শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Showing posts with label নারী. Show all posts
Showing posts with label নারী. Show all posts
Labels: ,

ভালো মা হওয়া যেমন সওয়াবের, ভালো শাশুড়ি হওয়াও তেমন সওয়াবের।

ভালো মা হওয়া যেমন সওয়াবের, ভালো শাশুড়ি হওয়াও তেমন সওয়াবের।

আমার দাদী সম্পর্কে আম্মু একটা কথা বলে, “তোমার দাদীর মতো সোনার মানুষ লাখে-কোটিতে পাওয়া যাবে না।”

আমার দাদীর নয় ছেলে। নয় ছেলের ঘরে নয়টা বউ। এই নয় বউ নিয়ে আমার দাদী চলেছেন। কারো সাথে উনার কোনদিন কিছু নিয়ে লাগেনি। উনি সবাইকে ভালোবাসতেন, সবাই উনাকে ভালোবাসত। আমার আম্মু দাদীর সাথে বসে দীর্ঘ সময় ধরে গল্প করত। ছেলেদের হক, বউদের হক সম্পর্কে আমার দাদী ছিলেন সচেতন।

আমার দাদী লম্বা, ফর্সা ছিলেন। অর্থ্যাত প্রচলিত অর্থে সুন্দরী। আমার বাবাও লম্বা, ফর্সা। এদিকে আমার আম্মু ছোটখাট শ্যামলা মানুষ। অর্থ্যাত প্রচলিত অর্থে সুন্দরী না। আম্মুর বিয়ের পর একবার গ্রামের কোন এক আত্মীয়া আমার দাদীকে বলছিলেন, “বুবু, আপনার এত সুন্দর ছেলের জন্য এটা কী মেয়ে আনলেন?” দাদী একটু চুপ থেকে বললেন, “সে সাদা সুন্দর না, তবে সে লাল সুন্দর।” নিজের ছেলের বউকে নিজে তো কখনো কালো বলেনইনি, মানুষ বলতে আসলে সেটাও শুদ্ধ করে দিয়েছেন।

আমার আম্মু বড় হয়েছে শহরে। আর আমার দাদার বাড়ি গ্রামে। আম্মুর বিয়ের পর প্রথম শ্বশুরবাড়ি গেলে ফেরার সময় দাদী বলেছিলেন, “আমি হয়ত তোমার জন্য অনেক কিছু করতে পারি নাই, বাড়ি ফিরে মা-কে কিছু বলো না।” অথচ আম্মু বলে, উনার বউ শহরের মেয়ে এটা বুঝে উনি বউয়ের জন্য ভালো ব্যবস্থা করতে অনেক চেষ্টা করেছিলেন।

আমরা নাতি-নাতনিরাও দাদীকে অনেক ভালোবাসতাম। আমার চাচাত বোনরা শ্বশুরবাড়ি থেকে নাইয়র গেলে আগে দাদীর ঘরে গিয়ে উনার সাথে দেখা করত তারপর যে যার বাবার ঘরে যেত। আমরা উনাকে ভালোবাসি কারণ উনি আমাদের কারো মা-কে কখনো কষ্ট দেননি।

এখন বিয়ে হয়েছে, বিবাহিত সার্কেলে মিশি। একসাথে বসলে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে কথা ওঠে। আমি এই বিদেশে এসেও বলি আমার দাদী অনেক ভালো ছিলেন। আমার আম্মু যেমন আমাকে বলে তেমন নিশ্চয়ই আমার চাচীরাও আমার চাচাত বোনদের গল্প করে বলে। তারাও হয়ত অন্যদের বলে। আমার দাদী মারা গেছেন সেই কবে! ফেরেশতারা উনার ভালো কাজের তালিকায় এসব কথা লিখে নিচ্ছে। দাদী ল্যাপটপ কী জানতেন না। আমি সেই ল্যাপটপে বসে স্ট্যাটাস দিচ্ছি, মানুষ পড়বে, উনার সম্পর্কে ভালো ধারণা করবে। ফেরেশতারা আবারও উনার ভালো কাজের তালিকায় লিখে নিবে।

আমার দাদী গ্রামের মানুষ ছিলেন, কতখানি পড়াশোনা জানতেন আমি তাও জানি না। জানার প্রয়োজনও নাই। আমার আম্মু বলে, “তোমার দাদী অনেক ভদ্র ছিলেন।” এটাই একজন মানুষের হাইয়েস্ট কোয়ালিফিকেশন!

মা বা শাশুড়ি একটা পরিবারের এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ যার কাজ পরবর্তী অন্তত দুই প্রজন্ম মনে রাখে। তাই ভালো শাশুড়ি হওয়াও সওয়াবের। আর বুদ্ধিমতীরা সওয়াব অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া করে না!

Written by : Rabeya Umme Mariam

0 comments
Labels: ,

মেয়েদের আত্বরক্ষার কৈশল ও আইনি অধিকার

লিখেছেন : মাসরুফ হোসেন সিনিয়র এ এস পি বাংলাদেশ পুলিশ

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা,
বাংলার বাঘিনীদের প্রতি লড়াই করার পদ্ধতি জানিয়ে লেখা পোস্টগুলোর লিংক সবগুলো একসাথে নিচে দিচ্ছি। সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট-করা বদমায়েশগুলোকে কিভাবে ঘরে বসে এক দুদিন মাত্র দশ মিনিট অনুশীলন করেই পিটিয়ে লাশ বানাবেন এ নিয়ে ছয়টা পোস্ট। আপনার আত্মরক্ষার আইনি অধিকার নিয়ে একটি পোস্ট, সবশেষে অনুপ্রেরণা হিসেবে "খারাপ মেয়ে"কবিতাটি।সাথে বোনাস: মেয়েদের সেল্ফ ডিফেন্স কেন দরকার এ নিয়ে ছোট একটা লেখা।

লেখাগুলো বিনা দ্বিধায় শেয়ার করুন। কপিপেস্ট করুন, নিজের নাম চালিয়ে দিন, লিফলেট বানিয়ে বিতরণ করুন, যেভাবে ইচ্ছে কাজে লাগান। অনেকেই আছেন আমাকে অপছন্দ করেন, এরকম হলে আমার নামও দেবার দরকার নেই-লেখক কে সেটা জরুরি নয় মোটেই
বাংলার বুকে হাজার হাজার বাঘিনী গর্জ্বে উঠুক!
প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব
তৃতীয় পর্ব
চতুর্থ পর্ব
পঞ্চম পর্ব
ষষ্ঠ পর্ব
আত্মরক্ষার আইন:
অনুপ্রেরণা:
কেন সেল্ফ ডিফেন্স

মেয়েদের আত্মরক্ষা সংক্রান্ত সবগুলো লেখা পিডিএফ আকারে এখানে পাবেন। আগ্রহীরা ডাউনলোড করে সরাসরি প্রিন্ট আউট দিতে পারবেন।

এখানে ঘরে বসে দশ পনের মিনিট অনুশীলন করে কিভাবে একটা মেয়ে ফাইট ব্যাক করবে এর সচিত্র বর্ণনা রয়েছে। সাথে আছে আত্মরক্ষা সংক্রান্ত আইন এবং অনুপ্রেরণামূলক কিছু লেখা।

কোন কপিরাইট রাখছিনা, যার যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করুন। তবে বানিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা নিষেধ- It has to be absolutely free smile emoticon
জাগো গো বাঘিনী!
Click Here


লিখেছেন : মাসরুফ হোসেন সিনিয়র এ এস পি বাংলাদেশ পুলিশ Mashroof Hossain, is a Senior Assistant Superintendent of Police (Sr. ASP) of Bangladesh Police Force.  Fondly known as “Supercop”, he has been credited for implementing revolutionary IT-based law & order services such as the “Dhaka Metropolitan Police App” and the “Digital Safe Zone Concept”


0 comments
Labels: , , , , ,

নারীদের ঘরে নামায পড়ার হাদিসটির ব্যাখ্যা

●|● নারীদের ঘরে নামায পড়ার হাদিসটির ব্যাখ্যা ●|●

আপনারা জানেন, ধর্ম তাদের কাছে বেশ কঠোর। আমার অনেক ছাত্র/ছাত্রীরা আমার কাছে দ্বীন শিখতে আসেন। আরবি শিখতে আসেন। শায়খ আব্দুল নাসের এর কাছ থেকে ইসলামিক শরীয়াহ শিখতে আসেন। সারা আমেরিকা থেকে তারা টেক্সাসে আসেন। যখন আমি তাদেরকে শিখাই এবং তারা কিছু শিখেন, তারা বলে্ন, অনেক বোনই আছেন যারা হিজাব পরেন এবং শিক্ষার জন্য নানা জায়গায় ঘুড়ে বেড়ান। তারা কুর'আন মুখস্ত করেন। উস্তাদ, একটা হাদিস আছে যেটা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। এটি বলতে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, এটাকে অন্যও বলতে পারছি না। এটি আমাকে অত্যন্ত কষ্ট দিচ্ছে। আমি বললাম, বলুন আমাকে।

যখন তিনি আমাকে হাদিসটি বললেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এটি আপনি কার কাছে শুনেছেন? কারণ, এটি কোন সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিস নয়। এটি কোন সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়াতও নয়। যে ব্যক্তি এটি ব্যাখ্যা করেছেন তিনি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা শিখাচ্ছেন। যে ব্যক্তির নিজের মধ্যে সামঞ্জস্যতা নেই, তিনি পুরো ধর্মকে একটি কলুষিত উপায়ে বর্ণনা করছেন শুধুমাত্র তার নিজস্ব মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার কারনে। আর এর ফলে যা হয়েছে তা হল, ইসলামের এই পুরো প্রজন্মকে ইসলামের পথ থেকে ভীতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

যদি আপনার নিজের মধ্যে সামঞ্জস্যতা না থাকে, তখন ধর্মের মধ্যে সামঞ্জস্যতা আনার চেষ্টা করা মানে তারা ধর্মের মধ্যে তিক্ততা দেখতে পান। তারা দেখেন মানুষ ধর্ম থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

উমাইমা (রাঃ) এর বর্ণিত যে হাদিসটি আছে, তিনি রাসূল (সঃ) এর কাছে এসে অভিযোগ করেছিলেন আসলে এটি একটি বিখ্যাত হাদিস। আমি আপনাদেরকে এর একটি অংশ বলছি। আসলে আমি শায়খ আব্দুল্লাহ আতহামীর সাথে এই হাদিসটি নিয়ে বসেছিলাম যিনি এখানেই আছেন। তিনি আমার কাছে এটি বিষদভাবে বর্ণনা করেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম যে, আপনাকে আমাদের ক্যাম্পাসে আসতে হবে এবং আমাদের ছাত্র/ছাত্রীদেরকে এটি বুঝিয়ে বলতে হবে। তিনি কোথাও যেতে পারেন না। কাজেই আপনারা খুব ভাগ্যবান, তিনি কোথাও যেতে পারেন না। কারণ তিনি এখন এখানেই আছেন, আপনারা সত্যিই খুবই ভাগ্যবান।

যাই হোক, আমি এই হাদিসটি সম্পর্কে বলছিলাম।

এই হাদিসটি আমাদেরকে বলে যে, মহিলাদের উচিত বাড়ির একেবারে ভেতরের অংশে নামাজ আদায় করে। এবং এই হাদিসটি দিয়েই ফাতোয়া দেয়া হয় যে, মহিলাদের মসজিদে নামাজ পড়তে আসা উচিত না। তাদের নামাজ পড়া উচিত একেবারে বাড়ির ভেতরে।

পুরো হাদিসটি সম্পর্কে পড়াশোনা করার পর প্রথমত, আরও হাদিস আছে। আরও যে হাদিস আছে, সেটিতে মহিলারা রাসূল (সঃ) এর কাছে এসে অভিযোগ করেছিলেন যে, আমরা সালাতুল ফজরের জন্য মসজিদে আসি। তারা কোথা থেকে আসতেন? বাসা থেকে আল মসজিদে নববী তারা সালাতুল ফজরের জন্য আসতেন। কিন্তু আমাদের রাস্তায় নর্দমা/খাল পড়ে। তাই আমাদের কাপড় উঠিয়ে এটি পার হতে হয়। আমরা কি বাড়ীতে নামাজ পড়তে পারি? তিনি বলেছিলেন, না। বাকি পথ আসতে আসতে তোমাদের কাপড় থেকে তা ধুয়ে যাবে। তোমাদেরকে তারপরেও আসতে হবে। এবং সেটি ছিল সালাতুল ফজর। মহিলাদের হাঁটু পানি পার হয়ে মসজিদে যেতে হোত। আপনারা কেউ তো এটির উল্লেখ করেন না!

প্রসঙ্গক্রমে উমাইমা (রাঃ) এর গল্পে ফিরে যাই। এই মহিলা যাকে রাসূল (সঃ) বাড়ির একেবারে ভেতরে জায়গায় নামাজ পড়তে বলেছিলেন। যদিও তিনি মসজিদে নামাজ পড়তে চাইতেন। যখন আপনারা পুরো গল্পটি পড়বেন তখন আপনারা অনেক মজার ব্যাপার খুঁজে পাবেন গল্পটিতে। তার বৈবাহিক সম্পর্কে কিছু সমস্যা ছিল। তার স্বামী তাকে খুবই খুবই হিংসা করতেন। তার ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত রক্ষণমূলক ছিলেন তিনি। উমাইমা (রাঃ) যখন নামাজ পড়তেন তখন তাঁর স্বামী তাঁকে বিরক্ত করতেন।

হ্যাঁ। রাসূল (সঃ) তাঁকে বললেন, কেননা উমাইমা (রাঃ) রাসূল (সঃ) এর কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, আমার স্বামী আমাকে নামাজ পড়ার সময় বিরক্ত করে। রাসূল (সঃ) তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এটা কেন করছো? উত্তরে তার স্বামী বললেন, আমার স্ত্রী আমার সূরাগুলো চুরি করেছে! অন্যভাবে, তিনি যখন নামাজ পড়তেন তখন তার স্ত্রী তার কুর'আন তিলাওয়াত শুনে তা মুখস্ত করতেন। তিনি যখন এই মুখস্ত করা কুর'আনের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে নামাজ পড়া শুরু করলেন নিজে নিজে তখন তার স্বামী বললেন, সে নিজেই নামাজ পড়তে শুরু করেছে। আমি আর তার ইমামতী করতে পারছি না!

আসলে উমাইমা (রাঃ) যখন নিজে নিজে নামাজ পড়তে শুরু করেছিলেন, তখন তার স্বামী সেটিকে সহজভাবে নিতে পারেননি। সে নামাজে তাকে বিরক্ত করতেন। এরপর যখন উমাইমা (রাঃ) মসজিদে আসতেন, তখন সে অত্যন্ত রাগান্বিত হত। তিনি তার স্ত্রীর প্রতি এতোটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে, তিনি তাকে ছেড়ে কয়েক মিনিটও থাকতে পারতেন না। ব্যাপারটি হচ্ছে যখন উমাইমা (রাঃ) মসজিদে নামাজ পড়তেন, কাজেই রাসূল (সঃ) উমাইমা (রাঃ) কে বলেছিলেন, দেখো! সবার আগে তোমার উচিত তোমার বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষা করা। তোমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এই মুহূর্তে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। কাজেই তোমার উচিত বাড়িতে বেশি সময় ব্যয় করা। তোমার জন্য ভালো হবে যদি তুমি মসজিদে না আসো। প্রসঙ্গক্রমে, যেন সে তোমাকে বিরক্ত করতে না পারে, বাড়ির একেবারে ভেতরের স্থানে নামাজ পড়ো। যেন নিদেনপক্ষে তুমি শান্তি সহকারে নামাজ আদায় করতে পার। কারণ সে তোমাকে পাগল করে ছাড়ছে।

এখন আপনি যদি পেছনের ঘটনা না জানেন আর বলেন, মহিলাদের উচিত বাড়ির ভেতরে নামাজ আদায় করা। যদি কারও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা থাকে মহিলাদের প্রতি, যখন সে বিয়ে করে এবং তার স্ত্রীকে এই হাদিসটি দেখায় কারণ সে বাড়ির ভেতরের অংশে নামাজ পড়েনি! তার কাছে দলিল আছে। তার কাছে প্রমাণ আছে। অথচ সামঞ্জস্যতা নেই!

এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আপনারা দেখেছেন, ব্যাপারটি মজার কিন্তু দুঃখজনকও! মানুষের জীবন দ্বীনের নামে তিক্তকর হয়ে যাচ্ছে! যে দ্বীন কিনা দুঃখ দূর করার জন্য এসেছে। এই দ্বীন যে কোন বিষয়ে মানুষকে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন লাভের শিক্ষা দেয়।

ভিডিওটির ইউটিউব লিঙ্কঃ https://youtu.be/WfHaldTQPkY

0 comments
Labels: , , ,

আমার স্ত্রী হিজাব করছে না ‒ কী করবো?

