শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Showing posts with label Prayer/নামাজ. Show all posts
Showing posts with label Prayer/নামাজ. Show all posts
Labels: , , , ,

দোয়া-- সব কিছু চাওয়ার মাধ্যম

তারপর তিনি বলেন, "দা'ওয়াতাদ্‌দা'য়ী", এমন জোরাল শব্দ! তিনি বলেন "আমি", আচ্ছা প্রসঙ্গক্রমে বলি, "আমি" কখন ব্যবহার করা হয়? কখন বলেছিলাম? "আমি", "আমরা" আর "তিনি"। কখন "আমি" ব্যবহৃত হয়? খুব বেশি ভালবাসায়, অথবা খুব বেশি ক্রোধে? এখানে কোনটি? খুব বেশিই ভালাবাসায়! আমি সাড়া দেই, আমি নিজে সাড়া দেই, অবিলম্বে সাড়া দেই। কিন্তু কাকে তিনি সাড়া দেন? আপনি হয়তো ভাবতে পারেন আল্লাহ তাকেই সাড়া দেন যে প্রচুর দু'আ করে। বছরে ধরুন আমি একবারই দু'আ করি। যখন আপনার পরীক্ষা থাকে তখনঃ"ইয়া আল্লাহ! আমার পরীক্ষা আছে। আমীন।" অথবা লাল বাতি অতিক্রম করায় আপনি যখন পাঁচ হাজার রিয়ালের টিকেট পেতে যাচ্ছেন, তখন আপনার অবস্থা এরূপঃ "ইয়া আল্লাহ! আমার আর ক্যামেরায় দেখানো লাইসেন্সের মধ্যে একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে দিন, আমি যেন এসএমএসটি না পাই, আর যাই পাই এসএমএসটি ছাড়া"। তখন আপনার আল্লাহকে স্মরণ হয়।

'দু'আ' শব্দটি ব্যবহার করা হয় যখন কেউ প্রচুর পরিমাণে দু'আ করে। কিন্তু কেউ যদি একবার দু'আ করে, মাত্র একবার, তখন সেটিকে বলা হয় 'দা'ওয়াতুন'। দা'ওয়াহ-এর শেষে আছে "তা মারবুতা", এই তা মারবুতা যেটি মাসতার মাররায় ব্যবহৃত হয় সেটি সেইসব অ্যারাবিক শব্দগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেগুলো একবার করে হয়। যেমনঃ 'দারব' মানে আঘাত করা কিন্তু 'দারবাতুন' মানে একবার আঘাত করা। আবার 'আকাল' মানে খাদ্য কিন্তু 'আকলাতুন' মানে একবারের খাবার। এই তামার মুতা তাকে 'একবার' করে দেয়। আল্লাহ বলেন, "দা'ওয়াতাদ্‌দা'য়ী", আমি একটি ডাকেও সাড়া দেই। সেই মানুষটি মাত্র কয়বার দু'আ করেছে? একবার। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করেন না, কোথায় ছিলে তুমি সারা বছর? কখনো কোন নামাযে আসোনি অথচ পুরো জীবনে কিনা একবার মাত্র দু'আ করলে আমার কাছে? ভুলে যাব তোমাকে। তুমি কিনা একবারই আমাকে স্মরণ করলে! ধরেন আপনি একজন চাকুরীজীবী। 


গোটা বছরে আপনি মাত্র একবার কাজে উপস্থিত হলেন। আপনার চাকরিটা থাকবে না! বস বলবেন, "আপনি কে?" "আমি এখানে কাজ করি"। "কখন?" "আমি গত বছর এই চাকরি পেয়েছি"। "এখানে কি করছেন?" "অ্যা, আমি জানি না কিন্তু এখন তো অন্তত এসেছি। আমরা কি আবার সব শুরু করতে পারি?" আপনার বস কি বলবেন, "অবশ্যই, এক্ষুনি স্যার! প্লিজ! আপনাকে একটি প্রোমোশন দেই না কেন!" না। তিনি আপনাকে সেই অফার দিবেন না। আল্লাহ আপনাকে দিচ্ছেন। 'দা'ওয়াহ' শব্দে, তিনি বলছেন, আমি তার আহ্বানেও সাড়া দিব যে কখনো দু'আ করেনি, মাত্র একবারই দু'আ করেছে। তাদেরও বলা উচিত, ইয়া আল্লাহ। তিনি জবাব দিবেন। নিজেকে বলবেন না, 'আহ! আমার তো দাড়িও নেই, কেবল গোঁফ রয়েছে, আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করবেন না'।

আল্লাহ করবেন। অথবা রামাদানে মুভি দেখতে পারব না, তাই আগে থেকেই তিনটির মত মুভি দেখে ফেলেছি। এখন আমি দু'আ করব? আল্লাহ তারপরও সাড়া দিবেন আপনার ডাকে। এটা শুনে আবার কেউ মুভি দেখতে যাবেন না। কখনও মনে করবেন না যে আল্লাহ আপনার দু'আয় সাড়া দিবেন না। যে কিনা একটিও দু'আ করে, আল্লাহ তার ডাকেও সাড়া দেন। এবার আপনি বলতে পারেন, আচ্ছা, লোকটি একটি দু'আই করেছে কিন্তু হতে পারে যে সে একজন খুব ভাল মানুষ। হতে পারে সে একজন সালেহ, একজন মু'মিন, হতে পারে তার অনেক তাক্বওয়া আছে কিংবা তার ইলম বেশি। এও হতে পারে যে সে তওবা করেছে। 'উজিবুদ্‌ দা'ওয়াত্‌তায়িবি', আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই যে তওবা করে। আল্লাহ তা বলেননি। তিনি বলেছেন, আমি সেই মানুষটিকে সাড়া দেই, 'দা'ওয়া', তার একটি দু'আতেই সাড়া দেই, 'আদ-দা'আ', যে ডেকেছে। এই মানুষটির উদাহারণ কীরূপ? সে কি করেছে? সে ডেকেছে। অন্যকথায়, আল্লাহ কি তার কাছ থেকে অন্য কোন গুণ আশা করেছেন? তিনি কি বলেছেন, দা'ওয়াতুল মুসল্লি? দা'ওয়াতুল মুত্তাক্বি? দা'ওয়াতুল মু'মিন? না! তিনি বলেননি যে আপনার তাক্ব্ওয়া থাকতে হবে, আপনার ইমান থাকতে হবে, বলেননি আপনার ইলম থাকতে হবে। এই দু'আয় বলেননি। কেন? 


কারণ, আল্লাহ এখানে সেইসব মানুষের সাথে কথা বলছেন যারা আল্লাহ-এর থেকে বহু দূরে চলে গেছে। এবং তিনি প্রথমেই তাদের বলছেন যে, দেখো আমি কাছেই, তুমি দূরে, আমি তোমার নিকটেই। এরপর তিনি তাদের বলেন, দেখো আমি জানি এই একটি দু'আ ছাড়া তোমাদের কাছে এই মুহুর্তে আর কিছুই নেই। ঠিক আছে। দাও, আমাকে এই একটি দু'আই দাও। যদিও তুমি একজন দা'আ, শুধুই একজন আহ্বানকারী। তোমার জন্য আমার কাছে আর কোন বিবরণ নেই। আমি তোমাকে এখনো পর্যন্ত একজন সালেহ ডাকতে পারি না, মুসলিম ডাকতে পারি না, মু'মিন ডাকতে পারি না। আমি তোমাকে কিছুই ডাকতে পারি না। আমি শুধু তোমাকে ডাকছি একজন দা'আ, একজন আহ্বানকারী। সেটি কোন যোগ্যতাই নয়। শুধু তাই। তাই যথেষ্ট।শুধু আমাকে ডাকো। সুবানাল্লাহ!

আল্লাহ এর পক্ষ থেকে কত বড় একটি আমন্ত্রণ! আর এগোনোর আগে বলে রাখি, আমি বলেছিলাম, কখনো একজন বসের ৫০০ জন কর্মচারী থাকে। সে কি তাদের সকলের নাম জানে? না। বিশেষ করে সেই কর্মচারীকে যে তাকে পুরো জীবনে মাত্র কয়টি ই-মেইল পাঠিয়েছে? একটি ই-মেইল। কিভাবে সে তাকে মনে রাখবে? কর্মচারীটি যদি তাকে টেক্সট মেসেজ পাঠায়, তার তো ওর নাম সেইভ করা নেই। সে জানবে না নাম্বারটি কোথা থেকে এসেছে। আল্লাহ বলেননি, 'উজিবুদ্‌ দা'ওয়াতাদ্‌ দা'য়িন' তিনি বলেছেন, 'উজিবুদ্‌ দা'ওয়াতা আদ দা'য়ি'। এই শব্দটির মধ্যে থাকা আলিফ লাম, তাকে মা'রিফা বানিয়ে দেয়। অর্থাৎ,যথাযথ এবং নির্দিষ্ট করে দেয়। অন্যভাবে বলা যায়, যে কেউ আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ বলেননা যে কোন একজন শুধুই ডেকেছে। তিনি বলেন সেইজন আমাকে ডেকেছে, সেই নির্দিষ্ট মানুষটি। আপনি আল্লাহ এর কাছে নির্দিষ্ট। তিনি আপনাকে বিশেষভাবে, ব্যক্তিগতভাবে চিনেন। 


কোন ডাক্তার আপনার নাম মনে রাখতে পারবে না যদি তাকে দিনে ১০০টি রোগী দেখতে হয়। সে আপনার নাম জানবে না। সে এভাবে বলে চেষ্টা করবে, "মুহাম্মাদ, কেমন আছ? চলে এস।" হাহাহা। সবাই মুহাম্মাদ, অন্তত সম্ভাবনা তো রয়েছে। সে আপনাকে নামে চিনতে পারবে না, আপনি জানেন। আমি মানুষের সাথে মিশি, ওয়াল্লাহি, আমি তাদের সাথে মিশি। তখন আমি বোল্টামোরে ছিলাম। একজন বয়স্ক ব্যক্তি আমার কাছে এলেন। বললেন, "বেটা কেমন আছ? আমার মনে পড়ে,তুমি যখন খুব ছোট ছিলে, তখন মসজিদের ভিতর ছোটাছুটি করতে।" আমি তখন মনে মনে ভাবছি, হায় আমি তো টেক্সাস থেকে। কিন্তু মুখে বললাম, "জ্বী, আমারও মনে আছে।" আমি কথা চালিয়ে গেলাম। হাহাহা। তার আসলে মনে নাই। মানুষ মনে রাখে না। আল্লাহ আয্‌ওয়াজ্জাল নির্দিষ্টরূপে পর্যন্ত চিনেন।

 আপনি হয়তো বলবেন, কোম্পানির সি.ই.ও কিভাবে আমার নাম জানবে। আমি তো শুধুই একজন নিরাপত্তাকর্মী। তার অবস্থান কত উঁচুতে আর আমি কত নিচু পর্যায়ে। কিভাবে সে আমার নাম জানবে? কিভাবে একজন প্রেসিডেন্ট তার দেশের একজন অধিবাসীকে চিনবে? কিভাবে সেটি সম্ভব! আপনারা সবাই যদি আমার কাছে এসে নিজেদের নাম বলেন, আমার কি মনে থাকবে? আমি জানি না। আমি জানি না। এখানে কারো কাছে যদি আমার ফোন নাম্বার থাকে,(প্লিজ আমার ফোন নাম্বার নিবেন না), কিন্তু যদি থেকে থাকে আর আপনি যদি আমাকে একটি এস.এম.এস পাঠান। আমার কাছে তো আপনার নাম্বারটি সেইভ করা নেই। আমি কি জানবো কে এটি পাঠিয়েছে? আমি জানব না কে পাঠিয়েছে। আমার কাছে শুধু একটি নামার রয়েছে। কোন নাম নেই। আমার কাছে কিছুই নেই। যখন আপনি আল্লাহকে ডাকেন, আল্লাহ বিশেষভাবে জানেন যে এক্স্যাক্টলি আপনি কে। এবং তিনি তৎক্ষণাৎ আপনাকে সাড়া দিতে চান। তিনি আপনার সাথে তখনই নতুন সম্পর্ক শুরু করতে চান। গতকাল যা হয়েছে, তা হয়ে গেছে। আজ থেকে শুরু করুন। আপনি আজই মুসলিম হয়ে উঠুন।

আজ থেকেই আল্লাহকে ডাকতে থাকুন। 'উজিবুদ দা'ওয়াতাদ্‌দা'য়ি।' এবার, যে প্রশ্নটি আপনাদের আগে করেছিলাম, যে প্রবলেমটি আপনাদের দিয়েছিলাম, সেটা ছিল যে ধরুন আপনি একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সাথে দেখা করতে চান। সেটি কার শিডিউলে হয়? আপনার না গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির? গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির শিডিউলে। শিক্ষা মন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চাইলে আপনি তার মন্ত্রণালয়ে হেঁটে গিয়ে তাকে বলবেন না যে "এহ, চলুন, আপনার সাথে আমার এক মিনিট কথা আছে।" আমি ডিসিতে গিয়ে বলব না যে ওবামার সাথে আমার পিজা স্লাইস খাওয়া প্রয়োজন। আপনি এমনি এমনি প্রেসিডেন্টের কাছে যেতে পারবেন না। আমিও পারব না। আপনি যদি একজন কর্মচারী হন যেমন কেউ যদি আগে মাইক্রোসফটে কাজ করত যখন বিল গেইটস সেখানে ছিলেন। আপনি বলবেন না, "হেই বিল, আমার সাথে পিজা খাবে?" আপনি সেটা করবেন না। আপনার জন্য তার সময় নেই। আল্লাহকে ডাকার ভাল সময় কোনটি? মানুষ বলে কোন সময়টি আল্লাহ এর কাছে দু'আ করার জন্যে উত্তম। মানুষ তাই বলে। আর অবশ্যই আমরা রামাদান নিয়ে কথা বলছি। সে যাই হোক, তিনি কি বলেন এই ব্যপারে। তিনি বলেন, 'উজিবুদ দা'ওয়াতাদ্‌দা'য়ি ইযা' যে কোন সময়ে। যে কোন সময়, দা'আনি, যখনই সে ডেকেছে। যখনই তুমি আমাকে ডাকবে, তখনই আমি তোমাকে সাড়া দিব। সকালে ডাকো, আমি সাড়া দিব। অপরাহ্নে ডাকো, আমি সাড়া দিব। ঘুমোতে যাবার আগে ডাকো, আমি সাড়া দিব।

সুবানাল্লাহ! এটি সম্পূর্ণ আয়াত নয়। এটি আয়াতের প্রথম অংশ। আমি তোমাকে সাড়া দিব যখনই তুমি আমাকে ডাকবে। এটি আল্লাহ এর আহ্বান। এটা কিভাবে হয় যে আমরা এই আহ্বানকে উপেক্ষা করে যাই? কিভাবে একজন মানুষ আল্লাহের বাণী শুনেও দু'আ না করে থাকতে পারে? আমি বুঝতে পারি না। তারপর তিনি বলেন, এতক্ষণে আমি তোমাকে আহ্বান করলাম। আমার আহ্বান হল, আমি তোমার কাছেই আছি, আমি যেকোন সময় তোমার ডাক শুনতে প্রস্তুত, যদিও তুমি একবার দু'আ কর, তারপরও আমি তোমার কথা শুনব। দু'আ ছাড়া তোমার আর কোন ইসলামিক গুণ না থাকলেও আমি তা শুনব। তবে তোমার কি করা উচিৎ? আল্লাহ আপনার জন্যে এতসব করছেন। আপনি তাঁর জন্যে কি করবেন? তিনি বলেন 'ফাল ইয়াসতাজিবুলি'। অন্যান্য শব্দের ছিল আজাবা আর ইসতিজা, মনে আছে? ইসতিজাবা মানেও হল উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা। কেউ আমাকে বলল, "ভাই, আপনার সাথে লাঞ্চ করতে চাই।" আমি বলব, "আমি সময় বের করার চেষ্টা করব। আমি জানি না আমি এইটা পারব কিনা। তবে আমি চেষ্টা করব।" চেষ্টা করা মানে, হয়ত আপনি সফল হবেন, অথবা হয়তো বিফলতা লাভ করবেন।

