" তাহলেও বুঝবেন আপনার ঈমান পোক্ত হয়নি।
খাঁটি মুসলিম গলা চড়িয়েও কথা বলেনা। এটাই ইসলামের শিক্ষা।


(সবচেয়ে বড় কন্ডিশনটাই মূল পোস্টে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, যে কারনে অনেক কনফিউশন তৈরী হচ্ছে। "ফারতানাকে কী তাহলে 'অশ্লীল কবিতা' লেখার অপরাধে মৃত্যুদন্ড দেয়া হলো? তাহলেতো ঠিকই আছে।"


ব্যপারটা মাথায় রাখতে হবে, তখনকার "কবিতা" মানে আজকের যুগের ফুল লতা পাতা ভালবাসা নিয়ে লেখা কবিতা না। তখনকার প্রোপাগান্ডাই হতো কবিতার মাধ্যমে। এবং ইসলামের বিরুদ্ধে কবিতা মানে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কবিতা। তার মানে "ইসলামের বিরুদ্ধে অশ্লীল কবিতা" লেখার শাস্তি দেয়ার আগে প্রধান কন্ডিশন হচ্ছে রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্র হতে হবে। কেবল রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম হলেই হবেনা, আইনও শরিয়া আইন হবে। 


কাবকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছিল মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হবার পর। মক্কা বিজয়ের পরেই বাকিদেরও শাস্তি দেয়া হয়েছিল। আগে কিন্তু নয়। যেকোন আধুনিক রাষ্ট্রেও স্পাইদের ডেথ পেনাল্টি দেয়া হয়। মাসুদ রানা যারা জীবনে একবারও পড়েছেন, তাঁরা নিশ্চই বুঝেন। 


এখানেই কথা থেকে যায় - বাংলাদেশতো ইসলামী রাষ্ট্র না। শেখ হাসিনাতো খলিফা না। আমরা শরিয়া আইনে সংবিধান গঠন করিনাই।
কাজেই এই কোপাকুপিগুলো "খুন।" এদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনেই ব্যবস্থা নিতে হবে। )




Written by: মঞ্জুর চৌধুরী 

1 comments
Labels: , , ,

আপনারা যারা ইসলাম ভালোবাসেন। আপনারা যারা ইসলামকে ঘৃণা করেন।

পরম করুণাময় রাব্বুল আলামীনের নামে লিখছি।

প্রিয় চাচা আবু তালিবের ইন্তেকালের পর মহানবী সাঃ এর উপর নির্যাতনের মাত্রা ভয়াবহ রকমের বেড়ে গেলো। মক্কায় যেন তাঁর আর কোনো আশ্রয় রইলো না।একদিন রাস্তা দিয়ে হেঁটে বাড়ি আসছিলেন, এমন সময় এক মহিলা মাথার উপর ময়লা-আবর্জনার স্তুপ ঢেলে দিলো। ফাতিমা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদ থাকলে- নবীজী বললেন- কেঁদোনা মা। ওর মন চেয়েছে- করেছে। যদি বুঝতে পারতো তবে কোনো নিরীহ পথচারীর উপর কেউ এমনভাবে ময়লা ফেলতে পারতোনা। দুঃখ করোনা মা।

নবী মোহাম্মদ সাঃ নিত্তনৈমিত্তিক নির্যাতন আর সহ্য করতে না পারে তায়িফ এসে পৌঁছালেন। তায়িফবাসী নবীকে প্রত্যাখান করলে- উনি বললেন-ঠিক আছে । যেহেতু আমি আপনাদের কাছে কোনো আশ্রয় পাবোনা তবে আমি ফিরে যাই।

কিন্তু, ওরা নবীকে ফিরতে দিলোনা। পাথর ছুঁড়ে ছুঁড়ে নবীকে রক্তাক্ত করলো। পায়ের জুতোর সাথে রক্ত জমাট বেঁধে এমন অবস্থা হলো- উনি দাঁড়াতেও পারছিলেন না, হাঁটতেও পারছিলেন না। এই অবস্থায়ও উনি কোনো রকমের রাগ , দুঃখ , হিংসা, বিদ্বেষ পোষণ না করে প্রার্থণা করলেন- প্রভু এদের জ্ঞান, বিজ্ঞতা, ধীশক্তি দাও। এদের তুমি ক্ষমা করো প্রভু।

মাত্র দুই বছর বয়সে মহানবী সাঃ এর ছেলে কাসিম মারা গেলো।এর পরের সন্তান আব্দুল্লাহ মারা যায় মাত্র তিনমাস বয়সে।এররপ নবী মোহাম্মদের সবচেয়ে কনিষ্ঠতম সন্তান ইব্রাহীম মাত্র সতের অথবা আঠারো মাস বয়সে উনার কোলেই মারা যায়।একটা দুঃখ কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতেই আরেকটা দুঃখ। পিতার কোলে শিশু সন্তানের মৃত্যুতে একজন পিতার মন নিদারুণ ব্যথায় ভারাক্রান্ত। পিতা হিসাবে তিনিও কাঁদছিলেন। আবু লাহাবের কাছে এ খবর আসলেই উনি আনন্দ ধ্বনি দিয়ে ওঠলেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে খুরমা, খেজুর বিতরণ করে বলতে লাগলেন- হে আরববাসী। আজ বড় খুশীর দিন।সবাই আনন্দ, ফুর্তি করো। মোহাম্মদের শেষবংশ বাতি আজ একেবারে নির্বংশ হয়ে গেলো।নবী শুণলেন। কাঁদলেন। আবু লাহাবের জন্য প্রার্থণা করলেন।কিন্তু কোনো সাহাবাকে বললেন না,যাও লাহাবের কল্লাটা কেটে নিয়ে এসো।

মহানবীকে সবচেয়ে বেশী যন্ত্রণা,কষ্ট দিয়েছিলো আবু জাহেল। একজন মানুষকে কতভাবে নির্যাতন,উত্যক্ত, কষ্ট দেয়া যায় তার সবকিছু আবু জাহেল করতো।কাবাঘরে নবী নামাজ পড়ছিলেন। আবু জাহেল মানুষদের লেলিয়ে দিলেন। নবী সিজদায় গিয়েছেন-এমন সময় উটের পরিত্যক্ত ,পঁচা, বিভৎস উৎকট গন্ধের নাড়ুিভুঁড়ি ওরা ঢেলে দিয়ে হোহো করে হেসে ওঠলো। সাহাবারা চারপাশ থেকে ওদের ঘিরে ধরলে নবী বললেন- ওদের যেতে দাও। ওদের কারো গায়ে যেন একটা আচড়ও না লাগে। না, কেউ চাপাতি নিয়ে কারো কল্লা কাটেনি। কোনো সাহাবি সেদিন অতি আহালাদি নবী প্রেমিক হয়ে তলোয়ার বের করে রক্তারক্তি করেন নি। শুধু ফাতিমা খবর পেয়ে ছুটে এসে কাঁদলেন। সাহাবারা নবীকে ধরে রোদন করলেন। পিতার শরীর পরিষ্কার করে দিলেন।
নবী আল্লাহর দরবার প্রার্থণা করলেন- এদের ক্ষমা করো দয়াময়।

হিন্দ বিন উতবা যিনি হিংসা, ক্রোধ, রাগে, প্রবল বাতিক গ্রস্থ হয়ে নবীজীর প্রিয়তম চাচা হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিবের কলিজা চিবিয়ে খেয়ে ছিলেন- মক্কা বিজয়ের পর নবী তাকেও ক্ষমা করে দিয়ে বললেন- তোমার কোনো ভয় নেই। শুধু আমার সামনে এসোনা। আসলেই যে, আমার প্রিয়তম চাচাজীর কথা মনে পড়ে যায়। না, সেদিনও কোনো নবী, ইসলাম প্রেমিক সাহাবারা হিন্দের মাথা দ্বিখন্ডিত করতে তলোয়ার, চাপাতি নিয়ে এগিয়ে যাননি।

নবী নামাজের পর সাহাবাদের নিয়ে বসে আছেন। অপরিচিত দুজন লোক মসজিদের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললো- মুসলমানরা বসে প্রস্রাব করে। তাই তুই দাঁড়িয়ে কর। বলতে না বলতেই লোকটি মসজিদের দেয়ালে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা শুরু করলো। সাহাবাদের কয়েকজন বসা থেকে ওঠে দাঁড়িয়ে ওদের দিকে অগ্রসর হতে গেলে- নবী বললেন- বেচারার ঘ্বণা সবটুকু আগে প্রকাশ করতে দাও। ঘৃণা শেষ হলে একসময় মনে ওর শান্তি আসবে।এরকম ঘটনায় ও নবীর মর্যাদা হানি হয়নি। আল্লাহর ঘর মসজিদের দেয়ালে প্রস্রাব করা হলেও জান্নাত লাভের জন্য কেউ তরবারি নিয়ে শিরোচ্ছেদ করতেও এগিয়ে যায়নি। চাপাতি নিয়ে এলোপাতাড়ি খুন করতেও কেউ উদ্যত হয়নি।

মক্কা বিজয়ের পর বৃদ্ধা এক মহিলা বিশাল এক বোঝা নিয়ে দ্রুত গতিতে হাঁটছে। মাথার উপর এতোবড় বোঝাটা নিয়ে বেচারি ঠিকমতো হাঁটতেও পারছেনা। একজন লোক মহিলার বোঝাটি মাথায় নিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছে দিলে-মহিলা বললেন- আমাকে তো সাহায্য করলে। এবার তুমিও দ্রুত কোথাও পালিয়ে যায়। আব্দুল্লাহর ছেলে মোহাম্মদের কাছ থেকে বাঁচতে হলে পালাও। লোকটি বললেন- মা, আমিই আব্দুল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ। কথাটি শুণেই মহিলা অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন- তবে আমি এতোদিন এসব কি শুণছিলাম।

নবীজীর হাঁটার পথে যে মহিলা প্রতিদিন কাঁটা বিছিয়ে রাখতো, একদিন কাঁটা না দেখে নবী তাঁকে দেখতে গেলেন। আহা! আজ পথে কোনো কাঁটা, আবর্জনা ফেলে রাখা নেই। বেচারীর তো কোনো অসুখ হয়নি।নবীজী সেই মহিলার ঘরে গিয়ে হাজির হয়ে অনুমতি নিয়ে কোশলাদি জানতে চাইলেন।

ইয়ারমুকের একটি ঘটনা মনে পড়ে- অনেকেই যু্দ্ধাহত হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। প্রাণ যায় যায় অবস্থা। একজন পানির পেয়ালা নিয়ে আহত সাহাবার সামনে যান।সাহাবা এক চুমুক দিয়ে অন্যজনের দিয়ে ফিরিয়ে দেন। অন্যজন আবার এক চুমুক দিয়ে আরেকজনের দিকে ফিরিয়ে দেন। এভাবে বেশ কয়েকজনের কাছে পানির পেয়ালাটি ঘুরার পরও দেখা যায়, পুরো পেয়ালা ভর্তি পানি রয়ে গেছে। না-এখানে অলৌকিক কিছু ঘটেনি। এই যে বাখোয়াজ গরুর মাংসে, বেগুনের বাকলে, বালির ওপরে, কারো ত্বকে, গাছে,মাছে, লতা পাতায় আল্লাহ-রাসুলের নাম দেখে খোদায়ি অলৌকিকত্ব জাহির করা হয়- এগুলো ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয়। এগুলো হলো কম্পিউটারের ফটোশপের অলৌকিকত্ব, কেরামতি। এসব তুচছ জিনিসে আল্লাহ, আল্লাহর নবী হাজিরা দিয়ে আল্লাহর কেরামতি প্রকাশ করার কিছুই নাই। আল্লাহ যদি উনার অলৌকিকিত্ব প্রকাশ করতে চান, তবে সমগ্র পৃথিবীবাসীকে শুণাতে পারেন-মানুষ তোমরা আমার উপাসনা করো। ব্যস, খেলা শেষ হয়ে যায়। সেদিন দেখলাম-এক উট বালুর উপর মাথা দিয়ে সিজদা করে আছে।লাখে লাখে ছবিটি শেয়ার হচ্ছে। হায়রে, মুসলমান-ফজর নামাজে মানুষের এক কাতার হয়না।আর উটের সিজদায় লাখে লাখে শেয়ার হয়। উটের সিজদা আল্লাহর দরকার নেই। পারলে উটটিকে বালু থেকে মাথা উটিয়ে কোনো পশু হাসপাতালে পাঠান। তাতে বেচারা উটের একটু উপকার হয়। অন্যান্য প্রাণীর প্রতি সদয় হলে বরং আল্লাহ খুশী হবেন।

যাই হোক, পুরো পেয়ালা ভর্তি পানি রয়ে গেছে, কারণ এক সাহাবা চিন্তা করছেন- আমি যদি এক চুমুক পানি পান করি, আর অন্য সাহাবার যদি ত্বষ্না না মিটে।অন্য সাহাবাও সেরকম চিন্তা করছেন। আহা! আমি যদি পানির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে মুখ থেকে পেয়ালাটি সরাতে না পারি। তা হলে আরেক ভাই যে পানি পাবে না। বেচারার পানি তৃষ্নায় কষ্ট পাবে। ফলে যু্দ্ধে আহত হয়ে কাতরাতে কাতরাতে কেউ এতুটুকু পানি ঠোঁটে স্পর্শ করেননি। পুরো পেয়ালাটিই পানি ভর্তি রয়ে গেছে। এই হলো ইসলাম। এই হলো সম্প্রীতি, এই হলো ভ্রাতৃত্ববোধ, এই হলো ভালোবাসা।


আর আজকে , যারা সোনার টয়লেট না হলে শৌচকর্ম করতে পারেনা- সে ইসলাম আমার নয়।
যখন ইচ্চে তখন বিয়েশাদি করে, সেবাদাসী, যৌনাদাসি রেখে-বহুবিবাহ পালন করে -সে ইসলাম আমার নয়।
যে তালিবানরা মালালাকে অক্ষর শিখানোর জন্য গুলি করে, নারীকে গৃহবন্দি করে রাখতে চায়-সে ইসলামতো আমার নয়। 
যে ভিন্নমত সহ্য করতে না পেরে- চাপাতি নিয়ে মানুষকে মেরে ফেলে- সে ইসলামতো আমার নয়।
শ্বেত পাথরে খচিত মর্মর জৌলুসে ভরপুর মসজিদ -কিন্তু মানুষ না খেয়ে কাতরাচ্ছে -সে ইসলামতো আমার নয়।
মোহাম্মদ সাঃ আর আল্লাহর নাম হীরা জহরত দিয়ে মসজিদের ভিতর বাঁধানো- কিন্তু হাজারো হাজারো মুহম্মদ নামের সন্তান না খেয়ে আছে- সে ইসলামতো আমার নয়।
নবী বলেননি- আমার নাম স্বর্নাক্ষরে না বাঁধালে কেউ আমার ওপর ঈমান আনেনি। বরং বলেছেন- যার প্রতিবেশী ক্ষুধা নিয়ে ঘুমায়-সেই আমার ওপর ঈমান আনেনি।
মসজিদের মোতাওয়াল্লি, সেক্রেটারি , প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য যারা মারামারি করে- সে ইসলামতো আমার নয়।
সপ্তাহে ৩৪ ওয়াক্ত নামাজে মসজিদের দুকাতার ভর্তি হয়না,কিন্ত জুমার ১ক ওয়াক্ত নামাজে রাস্তাঘাট বন্ধ করে , মানুষের চলাচলের অসুবিধা ঘটিয়ে ,চীৎকার চেচামেচি করে লোক দেখানো ইবাদত করে- সে ইসলামতো ইসলাম নয়।
যার মধ্যে অহঙ্কার আছে, গৌরব আছে, মানুষের প্রতি ঘৃণা আছে- সে ইসলামতো আমার নয়।