●|● আমার স্ত্রী হিজাব করছে না ‒ কী করবো? ●|●

তাকে হিজাব পরার ব্যাপারে কিছুই বলবেন না। হিজাব বিষয়ে তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিন। একেবারেই বন্ধ করে দিন। আপনি যেটা করবেন, আসলে আপনি তার সাথে কথা বলবেন না(ইসলাম নিয়ে)… কারণ প্রায় সময়ই দেখা যায়, যেই মানুষেরা আমাদের প্রতি দাওয়াহ দিতে সবচেয়ে অকার্যকর তারা আসলে নিজস্ব পরিবারের সদস্য। তারা একজন অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে কথা শুনতে বেশি আগ্রহী এবং তার উপদেশ গ্রহণ করতে রাজি আছে কিন্তু নিজের পরিবারের কাছ থেকে তা শুনতে চাইবে না। এটা কিন্তু আমাদের মত বক্তাদেরও সমস্যা। তারা সারা দুনিয়াকে দাওয়াহ দিতে পারে। কিন্তু দেখা যায়, তারা অন্য কারও টেপ বা অন্য কারও সিডি নিয়ে আসে গাড়িতে শুনার জন্যে। (কারণ পরিবারের সদস্যরা বলতে থাকে) ‘তোমার কথা আর শুনতে চাই না! অনেক শুনেছি!’ তাই না? এমনটা হয়ে থাকে।
তো প্রথমত আপনাকে বুঝতে হবে, যখন পরিবারের কাছে দ্বীনের শিক্ষা দিবেন আপনার একটু কৌশলী হতে হবে। আপনার ধাপে ধাপে আগাতে হবে। একজন খুব দক্ষ বক্তা খুঁজে বের করুন যিনি আখিরাত এবং শেষ বিচারের দিন সম্পর্কে বলেছেন। আপনার স্ত্রীর সবচেয়ে বড় সমস্যা এটা না যে, তিনি হিজাব করছেন না। হিজাব কেবল রোগের লক্ষণ, আসল অসুখ নয়। তার অসুখ হলো দুর্বল ঈমান। আপনি কিভাবে ঈমানকে পুনর্জীবিত করবেন? তাকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে। আর এর জন্যে সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রন্থ কোনটি? কুরআন।

আপনি যদি কুরআনের সেই আয়াত গুলো পর্যবেক্ষণ করেন যাতে অনুস্মরণের কথা বলা হয়েছে… সেখানে সব সময় কী বিষয়ে কথা বলা হয়েছে? আখিরাত আর অতীতের মানুষদের ধ্বংসের কারণ। এটাই শক্তিশালী উপদেশ। ‘যেই মানুষেরা উপদেশ গ্রাহ্য করেনি দেখ তাদের সাথে সাথে কি হয়েছিলো। দেখ, তাদের সাথে কি হতে যাচ্ছে।’ তাই না? আপনি যদি আপনার পরিবারে এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন যে, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট আপনারা একত্রে কুরআনের কথা শুনবেন, শক্তিশালী উপায়ে। আর বর্তমানে অসংখ্য বক্তাদের রিসোর্স সহজেই পাবেন, আপনি যা শুনতে পারবেন। এসব কাজ থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ নিন।

আর এই বিষয়টা বুঝতে শিখুন যে, কিছু মানুষের জন্যে আপনি হয়ত দাওয়াহ দেওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যম নন। কেউ কেউ হয়ত অন্য কারও কাছ থেকে উপদেশ গ্রহণ করবে। আমরা সবাইকে দাওয়াহ দিতে পারব না। হয়ত কিছু কিছু মানুষের জন্যে আমাদের পদ্ধতি কার্যকর কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আমরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সবারই পৃথক অনুসারী আছে। ইনশাআল্লাহ এই কথা গুলো আপনাকে সাহায্য করবে আপনার স্ত্রীর অবস্থার ব্যাপারে।

আর একটা শেষ কথা আমি বলতে চাই, আমার মন বলছে আপনার স্ত্রীর হিজাবের ব্যাপারে কোনো যুক্তিগত সমস্যা নেই। এমনটা না যে তিনি হিজাবের গুরুত্ব সম্পর্কে সন্দিহান। তার সমস্যা আসলে এটা যে, তিনি আল্লাহর প্রত্যেকটি আদেশ পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন নন। এটাই তার প্রকৃত সমস্যা। এই সমস্যা সমাধান হয়ে গেলে তিনি এমনিতেই হিজাব এবং অন্যান্য কর্তব্য পালন করবেন, ইনশাআল্লাহ।

0 comments
Labels: , , , ,

ইসলামে স্ত্রীর অধিকার

আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। গাল্ফ ট্যুরে থাকা কালীন আমি বেশ কিছু চিঠি পেয়েছি।এটা তার মাঝে একটা।
‘আমি একজন অমুসলিম, কুয়েতে অল্প কয়েক বছর ধরে কাজ করছি।আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলাম কারণ আমি আমার অফিসের এক ধার্মিক মুসলিম কলিগ কে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম।আর আমি তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম।’

উস্তাদ-আচ্ছা!

‘আমি তাই ইসলাম সম্পর্কে আরো জানতে চাচ্ছিলাম।আমি যেই মানুষটিকে পছন্দ করেছি তিনি একজন পাকিস্তানি ভাই।তার কালচার আরও ভালো ভাবে জানার জন্যে, আমি একজন মহিলা কলিগের সঙ্গ নিলাম যে এক পাকিস্তানি পরিবারে বিয়ে করেছিলো।আমি ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্যে কুরআন পড়ছি। আর এতে একজন স্ত্রীকে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে তা খুবই হৃদয়গ্রাহী এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ।কিন্তু যখন আমি আমার মেয়ে বন্ধুটির জীবনের দিকে তাকাই, তাকে এত কিছু করতে হয় তার শ্বশুর বাড়ির জন্যে।আর তার স্বামী তাকে জোর করে সে যেন তার শাশুড়ির সেবা-যত্ন করে।আর তার শাশুড়ি তাকে অনেক যন্ত্রণা দিয়ে থাকে।তিনি তাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া সৃষ্টি করে। এদিকে তার ননদেরা তাকে সব সময় কাজের মেয়ের মত খাটায়।তার স্বামী এ ব্যাপারে অনেক কঠোর।আমি এক্ষেত্রে অনেক অবিচার দেখতে পাই।তিনি তাকে ভয় দেখান যে তিনি স্ত্রীকে ছেড়ে চলে যাবেন যদি সে কথা না শুনে, শ্বশুরপক্ষের সকলের ইচ্ছা পূরণ না করে।এটাই যদি ইসলামের আসল রূপ হয়, আমি মুসলিম হওয়ার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত।এ ব্যাপারে আপনার উপদেশ কি?’

উস্তাদ- আমি আসলে প্রথমবারের মত এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হইনি,আমাকে বেশ কিছু মানুষ জিজ্ঞেস করে একজন নারীর অধিকার সম্পর্কে...বিশেষ করে তার শ্বশুরপক্ষের কাছে কি অধিকার আছে সে সম্পর্কে।এটা বেশ জটিল একটা বিষয়।তবে আমি কিছু মূল ধারণা সকলের কাছে উপস্থাপন করেতে চাই।যেই বোন প্রশ্নটি করেছেন, প্রথমত আপনার এই প্রশ্নের জন্যে ধন্যবাদ।আর এই প্রশ্ন শুধু আপনার নয়, আমার মনে হয় আরও অগণিত মানুষ এ থেকে উপকৃত হতে পারেন ইনশাআল্লহু তা’আলা।


প্রথমত, ইসলামে যেকোনো সম্পর্ক কিছু অধিকার ও কর্তব্যের ভিত্তিতে স্থাপিত।একজন পুরুষ হিসেবে আমার স্ত্রীর প্রতি আমার কিছু কর্তব্য রয়েছে।ঠিক যেমন আমার প্রতি তার কিছু দায়িত্ব রয়েছে।আর বাবা-মায়ের প্রতি আমার কিছু দায়িত্ব রয়েছে, ঠিক যেমন আমার প্রতি তাদেরও দায়িত্ব আছে।তাদের কাছে আমার কিছু অধিকার আছে।এখন, এক্ষত্রে মূলনীতি হলো, আপনি যেকোনো একটি সম্পর্কের অধিকার আদায় করতে গিয়ে অন্য আর একটি সম্পর্কের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারেন না।প্রশ্ন হলো আপনি কিভাবে সব অধিকারের সমন্বয় ঘটাবেন?বিশেষ করে আমরা এখন কথা বলছি একজন স্বামী, স্ত্রী ও তার শ্বশুর পক্ষের ব্যাপারে।একজন ছেলেসন্তান হিসেবে আমাকে আমার বাবা-মায়ের প্রতি অনুগত হতে হবে, তাদের সম্মান দেখাতে হবে,দয়া দেখাতে হবে।তারা আমার কাছে যাই চায়, তা পূরণ করতে হবে।যদি না তারা আমাকে ইসলামের বাইরে কিছু করতে আদেশ দেয়, কিংবা আল্লাহকে অমান্য করতে আদেশ দেয়।


এটা ছাড়া অন্য কোনো ব্যাপারে তাদের অনুগত থাকতে আমার কোনো সমস্যা থাকা উচিত নয়।অন্যদিকে আমার স্ত্রীকেও তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে, সাধারণ শিষ্টাচার দেখাতে হবে।কিন্তু তাকে তাদের বাধ্যগত হয়ে চলতে হবে না।আর স্বামী হিসেবে আমি যদি তার কাছে আমার বাবা-মায়ের সেবা দাবি করি তাহলে আমি তার প্রতি অবিচার করছি।স্ত্রীকে তার নিজের বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্যশীল হতে হয়, তার তো নিজের অভিভাবক রয়েছে।এরা তার নিজের অভিভাবক নয়, আপনার অভিভাবক।যেটা সত্য কথা, রক্তের বন্ধনে যে সম্পর্ক হয় আর বিয়ের বন্ধনে সে সম্পর্ক হয় তা মোটেই এক নয়।তো স্বামী হিসেবে আপনার স্ত্রীর কাছে আপনার বাবা-মায়ের সেবা আশা করা এক ধরনের অবিচার।আর ইসলাম তা সমর্থন করে না।এমন কোনো নীতিও দেওয়া হয়নি এ ব্যাপারে।কিছু মানুষ জিজ্ঞেস করে, ‘কিন্তু আপনাকে তো আপনার স্বামীর আনুগত্য করতে হবে, সে যাই করতে বলুক না কেন!’এটাও সম্পূর্ণ সত্যি নয়।আমরা কোনো মানুষেরই এতটা বাধ্যগত নই যে, ‘সে যাই করতে বলুক না কেন’ তা করতে হবে।আমি আমার বাবা-মায়ের আনুগত্য করতে পারবো না তারা যা বলবে তার সব কিছুর ব্যাপারে।আমার বাবা যদি আমাকে স্টুডেন্ট লোন নিতে বলতেন, যা সুদের ভিত্তিতে দেওয়া হবে, আমি তা করতাম না।আমি এটা করতে পারি না।

এতে আল্লাহর অবাধ্যতা হয়।আমি এমনটা করব না।আর এমনও হয় মাঝে মাঝে যে আপনাকে সম্মানের সাথে আপনার বাবা-মায়ের অবাধ্য হতে হবে কারণ তারা অযৌক্তিক কাজ করতে বলছে।এরকমও হতে পারে...আপনার বাবা আপনাকে বলছেন লোন নিতে যা সুদের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে না কিন্তু তিনি আপনাকে এমন ব্যবসায় যেতে বলছেন যার ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত যে আপনার বেশ ক্ষতি হবে, আপনি নিশ্চিত জানেন যে এই ব্যবসা কোনোভাবেই চলবে না।অথচ তিনি চাইছেন আপনি আপনার জীবনের সব পুঁজি সেই ব্যবসায় ঢেলে দিন।সেই মুহূর্তে আপনার বাবার কথা না শুনা তার অবাধ্যতা নয়।এভাবে ভাবলে চলবে না।বস্তুত, অভিভাবকের বাধ্যগত থাকার অর্থ যৌক্তিকতার ঊর্ধে নয়।আর অবশ্যই আমরা যখন তাদের অবাধ্য হই, আমরা কক্ষনো, কোনোভাবেই তাদেরকে অসম্মান করে তা করি না।আর এটাও সত্যি আমাদের জন্যে যদি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, আমাদের প্রতি যদি তারা কঠোরও হন সেক্ষেত্রেও তাদের আনুগত্য করতে হবে।কিন্তু যদি তারা অযৌক্তিক কিছু করতে বলেন, কিংবা এমন কিছু যা অন্যকে সমস্যার সম্মুখীন করে তোলে...আমি উদাহরণ স্বরূপ যা বলেছি, আমি যদি সব পুঁজি দিয়ে তাদের কথা মত এমন ব্যবসায় নেমে পড়ি যেটা সফল হবে না, এতে আমি তাদের ইচ্ছামত কাজ করেছি ঠিকই কিন্তু আমি আমার বাচ্চাদের কষ্টের মুখে ফেলে দিয়েছি, আমার স্ত্রীকে কষ্ট দিচ্ছি এবং যারা আমার উপর নির্ভর করে আছে তাদের সকলকে সমস্যায় ফেলছি।আমি এমন কাজ করতে পারি না।তারা আমাকে যা খুশি তা করতে বলতে পারেন কিন্তু তারা আমাকে দিয়ে অন্য কারও উপর অত্যাচার করাতে পারেন না।এভাবে অধিকার আদায় করা যায় না।

কিছু পরিবার আছে যারা সেই স্বামীকে জোর করেন কেবল একটা একাউন্ট রাখতে, আর তার অভিভাবকেরা হলেন সেই একাউন্টের কো-সাইডার।এদিকে স্ত্রী সপ্তাহে কেবল হয়ত ২০ ডলার করে পাচ্ছেন।এভাবেও জীবন যাপন করলে চলবে না।আপনি এটা করতে পারেন না।আপনি আপনার স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন, আপনি তার ওয়ালী হয়ে তাকে তার বাবার কাছ থেকে নিয়ে এসেছেন।আপনাকে এখন তার প্রতি সেসব কর্তব্য পালন করতে হবে যা তার প্রতি তার বাবা করে এসেছেন।কিন্তু এখানে ঘরে সকলে তার সাথে ২য় শ্রেনীর মানুষের মত আচরণ করে, যেন সে শ্বশুর-শাশুড়ির কাজের মেয়ে কিংবা আপনার বোন অথবা অন্য কারও কাজের মেয়ে।এটা চরম প্রতারণা এবং এটা এমন এক বিষয় যার ব্যাপারে আপনাকে এবং আমাকে শেষ বিচারের দিন জিজ্ঞেস করা হবে।

অন্যদিকে আছে আরেক চরম্পন্থীরা।একদিকে আমরা দেখি বউকে বাড়ির কাজের মেয়ে বানিয়ে ফেলা হয়েছে যা চরম অবমাননাকর এবং উদ্ভট।কোনোভাবেই যা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।আর অন্যদিকে আছে এমন সব স্ত্রী অথবা স্বামী যারা তাদের শ্বশুরপক্ষের সকলের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ… তাদের কারও সাথে আমি সম্পর্ক রাখতে চাই না, তাদের মুখও দেখতে চাই না, আমি চাই না তারা আমাদের বাসায় আসুক...আমি চাই না তুমি তোমার মায়ের বাসায় যাও, তার সাথে কথা বল...আমি তাকে ঘৃণা করি,তাকে আমি সহ্য করতে পারি না...ইত্যাদি ইত্যাদি।এভাবে অত্যাধিক দূরত্ব সৃষ্টি করেন আপনার স্বামীর পরিবার থেকে।এটাও একধরনের চরম্পন্থা। আর এটাও অবিচার।


তারা আপনার স্বামীর অভিভাবক।তাদের অধিকার আছে আপনার স্বামীর উপর।তারা যেন তাদের নাতি-নাতনিকে দেখতে আসতে পারে।তারা যেন আপনার বাসায় ‘ঝগড়া সৃষ্টি হবে’ এমন দুশ্চিন্তা করা ছাড়াই আসতে পারে...অথবা তাদের উপস্থিতিতে আপনি যেন তাদের সামনে স্পষ্টভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে বসে না থকেন।তো এতে আপনি আপনার দিক থেকে অত্যাচার করছেন আপনার স্বামীর উপর, কারণ তার প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে আপনার অন্তত তার পরিবারের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করা উচিত।ভদ্রতা এবং শ্রদ্ধা করা...এতটুকুই তো!আপনার স্বামী আপনার উপর তা চাপিয়ে দিতে পারেন না কিন্তু এই আচরণ তো আপনার নিজ থেকেই আসা উচিত।আর এগুলো তো এমন বিষয়...আপনাদের ঘোর কাটানোর জন্যে বলছি...এই সৌজন্যমূলক আচরণ গুলো তো সব মুসলিমই অন্য মুসলিমের প্রতি করে থাকে।যারা একই পরিবারের অংশ হয়ে গিয়েছে তাদের কথা তো না বললেও হতো!আমাদের এমনিতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সর্বোচ্চ সুন্দর ব্যবহার করা উচিত। হ্যাঁ, জটিল অবস্থারও সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে।সত্যিই, সেসব জটিল পরিস্থিতিতে চলে যায়।অন্যান্য অনেক কালচারের মধ্যে...বিশেষ করে ‘দেশি’ কালচারে আমরা সকলে মিলে এক ছাদে থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করি।

আর পরিবারের খরচাপাতি বাবা-মা পরিচালনা করেন।আর বউকে এই করতে হবে, সেই করতে হবে...একজন ভালো স্ত্রী হিসেবে পরিচয় পেতে।এই নীতি বেশির ভাগ পরিবারের ক্ষেত্রেই কাজে দেয় না। আর যদি কাজে না দেয় বোনেরা, আমি বলছি না আপনারা এক্ষত্রে বিয়ে ভেঙ্গে ফেলুন।তবে এটা বাস্তবিকই আলোচনার দাবি রাখে।কারণ এই পন্থা ইসলামিক নয়।যদিও আপনারা পুরো পরিবার মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,এই সিদ্ধান্তকে ইসলামের আড়ালে লুকিয়ে রেখে ভাববেন না ইসলাম আপনার কাছে এটাই চায়।ইসলাম আপনার কাছে এমন কিছু প্রত্যাশা করেনি, এটা আপনার পরিবার চেয়েছে।কিছু ব্যাপারে আপনাকে পরিবারের সকলকে সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।আল্লাহ আযযা ওয়াজাল বলেছেনঃ
ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ
“তোমরা যেসব নি’আমত ভোগ কর সে ব্যাপারে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে।”

আমার স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, বাবা-মা...এরা সবাই আল্লাহর নি’আমত যা আমি উপভোগ করি।তাই আমার উচিত তাদের অধিকার আদায় করা।তো আমি প্রার্থনা করছি যেন এই কথা গুলো যেন এসব ভ্রান্ত ধারণাকে কিছুটা হলেও হ্রাস করে যারা ভাবে যে, এটা আসলে ইসলামেরই আদেশ।ইসলাম এ ব্যাপারে এমন কিছু বলেনি।এটা কেবলই সংস্কৃতির অপচর্চা...যেভাবে মেয়েদের সাথে আচরণ করা হয়ে থাকে...কুরআন একে সমর্থন করে না, রাসূলের (স) সুন্নাহ কোনোভাবেই একে সমর্থন করে না।

বারাকাল্লাহু লি ওয়ালাকুম, ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

https://youtu.be/zP7SR6NetxU

0 comments
Labels: , , , ,

যৌন আকাঙ্ক্ষা

●|● যৌন আকাঙ্ক্ষা ●|●

আসসালামু আলাইকুম। কুরআন উয়িকলি। আমি আপনাদের সাথে একটা আয়াত শেয়ার করবো এবং এটির সূক্ষ্মদর্শিতা নিয়ে আলোচনা করবো। এটি কুরআনের ১৭ তম সূরা, সূরা বনী ইসরাইলের ৩২ নম্বর আয়াত। ওয়ালা তাকরাবুজ্জিনা ইন্নাহু কানা ফাহিশাতান ওসাআ সাবিলা। এই আয়াতটি কুরআনের সেই অংশ যেটি মহানবী (সঃ) এর দশটি বিখ্যাত আদেশের শামিল। কিছু সাহাবী বলেছেন, এটি হচ্ছে মুসা (আঃ) কে দেয়া শিক্ষার যে মূলনীতিগুলো ছিল সেগুলোর শামিল। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে এই আয়াতটি যে সূরাতে তাঁর নাম হচ্ছে সূরা বনী ইসরাইল। ইসরাইলের সন্তানগণ। যাই হোক, এই বিশেষ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তোমরা জিনা (অশ্লীলতা, ব্যভিচার) এর নিকটবর্তী হয়োনা। এটির ধারেকাছেও যেও না। তিনি এটা বলেননি, লা তাজিনু, তোমরা ব্যভিচার করোনা, ব্যভিচার করতে যেওনা। তিনি বলেছেন, তোমরা এর ধারেকাছেও যাবেনা। অন্যভাবে বলা যায়, একটা কাজ এবং অনেক গুলো ছোট ছোট আচরণ যেগুলো কাজটির দিকে নিয়ে যায়, কাজটির একটি পরিধি আছে যা চারপাশে ঘুরতে থাকে এবং আপনি কাজটির ধারেকাছেও যেতে পারবেন না। যেই সংবেদনশীলতা নিয়ে কুরআনের ভাষা কোন একটি বিষয়কে উপস্থাপন করে সেই কুরআনের ভাষা আমাদেরকে বুঝতে হবে, যাতে আমরা আল্লাহ আজ-ওয়াজাল এর বিজ্ঞতার তারিফ করতে পারি, কিভাবে তিনি আমাদের পরামর্শ দিচ্ছেন যাতে আমরা সমস্যাগুলো উতরে উঠতে পারি।