আল্লাহ বলেন 'ফাল ইয়াসতাজিবুলি', তাদের অন্তত আমাকে সাড়া দেয়া উচিত। তোমরা আমার কাছে কিছু জিনিষ চাইছ, আল্লাহ বলেন। তোমরা আমার কাছে ভাল চাকরি চাইছ, স্বাস্থ্য কামনা করছ, তোমাদের সন্তানদের নিরাপদে রাখতে বলছ, তোমাদের বাবা মায়ের জন্যে আমার কাছে চাইছ, একটি বাড়ি চাইছ। তোমরা আমার কাছে সবকিছু চাইছ, আমিও তোমাদের কাছে কিছু আশা করছি। আমি তোমাদের কাছে কি চাইছি? 'ফাল ইয়াসতাজিবুলি', তাদের উচিত আমার ডাকে সাড়া দেয়া। তাদের উচিত আমাকে সাড়া দেয়া। এখন ব্যপারটি হল, ফাতিহায়, সুরাতুল ফাতিহায়, আমরা আল্লাহ এর কাছ কি চাই? কেউ জানেন? আমরা চাই পথপ্রদর্শন। কিন্তু আল্লাহ আমাদের কাছে কি চান? ইবাদাহ। 'ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতা'য়িন'। 'নাসতা'য়িন' মানে আমরা সাহায্য চাই। কিন্তু আল্লাহের কাছে কিছু চাইবার আগে, আমরা আল্লাহকে বলি যে আমরা তাঁর জন্যে কি করব। আমরা তাঁর জন্যে কি করব? 'ইয়্যাকা না'বুদু'। তিনি আমাদের জন্যে কি করবেন? 'ইস্‌তি'আনা ' তিনি আমাদের সাহায্য করবেন। তাহলে আপনি আল্লাহের জন্যে কি করবেন সেটি প্রথমে আসা উচিত। আর দ্বিতীয়ত আসবে আপনি নিজের জন্যে যা চান।


 কিন্তু রামাদানের এই সকল আয়াতে, তিনি বলেন, আমি তোমাকে সাড়া দিব যখনই তুমি আমাকে ডাকবে। এরপর তিনি বলেন , তোমার উচিত আমাকে সাড়া দেয়া। তিনি বলেননি, আমাকে সাড়া দিলে পরে আমি তোমাকে সাড়া দিব। সুবাহানাল্লাহ! এমন কি তিনি নিজেকে দ্বিতীয় পজিশনে রেখেছেন! এবং এই আয়াতে প্রথমে রেখেছেন আপনাকে আর আমাকে। তিনি নিজেকে দ্বিতীয় পজিশনে রেখেছেন। 'ফাল ইয়াসতাজিবুলি ওয়া ইউ'মিনুবি' তাদের উচিত আমার প্রতি সাড়া দেয়া, খাঁটি ঈমান আনা। আমাকে প্রকৃতরুপে বিশ্বাস করা তাদের উচিত।'লা'আল্লাহুম ইয়াসহুদুন'(?) যাতে তারা সরল পথে পরিচালিত হতে পারে। যাতে তারা ভাল মানুষ হতে পারে। তারা যেন নিজেদের বদলে নিতে পারে। সুবাহানাল্লাহ! রামাদানের এই কিছু আয়াত রূপান্তরে ভূমিকা রাখে, একেবারে বদলে দেয় এই মাস সম্পর্কে আপনি যেভাবে ভাবতেন। আমরা যদি এই কয়েকটি আয়াতই শুধু অনুধাবন করি, এদের প্রতিফলন ঘটাই, তবে কোর'আনের সাথে, দু'আর সাথে, আল্লাহ-এর সাথে, আপনার যে সম্পর্ক তৈরী হবে, তা রামাদান পরবর্তীকালীন সময়ের জন্যেও সম্পন্ন হয়ে যাবে। এই সকল জিনিষ আপনাকে অন্তরে গেঁথে নিতে হবে।


ইউটিউব লিংকঃ http://youtu.be/zhuXilGRG5M

0 comments
Labels: , , , , ,

নারীদের ঘরে নামায পড়ার হাদিসটির ব্যাখ্যা

●|● নারীদের ঘরে নামায পড়ার হাদিসটির ব্যাখ্যা ●|●

আপনারা জানেন, ধর্ম তাদের কাছে বেশ কঠোর। আমার অনেক ছাত্র/ছাত্রীরা আমার কাছে দ্বীন শিখতে আসেন। আরবি শিখতে আসেন। শায়খ আব্দুল নাসের এর কাছ থেকে ইসলামিক শরীয়াহ শিখতে আসেন। সারা আমেরিকা থেকে তারা টেক্সাসে আসেন। যখন আমি তাদেরকে শিখাই এবং তারা কিছু শিখেন, তারা বলে্ন, অনেক বোনই আছেন যারা হিজাব পরেন এবং শিক্ষার জন্য নানা জায়গায় ঘুড়ে বেড়ান। তারা কুর'আন মুখস্ত করেন। উস্তাদ, একটা হাদিস আছে যেটা আমাকে খুব কষ্ট দেয়। এটি বলতে আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, এটাকে অন্যও বলতে পারছি না। এটি আমাকে অত্যন্ত কষ্ট দিচ্ছে। আমি বললাম, বলুন আমাকে।

যখন তিনি আমাকে হাদিসটি বললেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এটি আপনি কার কাছে শুনেছেন? কারণ, এটি কোন সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিস নয়। এটি কোন সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়াতও নয়। যে ব্যক্তি এটি ব্যাখ্যা করেছেন তিনি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা শিখাচ্ছেন। যে ব্যক্তির নিজের মধ্যে সামঞ্জস্যতা নেই, তিনি পুরো ধর্মকে একটি কলুষিত উপায়ে বর্ণনা করছেন শুধুমাত্র তার নিজস্ব মনস্তাত্ত্বিক সমস্যার কারনে। আর এর ফলে যা হয়েছে তা হল, ইসলামের এই পুরো প্রজন্মকে ইসলামের পথ থেকে ভীতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

যদি আপনার নিজের মধ্যে সামঞ্জস্যতা না থাকে, তখন ধর্মের মধ্যে সামঞ্জস্যতা আনার চেষ্টা করা মানে তারা ধর্মের মধ্যে তিক্ততা দেখতে পান। তারা দেখেন মানুষ ধর্ম থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

উমাইমা (রাঃ) এর বর্ণিত যে হাদিসটি আছে, তিনি রাসূল (সঃ) এর কাছে এসে অভিযোগ করেছিলেন আসলে এটি একটি বিখ্যাত হাদিস। আমি আপনাদেরকে এর একটি অংশ বলছি। আসলে আমি শায়খ আব্দুল্লাহ আতহামীর সাথে এই হাদিসটি নিয়ে বসেছিলাম যিনি এখানেই আছেন। তিনি আমার কাছে এটি বিষদভাবে বর্ণনা করেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম যে, আপনাকে আমাদের ক্যাম্পাসে আসতে হবে এবং আমাদের ছাত্র/ছাত্রীদেরকে এটি বুঝিয়ে বলতে হবে। তিনি কোথাও যেতে পারেন না। কাজেই আপনারা খুব ভাগ্যবান, তিনি কোথাও যেতে পারেন না। কারণ তিনি এখন এখানেই আছেন, আপনারা সত্যিই খুবই ভাগ্যবান।

যাই হোক, আমি এই হাদিসটি সম্পর্কে বলছিলাম।

এই হাদিসটি আমাদেরকে বলে যে, মহিলাদের উচিত বাড়ির একেবারে ভেতরের অংশে নামাজ আদায় করে। এবং এই হাদিসটি দিয়েই ফাতোয়া দেয়া হয় যে, মহিলাদের মসজিদে নামাজ পড়তে আসা উচিত না। তাদের নামাজ পড়া উচিত একেবারে বাড়ির ভেতরে।

পুরো হাদিসটি সম্পর্কে পড়াশোনা করার পর প্রথমত, আরও হাদিস আছে। আরও যে হাদিস আছে, সেটিতে মহিলারা রাসূল (সঃ) এর কাছে এসে অভিযোগ করেছিলেন যে, আমরা সালাতুল ফজরের জন্য মসজিদে আসি। তারা কোথা থেকে আসতেন? বাসা থেকে আল মসজিদে নববী তারা সালাতুল ফজরের জন্য আসতেন। কিন্তু আমাদের রাস্তায় নর্দমা/খাল পড়ে। তাই আমাদের কাপড় উঠিয়ে এটি পার হতে হয়। আমরা কি বাড়ীতে নামাজ পড়তে পারি? তিনি বলেছিলেন, না। বাকি পথ আসতে আসতে তোমাদের কাপড় থেকে তা ধুয়ে যাবে। তোমাদেরকে তারপরেও আসতে হবে। এবং সেটি ছিল সালাতুল ফজর। মহিলাদের হাঁটু পানি পার হয়ে মসজিদে যেতে হোত। আপনারা কেউ তো এটির উল্লেখ করেন না!

প্রসঙ্গক্রমে উমাইমা (রাঃ) এর গল্পে ফিরে যাই। এই মহিলা যাকে রাসূল (সঃ) বাড়ির একেবারে ভেতরে জায়গায় নামাজ পড়তে বলেছিলেন। যদিও তিনি মসজিদে নামাজ পড়তে চাইতেন। যখন আপনারা পুরো গল্পটি পড়বেন তখন আপনারা অনেক মজার ব্যাপার খুঁজে পাবেন গল্পটিতে। তার বৈবাহিক সম্পর্কে কিছু সমস্যা ছিল। তার স্বামী তাকে খুবই খুবই হিংসা করতেন। তার ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত রক্ষণমূলক ছিলেন তিনি। উমাইমা (রাঃ) যখন নামাজ পড়তেন তখন তাঁর স্বামী তাঁকে বিরক্ত করতেন।

হ্যাঁ। রাসূল (সঃ) তাঁকে বললেন, কেননা উমাইমা (রাঃ) রাসূল (সঃ) এর কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, আমার স্বামী আমাকে নামাজ পড়ার সময় বিরক্ত করে। রাসূল (সঃ) তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি এটা কেন করছো? উত্তরে তার স্বামী বললেন, আমার স্ত্রী আমার সূরাগুলো চুরি করেছে! অন্যভাবে, তিনি যখন নামাজ পড়তেন তখন তার স্ত্রী তার কুর'আন তিলাওয়াত শুনে তা মুখস্ত করতেন। তিনি যখন এই মুখস্ত করা কুর'আনের আয়াতগুলো তিলাওয়াত করে নামাজ পড়া শুরু করলেন নিজে নিজে তখন তার স্বামী বললেন, সে নিজেই নামাজ পড়তে শুরু করেছে। আমি আর তার ইমামতী করতে পারছি না!

আসলে উমাইমা (রাঃ) যখন নিজে নিজে নামাজ পড়তে শুরু করেছিলেন, তখন তার স্বামী সেটিকে সহজভাবে নিতে পারেননি। সে নামাজে তাকে বিরক্ত করতেন। এরপর যখন উমাইমা (রাঃ) মসজিদে আসতেন, তখন সে অত্যন্ত রাগান্বিত হত। তিনি তার স্ত্রীর প্রতি এতোটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে, তিনি তাকে ছেড়ে কয়েক মিনিটও থাকতে পারতেন না। ব্যাপারটি হচ্ছে যখন উমাইমা (রাঃ) মসজিদে নামাজ পড়তেন, কাজেই রাসূল (সঃ) উমাইমা (রাঃ) কে বলেছিলেন, দেখো! সবার আগে তোমার উচিত তোমার বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষা করা। তোমাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এই মুহূর্তে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। কাজেই তোমার উচিত বাড়িতে বেশি সময় ব্যয় করা। তোমার জন্য ভালো হবে যদি তুমি মসজিদে না আসো। প্রসঙ্গক্রমে, যেন সে তোমাকে বিরক্ত করতে না পারে, বাড়ির একেবারে ভেতরের স্থানে নামাজ পড়ো। যেন নিদেনপক্ষে তুমি শান্তি সহকারে নামাজ আদায় করতে পার। কারণ সে তোমাকে পাগল করে ছাড়ছে।

এখন আপনি যদি পেছনের ঘটনা না জানেন আর বলেন, মহিলাদের উচিত বাড়ির ভেতরে নামাজ আদায় করা। যদি কারও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা থাকে মহিলাদের প্রতি, যখন সে বিয়ে করে এবং তার স্ত্রীকে এই হাদিসটি দেখায় কারণ সে বাড়ির ভেতরের অংশে নামাজ পড়েনি! তার কাছে দলিল আছে। তার কাছে প্রমাণ আছে। অথচ সামঞ্জস্যতা নেই!

এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আপনারা দেখেছেন, ব্যাপারটি মজার কিন্তু দুঃখজনকও! মানুষের জীবন দ্বীনের নামে তিক্তকর হয়ে যাচ্ছে! যে দ্বীন কিনা দুঃখ দূর করার জন্য এসেছে। এই দ্বীন যে কোন বিষয়ে মানুষকে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন লাভের শিক্ষা দেয়।

ভিডিওটির ইউটিউব লিঙ্কঃ https://youtu.be/WfHaldTQPkY

0 comments
Labels: , , ,

নামাজের পূর্বে সুন্দর পোশাক পরিধান করুন

●|● নামাজের পূর্বে সুন্দর পোশাক পরিধান করুন ●|●
আল্লাহ্‌ বলেন, “ইয়া বানী আদাম, খুজু ঝিনাতা ইনদা কুল্লি মাসজিদ”।
নামাজের পূর্বে যেকোনো স্থানে তুমি তোমার পোশাকের প্রতি যত্নবান হও, তোমার সৌন্দর্যের প্রতি মনোনিবেশ করো। আমার সামনে দাঁড়াবার পূর্বে নিজেকে প্রশংসনীয় রূপে উপস্থাপন করো। নামাজের পূর্বে সুন্দর পোশাক পরিধান করো। বিছানার পরিহিত পোশাক পড়ে ফজর নামাজ আদায় করতে এসো না। সুন্দর পোশাকের ব্যাপারে যত্নশীল হও।

আচ্ছা মনে করুন, আপনার অফিসের সিইও এর সাথে, অথবা আপনার ভার্সিটির ডীনের সাথে অথবা ইমিগ্রেশন অফিসারের সাথে দেখা করতে গেলে কি আপনি ময়লা পোশাক পড়ে যাবেন? বরং আপনার সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পড়েই তাদের সাথে দেখা করতে যাবেন। তাহলে আল্লাহ্‌র সামনে আপনি এইভাবে কেন দাঁড়াচ্ছেন? আল্লাহ্‌র সামনে সুন্দর ভাবে দাঁড়ানোর ব্যাপারে যত্নশীল হোন। বলুনতো কেন এটা এতো গুরুত্বপূর্ণ? আপনি যখন সালাতের জন্য আপনার কাপড় ইস্ত্রি করবেন মনে রাখবেন আপনি সালাতের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করছেন।

 যখন আপনি আপনার পছন্দের পোশাক নির্বাচন করছেন আপনি সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মানুষ সাধারনত পার্টিতে গেলে সুন্দর পোশাক পরিধান করে, তাইনা? কিন্তু কেন? কারণ তার আশেপাশের লোকগুলো তার দিকে বারবার তাকাবে, হয়তো দুই একটা ছবিও তুলে ফেলতে পারে। কিন্তু যদি তাকানোর মতো কেউ না থাকে আপনি কি সেজেগুজে থাকবেন? পার্টিতে কেউ নিজেকে জবুথবু রূপে উপস্থাপন করে না অথবা করতে চায় না। এটাই সত্যি কথা।

আমার একটা ছাত্র ছিল যে কাপড় ইস্ত্রি না করেই ক্লাসে চলে আসতো। তার বাবা একদিন বাঁধা দিয়ে বললেন, হয় নিজের কাপড় ইস্ত্রি করে পরিধান করো, নয়তো ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করো। আমরা যখন সুন্দর পোশাক পড়ি আমরা আশেপাশের মানুষের রুচির কথা খেয়াল রেখেই পোশাক পড়ি। তাহলে আপনি যদি সালাতের জন্য উত্তম পোশাক পরিধান করেন আপনার সচেতন মন স্বাভাবিক ভাবেই আল্লাহ্‌র দিকে নিজেকে রজ্জু করবে কারণ আপনি জানেন আল্লাহ্‌ আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন। এই সামান্য কাজটা আপনার সালাতে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে। আল্লাহ্‌ তার বান্দাদের সালাতে মনোযোগ বাড়ানোর উপায় বাতলে দিচ্ছেন।

মানুষ প্রায় বলে আমি কিভাবে সালাতে মনোযোগী হবো? সালাতে কিভাবে ধৈর্যশীল থাকা যায় বলতে পারেন? আমি কিভাবে তার পরিপূর্ণ উপস্থিতি বুঝতে পারবো? আল্লাহ্‌ তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, সুন্দর পোশাক পড়ে সালাতের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আসো।

তাহলে আমাদের প্রথম প্রথম কাজ হল নিজেকে উত্তম পোশাক দ্বারা আবৃত করা। আপনি যদি মনে করেন আল্লাহ্‌র সামনে সবচেয়ে উত্তম পোশাক পড়ে হাজির হয়েছেন তাহলে বুঝে নিন অন্য যেকোনো জায়গায় আপনার জন্য এই পোশাকটি সবচেয়ে উত্তম পোশাক। যে সকল বোন হিজাবের সঠিক দিক নির্দেশনা জেনেও হিজাব পালন করেনা তারাও যখন মসজিদে সালাত আদায় করতে যায় সঠিক ভাবে হিজাব পালন করেই যায়। তারা জানে তারা ঐ মুহূর্তে আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়। ছেলেদের ক্ষেত্রেও একি কথা প্রযোজ্য। আচ্ছা প্রতিদিন আমরা কয়বার সালাত আদায় করি? পাঁচ বার। তাই যখন আপনি সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে পারবেন আপনাকে সত্যি আল্লাহ্‌র কাছে সুন্দর লাগছে তখন বুঝে নিবেন আপনার এই পোশাকটি অন্য লোকদের কাছেও গ্রহণীয় হবে।

এমন যেন না হয় সালাতের জন্য জবুথবু পোশাক পড়লেন আর অন্য জায়গায় সুন্দর পোশাক পড়ে গেলেন। তাহলে মনে রাখবেন আপনি সালাতের সঠিক ড্রেস কোড অনুসরণ করলেন না। ঠিক যে মুহূর্তে আপনি পোশাকের ব্যাপারে সাবধান হবেন, নিজেকে সুন্দর করে আল্লাহ্‌র কাছে প্রকাশ করবেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আপনি পোশাকের হালাল হারামের বিতর্ক থেকে বেঁচে গেলেন কারণ এ বিতর্ক আপনার জন্য অর্থহীন। আর পোশাকের ব্যাপারে আপনি যদি যত্নশীল থাকেন তাহলে আপনি সত্যিকার অর্থেই নিজের সালাতকে সৌন্দর্যমন্দিত করলেন।

0 comments
Labels: , , , ,

সালাতে খুশু - একটি সহজ ও কার্যকরী নসীহা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

[উস্তাদ নুমান আলী খানের লেকচার অবলম্বনে অনুবাদ]

আপনি যদি কোন ভিআইপি কারো সাথে দেখা করতে যান, তখন সর্বাপেক্ষা উত্তম পোশাক পরিধান করেন, কোন গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ গেলে উত্তম পোশাক পরেন, কোন অনুষ্ঠানে গেলেও উত্তম পোশাক পরেন। সালাতে কার সাথে দেখা করতে যান আপনি ভাবতে পারেন? আপনার রবের সাথে দেখা করতে যান, তাঁর সাথে কথা বলতে যান, তাঁর সাথে আপনার কথোপকথন হয়। তাহলে সালাতে কেন ভালো ও উত্তম পোশাক পরিধান করেন না? এটা কি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না?

আপনিই তো বলেন যে সালাতে মন ধরে রাখতে পারি না, সালাতে ও সালাতের বাইরে খুশু (একাগ্রতা, নিমগ্নতা, ভয়) আসে না। দেখুন আল্লাহ কীভাবে বলেছেন সালাতের ব্যাপারেঃ

“হে আদম সন্তান, প্রত্যেক মাসজিদে (সালাত ও সালাতের সময়) সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহন করো।” (সূরা আরাফঃ ৩১)

খুশুর মাধ্যমে আপনার মধ্যে প্রশান্তি ও একাগ্রতার একটা বীজ এই পোশাকেই নিহিত রয়েছে। কীভাবে?

আপনি যখন একটি বিশেষ পোশাক পরিধান করবেন একজন বিশেষ কারো জন্য, তখন নিশ্চয়ই আপনার মন এই পোশাকের সাথে সেই বিশেষ কারো জন্যই নিমগ্ন থাকবে। তাহলে আপনি যখন পৃথিবীর কারো জন্য নয়, একমাত্র আল্লাহর জন্য একটি বিশেষ পোশাক পরিধান করবেন তখন কি অন্যদিকে আপনার মন চলে যেতে পারে? না, পারে না। কারণ এই পোশাক পরিধানের একটাই লক্ষ্য, সেই লক্ষ্যের দিকেই আপনার মন একাগ্রভাবে নিমগ্ন। এভাবে সালাতের ভেতরে একাগ্রতা ও নিমগ্নতা আনতে পারেন। তাহলে চিন্তা করে দেখুন আল্লাহ কেন সালাতে উত্তম পোশাক পরিধান করতে বলেছেন, তাঁর সাথে প্রশান্তির অনুভূতি জাগানোর জন্য, তাঁর সাথে উত্তম কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশান্তি অর্জনের জন্য।

আরেকটি বিষয় হল আমরা সালাতের বাইরেও এই খুশু পাই না, আল্লাহর ভয় কাজ করে না; কারণ এই সালাতের ভেতরেই রয়েছে। সালাত যেহেতু যাবতীয় মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, আর যদি না রাখে তবে নিশ্চয়ই আমার সালাতে সমস্যা আছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? কেন আমি আমার চক্ষুকে খুশুর মাধ্যমে সালাতের বাইরে অবনত করতে পারি না?

এখানেও পোশাকেই একটা ওষুধ আছে। চিন্তা করুন, আপনি একটি সুন্দর পোশাক পরিধান করে, মাথায় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলেন, বা মেয়েরা তাদের মত উত্তম পোশাক পরিধান করে সালাত আদায় কর। সালাত থেকে আপনি যখন এই পোশাক নিয়ে বের হবেন, তখন কি পারবেন এই পোশাক ও টুপি পড়ে অন্য ছেলে বা মেয়ের দিকে তাকাতে? নাহ, কারণ এই পোশাকই আপনাকে বাধা দিবে। কারণ এই পোশাক একজন বিশেষ কারো জন্য। তাহলে আল্লাহর জন্য যখন এই পোশাক পরিধান করে তাঁর সাথে দেখা করতে যাই, তাঁর আদেশ-নিষেধ মানতে যাই, এই একই পোশাক পড়ে কি আমি তাঁর বিরোধিতা করতে পারব? না, পারব না।

এভাবেই আল্লাহর জন্য, তাঁর আদেশে উত্তম পোশাক পড়তে পারলে আমাদের ভেতরেও খুশু আসবে ইন-শা-আল্লাহ।

-- উস্তাদ নুমান আলী খানের সূরা আরাফের তাফসীর ও লেকচার থেকে।

0 comments
Labels: , , ,

সালাতঃ ব্যক্তিত্ব পরিবর্তনকারী এক ইবাদাত

হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার ইবাদাত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আল-হাজ্জঃ আয়াত ৭৭)

(এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলছেন) আমি তোমাদের শিখিয়ে দেই কিভাবে আল্লাহকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হয়। ঠিক এভাবেই আল্লাহর মর্যাদার যথাযথ মূল্যায়ন করতে হয়। রুকূ’ কর এবং সিজদাহ কর। এই দুটি কাজই কিসের প্রতি ইঙ্গিত করছে? সালাত।

(আল্লাহ বলছেন) তোমার উচিত আমাকে যথোপযুক্ত স্বীকৃতি দেওয়া। আর এর জন্যে প্রথম পদক্ষেপ হল সালাত আদায় করা

আমরা আমাদের নামাযকে কতটা গুরত্ব দেই তা থেকে বুঝা যায় আমরা আল্লাহকে কতটা মর্যাদা দেই। আমরা কতটা সক্রিয় এবং সতর্ক ঘুম থেকে উঠে নামায পড়ার ব্যাপারে, মসজিদে যেতে কতটা আলসেমি লাগে, কুর'আনের তিলাওয়াত আকর্ষণীয় না হলে আমরা কতটা বিরক্ত অনুভব করি... এসব ব্যাপারই বলে দেয় আল্লাহর কাছে আমাদের অবস্থান কোথায়।

যে আসলে নামায সম্পর্কে জানে না, মুসলিমদের প্রার্থনার ব্যাপারে যার কোন ধারণা নেই... একজন Non-Muslim, সে যদি হঠাৎ করে কিছু মুসলিমদের নামায পড়তে দেখে তবে সে খেয়াল করবে এই মানুষগুলো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে অর্থাৎ তারা কারও প্রতি তাদের হীনাবস্থা প্রকাশ করছে। এরপর তারা মাথাসহ অর্ধেক শরীর ঝুঁকিয়ে ফেলে। ওয়াও! তারা আরও বিনয়ী হয়ে উঠেছে। তারপর যখন তারা দাঁড়িয়ে পড়ে এরপর কী হয়? সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে! তারা সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করছে! অন্য কথায় সে খেয়াল করবে আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে তারা প্রতিনিয়ত অগ্রসর হচ্ছে... তারা যার ইবাদত করছে তাঁর প্রতি তারা আরও বেশি আজ্ঞাবহ হচ্ছে।দেখে মনে হবে তারা তাদের প্রভুকে সম্মান প্রদর্শন করছে...আরও সম্মান প্রদর্শন করছে... আরও বেশি সম্মান প্রদর্শন করছে। সালাতের এই অগ্রসরতা আমাদের শিক্ষা দেয় যে আল্লাহর প্রতি আমাদের বিনয়াবনত অবস্থা বেড়ে উঠা উচিত, বিকশিত হওয়া উচিত।

মূল ধারণাটি হল, আমরা আল্লাহর যত ইবাদত করবো ততোই বিনয়ী হয়ে উঠবো। আর বিনয়ের সর্বোচ্চ অবস্থা ছিল সিজদাহ।এরপর যা করা উচিত... কারণ এই দুটি জিনিস (রুকূ ও সিজদাহ) মূলত সালাতের প্রতিই নির্দেশ করে। কিন্তু নামাযের মধ্যবর্তী অবস্থা গুলোতে কী করা উচিত? “নিজেদের আল্লাহর দাস হিসেবে দায়বদ্ধ কর এবং তোমাদের রবের ইবাদত কর” - অন্য কথায় রুকূ’ এবং সিজদাহ করা তো হল এখন নামায তো একমাত্র ইবাদত নয়। আপনারা জানেন ইবাদতের মানে এর চেয়ে অনেক বেশি।

ইবাদত এক ধরনের জীবনাচরণ। আমি একজন দাস। আমি এখানে দাসত্বের জন্যে এসেছি। আমি যেভাবে হাঁটি, যেভাবে কথা বলি, যেভাবে নিজের ব্যাপারে চিন্তা করি, অন্যের ব্যাপারে চিন্তা করি - এসবই ইবাদত। আপনার সম্পূর্ণ আচার-আচরণ পরিবর্তন হয়ে যায় নামাযের কারণে। নামায একজন মুসলিমের ব্যক্তিত্বের বড় একটা অংশ, কেবল তার আচরণের নয়। আমরা নামাযকে মুসলিমদের আচরণ হিসেবে দেখি। কিন্তু আসলে, দৈনন্দিন নামায আদায়ের কারণে এর সরাসরি প্রভাব থাকা উচিত আমাদের চিন্তাধারায়, আচার-আচরণে, আমাদের মানসিকতায়।

জোহর এবং আসর নামাযের মধ্যবর্তী সময়টা তে আমার চিন্তা প্রভাবিত হয়ে থাকবে জোহর নামাযকে ঘিরে। আসর এবং মাগরিব নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে আমার চিন্তাধারা অগ্রাধিকার পাবে আসর নামাযকে ঘিরে। এই পথেই একজন মুসলিম নিজেকে ইবাদতকারী হিসেবে পরিচিত করে। ইবাদতের মনোভাব গড়ে তোলা - নামাযের কাজ হল এটাই।

আপনারা দেখেছেন স্তম্ভগুলো একটা দালানকে কিভাবে ধরে রাখে? নামায আমাদের দিনকে সেভাবে ধরে রাখে। আর নামাযের মধ্যবর্তী সময়টা বলে দেয় আমাদের নামাযের মান কেমন ছিল। সালাত যদি অনুভবশূন্য হয়ে পড়ে, নামায যদি কেবল হৃদযন্ত্রের ব্যয়াম হয়ে পড়ে, নামায যদি কেবল সূরা ইখলাস আর সূরা কাওসার (সবচেয়ে ছোট সূরা) এর রিভিউ সেশন হয় কারণ আপনার হাতে এর চেয়ে বেশি সময় নেই।নামায যদি কেবল এতেই সীমাবদ্ধ থাকে তবে আপনি আপনার ব্যাক্তিত্বে কোন পরিবর্তন দেখতে পাবেন না।

0 comments
Labels: , ,

প্রতি মসজিদে সকাল-সন্ধ্যায় শুরু হোক কোরআন চর্চা


আমি যাদের কিতাব দান করেছি, তাদের যারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে (যত গুরুত্বের সঙ্গে তা পাঠ করা উচিত), তারাই এতে বিশ্বাস স্থাপন করে। আর যারা তা প্রত্যাখ্যান করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।— (২.১২১)