বরং-
যে মুসলিম খলীফা ভৃত্যকে উটের পিটে চড়িয়ে নিজে উটের রশি ধরে উত্তপ্ত মরুর বালুর উপর দিয়ে হেঁটে যান- সেই ইসলামই আমার।
যে মানুষ অর্ধ পৃথিবীর খলিফা হয়েও পরিধানের একটা বস্ত্র ধোঁয়ে শুকানোর অপেক্ষায় থাকেন-সেই ইসলামই আমার।
যে মুসলিম খলীফার কাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে প্রজা ঘরের দেয়াল মেরামত করে সেই ইসলামই আমার।
যে মুসলিম খলীফা বলে - মক্কা-মদীনায় একটা কুকুরও যদি না খেয়ে মারা যায়-তবে আমাকেই সর্বপ্রথম কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে- সেই ইসলামই আমার।
যে খলিফা নিজের ভুলের জন্য প্রজার দুর্গতি হওয়ায় প্রকাশ্যে নিজের হাতে বেত্রাঘাত নেন-সেই ইসলামই আমার।
যে খলিফা রাতের আঁধারে নিজ কাঁধে করে বায়তুল মাল থেকে প্রজার ঘরে খাবার পোঁছে দেন-সেই ইসলামই আমার।
যে খলিফা নিজের স্ত্রীকে দাত্রী হিসাবে প্রজার ঘরে সারারাতের জন্য পাঠিয়ে দেন -সেই ইসলামই আমার।
যে ধর্ম বলে -শ্রমিকের মাথার ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার আগেই তার মজুরি তাকে দিয়ে দাও-সেই ইসলামই আমার।
যে ধর্ম বলে-মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত। মা জাতিকে যে এতো মর্যাদা দিলো-সেই ইসলামই আমার।
যে ধর্ম বলে- তিনটি কন্যা সন্তানকে যে ভালোভাবে মানুষ হিসাবে গড়ে তোলবে তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস- সেই ইসলামই আমার।
যে ধর্ম বলে-জ্ঞান অর্জন করা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য বাধ্যতামূলক-সে ইসলামই আমার।
যে নবী বলেন- তোমার যা খাবে , যা পরবে। তোমাদের অধস্তনদের জন্য সেরুপ ব্যবস্থা করো।সে ইসলামই আমার।
যে জ্ঞান-নিয়ে চিন্তা করবে, জ্ঞানালোক মানুষের মাঝে বিতরণ করবে-তার জন্য স্বর্গদুয়ার খোলে দেয়া হবে-সে ইসলামই আমার।

এই ভালোবাসা, এই মহত্ব, এই আত্মত্যাগের ধর্মই আমার। এরকম আরো শত-হাজারো ঘটনা রয়েছে। এসব পড়ুন। অন্যকে পড়তে বলুন। মানুষকে ভালোবাসার এরকম অনুপম মহত , উৎকৃষ্ট ঘটনাগুলো জানুন। পরিবারে আলোচনা করুন। এসব কথাগুলো আমরা, আপনারা সবার কাছে ঠিকমতো পৌঁছাতে পারিনি বলেই -আজ আমার ভাই, আপনার ভাই জঙ্গী হয়, ধর্মান্ধ হয়। আবার কেউ কেউ প্রবল ইসলাম বিদ্বেষী হয়। কেউ বইয়ের পরিবর্তে চাপাতি বুকে নিয়ে ঘুমায়। কেউ না বুঝে তর্ক করে। আপনার যে ভাইটি জঙ্গী হয়ে কারো মতাদর্শ মানতে পারছেনা বলে আজ ঠিক এসময়ে চাপাতি ধার করছে- তাকে বলুন। না হয়, আর কারো সন্তান মারা যাবে ভাই।। পিতামাতার বুকে সারাজীবনের জন্য হাহাকার ওঠবে। যে বেদনা সহ্য করার মতো শক্তি কোনো মা বাবারই নেই।

লিখেছেন - আরিফ মাহমুদ 

0 comments
Labels: , , , ,

দাওয়াহ” কী? রাসূল (সা) কীভাবে দাওয়াহ দিতেন


●|● “দাওয়াহ” কী? ●|●
আসুন এই শব্দটি নিয়ে আলোচনা করি। শব্দটি হলো “দাওয়াহ”।
দাওয়াহ এর আক্ষরিক অর্থ হলো আমন্ত্রণ জানানো। মানুষকে ধর্মের পথে আমন্ত্রণ জানানো ছাড়াও আপনি কি কখনো কাউকে ডিনারে আপনার ঘরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন? অথবা লাঞ্চ এর সময় ‘আমার ঘরে আসুন...আমরা কথা বলবো’?
এটা কি সম্ভব না যে আপনি কাউকে অপমান করলেন, কাউকে খুব নিচু করলেন, নিজেকে খুবই নগন্য আর মূল্যহীন ভাবতে বাধ্য করলেন আর এরপর তাকে নিজের ঘরে আমন্ত্রণ জানালেন। আপনি নিমন্ত্রণ দিলেও তারা কি আসবে? অসম্ভব, তাই না!
“দাওয়াহ" শব্দটির মর্মার্থ হল আপনার শ্রদ্ধাবোধ, সৌজন্যতা এবং উদারতা আছে অন্যের প্রতি, এতোটাই যে আপনি তাদেরকে নিজের ঘরে আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুত। আর এটাই তো দাওয়াত।
আমরা যদি গোড়ার এই অর্থটি ভুলে যাই আমরা কারও কাছে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দিতে পারব না। বিষয়টা তর্ক-বিতর্কের নয়, ঈশ্বরের উপস্থিতি প্রমাণ করার নয়, কোনটা সঠিক কোনটা নয় সেটা বলারও নয়—এসব কিছু অনেক পরের ব্যাপার। প্রথম কাজ হল, এমন মানসিকতা অর্জন করা যা অন্যদের খুব সুন্দর কিছুর প্রতি আহ্বান করবে। যেমন, আপনার ঘরে খুব ভালো রান্না হয়েছে আর আপনি চান সকলের সঙ্গে তা ভাগাভাগি করে নিতে। সবাইকে দেওয়ার জন্যে অনেক খাবার রয়েছে। আর কি অদ্ভূত খাবার সেটা...আমরা যত বেশি মানুষকে খাওয়াচ্ছি খাবার কমে না গিয়ে বরং ততই এর পড়িমাণ বেড়ে যাচ্ছে! এজন্যেই শেয়ার করতে চাই কারণ আমি নিজের জন্যেও আরও বেশি চাই, আপনার জন্যেও। এটাই এই ধর্মের সৌন্দর্য।
আমাদের মুসলিমদের এ বিষয়টা ভুলে গেলে চলবে না। এটা খুবই দুঃখজনক যে আমরা তা বেমাবুম ভুলেই গিয়েছি।


●|● রাসূল (সা) কীভাবে দাওয়াহ দিতেন ●|●
আরবরা বলে, "হৃদয়ের নমনীয়তা হৃদয়ের কারাগারে পরিণত হতে পারে।"


আপনি যদি কারও হৃদয়ে নমনীয়তা এনে দিতে পারেন এটা যেন তাকে পকেটে পুরে রাখার মতো! আপনি তাকে অর্জন করে ফেলেছেন। তারা বলে মানুষকে সুন্দর ব্যবহার দ্বারা বশ করে ফেলা যায়। আপনি কারও সাথে মনোরম ব্যবহার দেখালে সে আপনার হয়ে যাবে, তারা আপনার।এমনটাই ছিলেন আমাদের নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)। মানুষের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার ছিলো অসাধারন।

আমাদের নবীর সুন্দর ব্যবহার বিষয়ক আমার একটা প্রিয় গল্প হলো মক্কা বিজয়ের গল্প। যখন আল্লাহ তাঁকে মক্কার বিজয় দান করেছিলেন, যিনি কা’বা ঘরের রক্ষক ছিলেন তার কাছে এর চাবি ছিলো। তিনি ছিলেন একজন মুশরিক। আর তিনি মুসলিমদের চাবি দিতে আপত্তি জানালেন। ‘আমি যদি বিশ্বাস করতাম যে মুহাম্মাদ আল্লাহর বার্তাবাহক তবে চাবিটা দিয়ে দিতাম, কিন্তু সে কোনো বার্তাবাহক নয়। আমি চাবি দিব না।’ তো একজন সাহাবী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে না বলেই জোর করে চাবিটি আদায় করে নবীর কাছে নিয়ে গেলেন। তারা কা’বা খুললেন তাতে নামায পড়লেন। তারা যখন বেরিয়ে আসছেন তখন এক আয়াত নাযিল হলো যাতে বলা হয়েছে চাবিটা সেই মুশরিক কে ফেরত দিতে এবং তার কাছে ক্ষমা চাইতে ওভাবে চাবিটা কেড়ে নেওয়ার জন্যে। আর মুসলিমদের কাছে এমন ব্যবহার পেয়ে তিনি মুসলিম হয়ে গিয়েছিলেন। অসাধারণ!

আল্লাহ এমন বিজয়ঘন মুহূর্তে এই আয়াত নাযিল করেছিলেন। আর এ সমস্ত মানুষেরা তো তাঁদের উপর নির্যাতন চালিয়েছিলো, সেই সাহাবী তো তাকে নির্যাতন করেননি কিংবা হত্যা করেননি, আঘাত করেননি, তিনি কেবল চাবিটি কেড়ে নিয়েছিলেন। অপরদিকে চাবিটি তাঁর কাছে থাকার কথাও নয়, তিনি ছিলেন মুশরিক। কিন্তু আল্লাহ এমন ব্যবহার পছন্দ করলেন না, তাই আয়াত নাযিল হলো।

"আল্লাহ তোমাদের আদেশ করছেন হকদার কে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিতে।"
অভিনব দৃশ্য! দেখুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে অন্যদের সঙ্গে ব্যবহার করতেন।
একজন ইহুদি মেয়ে মারা গিয়েছিলো। অল্প বয়সে সে মারা গিয়েছিলো। আর তার শবযাত্রা যাচ্ছিলো। নবী (সা) বসেছিলেন, সম্মান দেখাতে তিনি দাঁড়িয়ে পড়লেন। কয়েকজন সাহাবী বলে উঠলেন, "সে তো ইহুদি!" নবী (সা) বললেন, "সে কি একজন মানুষ নয়?" সব মানুষের প্রতি তাঁর বিনয়ী আচরণ ছিলো। আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম।
মুসলিমদের এসব শিখতে হবে... একে অন্যের প্রতি নম্রতা দেখান। সব মানুষের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করুন। সম্মান দেখান। এভাবে আপনি মানুষকে দাওয়াত দিবেন।
ইউটিউব লিঙ্কঃ https://youtu.be/FzNQbsY7lrs

0 comments
Labels: ,

কাফিরের সাথে মিশলে গুনাহ

এক সিনিয়র আপু একদিন আমাকে ডালাস নিবাসী এক ভদ্রলোকের গল্প বলেছিলেন, যিনি নাকি কোন "কাফিরের" সাথে ছোয়াছুয়ি হয়ে গেলে বাড়িতে গিয়ে গোসল করে পাক সাফ হয়ে আল্লাহর দরবারে তওবা করেন। যিনি অতি গর্বের সাথে বলে বেড়ান তাঁর কোন কাফির বন্ধু নেই। তাঁর ছেলে মেয়েরাও কোন বিধর্মীর সাথে মেলামেশা করেনা।
বেচারার ঘটনা শুনে আমার অতি প্রাচীন একটি বাংলা প্রবাদের কথা মনে পড়ে গেল - খালি কলসি বাজে বেশি। ভদ্র বাংলায় বললে অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। ইংরেজিতেও আক্ষরিক প্রবাদ আছে, Little knowledge is a dangerous thing. যেহেতু ইংরেজিতেও প্রবাদটির প্রচলন আছে, তারমানে এটি সকল জাতির সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। শুধুমাত্র বাঙালিরাই এককভাবে এই দোষে দুষ্ট নয়।
এখন মূল কথায় আসা যাক।

আমাদের মুসলিমদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ধর্মীয় ব্যপারে আমরা খুব গোড়া। এটা করলে জাহান্নামে যেতে হবে, ওটা করলে জাহান্নামে যেতে হবে - সেটাতো করাই যাবেনা। যে যত কঠিন ফতোয়া জারি করবে, আমরা চোখ বন্ধ করে কিছু যাচাই বাছাই না করেই মেনে নিব। "জান্নাতে যেতে হবে, রাস্তা এত সহজ হলে চলে?"
কাজেই কাফিরদের সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দাও। ওদের হাতের খাবার খাওয়াতো দুরের কথা, ওদের হাতের স্পর্শও এড়িয়ে চলো। ওরা বাঁচুক কী মরুক আমার কী? আমি আমার আল্লাহর ইবাদত করে যাব। কারণ তিনিতো আমাকে তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। কুরআন শরীফে স্পষ্ট লেখা আছে যে!

লোকটাকে কে বুঝাবে যে একটা লোকের সাথে হাসিমুখে কথা বলাটাও আল্লাহর ইবাদত। একটা অসহায়ের মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দেয়াটাও আল্লাহর ইবাদত। আল্লাহর যদি কেবল নিজের নামের জিকির আসগরের জন্যই সৃষ্টি করতে হতো, তাহলে মানুষকে সৃষ্টি করতেন না - সেজন্য ফেরেস্তা ছিলই। মানুষের সৃষ্টি হয়েছে আরও কল্যানের জন্য, এর পেছনে আরও মহৎ উদ্দেশ্য জড়িত। সুরাহ ইয়াসিনের সেই লোকটার মতন আফসোস করে বলতে হয়, "আমার লোকেরা যদি বুঝতে পারতো!"

এখন নিজের যুক্তির পেছনের প্রমানে আসা যাক। এবং বরাবরের মতই আমি আমার নবীর(সঃ) জীবনী থেকে উদাহরণ দিব। কারও কোন সন্দেহ থাকলে সে যেন ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে গবেষণা করে নেয়। এই বাহানায় অন্তত কেউতো তাঁর জীবনী পড়বেন! আফসোস! তাঁর জীবনী যেখানে আমাদের inside out, upside down মুখস্ত থাকার কথা ছিল - সেখানে আমরা বলতে গেলে কিছুই জানিনা। তাঁর জীবনী ঠিক মতন জানা থাকলে পৃথিবীতে কোনই সমস্যা থাকত না। সবাই বুঝতো, চৌদ্দশ বছর আগের ঘটনাও কিভাবে বর্তমান জীবনের সাথেও যোগসূত্র স্থাপন করে!
মুতইম ইবনে আদির নাম কয়জন জানেন? বনু নওফল গোত্রের একজন শক্তিশালী নেতা ছিলেন এই ব্যক্তি। মক্কার দুর্ধর্ষ কুরাইশ নেতাদের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও যিনি ন্যায়ের জন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়াতেন। এবং অবশ্যই এই লোকটি জীবিতাবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেননি। এখন যদি বলি এই লোকটির কাছে আমাদের নবীজি এবং ইসলাম ধর্মই ঋণী হয়ে আছে, বিশ্বাস করবেন?

ভদ্রলোকের অনেক ঘটনা আছে, তবে দুইটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই।
নবীজির জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম তিনটি বছরের ঘটনা কে কে জানেন? যখন তাঁকে ও তাঁর সাথীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হলো, কেউ তাঁদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখবে না, কোন লেনদেন করবে না - তাঁরা মরুক কী বাঁচুক, কেউ তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসবেনা, মুসলিমরা মক্কার বাইরে একটি উপত্যকায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে, উপত্যকাটি ছিল আবু তালিবের, আমাদের নবীজির (সঃ) চাচা এবং একজন "কাফির।" যিনি নিজেও বৃদ্ধ বয়সে সমাজচ্যুত এই মুসলিমদের সাথে বেরিয়ে এসেছিলেন। মুশরিক ও কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নেতা হবার পরেও। "কাফির" হবার পরেও।

যাই হোক, সামাজিক বয়কটের ঐ তীব্র সময়টা কতটা ভয়ংকর ছিল সেটা বর্ণনা করা অসম্ভব। খাবার নেই, পানি নেই, সাহাবীরা বলেছিলেন "আমরা আমাদের পশুর চামড়া সিদ্ধ করে খেয়েছি। গাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছি। আমরাও জানিনা আমরা কিভাবে তখন বেঁচেছি।"

তিনটা বছর এই অমানবিক কষ্টের মধ্য দিয়ে তাঁদের যেতে হয়েছিল। তাঁরা মারাই যেতেন, কিন্তু একজনের জন্য সেটা ঘটেনি। তিনি হচ্ছেন এই মুতইম ইবনে আদি। তিনি প্রতি এক দুইমাসে একটি উট বোঝাই খাবার দাবার দিয়ে তাঁদের উপত্যকায় ছেড়ে আসতেন। সেই উটের মাংস ও রুটি খেয়ে আমাদের নবীজি (সঃ) ও তাঁর সাহাবীরা বেঁচে ছিলেন। নাহলে "ইসলাম" সেই মক্কার পাশের সেই উপত্যকাতেই দাফন হয়ে যেত। আমাদের কী সেই কাফিরের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ না?
আর ওরা বলে "কাফিরদের হাতে কিছু খাওয়া হারাম!"