আল্লাহ আজ ওয়াজাল আমাদেরকে বলছেন, কিছু কাজ আছে যা করা হারাম নয়। আপনি এই কাজগুলোর দিকে আঙ্গুল উঠিয়ে বলতে পারবেন না যে এই কাজগুলো ভুল। কিন্তু যখন আপনি এইসব কাজে যুক্ত হয়ে পড়বেন, তখন মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের একটা টান অনুভব করবেন যেটা আস্তে আস্তে, একটু একটু করে আপনাকে অবশেষে হারাম কাজের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। এবং অবশেষে কাজটা আপনাকে দিয়ে করাবে। আপনারা জানেন, শয়তানের বিষয়ে আমরা একটা জিনিস জানি। আমি লক্ষ্য করেছি যে, শয়তান অত্যন্ত দূরদর্শিতা সম্পন্ন। সে একবারে আপনাকে ধরে না, সে আপনার কাছে আসবে এবং আস্তে করে, আস্তে আস্তে করে, একটু একটু, একটু একটু করে আপনাকে পথভ্রষ্ট করবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার চরিত্র নষ্ট করতে পারে। শয়তান আপনার কাছে একবার এসেই আপনাকে দিয়ে খারাপ কিছু করাতে পারেনা। আপনারা জানেন। আদম (আঃ) এবং হাওয়া (আঃ) এর গল্পেও, ইনশা আল্লাহ যখন আমরা ওই গল্পে যাব অথবা ওই গল্প থেকে কুরআনের জ্ঞানসম্পন্নতা সম্পর্কে জানব , যেভাবে শয়তান অগ্রসর হয়েছিল, সুরাতুল আরাফ এ এটি বলা হয়েছে যা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। শয়তান অবিরামভাবে, সে এটা একবারে করেনি। ধরুন, শয়তান আসল এবং বলল, হেয়! দেখ এই গাছটা! এটাকি অনেক সুন্দর না! এবং তারপর সে চলে গেল। না, শয়তান এরকম না। সে চরমভাবে নিরন্তর ছিল। সে একটু একটু করে পথভ্রষ্ট করছিল এবং তাদের মনের মধ্যে এমন এক ধারণা গেঁথে দিয়েছিল যতক্ষণ না তারা মনে করেছিল এটা তাদেরই অভিপ্রায়! আপনারা জানেন।

এবং যখন মানুষ শয়তানের কথা শুনতে শুরু করে, এটি একই সূরাতে আল্লাহ বলেছেন, ইন্না ইবাদি লাসালাইকা আলাহিম সুলতান। আমার বান্দাদের উপর তাদের (শয়তানের) কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। অন্যভাবে বলা যায়, যেসব লোক সত্যিকার ভাবে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে তাদের উপরে শয়তানের কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। কিন্তু যারা, আস শায়তান ইয়া আদুকুম ফাঁকরুআ ইয়া'আ মুরুকুম বিন ফা'আশার। সুরাতুল বাকারা। সে (শয়তান) আপনাকে আদেশ করবে বেলেল্লাপনা করার জন্যে। অন্যভাবে বলা যায়, যখন আপনি শয়তানের কথা একটু শুনবেন, আপনি তাকে একটু শক্তি দিচ্ছেন। আপনি তাঁর কথা আরেকটু শুনবেন, তো আপনি তাকে আরেকটু বেশি শক্তি দিবেন। আর আপনি যখন তার কথা অবিরামভাবে শুনতেই থাকবেন, একসময় সে আপনাকে আদেশ করবে। আপনি নিজেকে এমনভাবে বলবেন যে, আমি আর নিজেকে সাহায্য করতে পারছি না। আমি এটা জানিও না! আমি জানি না কি করে আমি কম্পিউটার বন্ধ করব। আমি জানি না কিভাবে প্রতি রাতে এটা হয়ে যায়! আমি জানি না কিভাবে আমি ওইখানে, ওই চ্যাটগুলো করি, আতঙ্ককর ওয়েবসাইটে লগ ইন করি। আপনারা জানেন, অশ্লীলতা দেখি! আমি এইসব কেন করছি? লিফটে অথবা যখন আমি রাস্তায় হেটে যাই, কেন আমি আমার চোখ নামিয়ে রাখতে পারিনা? আমি নিজেকে সাহায্য করতে পারছি না। আমি জানি না কি করা উচিত। আর আপনি জানেন, শয়তান আঁকড়ে ধরে, বেশ শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে। কদভ্যাসযুক্ত চক্রের মধ্যে আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে আমরা বলতে পারি। এটা আস্তে আস্তে খারাপ, আরও খারাপ, আরও খারাপ এবং অধিকতর খারাপের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এবং আপনি যদি এটা স্বীকার না করেন, তাহলে এটা অধিকতর খারাপের দিকে যায়। আর এটা আপনার আত্মা একদম ধ্বংস করে দেয়।

আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক নির্ভর করে আপনার অন্তর কতটা পরিষ্কার তাঁর উপর। যতবার আপনি অশ্লীলতায় উদ্ভাসিত হন, আপনার অন্তরের উপর আরও ময়লা, আরও অন্ধকার, আরও আবরণ ঢালতে থাকে। এবং ঢালতেই থাকে, ঢালতেই থাকে, ঢালতেই থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি আল্লাহর কথা শুনবেন কিন্তু আপনার চোখে এক ফোটা পানিও আসবে না। এটা আসবে না। কারণ, আপনার হৃদয় এতই কঠিনে পরিণত হয়েছে যে, আপনি যত অনাবৃত অবস্থা দেখছেন, যত পাপ করছেন চোখ দিয়ে সবসময়, আর আপনি এটার গুরুত্বও দিচ্ছেন না। আপনারা জানেন, একটা সুন্দর হৃদয় যন্ত্রণাগ্রস্ত হয় যখন অসমীচীন কিছু একটা দেখে যা আল্লাহর নির্দেশ এর সাথে মিলে না। এটা আকর্ষিত হয় না, বরং যন্ত্রণাগ্রস্ত হয়। এটি বলে, না! এটি ভুল। অবিলম্বে তাঁর বিবেক চাঙ্গা হয়ে ওঠে, অস্থিরতা বন্ধ হয়ে যায়। যখন আপনার এরকম হৃদয় থাকবে, এরকম অবস্থায় যাবেন, আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, এগুলোর মধ্যে ভালো কিছুই খুঁজে পাবেন না। আপনার এরকম কোন অনুভূতিই হবে না। আপনার এই অনুভূতিও হবেনা যে, এটা ভুল। যেটা হবে, আপনি কোন বোনের দিকে তাকানোর আগে তাঁর আশেপাশে দেখবেন যে অন্য কেউ তাকে দেখছে কিনা। এবং তারপর আপনি ভালো দৃষ্টি নিয়ে তাকাবেন। দেখবেন যে আল্লাহর ভয় একদমই নেই। একমাত্র যে ভয়টা আছে সেটি হল পাপের ভয়। পাপ ছাড়া আর কোন ভয়ই নেই। কি ভীষণ অতিমানবিক অবস্থা এটি! আল্লাহ বলেছেন, ইয়া'লামু খ ইনাতাল আহনু ওমা তুখসুদু। তিনি জানেন, চুরি করে তাকানো, একটু এদিক সেদিক তাকানো। তিনি এটা জানেন, আপনার একটু চাহনি, তাকানোর মানে কি? এবং তিনি জানেন আমাদের বক্ষ:স্থল কি লুকিয়ে রেখেছে।

আপনারা কি জানেন আমি এই বিশেষ আয়াতটি কেন আলোচনা করছি? "তোমরা জিনা এর নিকটবর্তী হয়োনা।" ইন্নাহু কানা ফাহিশাতান - এটা সবসময়ই একটা অস্থিরতা, বেলেল্লা, অশ্লীল কাজ। ওসাআ সাবিলা - একটা ভয়ঙ্কর পথ। আল্লাহ এটাকে একটা পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, ভয়ঙ্কর পথ। অন্যভাবে বলা যায়, পথে পদক্ষেপ থাকে, ঠিক? পথ মানেই পদক্ষেপ। আপনাকে সনাক্ত করতে হবে আপনি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই পদক্ষেপ নিতে আপনাকে কি করতে হচ্ছে? আপনারা জানেন, প্রত্যেকটা কাজের কিছু প্রক্রিয়া থাকে, কিছু চক্র থাকে। আপনি নিজে নিজে ঘুরতে চাচ্ছেন, সকুলের পরে আপনি কয়েক ঘণ্টা সময় পাচ্ছেন আপনার পিতামাতা বাসায় ফেরার আগ পর্যন্ত। আপনারা জানেন, আপনি কিছু বন্ধুদের সাথে ঘুরছেন যাদের কোন মান নেই। প্রত্যেকটা সময় সনাক্ত করতে হবে কোন কাজগুলো আপনাকে পাপের দিকে টেনে নিয়ে যায়। আমাদেরকে গোঁড়া থেকে এগুলো কেটে ফেলতে হবে। আমাদেরকে ওই পথে গা ভাসিয়ে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ওসাআ সাবিলা। আমাদের কাছে এই আয়াতের অসাধারণ দিকটি কি জানেন? যেভাবে এটি সংপৃক্ত করা হয়েছে।

এই আয়াতের পরের আয়াতেই আল্লাহ বলেছেন- তোমরা মানুষ হত্যা করোনা। ওয়ালা তাকতুলুন্নাফ সাল্লাতি হাররামাল্লাহু ইল্লাবিল হাক্ক[সূরা বনী ইসরাইলঃ৩৩]। তোমরা নির্দোষ মানুষকে হত্যা করোনা। আল্লাহ এটা (জিনা ) কে প্রথম অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং হত্যাকে দ্বিতীয় অপরাধ হিসেবে। আপনি কি এটা চিন্তা করতে পারছেন? আপনি মনে করেন, হত্যা অনেক বড় অপরাধ, ঠিক? কিন্তু আল্লাহ বলেছেন, যখন আপনি অন্য মানুষের মর্যাদা লঙ্ঘন করবেন, এটি হচ্ছে ফাহশা। আপনি যখন মানুষকে নিয়ে এভাবে চিন্তা করবেন তখন আপনি নিজের এবং তাদের মর্যাদা লঙ্ঘন করবেন। এবং আমরা যদি কাউকে হত্যা করি, আমরা তাঁর শারীরিক, আপনারা জানেন তাঁর বেঁচে থাকার অধিকার লঙ্ঘন করি। আর ওটা হচ্ছে আত্মার হত্যা। ফাহশা। আর এটি হচ্ছে শারীরিক হত্যা। ফাঁতর। দুই রকম হত্যা রয়েছে। তাই আল্লাহ আত্মার হত্যার কথা প্রথমে বলেছেন। আমাদের সবার মান এত নিচে নেমে গিয়েছে যে, একটা নতুন সিনেমা মুক্তি পেলে আপনি হয়তো অনেকগুলো ট্রেলার দেখে ফেলেছেন আর নিজেকে বলছেন, আহহ! এখানে মাত্র একটা খারাপ দৃশ্য আছে! ব্যাপার না! এটি একটি পিজি-থারটিন (সিনেমার গুণমান নির্ধারক যা নির্দেশ করে যে এটি ১৩ বছরের নিচের শিশুদের দেখার অনুপযোগী), শুধু এটাই। ১০ বছর আগে যেটা হওয়া উচিত ছিল এখন সেটা পিজি-থারটিন! যেটা আগে পিজি-থারটিন হওয়ার কথা ছিল এখন সেটা পিজি(সিনেমার গুণমান নির্ধারক যা নির্দেশ করে যে এটি শিশুদের জন্যে অনুপযোগী)। কাজেই সব জায়গায় অশ্লীল দৃশ্য!

এবং যে আত্মার মূল্য আমরা হারিয়ে ফেলছি তাঁর প্রতি আমরা যত্নবানও হচ্ছিনা! এটা আমাদের নামাজের উপর প্রভাব ফেলছে, দোয়ার উপর প্রভাব ফেলছে, আমাদের চরিত্রের উপর প্রভাব ফেলছে, এটা আমাদের পরিবারের উপর প্রভাব ফেলছে, এটা প্রভাব ফেলছে। এবং আমরা গুরুত্বও দিচ্ছিনা! আমরা মনে করি এটাই জীবন, আমরা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলছি! ঠিকই আছে, সবাই এই কাজই করছে, আমরা কি করতে পারি? তাই আপনি যেসব ছবি ফেসবুকে পোস্ট করছেন তাঁর গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আমি ফেসবুক ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছি। আমি বলছিনা যে, ফেসবুক ব্যবহার করা হারাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা চালাতে পারছি না। আপনারা জানেন, আমি এটা ব্যবহার করিনা। আমি সামাজিকীকরণের জন্যে কিছু একটা পোস্ট করলাম, কোন ঘোষণা বা কিছু একটা শেয়ার করলাম, কিন্তু কিছু জিনিস দেখে আমি খুব মর্মাহত হয়েছি যে আপনি কিভাবে এটা করতে পারেন? আপনি একজন মুসলিম এবং কিভাবে আপনি এই ধরনের ছবি পোস্ট করতে পারেন? আপনারা জানেন। নিজের মর্যাদা নিজেই বজায় রাখুন, নিজের পরিবারের মর্যাদা বজায় রাখুন। নফস কে নিয়ন্ত্রণ করুন। চোখ দিয়ে তাকানো, চোখের জিনা থেকেই বাকি সব শুরু হয়। অন্য সব কিছুই এখান থেকে শুরু হয়। অন্য সব কিছুই চোখের জিনা থেকে শুরু হয়।

ইনশা আল্লাহু তাআলা আমি আপনাদের সাথে এই বিষয়ে ছোট ছোট টুকিটাকি, কুরআন থেকে এই বিষয়ের উপর কিছু সংযুক্ত আয়াতের অংশ নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করব। কিন্তু আজকে ইনশা আল্লাহু তাআলা শেষ জিনিসটি হচ্ছে, ফাহিশাহ-শব্দটি নিয়ে যার অনুবাদ হচ্ছে লজ্জাহীনতা, উত্তেজনা, অশ্লীলতা। আরবি ভাষার কিছু নিয়ম আছে যেগুলো একই রকমের। ওহাশ এবং ফাহাশ। ওহাশ মানে হচ্ছে বন্য প্রাণী,ফাহাশ মানে হচ্ছে যে বন্য প্রাণীর মত আচরণ করে। লজ্জাহীনতা এমন একটি আচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যেটি বন্য প্রাণীর আচরণের মত। আল্লাহ মানবকুলকে মর্যাদাপূর্ণ করেছেন। আদম (আঃ) এর উপরে যে শাস্তি দেয়া হয়েছিল, সেটা হল তাঁর জামা কাপড় খোলে ফেলা হয়েছিল। আমাদের আদি পিতামাতার জামাকাপড় খুলে ফেলা হয়েছিল। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা শাস্তি ছিল। এবং অবিলম্বে তারা বুঝতে পেরেছিল যে তাদের উচিত নিজেদের ঢেকে রাখা। তারা সমাজ থেকে নিজেদেরকে ঢাকার শিক্ষা পাননি। সমাজ তাদের লজ্জাহীনতার শিক্ষা দেয়নি। আপনারা জানেন, আজকাল আপনাদের নৃবিদ্যার অধ্যাপক আপনাদেরকে শিখাবে যে, "আপনারা জানেন সমাজ আমাদেরকে জামা কাপড় দিয়েছে। এটা একটা সামাজিক যৌক্তিকতা যে, আমরা ইতিহাস থেকে জামা কাপড় এবং নিজেদের ঢেকে রাখার শিক্ষা পেয়েছি। কিন্তু প্রকৃতিগতভাবে আমাদের বন্য প্রাণীর মত থাকার কথা ছিল।"

আদম (আঃ) সমাজ থেকে কিছু শিখেন নি। তাঁকে আল্লাহ বিবেক দিয়েছিলেন এবং যখন তাঁর কাপড় খুলে ফেলা হয়েছিল, তিনি প্রকৃতিগত ভাবেই তাড়াতাড়ি নিজেকে ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন।

আমাদের আদি মাতা নিজেকে ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন। আমাদের এমন মানুষ হওয়া উচিত যেন আমরা আমাদের নিজেকে ঢেকে রাখতে পারি এবং অন্যের দিকে না তাকিয়ে অন্যদেরকে মর্যাদা দিতে পারি। যদিও তারা নিজেদের মর্যাদা নিজেরা রাখতে না পারে তবুও আমাদেরকেই তাদের মর্যাদা দেয়া উচিত এবং তাদের দিকে তাকানো উচিত না। কারণ, ওরাও আল্লাহর সৃষ্টি। যদিও তারা আল্লাহর হতাশাদায়ক সৃষ্টি! তারাও আল্লাহর সৃষ্টি। এবং আমাদের নিজেদের প্রতি এবং সম্মিলিতভাবে মানবকুলের প্রতি বেশি সম্মানবোধ থাকতে হবে তাদের দিকে না তাকিয়ে যেভাবে এক বন্য প্রাণী অন্য প্রাণীর দিকে তাকায়।

আল্লাহ আজ ওয়াজাল আমাদেরকে আধ্যাত্মিক ভাবে এবং ক্রমবর্ধমান, চলতি আত্মিক সমস্যা যা আমাদেরকে চোখ নিচে নামিয়ে রাখতে দেয় না তা থেকে সুস্থ রাখুন। এবং আল্লাহ আমাদেরকে অসৎ সঙ্গ, ওই অবস্থা, ওইসব কাজে সম্পৃক্ততা যেগুলো আমাদেরকে ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর পথের দিকে টেনে নিয়ে যায় তা থেকে বিরত রাখুন। আল্লাহ আজ ওয়াজাল যেন আমাদের শুদ্ধ এবং সুস্থ আধ্যাত্মিক জীবনের পথ পরিষ্কার করে দেন অথবা সহজ করে দেন। বারাক আল্লাহি ওয়ালাকুম।
আসসালামু আলাইকুম। কুরআন ওয়িকলি।

আসসালামু আলাইকুম। কুরআন ওয়িকলি। নবীজি (সঃ) আমাদেরকে বলেছেন, যে লোক অন্যকে ভালো কাজের দিকে নির্দেশ দেয়, সেও ওই ভালো কাজের সওয়াব পাবে। আমাকে অনুগ্রহ করুন এবং আপনাদের সবাইকে অনুগ্রহ করুন এবং এই ভিডিও থেকে যদি ভালো কিছু পেয়ে থাকেন তাহলে ভালোটা শেয়ার করুন। বন্ধু এবং পরিবারের সাথে শেয়ার করুন। সওয়াব পান। এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি প্রকল্প। আমি সত্যিকার অর্থেই কুরআন ওয়িকলি সফলভাবে চালানোর জন্যে সবাইকে তারিফ করছি। আমি দোয়া করছি যাতে আল্লাহ তাদেরকে আরও বেশি বেশি করে রহমত দান করেন। তারা আরও ভালো ভালো কাজ করুক। তাদের এই সমস্ত উদ্যোগ, আল্লাহ বলেছেন, যারা মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়, তারা আল্লাহর প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানায়। মহানবী (সঃ) এর হাদিস থেকেও আমরা এই শিক্ষা পাই, আমাদেরকে অবশ্যই ভালো কাজের তারিফ করতে হবে। অন্যের ভালো কাজের তারিফ করা একই সাথে আল্লাহর কথা ছড়ানো মানে তাদেরকে আরও বেশি সওয়াব পেতে সাহায্য করা, নিজেদেরকে আরও বেশি সওয়াব পেতে সাহায্য করা ইনশা আল্লাহু তাআলা।

0 comments
Labels: , , , ,

আপনার যদি কোন মেয়ের দিকে অশালীনভাবে তাকানোতে সমস্যা না থাকে ?