যারা মুমিন, তাদের জন্য কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে হক (কোরআন) অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় ভক্তিবিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? এবং যাদের আগে কিতাব দেয়া হয়েছিল, তারা যেন তাদের মতো না হয়—তাদের ওপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হলো, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেল। তাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।— (৫৭.১৬)

তারা কি কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে না, নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ? (৪৭.২৪) , যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর জিকির (কোরআন) থেকে অন্ধ সাজে, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি, অতঃপর সে-ই তার সঙ্গী হয়ে যায়। শয়তানরাই মানুষকে সত্ পথ হতে বিরত রাখে, অথচ মানুষ মনে করে যে, তারা সত্পথে রয়েছে। — (৪৩.৩৬-৩৭)

আল কোরআনের সঙ্গে সদাসর্বদা সম্পৃক্ত থাকা; সর্বশেষ ও চূড়ান্ত এই আসমানি বাণীর প্রতিটি আয়াত, তাতে উল্লেখিত শব্দ সব ব্যাপ্তিতে পড়া, তার মর্ম অনুধাবন করা, তার সত্য-সৌন্দর্য আর রঙে জীবনকে রাঙিয়ে তোলা; আল্লাহর কিতাব বা রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করা ও বিচ্ছিন্ন না হওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রভৃতি নানা আঙ্গিকে এরকম বহু আয়াতে উদ্ধৃত হয়েছে। কোরআনে ব্যবহৃত ‘হক’, ‘জিকির’ বলতে অনেক ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনকেই বোঝানো হয়েছে।

পৃথিবীতে স্রষ্টার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করণার্থে তাই সব শুভ কাজের অত্যন্ত মৌলিক ও সবচেয়ে গোড়ার কাজ আল কোরআনের ধারাবাহিক চর্চা শুরু হোক বিশ্বের প্রতিটি মসজিদে সকাল-সন্ধ্যায়, প্রতিটি দিন, প্রতিনিয়ত এবং বিরামহীন। যেমন ফজরের সালাত শেষে যদি সুরা বাক্বারার প্রথম রুকু (বা এর সমপরিমাণ) পড়া হয়, তবে মাগরিব বা এশার সালাত শেষে সকালে পঠিত প্রথম রুকু ফের একবার মশক ও আলোচনা করে দ্বিতীয় রুকু পড়া হবে। পরবর্তী ফজরের সালাত বাদ অনুরূপ দ্বিতীয় রুকুর মশক ও আলোচনা করে তৃতীয় রুকু পড়া হবে। এভাবে শুক্রবার সন্ধ্যা হতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পঠিত রুকুর আয়াতগুলো শুক্রবার সকালে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘসময় নিয়ে পুনরালোচনা করা। একই প্রক্রিয়ায় কোরআনের ধারাবাহিক পাঠ চালু রাখা।

এর জন্য একটা প্রোগ্রামসূচি বানিয়ে নেয়া যেতে পারে। এতে কখন কোন রুকু পড়া হবে, তা পূর্বঘোষিত থাকবে, তাই আগ্রহী সবাই তার সাধ্যমত অধ্যয়ন করে কোরআনশিক্ষার এ অংশগ্রহণমূলক আসরে বসবে—যাতে ব্যয়িত সময়ের কার্যকারিতা সর্বাধিক এবং তা প্রাণবন্ত হয়। কেউই সেখানে অলস শ্রোতা হবে না, বরং সবাই হবে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।

আল্লাহর ঘরে আসা মুসল্লিদের কোরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে মসজিদের ইমাম সাহেবরা বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার মধ্যেই এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। আমজনতার কাছে কোরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে প্রতিনিয়ত এ চর্চা তাদের মধ্যে ব্যাপক উত্সাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে সম্মানিত মুসল্লিরা কোরআন শেখার প্রতি অপরিসীম আগ্রহ, উপস্থিতি এবং চেষ্টা-সাধনা প্রদর্শনের মাধ্যমে ততোধিক বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রয়োজনটা যতটা না ইমাম সাহেবের, তারচেয়ে অনেক বেশি তাদের; সুতরাং গরজ ও তাগিদটা তাদের পক্ষ থেকেই আসতে হবে।

উপস্থিত মুসল্লিদের বিভিন্নতাভেদে আলোচনার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য থাকতে পারে, যাতে সবার চাহিদা পূরণের দিকে মোটামুটি ভারসাম্য রক্ষা করা যায়। একটি আয়াত তেলাওয়াত করে তার বিশুদ্ধ পাঠের প্রয়োজনে যেমন অনেকবার মশক করা দরকার; একইভাবে আয়াতের অর্থ, ব্যাখ্যা, আলোচ্য রুকুর বিষয়ের সঙ্গে আয়াতের পূর্বাপর সম্পর্ক জানাও প্রয়োজন। আয়াতের মর্ম আয়ত্ত করতে এতে উল্লেখিত শব্দ, বাক্যবিন্যাস, কোরআনের ভাষাভঙ্গি, ব্যাকরণ ও অলঙ্কার ইত্যাদি নিয়েও মাঝে মধ্যে আলোচনা হতে পারে। কোরআনের অনেক শব্দই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত নানা শব্দের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। শব্দমূল বা ক্রিয়ামূল (ইসম, মাছদার) উল্লেখ করে তার ব্যবহারগত সাযুজ্য ধরিয়ে দিতে পারলে যে কোনো কোরআনের পাঠক তাতে ব্যাপক উত্সাহ বোধ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট আয়াতে ওই শব্দের অর্থ মনে রাখা তার জন্য সহজ হবে। পবিত্র কোরআনের সঙ্গে হৃদ্যতা বাড়বে, গভীর মমতা তৈরি হবে।

কোরআনের এই নিত্য অধ্যয়ন দিনে দিনে বোদ্ধা ও সমঝদার মুমিন-মুসলমান তৈরিতে বাস্তব ভূমিকা পালন করবে।
আল কোরআনের নিরবচ্ছিন্ন অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই এই মহিমান্বিত গ্রন্থের, আসমান-জমিনের একমাত্র নির্ভুল দলিলের ‘হাক্কা তিলাওয়াত’ বা ‘যথাযথ পাঠে’র হক কিছুটা আদায় হতে পারে, আর কেবল সেক্ষেত্রেই আমাদের ইমান-আমল পরিশুদ্ধ হওয়ার অবকাশ পাবে। আল কোরআন সংলিপ্ততার এই ধারাবাহিকতায় আমরা তথা গোটা মানবজাতি ইহকাল-পরকালে কোরআনুল কারিমের পূর্ণ নেয়ামত লাভের যোগ্য বলে বিবেচিত হব ইনশাআল্লাহ।

লেখক : গবেষক, প্রাবন্ধিক -khan_books@yahoo.com

0 comments
Labels: ,

ইমাম জাহিদুল ইসলাম এক অনন্য দৃস্টান্ত

 বছরের পর বছর গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। জনদুর্ভোগ খুঁজে বের করে আর ১০ জনের সহায়তায় ঝাঁপিয়ে পড়ছেন সমাধানে। বগুড়ার জাহিদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে বানিয়েছেন সাঁকো, ঈদগাহ, লাগিয়েছেন ৩০ হাজার ফলদ বৃক্ষ ।

বাড়ির পাশেই দিগদাইড় বিল। বিল পেরিয়ে ওপাশে গঞ্জের বাজারে প্রতিদিন নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় শত শত মানুষকে। ঘাটের ছোট্ট ডিঙি নৌকাটির খোঁজ থাকে না অনেক সময়ই। সারা বছর গ্রামবাসী দুর্ভোগ পোহালেও মাথা ঘামায় না কেউ। এ অবস্থায় এগিয়ে এলেন জাহিদুল ইসলাম। নিজের ঝাঁড় এবং আশপাশের মানুষের কাছ থেকে চেয়ে নিলেন বাঁশ। ছোট ভাই জুয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করলেন প্রায় ২৫ ফুট লম্বা সাঁকো। স্বস্তির নিঃশ্ব্বাস ফেলল উভয় পারের মানুষ।

কিছুদিন পর গ্রামের যুবকদের নিয়ে হাড়ভাঙা শ্রমে পাশের পাঠানপাড়া গ্রামে বিল পারাপারে বানিয়ে ফেললেন প্রায় ৬০ ফুট লম্বা আরেকটি বাঁশের সাঁকো। আশপাশের মানুষের চোখমুখে কৃতজ্ঞতার ছাপ দেখে জাহিদুলকে পেয়ে বসল উপকারের নেশায়।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের সোনাতলা উপজেলার নিভৃতপল্লী দিগদাইড় গ্রামে তাঁর বাস। ৪৫ বছর বয়সী জাহিদুল ইসলাম পেশায় মসজিদের ইমাম। তিন দশক ধরে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রামে। গ্রামে ঢুকে প্রথমেই বের করছেন জনদুর্ভোগের কারণ। তারপর সে সমস্যা সমাধানে সংঘবদ্ধ করছেন মানুষকে। যমুনাপারের সোনাতলা, সারিয়াকান্দি আর গাবতলীর অবহেলিত গ্রামগুলোতে নিজ উদ্যোগে, স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করেছেন প্রায় ৫০০ সাঁকো। সম্প্রতি গাবতলী উপজেলার কাঁকড়া বিলের ওপর প্রায় ৭০০ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। তিন মাস ধরে চলেছে নির্মাণকাজ। সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার বাঁশ ও ১২ মণ লোহার পেরেক। সাঁকোটি বানানো শেষ হলে বগুড়ার নেপালতলী ইউনিয়নের শেখহাটি, জাতহলিদা, নারচী, বাঁশগাড়ি, পাড়কাঁকড়া, কুড়িপাড়া, ময়নাতলা, নিচকাঁকড়া, কাজলাপাড়া, ধলিরচর, চকরাধিকা, কদমতলী, সুখানপুকুরের লাখো মানুষের দুঃখ লাঘব হবে।

কেবল সাঁকো বানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই জাহিদুলের কার্যক্রম। দিগদাইড় গ্রামের পাশেই পাঠানপাড়ায় ৩০ ফুট গভীর গর্ত পূরণ করে তৈরি করেছেন ঈদগাহ। বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি এনে ভিজিয়ে দেন রাস্তা। কাদায় পিচ্ছিল হয়ে বিপজ্জনক হয়ে পড়ে চলাচল। যেখানেই এসব চোখে পড়েছে সেখানেই পাইপ লাগিয়ে পানি সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সুখানপুকুর সৈয়দ আহম্মদ কলেজ থেকে পাঠানপাড়া পর্যন্ত সাত কিলোমিটার জুড়ে লাগিয়েছেন প্রায় ৩০ হাজার বনজ-ফলদ বৃক্ষ। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করেছেন তালের আঁটি। তাদের নিয়েই সেসব আঁটি লাগিয়েছেন রাস্তার ধারে। পরিকল্পনা করছেন শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা থেকে সারিয়াকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তায় তালগাছ লাগানোর।

কেন এই নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো_প্রশ্নের জবাবে শান্ত, সাদাসিধে মানুষটির মুখে একচিলতে হাসি ফুটে উঠল_'মানুষকে ভালোবাসার এসব দৃষ্টান্ত পরবর্তী প্রজন্মকে সুন্দর বাংলাদেশ তৈরিতে উদ্বুব্ধ করবে।' ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, 'যদি আরো কিছুদিন বাঁচি আর আমাকে গ্রামের মানুষ সাহায্য-সহযোগিতা করেন, তাহলে এলাকায় পাবলিক লাইব্রেরি, এতিমখানা, গণকবরস্থান প্রতিষ্ঠা করব।' তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে সুখানপুকুর এমআরএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আহসান উল্লাহ বলেন, 'আমরা আগে তাঁকে চিনতাম না। কিন্তু এত এত ভালো কাজ করায় জাহিদুল এখন শুধু আমাদেরই নন, আশপাশের গ্রামগুলোরও আপনজনে পরিণত হয়েছেন।' ছেলের এ ধরনের কাজের ব্যাপারে মা জোহুরা জানালেন, 'আমার ছেলেটা কাজপাগল। তার এমন সেবামূলক কাজে গর্বে আমার বুক ভরে যায়।

' স্ত্রী শাহিন স্বামীর কাজকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, 'গরিব বলে আমাদের কোনো দুঃখ নেই। তবে দুঃখ পাই যেদিন কোনো মানুষের উপকার করতে না পারি।'

0 comments
Labels: ,

নামাজ বিষয়ে কিছু ভিডিও

Can a Muslim have Islam without the prayer? TheDeenShow 

 Literary Gems of Prayer - Shaykh Abdul Nasir Jangda


_Meaningful Prayer_ Intro, Meaning of Fatiha, Friday night 


Practical Steps to Develop Khushoo_ in Salah - Meaningful Prayer

 

Puntuality in prayer



pray_as_you_have_seen_me_pray
 

The Salat ( The Prays ) Nouman Ali Khan - Must Watch

 

Salah In Focus




salah_and_marriage
 

Tips to Wake up for Fajr Prayer by Ustadh Nouman Ali Khan

 

Pray Till your last Day

 

0 comments
Labels:

নামাজে সিজদার বিভিন্ন দোয়া...

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই নামাজে সিজদার জন্য শুধু একটি দোয়াই শিখেছি। অথচ আমাদের রাসুল (সাঃ) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোয়া সিজদার সময় পড়েছেন এবং শিখিয়েছেন। আসুন এই সহজ দোয়াগুলো আমরা শিখে নিই এবং ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দোয়াগুলো যেকোনো একটি করে বিভিন্ন সময়ে পড়ি, যাতে নামাজের অতি অভ্যস্ততার কারণে অমনোযোগিতা আমরা দূর করতে পারি। সেই সাথে কিছু সুন্নাহ জাগ্রত করতে পারি।

১) سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى

“সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা”
অর্থঃ আমার মহান সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি। (তিনবার)
[সহীহ আত তিরমিযী ১/৮৩]

২)سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي

“সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়াবিহামদিকাল্লাহুম মাগফিরলী”
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার রব্ব! তোমার পূত পবিত্রতা ঘোষণা করি (তোমার প্রসংশা সহ) হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ করে দাও।
[বুখারী ও মুসলিম]

৩) سُبُّوحٌ، قُدُّسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

“সুব্বুহুন ক্কুদ্দুসুন রব্বুল মালা-ইকাতি ওয়াররুহ”
অর্থঃ ফেরেশতাবৃন্দ এবং রুহুল কুদ্দুস (জিব্রাঈল আঃ) এর রব প্রতিপালক স্বীয় সত্তায় এবং গুনাবলীতে পবিত্র।
[মুসলিম ১/৫৩৩]

৪) اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ، وَصَوَّرَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

“আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়াবিকা ‘আ-মানতু ওয়ালাকা ‘আসলামতু সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাযী খলাক্কাহু ওয়াসাও ওয়ারাহু ওয়া শাক্কা সাম‘আহু ওয়া বাসারাহু তাবারকাল্লাহু আহসানুল খ-লিক্কীন”
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য সিজদা করেছি, তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছি, আমার মুখমণ্ডল (আমার সমগ্র দেহ) সিজদায় অবনমিত সেই মহান সত্তার জন্য যিনি উহাকে সৃষ্টি করেছেন এবং উহার কর্ণ ও চক্ষু উদ্ভিন্ন করেছেন, মহিমান্বিত আল্লাহ সর্বোত্তম স্রষ্টা।
[মুসলিম ১/৫৩৪]

৫) "سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرْوتِ، وَالْمَلَكُوتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ".