আবু তালিবের মৃত্যুর পর আবু লাহাব যখন নেতা হলো, সে নবীজির (সঃ) উপর থেকে protection উঠিয়ে নিল। আধুনিক ভাষায় বলতে গেলে সিটিজেনশিপ revoke করলো। নবীজীর (সঃ) আর কোন আশ্রয় থাকলো না। তিনি মক্কা থেকে তায়েফে চলে যাবার চেষ্টা করলেন। সেখানে কী হয়েছিল আমরা সবাই জানি। এবং তায়েফ থেকে আহতাবস্থায় ফিরে আসার পর মক্কায় তাঁর থাকার কোন উপায় ছিল না। এই সময়ে মুতইম ইবনে আদি তাঁর ছেলেদের নিয়ে বেরিয়ে এসে ঘোষণা দিলেন, "আমি এবং আমার ছেলেরা বেঁচে থাকতে খবরদার কেউ মুহাম্মদের (সঃ) এতটুকু ক্ষতি করার কথা চিন্তাও করো না।"

আবু সুফিয়ান তখনও কুরাইশ নেতা, গলা উঁচিয়ে বললেন, "তুমিও কী মুসলিম হয়ে গেলে?"
"না।"
"তাহলে ঠিক আছে। আমরা আপাতত মুহাম্মদকে (সঃ) কিছু করবো না।"
এবং তারপরেও আমরা জানি কিভাবে ওরা সবাই মিলে এক রাতে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল। এবং তিনি সেই রাতেই মদিনায় পালিয়ে যান।
মদিনায় পালানোর ব্যপারেও একটা উদাহরণ আছে। হত্যায় ব্যর্থ কুরাইশরা রাগে উন্মাদ হয়ে ঘোষণা দিল, "যে মুহাম্মদের (সঃ) মৃতদেহ আমাদের সামনে হাজির করবে, তাকে একশ উট পুরস্কার দেয়া হবে।"

তখনকার যুগের একশ উট মানে এখনকার যুগে মিলিয়ন ডলার। টাকার লোভ ভয়ংকর লোভ। ছেলে নিজের আপন পিতার সাথেও পয়সার লোভে বেইমানি করে বসে। তাই তখন চারিদিকে নবীজির(সঃ) শত্রু। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তিনি মদিনা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য গাইড হিসেবে কাকে বেছে নিলেন? একজন কাফিরকে। যে লোকটা এত এত টাকার লোভ সামলেও নবীজি(সঃ) ও তাঁর সঙ্গী হজরত আবু বকরকে (রাঃ) নিরাপদে মদিনায় পৌছে দিয়েছিলেন।
এবং তারপরেও একদল আহাম্মক দাবি করে কাফিরদের সাথে মেলামেশা হারাম। ওদের স্পর্শ পেলে তওবা করতে হয়। ম্যা ম্যা ম্যা।

এই সমস্ত লোকেরা সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলে তখন কাফির-মুসলিম নিয়ে তর্ক করার পরে শুরু করে শিয়া-সুন্নি বিতর্ক। তারপর হানাফি-শাফিই। তারপর বাঙালি-অবাঙালি। মোট কথা এই সমস্ত কুলাঙ্গারগুলিই সমাজে বিভেদ তৈরির জন্য দায়ী। এদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন, গ্যারান্টি দিচ্ছি, সমাজে কোন অশান্তি থাকবে না।
"অমুকের কাজ শরীয়ত মোতাবেক নয়।"
"তমুকের কাজ ইসলাম বিরোধী।"
"অমুকতো জাহান্নামী! ওর নাম মুখে আনাও পাপ।"

কথা হচ্ছে, সবার বোঝা উচিৎ যে আমরা সবাই একটি অতি বৃহৎ পরিকল্পনার অতি ক্ষুদ্রতম অংশ। কে মুসলিম হবে, কে কাফির থাকবে, কে আবু জাহেল হবে, কে মুতইম ইবনে আদি হবে এবং কে হবে আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) - এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আল্লাহ আমাদের উপর ছাড়েন নাই। উল্টা তাঁর পরিকল্পনায় ফালতু মন্তব্য করা তাঁকেই অপমান করার সামিল। আদম সৃষ্টির বহু আগেই ইবলিশকে সৃষ্টি করা হয়েছিল - কেন কখনও কী ভেবে দেখেছে?
এক বিখ্যাত অভিনেতাকে চিনতাম যিনি গোপনে দুইটা এতিম খানায় প্রচুর দান খয়রাত করতেন। এতিম শিশুগুলি বেঁচে ছিল মূলত তাঁর দেয়া পয়সায়।

লোকটা মারা যাওয়ার পর অনেককেই বলতে শুনেছি তিনি নিশ্চিতভাবে জাহান্নামে যাচ্ছেন। কিন্তু একজনকেও দেখিনি এগিয়ে এসে বলতে যে "আমিই সেই এতিমখানাগুলোর দায়িত্ব নিলাম।"
এতিম শিশুগুলির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, কে তাঁদের কাছে হিরো? "লোকটা জাহান্নামী" - ফতোয়া দেয়া মাওলানা, নাকি সেই জাহান্নামী ব্যক্তিটা?

আমাদের নবীজি (সঃ) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন গরিবদের প্রতি সদয় হতে, এতিমদের দেখভাল করতে। আমার মনে পড়েনা আমি কোথাও পড়েছি তিনি মুসলিম এতিমকে বেশি আদর করেছেন এবং মুশরিক এতিমকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।
আমরা বারবার ভুলে যাই, রাসুলুল্লাহ হবারও বহু আগে থেকে তিনি আল-আমিন ছিলেন। মক্কা ছেড়ে যাবার সময়েও তাঁর কাছে গচ্ছিত আমানত যেন সবাই ফেরত পান, সেকারনে নিজের প্রিয় সহচর ছোট্ট আলীকে (রাঃ) জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রেখে গিয়েছিলেন। কাদের আমানত ছিল সেসব? তাঁরই জীবন নিতে চাওয়া কাফির মুশরিকদের।
আমরা নিজেদের আমাদের নবীর(সঃ) চেয়েও বেশি পন্ডিত মনে করি। সমস্যাটা এখানেই।
খালিদ বিন ওয়ালিদ মৃত্যুশয্যায় বলে গিয়েছিলেন, "আমি সারাজীবন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকায় কুরআন শিক্ষা নিতে পারিনি। তবে আমার আফসোস নেই, আমি অন্যভাবে আল্লাহর কাজে এসেছি।"

খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাণী। কে কিভাবে আল্লাহর কাজে আসছে সেটা বুঝার ক্ষমতা আপনাকে আমাকে দেয়া হয়নি। কাজেই ফালতু মন্তব্য করার আগে কয়েকবার ভেবে চিন্তে নিবেন।

যে ভদ্রলোক গর্ব করে বলেন তার এলাকায় কোন বিধর্মী প্রতিবেশী নেই, তাঁকে শুধু জানিয়ে দিতে চাই যে আমাদের নবীজিরও (সঃ) ইহুদি প্রতিবেশী ছিল, এবং সেই নবীই "প্রতিবেশীর অধিকার" শিরোনামে অনেকগুলো নির্দেশ দিয়ে গেছেন, যা পালন করা অবশ্য কর্তব্য।

দ্বীনের দাওয়াত দিতে বস্তিতে যাচ্ছেন খুবই ভাল কথা। কিন্তু যখন তাঁদের শিশুরা না খেয়ে ঘুমাতে যায় এবং অসহায় মা বাবা নিরবে অশ্রু ফেলেন তখনও অন্তত এক মুঠ চাল আর সাথে কিছু সবজি নিয়ে হলেও আপনার সেখানে গিয়ে বলা উচিৎ, "নবীর নির্দেশ পালন করতে এসেছি। ছেলে মেয়েদের উঠাও, একসাথে মিলে চারটা ভাত খাই।"
বিশ্বাস করেন, আপনি শুধু আপনার আচরণ দিয়েই পৃথিবী পাল্টে দিতে পারবেন। কোন বন্দুক, তলোয়ার, বুলেটের প্রয়োজন হবেনা।

ঈদের দিনে আপনার পাড়ার হতদরিদ্র বিধর্মী পরিবারকে নিজের বাড়িতে এনে নিজের সেরা আসনে বসিয়ে জর্দা-সেমাই খাওয়ান। ওরাও জানুক আমরা কেমন নেতার ফলোয়ার। আর তাছাড়া মুতইম ইবনে আদির মতন লোকেদের কাছে আমরা চিরঋণী হয়ে আছি, এতে যদি কিছুটা ঋণ শোধ হয়!

পোস্টটি  লিখেছেন: মঞ্জুর চৌধুরী 

0 comments
Labels: , ,

মুহাম্মদ (সঃ) নবী হয়ে কেন যুদ্ধ করেছিলেন? একজন নবী কী যুদ্ধ করতে পারে?

ত্যানা প্যাচানোওয়ালা নাস্তিকদের জবাবে....
মুহাম্মদ (সঃ) নবী হয়ে কেন যুদ্ধ করেছিলেন? একজন নবী কী যুদ্ধ করতে পারে?"
এরপর শুরু হয়ে গেল গালাগালি। কোন কথা শুনাশুনিতে নাই। অবশ্য কোন কথা শুনতেও রাজি নয়। ওদের একটাই কথা, "তোদের নবী একজন খুনি। আমরা কোন খুনিকে ফলো করি না। ঘেউ ঘেউ ঘেউ।"
বলতে ইচ্ছা হয়, না করলে না করবি, আমার কিসের ঠ্যাকা?

এমন ভাব যেন আমি গিয়ে ওদের হাতে পায়ে ধরছি, "প্লিজ আমার নবীকে 'গ্রেট' বল! প্লিজ! নাহলে পা ছাড়ছি না।"
যে লোকটাকে আল্লাহ সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন, কোন ফকিরনি তাঁকে নিয়ে কী বলল না বলল তাতে কিই বা আসে যায়?

তবে ওদের কথা শুনে কিছু মানুষের মনে এমন প্রশ্ন উঠে, "আসলেইতো, একজন নবী কী করে যুদ্ধের হুকুম দিলেন? আল্লাহ কী করে যুদ্ধের হুকুম দিলেন? তাহলে ইসলাম দেখছি আসলেই জঙ্গি ধর্ম!"
প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে একটা কথা বলে নেই, যদি আমাদের নবী যুদ্ধ না করতেন, তাহলে ওরা এখন কী বলতো জানেন?

"কিসের নবী তোদের? কিসের ধর্ম? মানুষ এসে চড় থাপ্পর মেরে যায়, তোরাও লাথি উষ্টা খেয়ে যাস, তারপরেও কিছু বলতে পারিস না। 'ধৈর্য্য ধর' 'ধৈর্য্য ধর' আওয়াজ তুলিস! আরে তোরা হচ্ছিস নপুংশকের জাত! নিজের অধিকার আদায় করতে জানিস না।"

সিনেমা হলের একটা চেয়ারের কভারে একটা ছোট ছিদ্র করে আসুন। একমাসের মধ্যেই দেখবেন সেই কভারের খাল বাকল সব ছিলা হয়ে গেছে। মানুষ সেই ছোট ছিদ্রটা দেখার সাথে সাথেই মনের অজান্তে ইচ্ছা মতন খাবলা খুবলি করে এই হাল করেছে।

বনের বাঘকে সবাই ভয় পায়। অথচ বাঘের চেয়ে শারীরিকভাবে অনেক বড় গরু দিয়ে মানুষ হালচাষ করে।
তেমনি কোন মানুষকে অত্যাচারিত হতে দেখুন। দেখবেন চিকন থেকে চিকনতম মেরুদন্ডের মানুষও সেই দুর্বলের উপর অত্যাচার করা শুরু করে দিয়েছে। "এক গালে চড় দিলে আরেক গাল পেতে দাও" থিওরি বাস্তব জীবনে একদমই অকেজো। গান্ধীজির চ্যালারা যদি মনে করে থাকেন তাঁর এই মতবাদের কারনেই ভারত ছেড়ে ব্রিটিশরা পালিয়েছিল তাহলে সবাই মুর্খের রাজ্যে বাস করছেন। গান্ধীজির পাশাপাশি বিপ্লবীদের অবদানও যথেষ্ট ছিল। সেই সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ডের ভরাডুবিও ছিল আরেকটা কারন।

ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে কোন কোন পরিস্থিতিতে চড় খেলে চুপচাপ গাল ফিরিয়ে সরে যেতে হবে, আবার কোন পরিস্থিতিতে কেউ চড় দিলে একদম হাত ভেঙ্গে দিতে হবে।

যারা দাবি করে, নবীজি যুদ্ধবাজ ছিলেন, তারা অত্যন্ত যত্নসহকারে তাঁর মক্কার জীবনটা এড়িয়ে যায়। প্রথমে নিজের পরিবারের লোকজনেরাই (আবু লাহাব, চাচা) তাঁর শত্রু হলেন। তারপর নিজ শহরের লোকেরাও একই কাজ করলো। প্রথমে তাঁকে মারধর না করলেও তাঁর নামাজ পড়া অবস্থায় তাঁর উপর পশুর গলা নাড়িভুড়ি ফেলা হলো। তাঁর ফলোয়ারদের অমানুষিক অত্যাচার করা হলো। বিলালকে (রাঃ) মরুভূমির গরম বালুতে শুইয়ে রেখে তাঁর উপর গরম পাথর রাখা হত। তাও এমনই গরম পাথর যার উপর মাংস ফেলে রাখলে কিছুক্ষনের মধ্যেই সেটা রান্না হয়ে যেত।
খাব্বারের(রাঃ) পিঠের উপর তাঁর মালকিন লোহা গলানোর কয়লা ঢেলে দিয়ে তাঁর চিৎকার শুনে হাততালি বাজাত।
সুমাইয়া ইয়াসিরকেতো (রাঃ) তাঁদের ছেলের সামনেই নৃসংশভাবে হত্যা করা হলো। বর্ণনা দিব? সুমাইয়ার(রাঃ) যোনি পথ দিয়ে বর্শা ঢুকিয়ে খুঁচিয়ে খুচিয়ে তাঁকে হত্যা করে শরীর দুই ভাগ করা হলো। এবং ইয়াসিরকে(রাঃ) দুই পাশ দিয়ে ঘোড়া দিয়ে টানিয়ে মাঝবরাবর ছিড়ে ফেলা হলো।
কেন? কারন তাঁরা শুধু বিশ্বাস করেছিলেন আল্লাহ এক, এবং অদ্বিতীয়।

তারপরেও কিছুতে কিছু হচ্ছিল না বলে তাঁদের সমাজচ্যুত করা হলো। তিনটা বছর মুসলিমদের সাথে কেউ কথা বলেনি, কোন লেনদেন করেনি। না খেয়ে মুসলিম শিশুরা মরেছে, বৃদ্ধরা মরেছে, নারীরা মরেছে - কেউ এগিয়ে আসেনি ওদের সাহায্যে। পশুর চামড়া আর গাছের লতাপাতা চিবিয়ে খেয়ে বাঁচতে হয়েছে। মুতইম ইবনে আদী যদি সেসময়ে মাঝে মাঝে তাঁদের খাবার না পাঠাতো, তাহলে খবরই ছিল। একটা প্রতিবাদ করেননি আমাদের নবী(সঃ)।
তারপরেও তারা শান্ত হয়নি। এইবার নবীজিকেই (সঃ) মেরে ফেলতে চাইলো। রাতের আঁধারে তাঁর বাড়িতে এসে হামলা করলো। তিনি মদিনায় "হিজরতে" গিয়ে প্রাণে রক্ষা পেলেন। সাহাবীরা প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখেন একদিন জন্মভূমিতে ফিরে যাবেন। নিজের বাড়িঘরের দেয়ালে চুমু খাবেন, নিজের মাতৃভূমির মাটিতে সিজদাহ দিবেন। বুক ভরিয়ে ফেলবেন মক্কা নগরীর বাতাসে। তাঁদের লেখা কবিতায় তখন এইসব হাহাকার প্রকাশ পায়।

এইদিকে মক্কাবাসী কুরাইশরা কী করলো? তাঁদের ফেলে যাওয়া চৌদ্দ পুরুষের সহায় সম্পত্তি সব লুটে নিল। লুটের টাকা সিরিয়ায় পাঠিয়ে আরও প্রফিট বানালো।
যদি নবীজি(সঃ) এর পরও চুপ থাকতে বলতেন, তাহলেও সাহাবীরা চুপ থাকতেন। কিন্তু ব্যপারটা কতখানি প্র্যাকটিকাল হতো?
বাস্তব উদাহরণ দিলেই বুঝবেন।

পাকিস্তান আমাদের উপর একটানা শোষণ করে গেছে। আমরা মাঝে মাঝে চুপ থেকেছি, মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু যেদিন আমাদের ঘরে ঘরে ঢুকে ওরা গুলি করে মারতে লাগলো, আমাদের মা বোনদের উঠিয়ে নিয়ে যেতে লাগলো, তখন কী আমাদের ধৈর্য্য ধরে বসে থাকলে চলতো? "এক গালে চড় খেলে আরেক গাল পেতে দাও" ফিলোসফি কাজে আসতো? They didn't mind killing Bengalis.