আপনার যদি কোন সমস্যা না থাকে কোন মেয়ের দিকে তাকানোর প্রতি, অশালীনভাবে তাকানোতে, অর্থাৎ আপনি তারদিকে সম্মানের সাথে তাকাচ্ছেন না, আপনি যেন তাকে পশু বা মাংসপিণ্ড মনে করছেন, যদি এই আপনার মনোভাব হয়, তার মানে এই যে, আপনার নিজের মায়ের প্রতি, নিজের বোনের প্রতি, নিজের স্ত্রীর প্রতি, নিজের কন্যার প্রতি আপনার কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই। তারাও নারী। আপনি কখনই চাইবেন না যে মানুষ তাদের দিকে অশোভন ভাবে তাকাক। আর আপনি যার দিকে তাকাচ্ছেন তিনিও কারো কন্যা, কারো বোন বা কারো মা। তাই সাবধান হউন।

এমনকি উনাদের যদি নিজেদের জন্য শ্রদ্ধা নাও থাকে, কখনও অমুসলিম নারীদের নিজেদের প্রতি সম্মানবোধ থাকেনা, তাই তারা কখনো কখনো ‪#‎অশালীন‬ পোশাক পরে, এমনকি মুসলিমরাও অশোভন পোশাক পরে থাকে। কিন্তু আপনারতো নিজের প্রতি এবং আপনার পরিবারের নারীদের প্রতি সম্মানবোধ আছে, তাই আপনি নিজের দৃষ্টিকে নত করুন। অবশ্যই করুন।

আর এটা খুবই ঘৃণ্য ব্যাপার যে, পুরো পরিবারে সবাই একসাথে বসে মুভি দেখে, আর যখন কোন আপত্তিকর দৃশ্য আসে, তখন মা আর মেয়ে তাদের স্বামী আর ভাইদের সাথে একসাথে তা দেখে – “ওহ, এইটা মাত্র একটা খারাপ দৃশ্য, এইটা এমন কিছু না”। এটা খুবই ন্যাক্কারজনক, এটা কোন মুসলিম পরিবারের আচরণ হতে পারেনা। এই ধরণের অশ্লিলতায় আমাদের বিরক্তি হওয়া উচিৎ। আমাদের এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। এটা আমাদের সমাজের একটা বিশাল সমস্যা, আমাদের সমাজে অনেক ভাল ব্যাপার আছে, অনেক অনেক ভাল দিক আছে। কিন্তু এটা এমন একটা ব্যাপার যা আমাদের তরুণদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। অশ্লিলতার অতিরিক্ত প্রকাশ। কোন এক মেয়ে যদি আপনাকে মেসেজ পাঠায়, “আমি তোমার ফেসবুক ফ্রেন্ড হতে চাই”। ঠিক আছে। কিন্তু আমি চাইনা। না। যাও তোমার ভাইয়ের সাথে ফ্রেন্ডশিপ কর। তোমার কি বাবা নেই? সে কি তোমার সাথে বন্ধুভাবাপন্ন নয়? তোমার কেন অন্য বন্ধু দরকার?

আমি খুব গুরুত্ব দিয়ে বলতেসি, আমি খুবই জোর দিচ্ছি, আপনারা এটাকে মজা মনে করবেন না। “ওহ, কি সুন্দর ছবি...” – এইটা আপনার জাহান্নামেরও টিকেট। আপনি আপনার চরিত্র নষ্ট করছেন। আপনি কি এমন কোন মেয়ে কে বিয়ে করবেন যার সাথে আর ১০০ ছেলের যোগাযোগ আছে। “হ্যাঁ, ও দেখতে বেশ সুন্দর, ওহ, তুমি অই মেয়েকে বিয়ে করেছ, আচ্ছা, আচ্ছা বেশ ভাল”। আপনার পরুষত্ব কোথায়? মুসলিমদের লজ্জাশীলতা থাকা উচিৎ, পুরুষ ও নারী উভয়েরই। এবং আমাদের নারীদের, কারও আপনার স্ত্রীর দিকে তাকানোর কথা না, কে ছাড়া?- আপনি। তার সৌন্দর্য আপনি ছাড়া আর কারও উপভগ করার কথা না। আপনার বিরক্ত হওয়া উচিৎ যদি কেউ আপনাকে এসে বলে “মাশাল্লাহ, আপনার স্ত্রী খুবই সুন্দর দেখতে”। এটাতে আপনার বিরক্ত লাগবে – তাই না? আমাদের এমন বিরক্তিই লাগা উচিৎ যখন আমরা মাহ্রাম নয় এমন কারও দিকে তাকাব। আমাদের মধ্যে লজ্জাশীলতা থাকতে হবে। আমি জানিনা এইটা কোথায় গেল। আজকাল এইটা মনে হয় ছুটি কাটাচ্ছে। অনেক মুসলিমের জন্যই সত্যি যে, তাদের শালিনতাবোধ ছুটি কাটাচ্ছে।

নিজের লজ্জাশীলতাকে ফিরিয়ে আনুন। এটা খুবই জরুরি, নাহলে আপনার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। আপনার বিয়ে সুখকর হবেনা, আর নিশ্চিতভাবেই আপনার বাচ্চারাও ভালভাবে গড়ে উঠবে না, যদি আপনার মধ্যে শালীনতাবোধ না থাকে। আপনার মাঝে অবশ্যই ‪#‎লজ্জাশীলতা‬ বা ‪#‎শালীনতাবোধ‬ থাকতে হবে।



আর টেলিভিশন এ যে নোংরা জিনিষ দেখান হয়, যা আপনারা দেখে থাকেন, আপনারা জানেন যে, মহানবী (সাঃ) আমাদের সাবধান করেছেন যে, তারা এমন কাপড় পড়ে যেন মনে হয় তারা কোন কাপড় পড়েনাই (শালীনভাবে), তিনি আমাদের এমন সময়ের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। “ওহ এইটা শুধু পিজি-১৩ মুভি, ঠিক আছে আমরা এইতাতে যেতে পারি, এটা শুধুই পিজি-১৩। অথবা এইটাতে শুধু একটা খারাপ দৃশ্য আছে, এইটা এমন খারাপ কিছু না”। “আপনি কি চান? আমরা কি করি? আমরা কি মুভিও দেখতে পারবনা? আমার বাবা আর মা আমাকে কিছুই করতে দেয়না”। “আমার জীবন এ দুঃখ ছাড়া কিছুই নেই, কারন আমি এইটা দেখতে পারিনাই ...... যাইহোক”। তাইনা? নিজের উপর নিয়ন্ত্রন আনুন। নিজেকে সবসময় বিনোদনের মধ্যে রাখার উপর নিয়ন্ত্রন আনুন। আপনি একজন মুক্ত মানুষ। টেলিভিশন আর মুভি এর বাইরেও জীবন আছে । আর who.com বা বিভিন্ন ওয়েবসাইট এর বাইরেও আছে। এইসব কিছুর বাইরেও জীবন আছে। এখনও বাইরে অক্সিজেন আছে, আপনার জীবন বেঁচে থাকবে, আমার কথা বিশ্বাস করুন। আপনি এইসব বাদ দিয়েও বেঁচে থাকবেন, বরং সুখেই থাকবেন।

আর যেহেতু আমি আপনাকে বলছি আপনি কি করবেন না, তাহলে আমাকে এটাও বলতে হবে যে আপনি কি করবেন, তাই না? মানে আপনি যদি এসব কিছু না করেন, তাহলে আপনি কি করবেন? খেলাধুলার জন্য সময় বের করুন। বাইরে যান, জগিং বা এরকম কিছু করুন। স্বাস্থ্যকর কোন অভ্যাস করুন, আমি বলছি না যে আপনাকে ধর্মীয় কোন কাজ করতে হবে, আমি এই মুহুরতে আপনাদের কাছ থেকে তা আশাও করিনা, কিন্তু আমি এটা আশা করি যে আপনি এমন কিছু করছেন যা আপনাকে খারাপ মানুষে পরিনত করছেনা। আপনারা কি বুঝতে পারছেন যে আমি কি বলতে চাচ্ছি? কমপক্ষে খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকুন। কমপক্ষে খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকুন।

যারা বয়স্ক আছেন তাদের কে বলছি। আপনাদের থেকে একটু সময় নিচ্ছি। যদি এমন হয় যে আমাদের তরুনেরা মসজিদে আসছে, কিন্তু তারা ইসলাম নিয়ে কিছুই শিখছে না, তারা এইখানে শুধু বসে আছে, পিজা খাচ্ছে বা এমনি কথা বলছে, হয়ত কোন ভিডিও গেম নিয়ে কথা বলছে। আমি খুবই আনন্দিত যে তারা এটা করছে, কারন তারা যদি এইখানে এইটা না করত, খুব সম্ভবত বাসায় তারা আর খারাপ কিছুই করত। তাই দয়াকরে এমন বলবেন না যে, “এই, বাচ্চারা এইখানে কি করছে?” দয়া করে এমন বলবেন না। তাদের কে এইখানে থাকতে দিন। কারন এখানে না থাকলে তারা আরও খারাপ কিছুই করবে। অন্তত তারা কোন ক্ষতি করছে না। তারা বাইরে অন্য যে কিছুর চেয়ে এইখানে ভাল আছে। আপনারা কি বুঝতে পারছেন আমার কথা? আমাদের তরুণদের কাছ থেকে সবচেয়ে ভাল আচরণ আশা করবেন না, কারন আপনারাই তাদের সেভাবে গড়ে তোলেননি। তাই, আপনারা কিভাবে তাদের থেকে এটা আশা করেন? আপনারা তাদের পাবলিক স্কুলে পাঠিয়েছেন, তারা নিজে থেকে যায়নি। আপনারা পাঠিয়েছেন, তাদেরকে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে অশালীন পরিবেশে ছেড়ে দিয়েছেন, আর যখন তারা এমন আচরণ করেনা, যেমন তাবিইন রা করতেন, তখন আপনি বলেন, “তারা কিভাবে এইটা করতে পারল?”। আপনি কিভাবে এইটা চিন্তা করেন? বাস্তবে আসুন, বাস্তবিক ভাবে চিন্তা করুন। এটাই বাস্তবতা। আমি নিবেদিতভাবে সমাজের বয়স্কদের বলছি, মসজিদে তরুণদের সাথে ভাল ব্যবহার করুন। তাদেরকে ভালভাবে গ্রহন করুন, তাদেরকে বের করে দিবেন না।

আর আমি নিবেদিতভাবে তরুণদের বলছি, আমার শেষ পরামর্শ শালীনতা নিয়ে, তারপর আমি শেষ করব ইনশাল্লাহ। আমি কথা দিচ্ছি, এটাই শেষ। সত্যি সত্যি বলছি। বন্ধুত্ব করার জন্য আরও ভাল মানুষ খুজে বের করুন। আপনার বন্ধুরা যদি অশালীন হয় তাহলে আপনিও অশালীন হবেন। আর যদি আপনার বন্ধুদের মাঝে শালীনতা আর ভদ্রতা থাকে তাহলে আপনার মধ্যেও শালীনতা আর ভদ্রতা থাকবে। যদি আপনার বন্ধুরা খারাপ হয়, তাহলে তারা তাদের সাথে আপনাকেও দোজখে টেনে নিয়ে যাবে। আপনি মনে করছেন যে তারা খুব cool, কিন্তু একদিন এমন সময় আসবে যখন আপনি দেখবেন তারা আসলে খুব hot (জাহান্নামের আগুনের মত)। তখন আর এটাকে cool মনে হবেনা। আমি দোয়া করি ইনশাল্লাহ আপনারা এই পরামর্শগুলো গুরুত্তের সাথে নিবেন, আমি এত কিছু নিয়ে বলতে চাইনি, কিন্তু বলতেই হল।

আমার মনে হয় যে আমি যথেষ্ট সময় ও সুযোগ পাইনা তরুণদের পরামর্শ দেয়ার জন্য। খুব সহজে বলতে গেলে, অশ্লীলতা পরিহার করুন, নিজের ভিতরের খারাপ প্রবৃত্তির মোকাবিলা করুন, ইনশাল্লাহ আপনার লজ্জাশীলতা ফিরে আসবে। আমি দোয়া করি যেন আপনারা এই দ্বীনের নেতৃত্ব দিতে পারেন, আর এর বার্তা বহন করতে পারেন আর যখন সময় আসবে তখন শক্তিশালী, স্বাস্থ্যকর মুসলিম পরিবার গঠন করতে পারেন। আপনারাই আমাদের নেতা। আপনারা এটা চান আর না চান। আগামি দশকে আপনারাই আমাদের সমাজের নেতা হবেন। আপনারা মিলেই এই সমাজ, আপনারা মিলেই ইসলাম ইনশাল্লাহ। এই দায়িত্ব আপনাদেরই। আল্লাহ আপনাদের কে এই দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালনের তৌফিক দান করুন ইনশাল্লাহ, আর আল্লাহ আপনাদের পিতামাতাদের আপনাদেরকে সঠিক ভাবে গড়ে তোলার সুযোগ দান করুন। আল্লাহ আপনাদেরকে ভাল বন্ধু পেতে সাহায্য করুন, আর খারাপদের থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করুন। আল্লাহ আপনাদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করুন, আর অশালিনতার থেকে দূরে রাখুন। পিতামাতার সাথে কথা বলার সময় নিজের জিহ্বা সতর্ক করুন, সময় নষ্ট করা বন্ধ করুন, সালাতে নিয়মিত হউন।

আমি যদি ভাল আর সত্যি কিছু বলে থাকি তাহলে তা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে নিয়ামত। আর যদি কোন ভুল করে থাকি, তাহলে তার দায় আমার নিজের।

সুত্র: নোমান আলী খান
Nouman Ali Khan Collection In Bangla


0 comments
Labels: ,

মুঠোফোনে পুলিশি সেবাঃ ডিএমপি-এর এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার অল্প ক'দিন পরের কথা, তখন আমি উত্তরা ক্রাইম ডিভিশনে কর্মরত। শুক্রবারে সাধারণত আমি অফিস করিনা,তবুও ওদিন গিয়েছিলাম আলিয়স ফ্রসেসে।ফ্রেঞ্চ স্পিকিং দেশগুলোতে ইউ এন মিশন করতে গেলে ফ্রেঞ্চ জানা বাধ্যতামূলক- এটা শুনে খোঁজ খবর করতেই যাওয়া। ফেরার পথে হঠাৎ শুনি আমার মোবাইল ফোনে কে জানি বার বার চেষ্টা করছে। কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে কয়েকবার রিসিভ করলাম, কথা ঠিকমত শোনা যাচ্ছিলনা। তবুও খানিকটা সন্দেহ হওয়ায় যা শুনলাম তাতে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যাবার দশা!

"স্যার, আমি উত্তরার লেক রোড থেকে বলছি। আমরা আটজন লিফটে উঠেছিলাম, লিফট ছিঁড়ে আমরা সবাই এখন আটকা পড়েছি।বাসায় কেউ নেই,মোবাইল ফোনে আপনার নাম্বার ছিলো- এখন প্লিজ স্যার আমাদেরকে বাঁচান"।

দ্রুত ওয়্যারলেস হ্যান্ডসেটে নিকটস্থ মোবাইল প্যাট্রোল টিমকে ঘটনাস্থলে যেতে বললাম। সেবার স্রষ্টার অপরিসীম দয়ায় আটজনকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছিলাম।

লিফটের ওই ভদ্রলোক দুদিন পরে আমার অফিসে এসেছিলেন বড়সড় একটা ফুলের তোড়া নিয়ে। অল্প কিছুদিন আগে উত্তরার ছয়টি থানা কভার করে এরকম একটি এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ রিলিজ করা হয়েছিলো উত্তরা ক্রাইম ডিভিশনের পক্ষ থেকে। ওই চরম বিপদের মুহূর্তে ওটা ব্যবহার করেই তিনি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন, যার ফলে রক্ষা পেয়েছিল আটটি অমূল্য প্রাণ।

এই এ্যাপটি আমাদেরকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তৈরি করে দিয়েছিলো বুয়েটের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তারিক ও তন্ময়। ক্যাডেট কলেজের ছোটভাই হিসেবেই ওদের সাথে আমার পরিচয়, আর দেশের জন্যে কিছু করার তাগিদ থেকেই ওদের এই "ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো"-র ব্যবস্থা।

উত্তরার সাফল্ল্যে উজ্জীবিত হয়ে আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার সবকটি পুলিশ স্টেশনকে এধরণের একটি এ্যাপের অধীনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিই, যেটি অনুমোদন করেন ডিএমপি কমিশনার জনাব বেনজীর আহমেদ। মাসখানেকের প্রচেষ্টায় সমগ্র ঢাকার জন্যে একটি এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ দাঁড়ায়, যেটি এবছরের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৫০,০০০ ব্যক্তি এটি ব্যবহার করছেন।পাঠকদের জন্যে এই এ্যাপটির বিশেষ বিশেষ ফিচারগুলোর বর্ণনা দিচ্ছিঃ

১) ঢাকার সকল থানার ওসি এবং ডিউটি অফিসারের নম্বর সহ এতে রয়েছে প্রতিটি থানার ঠিকানা এবং ম্যাপ। এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে ঢাকার যে কোন স্থান থেকে আপনি আপনার সবচেয়ে কাছের থানাটি সহজেই খুঁজে বের করতে পারবেন; সেই সাথে গুগল ম্যাপে আপনাকে সেই থানায় যাওয়ার পথও দেখিয়ে দেবে এটি। ওসি এবং ডিউটি অফিসার যেন আপনার ডাকে সাড়া দেন সেজন্যে সব ওসিদের ডেকে স্বয়ং কমিশনার অফিস থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।