“সুবহানা যিল জাবারূতি ওয়াল মালাকূতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল ‘আযামাতি ”
অর্থঃ পাক পবিত্র সেই মহান আল্লাহ বিপুল শক্তির অধিকারী, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গরিমা এবং অতুল্য মহত্বের অধিকারী।
[আবু দাউদ ১/২৩০]

৬) اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ، دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ

“আল্লাহুম্মাগফিরলী যানবীকুল্লাহু, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আউওয়ালাহু ওয়াআ-খিরাহু ওয়া ‘আলানিয়াতা ওয়া সিররাহু”
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও, ছোট গুনাহ, বড় গুনাহ, আগের গুনাহ, পরের গুনাহ, প্রকাশ্য এবং গোপন গুনাহ।
[মুসলিম ১/৩৫০]

৭) اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ منْ عُقُوبَتِكَ، وَاَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আ’উযু বিরিদাকা মিন সাখাতিকা, ওয়া বিমু’আ-ফাতিকা মিন ‘উক্কুবাতিকা ওয়া ‘আউযু বিকামিনকা, লা-উহসী সানা-আন ‘আলাইকা আনতা কামা আসনাইতা ‘আলা নাফসিকা”
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই তোমার অসন্তুষ্টি হতে তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে, তোমার শাস্তি হতে তোমার ক্ষমার মাধ্যমে, আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার গজব হতে। তোমার প্রশংসা গুণে শেষ করা যায় না; তুমি সেই প্রশংসার যোগ্য নিজের প্রশংসা যেরূপ তুমি নিজে করেছ।
[মুসলিম ১/৩৫২]

0 comments
Labels:

অর্থপূর্ন ও বরকতময় নামাজ / নামাজের খুশু বা একাগ্রতা পর্ব ১

আপনি কি নিজেকে কখনো খুব খারাপ সময়ের/ ডিফিকাল্ট সিচুয়েশনের মধ্যে পেয়েছেন?

আপনি কি নিজেকে কখনো যে কোন কিছুর খুবই প্রয়োজনিয়তায় অনুভব করেছেন / এমন কিছু খুব করে চাইছেন?

আপনি কি নিজেকে কখনো এমন মনে করেছেন যে কেহ আপনাকে কিছু বলেছে বা করেছে তার জন্য আপনি খুবই র্মমাহত, খুবই কস্ট পেয়েছেন, খুবই মন খারাপ হয়েছে?

আপনার যদি উপরোক্ত কোন প্রশ্নের উত্তর হ্য হয় এবং সম্ভবত আমাদের সকলেরই কোন প্রশ্নের সাথে মিলে এবং উত্তর হ্য হবে তবে তার সমাধান কি? কি করলে এই সকল সমস্যা গুলোকে মোকেবেলা করা যায়?

এর উত্তর খুবই সোজা একটি মাত্র শব্দে নিহিত রয়েছে? আর তা হলো সালাত বা নামাজ।

সালাত বা নামাজ হল এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে আমাদের কস্ট সমুহ দূর হয়, জীবন হয় সহজ সরল ও সুন্দর। সালাত বা নামাজ আমাদের মনের, আত্বার ও জীবনের প্রশ্ন , চিন্তা , ভাবনা ও কনফিউশনকে দূর করে জীবন কে পরিপূর্ন করে।

কিন্তু আরেকটি প্রশ্ন তখন আপনার মনে আসে, আমি নামাজ পড়ছি বা সালাত আদায় করছি গত ২০,৩০ বা ৪০ বছর যাবত, নামাজ/সালাত আমার জীবনে সেই উদ্দেশ্য পরিপুর্ন করতে পারেনি, সালাত বা নামাজ আমার জীবনে সেই প্রভাব ফেলতে পারেনি, আমি নামাজের সেই সুফল পাচ্ছিনা বা পাইনি।

তবে আমি কি ভাবে নামাজের সেই সুফল/অভিজ্ঞতা পেতে পারি , কিভাবে নামাজের সেই স্বাদ পেতে পারি? আমি কিভাবে নামাজের ক্ষমতা, শক্তি বা বিশালতা অনুভব করতে পারি? কিভাবে সালাত আমাদের জীবন সমৃদ্ধ করতে পারে?

আশ্চর্যজনকভাবে এসকল প্রশ্নের উত্তর ও একটি শব্দের মাঝে নিহিত রয়েছে আর তা হচ্ছে খুশু বা একাগ্রতা, এটা এমন এক শব্দ যা কোরআনে আছে হাদীসে আছে, এ সম্পকে আমরা অনেক খুদবা শুনি, এ সম্পর্কে অনেক লেকচার ও আটিকেল পাবেন বিভিন্ন ওয়েব সাইটে।

কিন্তু কোটি টাকার প্রশ্ন আমি কিভাবে খুশু পাব বা একাগ্রতা অর্জন করবো? আমি বুঝলাম খুশুর গুরুত্ব এবং আমার খুশু দরকার ? আমি কিভাবে খুশু কার্যে পরিণত করতে পারি, আমার নামাজে খুশুর উন্নয়ন করতে পারি?

এর সবচেয়ে ভাল সহজ ও দ্রুত উপায় হলো আমরা নামাজে কি পড়ি বা বলি তা জানা ও বোঝা, নামাজের ভাষা বোঝা ও হৃদয়ঙ্গম করা এটাই হচ্ছে খুবই দ্রুত ভাবে নামাজে খুশুর অভিজ্ঞতা পাওয়ার মাধ্যম আর এর ফলে নামাজ কে অনুভব করা ও নামাজের আসল অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়

খুশুর একটি সুন্দর উদাহরন হচ্ছে সুরা ফাতিহা। একটি হাদীস-হাদীসে কুদসি তে আছে যখন আমরা নামাজে সুরা ফাতিহা পড়ি বা তিলাওয়াত করি , প্রত্যেক আয়াত যখন বুঝে ভক্তি নিস্ঠা সহকারে এবং একনিষ্ঠতা ভালবাসা ও গড়জ সহকারে পড়ি তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়লা আমাদের সাড়া দেন/জবাব দেন / উত্তর দেন প্রতিটা আয়াতের। এটা একটা সংলাপ/কথোপকথন/মতবিনিময় মহান আল্লাহর সাথে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমরা নামাজে অমনোযোগী/ অন্যমনস্ক/ ভুলো মনে থাকি , এর ফলে আমরা কত সুন্দর চমকপ্রদ,অপরূপ,বিস্ময়কর সুযোগ হারাচ্ছি আমাদের সারা জীবন ধরে।

এটাই আমার অনুপ্রেরণা এই অর্থপুর্ন ও বরকতময় নামাজ সম্পর্কে লিখার ক্ষেত্রে, যাতে আমরা বুঝতে পারি আমরা সারা জীবন কি হারাচ্ছি এবং কেন নামাজের সুফল আমাদের জীবনে দেখতে পারছিনা এবং আমি একটি জিনিসই চাচ্ছি আপনাদের কাছ থেকে তা হলো একটি দিনের একটু সময় করে নামাজের নিগূঢ়তা, সোন্দের্য সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করার ইচ্ছা। আমরা দেখবো নামাজে ব্যবহ্যত প্রত্যেকটি শব্দের অর্থ, কেন তা ব্যবহার করা হয়েছে আর তার সুফল। আর এর মাধ্যমে আমরা পরিশেষে জানতে পারবো হজরত মুহাম্মদ (সঃ) আসলেই কি বুঝিয়েছিলেন যখন তিনি বলেন "জুইরাত কুররাতু আইনি ফিস সালাত"
অর্থ আমার চোখের শান্তি নামাজে স্থাপন করে হয়েছে। তখনই আমরা বুঝবো তিনি কি বুঝিয়েছিলান।

চিন্তা করে দেখুন আমরা কি রকম অন্ধকারে রয়েছি , আমরা নামাজ পরছি ১০ বছর ১৫ বছর বা ২০ বছর বা ৫০ বছর, কত সময় চলে গেছে অথচ আমরা নামাজের আসল সুফল বুঝতে পারিনি আমরা কি বলছি কি চাচ্ছি কি অনুরোধ করছি আমাদের মহান সৃস্টিকর্তার কাছে যখন আমরা নামাজে দ্বাড়াই।

আল্লাহ আমাদের কে নামাজের খুশুর মাধ্যমে সবাই কে সুফল দান করুন, আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাজের সেই ক্ষমতা ও তৈফিক দান করুন যেমনি ভাবে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) নামাজ আদায় করেছেন, যেভাবে তিনি ও তার সাহাবিরা নামাজের সুফল পেয়ে দুনিয়া ও আখিরাতে সাফল্য পেয়েছেন। আমিন

0 comments
Labels:

অর্থবহ ও বরকতময় নামাজ / নামাজের খুশু বা একাগ্রতা পর্ব ২

সফলতা যার পিছনে আমরা সবাই ছুটছি সেটা কোথায় পাব , কি ভাবে পাব ইসলাম কি বলে সফলতা সম্পর্কে ?

সাফল্যের পথে নিয়ে যায় খুশু বা একাগ্রতা: খুশু বা একাগ্রতা যখন আপনি এই শব্দটি শুনেন তখন প্রথম আপনার মনে কি আসে? সালাত বা নামাজ তাই না। তাহলে সাফল্য কোথায় উত্তর হবে নিশ্চই নামাজে বা সালাতে। আমরা দেখবো কিভাবে খুশু সফলতার সাথে সম্পর্কযুক্ত।

প্রথমে আমরা দেখবো সফলতা কি? সফলতা এমন কিছু যে যখন আমরা সফলতা শব্দটা শুনি আমরা আমাদের মনে কল্পনা করি, সবাই সফলতা নিজের মনে বিভিন্নভাবে কল্পনা করে থাকেন, যেমন কারো জন্য একটি বিশল বাংলা বা বাড়ি, কারো দামি গাড়ি, কারো হতে পারে কোম্পানির উচ্চতর কর্মকর্তা বা মালিক যার রবে প্রাইভেট জেট । অনেক তরুনের নিকট সাফল্য হলো তার নাম কোন জার্সির পেছনে লিখা যেমন জাতীয় দলের ক্রিকেটার বা ইংলিশ প্রমিয়ার লিগে খেলা কোন ফুটবলার হিসেবে নিজেকে কল্পনা করা। তার মানে সফলতাকে একেক জন একেক ভাবে অনুভব বা উপলব্ধি বা কল্পনা করেন

সাফল্যের বাস্তবিকতা বা সত্য বুঝতে হলে মুসলিম হিসেবে আমাদের দেখতে হয় কোরআনে এবং মহানবী (সঃ) সুন্নাহ বা তার জীবনীতে। আমাদের দ্বীন বলে সাফল্য কি? আমাদের প্রথমে উপলব্ধি করতে হবে যে আমরা সবাই সফলতা খুজছি। কেহ সকালে উঠে অফিসে বা কাজে , স্কুলে যায় না ব্যর্থ হওয়ার জন্য আমরা সর্বদা সফলতা কে খুজছি কোন কোন ভাবে সবাই এর পেছনে ছুটছি।

সাফল্যের বাস্তবিকতা বা সত্য বুঝতে প্রথমে বুঝতে হবে সফলতা শব্দটা কি বোঝায়, এটা একটা খুবই সুন্দর শব্দ আরবি ভাষায়, যে শব্দটা আল্লাহ সুবহানাহু তায়লা কোরআনে ব্যবহার করেছেন সফলতা বোঝাতে তা হলো "ফালাহ" এই ফালাহ শব্দটার মজার ব্যপার হলো ভাষাগত ভাবে এটা কৃষিকাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত। একজন কৃষকেও আরবিতে বলা হয় ফালাহ এখন আপনি চিন্তা করছেন যে এর সাথে সফলতার সম্পর্ক কি। আমরা জানি আমাদের জন্য সফলতা হলো জান্নাতে যাওয়া এর সাথে কৃষিকাজের সম্পর্ক কি হতে পারে। আমিতো কোন সম্পর্ক দেখি না? আসলে এখানেই আরবি ভাষার সৈন্দর্য এখানেই আল্লাহর ভাষার কোরআনের সৈন্দর্য।

দেখুন যখন একজন মানুষ কৃষিকাজ করে প্রথমত সে কি করে? সে মাটি কে রেডি করে তাই না যাকে বলে হাল চাষ বা মাটিকে ওলট পালট করা, আর মাটিকে ওলট পালট করার উদ্দেশ্য কি ? সেটা হলো যাতে মাটি নরম হয়, অস্কিজেন পায়, সুর্যের আলো ও পানি ভালভাবে মিশতে পারে তারপর সেখানে বিজ বুনলে তবে ফসল ফলে। ঠিক তেমনি ভাবে আল্লাহ সাফল্যকে বোঝাতে ফালাহ ব্যবহার করেছেন এইজন্য যে সাফল্য পেতে হলে ঠিক সেই মাটির মত মনটাকে উন্মুক্ত করতে হয় যাতে ঈমান, আমল ও তাকওয়া প্রবেশ করতে পারে মনের সাথে মিশতে পারে। কারন মনে ঈমান, আমল ও তাকওয়া মিশার পরই তা বাড়তে পাড়ে। ঠিক সেই ভাবেই একজন কৃষক তার মাটিতে যতটুকু পরিমান মিশাবে ততটুকু পরিমান ভাল ফসল উৎপন্ন হবে আর যে কম কাজ করবে ঠিক মত মাটি মিশাবেনা সময় মত পানি দিবেনা সে নিশ্চই ভাল ফসল পাবে না মানুষের মনও তাই যতটুকু ঈমান, আমল ও তাকওয়া মিশবে যতটুকু সে প্রেক্টিস করবে তার ফলাফলও সে রকমই হবে। তাই বলাযায় পরিণাম বা ফলাফল তাই হবে যতটুকু পরিমান চেষ্টা,প্রয়াস,উদ্যম,উদ্যোগ, খাটুনি আপনি করবেন। তাই আল্লাহ এত সুন্দর শব্দ আফালাহ ব্যবহার করেছেন

তাই আমরা যদি পুর্বের আলোচনায় ফিরে যাই আমরা সবাই সফলতা চাই
আর কোথায় সফলতা পাওয়া যায়, কি ভাবে পাওয়া যাবে আল্লাহ বলছেন "কাদা আফলাহাল মুওমিনুন" বিশ্বাসীরাই সফলকাম বা বিশ্বাসীরাই সফলতা পেয়েছে আর বিশ্বাসীদের কোয়ালিটি কি? তা হলো "আল্লাজিনা হুম ফি সালাতিহিম খাশিউন" আল্লাহ নামাজের সাথে যুক্ত করেছেন সফলতা।

কোরআনের আরেক সৈন্দর্য হলো এটি কিভাবে একটি সুরা হতে আরেকটি সুরাতে যুক্ত হয় দেখুন সুরা হাজ্জে সুরা নং ২২ আর এর পরের সুরা নং ২৩ হলো সুরাতুল মুমিনুন কিভাবে এই দুই সুরা যুক্ত হয়েছে তা দেখুন সুরা হাজ্জে শেষের দিকে আয়াতে আল্লাহ বলেন "ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু ইরকাউ ওয়াস সুজু ওয়াবুদু রাব্বাকুম আয়াফালুল খাইর লায়াল্লাকুম তুফলিহুন" يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।[সিজদার আয়াত] সুরা হাজ্জ:২২ আয়াত নং:৭৭