নবিজিই(সঃ) উদাহরণ সেট করে গেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় "মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই" হাদিসটা ভয়েড হয়ে যায় কুরআনের একটি আয়াত দিয়ে "যখন দুইজন মমিনের মধ্যে লড়াই বাঁধবে তখন তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে দুইজনের মধ্যে মিমাংসা করে দাও। আর যদি সেই দুইজনের মধ্যে একজন জালিম হয়ে থাকে, তবে দুর্বলের পক্ষ্য নিয়ে জুলুমকারীর বিরুদ্ধে লড়, ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না সে পরাজিত হয়।" আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ।
ছাত্ররা কলম ছেড়ে অস্ত্র তুলে নিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর একটা রিক্সাওয়ালার কাঁধে কাঁধ রেখে শত্রুর মোকাবিলা করলো। দেশ স্বাধীন হলো।

যদি নবিজি(সঃ) উদাহরণ সেট করে না যেতেন? ট্রাস্ট মি, আজকে পৃথিবীতে মুসলমান সংখ্যা এত বেশি হতো না। তার বহু আগেই অত্যাচারিত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। আর বাকিরা ভয়েই দূরে সরে যেত।
ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের নবী(সঃ) সেদিনকার রাজাকার বনু কুরায়দাকে যেমন মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন, তেমনি মক্কা বিজয়ের পর চিরশত্রু কুরাইশদের হাতের মুঠোয় পেয়েও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি কী একটা যুদ্ধ জয়ের শেষেও ভিকট্রি পার্টি করেছিলেন? বাংলায় বললে বিজয়োৎসব? রং ছুড়াছুড়ি, খুশিতে এর ওর মুখে জোর করে মিষ্টি খাইয়ে দেয়া? খুঁজতে থাকেন। একটাও যদি উদাহরণ পান, প্লিজ দেখান।
ত্যানাবাজরাই কেবল বনু কুরায়দা, কাব বিন আশরাফ আর বিভিন্ন যুদ্ধ নিয়ে ত্যানা প্যাচায়।
এখন এটাও ঠিক ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এবং একদল মুর্খ জঙ্গিদের জন্য গোটা ইসলামকেই দোষ দিচ্ছে।

কিন্তু ক্রিমিনোলজি নিয়ে বিন্দুমাত্র পড়াশোনাও যদি কেউ করে থাকে, তারই বুঝবার কথা যে প্রতিটা অপরাধীর নিজস্ব কিছু ফিলোসফি থাকে। হিটলার জাতীয়তাবাদের নামে লাখ লাখ ইহুদি মেরে সাফ করে দিয়েছিল। স্তালিন কমিউনিজমের নামে লাখ লাখ স্বজাতির হত্যা করেছিল। দেশপ্রেমের নামে অ্যামেরিকা যে কয়টা দেশ উজার করে দিয়েছে কে হিসেব করবে? আমাদের দেশেও বিএনপি আওয়ামীলীগের নামে প্রতিদিন হত্যার ঘটনা ঘটছে।
"তুই ওকে মারলি কেন?"
"ও আওয়ামীলীগ করে। ভারতের দালাল।"
"তুইই বা ওকে মারলি কেন?"
"ও বিএনপি করে। যুদ্ধাপরাধী।"
"ও পাকিস্তানি ওকে পায়ের নিচে পিষে মারা দরকার।"
এই কথাতো আমরা প্রায় প্রতিদিনই শুনি। আবার একই বক্তব্য হয়তো কোন এক পাকিস্তানিরও আমাদের বাঙালিদের প্রতি।
আস্তিক নাস্তিকদেরও একই ঘটনা। শুধু শব্দের হেরফের হয়।
"ও নাস্তিক। ওর ফাঁসি চাই।"
"ও ছাগু! ও শুধু কোপাতেই জানে। ওরও ফাঁসি চাই।"

কাজেই, নিতান্তই আহাম্মক না হলে কেউ অপরাধীর অপরাধকে ধর্মের ভিত্তিতে ফিল্টার করেনা।
ক্যানাডা এয়ারফোর্সের হাইলি ডেকোরেটেড অফিসার কর্নেল রাসেল উইলিয়ামস নিজের বেসের প্রতিবেশী মেয়েদের আন্ডার গার্মেন্টস চুরি করতো। সে কিন্তু ধর্ষণ করতো না। সুন্দরী মেয়েদের আন্ডার গার্মেন্টসের গন্ধ নিতে তার ভাল লাগতো। পারভার্ট এই লোকটার এই অপরাধ ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে দুইটা খুনে গিয়ে শেষ হলো। মেয়েগুলো তাকে চুরির সময়ে দেখে ফেলেছিল বলে। তাহলে কী এখন সব দোষ ভিক্টোরিয়া'স সিক্রেট জাতীয় কোম্পানিগুলোর?
একজন সন্ত্রাসী, সে যেই হোক, সে একজন সন্ত্রাসী। এবং দেশের প্রচলিত আইনেই তার বিচার হওয়া উচিৎ। এবং সে যদি মুসলিম হয়, তাহলে আমার দাবি তার বিচার সর্বোচ্চ ও কঠোরতর হওয়া উচিৎ। এখানেও আমি ইসলামেরই দৃষ্টান্ত দেব।

উমার (রাঃ) আমির-উল-মু'মিনীন নির্বাচিত হয়ে প্রথমেই নিজের ছেলেদের ডেকে পাঠালেন। তারপর গম্ভীর স্বরে বললেন, "তোমাদের বাবা ইসলামের খলিফা নির্বাচিত হয়েছে। সবাই জানে ন্যায়ের পক্ষ্যে উমার কতখানি কঠোর। কেউ অপরাধ করলে আমি অবশ্যই তাকে শাস্তি দেব। এবং অপরাধী যদি তোমরা হয়ে থাক, তাহলে সেই শাস্তির পরিমাণ হবে দ্বিগুন। প্রথমত অপরাধের জন্য, দ্বিতিয়্ত, খলিফার ছেলে হয়েও অপরাধ করার জন্য। তোমাদের শাস্তি এত প্রচন্ড হবে যে তোমরা যেন আফসোস করে ভাব, কেন তোমাদের বাবা খলিফা নির্বাচিত হলেন!"
তিনি তাঁর কথা রেখেছিলেন। নিজের ছেলেকেই মদ্যপানের শাস্তি দিতে গিয়ে পুত্রহারা হয়েছিলেন। একজন পিতা জানেন তাঁর কাঁধে সন্তানের মৃতদেহ কতখানি ভারী।

একেকটা খুনি জঙ্গিকে বেত্রাঘাত করতে করতে ফাঁসিতে ঝুলানোর আগে যেন তাদের আফসোস হয়, কেন তারা খুন করতে গেল। এবং তারচেয়েও বেশি আফসোস হয়, একজন মুসলিম হবার পরেও সে কেন খুন করতে গেল।
শেষ করি সাম্প্রতিক একটি ঘটনা দিয়ে। বঙ্গদেশের একটা ষোল বছরের হারামজাদা মাতাল অবস্থায় গাড়ি দিয়ে একটি যাত্রীবাহী রিক্সা পিষে ফেলেছে। বাপ চাচা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশের সহায়তায় হারামিটা পালিয়েও যেতে পেরেছে। দেশের সরকার হয়তো এই ছেলেটার কিছুই হতে দিবেনা। গরিব রিক্সাওয়ালা মরলে মরুক, রিক্সা চরনেওয়ালা যাত্রী মরলে মরুক....এইচবিএম ইকবালের ভাতিজা বলে কথা। চাচায় মিছিল করে পিস্তল নিয়ে, ভাতিজা যদি দুই একটা মানুষ গাড়িচাপা না দিল তাহলে চলবে?

উমার(রাঃ) কী করেছিলেন শুধু একটা ঘটনা বলি।
মিশর থেকে এক ব্যক্তি এসে খলিফাকে বিচার দিলেন মিশরের গভর্নরের পুত্র তাঁর উপর অত্যাচার করেছে। উমার সাথে সাথে মিশরের গভর্নর আমর ইবনে আস(রাঃ)সহ তাঁর পুত্রকে সমন পাঠালেন। খলিফার সমন পেয়ে আমর(রাঃ) নিজের পুত্রকে বারবার জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কোন অপরাধ করনিতো? নাহলে খলিফা কেন খবর পাঠালেন?"
আমরের পুত্র বারবার পিতাকে আশ্বস্ত করলেন তিনি কিছুই করেননি।

খলিফার দরবারে মিশরীয় ব্যক্তি প্রমাণ করে দিলেন ঘটনা। খলিফা নিজের লাঠি ধরিয়ে দিয়ে বললেন, "একে ততক্ষণ পর্যন্ত পিটাও যতক্ষণ না তোমার মন শান্ত হয়।"
গভর্নরের সামনেই এক সাধারণ জনতা তাঁর পুত্রকে লাঠি দিয়ে পেটালেন।
একটা সময়ে বেচারা ক্লান্ত হয়ে লাঠি ফেরত দিতে দিতে বললেন, "ধন্যবাদ হে আমিরউল মু'মিনীন। আমি আমার বিচার পেয়ে গেছি।"

উমার(রাঃ) বললেন, "বিচার এখনও শেষ হয়নি। এই নাও লাঠি, এখন তুমি গভর্নরকে মারো। তাঁর ছেলে তাঁর বাপের পজিশনের জোরেই এই কুকর্ম ঘটিয়েছে। কাজেই সে বুঝে নিক, তাঁর বাপের পজিশন তাঁর বাপকেও অপরাধ করার লাইসেন্স দেয় না।"

নজরুলের মতন আমারও আফসোস করে বলতে ইচ্ছা করে
"শুধু অঙ্গুলি হেলনে শাসন করিতে এ জগতের
দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের
ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের ধরি
আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!" 

পোস্টটি  লিখেছেন : মঞ্জুর চৌধুরী 

0 comments
Labels: , , ,

দুনিয়া মু’মিনের জন্য জেলখানা, কাফিরের জন্য বেহেশত।- কথা কি সত্য ?

“মনে করে দেখো, যখন আমি বলেছিলাম, “এই শহরে প্রবেশ করো এবং এখানে তোমরা ইচ্ছেমতো যত খুশি খাও, কিন্তু এর দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় আমার প্রতি (কৃতজ্ঞতায়) অবনত হয়ে প্রবেশ করো এবং বলতে থাকো, “আমাদের পাপের বোঝা হালকা করে দিন!” তাহলে আমি তোমাদের দোষ-ত্রুটি-অন্যায় আচরণ ক্ষমা করে দিব এবং যারা ভালো কাজ সুন্দরভাবে করে তাদের পুরস্কার আরও বাড়িয়ে দিব। [আল-বাকারাহ ৫৮]

কু’রআনে এই কথাগুলো বার বার আসে: সুস্বাদু খাবারের কথা, জীবনকে উপভোগ করার কথা, আল্লাহর ﷻ সৃষ্টি করা এই অত্যন্ত সুন্দর পৃথিবী এবং আকাশ ঘুরে দেখা। আল্লাহ ﷻ আমাদেরকে কু’রআনে বার বার তাঁর অনুগ্রহের কথা চিন্তা করতে বলেছেন, আমাদেরকে হালাল উপায়ে জীবনকে উপভোগ করে আখিরাতে আরও বেশি আনন্দের জন্য চেষ্টা করতে বলেছেন।

কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে অনেক মুসলিমের ভেতরে একটি ধারণা চলে এসেছে যে, যদি একজন আদর্শ মুসলিম হতে চাও, তাহলে আজকে থেকে জীবনের সব আনন্দ ছেড়ে দিয়ে, কোনোমতে চলে–এরকম একটা জীবন-যাপন করো এবং নিজেকে যত পারো কষ্টের মধ্যে রাখো। হাজার হলেও, হাদিসে আছে: “দুনিয়া মু’মিনের জন্য জেলখানা, কাফিরের জন্য বেহেশত।”(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, সহীহ মুসলিম)

এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা যে, একজন আদর্শ মুসলিম হতে হলে জীবনের সব হালাল আনন্দ, সম্পদ অর্জনের সুযোগ, উচ্চতর ডিগ্রি পাওয়ার চেষ্টা – এই সব ছেড়ে দিয়ে, গরিবের মতো জীবন যাপন শুরু করতে হবে। “সবসময় মুখ গম্ভীর করে রাখতে হবে, যেন মানুষ আমাকে দেখলেই বুঝতে পারে আমি একজন খাঁটি ঈমানদার। সস্তা, সাধাসিধে, তালি দেওয়া কাপড় পড়তে হবে, যেন আমাকে দেখলে মনে হয় আমি একজন আদর্শ সুন্নতি বান্দা। পরিবারকে নিয়ে ভুলেও রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া যাবে না, যতক্ষণ না দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে, সবাই যাকাত দিয়ে, সব গরিব মানুষ সচ্ছল হয়ে না যাচ্ছে। দিনরাত নিজেকে বিভিন্ন ধরনের কষ্টের মধ্যে রাখতে হবে। কারণ যত বেশি কষ্ট, তত বেশি সওয়াব”— এগুলো সবই ভুল ধারণা, যা হাদিসটির বিভিন্ন ধরনের অপব্যাখ্যা থেকে এসেছে। এধরনের অপপ্রচারের কারণে আজকাল মানুষ ‘ইসলাম’ মানেই মনে করে একটি বন্দি, হতাশাকর, বিষণ্ণ জীবন ব্যবস্থা।

এই দুনিয়াতে মানুষের আত্মাকে আল্লাহ ﷻ দেহ নামের এক জেলখানায় ভরে দিয়েছেন। এই জেলখানায় থাকার অনেক নিয়মকানুন আছে। এখানে কিছু কাজ করা নিষিদ্ধ, কিছু কাজ নিয়মিত করা বাধ্যতামূলক। এই নিয়মগুলো দেওয়া হয়েছে জেলখানার সবার ভালোর প্রতি লক্ষ রেখে, জেলখানায় নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। এই হচ্ছে জেলখানার প্রকৃতি। একজন মু’মিনের কাছে এই ব্যবস্থাকে একটা জেলখানার মতো মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই বাস্তবতা এবং সে সেটা মেনে নেয়।