২) ডিএমপির ফেসবুক পেইজে সহজেই যে কোন পোস্ট বা মেসেজ দেয়ার জন্যে এতে রয়েছে একটি ‘ফেসবুক বাটন’ যা আপনাকে সরাসরি ডিএমপির সর্বশেষ তথ্য ও সেবা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।




উপরের ছবিতে ইংরেজি "এ" লেখা বাটনটি ল্যঙ্গুয়েজ বাটন, এর মাধ্যমে বাংলা বা ইংরেজি যে কোন ভাষায় পুরো এ্যাপটি দেখা যাবে। এর নীচেই ফেসবুক বাটন, তারপর ম্যাপ বাটন, যেটি আপনার অবস্থান থেকে নিকটস্থ থানার ম্যাপ দেখিয়ে দেবে।

৩) ডিএমপির একটি নিজস্ব ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে, যেটির সাহায্যে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে রক্তদান করে থাকেন।জরুরী প্রয়োজনে ডিএমপির ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত সংগ্রহ এবং এ সম্পর্কিতে অন্যান্য তথ্য জানার জন্যে এতে সংযোজন করা হয়েছে একটা ‘ব্লাড বাটন’।


৪) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটের নাম উইমেন সাপোর্ট এ্যান্ড ইনভেস্টিগশন ডিভিশন। এই ইউনিটটিতে কন্সটেবল থেকে ডেপুটি কমিশনার পর্যন্ত সবাই নারী, এবং এদের মূল উদ্দেশ্য নারী ভিকটিমদের সহায়তা দেয়া। এদের ২৪ ঘন্টা হেল্পলাইন রয়েছে। কোন নারী ভিকটিম এই ইউনিটের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে ব্যবহার করতে পারেন নারী বাটন।


৫) ডিএমপি-ম্যাপ থেকে খুব সহজেই আপনি যে কোন থানার অবস্থান ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন আপনার কোন বন্ধু বা নিকটজনকে। জরুরী প্রয়োজনে এই অ্যাপ্লিকেশনে থাকা যে কোন ফোন নম্বর আপনার কোন বন্ধুকে এসএমএস করতে পারবেন মাত্র এক ক্লিকেই।


৬) হঠাৎ রাস্তায় ঘটা কোন দুর্ঘটনায় ডিএমপির হটলাইনে জানানোর জন্যে এতে রয়েছে একটি ‘কুইক কনটাক্ট বাটন’ যা ব্যবহার করে সহজেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে যে কোন তথ্য দেয়া যাবে সরাসরি ফোনে বা ইমেইলে। কোন অপরাধী সম্পর্কে পুলিশকে কোন তথ্য দেয়া বা ছবি পাঠানো কিংবা আপনার এলাকার কোন অপরাধ পুলিশকে জানাতে এখন আর কষ্ট করে থানায় আসতে হবে না, মাত্র একটি ক্লিকই যথেষ্ট।


৭) ট্রাফিক সম্পর্কিত তথ্য ও সহায়তার জন্যে রয়েছে ট্রাফিক বাটন, যেটির মাধ্যমে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত অফিসারদের সাথে সরসরি কথা বলতে পারবেন এবং ট্রাফিক আপডেট জানতে পারবেন। নীচের ছবিতে আরো কয়েকটি বাটন আছে, যেমনঃ বিদেশী নাগরিকদের সহায়তার জন্যা "চ্যান্সেরি বাটন", সবগুলো থানার ঠিকানা, ম্যাপে অবস্থান ও ফোন নম্বর নিয়ে বিল্ডিং-আকৃতি বাটন ইত্যাদি।


৮) এছাড়াও এই অ্যাপ্লিকেশনটিতে ডিএমপির বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে।


৯) ঢাকাবাসীর ব্যবহারের জন্যে এই মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১৩ জানুয়ারি উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ। এর পরেই গুগল প্লো স্টোরে সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এটি। যে কেউ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিচের ঠিকানা থেকে এটি ডাউনলোড করতে পারবেন।


ডাউনলোড লিংক: http://goo.gl/UkdJoZ

গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে "ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ" লিখলেও পেয়ে এটি সহজেই পেয়ে যাবেন।

অ্যাপ্লিকেশনটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে ফেসবুকের এই পেইজ থেকে এবং আগ্রহীরা এখানে সরাসরি নির্মাতাদের সাথে কথা বলার এবং বিভিন্ন মতামত শেয়ার করারও সুযোগ পাবেন:

https://www.facebook.com/mobileappofdmp

এবার একটি মজার তথ্য দিই, এই এ্যাপটি তৈরি করতে তারিক আর তন্ময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে মজুরী হিসেবে নিয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা।তাদের বক্তব্যঃ

ছয় বছর ক্যাডেট কলেজ আর ৪ বছর বুয়েট- দেশের টাকাতেই আমাদের এতদূর আসা।তাই দেশমাতৃকার প্রতি আমাদের এই ক্ষুদ্র নিবেদন। আমরা চাই আমাদের মত আরো অনেক মানুষ নিজেদের জায়গা থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কিছু একটা করুক।

তারিক আর তন্ময় আমার ক্যাডেট কলেজের ছোটভাই- এই গর্বে আজকাল আমি মাটির তিন হাত উপর দিয়ে হাঁটি। ওদের এই বক্তব্যের পরে আমাকে কি খুব একটা দোষ দেয়া যাবে?


পরিশিষ্টঃ

ক) উত্তরার এ্যাপটি বাংলাদেশ সরকারের যে কোন প্রতিষ্ঠানের প্রথম এ্যাণ্ড্রয়েড এ্যাপ, আর ডিএমপি এ্যাপটি দ্বিতীয়।ডিএমপি এ্যাপটির মূল কাজ পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ঘটানো এবং তথ্য দিয়ে পুলিশি সেবা সরাসরি নাগরিকদের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেয়া। আমরা জানি, পুলিশের পক্ষ থেকে নানারকম সমস্যা হতে পারে, হয়ত কেউ কেউ ফোন করেও আশানুরূপ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে।এসব সমস্যা নিয়েও আমরা আশাবাদী, কারণ অন্ততঃ শুরু তো হল!

খ) এই এ্যাপটির অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের ( আই ফোন, উইন্ডোজ ইত্যাদি ) কাজ শেষের পথে, মাসখানেকের মধ্যে রিলিজ দেয়া হবে। এছাড়াও, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সারা দেশের সবগুলো থানা, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং হাসপাতাল একত্রিত করে একটি এ্যাপের কাজ শুরু হয়েছে, যেটি এবছরের মাধ্যমে রিলিজ দেয়া হবে।

গ) জানি, হাজারটা সীমাবদ্ধতা আছে। তাই বলে কি আমরা থেমে থাকব? বাংলাদেশ পুলিশের মত "ভাঙ্গাচুরা" (??!!) বিভাগ যদি এ্যাপ বের করে ফেলতে পারে, বাকিদের পক্ষে কি কি করা সম্ভব সেটা চিন্তা করলে ইচ্ছে করে আকাশে উড়ে বেড়াই।

আমাদের দেশটাকে আমরা স্বপ্নের দেশ হিসেবে দেখতে চাই, এবং সেটা খুব তাড়াতাড়ি।

চলুন, হাত লাগাই!

মাসরুফ হোসেন
সহকারী পুলিশ কমিশনার
(ক্যান্টনমেন্ট জোন)
গুলশান অপরাধ বিভাগ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ
০১৭১৩৩৯৮৩৪২

0 comments
Labels: , ,

ইসলামে নারীর সমান উত্তরাধিকার ও “সুস্পষ্ট নির্দেশ”

নারী-অধিকার ইসলামে কেন্দ্রীয় বিষয়। সে-অধিকার কমবেশি লঙ্ঘিত হয়েছে এটা শারিয়াপন্থীরাও স্বীকার করেন। তাঁরা বলেন শারিয়া আইনগুলো ঠিকই আছে, শুধু প্রয়োগটা ঠিকমতো হচ্ছে না বলেই যত সমস্যা। আমরা বলি শারিয়া আইনের মধ্যে এত বেশি সমস্যা আছে যে এটাকে সংশোধন করা সম্ভব নয়। তাঁদের ও আমাদের মধ্যে তফাৎ শুধু এটুকুই কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। শেষ কথা হলো ইসলামের ভেতরে থেকেই নারী-অধিকার লঙ্ঘন থেকে বেরিয়ে আসার যে ইসলামি পদ্ধতি বিশেষজ্ঞরা দেখিয়েছেন তা জানা, জানানো ও সমাজে প্রতিষ্ঠা করা।

ইসলামে নারী-অধিকারের প্রধান বিষয়গুলো হলো - (১) দাসী-প্রথা, (২) অনিয়ন্ত্রিত বহুবিবাহ, (৩) স্বামীর তাৎক্ষণিক তালাকের অধিকার, (৪) নারী-নেত্রীত্ব, (৫) বিয়ে-তালাকে সাক্ষ্যে উত্তরাধিকারে পুরুষের চেয়ে কম অধিকার, (৬) তালাকের পর ভরণপোষণ, (৭) তালাকের পর বাচ্চা পাবার অধিকার, (৮) নারীর বাধ্যতামূলক হিজাব, (৯) স্বামীর স্ত্রী-প্রহারের অধিকার ইত্যাদি। এগুলো নিয়ে মুসলিম-অমুসলিমে তো বটেই, মুসলিম-মুসলিমেও তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই। তাঁরা একই বিষয়ে বিভিন্ন আলেমের বিভিন্ন মতামত যুগে যুগে দেশে দেশে বিভিন্ন আইনের রূপে প্রয়োগ করেছেন বলে ইসলামের হরেকরকম চেহারা ফুটে উঠেছে। এর মধ্যে আসল ইসলাম কোন্টা তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দুনিয়ার মুসলিম-অমুসলিম সবাই বেজায় গোলকধাঁধায় পড়ে গেছে। হিজাবের কথাই ধরুন, এতেও মওলানাদের কতই না ভিন্নমত ঃ (১) দু’চোখে দু’টো জালের মতো ঘুলঘুলি রেখে আপাদমস্তক ঢাকা, (২) চেহারা খোলা রেখে আপাদমস্তক ঢাকা, (৩) শুধু মাথায় স্কার্ফ দিয়ে চুল ঢাকা, (৪) হিজাব মোটেই বাধ্যতামূলক নয়, ওটা সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রথা (আল্ আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলার ডঃ তানতাওয়ি), (৫) হিজাব এসেছে ইরাণ-বিজয়ের পরে ইরাণের অভিজাত নারীদের সংস্কৃতি থেকে, ইত্যাদি। সবাই নিজের পক্ষে কোরাণ-হাদিস দেখান এবং সবাই অন্যকে ইসলাম-বিরোধী বলেন।


অনেক শারিয়া আইনে নারীরা নির্যাতিতা, অপমানিতা ও অসহায় বোধ করলেও কিছু বলেন না কারণ তাঁরা মনে করেন তাহলে ইসলামের বিরুদ্ধে যেতে হয়। কাজেই বিভিন্ন বাহানা বা যুক্তিতে নিজেদেরকে বুঝ দিয়ে তাঁরা এ-সব আইন মেনে নেবার চেষ্টা করেন। এটাই দেখা গেছে ২১ মে ২০০৮ (মুক্তিসন ৩৮) তারিখে দৈনিক ইনকিলাবে সুলতানা পারভীনের নিবন্ধে - “সৃষ্টিকর্তা নারীকে পুরুষের উপর নির্ভরশীল করে সৃষ্টি করে তাকে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন। এ-নির্ভরশীলতাকে মেনে নিতে কষ্ট হলেও এ-থেকে মুক্তির কোন উপায় নেই। যেমন মানুষ মরতে না চাইলেও মৃত্যুর হাত থেকে মুক্তির কোন উপায় নেই। স্রষ্টার উপর সৃষ্টির যখন কোন হাত নেই তখন স্রষ্টার ইচ্ছা ও কাজকে খুশি মনে মেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাছাড়া সৃষ্টিজগতে প্রত্যেকে প্রত্যেকের উপর নির্ভরশীল। শিশু তার পিতামাতার উপর, পিতামাতা সন্তানের উপর, রোগী তার ডাক্তার-নার্স এবং ওষুধের উপর, ক্রেতা বিক্রেতার উপর, বিক্রেতা ক্রেতার উপর, যাত্রী চালকের উপর, চালক যাত্রীর উপর, কৃষক জনগণের উপর, জনগণ কৃষকের উপর নির্ভরশীল। তাই পুরুষের স্বাধীনতা আর নারীর অধীনতাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে কার কি দায়িত্ব সেদিকে নজর দেয়া জরুরি।”


ভেবে দেখুন “এ-নির্ভরশীলতাকে মেনে নিতে কষ্ট হলেও এ-থেকে মুক্তির কোন উপায় নেই...পুরুষের স্বাধীনতা নারীর অধীনতা ... স্রষ্টার উপর সৃষ্টির কোন হাত নেই তখন স্রষ্টার ইচ্ছাকে খুশি মনে মেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ”- এ-বিশ্বাস নিয়ে কিন্তু সুলতানা পারভীনরা জন্ময়নি। এ-ধরনের মিষ্টি অপব্যাখ্যা দিয়ে নারীর কাছেই নারী-নির্যাতন বৈধ করা হয়েছিল হিন্দু ও ইহুদি ধর্মেও। তাঁরা জানেনও না এই বিশ্বাসে তাঁদেরকে বিশ্বাসী করে তোলার জন্য ছোটবেলা থেকেই ইসলামের এই বিশেষ ব্যাখ্যাকে দেখানো-পড়ানো হয়েছে, অন্য ব্যাখ্যাগুলোকে পড়ানো হয়নি। ফলে বন্দি নিজেই কারাগারকে পাহারা দিয়েছে, মনস্তত্ত্বে একে বলে স্টকহোম সিণ্ড্রোম। এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো অধীনতাই ইসলামে বৈধ নয় এটা উপলব্ধি করার ক্ষমতা তাঁদের কেড়ে নেয়া হয়। নাহলে তাঁরা দেখতে পেতেন পেশাগত নির্ভরশীলতা ও মানবাধিকারের নির্ভরশীলতা এক নয়। তাঁরা এ’ও দেখতে পেতেন তাঁর অসংখ্য সৃষ্টির কোন নারীকেই আল্লাহ পুরুষের ওপর নির্ভরশীল করে পয়দা করেননি, মানুষের তো নয়ই। বরং উল্টোটা আছে। কোন কোন প্রজাতির নারী অনেক বেশি ক্ষমতা ও মর্যাদাসম্পন্ন যেমন রাণী-মৌমাছি কিংবা রাণী-পিঁপড়ে। বহু প্রাচীন ও বর্তমান গোত্র নারী-প্রধান এবং তাতে তাদের কোনই সর্বনাশ হয়ে যায়নি। যেহেতু সুলতানা পারভীনের নিবন্ধটা নারীর অর্ধেক উত্তরাধিকার নিয়ে তাই উত্তরাধিকারের পটভূমিতেই আমরা ইসলামে নারীর সার্বিক অধিকার আলোচনা করব।


জাতীয় নারী-উন্নয়ন নীতিমালা ২০০৮-এর অধীনে ‘সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমান অধিকার’ প্রস্তাব বাংলাদশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনুমোদন করেছেন ২৪শে ফেব্র“য়ারী ২০০৮। এই সুযোগে হঠাৎ আবার নরনারীর সমান উত্তরাধিকারের আইন পাশ হয়ে যায় কিনা সেই দুশ্চিন্তায় মহা-উদ্বিগ্ন শারিয়াপন্থী দলগুলো প্রবল প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, কেউ কেউ এমনও বলেছেন সরকার নাকি ইসলাম থেকেই খারিজ হয়ে গেছে। শারিয়াপন্থীদের যুক্তি হল নারীর অর্ধেক উত্তরাধিকার কোরাণের সুস্পষ্ট নির্দেশ - “একজন পুরুষের অংশ দু’জন নারীর সমান”- নিসা ১১ ও ১৭৬।


কোরাণ-হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশ আছে অসংখ্য। এবারে চলুন আমরা তার কয়েকটা দেখি। এর কোন্টা তাঁরা চাইলেও মানতে পারবেন না এবং কোন্টা মানতে পারলেও ইচ্ছে করেই মানবেন না সেটা আমি তাঁদের ওপরেই ছেড়ে দিচ্ছি। বলা বাহুল্য, নিচের কিছু হাদিস আমরা সত্যি বলে মানি না, শুধু আপনাদের অবগতির জন্য দেখাচ্ছি।


    #  উটের মূত্র পান করা - সহি বোখারী ৮ম খণ্ড হাদিস নং ৭৯৭।
    # “শনিবারে সীমা লঙ্ঘন করো না” - নাহল ১২৪, আল্ আরাফ ১৬৩, নিসা ১৫৪।
    # কাফেরদের সাথে সন্ধি না করে ক্রমাগত সামরিক যুদ্ধে তাদের আঘাত করা - সুরা মুহাম্মদ ৪, ৩৫ ; আনফাল ১২ ; সুরা তওবা ২৯, ৭৩, ইত্যাদি।
    # কাফেরদের জোড়ায় জোড়ায় কাটা - আনফাল ১২।
    # গণিমতের মাল হিসেবে পরাজিত শত্র“দের সম্পত্তি ও নারী-শিশুরা বিজয়ী সৈন্যদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হবে - বহু হাদিস ও সুরা আনফাল ১, ৬৯, ইত্যাদি।
    # নিষিদ্ধ মাস পার হলে যেখানেই পাওয়া যায় মুশরিকদের খুন করা যতক্ষণ তারা মুসলমান না হচ্ছে - তওবা ৫, ২৯, ইত্যাদি।
    # সম্মানিত মাসে যুদ্ধ করা - বাকারা ২১৭।
    # দাসপ্রথা চালু করা ও বহু-দাসীর সাথে শোয়া (সর্বোচ্চ সৌদি শিক্ষাবিদ ডঃ ফওজান এ-প্রথাকে ইসলামি প্রথা বলেছেন) - মুমিনূন ৫, ৬ ; আহযাব ৫০, ইত্যাদি।
    # প্রমাণ ছাড়াই স্ত্রীর ওপরে চরিত্রহীনতার অভিযোগ এনে তাৎক্ষণিক তালাক দেয়া - নূর ৬, ৭।
    # যুদ্ধবন্দীদের ধর্ষণ করা - বোখারি ৩য় খণ্ড হাদিস ৭১৮ ও ৫ম খণ্ড হাদিস ৬৩৭ ও ৪৫৯ ; আবু দাউদ ২১৫০ ; মুসলিম ৩৪৩২।
    # কাউকে ইসলামের শত্র“ মনে হলে তাকে খুন করা ও খুন করার জন্য মিথ্যা কথা বলা - বোখারি ৫ম খণ্ড হাদিস ৩৬৯।
    # হিন্দুদের সব মন্দির ধ্বংস করে জ্বালিয়ে দেয়া - বাংলা বোখারি - আবদুল জলিল, হাদিস ২৭০।
    # চাকরি-ব্যবসা-ক্ষেতখামার সব বাদ দিয়ে “তলোয়ার দিয়ে জীবিকা নির্বাহ” করা - বোখারি ৪র্থ খণ্ড, অধ্যায় ৮৮, পৃঃ ১০৪।
    # জুম্মার নামাজে না গেলে তার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিতে চাই - বোখারি ১ম খণ্ড হাদিস ৬১৭।
    # নবীজীর সাথে উঁচু গলায় কথা বলবে না - সুরা হুজরাত ২।