এবং শেষের আয়াতে বলেন: সুতরাং তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কত উত্তম মালিক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী। সুরা হাজ্জ:২২ আয়াত নং:৭৮

আরো দেখুন পরের সুরা সূরা আল মু’মিনূন আল্লাহ বলেন
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ-মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে,
الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ-যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র;
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ-যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,
وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ -যারা যাকাত দান করে থাকে
সূরা আল মু’মিনূন ২৩ আয়াত নং:১-৪

লক্ষ্য করে দুখুন আল্লাহ কিভাবে সুরা হজ্জে শেষ করেছেন নামাজ ও যাকাত সম্পকে বলে আর পরের সুরা সূরা আল মু’মিনূন ও শুরু করেছেন নামাজ ও যাকাত সম্পর্ক বলে। তো দেখুন আল্লাহ বলেন নামাজ কায়েম কর যাতে সফল কাম হতে পার, তাই আমারা যারা সফলাতার দিকে ছুটছি আসল সফলতা পেতে হলে আমাদের সবার আগে সালাত বা নামাজের দিকে মনোযোগি হতে হবে।

তবে চলুন দেখি আল্লাহ কিভাবে নামাজ কে কোরআনে বর্ননা করেছেন, আল্লাহ বলেন "ওায়াকিমিস সালাতা লি জিকরি" আল্লাহ মুসা আলাহিস সালাম কে বলেন সালাত প্রতিস্ঠা কর আমার জিকিরের মাধ্যমে। আপনারা চিন্তা করতে পারেন জিকির কি ভাবে সালাতে সাথে সম্পর্ক যুক্ত বা জিকির কিভাবে সালাত হতে পারে, আমরা নামাজে জিকির করি তবে কিভাবে নামাজ/সালাতটাই জিকির হয়? দেখুন কতটা আকর্ষনীয় আমরা যদি একটু মনযোগ দেই একটু গভির ভাবে ভাবি যেই আয়াত গুলো আমরা পড়ে যাই তবে দেখবো কত শিক্ষা এর মাঝে রয়েছে। আপনি দেখবেন কিভাবে সবকিছু মিলে যায়, কিভাবে আপনার ঈমান আরো বাড়ে আরো মজবুত হয় শুধু মনযোগ দিয়ে পড়ার মাধ্যমে বোঝার মাধ্যমে।

জিকিরের একটি গুন কি? আপনি সমসময় করতে পারেন তাই না, কোন সময় বাধা নে আপনি যে কোন সময় করতে পারেন। আপমি যদি রোজার কথা বলেন তবে দেখবেন এটি সময় নির্ধারিত (সুর্য উদয় হতে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত) বা শুধু রমজান মাসে,হজ্জ তাও বছরে একবার এর একটি নিদ্দিস্ট মাসে ওমরা তাও নিদ্দিস্ট নগরিতে, যাকাত ও নিদ্দিস্ট বলাযায় আপনি বছরে নিদ্দিস্ট পরিমান দেন কিন্তু জিকির সবসময়ের জন্য, আল্লাহ সালাতুন জিকির পছন্দ করেন কারন সালাত ও জিকির একই গুন সম্পন্ন
দেখুন সূরা আল ইমরান ৩ আয়াত নং ১৯১

الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىَ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষযে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও।"

আপাতদৃস্টিতে দেখলে মনে হবে এই আয়াতে শুধু জিকির বুঝিয়েছে আমরা কখনো মিলিয়ে দেখিনি আপনি দেখুন আমরা কিভাবে নামাজ পড়ি দাঁড়িয়ে, বসে এবং ধরুন কেহ যদি অসুস্থ থাকে বা হাসপাতালে তিনি কি শায়িত অবস্থায় নামাজ পড়েন না। সালাত হলো সর্বদা আল্লাহর দিকে যাওয়া আল্লাহকে স্বরন করা সর্বাবস্থায় সালাত বা নামাজ মানুষকে তার প্রভুর সাথে যোগ করে, আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যায় তাই আল্লাহ বলেন তুমি সফলতা চাও তবে নামাজে মনোযোগো হও নামাজে নিয়মিত হও

দেখুন নামাজের মাধ্যমে কিভাবে সফল হওয়া যায় তার প্রমান সয়ং হজরত মুহাম্মদ (সঃ),
According to the Quran, Prophet Muhammad was the most excellent example for all of humanity। Even non-Muslim historians recognize him to be one of the most successful personalities in history. Read what the Reverend R. Bosworth-Smith wrote in "Mohammed & Mohammedanism" in 1946:

"Head of the state as well as the Church, he was Caesar and Pope in one; but, he was pope without the pope's claims, and Caesar without the legions of Caesar, without a standing army, without a bodyguard, without a palace, without a fixed revenue. If ever any man had the right to say that he ruled by a Right Divine, it was Mohammad, for he had all the power without instruments and without its supHead of the state as well as the Church, he was Caesar and Pope in one; but, he was pope without the pope's claims, and Caesar without the legions of Caesar, without a standing army, without a bodyguard, without a palace, without a fixed revenue. If ever any man had the right to say that he ruled by a Right Divine, it was Mohammad, for he had all the power without instruments and without its support. He cared not for dressing of power. The simplicity of his private life was in keeping with his public life."port. He cared not for dressing of power. The simplicity of his private life was in keeping with his public life."


While we are reviewing statements from famous non-Muslims about Prophet Muhammad, peace and blessings be upon him, consider this:

"Philosopher, orator, apostle, legislator, warrior, conqueror of ideas, restorer of rational dogmas, of a cult without images; the founder of twenty terrestrial empires and of one spiritual empire, that is Muhammad. As regards all standards by which human greatness may be measured, we may well ask, is there any man greater than he?"

[Lamartine, HISTOIRE DE LA TURQUIE, Paris, 1854, Vol. II, pp. 276-277.]


And then we read what George Bernard Shaw, a famous writer and non-Muslim says:

"He must be called the Savior of Humanity. I believe that if a man like him were to assume the dictatorship of the modern world, he would succeed in solving its problems in a way that would bring it much needed peace and happiness."

[The Genuine Islam, Singapore, Vol. 1, No. 8, 1936]


Then we found that K. S. Ramakrishna Rao, an Indian (Hindu) professor of Philosophy, in his booklet "Muhammad the Prophet of Islam" calls him the "perfect model for human life." Professor Ramakrishna Rao explains his point by saying:

"The personality of Muhammad, it is most difficult to get into the whole truth of it. Only a glimpse of it I can catch. What a dramatic succession of picturesque scenes. There is Muhammad the Prophet. There is Muhammad the Warrior; Muhammad the Businessman; Muhammad the Statesman; Muhammad the Orator; Muhammad the Reformer; Muhammad the Refuge of Orphans; Muhammad the Protector of Slaves; Muhammad the Emancipator of Women; Muhammad the Judge; Muhammad the Saint. All in all these magnificent roles, in all these departments of human activities, he is alike a hero."

0 comments
Labels: , , ,

সুরা দুখান -শবে বরাত না শবে কদর সম্পকে নির্দেশ করে ও কিছু প্রশ্ন

শব্দ গত বিশ্লেশন: শবে বরাত শব্দ দু’টি যেরূপ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর কোথাও নেই তদ্রূপ নামায, রোযা, খোদা, ফেরেশতা ইত্যাদি শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর কোথাও নেই। এখন শবে বরাত বিরোধী লোকেরা কি নামায, রোযা ইত্যাদি শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এ না থাকার কারনে ছেড়ে দিবে?

অবশ্যই শবেবরাতে নামাজ পরুন, দান করুন, আত্বীয় প্রতিবেশিদের সাথে দেখা করুন কোন সমস্যা নেই,এর সামাজিক ও পারিবারিক উপকারিতা কম নয় কিন্তু এই রাতেই আবার দেখাযায় মাজারে মহা ভীড়, লোকজান গরিব দের না দিয়ে নিজেরা বড় বড় রুটি হালুয়া অপচয়ে ব্যস্ত ,যদিও এখন আতশ বাজী বোম ফোটানো নেই।

আল্লাহর কাছে কিছু বিশেষ মর্যাদাপুর্ন দিন/রাত আছে তাই বলে বাকি দিনের খবর আমরা বেমালুম ভুলে যাই। শবে বরাতে এত নামাজ কেন পড়ি যাতে পুরা বছর ভালা যায় তাই একদিনে সব পুরন করে নিব বাকি দিন আমারে মসজিদের আশে পাশেও দেখবেন না এইরকম করাটা কতটুকু ঠিক তা সবার কাছে প্রশ্ন?

নামাজ=সালাত, রোজা=সাওম, খোদা= আল্লাহ/রব্ব , ফেরেস্তা=মালাইকা এই সব কোরআনে যে আছে সবার নিশ্চই জানা আছে। তাই আর কিছু বলার নেই।

এখন দেখি শবে বরাত আছে কি না ? সেটা আপনারা খুজে দেখতে পারেন কোরআনে নেই, শাবে কদর যে আছে আর সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আছে মানে পুরা একটি সুরাই আছে। অনেকে শবে বরাত সম্পকে বলতে গিয়ে সুরা দুখানের প্রথম ৫ টি আয়াত রেফার করেন

এখন আসি সুরা দুখান ৪৪ আয়াত ১-৫ বিষয়ে ,আসুন আগে আয়াত গুলো অর্থ দেখি

অর্থঃ শপথ প্রকাশ্য কিতাবের! নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী। আমারই নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (সূরা দু‘খান, আয়াত শরীফ ২-৫)বিশেষ করে ৩ নং আয়াতটা إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ

03আমি একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।


এবার দেখি সুরা কদর ৯৭


إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
01আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে।


وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ

02শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?

لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ

03শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

এই দুটি সুরার আয়াতে একটি মিল কি জানেন দুটোয় বলাআছে ইন্না আনযালনাহু ফিই লাইলাতুল (কদর/মুবারাকা) আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে/বরকতময় রাতে

অনেকে বলেন দেখুন এখানে Click This Link :মহান আল্লাহ পাক তিনি যে সুরা দু’খান-এ বলেছেন, “ আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি ” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল “ আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিলের ফায়সালা করেছি “। আর সুরা ক্বদর-এ ” আমি ক্বদরের রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি ” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল ” আমি ক্বদরের রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি “।

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি শবে বরাতে কুরআন শরীফ নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন এবং শবে ক্বদরে তা নাযিল করেন।

এখন আপনারাই বলেন একই শব্দের [ইন্না আনযালনাহু]দুটি অর্থ কিভাবে ব্যখ্যা করবেন? একটি হলো নাযিল করেছি আর একটি নাযিলের ফয়সালা করেছি, তবে নাযিলের ফয়সালা অর্থটা সুরা কদরে কেন হবেনা? এটা কি সুস্পস্ট ভুল ব্যখ্যা নয়?

আর সুরা দুখানের অর্থগুলো যদি একটু খেয়াল করেন আল্লাহ বলেছেন

শপথ প্রকাশ্য কিতাবের!= আল কোরআনের শপথ

নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি। = যেই রাতে কোরআন নাযিল হয়েছে সেটা নিশ্চই বরকতময় রাত্রি

নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী।= কারন আল্লাহ কোরআনের মাধ্যমে মানুষকে সকর্ত করেন

আমারই নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো ফায়সালা হয়।= আল্লাহর নির্দেশেই প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো মানুষের জন্য যা কল্যন কর বা অকল্যান কর তা তিনি কোরআনে ফয়সালা করে দিয়েছেন,

আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী= আল্লাহ কোরআন প্রেরন করেছেন। প্রেরনের চিন্তা করেন নি বা নাযিলের ফায়সালা করেন নি, তিনি নাযিল করেছেন শবে কদরে।


তো সুরা দুখান নিশ্চই কোরআন নাযিলের রাতকেই নির্দেশ করছে নাযিলের ফয়সালা কে নয়। কারন সুরা দুখানের ঐ আয়াত সমুহে কোরআনের মহাত্ব নিয়ে বর্ননা রয়েছে আর তাই কোরআন নাযিলের রাত্রির কথা প্রাসংগিক ভাবে এসেছে। আর অনেকে যে আয়াত কে শবে বরাতের দিকে নির্দেশ করেছে বলছেন তাদের বলব সুরা দুখানের ৩নং আয়াতের আশে পাশে আয়াত দেখুন কোরআন সম্পকে বলা আছে ।


আর অনেকে বলেছেন লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে।

তো আল্লাহ কি ভুলে গেছেন শবে বরাত কে কোরআনে উল্লেখ করতে? শবে বরাত যদি আল্লাহ আমাদের জন্য এত গুরুত্বপুর্ন মনে করতেন তবে তিনি নিশ্চই বলতেন একটি আয়াত হলেও শবে বরাত শব্দ উল্লেখ করতেন তিনি বলতেন এই সেই মহিমান্মিত রাত শবে বরাত যাতে তোমাদের ভাগ্য লিখা হয়, বা তোমরা শবে বরাতের রাতে বরকতের তালাশ কর, বা কোন একটি সুরা শবে বরাতের নামে কারন অনেকেই বলেন লাইলাতুম মুবারাকাহ শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে।

তবে কি আল্লাহ আমাদেরকে তার ভাগ্য রজনী সম্পকে জানাতে ভুলে গেছেন, তিনি যদি সুরা কদর নাযিল করতে পারেন এর মর্যাদার জন্য তবে শবে বরাতের জন্য কেন নয়?

শবে বরাত যদি এতই গুরুত্বপূর্ণ হত তাহলে এই রাতের নাম "লাইলাতুল বারাত" শব্দটি কুরআন তো দূরের কথা, কোন দূর্বল হাদীসেও পাওয়া যায় না কেন? যদি এতই গুরুত্বপূর্ণ রাত হত তাহলে রাসূলুল্লাহ(সা) কি সাহাবীদের জানাতেন না এবং রাতভর ইবাদত করতে উদ্বুদ্ধ করতেন না? যদি করতেন তাহলে এর স্বপক্ষে শক্তিশালী হাদীস নেই কেন? সাহাবীরা এ রাত পালন করতেন এরকম দলীল নেই কেন? আর আমার জানামতে মানুষের ভাগ্য তার জন্মের পূর্বেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, প্রতি বছর বছর হালনাগাদ হয় না। ইবাদত করতে দোষ নেই এ রাতে তবে এ রাতকে উদ্দেশ্য করে ইবাদত করে একে একটা আচারে পরিণত করাটা বিদআত হওয়াটাই স্বাভাবিক।

যেটাতে আমি গুরুত্বপুর্ন ভাবছি আমাদের মিডিয়ার উচিত এই বিষয়টা স্পস্ট করে প্রচার করা। যেন আমরা আমাদের মধ্যে শবে কদরের রাতটি হয়ে ওঠে সর্বাপেক্ষা মহিমান্নিত ও গুরুত্বপূর্ণ। আর শবে বরাতের কথা যেহেতু নেই তাই যে ইচ্ছা পালন করুক তবে যেন ভুল ধারনায় নয় যেন এই রাত্রিতে সব কিছু নির্ধারিত তাই যদি কিছু পাওয়ার ইচ্ছা থাকে শবে কদরে বেশি নামাজ রোজা মোনাজাত করুন।

ইসলামী শরীয়তে হাজার হাজার বিসয় আছে যেগুলো সরাসরি কুরআন শরীফে নেই। তাহলে আপনি সে সব বিষয়েও কি বলবেন আল্লাহ ভুলে গেছে?   
    