কিন্তু অবিশ্বাসীরা এটা বিশ্বাস করতে চায় না যে, একদিন কিয়ামত হবে, বা মৃত্যুর পরে আর কোনো জীবন আছে। তারা মনে করে: এই দুনিয়াটাই হচ্ছে তাদের বেহেশত— এখানে কোনো নিয়ম নেই, কোনো নিষেধ নেই, যখন যা খুশি তাই করা যাবে। যেহেতু তাদের কাছে এই দুনিয়াটাই হচ্ছে একমাত্র জীবন, এর পরে আর কোনো অস্তিত্ব নেই, তাই তারা এই দুনিয়াটাকে তাদের মতো করে বেহেশত বানিয়ে, যতটুকু সম্ভব আমোদ ফুর্তি করে যেতে চায়। এই দুনিয়ার মতো ক্ষণস্থায়ী একটা জায়গা, যেখানে অসুখ হয়, প্রিয়জনেরা হারিয়ে যায়, পদে পদে নানা কটু কথা, অন্যায় সহ্য করতে হয়–এটাই তাদের শেষ বেহেশত। এর পরে আর কিছু পাওয়ার আশা নেই।

এরকম একটি ধারণা মানুষকে কতখানি হতাশ করে দেয়, সেটা আমাদের মুসলিমদের পক্ষে চিন্তা করাটা কঠিন। একটা মানুষ যখন প্রতিদিন নিজেকে বোঝায়: “একদিন আমি মরে যাবো, আর এই সবকিছু হারিয়ে যাবে, আমার পরিবার আমাকে ছেড়ে চলে যাবে, আর কোনোদিন আমি তাদেরকে পাবো না; আমার সব সম্পত্তি একদিন আমার কাছ থেকে চলে যাবে, আমার অস্তিত্ব একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, আর মাত্র কয়েকটা বছর, তারপর সব শেষ”–কি ভয়ংকর হতাশাকর পরিস্থিতির মধ্যে তাকে জীবনটা পার করতে হয়। সে তখন মরিয়া হয়ে যায় এই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে যত বেশি করে পারে আনন্দ করে নিতে। তখন সে বন্ধু বান্ধব নিয়ে মরিয়া হয়ে ড্রিঙ্ক করে মাতাল হয়ে যায়। যৌবন শেষ হয়ে গেল, শরীর নষ্ট হয়ে গেল–এই তাড়নায় ছুটতে থেকে অশ্লীল কাজে গা ভাসিয়ে দেয়।

তারপর শরীর এবং মন ভর্তি অসুখ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে। একসময় সে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তার ভয়ংকর আসক্তির জন্য এবং জঘন্য সব স্মৃতিকে ভুলে থাকার জন্য নিজেকে অ্যালকোহলে, ড্রাগে বুঁদ করে রাখতে হয়। এদেরকে বাইরে থেকে দেখে অনেক আমোদে আছে, জীবনটা অনেক উপভোগ করছে মনে হলেও, রাতে ঘরে ফেরার পর যখন তারা একা হয়, তখন তাদের উপরে হঠাৎ করে নেমে আসে ভয়ংকর বিষণ্ণতা, অবসাদ এবং হতাশা। তাদের জীবনে আর বড় কোনো গন্তব্য নেই, বড় কোনো উদ্দেশ্য নেই। এই নষ্ট দুনিয়াটাই তাদের শেষ চাওয়া-পাওয়া।

আপনারা যদি পাশ্চাত্যের অমুসলিমদের মুসলিম হওয়ার ঘটনাগুলো পড়েন, দেখবেন তাদের ঘটনায় একটি ব্যাপার বার বার ঘুরে ফিরে আসে: তাদের অনেকেই দিনরাত ফুর্তি করত, ব্যভিচার, মদ ছিল তাদের জীবনে খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। শনি-রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বারে গিয়ে সারারাত ড্রিঙ্ক করে মাতাল হয়ে আসত। তারপর যখন সোমবারে হুঁশ ফিরত, এক ভয়ংকর হতাশা, বিষণ্ণতায় ডুবে যেত। জীবনটা তাদের কাছে অসহ্য মনে হতো। নিজের কাছে নিজেকে একটা পশু মনে হতো। “জীবন কি এটাই? জীবনে কি এর চেয়ে বড় কিছু নেই? এভাবে নিজেকে শেষ করে দিয়ে কি লাভ?”—এই ধরনের প্রশ্ন তাদেরকে পাগলের মতো তাড়িয়ে বেড়াত। তাদের জীবনে কোনো সুখ ছিল না, ছিল কিছু ক্ষণস্থায়ী ফুর্তি। হতাশা, বিষণ্ণতা, অশান্তি এবং নিজেকে শেষ করে দেওয়ার একটা অসহ্য ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখার জন্য তাদেরকে দিনরাত নিজের সাথে সংগ্রাম করতে হতো, নিজেকে মদে বুঁদ করে রাখতে হতো।


আল্লাহ ﷻ আমাদেরকে এর ঠিক উল্টোটা করতে বলেছেন। তিনি আমাদেরকে যে জীবন-বিধান দিয়ে দিয়েছেন, সেভাবে জীবন পার করলে এই দুনিয়াতেই আমরা হাসিখুশি থাকতে পারব, নিজের জীবনে, পরিবারে, সমাজে, দেশে শান্তি নিয়ে আসতে পারব। একই সাথে মৃত্যুর পরে অনন্তকাল পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে অনাবিল, অফুরন্ত শান্তিতে জান্নাত উপভোগ করতে পারব। তিনি আমাদেরকে বলেননি এই দুনিয়াতে নিজেদের উপরে ইচ্ছা করে কষ্ট দিতে। বরং তিনি পৃথিবীতে অসংখ্য হালাল আনন্দের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং সেগুলো উপভোগ করার নির্দেশ কু’রআনেই দিয়েছেন—

আল্লাহ তোমাদেরকে এই জীবনে যা দিয়েছেন, তা ব্যবহার করে এর পরের জীবনকে পাওয়ার জন্য চেষ্টা কর, কিন্তু সেই সাথে এই দুনিয়াতে তোমার যে প্রাপ্য রয়েছে, সেটা ভুলে যেও না। অন্যের সাথে ভালো কাজ কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দিয়েছেন। এই পৃথিবীতে দুর্নীতি ছড়ানোর চেষ্টা করবে না। দুর্নীতিবাজদের আল্লাহ পছন্দ করেন না! [আল-কাসাস ২৮:৭৭]


বল, “কে তোমাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট সৌন্দর্য এবং ভালো-পবিত্র খাবার উপভোগ করতে মানা করেছে, যা তিনি তার বান্দাদের জন্যই তৈরি করেছেন?” বলে দাও, “এগুলো তাদেরই জন্য যারা এই দুনিয়াতে বিশ্বাস করে: কিয়ামতের দিন এগুলো শুধুমাত্র তাদেরই হবে।” এভাবেই আমি আমার বাণীকে পরিষ্কার করে দেই বুদ্ধিমান লোকদের জন্য। [আল-আরাফ ৭:৩২]


ও প্রভু, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন। আর আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেন। [আল-বাকারাহ ২:২০১]

উপরের আয়াতগুলো এবং বাকারাহ-এর আলোচ্য আয়াতের মূলকথা একটাই: জীবনকে উপভোগ করতে হবে আল্লাহর প্রতি অনুগত থেকে, কৃতজ্ঞ থেকে এবং পাপের ব্যাপারে সবসময় সাবধান থেকে। মনে রাখতে হবে, দুনিয়াতে আমরা যা কিছুই উপভোগ করব, কিয়ামতের দিন সেগুলোর সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। সুতরাং আমরা যেন উপভোগ করতে গিয়ে আল্লাহর ﷻ অবাধ্য না হই। এমন কিছু যেন করে না ফেলি, যেটা কিয়ামতের দিন আমাদেরকে দেখানো হলে আমরা লজ্জায় কিছু বলতে পারব না।

আমরা পৃথিবীতে আল্লাহর ﷻ তৈরি সৌন্দর্য, ভালো-পবিত্র খাবার যখন ইচ্ছে উপভোগ করতে পারি, যদি সেটা আল্লাহর ﷻ প্রতি অনুগত অবস্থায়, তাঁর দেওয়া নিয়মের মধ্যে থেকে করি, এবং একই সাথে আমরা যে সবসময় ভুল করছি, সেটার জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। এরকম বিনীত, কৃতজ্ঞ অবস্থায় পৃথিবীতে আল্লাহর ﷻ অসাধারণ অনুগ্রহগুলো পরিমিতভাবে উপভোগ করে, জান্নাতে গিয়ে অনন্তকাল আনন্দ করার চেষ্টার মধ্যে কোনোই বাধা নেই

(সোর্স এবং আরো বিস্তারিত দেখুন এখানে- উস্তাদ নুমান আলী খানের তাফসীরের প্রেরণায় বাংলা ভাষায় অসাধারণ এই সাইট থেকে - http://quranerkotha.com/baqarah-58/ )

0 comments
Labels: , , ,

আজকে "ব্লগার" একটি গালি! ধার্মিক মানেই মৌলবাদী, সন্ত্রাসী! মুক্তমনা মানেই ভন্ড।

বাংলাদেশী অনলাইন জগতে এখন সবচেয়ে আলোচিত শব্দ হচ্ছে "মুক্তমনা।" একদল লোক শব্দটিকে গালি বানিয়ে দিয়েছে। তাদের কাছে মুক্তমনা মানেই কাফের, নাস্তিক, এদের ফাঁসি চাই। আরেকদল নিজেদের মুক্তমনা দাবি করে নিজেদের মনের পারভার্টনেস, গালাগালি, মস্তিষ্কের পায়খানা ইত্যাদি বের করে এনে অনলাইন জগৎকে দূষিত করছে। আজকে হঠাৎ করেই মনে হলো, এ নিয়েই কিছু কথা বলে ফেলি।
তাহলে একটু ঘুর পথেই মূল বিষয়ে যাওয়া যাক।

মত প্রকাশের অধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। মায়ের পেট থেকে সে স্বাধীন হয়েই বের হয়। তাঁকে কেউ পরাধীন বানালে সেটা মানুষ বানায়, প্রকৃতি নয়। জন্মের পর থেকেই নানান অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে বড় হতে থাকে। তাঁর মস্তিষ্কের ব্ল্যাংক হার্ডডিস্কে ধীরে ধীরে নানা তথ্য জমা হতে থাকে। এবং অতি স্বাভাবিক কারনেই তাঁর মনে নানান বিষয়ে নানান সময়ে নানান প্রশ্ন জেগে উঠে। কিছু কিছু বিষয়ে তাঁর একান্ত নিজস্ব মত সৃষ্টি হতে থাকে। এবং এই প্রশ্ন করার অধিকার, এবং কোন বিষয়ে মত প্রকাশের অধিকারটাই তাঁর জন্মগত অধিকার। আমাদের কাউকে ক্ষমতা দেয়া হয়নি সেই অধিকার দাবিয়ে রাখার।

এখন সেই মত প্রকাশের বা প্রশ্ন করার মাঝে একটা শালীনতা, একটা পরিমিতি বোধ থাকা প্রতিটা মানুষেরই উচিৎ। আমার হাতে রাইফেল ধরিয়ে দিলেই আমি গুলি করে যাকে তাকে মেরে ফেলতে পারিনা। এইটুকু বিবেক বোধ আমার থাকাটা জরুরী।যখনই কেউ সীমা অতিক্রম করে, তখন সেটা আর মুক্তমন থাকেনা, ফাজলামি হয়ে যায়। এখন আমাদের দেশে ঠিক যেটা চলছে।
ব্যাখ্যা করলে কিছুটা স্পষ্ট হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যৌবনে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁর "ব্লগের" উপসংহারে লিখেন, "ইহা আসলে কোন মহাকাব্যই নয়।"এখন মাইকেলের ভক্তেরা যদি রবীন্দ্রনাথের উপর ক্ষেপে গিয়ে ব্লগিং শুরু করে দেন যে "এই শালা বউদির সাথে প্রেম করে, যেখানে সেখানে প্রেম করে, লুইচ্চা ব্যাটা মহাকাব্যের কী বুঝে?" এবং অফ টপিক সমালোচনা, ব্যক্তিগত আক্রমন। সেটা আর মত প্রকাশ থাকেনা, মুক্তমনেরতো ধারে কাছেও যায় না। এইটাই ফাজলামি। আসল মুক্তমনারা রবীন্দ্রনাথের সাথে সুস্থ আলোচনায় বসবে, এবং যদি আলোচনা ফলপ্রসু না হয় তাহলে যে যার বিশ্বাস নিয়ে স্থির থাকবে। তবু ভদ্রতার সীমা অতিক্রম করবে না।
কথা প্রসঙ্গে বলে ফেলি, শেষ বয়সে রবীন্দ্রনাথ বুঝতে পেরেছিলেন যৌবনে তিনি কী ভুলটাই না করেছিলেন। তিনি তাই নিজের সমালোচনা করে বলেছিলেন, মেঘনাদবধ কাব্যের মাহাত্য বুঝার মত বয়স তখন তাঁর ছিল না।
এমনি এমনি কেউ "কবিগুরু" হয়না। বিশাল একটা কলিজা থাকা লাগে।
এখন সরাসরি পয়েন্টে আসি।

আজকাল মুক্তমনার ছদ্মবেশে মানুষ ধর্মকে সরাসরি আক্রমন করছে। ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখালেখি এক বিষয়, আর ফাজলামি ভিন্ন। দেশে এখন ফাজলামি চলছে বেশি। যেমন, কেউ যদি হিন্দু ধর্মের গোড়ামির সমালোচনা করতে চায়, সে বর্ণ প্রথা নিয়ে সমালোচনা করুক। "বিধবা নারীর বিবাহ শাস্ত্র সিদ্ধ নয়," "সতিদাহ প্রথা মহাপুন্যের," "ব্রাক্ষণের সঙ্গে যৌন মিলনে পাপ নেই" - ইত্যাদির বিরুদ্ধে বলুক। এবং তারচেয়ে বড় কথা, নিজে সেটা পালন করুক।
কিন্তু কৃষ্ণ, রাম, শিবদের নামে খিস্তি গাওয়ার কী মানে?এর মানে একটাই, তাদের মূল উদ্দেশ্য সমাজ সংস্কার নয়, তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য উস্কানি।ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যা সাগর নিজের পুত্রের বিয়ে এক বিধবা নারীর সাথেই দিয়েছিলেন। যতদূর জানি, ঈশ্বর চন্দ্র কোন লেখায় কোন ধর্মকে আক্রমন করে কিছু লিখেননি।

তাই আমরা দেখতে পাই, "মুক্তমনার" দাবি তোলা এইসমস্ত ব্লগাররা কখনই সমাজ বদলের জন্য তেমন মুখ্য ভূমিকা রাখেননা। তারা অনলাইনে গালাগালি আর উস্কানি নিয়ে ব্যস্ত। সোমালিয়ায় একটি এতিম শিশুকে দেখভাল করতে মাসে মাত্র তিরিশ ডলার লাগে। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশে খরচ এর কাছাকাছিই হবে। কখনই দেখবেন না এইসব মুক্তমনাদের এইসব এতিম শিশুদের দেখভাল করতে।

আমি একবার এক মানবতাবাদী মুক্তমনাকে দেখেছিলাম রিক্সাওয়ালাকে ঠাস করে চড় মারতে। কারন সে ন্যায্য ভাড়ার চেয়ে পাঁচ টাকা বেশি চেয়েছিল। রিক্সাওয়ালার যুক্তি, সেদিন গরম বেশি ছিল।
মানুষের প্রতি মমতা এদের অনলাইন জগতেই সীমাবদ্ধ। আর পশুপাখির প্রতিতো নেই বললেই চলে।
এক সাইকোকে চিনতাম যে ক্ষধার্ত কুকুরের উপর গরম পানি ঢেলে দিয়ে খুব মজা পেত। চামড়া ঝলসে যাওয়ার যন্ত্রনায় কুকুরের চিত্কার শুনতে তার খুব ভাল লাগতো। সেই কিনা আবার নিজেকে মুক্তমনা দাবি করে মাঝে মাঝে স্ট্যাটাস দেয়।

তবে যারা আসলেই মানবতাবাদী, তাঁরা ফালতু খিস্তি আওরান না। তাঁদের মানসিকতাই ভিন্ন। এরাই অ্যাগনস্তিক, মানে হচ্ছে লজিক্যাল এবং তারচেয়েও ভদ্র, নাস্তিক। মোটেও ফাজিল নয়। আমার বন্ধু তালিকায় এদের সংখ্যা প্রচুর।
আর এইদিকে সেসব উস্কানিমূলক লেখা পড়ে মুমিন মুসলমানের রক্ত টগবগিয়ে ফুটে। তারা ঝাপিয়ে পড়ে মানুষ খুনের কাজে। এমন ভাব যেন ইসলাম বিপন্ন, এরা না মরলে ইসলামের সম্মান ধুলায় লুটাবে। নারায়ে তাকবির! আল্লাহু আকবার!