তাহলে আমরা দেখছি, কোরাণ-হাদিসের বহু ‘সুনির্দিষ্ট বিধান’ আমরা ইচ্ছে করলেও মানতে পারছি না। নবীজীর সাথে সামনাসামনি কথা বলা সম্ভব নয়। ক্রীতদাস-প্রথাকে কেউ আর ফিরিয়ে আনবে না। কোরাণে সুরা তওবা বা সুরা মুহম্মদ-এ অমুসলিম-হত্যার কথা স্পষ্ট লেখা থাকার পরও মওলানারা ঠিকই বলেন ওগুলোর সুনির্দিষ্ট পটভূমি আছে যা এখন প্রযোজ্য নয়। যেমনঃ-“মুসলমানরা চিরকাল অমুসলমানকে ধরে মারবে-কাটবে” এ-কথা বলা পাগলামি ছাড়া কিছুই নয় - (বিশ্ববিখ্যাত শারিয়া-সমর্থক পণ্ডিত ডঃ জামাল বাদাওয়ি - টরণ্টো শহরে বক্তৃতা)। কোরাণের “শনিবারের সীমা লঙ্ঘন করা” বা সম্মানিত মাস ও নিষিদ্ধ মাসও শুধুমাত্র যুদ্ধের ব্যাপারে আরবদের প্রাচীন সংস্কৃতি, এখন ওগুলো আর ইচ্ছে করলেও পালন করা সম্ভব নয়।


সুস্পষ্ট নির্দেশেরও স্থান-কাল-পাত্রের সীমাবদ্ধতা থাকে তাই নির্দেশ সুস্পষ্ট হলেও সেটা চিরকালের না’ও হতে পারে। ইমাম শাফি’ই তাঁর বিখ্যাত কেতাব রিসালা-তেও চমৎকারভাবে দেখিয়েছেন কোরাণের বহু আয়াত বিভিন্ন মানুষের জন্য - পৃঃ ৩৫, ৯৭, ২০০, ইত্যাদি। বাংলাদেশ জামাত-এর তত্ত্বগুরু শাহ আবদুল হান্নানও লিখেছেন ঃ “জিজিয়ার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। ইহা কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতেই প্রযোজ্য। যদি সেই পরিস্থিতি না থাকে তবে ইহা প্রয়োগের প্রয়োজন নাই। ইহা দাসপ্রথার মতোই। যেহেতু দাসপ্রথা নাই, তাই কোরাণ-সুন্নাহ-এ ইহার আইনগুলিও এখন প্রযোজ্য নহে” (খবর ইয়াহুগ্র“প, ১লা মে, ২০০৮)। সামাজিক বিধানের নির্দিষ্ট পটভূমি অস্বীকার করে সেটাকে চিরকালের জন্য প্রয়োগ করলে আমরা কঠিন চোরাবালিতে ডুবে যাব। যদি কোন ইসলাম-বিদ্বেষী আপনাকে বলে বাকারা ২২৩ অত্যন্ত কুৎসিৎ আয়াত, তবে তার সামনে আপনি তুলে ধরবেন সহি আবু দাউদ হাদিস ২১৫৯। ওখানে আয়াতটার পটভূমিতে দেখানো আছে ওটা কুৎসিৎ তো নয়ই বরং প্রয়োজনীয়।


কোরাণে সুস্পষ্ট নির্দেশ আছে অমুসলিমদের কাছ থেকে জিজিয়া কর নেবার, চোরের হাত কেটে দেবার, আর আছে ইহুদি-খ্রীষ্টান নারীকে বিয়ে করার অনুমতি (সুরা মায়েদা, আয়াত ৫ ও ৩৮)। কিন্তু হজরত ওমর (রাঃ) বিভিন্ন কারণে কিছু বিশেষ ব্যক্তি এবং আল্ জুরাজিমাহ গোত্র ও ইরাণের এক গোত্রের কাছ থেকে জিজিয়া কর নেননি। আরো দেখুন মুহিউদ্দিন খানের অনুদিত বাংলা-কোরাণ পৃষ্ঠা ৫৬৭। অন্যান্য সূত্রে আমরা দেখি এমনকি এক মুসলিম গোত্রের কাছ থেকেও তিনি জিজিয়া কর নিয়েছেন। সুরা তওবা আয়াত ৬০-এর ভিত্তিতে মুয়াল্লাফা গোত্র নবীজী (দঃ)-এর সময় থেকে যে জাকাত পেত সেটা, দুর্ভিক্ষের সময়ে চোরের হাত কাটা এবং বিশেষ ক্ষেত্রে ইহুদি-খ্রীষ্টান নারীকে বিয়ে করা তিনি বন্ধ করেছেন (প্রিন্সিপল্স্ অব্ ইসলামিক জুরি¯প্র“ডেন্স - ডঃ হাশিম কামালী, পৃঃ ৩২৫)। অথচ এর প্রতিটিই কোরাণের সুস্পষ্ট নির্দেশ। শুধু কোরাণেই নয়, হাদিসেরও উদ্ধৃতি দিচ্ছি ঃ - “আলী ইবনে আবু তালিব বলিয়াছেন ঃ মদ্যপানের জন্য আল্লাহ’র রসুল (সাঃ) এবং আবু বকর চল্লিশ বেত্রাঘাত দিয়াছেন এবং ওমরা তাহা আশি করেন” - সহি আবু দাউদ হাদিস নং ৪৪৬৬

খেয়াল করুন - “হজরত ওমর (রাঃ) বাকী সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করে হাদিস ২০৩ বলবৎ করেন ও হাদিস ২০৪, ২০৫ ও ২০৬-কে রহিত করেন।” নবীজীর সময়ের তামাত্তু হজ্বের পদ্ধতিও তিনি বদল করেছেন। একটু খুঁটিয়ে দেখলে দেখা যাবে আপাতদৃষ্টিতে কোরাণের অক্ষর লঙ্ঘন করলেও তিনি অনুসরণ করেছেন কোরাণের মূল্যবোধ যা কোরাণ নিজেই এবং স্বয়ং নবীজী তাঁর সুন্নতে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। এই সুন্নত মেনে খলীফা মামুনও এক গীর্জা থেকে জিজিয়া কর নেননি (সূত্র সহি বুখারি ২য় খণ্ড হাদিস ৬৩৪ ও ৬৪২, প্রিন্সিপল্স্ অব্ ইসলামি জুরি¯প্র“ডেন্স - ডঃ হাশিম কামালি, আজিজুল হক সাহেবের অনুদিত সহি বুখারীতেও থাকার কথা - ১ম খণ্ড পৃষ্ঠা ১৯৭, ইত্যাদি)।
আরো দেখুন ঃ “সামরিক চাকরি হইতে রেহাই দিবার জন্য সক্ষম মুসলিম পুরুষদের উপর জিজিয়া ধার্য করা হইয়াছিল...খ্রীষ্টান গোত্র আল্ জুরাজিমাহ-কে এই চুক্তিতে জিজিয়া হইতে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছিল যে তাহারা মুসলিমদিগের সহিত যোগ দিয়া (শত্র“র বিরুদ্ধে - লেখক) যুদ্ধ করিবে ও গণিমতের মালের অংশীদার হইবে” - “ইসলামে দ্য মিস্আণ্ডারস্টুড রিলিজিয়ান” - বিশ্ববিখ্যাত শারিয়া-নেতা সৈয়দ কুতুব

যঃঃঢ়://িি.িরংষধসনধংরপং.পড়স/ারব.িঢ়যঢ়?নশওউ=১৫৭্পযধঢ়ঃবৎ=১৫#থভঃহ১.
আমরা জানি নবীজী পরের নেতা ঠিক করে যাননি, জনগণের ইচ্ছের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। অথচ হজরত আবু বকর রসুলের অনুকরণ না করে নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন হজরত ওমরকে। এবং হজরত ওমরও রসুলের অনুকরণ না করে ছয় জনের এক কমিটি বানিয়ে তার ওপর ভার দিয়ে গিয়েছিলেন ঐ কমিটির ভেতর থেকেই পরের খলিফা ঠিক করতে। এ থেকে কি প্রমাণ হয় ? প্রমাণ হয় যা তাঁরা ঠিকই জানতেন, নবীজীর হাজার হাজার সুন্নতের সবগুলোই ইসলামি ধর্মবিশ্বাসের অংশ নয়। আমাদের আলেমদেরও তা জানতে হবে ও জাতিকে জানাতে হবে। সামাজিক পটভূমির ওপরে নবীজীর সুন্নত পরিবর্তনের কঠিন সুন্নত আছে।


কি সেই সুন্নত, কোরাণের কি সেই পদ্ধতি যা সর্বকালের মওলানাদের জন্য অবশ্য পালনীয় ?
খেয়াল করুন। নবীজী (দঃ) অনেক কিছু বদলেছেন যেমন ঃ (১) বহু বছর চালু রাখার পরে মু’তা বিবাহ (সাময়িক অস্থায়ী বিয়ে) নিষিদ্ধ করেছেন ; (২) প্রথমদিকের দু’ওয়াক্ত নামাজ মেরাজের পর পাঁচ ওয়াক্ত করেছেন ; (৩) সিদ্ধান্ত বদলেছেন কবর-জিয়ারত বা কোরবাণির মাংস সংরক্ষণের ব্যাপারে, এবং (৪) অন্যান্য বহু বিষয়ে। এ-থেকে আমরা কি পাচ্ছি ? চিন্তা করে দেখুন। স্বয়ং নবীজীর সামনেই কোরাণে-সুন্নতে পরিবর্তন করা হয়েছে। কেন করা হয়েছে ? ডঃ কামালি বলছেন ঃ “নবী (দঃ)-এর সময়েই কোরাণ ও সুন্নাহ-তে কিছু সম্পূর্ণ ও কিছু আংশিক পরিবর্তন করা হয়। পরিস্থিতির পরিবর্তনই ইহার মূল কারণ।”


স্বয়ং কোরাণ বলছে ঃ “আমি কোন আয়াত রহিত করিলে বা ভুলাইয়া দিলে তাহা অপেক্ষা উত্তম বা সমপর্যায়ের আয়াত আনি” (বাকারা ১০৬) এবং “যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত আনি এবং আল্লাহ যা নাজিল করেন তা তিনিই ভালো জানেন” (নাহ্ল আয়াত ১০১)। একে বলে নস্খ্। কোরাণও বিভিন্ন বিধান বহু বছর চালু রাখার পরে বদলেছে, যেমন ঃ (১) আল্লাহ’র কাছে সুপারিশ করার পদ্ধতি বদল করেছে আন্ নাবা ৩৮ ; বাকারা ৪৮, ১২৩, ২৫৪ ; নিসা ১২৩ ; আনাম ৫১, ৭০ ; আল্ যুমার ১৯, ইত্যাদিতে। (২) জেরুজালেমের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ার নির্দেশ ১৪ বছর চালু রাখার পরে বদলিয়ে কাবা’র দিকে করেছে (বাকারা ১৪২ - ১৪৪ ; সহি বুখারী হাদিস নং ৪১৯ ও ৪২০, হাফেজ আবদুল জলিল)। (৩) বিধবার এক বছরের ইদ্দত বহু বছর চালু রাখার পরে বাতিল করে চার মাস দশ দিন করেছে (বাকারা ২৪০ ও ২৩৪)। (৪) একসাথে দু’বোনকে বিয়ের প্রথা বহু বছর চালু রাখার পরে নিষিদ্ধ করেছে (নিসা ২৩)। (৫) অনিয়ন্ত্রিত বহুবিবাহকে বহু বছর চালু রাখার পরে সর্বোচ্চ চার স্ত্রী করেছে (নিসা ৪)। (৬) পিতামাতা ও আত্মীয়দের উত্তরাধিকার বহু বছর চালু রাখার পর পরিবর্তন করেছে (বাকারা ১৮০, নিসা ১১)। (৭) বহু বছর চালু রাখার পরে যিহার বাতিল করেছে (সুরা সেজদাহ ৪)। (৮) আরও উদাহরণ দেখুন মওলানা মুহিউদ্দীনের অনুদিত কোরাণ পৃষ্ঠা ৫৩, ১২৫৫ ও ১৩৪৭। (৯) বুখারীতে আছে ঃ “ইবনে উমর এই আয়াত পড়িত - ‘তাহাদের সুযোগ ছিল রোজা রাখা অথবা কোন দরিদ্রকে প্রতিদিন খাওয়ানো’ এবং বলিয়াছে এই আয়াতের আদেশ রহিত করা হয় (৩য় খণ্ড হাদিস ১৭০) এবং “র্বা মাউনাতে যাহারা নিহত হইয়াছিল তাহাদের উপর নাজেলকৃত আয়াতটি আমরা পড়িতাম কিন্তু পরে তাহা বাতিল করা হয়” (৪র্থ খণ্ড হাদিস ৬৯)। নবীজীর সাথে একান্তে কথা বলতে হলে কিছু সদকা দিতে হবে এ-আয়াতও আল্লাহ নাজিল করে পরে নিজেই রহিত করেন (মুহিউদ্দিন খানের অনুদিত বাংলা-কোরাণ পৃষ্ঠা ১৩৪৭)। আল্লাহ নিজেরই সুস্পষ্ট নির্দেশ বাতিল ও রহিত করেছিলেন তার নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে এটা “সুস্পষ্ট নির্দেশ’-এর প্রবক্তারা কি করে অস্বীকার করবেন ?


একদিকে আমরা স্পষ্ট দেখছি আল্লাহ ও নবীজী একের পর এক নূতন সামাজিক বিধান চালু করছেন, অনেক পরে তার কোনোটা বদলাচ্ছেন কিংবা বাতিল করছেন। আবার অন্যদিকে দেখছি আল্লাহ বলছেন ঃ “আপনি কখনো পরিবর্তন পাবেন না আল্লাহ’র সুন্নাহ-এ” (সুন্ন্াহ - অর্থাৎ রীতিনীতি, প্রতিষ্ঠিত নিয়ম, চালু বিধান ইত্যাদি - সুরা আহযাব ৬২)। একটু খুঁটিয়ে দেখলেই দেখা যাবে যেটাতে “কখনো পরিবর্তন পাবেন না” তা হল মূল্যবোধ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, আর যেটাতে পরিবর্তন পাবেন তা হল সামাজিক বিধানের প্রণয়ন, পরিবর্তন ও বাতিল। মনে আছে ছোটবেলায় মা আপনাকে বলেছিলেন “যাও গোসল কর ?” আবার একদিন এ’ও বলেছিলেন “গোসল করো না।” দু’টোই দলিলে ধরা আছে বলে আমি কি বলতে পারি আপনার মা হয় নির্বোধ কিংবা থুক্কু করে আগের ভুলটা শুধরেছেন ? মোটেই তা নয়। “যাও গোসল কর” তিনি বলেছিলেন যেদিন আপনি খেলা শেষে ধুলোমাখা দেহে ঘরে ফিরেছিলেন, এবং “গোসল করো না” বলেছিলেন যেদিন আপনার জ্বর হয়েছিল। আপনার কল্যাণ হল তাঁর মূল্যবোধ, ওটা ঠিক রাখার জন্যই নির্দেশ বদল। চিন্তা করুন, যদি তিনি ‘সুস্পষ্ট নির্দেশ” না বদলিয়ে জ্বরের দিনেও বলতেন “যাও গোসল কর” তবে আপনার কি অবস্থা দাঁড়াতো ?


ইসলামেও তাই। কোরাণে দেয়া মানবকল্যাণের মূল্যবোধ বজায় রেখে সামাজিক বিধান বদলানো ইসলামের অপরিহার্য শর্ত। এজন্যই কোরাণ-রসুলের নস্খ্। ডঃ কামালি বলছেন ঃ “মানুষের উপকারের জন্য সমাজের বিদ্যমান পটভূমি ও আইনের সমন্বয় করার প্রয়োজনে নস্খ্ আসিয়াছে...কোরাণ ও হাদিসে নস্খ্-এর সর্বপ্রধান কারণ হইল স্থান-কালের বিষয়টি।” এই সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা ইসলামের এক সমালোচনার জবাবে বলেছেন মওলানা মওদুদি’ও ঃ “তৎকালীন (অতীতের) বিদ্যমান পরিস্থিতি উপেক্ষা করিয়া ওই সময়ের ঘটনাকে বর্তমানের আলোকে দেখিবার জন্যই এই ভুল হইয়াছে”- ইসলামিক ল’ অ্যাণ্ড কন্সটিটিউশন পৃষ্ঠা ২৩৬। ইউরোপের বিখ্যাত শারিয়া-সমর্থক বিলাল ফিলিপ বলেছেন ঃ “আল্লাহ কখনো কোনো তাৎক্ষণিক কারণে মানুষের উপযোগী আইন দেন। কিন্তু পরে ইহার উদ্দেশ্যে হাসিল হইয়া ইহার উপকারিতা লোপ পায়। এই পরিস্থিতিতে আর ইহার অস্তিত্ব থাকে না”- দি এভোল্যুশন অব্ ফিক্হ্ পৃষ্ঠা ২০। মওলানা মুহিউদ্দিনের কোরাণেও এই একই কথা আছে ৩৩৪ পৃষ্ঠায় ঃ “নাসিখ ও মনসুখের অবস্থা একজন বিজ্ঞ হাকিম ও ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রের মত...ডাক্তার যখন পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপত্র রহিত করে নূতন ব্যবস্থাপত্র দেন তখন এরূপ বলা ঠিক নয় যে পূর্বের ব্যবস্থাপত্রটি ভুল ছিল ... বরং আসল সত্য হচ্ছে এই যে, বিগত দিনগুলোতে সে ব্যবস্থাপত্রই নির্ভুল ও জরুরি ছিল এবং পরবর্তী পরিবর্তিত এ-ব্যবস্থাপত্রই নির্ভুল ও জরুরী।” তিনি ৫৩ পৃষ্ঠাতেও ওই একই কথা বলেছেন। এমনকি মওদুদী যে মওদুদী. সেই তিনিও স্বীকার করেছেন ঃ “কোরাণ-সুন্নাহ’র সুস্পষ্ট নির্দেশ বদলাইবার অধিকার কাহারো নাই। অন্যদিকে আমি ইহাও বলিয়াছি, ভিন্ন পরিস্থিতিতে ইজতিহাদ প্রয়োগ করিয়া সময়ের দাবীর ভিত্তিতে ঐগুলি পরিবর্তনকে বৈধ করা যাইতে পারে” (ইসলামিক ল’ অ্যাণ্ড কন্সিটিটিউশন, পৃঃ ৯৩)।