হ্য নাই হাজার হাজার বিষয় , এখন দুটি দিক দেখতে হবে এক শবে বরাত কি কোরআনে আছে অথবা হজরত মুহাম্মদ (সঃ) বা সাহাবিরা পালন করেছিলেন,

কারন বিদায় হজ্জের শেষ কথা কি ছিল নিশ্চই জানেন , আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীন কে পরিপুর্ন করলাম।আল কোরআনের শেষ নাযিল কৃত আয়াত

আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।সুরা আল মায়েদাহ আয়াত ৩।
“This day I have perfected your religion for you, completed My Favour upon you, and have chosen for you Islam as your religion.” [5:3]

আমি কাউকে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকতে বলিনি, বলেছি যাতে আপনারা এটা মনে না করেন যে শবে বরাত কোরআন দ্বারা প্রতিস্ঠিত। অনেকে আবার এর আমাকে জন্য মুরতাদ বলতেও থেমে থাকবেন না সেটা তাদের ব্যপার।


অনেকে আমাকে শাবে বরাত সম্পকে জিগ্গেস করছেন তাদের জন্য শবে বরাত সম্পকে বই: যাতে এর উৎপত্তির কারন , বিকাশ ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর রেফারেন্স সহ আশাকরি কাজে লাগবে

শিরোনাম: শবে বরাত ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
ভাষা: বাংলা
লেখক : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
http://www.islamhouse.com/p/43454


লিখেছেন-  ফয়সাল হাসান

মিলাদ , শবে বরাত ও মিলাদউন নবী
হাফেজ মুহাম্মদ আইয়ুব
Milad Shobe Borat O Miladun Nabee Keno Bid'at Hafiz Muhammad Ayyub
Click This Link  

0 comments
Labels: ,

অর্থপূর্ন ও বরকতময় নামাজ পর্ব ১১/ নামাজে মনোসংযোগ বৃদ্ধির কিছু উপায়:

নামাজে মনোসংযোগ বৃদ্ধির কিছু উপায়:

আপনি কি জানেন, আপনি যখন নামাজে দাঁড়ান, শয়তান তখন প্রচণ্ড রকম হিংসা বোধ করতে থাকে। একারনেই সে নামাজে দাঁড়ানো ব্যক্তির মনকে ভিন্নমুখী করে তাকে নামাজের এই সুউচ্চ সম্মানিত অবস্থান থেকে সরিয়ে ফেলার সমস্ত রকম চেষ্টা চালায়। এবং দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, বেশির ভাগ সময়ই আমরা শয়তানের এই প্ররোচনায় পড়ে যাই। শয়তানের সাদৃশ্য কিছুটা মাছির মত, যতবার দূরে তাড়ান, ঘুরে ফিরে আবার চলে আসে।

নামাজে মনসংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমরা অনেকে নামাজ পড়ি ঠিকই কিন্তু নামাজে কী পড়ছি, কেন পড়ছি সেসব সম্পর্কে অবগত থাকিনা। কেবল উঠাবসা করলেই নামাজ হয়না, নামাজে আত্মার সংযোগ থাকতে হয়। তাই নামাজে মনসংযোগের কিছু উপায় সম্পর্কে আলোচনা করলাম (নেট ঘেটে পাওয়া):

মানসিক প্রস্তুতি:  
১.সারাদিনের কর্মপরিকল্পনা নামাজকে কেন্দ্র করে তৈরি করুন। অর্থাৎ দিনের কাজ-কর্মের ফাঁকে ফাঁকে নামাজকে না ঢুকিয়ে আগে থেকেই প্ল্যান করে নিন যেন নামাজের সময়সূচিকে ঘিরে কাজ-কর্ম সেরে ফেলতে পারেন। কারণ মহান আল্লাহতায়ালার স্মরণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

২. নামাজে সময়ানুবর্তিতা মেনে চলুন। ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ পড়ে ফেলুন। অহেতুক নামাজ পড়তে দেরি করবেন না।
৩.পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতের সাথে পড়ার চেষ্টা করুন। কারণ আল্লাহ কোরানে সূরা বাকারা’র ৪৩ নং আয়াতে বলেছেন, “তোমরা রূকুকারীদের সাথে রুকু দাও”। এর দ্বারা জামাতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব বুঝা যায়।
৪. শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তিতে থাকাকালে নামাজ পড়বেন না।
৫. নামাজে দাঁড়ানোর পূর্বে সকল অবসাদ, দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন।
৬. নামাজে কোন কোন সূরা পড়বেন তা নামাজে দাঁড়ানোর আগেই ঠিক করে নিন।
৭.চেষ্টা করুন নামাজে কী আয়াত পড়ছেন তা অনুধাবন করার। কারণ আয়াতের অর্থ বুঝে পড়লে তা মনসংযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। সেজন্য কিছু বহুল পঠিত সূরা এবং দোয়ার বাংলা অনুবাদ মুখস্থ করে নিন। কারণ আমি আল্লাহর কাছে নামাজে কী চাইছি তা যদি জানতেই না পারলাম তবে লাভ কী হল? নামাজে মনসংযোগের জন্য এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শারীরিক প্রস্তুতি:  
১. নামাজে দাঁড়ানোর পূর্বে ক্ষুধা, তৃষ্ণা, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া প্রভৃতি জৈবিক কাজ সেরে নিন।
২.পরিচ্ছন্ন অবস্থায় নামাজ আদায় করুন। সেজন্য সঠিকভাবে ওযু বা গোসল সম্পন্ন করুন।
৩.পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গায় শান্ত, কোলাহলমুক্ত পরিবেশে নামাজ আদায় করুন।মনসংযোগে বিঘ্ন ঘটায় এমন কোন কিছু সামনে রাখবেন না।

নামাজ পড়ার সময়:
১.নামাজে তাড়াহুড়া করবেন না। মনে রাখবেন আপনি বিশ্বজগতের প্রভু সর্বশক্তিমান আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান। অতএব ধীর-স্থিরভাবে নামাজ সম্পন্ন করুন।
২.নামাজের প্রতিটি ধাপ যেমন রূকু, সিজদা সঠিকভাবে আদায় করুন।
৩.নামাজে আপনার মস্তক অবনত রাখুন এবং দৃষ্টিকে সিজদার স্থানের দিকে নিবদ্ধ রাখুন।
৪.নামাজ পড়ার সময় মাথায় রাখুন যে এই নামাজই হয়তোবা আপনার শেষ নামাজ। অতএব জীবনের শেষ নামাজ কি মনোযোগের সাথে পড়তে চাইবেন না?
৫.নামাজে দন্ডায়মান অবস্থায় মনোযোগ ছুটে যেতে চাইলে কল্পনা করুন যে আপনি পুল সিরাতের উপর দাঁড়িয়ে আছেন। আপনার নীচে জাহান্নামের গনগনে আগুন, সামনে জান্নাত আর উপরে মহান আল্লাহ আপনাকে দেখছেন। কল্পনা করুন আপনার পিছনে মৃত্যুদূত হযরত আযরাইল (আ) দাঁড়িয়ে আছেন আপনার জান কবয্ করার জন্য। এ অবস্থায় কি মনোযোগ ছুটে যাওয়া সম্ভব?

নামাজে এই পন্থা প্রয়োগ করে দেখুন:
নিজের মন থেকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করুন যে আল্লাহতায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দিতে চান, মার্জনা করে দিতে চান এবং আপনার প্রতি করুনা বর্ষণ করতে চান|বিশ্বাস করুন এবং মনপ্রাণ দিয়ে আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করুন যেনো তিনি
আপনাকে জান্নাতুল ফিরদাউস করেন, এবং শুধু তাইই না, আপনি যেনো জান্নাতে সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিবেশী হোন| এগুলো আকাশচুম্বী কল্পনাপ্রসূত কোন গল্প নয়| বরং আল্লাহ
তায়ালা বলেন:

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। [সুরা গাফির ৪০:৬০]

নবী(সা:) বলেন: “আল্লাহর কাছ থেকে নিশ্চয়তার সাথে প্রার্থনা করো|”

একাগ্র চিত্তে ওপরিশ্রমের মাধ্যমে; একবারে না হলে পুনরায় চেষ্টা করতে হবে, চাইতে হবে আল্লাহর কাছে তিনি যেনো আপনার জন্য ‘রযা’ পাওয়াকে সহজ করে দেন, যদি তা না করি তাহলে সেটা হল ‘আমানি’..সঠিক একাগ্রতা আর অধ্যাবসায় ছাড়া এমনি এমনি আল্লাহর করুনা প্রার্থনা করা- তিনি(আল্লাহ) তা করা পছন্দ করেন না|

আল্লাহতায়ালা বলেন:

وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ

আর যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে, আমি তার প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল। [সুরা তাহা ২০:৮২]

আর এমন করলেই তিনি আপনাকে আপনার প্রতাশার চাইতেও বেশী কিছু দান করবেন|

আল্লাহর করুনা:আল্লাহ তাঁর করুণাকে ৯৯ ভাগে ভাগ করেছেন, এবং তার মাত্র একটি ভাগ তিনি সমগ্র পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন| এই এক ভাগই এত শক্তিশালী যে তা সৃষ্টির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মায়েদের, বাবাদের, সন্তানদের, স্বামীদের, স্ত্রীদের এমনকি সকল পশু প্রানীদের মাঝে এমন ভাবে বিদ্যমান- যে সন্তান যতই যা করুক মা তাঁর
সন্তানের একটু কষ্ট দেখলে কী যন্ত্রনাই না পায়; কোন বাবা তার সন্তানের জন্য কত কী না করেন; জন্ম দেয়ার পর মা কিভাবে আগলে রাখে তার সন্তান দের....আরো কত...|

আরেকটি উদাহরন দেই-নিজের জন্মের আগের অবস্থা কল্পনা করুন – কিছুই ছিলেন না আপনি, নয় মাস মায়ের পেটে থেকে মাকে ব্যথা দিয়েছেন, এত কষ্ট দিয়েও ক্ষান্ত হননি, পৃথিবীতে আসার মুহূর্তেও মাকে দিয়েছেন কী অসম্ভব কষ্ট, কী পরিমান কষ্ট সয্য আপনার মা আপনাকে জন্ম দিলেন অথচ জন্মের পরপরই আপনিই হয়ে গেলেন তার নয়নমনি, আদরের ধন ...একবার কী চিন্তা করেছেন আপনি কী এমন করেছিলেন যে আপনি আপনার মার এত ভালোবাসা, দয়া, করুনার পাত্র হয়ে গেলেন? এসবি যদি সেই একটি ভাগেরই অংশ হয়ে থাকে তবে বাকি ৯৯ ভাগের কথা কী কল্পনা করা সম্ভব? কখনই না ..

তার করুনা অসীম; শেষ বিচারের দিন তিনি যখন এই সমগ্র করুনা নিয়ে আমাদের বিচার করবেন তখন কী অবস্থা হতে পারে? এটা কী আমাদের আবৃত না করে পারবে? আমাদের চেয়ে অনেক পাপী মানুষ যাদের আল্লাহ তাঁর স্বীয় করুনায় ক্ষমা করে দিয়েছেন, যেমন সেই মানুষটি যে ৯৯জনকে হত্যা করেছিলো তারপর আরও একজন কে হত্যা করে ১০০ পুরো করছিলো আর আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন | তাহলে কিভাবে তিনি আমাদের ক্ষমা ও করুনা না করে থাকতে পারেন?





তাহলে আপনি আমি কী তাঁর অসীম করুনার ভাগিদার হতে পারিনা? অবশ্যই পারি| চলুন তাহলে আজ থেকেই এভাবে নামাজ পড়ি ও প্রার্থনা করি|

প্রিয় মুসলিম ভাই-বোনেরা, আসুন আমরা সহীহ ভাবে পূর্ণ মনোযোগের সাথে মহান আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হয়ে নামাজ আদায় করি। মহান আল্লাহ আমাদের সেই তওফিক দান করুন। আমিন।


অর্থপূর্ন ও বরকতময় নামাজ বই আকারে পিডিএফ ফাইল পড়তে ও ডাউনলোড করতে
Click here

Meaningful Prayer in English PDF Document Read or Download

0 comments
Labels: ,

অর্থপূর্ন ও বরকতময় নামাজ পর্ব ১০/ নামাজের সুফল কোরআনের আলোকে:

  নামাজের সুফল

নামাজের সুফল কোরআনের আলোকে:
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ    তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে। সূরা আল-মু’মিন আয়াত ( ৪০: ৬০).

নামাজ/সালাত সকল মুসলিম নর নারীর জন্য আবশ্যিক/ফরজ যখন তারা উপযুক্ত হয়, অন্যান্য অনেক উপকারিতার মত  এখানে কিছু উপকারিতার তুলে ধরা হল কোরআনের আলোকে কেন নামাজ এত গুরুত্ব পুর্ন

 ১। আল্লাহ তাদের সাথে যারা প্রর্থনা করে  “يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ    
হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।  সুরা আল-বাকারা (২:১৫৩)     

 ২। নামাজ পথ প্রর্দশন করে: সুরা আল-বাকারা (২:২-৩)  ذَلِكَ الْكِتَابُ لاَ رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ    এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,      الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ     যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে      
 
৩।নামাজ বিশ্বসীদের দলিল/ কাজ: وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَـئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللّهُ إِنَّ اللّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ    
আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।  সূরা আত তাওবাহ আয়াত ( ৯.৭১),

৪। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত আসে: সূরা আশ-শুরা ,আয়াত(৪২:৩৬-৩৮) فَمَا أُوتِيتُم مِّن شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَى لِلَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ    
36:অতএব, তোমাদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ মাত্র। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তা উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী তাদের জন্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও তাদের পালনকর্তার উপর ভরসা করে।    

 وَالَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ    
37:যারা বড় গোনাহ ও অশ্লীল কার্য থেকে বেঁচে থাকে এবং ক্রোধাম্বিত হয়েও ক্ষমা করে,    

وَالَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ    
38:যারা তাদের পালনকর্তার আদেশ মান্য করে, নামায কায়েম করে; পারস্পরিক পরামর্শক্রমে কাজ করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে,

৫। নামাজ আখিরাতে সুফল বয়ে আনবে  إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُواْ الصَّلاَةَ وَآتَوُاْ الزَّكَاةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ    
নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সৎকাজ করেছে, নামায প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যাকাত দান করেছে, তাদের জন্যে তাদের পুরষ্কার তাদের পালনকর্তার কছে রয়েছে। তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না। সুরা বাকারা আয়াত(২:২৭৭)   
৬। নামাজ আল্লাহর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে:
 فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلاَةَ فَاذْكُرُواْ اللّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ فَإِذَا اطْمَأْنَنتُمْ فَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ إِنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا    অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। সূরা আন নিসা আয়াত (৪:১০৩)

 ৭।নামাজ যত্নবান হতে সাহাজ্য করে:  حَافِظُواْ عَلَى الصَّلَوَاتِ والصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَقُومُواْ لِلّهِ قَانِتِينَ    
সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও। সুরা বাকারা আয়াত(২:২৩৮)