আহারে মুসলিম! আল্লাহর উপর এই তোদের ভরসা! এই তোদের রাসুলের নির্দেশ মেনে চলা?
এর ফলে পরিচিতি পাচ্ছে ইসলাম একটি সন্ত্রাসী ধর্ম। মুসলিম মানেই সন্ত্রাসী!
এদের কিছু বুঝাতে যাবেন, আপনি হবেন কাফির। আপনিও হবেন নাস্তিক।
একদিকে তথাকথিত মুক্তমনা, অন্যদিকে এইসমস্ত মূর্খ মৌলবাদী - আমাদের অবস্থা পিষ্ট হওয়া মরিচের থেকেও দফারফা।
এইবার আসা যাক আসল পয়েন্টে।

বিরাট সংখ্যক মুসলমানদের একটা বিশ্বাস আছে যে আমাদের ধর্মকে কোন রকম প্রশ্ন করা যাবেনা। যা আছে, চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে হবে। কারন ঈমানের আভিধানিক অর্থই বিশ্বাস। এবং ইসলাম শব্দের অর্থ আত্মসমপর্ন। নবীজি (সঃ) যা বলেছেন, আল্লাহ যা বলেছেন, চোখ বন্ধ করে আত্মসমর্পণ করে ফেলার নামই ঈমান।
কিন্তু কিউরিয়াস মন মাঝে মাঝেই জানতে চায়। এটা কেন হলো? ওটা কেন হলো? এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রশ্ন করার অধিকার কী ইসলাম আমাকে দিচ্ছে? উত্তর হচ্ছে, আপনার পাড়ার মোল্লা হয়তো নাও দিতে পারেন, ইসলাম কিন্তু সেই অধিকার দিচ্ছে।
উদাহরণ দিচ্ছি।

আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের নাম কেউ কেউ হয়তো শুনেছেন। এই লোকটাকে বলা হতো মুনাফেক সর্দার। এক নম্বরের বিশ্বাসঘাতক। এই সেই শয়তান যে আরও অনেক অপকর্মের পাশাপাশি হজরত আয়েশার (রাঃ) নামে কুৎসা রটিয়েছিল। মানে নবীজির (সঃ) তার পারসনালপার্সোনাল শত্রুতা থাকার যথেষ্ট কারন ছিল।যেদিন সে মারা গেল, এবং সেটি ছিল ন্যাচারাল ডেথ, কোন কোপাকোপি নয়; নবীজি (সঃ) গেলেন তার জানাজায়। তিনি নিজে তার কবরে নেমে তাকে মাটিতে শুইয়ে দিলেন। নিজের গায়ের কাপড় দিয়ে তার কাফন জড়ালেন। যদি কোন বাহানায় আল্লাহ এই মুনাফেককে মাফ করেন!

ছোট নোট, নবীজির এই ক্ষমার বৈশিষ্ট্য মুক্তমনা কিংবা মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের কারও নজরে পরবে না। এরা কাব বিন আশরাফ কাব বিন আশরাফ বলে লাফাতে থাকবে। বিরক্তিকর!  ছিদ্রান্বেষী না হয়ে যদি কেউ সত্যান্বেষী হতো, তাহলে অবশ্যই তাদের চোখে পড়তো।

তা যা বলছিলাম, নবীজির (সঃ) এহেন কর্মে অবাক হয়ে এক সাহাবী প্রশ্নই করে বসলেন, "হে আল্লাহর দূত! আল্লাহ কী আপনাকে নিষেধ করেননি এদের জন্য ক্ষমা চাইতে?"নবীজির কর্মকান্ডে প্রশ্ন করার সাহস কারোরই ছিল না। একজন বাদে। হজরত উমার(রাঃ)। যিনি ছিলেন "আল ফারুক" - সত্য মিথ্যার প্রভেদকারী। নবীজি (সঃ) তখন উত্তরে বললেন, "ইয়া উমার(রাঃ)। আল্লাহ আমাকে বলেছেন তুমি যদি সত্তুরবারও ওদের জন্য ক্ষমা চাও, তবুও আমি মাফ করবো না। তাই আমি একাত্তুরবার ক্ষমা চাইবো। যদি তিনি মাফ করেন!"
তাহলে এই ঘটনায় আমরা কী পাই? নবীজিকেও প্রশ্ন করা যায়। কেন এমন হচ্ছে? অমন কেন হচ্ছে না?
আরেকটা উদাহরণ লাগবে?

হুদায়বিয়ার সন্ধি। এখানেও প্রশ্নকর্তা সেই একই ব্যক্তি, উমার(রাঃ)।
"আপনি কী রাসূল নন? আমরা কী সৎপথে চালিত নই? ওরা কী জুলুমকারী নয়? তাহলে কেন সন্ধির এই অপমানজনক শর্তগুলো মেনে নিলেন? একে বিজয় বলছেন? কিভাবে?"
এক গাদা প্রশ্ন! বা সেই সাহাবিকেই বা আমরা কিভাবে ভুলে যাই যিনি নবীজিকে গিয়ে বলেছিলেন, "আমাকে ব্যাভিচারের অনুমতি দিন। আমি এবং মেয়েটি যদি পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যভিচারে লিপ্ত হই, তাহলে কেন সেটি পাপ হবে?"কথা হচ্ছে, তিনি কী একবারও প্রশ্ন শুনে কাউকে কোপানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন?

এই গেল নবীজি। আপনারা কী জানেন আল্লাহকে পর্যন্ত প্রশ্ন করা যায়?
আদম সৃষ্টির ইচ্ছা প্রকাশ করলে ফেরেস্তাদের রিয়েকশন কী ছিল? "কেন আপনি ওদের সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন? ওরাতো পৃথিবীতে গিয়ে ঝামেলা ছাড়া আর কিছুই করবেনা। আপনার ইবাদতের জন্য কী আমরাই যথেষ্ট নই?"
জ্বী, প্রশ্ন করার অধিকার ইসলামে আছে। তাই কেউ প্রশ্ন করলেই মারতে তেড়ে যাবেন না। নিজের সর্বোচ্চ বিদ্যা দিয়ে বুঝাবেন। না পারলে ক্ষমা চেয়ে নিবেন, এবং নিজেও সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা নিবেন। এতে আপনার নিজের জ্ঞান বাড়বে। কুপিয়ে দিলে জাহান্নামের খাতায় নিজের নামটা লেখানো ছাড়া আর কিছুই লাভ হবেনা।
এবং কে বলেছে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কখনও কিছু লেখা যাবেনা?

আপনি ইসলাম ধর্মে প্রচলিত নানান কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলুন, সমস্যা কী? আমি নিজে কী বলছি না? পীর ব্যবসা, পীর পূজা, কবর পূজা, মাজার ব্যবসা, ঝারফুক থেকে শুরু করে ধর্মের নামে কুপিয়ে মানুষ হত্যা - সবকিছুর বিরুদ্ধেইতো লিখছি। ইসলামী রেফারেন্স দিয়ে দিয়েই লিখছি। কেউ আসুক প্রমান নিয়ে, ভুল ধরিয়ে দিক। আমি তাহলে নিজের কথা ফিরিয়ে নিব। সেটা মুক্তমনা হোক, বা কাঠমোল্লা।

আমাদের বাঙালিদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা আমাদের ভদ্রতার স্ট্যান্ডার্ড দিন দিন একদম পাতালে নামিয়ে আনছি। একটা সময়ে কেবল ভদ্রজনেরাই লেখালেখি করতেন। আফসোস! আজকে "ব্লগার" একটি গালি! আগে ধার্মিকদের দিকে মানুষ শ্রদ্ধার সাথে তাকাতো। আজকাল ধার্মিক মানেই মৌলবাদী, সন্ত্রাসী! 
Written by: মঞ্জুর চৌধুরী 

0 comments
Labels: , , ,

তাকে ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে দেয়ার জন্য আসলে আপনি জাহান্নামী

কোন এক নাস্তিক আল্লাহকে গালি দিল। হযরত মুহাম্মদকে (সঃ) গালি দিল। আমরা মুসলমানেরা তখন কী করি? প্রথমেই মুখ দিয়ে সেই লোকটার মা বোন দাদী নানী সহ চৌদ্দ গুষ্ঠির যত নারী আছে, তাদের সবার সাথে শুয়ে যাই।
এরপরে সেও জবাবে আমাদের গুষ্ঠির নারীদের সাথে শোয়ার চেষ্টা করে।

আমাদের ঈমানী রক্ত তখন টগবগ করে ফুটতে থাকে। আমরা তখন মুখ দিয়ে হুমকি ধামকি দিতে থাকি।
এতে সে চুপ না হলে আমরা ধরে নেই এই কাফির/মুরতাদকে কুপিয়ে খুন না করলে আমি বেহেস্তে যেতে পারবো না। কাজেই রান্না ঘর থেকে মাছ কাটার বটি নিয়ে রওনা হই। যদি সেই 'মুরতাদের' ভাগ্য খারাপ হয়ে থাকে, তাহলে আমার কোপ খেয়েই তার ভবলীলা সাঙ্গ হয়।

তারপর ঘরে ফিরে খেতে বসি। মানুষ খুন করে শান্তির ধর্ম ইসলাম কায়েম করার আনন্দে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি।
সহমতাবলম্বি ভ্রাতার 'শহীদ' হওয়ার ঘটনায় আরও ঝাকে ঝাকে লোক মুরতাদ হয়।
মুরতাদ একটি আরবি শব্দ, যারা মুসলমান পিতামাতার ঘরে জন্ম নিয়ে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে, তাদের মুরতাদ বলা হয়ে থাকে।

মৌলবাদী মুসলিম অথবা চরমপন্থী নাস্তিক, দুইজনের কেউ কী একটু ভেবে দেখেন যে ইসলাম ধর্মটা আসলে কী? তাদের দুইজনের জ্ঞাতার্থেই বলছি, ইসলাম হচ্ছে শুধুমাত্র আল্লাহর বাণী, এবং নবীজির জীবনাদর্শ - এই দুইয়ের বাইরে আর কিছুই নয়।

জামায়াতে ইসলামী উনিশশ একাত্তুরে গণহত্যা চালিয়েছে, অথবা সৌদি সরকার নারীদের অধিকার লঙ্ঘন করছে কাজেই আমি নাস্তিক হয়ে যাব - this is bullshit! জামায়াতে ইসলামীর কোন নেতা ইসলামের নবী নয়।
সৌদি আরবে মক্কা মদিনা থাকলেও তাঁদের সরকারও ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের এক স্তম্ভ নয়। কাজেই তাদের ভুলের জন্য শুধুই তাদের তিরষ্কার করা মানায়, ইসলামকে নয়।

একই সাথে, কোন এক ব্লগার নবীজিকে (সঃ) গালাগালি করলেই তাকে খুন করতে ছুটতে যাওয়াটা অনৈসলামিক।
বিশ্বাস না হলে একটা ইসলামী ঘটনা বলছি।

বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে নবীজি (সঃ) বলেছিলেন, "আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর বাণী এবং তাঁর রাসূলের জীবনাদর্শ রেখে যাচ্ছি।" তিনি বলেছেন এই দুইটাকে আকড়ে রাখলে আমাদের আর কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হবেনা।
তাহলে নবীজির (সঃ) জীবনাদর্শে যাওয়া যাক।

একবার নবীজি (সঃ) কাবা ঘরের সামনে বসে ছিলেন। তিনি মাত্রই নতুন ধর্ম প্রচার শুরু করায় তিনি তখন মক্কা জুড়ে কাফিরদের কাছে বিরাট 'ভিলেন।'

তাঁকে যন্ত্রণা দিতেই আবু জাহেল এসে তাঁর মাথায় বালু ঢেলে দেয়। তিনি কিছু না বলে চুপচাপ বালু ঝেড়ে ফেলেন।
নবীজি কোন জবাব না দেয়ায় আবু জাহেল মজা পেল না। তাই সে নানাভাবে তাঁকে উত্যক্ত করতে থাকে। একসময়ে তাঁকে মারধর পর্যন্ত করে। নবীজি (সঃ) তারপরেও কিছু বলেন না।

হযরত হামযা (রাঃ) সম্পর্কে ছিলেন নবীজির (সঃ) চাচা এবং তিনি তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি। তিনি কুরাইশদের ধর্ম নিয়েও মাথা ঘামাতেন না। তিনি নিজের মতই থাকতেন। শিকার করতে খুব ভালবাসতেন।

এই ঘটনার সময়ে তিনি শিকারে ব্যস্ত ছিলেন। শিকার থেকে ফেরার পর তাঁর এক দাসী এসে তাঁকে বলেন, "ধিক তোমার পুরুষত্বে, তোমার ভাতিজাকে এসে আবু জাহেল মারধর করে গেল, অথচ তুমি তোমার শিকার নিয়ে ব্যস্ত!"
হযরত হামযা (রাঃ) নবীজিকে (সঃ) খুব স্নেহ করতেন। তাঁর মার খাওয়ার ঘটনা শুনে তিনি রেগে আগুন হলেন। ছুটে গেলেন কাবা ঘরে। সেখানে নবীজি (সঃ) না থাকলেও আবু জাহেল তখনও ছিল।
হামযা (রাঃ) এসেই আবু জাহেলের টুটি চেপে ধরেন।
"তুমি কোন সাহসে আমার ভাতিজার গায়ে হাত তুলেছো!"
হযরত হামযা (রাঃ) বিরাট বীর ছিলেন। তাঁর সামনে দাঁড়াবার সাহস কারও হয়নি।
আবু জাহেল কোন রকমে বলে, "ও প্রচার করছে আমাদের বাপ দাদার ধর্ম নাকি মিথ্যা। ও বলছে আল্লাহ নাকি এক এবং সে নাকি তাঁর নবী!"