কি আশ্চর্য - আমরাও তো হুবহু এই একই কথা বলছি ! চোদ্দশ’ বছরে সামাজিক-পারিবারিক পরিবর্তনের বাস্তবতাকে স্বীকার করাটাই তো ইসলাম। বিভিন্ন দেশে শারিয়াপন্থীরা এটা তো স্বাীকার করে নিচ্ছেনও, বিধান তো বদলাচ্ছেনও যেমন বাতিল করছেন তাৎক্ষণিক তালাক, মুরতাদ-হত্যা, জিজিয়া কর এবং অনুমোদন করছেন নারী নেত্রীত্ব, নারীর বিচারক হওয়া, ইত্যাদি। এটা ভালো লক্ষণ। এভাবেই তাঁরা একদিন পারিবারিক আইনগুলোও বদলাবেন তাতে কোনই সন্দেহ নেই।


এবারে আমি আবারো মওলানা মওদুদি’র প্রতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করব, বিশেষ করে শারিয়াপন্থীদের। তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন “বিভিন্ন পয়গম্বরের প্রচারিত ধর্র্মীয় আইনগুলিতে ভিন্নতা আছে কেন ? (ফরভভবৎ রহ সধঃঃবৎং ড়ভ ফবঃধরষ)...বিভিন্ন পয়গম্বরের প্রচারিত বেহেশতি কেতাবে নির্দেশিত ইবাদতের পদ্ধতিতে, হালাল-হারামের বিধানগুলিতে ও সামাজিক আইনগুলির বিস্তারিত কাঠামোতে (ফবঃধরষবফ ষবমধষ ৎবমঁষধঃরড়হং) ভিন্নতা আছে কেন ?...(কারণ) স্বয়ং আল্লাহ বিভিন্ন সময়ের, বিভিন্ন জাতির ও বিভিন্ন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াইবার জন্য আইনের ধারা (ষবমধষ ঢ়ৎবংপৎরঢ়ঃরড়হং) বদলাইয়াছেন”- তাঁর তাফহিমুল কুরাণে মায়েদা ৪৮-এর ব্যাখ্যা - যঃঃঢ়;//িি.িঃধভযববস.হবঃ/সধরহ.যঃসষ।


কি আশ্চর্য - আমরাও তো হুবহু এই একই কথা বলছি ! কোরাণের এই বাস্তব বিধানটা মেনে নিলেই তো হল ! এই মূল্যবোধ মেনেই তো রসুল, খলিফা এবং মওলানারা অনেক বিধান বদলেছেন। যেমন হজ্বের সময় পাথর মারার পদ্ধতি, মহাশূন্যে এবং উত্তর গোলার্ধে নামাজ-রোজার সময়, বেশকিছু মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সমান উত্তরাধিকার ইত্যাদি, যেমন মরক্কো, সিনেগাল ও তিউনিসিয়া (তিউনিসিয়ায় মুসলমান শতকরা ৯৯%)। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কিরগিজস্তানে দ্বিতীয় বিয়ে করলে সটান দু’বছরের কারাদণ্ড - কোনো খাতির নেই। এমনকি গত ফেব্র“য়ারীতে ইরাণের গ্র্যাণ্ড আয়াতুল্লাহ সানে’ই বিধবার উত্তরাধিকার পরিবর্তনের ফতোয়া দিয়েছেন। এঁদের কাউকেই তো কেউ মুরতাদ বলেনি ! উনারা যদি পারেন, আমাদের মওলানারাও পারেন। উনারা যেভাবে পারেন, আমাদের মওলানারও সেভাবে পারেন। দরকার শুধু উপলব্ধির ও নিয়তের। কিন্তু ইসলামের এই গতিময়তা না বুঝার ফলে আমাদের আলেম সমাজের ভাবমূর্তি নারী-বিরোধী হয়ে পড়েছে যা সমাজের জন্য মোটেই ভালো নয়।


এ বিষয়ে দৈনিকগুলোত অসংখ্য নিবন্ধে কোরাণে নারীর উত্তরাধিকারের সব আয়াতের সমষ্টি দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে উত্তরাধিকার অর্ধেক হলেও নারীর উপার্জন, দেনমোহর-ভরণপোষণ সব মিলিয়ে নারী পুরুষের বেশিই পায় তত্ব হিসেবে। বাস্তবে কথাটা সত্যি নয়। দৈনিক ইনকিলাব ২৫ মে ২০০৮ তারিখে জনাব মোহাম্মদ আবদুল অদুদ ‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা’ নিবন্ধে চমৎকার বাক্যে লিখেছেন - “আল্লাহ প্রদত্ত মুসলিম পারিবারিক আইন একটি অঙ্কের শিকল। এর কোথাও বিচ্যুতি ঘটলে, পুরোটাতেই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।” আমরা নিরীক্ষা করে দেখেছি আসলেই তাই, অঙ্কটা মেলে চমৎকার। কিন্তু শারিয়াপন্থীরা যা খেয়াল করেন না তা হলো অঙ্কটা মেলে চোদ্দশ’ বছর আগের সমাজের আর্থ-পারিবারিক-সামাজিক কাঠামোর সাথেই। চোদ্দশ’ বছরের বিবর্তনে শিকলটার কিছু অংশ খসে পড়ে পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে নূতন অংশ ঢুকেছে বলে বর্তমানে ওই শিকল প্রয়োগ করা অসম্ভব। তা করতে গেলে বিশ্বকে সেই চোদ্দশ’ বছর আগের আর্থ-পারিবারিক-সামাজিক অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে যা অবাস্তব ও অসম্ভব। তাই বুঝি ‘বাস্তববাদী’ বলে বিখ্যাত ইমাম তাইমিয়া বলেছেন “মুসলিম বিশ্বে কোন চিরন্তন শাসনব্যবস্থা বাস্তবভিত্তিকও নহে, সম্ভবও নহে”- পলিটিক্যাল থট্ অব্ ইবনে তাইমিয়া, পৃঃ ১০৬। সেই সমাজে গোত্র তার প্রতিটি সদস্য ও নারীকে প্রাণপণে সবদিক দিয়ে রক্ষা করত। এতে গোত্রের সম্মান ও শক্তি বজায় থাকত। কিন্তু নারীর সে রক্ষাকবচটা আজ নেই, জনসংখ্যা ও সম্পদের সেই ভারসাম্যও নেই। এখন ছোট্ট একক পরিবারে বাবা-মা, ভাইবোন বা রাষ্ট্র কেউই কাউকে সবদিক দিয়ে রক্ষা করতে পারে না। তাই বহু পরিত্যক্ত নারীর শেষ উপায় দাঁড়ায় ভিক্ষাবৃত্তি বা পতিতাবৃত্তি। পতিতালয়ের অনেক রিপোর্টে এর বাস্তব প্রমাণ আছে।


আমাদের বুঝতে হবে কোরাণ হঠাৎ একদিন এ-সব সামাজিক বিধান দিয়ে শূন্য থেকে নূতন সমাজ সৃষ্টি করেনি। কোরাণ সেই প্রাচীন সমাজের নারী-বিরোধীতায় কিছুটা ভারসাম্য এসে ভবিষ্যতের সমান অধিকারের পথ দেখিয়ে গেছে। এ দু’য়ে যে আকাশ-পাতাল তফাৎ সেটা না বুঝলে আমরা কোনদিনই ইসলামে মানবকল্যাণের মর্মবাণী বুঝব না। সেই সমাজে নারীকে পুরুষের চেয়ে কম অধিকার দেয়ার কারণ হল নারীর দায়িত্ব নেবার অক্ষমতা। কিন্তু তার জন্য নারী দায়ী নয়, দায়ী সেই সমাজব্যবস্থা। তাছাড়া এখন যে বাংলাদেশে প্রায়ই নীরব দুর্ভিক্ষ, মারাত্মক কর্মহীনতা, ভয়াবহ সিডর আর মঙ্গায় মরে যায় কোটি মানুষ আর রাস্তায় পড়ে থাকে হাড্ডিসার লাশ, লেগে থাকে বন্যা-খরা-ঝড়ের ধ্বংস, কোটি মানুষ অর্ধাহারে সে দেশে দেনমোহর বা স্বামীর ভরণপোষণের দায়িত্বের যুক্তি নিষ্ঠুর পরিহাস মাত্র। যাঁরা বলেন দেনমোহর হল নারীর রক্ষাবকচ তাঁদের জানা উচিত নারীর সারাজীবনের খরচ হবার মত দেনমোহর কখনোই ধার্য করা হয় না। তাছাড়া দেনমোহর হতে পারে একজোড়া জুতো বা কোরাণ থেকে কিছু তেলাওয়াত (শারিয়া দি ইসলামিক ল’ পৃষ্ঠা ১৬৩, ১৬৪ ও বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা ৯৭৬ সহি বুখারী ৭ম খণ্ড ২৪ ও সহি তিরমিডি ৯৫১)। স্বামীর ভরণেপোষণের দায়িত্বের যুক্তি যাঁরা দেখান তাঁদের জানা উচিত সেই দায়িত্ব হল ঃ “স্বামী খাবার, বাসা ও পোশাক দিবে বাধ্য স্ত্রীকে, অবাধ্য স্ত্রীকে নহে। বাচ্চা হইবার সময় ব্যতীত অন্য সময়ে ডাক্তার-ওষুধের খরচ বা সাবান-প্রসাধন দিতে স্বামী বাধ্য নহে” (হানাফি আইন হেদায়া পৃষ্ঠা ১৪০ ও শাফি’ আইন এম-১১-৪)। বলাই বাহুল্য, কে বাধ্য আর কে অবাধ্য স্ত্রী তা কিন্তু ঠিক করবে ঐ স্বামীই। হানাফি-শাফি’ কেতাব হাতের কাছে না থাকলে দেখে নিন মুহিউদ্দিন খান অনুদিত বাংলা কোরাণ পৃষ্ঠা ৮৫৭ ঃ “স্ত্রীর যে প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর যিম্মায় ওয়াজিব তা চারটি বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ - আহার, পানীয়, বস্ত্র ও বাসস্থান। স্বামী এর বেশি কিছু স্ত্রীকে দিলে অথবা ব্যয় করলে তা হবে অনুগ্রহ, অপরিহার্য নয়।” এসব অত্যন্ত নির্লজ্জ আইন। স্বামী তালাক দিলে স্ত্রী খোরপোষ পাবে মাত্র তিন মাস। আর তাৎক্ষণিক তালাকে তো খোরপোষের কোনো বালাই-ই নেই। তারপর সে স্ত্রী কি খাবে কি পরবে তার কোনো হদিস নেই। কাজেই নারীকে আর্থিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করার দরকার আছে।


শারিয়াপন্থীরা সর্বদাই বলেন আয়াতের পটভূমি থেকে নির্দেশ নিতে। কথাটা ঠিক, কারণ কোরাণের কি কি নির্দেশ তখনকার জন্য আর কি কি নির্দেশ শাশ্বত তা পটভূমি থেকে পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁরা নারী-অত্যাচারের জন্য ঐ পটভূমিই লঙ্ঘন করেন। উত্তরাধিকারের বেলায়ও কথাটা সত্যি। সুরা নিসা আয়াত ১১ ও ১৭৬-তে নারীর অর্ধেক উত্তরাধিকারের প্রত্যক্ষ নির্দেশ আছে। আয়াত ১৭৬-এর পটভূমি পাওয়া যায়নি, কেউ জানালে বাধিথ হব। আয়াত ১১ নাজিল হয়েছিল এক বিশেষ পটভূমিতে। আউস বিন্ সাবেত নামে এক ধনী আনসারের মৃত্যু হলে তখনকার আর্থ-সামাজিক ঐতিহ্য অনুযায়ী আউসের চাচাতো ভাই এসে তার স্ত্রী, দুই বালেগ মেয়ে ও এক নাবালেগ ছেলেকে বঞ্চিত ক’রে সব সম্পত্তি গ্রাস ক’রে ফেলে (কোরাণের বাংলা অনুবাদ - মুহিউদ্দিন খান, পৃষ্ঠা ২৩৪, এবং ডঃ মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ, - দ্য মুসলিম উইমেন)। কোরাণ আে নাবালেগ পুত্রের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বালেগ বোনের দ্বিগুণ সম্পত্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ এই আয়াত শাশ্বত নয় বরং তাৎক্ষণিক বিশেষ পরিস্থিতির সমাধান। আজ যদি কোরাণ মেনে ঐ আয়াত প্রয়োগ করতে হয় তবে শুধুমাত্র নাবালেগ পুত্র এবং বালেগ বোনদের ক্ষেত্রেই সেটা প্রয়োগ করা যেতে পারে। সেই বিশেষ পরিস্থিতি না হলে ঐ সুরা নিসা আয়াত ১২ মোতাবেকই নর-নারীর সমান উত্তরাধিকার হতেই হবে। সেখানে মৃতের ভাই-বোনের সমান উত্তরাধিকারের যে নির্দেশ দেয়া আছে সেটা কোথায় গেল ? মৃতের ভাই-বোন সমান পেলে তার ছেলেমেয়েরা অবশ্যই সমান পাবে।


আসল কথা হলো, নিয়ত ও বাস্তবের উপলব্ধি। আমাদের ইসলামী নেতৃত্ব যদি কোরাণ-রসুলের দেয়া পদ্ধতি অনুসারে মূল্যবোধ বজায় রেখে বাস্তব বদলের সাথে নারী-অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চান তবে তার সমর্থন কোরাণ-রসুল থেকেই পাবেন।  বাংলাদেশ জামাতে ইসলামি বলেন তাঁরা তাঁদের হারাম নারী-নেত্রীত্ব হালাল করেছেন পরিস্থিতির কারণে। তাঁদের বুঝা উচিত নারীর সমান-উত্তরাধিকারও হওয়া প্রয়োজন ওই পরিস্থিতির কারণেই। আমার সাথে ভয়েস্ অব্ আমেরিকা রেডিও-বিতর্কে এক উঁচুস্তরের শারিয়া-নেতা আমাকে বলেছেন নারী ত্রিশ কেজি ওজন তুলতে পারে না কিন্তু পুরুষ পারে। রেডিওতে দুনিয়ার সামনে আমি তাঁকে অসম্মান করতে চাইনি কিন্তু এ-যুক্তি সত্যি হলে মানুষ নয় বরং হাতি বা গণ্ডার হওয়া উচিত আশরাফুল মাখলুকাত। “কলসি কাঁখে ঘাটে যায় কোন্ রূপসী” গানটা শুনতে ভালো কিন্তু দু’কলসি পানি মাথায় নিয়ে আধ-মাইল হাঁটলে তালপাতার সেপাই অনেক পুরুষেরই ঘাড়ের হাড় নড়ে যাবে। অথচ বহু জায়গায়, বিশেষত ভারতের মধ্যপ্রদেশে নারীরা মাথায় ক’রে দু’কলসী পানি বয় মাইল ধরে, প্রতিদিন। ক’জন পুরুষ পারবে তা ? একটানা তিন ঘণ্টা কুলো ঝাড়লে কিংবা ঢেঁকি পাড় দিলে বহু পুরুষই বুঝবে নারীর শক্তি ও ধৈর্য কত অসাধারণ, তা’ও আবার হাসিমুখে। সেজন্যই বলি, নারীকে কোনই সাহায্য করতে হবে না - শুধু ওদের বাধা না দিলেই ওরা অসাধ্য সাধন করে দেখাবে। নারীকে অক্ষম ও দুর্বল ইসলাম করেনি, করেছি আমরা।


অসীম কোরাণ দু’হাত ভরে দিতে চায় কিন্তু সসীম মানুষ দু’হাতের ওপরে দু’মুঠোর বেশি নিতে পারে না। আমাদের বুঝতে হবে মদ্যপানের মতো অভিশাপ কোরাণ হুকুম দিয়ে একদিনে দূর করতে পারত কিন্তু কেন ধীরে ধীরে তিনটে পদক্ষেপ নিল। দাসপ্রথার মতো অভিশাপ কোরাণ এক হুকুমে দূর করতে পারত কিন্তু কেন একটু একটু করে এগিয়ে বহু বছর পর উচ্ছেদ করল (সুরা মুহম্মদ ৪)। পুরুষের ইচ্ছেমতো বহুবিবাহ আর তালাক, স্ত্রী-প্রহার, প্রতিটি নারী সম্পত্তিহীন, তার চাক্ষুষ সাক্ষ্য আদালতে অচল ইত্যাদি শুধু আরবেই নয় বরং মানুষের সামগ্রিক ইতিহাসের চিরন্তন কুপ্রথা। সেগুলোকেও কোরাণ এক হুকুমে দূর করতে পারত। কিন্তু কোরাণ জানে, কোনো ভাল বিধানও মানুষ যদি না উপলব্ধি করে তবে জোর করে চাপিয়ে দিলে আখেরে সমাজের সর্বনাশ হতে বাধ্য। তাই আমরা দেখি কোরাণ অতি সতর্কভাবে একটু একটু করে ততটুকুই প্রতিষ্ঠিত করেছে যতটুকু মানুষ নিতে পারত, যতটুকু সেই সমাজে সম্ভব ছিল। সে-জন্যই কোরাণ প্রাথমিকভাবে প্রতিটি নারী-অত্যাচারের ওপরে বিভিন্ন শর্ত দিয়ে প্রচণ্ড বাধা সৃষ্টি করেছে, অর্ধেক হলেও নারী-সাক্ষ্য ও নারী-উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু সেটাই মঞ্জিলে-মকসুদ নয়। এ-সমস্যারও শেকড় এত গভীরে ছিল যে দাসপ্রথার মতো এটাও পুরো করা নবীজীর সময়ে সম্ভব হয়নি। তাই কোরাণ দিয়ে রেখেছে গন্তব্যের নির্দেশ - দাসপ্রথা উচ্ছেদ কর এবং নরনারী পরস্পরের পোশাক, পরস্পরের ওলী। পোশাক বা ওলী পরস্পরের অর্ধেক হয় না।

আর, কোরাণ লঙ্ঘন ? তার বহু উদাহরণ তো আমাদের চোখের সামনেই আছে। দেখুন বি-বি-সি’র খবর ঃ “১৯৯৭ সালে গৃহীত ‘নারী উন্নয়ন নীতি-৯৭’-এ নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার বিষয়ে ৭.১ ধারায় বর্ণিত ‘সমান অধিকার’ শব্দ দু’টি বাদ দিয়ে করা হয়েছে ‘সংবিধান-সম্মত অধিকার’। ৭.২ ধারার ‘সম্পদ, বাসস্থান, অংশীদারিত্ব, উত্তরাধিকার-সম্পদ, ভূমির ওপর অধিকার আইন’ ইত্যাদি লাইন ও শব্দ বাদ দেয়া হয়েছে। ৭.৩ ধারায় ‘নারীর সর্বাত্মক কর্মসংস্থান’ বদলে করা হয়েছে ‘যথোপযুক্ত’। ধারা ৮ থেকে রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের পুরোটাই এবং মন্ত্রীপরিষদ, সংসদ ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কিত কয়েকটি অংশ সম্পূর্ণভাবেই বাদ দেয়া হয়েছে।” বলাই বাহুল্য ওই ‘যথোপযুক্ত’ ও ‘সংবিধান-সম্মত’ অধিকারগুলো কি তা কিন্তু তাঁরাই ঠিক করবেন। এগুলো চালাকি ছাড়া আর কিছু নয় এবং চালাকি দিয়ে সমাজের মঙ্গল করা যায় না। দেখুন ইসলামি ফাউণ্ডেশনের প্রকাশিত বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ১ম খণ্ড আইন নং ৩৪৪ - “(স্বামীর জন্য) তালাক সঙ্ঘটিত হওয়ার জন্য সাক্ষী শর্ত নহে।” এবারে দেখুন সুরা ত্বালাক ২, স্ত্রী-তালাকের সময় - ‘তোমাদের মধ্য হইতে দুইজন নির্ভরযোগ্য লোককে সাক্ষী রাখিবে।’ এই হলো কোরাণ লঙ্ঘন। হদ্দ বা হুদুদ হলো জ্বেনা, জ্বেনার অপবাদ, চুরি, ডাকাতি, মদ্যপান, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও ইসলাম ত্যাগ। দেখুন বিধিবন্ধ ইসলামি আইন ৩য় খণ্ড ৯১৪ গ - “হদ্দ-এর আওতাভুক্ত কোন অপরাধ করিলে ইসলামি রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাইবে না।” হানাফি আইন হেদায়া-তেও এ-আইন আছে ১৮৮ পৃষ্ঠায়। এই হলো কোরাণ-লঙ্ঘন, এরকম বহু শারিয়া আইন আছে।