 ৮।নামাজের মাধ্যমে ধৈর্য্যশীলতার শিক্ষা:  يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ     হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন। সুরা বাকারা আয়াত(২:১৫৩)

৯। জুম্মার নামাজের গুরুত্ব: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ     
মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।  
  
فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ    
অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। সূরা আল জুমুআহ,আয়াত(৬২:৯-১০)

১০। নামাজ শয়তার হতে দুরে রাখে:
إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاء فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللّهِ وَعَنِ الصَّلاَةِ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ    শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখন ও কি নিবৃত্ত হবে? সূরা আল মায়েদাহ আয়াত (৫:৯১),

১১। নামাজ যন্ত্রণা/ঝামেলা/অসুবিধা থেকে বাচিয়ে রাখে:
اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ    আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর। সূরা আল আনকাবুত আয়াত (২৯:৪৫),    ১২। শুধু তারাই আপনার প্রকত বন্ধু যারা নামাজ কায়েম করে:
 •إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُواْ الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ    
তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ তাঁর রসূল এবং মুমিনবৃন্দ-যারা নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং বিনম্র। সূরা আল মায়েদাহ, আয়াত(৫:৫৫)

 ১৩। নামাজ ও নারী সম্মান:
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا    
তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।  সূরা আল আহযাব আয়াত(৩৩:৩৩)

 ১৪। নামাজই মুনাফেকদের চিহ্নিত করে:
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ وَإِذَا قَامُواْ إِلَى الصَّلاَةِ قَامُواْ كُسَالَى يُرَآؤُونَ النَّاسَ وَلاَ يَذْكُرُونَ اللّهَ إِلاَّ قَلِيلاً    
অবশ্যই মুনাফেকরা প্রতারণা করছে আল্লাহর সাথে, অথচ তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতারিত করে। বস্তুতঃ তারা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন দাঁড়ায়, একান্ত শিথিল ভাবে লোক দেখানোর জন্য। আর তারা আল্লাহকে অল্পই স্মরণ করে।  সূরা আন নিসা আয়াত(৪:১৪২)  
   
 ১৫। নামাজ ছারা কুফুরির অর্ন্তভুক্ত:
 مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ    
সবাই তাঁর অভিমুখী হও এবং ভয় কর, নামায কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। সূরা আর-রূম আয়াত(৩০:৩১)     

১৬। নামাজ ছারলে/ পরিত্যগ পুরো জাতি ধ্বংস প্রপ্ত হয়
:فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا    
অতঃপর তাদের পরে এল অপদার্থ পরবর্তীরা। তারা নামায নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হল। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে।     إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُوْلَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا    
কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা তওবা করেছে, বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সুতরাং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না। সূরা মারইয়াম আয়াত(১৯:৫৯)

আল্লাহ নামাজ সকল নবী রাসুলদের জন্য ফরজ/ অবশ্য পালনীয় করেছেন। আল্লাহ নামাজের কথা মহিমাম্বিত /গৌরবান্বিত/ঐশ্বর্যশালী/মহৎ হিসেবে বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন। যেমন যখন আল্লাহ মুসা (আঃ) সাথে সরাসরি কথা বলেন তখন তিনি ইরশাদ করেন “এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক।আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর”। সূরা ত্বোয়া-হা:আয়াত (২০:১৩-১৪)    

0 comments
Labels: ,

অর্থপূর্ন ও বরকতময় নামাজ পর্ব ৯/ দরুদ ও বরকতের দু‘আ আয়াতুল কুরসীঃ ও সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করা

***************** দরুদ ও বরকতের দু‘আ *************


২২।দরুদ পড়া:       
আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ

[
হে আল্লাহ্! হযরত মোহাম্মদ (দঃ) এবং মোহাম্মদ (দঃ)-এর আওলাদগনের উপর তোমার খাস রহমত নাযিল কর, যেমন ইবরাহীম (আঃ) এবং ইবরাহীম (আঃ)-এর আওলাদগনের তোমার উপর খাস্ রহমত নাযিল করেছ, নিশ্চয়ই তুমি প্রসংশার যোগ্য এবং সর্বোচ্চ্ সন্মানের অধিকারী]।

আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাক্’তা আ’লা ইব্রাহীমা ওয়া আ’লা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ

[
হে আল্লাহ্! হযরত মোহাম্মদ (দঃ) এবং মোহাম্মদ (দঃ)-এর আওলাদগনের উপর তোমার খাস বরকত নাযিল কর, যেমন ইবরাহীম (আঃ) এবং ইবরাহীম (আঃ)-এর আওলাদগনের তোমার উপর খাস্ বরকত নাযিল করেছ, নিশ্চয়ই তুমি প্রসংশার যোগ্য এবং সর্বোচ্চ্ সন্মানের অধিকারী]

২৩। বরকতের দু‘আ পড়া:  অত:পর নামাজ শেষ তাশাহ্‌হুদ ও দুরুদ পড়ার  পর আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে জাহান্নামের আজাব ও কবরের আজাব থেকে, জীবন-মৃত্যূর ফেতনা থেকে এবং মসীহ দাজ্জালের ফেতনা থেকে। তারপর আপন পছন্দমত আল্লাহর কাছে দু’আ করবে, বিশেষ করে নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত দু‘আ গুলো ব্যবহার করা সবোর্রত্তম। তন্মধ্যে একটি হল নিম্নরূপ:

«اَللهُمَّ أعِنِيْ عَلَى ذِكْركَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِِ عِبَادَتِكَ»
«اللهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمًا كَثِيْرًا وَّلا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلا أنْتَ فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِيْ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ»

উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা আ-ইনী আলা-জিক্‌রিকা ওয়া শুক্‌রিকা ওয়া হুস্‌নি ইবাদাতিক। আল্লাহুম্মা ইন্নী জালাম্‌তু নাফসী জুলমান কাসীরাউ” ওয়ালা ইয়াগফিরুজ্‌জুনু-বা ইল্লা আন্‌তা ফাগফিরলী মাগফিরাতাম্‌ মিন ইন্‌দিকা ওয়ার হামনী ইন্নাকা আন্‌তাল গাফুরুর রাহীম।

অর্থ: হে আল্লাহ ! আমাকে তোমার জিকির, শুকরিয়া আদায় ও ভালভাবে তোমারই ইবাদত করার তাওফীক দাও। আর, হে আল্লাহ ! আমি আমার নিজের উপর অনেক বেশী যুলুম করেছি, আর তুমি ছাড়া গুনাহসমূহ মাফ করতে পারেনা, সুতরাং তুমি তোমার নিজ গুনে আমাকে মার্জনা করে দাও এবং আমার প্রতি রহম করো, তুমিতো মার্জনাকারী অতি দয়ালু”।

দরুদের পর সালাম ফিরানোর পূর্বের দোয়া     :


রব্বানা- আ-তিনা- ফিদ্দুনিয়া- হাসানাতান, ওয়া ফিল আখেরাতি হাসানাতান, ওয়াক্বিনা- আযা-বান্নার।  
 
অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতে কল্যাণ দান করুন এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।    


আল্লা-হুম্মা ইন্নী- আ’ঊযুবিকা মিন আযা-বি জাহান্নাম, ওয়া মিন আযা-বিল ক্বাবরি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া- ওয়ালমামা-তি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসী-হি দ্দাজ্জাল।

অর্থঃ আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় কামনা করি জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফেৎনা থেকে।   

পিতামাতার জন্য দোয়া এবং আরও যত দোয়া আছে তা এখানে করা ভাল:

রাব্বি জাআলনি মুকিম-আস-সালাতি ওয়া মিন জুররিয়াতি রাব্বানা ওতাওব্বাল দোয়া, রাব্বানা গিফিরলি ওয়ালি ওয়ালেদাইয়া ওয়া লিল মুওমিনিনা ইওমা ইয়াকুমুল হিসাব

হে আল্লাহ/মালিক/প্রভু আমাকে আমার প্রর্থনায় এবং আমার দানের উপর কায়েম থাকার তৌফিক দিন, হে আল্লাহ/মালিক/প্রভু আমার গুনাহ সুমুহ মাফ করে দিন এবং আমার পিতামাতার ও সকল বিশ্বাসীর গুনাহ মাফ করে দিন যখন শেষ বিচারের দিন আসবে।

২৪। সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করা:
প্রথমে মাথা ডান দিকে ফিরিয়ে বলা আসসালামু আলাইকুল ওয়া রাহমাতুল্লাহ এবং পরে বাম দিকে ফিরিবে বলা আসসালামু আলাইকুল ওয়া রাহমাতুল্লাহ যার অর্থ: আপনার উপর সালাম ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

এভাবে দুরাকাত নামাজ পড়া হয়. নামাজ যদি তিন রাকাত( যেমন মাগরিব) হয় তবে দ্বিতীয় রাকাতে সিজদার পড় বসে তাশাহ্’হুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ার পর দাড়িয়ে যাবে এবং প্রথম রাকাতের মত পরবে সুরা ফাতিহা এবং বাকি সকল কিছু করার পড় সিজদা তে গিয়ে যদি তিন রাকাত হয় তবে দ্বিতীয় রাকাতের শেষের মত  তাশাহ্’হুদ (আত্তাহিয়্যাতু) , দরুদ ও বরকতের দু‘আ পড়ে সালাম ফিরাবে আর

যদি চার কাত হয় তবে তবে দ্বিতীয় রাকাতে সিজদার পড় বসে তাশাহ্’হুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ার পর দাড়িয়ে যাবে এবং প্রথম রাকাতের মত পরবে সুরা ফাতিহা এবং বাকি সকল কিছু করার পড় সিজদা তে গিয়ে দাড়িয়ে যাবে ফলে তিন রাকাত পরা হল এখন চতুর্থ রাকাত শুরু করবে (সুরা ফাতিহা, রুকু  সিজদা করে)এবং দ্বিতীয় রাকাতের মত  তাশাহ্’হুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ার পর দরুদ ও বরকতের দু‘আ পড়ে সালাম ফিরাবে ।

সালাম ফিরানোর পরের তাসবীহ সমুহ : আস্তাগফিরুল্লাহ্ (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি)   

**আল্লা-হুম্মা আনতাস্ সালা-মু, ওয়ামিনকাস্ সালা-মু, তাবা-রাকতা ইয়া-যাল জালা-লি ওয়াল ইকরা-ম।   
অর্থঃ হে আল্লাহ্, তুমি প্রশান্তি দাতা, আর তোমার কাছেই শান্তি, তুমি বরকতময়, হে মর্যাদাবান এবং কল্যাণময়।   

سبحان الله (সোবহানাল্লাহ্) (আল্লাহ্ মহাপবিত্র) ৩৩ বার, الحمد لله (আল-হামদুলিল্লাহ্) (সকল প্রশংসা আল্লাহর) ৩৩ বার এবং الله أكبر ( আল্লাহু আকবার) (আল্লাহ্ সবচেয়ে বড়) ৩৩ বার পড়বে আর একশত পূর্ণ করতে নিম্নের দো’আটি পড়বে।

(لاَإِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَشَرِيْكَ لَهُ ؛ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَعَلىكُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ )

উচ্চারণঃ (লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শারী-কালাহু,লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হামদু,ওয়া হুয়া ‘আলা- কুল্লি শাইইন ক্বাদী-র।)

অর্থঃ আল্লাহ্ ছাড়া (সত্য) কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। সকল বাদশাহী ও সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য। তিনিই সব কিছুর উপর ক্ষমতাশালী।   

**লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শারী-কালাহু,লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হামদু,ওয়া হুয়া ‘আলা- কুল্লি শাইইন ক্বাদী-র। আল্লা-হুম্মা লা- মা-নি’আ লিমা- আ’তাইতা, ওয়ালা- মু’তিয়া লিমা- মানা’তা, ওয়ালা ইয়ানফা’উ যালজাদ্দি মিনকালজাদ্দু। লা- হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হি, লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়ালা- না’বুদু ইল্লা- ইয়্যা-হু, লাহুন্নি’মাতু ওয়ালাহুল ফাদ্বলু, ওয়ালাহুস্ ছানা-উল হাসানু, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুখলিসী-না লাহুদ্দী-না ওয়ালাউ কারিহাল কা-ফিরূন।

**অর্থঃ আল্লাহ্ ছাড়া (সত্য) কোন মা’বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, সকল বাদশাহী ও সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর উপরেই ক্ষমতাশালী। হে আল্লাহ! তুমি যা দান করেছো, তার প্রতিরোধকারী কেউ নেই। আর তুমি যা নিষিদ্ধ করেছো তা প্রদানকারীও কেউ নেই। এবং কোন সম্মানী ব্যক্তি তার উচ্চ মর্যাদা দ্বারা তোমার দরবারে উপকৃত হতে পারবে না। তোমার শক্তি ছাড়া অন্য কোন শক্তি নেই। আল্লাহ্ ছাড়া (সত্য) কোন মা’বূদ নেই। আমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করি, নেয়ামতসমূহ তাঁরই, অনুগ্রহও তাঁর এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই। আল্লাহ্ ছাড়া কোন (সত্য) মা’বূদ নেই। আমরা তাঁর দেয়া জীবন বিধান একমাত্র তাঁর জন্যই একনিষ্ঠ ভাবে পালন করি। যদিও কাফেরদের নিকট তা অপছন্দনীয়।   

আয়াতুল কুরসীঃ আল্লাহু লা- ইলাহা ইল্লা- হুওয়া, আল হাইয়্যুল কাইয়্যু-ম, লা-তা’খুযুহু ছিনাতুউঁ-ওয়ালা-নাউ-ম, লাহু- মা- ফিচ্ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা- ফিল ‘আরদি; মান্ যাল্লাযী- ইয়াশফা’উ ‘ইন্দাহু- ইল্লা- বিইয্ নিহি, ই’য়ালামু মা-বাইনা আইদী-হিম ওয়ামা- খালফাহুম, ওয়ালা- ইউহী-তূ-না বিশাইয়িম্ মিন ‘ইলমিহী-, ইল্লা- বিমা-শা-আ, ওয়াছি’আ কুরছিয়্যুহুচ্ছামা-ওয়া-তি, ওয়াল ‘আরদা, ওয়ালা- ইয়াউ-দুহু হিফজুহুমা- ওয়াহুয়াল ‘আলিয়্যুল আযী-ম।   

অর্থঃ আল্লাহ্;তিনি ছাড়া অন্য কোন (সত্য) মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব,সবকিছুর ধারক, তাঁকে তন্দ্রা এবং নিদ্রা স্পর্শ করতে পারে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। কে আছে এমন যে,তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত আছেন। যতটুকু তিনি ইচ্ছে করেন, ততটুকু ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসী সমস্ত আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করা তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি মহান শ্রেষ্ঠ। [সূরা আল-বাকারাহঃ ২৫৫]



অর্থপূর্ন ও বরকতময় নামাজ বই আকারে পিডিএফ ফাইল পড়তে ও ডাউনলোড করতে
https://docs.google.com/open?id=0B6aWh_t0c7b6SXRsUXpqQ09FaUE

Meaningful Prayer in English PDF Document Read or Download
https://docs.google.com/open?id=0B6aWh_t0c7b6Y2hzVHRZUExIbEE

0 comments