হামযা (রাঃ) তখন চিবিয়ে চিবিয়ে বলেন, "ও যদি তাই বলে থাকে, তবে আমিও বলছি আল্লাহ এক এবং সেই আল্লাহর নবী। এখন তুমি আমাকে কী করতে পারবে? সাহস থাকে তো গায়ে হাত তুলে দেখাও!"
আবু জাহেলসহ তার সাথীরা হায় হায় করে উঠে। হযরত হামযা (রাঃ) মুসলিম দলে যোগ দেয়ায় নিঃসন্দেহে তাঁদের শক্তি বেড়ে যায়।

এর ঠিক দুই-তিন দিন পরের ঘটনা।
কাফিরদের মধ্যে বিরাট বীর উমার(রাঃ) তলোয়ার নিয়ে হাজির। সে মুহাম্মদকে (সঃ) মেরে ফেলবে।
আবু জাহেল খুব খুশি। মক্কায় উমারের(রাঃ) মত বীর খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। হামযাকে (রাঃ) ঠেকাতে উমারের(রাঃ) বিকল্প কেউ নেই। এবং হামযা (রাঃ) বধ হলে মুহাম্মদকে (সঃ) বাঁচাবার কেউ থাকবে না।

সামনে এগুবার আগে উমারের(রাঃ) সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে দেই। সে তখন সাতাশ বছরের টগবগে তরুণ। মদ্যপান, নারী আসক্তি, জুয়া ইত্যাদি সহ এমন কোন খারাপ কাজ নেই যেখানে তাঁর অরুচি আছে। তাঁর একটাই গুণের প্রশংসা করতে হয়, সেটা হচ্ছে তিনি নির্ভিক বীর।

উমারের (রাঃ) তলোয়ার হাতে আসার খবর শুনে সাহাবীরা ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। হামযা (রাঃ) তখন তাঁদের সবাইকে বলেছিলেন, "ওকে আসতে দাও। যদি তাঁর নিয়্যত ভাল থাকে, তাহলে তাঁর জন্যই ভাল হবে। আর বদ কোন মতলব থাকলে তাঁকে তাঁর তলোয়ারেই হত্যা করা হবে।"

মোটামুটি ভয়াবহ একটা লড়াই দেখার জন্য সাহাবীরা মানসিক প্রস্তুতি নিলেন।
উমার(রাঃ) এসে দরজায় দাঁড়ালেন। হামযা (রাঃ) হাতে তলোয়ার তুলে নিলেন।
কিন্তু তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে স্বয়ং নবীজি (সঃ) এগিয়ে গেলেন। হাসিমুখে তাঁকে স্বাগত জানালেন। উমার (রাঃ) তাঁর পায়ের কাছে তলোয়ার ফেলে দিয়ে বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া আর কোন ঈশ্বর নাই, এবং আপনিই তাঁর প্রেরিত পুরুষ।"

সাহাবীরা জয়ধ্বনি করে উঠলেন, "আল্লাহু আকবার! আল্লাহ সর্বশক্তিমান!"
দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার আবু জাহেলের মাথায় হাত!
এখন ঘটনাগুলো একটু মাথা খাটিয়ে বিশ্লেষণ করা যাক।

প্রথম ঘটনায় নবীজি (সঃ) যদি আবু জাহেলকে পাল্টা চড় থাপ্পর মেরে বসতেন, এমন না যে তিনি দূর্বল ছিলেন; অথবা গালাগালিও করতেন যা কিনা নবীজির (সঃ) স্বভাবে বিন্দুমাত্র ছিল না, তাহলে কী হযরত হামযা (রাঃ) ওভাবে তেড়ে যেতেন? যদি তিনি সেখানে না যেতেন, তাহলে কী তিনি মুসলমান হতেন? উত্তরটা ভাবতে থাকুন।
হযরত উমারের (রাঃ) চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আগেই বলেছি। তিনি নবীজিকে (সঃ) হত্যা পর্যন্ত করতে চেয়েছিলেন। এই চরিত্রের কাউকে দেখলে আমরা নাক সিটকে বলি, "ব্যাটা জাহান্নামী!"
অথচ মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আল্লাহ তাঁকে মুসলিম বানিয়েছিলেন। এবং এক সময়ে তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা পর্যন্ত নির্বাচিত হন।

আল্লাহ চাইলে কি না পারেন?
তাহলে কোন ব্লগার কী লিখলো না লিখলো সেটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়াটাই কী ভাল না?
তার যদি কোন বিষয়ে মতবিরোধ থাকে, তবে আমাদের উচিৎ তার সেই মতবিরোধ দূর করা। গালাগালি করে ঝগড়া বাড়িয়ে তাকে আরও দূরে ঠেলে দিলে কোন লাভ হবে? খুন করে ফেলারতো কোন যুক্তিই নেই। যদি কেউ পথে উমারকে (রাঃ) হত্যা করে ফেলতো, তাহলে আমরা কী হযরত উমারের (রাঃ) মতন বীর, এবং একদন আদর্শ খলিফা পেতাম? এর উত্তর নিশ্চই ভাবতে হবে না!

কাফের অথবা নাস্তিকদের উপর আমরাতো ক্ষেপিই, এমনকি মুসলমানদের মধ্যেও যদি কেউ ইসলাম নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলে, আমরা তাকে জবাব দেয়ার পরিবর্তে রেগে মেগে গালাগালি করতে থাকি। এতে সে ইসলাম থেকে দূরে সরে যায়। দেশে যে লাখে লাখে মুরতাদ, এর একমাত্র কারণ আমাদের এই অভ্যাস।
আরেকটা ঘটনা দিয়ে শেষ করি।

একবার এক তরুণ সাহাবী নবীজির (সঃ) কাছে গিয়ে বললেন, "আমাকে জিনাহ করার অনুমতি দিন।"
জিনাহ মানে অন্য নারীর সাথে শোয়ার অনুমতি।

সবাই হায় হায় করে উঠলো। বলে কী! নবীজির(সঃ) কাছে এসেছে জিনাহর অনুমতি নিতে! সাধারণ এক মোল্লার কাছে গেলেই যেখানে 'আস্তাগফিরুল্লাহ' বলে তাকে তাড়িয়ে দেয়া হবে!
সাধারণ মোল্লার এটা বুঝার ক্ষমতাই নেই যে এতে সে জিনাহ করা থেকে বিন্দুমাত্র বিরত হবে না। বরং জিনাহ করার পাশাপাশি ইসলাম থেকেও দূরে সরে যাবে।
কিন্তু নবীজি(সঃ) পাড়ার মোল্লা ছিলেন না। তিনি সাহাবীকে শান্ত করে বললেন, "যদি তোমার মায়ের সাথে কেউ জিনাহ করে, তোমার ভাল লাগবে?"

"না।"
"যদি তোমার বোনের সাথে অন্য কেউ শুয়ে পড়ে, তোমার ভাল লাগবে?"
"না।"
"তোমার স্ত্রীর যদি আরও অন্য কারও সাথে সম্পর্ক থাকে, তোমার ভাল লাগবে?"
"না।"
"তোমার মেয়ের সাথে?"
"আমি তাকে খুন করে ফেলবো!"
"ঠিক সেভাবেই তুমি যার সাথে জিনাহ করতে চাইছ, সেও কারও মা, বোন, স্ত্রী, অথবা কন্যা। তুমি যদি কাজটা করো, তাহলে সেটা অন্যের প্রতি অন্যায় করা হবে। কাজটা করোনা।"

সাহাবী নবীজির (সঃ) কথায় সন্তুষ্ট হলেন, এবং ওয়াদা করলেন, তিনি এই কাজ করবেন না।
আমাদের মোল্লারা প্রচার করে বেড়ায় কাফের নাসারারা আমাদের শত্রু। অথচ ইসলামে বলা আছে, প্রতিটা অমুসলিমকে সম্ভাব্য মুসলিম হিসেবে আচরণ করতে। সে পুত্তলিক পুরোহিত হোক, অথবা কট্টর নাস্তিক।
কাজেই, ভিন্ন মতাবলম্বী কারও মতামত শুনে শুরুতেই তাকে গালাগালি করা শুরু করে দিবেন না। শুনুন তার কথা। আপনার যদি ভাল না লাগে, তবে অতিরিক্ত ভদ্রতার সাথে তাকে নিজের পয়েন্ট অফ ভিউ সলিড যুক্তি দিয়ে বুঝাবার চেষ্টা করুন। যদি সে না বুঝে, তাহলে তাকে আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিন। শুধু শুধু নিজের পাপের বোঝা বাড়ানো কেন?

"তুমি পর্দা করো না? তুমি জাহান্নামী!"
"তুমি নামাজ পড়ো না? তুমি জাহান্নামী!"
"তুমি নাস্তিক? তুমি জাহান্নামী!"
"তুমি সমকামী? তুমি জাহান্নামী!"

আল্লাহ কী জাহান্নামের কন্ট্রাক্ট শুধু আপনার হাতেই তুলে দিয়েছেন? তওবা বলে একটা ব্যবস্থা যে ইসলামে আছে, সেটা কী আপনি ভুলে গেছেন? আপনি কি জানেন, তাকে ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে দেয়ার জন্য আসলে আপনি জাহান্নামী?

https://www.facebook.com/groups/canvasbd/

0 comments
Labels: , , ,

নাস্তিক বনাম আস্তিক

"আমি এখন ওসব ধর্মকর্ম মানিনা। আমি অনেক পড়াশোনা করেছি, এবং বুঝতে পেরেছি ওসব বোগাস।"
কথাটি যে ছেলে বলল, তাকে কিছুদিন আগেও রেগুলার মসজিদে পাওয়া যেত। সে সবকিছুই খুব সিরিয়াসলি করে। যখন মসজিদে যেত, তখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়তো। এখন যখন নাস্তিক হয়েছে, তখন ধুমায়ে গালাগালি করবে এইটা নিশ্চিত।

অবশ্য সে একাই যে এমন বলে, এটা ঠিক না। ওর মতন ছেলেতে এখন দেশ ভরে গেছে।
"তাই? ভালইতো। তা, কী পড়াশোনা করেছিস? আমাকেও একটু জানা, তাহলে আমিও তোর মতন হয়ে যাই। কারণ আমি যত পড়াশোনা করেছি, ততই বেশি ধার্মিক হয়ে যাচ্ছি।"
"তুই আমার সাথে রসিকতা করছিস?"

"আমার গলার স্বর শুনে তাই মনে হচ্ছে? স্যরি দোস্ত। কিন্তু আমি আসলেই সিরিয়াস। আমিও জানতে চাই ঘটনা কী?"
বন্ধু আমার নিজের কন্ঠস্বর পাল্টে বলল, "আসলে মোহাম্মদের (সঃ)(যদিও সে দুরুদ পাঠ করেনি, কিন্তু আমি যেহেতু লিখছি, তাই দুরুদ পাঠ করলাম) উপর থেকে রেসপেক্ট চলে যাওয়ায় এখন আর ধর্ম মানতে ইচ্ছা করেনা।"
চোখ বড় বড় করে অবাক গলায় বললাম, "বলিস কী? পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষকে যদি তুই রেসপেক্ট না করিস, তাহলে কাকে করবি?"

"এটা একটা টিপিক্যাল পায়াস স্টেটমেন্ট। তুই নিজে আমাকে বুঝা, উনাকে রেসপেক্ট করার কোন যুক্তি আছে?"
"একটা লোক একটা চূড়ান্ত বর্বর জাতিকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে লাইনে নিয়ে আসলেন, তুই বলছিস তাঁকে রেসপেক্ট করার কিছু নেই?"

"বর্বর কাদের বলছিস? ইসলাম নিজে বর্বর নয়? ইসলামে বলা হয়নি মেয়েরা ছেলেদের খেলার পুতুল? স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেস্ত? মেয়েদের মারধর কর? অমুসলিমদের মাথা কেটে ফেল? কী হলো? কোথায় যাচ্ছিস? জবাব দিয়ে যা।"

আমি গিয়ে শেল্ফ থেকে কুরআন শরীফ এনে তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম, "এই যে তোকে কুরআন দিয়ে দিলাম। আরবি থেকে ইংলিশ বাংলা দুই ধরনেরই ট্রান্সলেশন আছে। তুই আমাকে এইসব আয়াত খুঁজে বের করে দেখা। আমি আজকেই নাস্তিক হয়ে যাব।"
"তুই বলতে চাচ্ছিস এসব ইসলামে নেই?"
"ইসলাম মানে কুরআন শরীফ। ইসলাম মানে নবীজির(সঃ) সহীহ হাদিস। এই দুইয়ের বাইরে অন্য কোন কিছুই ইসলাম নয়। বটম লাইন।"

"দাঁড়া আমি তোকে এসব বের করে দেখাবো।"
"আমি স্বানন্দে অপেক্ষায় থাকব। সুরাহ বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট করে নির্দেশ দিয়েছেন ইসলাম গ্রহণে কারও উপর কোনরকম জবরদস্তি করা যাবে না। বিশ্বাস না হলে খুলে দেখ। একটা জিনিস মনে রাখিস, পাড়ার মোল্লা মৌলবিরা কোন একটা ফতোয়া জারি করে দিলেই সেটা ইসলাম নয়। ইসলাম শুধুমাত্র আল্লাহর বাণী এবং নবীজির হাদিসের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এর বাইরে সব বেদাত।"
"হাদিস মানে কী? ঐ আমলে নবী, সাহাবী এবং স্কলাররা মিলে কিছু নিয়ম করে গেছেন, সেটাইতো?"
আমি চূড়ান্ত হতাস হয়ে বললাম, "ভাইরে....আগে ভাল মতন জেনে আয় হাদিস মানে কী, তারপর তর্ক করতে আসিস।"
"না, সিরিয়াসলি, হাদিস মানে কী?"

"হাদিস হচ্ছে শুধুমাত্র নবীজির (সঃ) বাণী। উনি যা বলে গেছেন, সেটাই। অন্য যে কেউ, এমন কী হযরত আবু বকরও (রাঃ) যা বলে গেছেন, সেটা হাদিস হতে পারেনা।"
"ঐ একই কথা হলো।"
"না, এক না। নবীজির(সঃ) নিজের বাণী, এবং অন্য যে কারও বাণীতে আকাশ পাতাল ব্যবধান আছে। সেটা যেকোন ব্যপারেই হোক।"
বন্ধু ইন্টারনেট ঘেটে একটা আয়াত বের করলো। সূরা নিসার চৌত্রিশতম আয়াত। অতি বিখ্যাত আয়াত। এখানেই আল্লাহ বলেছেন, বউ পেটাতে।

"এই যে, এই দ্যাখ। এখানে স্পষ্ট বলা আছে, forsake them in bed; and [finally], strike them."
এরপর সে বিজয়ীর হাসি হেসে বলল, "এখন তুই কী বলবি?"
আমিও হাসছি দেখে সে বলল, "কিরে? মুখ বন্ধ হয়ে গেলতো? কোন জবাব নেইতো?"
"হাসছি তোর বোকামি দেখে। এই হচ্ছে তোর পড়াশোনার দৌড়? হাহাহা।"
"ফাজলামি বাদ দিয়ে বল তোর কোন জবাব আছে এর এগেইনস্টে?"
"তুই পুরো আয়াতটা পড়, তাহলেই তুই তোর জবাব পেয়ে যাবি। আমাকে ব্যাখ্যা করতে হবেনা।"
"যাই বলা হয়ে থাকুক না কেন, একটা মেয়েকে পেটানো কোনভাবেই জাস্টিফায়েড না।"

"পুরো আয়াতে বলা হয়েছে, ধার্মিক মেয়েরা অবশ্যই স্বামীর প্রতি সৎ থাকবে। এবং যদি তাঁরা স্বামীর সাথে চিটিং করে, তাহলে স্বামীরা যেন প্রথমে তাঁদের চিট করতে নিষেধ করেন। তারপরও যদি তাঁরা না শোনেন, তাহলে তাঁদের শয্যাত্যাগ করেন, মানে তাঁদের সঙ্গত্যাগ করেন আর কি। এবং তারপরেও যদি তাঁরা না মানেন, তাহলেই কেবল তাঁদের আঘাত করা যাবে। এবং এখানেই হাদিস এসেছে যে সেই আঘাতটাও ব্রুটাল হতে পারবেনা। এমন হতে হবে যেন মেসওয়াক (টুথব্রাশ) দিয়ে আঘাত করলে যেমনটা হয়। তুইতো পড়াশোনা করেছিসই, নিশ্চই জানিস ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ আছে স্ত্রীর মুখে আঘাত করার ব্যপারে। তাঁর উপর চূড়ান্ত অসন্তুষ্ট হলে তাকে তালাক দিতে বলা হয়েছে, কিন্তু মুখে আঘাত করে তাঁর চেহারা বিগড়াতে বলা হয়নি। সে যেন আরেকটা বিয়ে করতে পারে, এই পথ যেন খোলা থাকে।"