সরকার সহ সবাইকে বুঝতে হবে সাম্য ও সমান অধিকার এক নয়। কিন্তু সেই বাহানায় নারী-অত্যাচারও ইসলাম-সম্মত নয়। নারীর সমান উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ধর্ম ছাড়াও আর্থ-পারিবারিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহু জটিল সুতোয় টান পড়বে। কারণ নর ও নারীর জীবন, আশা-আকাক্সক্ষা, শরীর-মন, মানসিকতা, স্বপ্ন, চাহিদা, সমস্যা ও সমাধান শুধু আলাদাই নয় বরং কখনো কখনো পরস্পর-বিরোধীও হয়ে ওঠে। তাই সমান উত্তরাধিকার কেন ইসলাম-বিরোধী নয় সেটা জনগণকে পরিষ্কারভাবে বুঝানোর কোনই বিকল্প নেই। রেডিও-টেলিভিশনে খবরের কাগজে ক্রমাগত নিবন্ধ, বই ও বিশ্ববিখ্যাত প্রগতিশীল ইসলামি বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার দিয়ে জনগণকে জানাতে হবে। যাঁরা সমান উত্তরাধিকারের বিরুদ্ধে তাঁদের সাথেও দলিলভিত্তিক উন্মুক্ত আলোচনা হওয়া দরকার।
কেউ যদি কারো কথা না মানেন তবুও লা আকরাহা ফিদ্বীন-ধর্মে জবরদস্তি নেই-এটা মানতে হবে। ইসলামে মানুষ ও আল্লাহ’র মধ্যে কোনো দালাল নেই এটা মানতে হবে, নারীরা কারো চেয়ে কম মুসলিম নন এটাও মানতে হবে। এ-জন্যই এ-বিষয়ে নারীদের মতামতের জরিপ জরুরি। এবং সবচেয়ে জরুরি হল অন্যান্য দেশের নারীদের মতো নিজেদের ইসলামি নারী-সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে অধিকারের সংগ্রাম করা। এর কোনই বিকল্প নেই।

ইসলাম নিয়ে এ কাল খেলার শেষ হোক। বিশ্ব-মুসলিম আল্ কোরাণের শান্তিবাণী বুকে নিয়ে অমিতগর্বে উঠে দাঁড়াক অতীতের সামরিক শক্তিতে নয়, ক্ষমতার লড়াইয়ের ষড়যন্ত্রে নয়, মেধা এবং প্রেম-ভালবাসা-ক্ষমার শক্তিতে, ন্যায়বিচার ও নর-নারীর সমান অধিকারের শক্তিতে। আবারো বলছি, ইসলামের বহু ব্যাখ্যা সম্ভব কিন্তু যে ব্যাখ্যায় মানবাধিকার রক্ষা হয় সেটাই প্রকৃত ইসলাম। আমরা সবাই একসাথে চেষ্টা করলে আল্লাহ্ তায়ালা’র ওয়াদা আছে আমাদের সাহায্য করার এবং নেয়ামত ফিরিয়ে নেয়ার যদি আমরা চেষ্টা না করি - সুরা রা’দ ১১ , আনফাল ৫৩।



হাসান মাহমুদ
hasan@HasanMahmud.com

0 comments
Labels: , , ,

নারী বিষয়ে কিছু জিগ্গাসা প্রশ্ন উত্তর - আসুন দেখি সত্যের চোখে

1। একসাথে চার বিয়ে করাও বৈধ: হ্যা তবে শর্ত সাপক্ষে আর বউদের অনুমতি নিয়ে আর তখনি যখন পুরুষের তুলনার নারী বেশী বা বা নারীদের রক্ষার\সহায়তার জন্যে কেহ নেই যেমন টা হয়েছিল ওহুদের যুদ্ধে যেখানে অনেক সাহাবী শহীদ হন আর তাদের স্ত্রীরা বিধবা হয়ে পড়েন, আর আজকাল যারা করছে তারা নিছক কোন কারন ছারাই করছে শুধু ইসলামটাকে ইউজ করছে নিজের জন্য। আর পৃথিবীতে এত মুসলমান দের মধ্য চারবিয়ে করা কয় জন পাবেন এর আনুপাতিক হার কত তা জানলে বুজবেন নিশ্চই। আপনার চার পাশেই দেখুন কতজন মুসলমান চার বিয়ে করেছে?

আর অনেকে আধুনিক সমাজের সমালোচনা করেও বলেন প্রতি রাতে বা উইকেন্ডে এক নারী কে ইউজ করা থেকে চার নারীকে সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে তাদের কে সামাজিক ও অথনৈতিক ভাবে টেক কেয়ার করার নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের কে বিয়ে করে বউ করাটা উত্তম নয় কি? [আমি কিন্তু একজন নিয়েই সন্তুস্ট]

2।নারী পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি পাবে: কোরআনের আগে কোনো ধর্মগ্রন্থে নারী-পুরুষকে সমান-সমান সম্পত্তি দেয়া তো দূরে থাক নারীকে আদৌ কোন সম্পত্তিই দেয়া হয়নি। এমনকি মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই তাদের নারীদেরকে পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তিও দেয় না। এই যখন বাস্তবতা তখন ‘অর্ধাংশ’ নিয়ে হৈ-চৈ করার তো কোনো মানে হয় না। দ্বিতীয়ত, সার্বিকভাবে সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে কোরআনে নারীকে কিছুটা কম সম্পত্তি দেয়ার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে (৪:৭, ৪:১১-১২, ৪:৭৬)। যেমন:

- কোরআনে নারী-পুরুষ উভয়কেই রোজগারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে (৪:৩২) অথচ পরিবারের সকল প্রকার ভরণপোষণের দায়িত্ব শুধু পুরুষের ঘাড়েই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে (৪:৩৪)। অর্থাৎ একজন নারী যা রোজগার করবে সেটা তার নিজস্ব কিন্তু পুরুষের রোজগার থেকে সংসারের সকল প্রকার খরচ বহন করতে হবে। নারীকে কি এখানে বিশেষ সুবিধা দেয়া হলো না? পরিবারের সকল প্রকার ভরণপোষণের ভার নারীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হলে গোঁড়া সমালোচকদের সারা জীবনের ঘুমই হয়ত হারাম হয়ে যেত!

এটা নিশ্চই খারাপ কিছু নয় কারন সে পিতা ও স্বামির কাছ থেকেও পাচ্ছে আর তার টেককেয়ার করার জন্য প্রথমে পিতা এবং পরে স্বামির দায়িত্ব সো তার সিকুইরিটি কম কোথাও হচ্ছেনা বলে মনেকরছি।

3। আল্লার পরে কেউ যদি এবাদতের দাবীদার হয় সে হবে স্বামী বা স্বামীর পায়ের নীচে স্ত্রীর বেহেস্ত - এটা একটি জাল হাদিস আসলটি হলো মায়ের পায়ের নীচে সন্তানের বেহেস্ত এবং কোরআনে অনেক আয়াত আছে যে আল্লাহর পড়ে পিতামাতার স্থান স্বামির নয় দেখুন কোরআনে বলে "তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদের সাথে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।" ১৭) সূরা বনী ইসরাঈল ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত ২৩.

4।নারীদের জন্য সব কালা আইন, নারীর রোম দেখলো পুরুষ- গুনাহ হোলো নারীর, পুরুষের লোলুপ চোখ নারীদেহের বিভিন্ন জায়গায় বিচরণ করলো-পাপ হোলো নারীর এর জন্য দেখুন:

"হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।যদি তোমরা গৃহে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।"-সুরা নূর এর আয়াত-২৭-২৮

সুরা নং ২৪ সূরা আন-নূর আয়াত নং ৩০ ই যথেস্ট:"মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।"

আর নারীদের জন্য আর হিজাবের সীমার ব্যাপারে বলা হয়েছে আয়াত-৩১ এ এইভাবে,

"ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।"

এখন দেখান হিজাব বলতে কোন জায়গায় বলা আছে নারীকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢাকতে হবে বা কোথায় বাহিরে যাবার জন্য বা কাজ করার জন্য নিষেধ করা হয়েছে আরো দেখেন

'' হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রী-গণকে, কন্যগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রী-গণকে বলুন, তারা যেনো চাদরের কিয়দংশ দিয়ে তাদেরকে ঢেকে রাখে; যেন তাদের চেনা সহজ হয়।'' -আল কোরআন। সুরা-৩১, আয়াত-৫৯।

বর্তমানে যে শুধুমাত্র সমস্ত মুখ ঢেকে বোরকা বা হিজাব পড়ে,তা কোরআনের ঐ আয়াতের সাথে কতোটুকু সামজস্য/মিল বিদ্যমান?

যারা নারীর পোশাকের দোষ দেয় তাদের জন্য কোরআনে আগে ছেলেদের কে সাবধান হতে বলা হয়েছে তার পর নারীদের পর্দার আয়াত সো আগে ছেলেদের দৃষ্টি নত রাখতে শিখান পরে মেয়েরা খালি গায়ে ঘুরলেও কেহ ধর্ষন করবেনা যদি সে প্রকৃত মুমিন হয়। কারন সে জানে -নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।

5। নারী শব্দটাই শাস্ত্রের কাছে একটি পাপবাচক শব্দ
"নারী অমংলজনক" প্রশ্নে কোরআনে আমার জানা মতে কোথাও নারীদের অমংগলজনক বলা হয়নি বরং কোরান মহিলাদেরও অন্তর্ভুক্ত করে এভাবে যেমন বিশ্বাসী মানুষ এবং বিশ্বাসী মহিলা - - সম্মানিত পুরুষ এবং সম্মানিত মহিলা।

The Quran declared: O’ Men & Women! You have a common origin. [4:1]হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী (৪) সূরা আন নিসা আয়াত নং ১

“… All of you, men and women, belong to the same single stock.” [49:13]হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন। (৪৯) সূরা আল হুজরাত আয়াত ১৩

The believers, both men and women, are colleagues one of another. [9:71]আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।(৯) সূরা আত তাওবাহ আয়াত নং ৭১

"Women have rights unto you as you have rights unto them." [2:187]তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।(২) সূরা আল বাক্বারাহ আয়াত ১৮৭

"Every person will be rewarded according to one's actions, male or female." [4:32]আর তোমরা আকাঙ্ক্ষা করো না এমন সব বিষয়ে যাতে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার অংশ। আর আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা কর।নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা সর্ব বিষয়ে জ্ঞাত। (৪) সূরা আন নিসা আয়াত ৩২

তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন। ১৭) সূরা বনী ইসরাঈল ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত ২৪

আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রেøর কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ। ৬) সূরা আল আন-আম ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত ১৫১

And the exalted Prophet taught: আর মহানবী আমাদের শিক্ষা দেন যে

- Paradise lies at the feet of your mothers: "মায়ের পায়ের নীচে বেহেস্ত"---Kashf al-Khafa', no. 1078; Al-Da'ifah, no. 593.

- The best among you is the one who is best to his wife.
তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম

- O’ Men! You will be questioned about your treatment of women. " হে মানুষ তোমাদের কে জিগ্গেস করা হবে তোমরা নারীদের প্রতি কেমন আচরক করতে সে বিষয়ে

The Prophet said, "Whoever believes in Allah and the Last Day should not hurt (trouble) his neighbor. And I advise you to take care of the women, for they are created from a rib and the most crooked portion of the rib is its upper part; if you try to straighten it, it will break, and if you leave it, it will remain crooked, so I urge you to take care of the women." (Sahih Bukhari, Volume 7, Book 62, Number 114)

একজনের কমেন্ট তুলে ধরছি একটি ইসলামি সাইট হতে :"Men must also have in mind that a woman has her rights within the boundary of Islam. Men have to know the best of ways to treat a women well. If he does not do his rights properly, he can't force her to the bed only to fulfill his lust taking those hadith for granted. He must also fear the dangerous torments that Allah has kept for him if he does anything unjust for her. The Prophet (saw) said once "the best of you (men) are those who are best to their wives". The husband can earn good names in the community or the the family, but it will not be worth in the sight of Allah if he does not earn a good name from his wife aswell. Same goes to women. Islam has kept all rules balanced to both husband and wives. For more about. Husband wife bonds, go to youtube and search half our deen by baba Ali and watch the whole series.

ফয়সাল হাসান
faysalhasan2001@yahoo.com

0 comments
Labels: , , ,

ইসলামের পথে জিহাদ করলে স্বর্গে অসংখ্য(৭২+) হুর গেলমান পাওয়া যাবে

ইসলামের পথে জিহাদ করলে স্বর্গে অসংখ্য(৭২+) হুর গেলমান পাওয়া যাবে, এ বিষয়ে.।

দেখুন পরিচ্ছন্ন সঙ্গিনীগণ / হুর প্রসংগে :কোরআনে হুরিস শব্দ চার বার ব্যবহার করা হয়েছে, যার অনুবাদে পরিবরর্তন হয়ে কালো চোখের, সুন্দর বক্ষ এবং উজ্জ্বল, যৌনাবেদন কুমারী মেয়ে হিসেবে পরিণত করা হয়, যদিও মূল আরবীতে সেখানে সুধুমাত্র একটি কথা: হুরিস। না সুন্দর বক্ষ না উজ্জ্বল, যৌবন কুমারী মেয়ে।

এখন এটি মনে হয় হতে পারে শুদ্ধ (পিওর) কিছু- যেমন ফেরেস্থা – অথবা গ্রীক করউস (Kouros or Kórē) এক অনন্ত যৌবন(পুরুষ/নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই) , কিন্তু সত্য হল কেউ জানিনা , এবং সেটাই মুল বিষয় কারন কোরআন একদম পরিষ্কার যখন বলে “ একটি নতুন তৈরি কৃত প্রজাতি, আবার তোমাদের তৈরি করা হবে যা সম্পর্কে তোমরা জানো না” যা মনে হয় আরো আবাদনময়ি কুমারী মেয়ে থেকে। (আপনি একবার চিন্তা করেন আপনি হয়তো ৭২ হুর বা ওদের মতে যুবতী মেয়ে নিয়ে খুশি থাকতে পারেন একবার ভাবুন এই একই বিষয়ে আপনার বৈ কি খুশি হবে, বা আপনার মা বা আপনার বাবাকে কি আপনি ৭২ যুবতীর সাথে দেখ খুশি হবেন? ইসলামে এমন খারপ ভাবে কখনো বলেনি বরং এখানে দেখুন :

As regards the word húr, it is a plural of ahwar (applied to a man) and of haurá’ (applied to a woman), signifying one having eyes characterized by the quality termed hawar, which means intense whiteness of the white of the eye and intense blackness of the black thereof.

The word ahwar (singular of húr) also signifies pure or clear intellect (Lane’s Lexicon). The other word, ‘ín, is plural of a‘yan (meaning a man wide in the eyes) and of ‘ainá’ (meaning a woman beautiful and wide in the eye). The latter word also signifies a good or beautiful word, or saying (Lane’s Lexicon). It may be noted that whiteness is also a symbol of perfect and unsullied purity, and hence the two words húr and ‘ín really stand for purity and beauty; and therefore, instead of white-eyed and large-eyed ones, I adopt the words pure and beautiful ones, as being more expressive of the true significance.

To realize the true significance of these words, two points must be borne in mind. The first is that paradise is a place for faithful women as well as for faithful men, and hence the Holy Quran often speaks of the faithful as being in paradise with their wives; see for instance 36:56, where the faithful are spoken of as sitting on thrones or raised couches with their wives, or 13:23 and 40:8, where they are spoken of as being in paradise along with their wives and offspring.

The second is that the blessings of paradise are alike for women and men, there being not the least difference in this respect between the two sexes. The question then is what is meant by húr ‘ín here. It has already been explained that the Holy Quran does not speak of any conjugal relations being maintained in a physical sense in the life to come. Moreover, it has been shown on various occasions that, where the blessings of paradise are spoken of, these are nothing but physical manifestations of the spiritual blessings which the doers of good enjoy in this life too. There are gardens, trees, rivers, milk, honey, fruits and numerous other blessings spoken of as being met with in paradise, but that all these are not things of this life has been shown more than once in these footnotes, and a saying of the Holy Prophet already quoted makes it clear that the blessings of paradise are not the things of this life) সুত্র http://www.muslim.org/islam/hur.htm

এবং অনেকে যে ৭২ জনয হুর সম্পকে বলে সেই নাম্বার ৭২ কখনো দেখা যায়নি কোরআনে ৭২ কুমারির ধারনা শুধু আসে ৩০০ বছর পরে।

যারা জান্নাতীদের খেদমত করবে, তারা তো ‘গিলমান’ এই বিষয়ে :

যেই আয়াত বলেছেন 52.24 সুরক্ষিত মোতিসদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘুরাফেরা করবে। 
এখানে এই কিশোরেরা হবে আমাদের সন্তানরা কারন দেখুন সুরা রাদ সুরা নং ১৩ আয়াত ২৩: তা হচ্ছে বসবাসের বাগান। তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে।

আরো দেখুন সুরা আত তূর সুরা নং ৫২ আয়াত নং: ২১ যারা ঈমানদার এবং যাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃত কর্মের জন্য দায়ী।) And their children like pearls, playful, happy around them. [13:23, 52:21, ]


স্বর্গ হচ্ছে তাঁর উলটো এটা কুমারী মেয়ে নয় এটা ফিকান্দিটি (The quality or power of producing abundantly; fruitfulness or fertility. Productive or creative power: fecundity of the mind) স্বর্গ হচ্ছে সবার সমঅধিকারের জায়গা, যা বিশাল, অফুরন্ত, স্বর্গ হচ্ছে বাগান যার মাঝে রয়েছে পানি প্রবাহিত ঝরনা ধারা চির শান্তির স্থান।

ফয়সাল হাসান
faysalhasan2001@yahoo.com 

0 comments