"তুই কী করে শিওর হচ্ছিস যে টুথব্রাশ দিয়ে আঘাত করার কথা বলা হয়েছে? ওসব মনগড়া কথাওতো হতে পারে। ভাল যুক্তি আছে? এভিডেন্স আছে?"
হেসে বললাম, “তায়াম্মুম কাকে বলে জানিস?"
বন্ধু রেগে গেল।
"এখানে তায়াম্মুম আসছে কোত্থেকে? শুধু শুধু তাকে টেনে আনছিস কেন?"
"দরকার আছে বলেই টানছি। তুই জানিস তায়াম্মুম কাকে বলে?"
"অবশ্যই জানি।"
"আমাকে বল।"
"মানে? তুই আমাকে বিশ্বাস করিস না?"
"আগে করতাম। কিন্তু আজকে তোর কথাবার্তা শুনে ঠিক ভরসা পাচ্ছি না। বল দেখি, তায়াম্মুম কাকে বলে?"
বন্ধু গজগজ করতে করতে বলল, "যখন হাতের নাগালে পানি থাকেনা, তখন অজু করার জন্য পরিষ্কার মাটির ব্যবহার করার পদ্ধতিকে তায়াম্মুম বলে। হয়েছে?"
"যাক, এই প্রশ্নের উত্তর তুই পেরেছিস।"
"বলেছি না আমি যথেষ্ট পড়াশোনা করেছি?"
"অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী বন্ধু। অশিক্ষিত মানুষই মনে করে সে যথেষ্ট পড়াশোনা করে ফেলেছে। জ্ঞানী মাত্রই বুঝতে পারে যে জ্ঞানের কোন শেষ নেই।"

"তুই আমাকে অপমান করা বন্ধ করে বল তায়াম্মুমকে কেন টেনে এনেছিস!"
"মাটিতে হাত লাগিয়ে তায়াম্মুম করতে হয়। এই 'মাটিতে হাত লাগানোর' বর্ণনায় কী Verb ব্যবহার করা হয়েছে জানিস? 'দারাবা।' সুরাহ নিসার ঐ আয়াতেও ঐ একই verb, ‘ওয়াদরিবুহুন্না।’ যার আক্ষরিক অনুবাদ করলে হবে 'তাদের প্রহার কর' বা তুই যে ইংলিশে বললি 'strike them.' এর কোনটাই কিন্তু ঠিকমতন ফিট করেনা। কারণ এটা যদি ফিট করে তাহলে বলতে হবে তায়াম্মুমের সময়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে মাটিকে পেটাতে। এই লজিকেই বলা হয়েছে সুরাহ নিসার চৌত্রিশ নম্বর আয়াতে বউ পিটানোর কোন নির্দেশ দেয়া হয়নি, বরং এত বড় অপরাধের পরেও বলা হয়েছে কেবল তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে! সহজ লজিক হচ্ছে একেক ভাষায় একেকভাবে ভাব প্রকাশ করা হয়ে থাকে। অনুবাদ করে একটা আইডিয়া পাওয়া যায় মাত্র, কিন্তু শতভাগ বুঝে ফেলার দাবী করাটা হাস্যকর। এবং তার উপর কনটেকস্ট না বুঝে সরাসরি উপসংহার টানাটা নির্বুদ্ধিতা।"

"তুই এত কিছু জানিস কেমনে?"
"সেই আদিযুগ থেকেই তোর গুরুরা এবং নির্বোধ কিছু মৌলবাদীরা এই আয়াতের ভুল ব্যবহার করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করে। তাই এ সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা নেট ঘটলেই পাবি। আর তাছাড়া সাজিদকে চিনিস না? ঐ যে সৈয়দ রাজাউল আকমাল সাজিদ, sad but true পেজের অ্যাডমিন, আমার স্কুল জীবনের বন্ধু, সেই আমাকে আরবি verb-এর ব্যবহার সম্পর্কে বলেছে। ওকেতো চিনিসই, এসব বিষয়ে তাঁর অনেক আগ্রহ আছে। এখন তোর কাছে আমার আরেকটা প্রশ্ন আছে।"
"করে ফেল।"

কয়েক বছর আগে একটা নাটকে লম্পট চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। এবারে ঠিক সেভাবে গলার স্বর ও দৃষ্টি বদলে জিজ্ঞেস করলাম, "বন্ধু। তোমার বউ যদি আমার সাথে বিছানায় শোয়, তখন তুমি কী করবে?"
"আমি তোদের দুইজনকেই খুন করে ফেলবো।"
"কেন বন্ধু? তুমি না এই মাত্রই বললে টুথব্রাশ দিয়ে আঘাত করাও জাস্টিফায়েড না, সেখানে তুমি খুন করার কথা ভাবছো! ও মাই গড! তুমি এতো বর্বর!"
বন্ধু সাথে সাথে থতমত খেয়ে গেল।

"অন্যের বৌকে নিয়ে ফ্যান্টাসি করা খুব সহজ। নিজের বৌকে, মাকে, বোনকে সেই জায়গায় বসালেই আমাদের বিচার বদলে যায়। কুরআন সবার জন্যই সমান। এটাই ইসলাম। আল্লাহ ভাল করেই জানেন কোন স্বামী যদি জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে, তবে তিনি কী রিয়েক্ট করতে পারেন। এই যুগেও স্বামীরা স্ত্রীদের মেরে ফেলতে চাইবেন, জাহেলি যুগের স্বামীরাতো আরও এগ্রেসিভ ছিলেন। তাই আল্লাহ বলে দিয়েছেন প্রথমে তাঁদের বুঝাতে, তারপর সেপারেট হতে। কিছুতেই কিছু লাভ না হলে তবেই ‘মৃদু’ আঘাত করা যাবে, তবু 'খুন' করা যাবেনা। কিছুতেই না। আয়াতের শেষে কিন্তু বলা আছে "যদি তাঁরা ভুল স্বীকার করে তোমার কাছে ফিরে আসে, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোন রাগ পুষে না রাখতে।" তুইই বল, তুই পারবি চিটিং ওয়াইফকে ক্ষমা করে দিতে? কতটুকু বিরাট মনের অধিকারী হলে একে ক্ষমা করা সম্ভব? আল্লাহ কিন্তু সেই নির্দেশই তোকে দিচ্ছেন। তুই বলছিস ইসলাম বর্বর? তোদের চোখে আয়াতের এই অংশটা পড়ে না?"

"ইয়ে তোদের নবী যে ছয় বছরের মেয়েকে বিয়ে করে ফেললেন, সেটাকে কিভাবে জাস্টিফাই করবি?"
"হাহাহা।"
"হাসছিস কেন? হাসির কী বললাম? তুই বলতে চাস উনি তা করেন নাই?"
"অবশ্যই করেছেন। উনি যখন হজরত আয়েশাকে(রাঃ) বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। এবং সংসার শুরু করেন তারও তিনবছর পর, মানে তাঁর বয়স যখন নয় বছর।"
"এইখানে তোর কোন মন্তব্য আছে? এখনও হাসছিস?"
"আমি জানতাম, ঠিক এই প্রশ্নটাই তোর মনে আসবে। হাহাহা। এর উত্তর অনেক স্কলার অনেক সুন্দরভাবে দিয়েছেন। সেটা তোর চোখে নিশ্চই পড়েনি?"
"তুইই বল দেখি, তোর কী যুক্তি?"
"তোর মাকে যখন তোর আব্বা বিয়ে করেন, আন্টির বয়স কত ছিল?"
"জানিনা।"

"আমার নিজের মায়ের বিয়ের সময়ে বয়স ছিল আঠারো। আমার নানী যখন বিয়ে করেন তাঁর বয়স তখন তের। তাঁর মা যখন বিয়ে করেন, তাঁর বয়স এগারো। আমি একশো বছর আগের কথা বলছি না। আশি নব্বই বছর আগের কথা বলছি। বাংলাদেশের কথা বলছি, যখন দেশের ক্ষমতায় তখন ব্রিটিশ রাজপরিবার। তুই কী জানিস যে খোদ অ্যামেরিকাতেও বর্তমানে মেয়েদের বিয়ের বয়স কোন কোন স্টেটে তের, চৌদ্দ বছর? বিশ্বাস না হলে ইন্টারনেট ঘাট, নিউ হ্যাম্পশায়ারে মেয়েদের লিগাল ম্যারিটাল এজ হচ্ছে তের, নিউ ইউর্কে চৌদ্দ এবং মিসৌরিতে পনের। নবীজির(সঃ) ঘটনা আজ থেকে চৌদ্দশো বছর আগে, আরব মরুভূমিতে। তখনকার যুগে এটাই সাধারণ ব্যপার ছিল। নবীজির(সঃ) শত্রুর কোন অভাব ছিল না। কিন্তু তারা পর্যন্ত এই নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলেনি। মানে তাদের চোখেও এটা কোন 'অপরাধ' ছিল না।

আজকের যুগের মেয়েরা রবীন্দ্রনাথের হৈমন্তী পড়েই চোখ কপালে তুলে বলে 'এতো বাচ্চা মেয়ে!' কিন্তু তখনকার যুগে এটাই নিয়ম ছিল। আমাদের দেশে এখনও মেয়েদের ক্ষেত্রে 'কুড়িতেই বুড়ি' কথাটা চালু আছে। কাজেই বাংলাদেশে থেকে, অ্যামেরিকায় থেকে, চৌদ্দশো বছর আগের মরুভূমির কালচার সম্পর্কে মন্তব্য করা খুবই অযৌক্তিক। এটা সেই যুগের ঘটনা যখন বাবারা মেয়েদের জীবিত কবর দিত। সেটাই প্রথা ছিল। ইসলাম এসে সেটা বন্ধ করেছে। দুই যুগকে এক করা আহাম্মকি। Sorry if I sound harsh, but যারা এই যুক্তি দেয়, তারা আহাম্মক! আর তাছাড়া ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা বাল্যবিবাহ নিষেধ করে। বিশ্বাস না হলে সুরাহ নূরের ৫৯তম আয়াত পড়। সুরাহ নিসার ৬নং আয়াতেও একইভাবে বিয়ের বয়স নিয়ে বলা হয়েছে। এবং সেটা হচ্ছে শরীরে পিউবার্টি এলেই তুমি যোগ্য। আরবরা সেটাই ফলো করতো। নবীজির (সঃ) সাথে বিয়ে হওয়ায় হযরত আয়েশার (রাঃ) কোন কমপ্লেইন ছিল বলেওতো মনে পড়ে না। তিনি যথেষ্টই সুখী বধূ ছিলেন। তাঁর থ্রুতেই আমরা সবচেয়ে বেশি হাদিস পেয়েছি। যদি দুইজন মানুষ নিজেদের মধ্যে ঠিক করেন কে কাকে বিয়ে করবেন, এবং তাঁরা বিয়ে করে সুখীও থাকেন, সেখানে জোকারের মত আজাইরা নাক গলানো কী ঠিক?"
"ইয়ে, মানে আমার মনে আরও অনেক ডাউট আছে।"

"ডাউট থাকতেই পারে, সময়ের সাথে সাথে ডাউট আসাটাই স্বাভাবিক। আজকে যা নরমাল লাগছে, একশো বছর পর দেখবি সেটা নিয়েই ডাউট আসবে। কিন্তু ডাউট আসলে সেই ডাউটের উপরেই আগে ডাউট করা উচিৎ যে, কেন এমন ডাউট আসলো। মানে কেন আমার মনেই নবীজির (সঃ) বিয়ে নিয়ে ডাউট এলো, কেন একশো বছর আগে কারও মনে এলো না? এবং সেই ডাউট দূর করতে আমাকে ফিরে যেতে হবে চৌদ্দশো বছর আগে, সেই আরব মরু সভ্যতায়, তারপর সেখান থেকে উত্তর খুঁজে বর্তমানে ফিরে আসতে হবে।"
হঠাৎ বন্ধুর চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো, "ও হ্যা, মনে পড়েছে! কুরআনে বলা হয়েছে চারটা বিয়ে করতে। এই নিয়ে কী বলবি? অ্যা?"

একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললাম, "বন্ধু, আমি তোমাকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। তুমি স্যারের সাজেশন পেয়ে পাশ করা ছাত্র ছিলে। মাঝে মাঝে পরীক্ষায় নকলও করতে। এখন দেখছি, সেই অভ্যাস তোমার এখনও রয়ে গেছে। কোন কিছুই ডিটেইলে পড়তে পারোনা।"
বন্ধু চোখ পাকিয়ে বলল, "কী বলতে চাস?"

"কুরআনে বলা হয়েছে 'যদি তুমি ন্যায় করতে পারো, তবেই কেবল দুই, তিন, অথবা চার বিয়ে করো। কিন্তু যদি তুমি ন্যায় করতে না পারো, তবে কেবল একটি বিয়ে কর।' সুরাহ নিসা, আয়াত তিন। ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে এক বিয়ের কথা বলা হয়েছে। অন্য কোন ধর্মে সেটা নেই।"

"কে বলেছে? হিন্দুরা একটাই বিয়ে করে।"
"তাই? শ্রী কৃষ্ণের কয় বউ ছিল জানিস? শ্রী কৃষ্ণ কী মুসলমান ছিলেন?"
বন্ধু আমতা আমতা করতে থাকে।
"আমি এই জন্যই কোন ধর্ম মানি না।"

"বন্ধু, আবারও বলছি, তখনকার আরব সভ্যতায় ফিরে চল। তখন পুরুষেরা ব্যবসার কাজে শহর থেকে শহরে ঘুরতো, কাজেই দেখা যেত, হয়তো রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছে অথবা দস্যুর হাতে নিহত হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধে মৃত্যু ছিল তাঁদের বেশিরভাগেরই ভাগ্য। শিকারে গিয়েও অনেকে নিহত হতেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে পুরুষ থেকে মেয়েদের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি ছিল। এত বিপুল সংখ্যক মেয়ে মানুষের দেখভাল করার জন্যই ছেলেদের চার বিয়ে পর্যন্ত করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।"
"মেয়েদের এমনিতেই সাহায্য করা যায়। বিয়ে করতে হবে কেন?"

"অবশ্যই মেয়েদের সাহায্য করা যায়। ইসলামই বলে যারা বিধবা নারীদের, এতিম শিশুদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, তাঁদের স্থান জান্নাত। কিন্তু ভাই, কাকে বোকা বানাচ্ছিস? তুই নিজেও পুরুষ। সুন্দরী মেয়ে দেখলে তোরও নিয়্যত বিগড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। তোর কী ধারণা, একজন মহিলাকে কয়টা পুরুষ দিনের পর দিন নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য করে যেতে পারবে? কিছু একটা বিনিময় সে চাইবেই। বাংলাদেশে যুবতী বিধবা বা ডিভোর্সীদের বাড়ির দরজায় প্রায়ই নানান বাহানায় প্রতিবেশী পুরুষেরা এসে কড়া নাড়ে। এটা আমিও যেমন জানি, তুইও জানিস। সে যুগে মেয়েদের অবশ্যই পুরুষদের উপর নির্ভর করতে হতো। তাঁদের বাইরে কাজ করার কোন সুযোগ ছিল না। যে সমাজে বিধবাদের আরেকবার বিয়ের সুযোগ দেয়া হতো না, সেই সমাজে প্রস্টিটিউজম একটা কমন ফ্যাক্ট ছিল। এখন তুইই বল, বেশ্যা হবার চেয়ে কী কারও ঘরের গৃহিনী হওয়া ভাল ছিল না? এবং ভুলে যাস না, স্বামীর উপর আল্লাহর হুকুম আছে, 'ন্যায়' করতে না পারলে দ্বিতীয় বিয়ে না করতে। এমন না যে কোন একজন বউকে আরেকজনের উপর প্রাধান্য দিতে পারবে। তাহলে তার জন্য এক বিয়েরই হুকুম আছে।”

“I am not convinced.”

"তোকে এই নিয়ে মাথা ঘামাতে কে বলেছে? তুই একটাই বিয়ে কর না। সমস্যা কী?"
সে কোন কথা বলল না।

বললাম, "আবারও বলছি বন্ধু, শর্টকাটে দুই চারটা আর্টিকেল এবং বই পড়েই নিজেকে বিরাট পন্ডিত ভেবে বসিস না। চিন্তা করতে থাক। আরও গভীরে গিয়ে পড়াশোনা করতে থাক। মনে প্রশ্ন আসলে সেই প্রশ্নকেই প্রশ্ন কর। তারপরে দেখবি অনেক কিছুর উত্তর তুই আপনাতেই পেয়ে যাবি।"

https://www.facebook.com/groups/canvasbd/

1 comments