শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Labels: ,

মুঠোফোনে পুলিশি সেবাঃ ডিএমপি-এর এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার অল্প ক'দিন পরের কথা, তখন আমি উত্তরা ক্রাইম ডিভিশনে কর্মরত। শুক্রবারে সাধারণত আমি অফিস করিনা,তবুও ওদিন গিয়েছিলাম আলিয়স ফ্রসেসে।ফ্রেঞ্চ স্পিকিং দেশগুলোতে ইউ এন মিশন করতে গেলে ফ্রেঞ্চ জানা বাধ্যতামূলক- এটা শুনে খোঁজ খবর করতেই যাওয়া। ফেরার পথে হঠাৎ শুনি আমার মোবাইল ফোনে কে জানি বার বার চেষ্টা করছে। কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে কয়েকবার রিসিভ করলাম, কথা ঠিকমত শোনা যাচ্ছিলনা। তবুও খানিকটা সন্দেহ হওয়ায় যা শুনলাম তাতে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যাবার দশা!

"স্যার, আমি উত্তরার লেক রোড থেকে বলছি। আমরা আটজন লিফটে উঠেছিলাম, লিফট ছিঁড়ে আমরা সবাই এখন আটকা পড়েছি।বাসায় কেউ নেই,মোবাইল ফোনে আপনার নাম্বার ছিলো- এখন প্লিজ স্যার আমাদেরকে বাঁচান"।

দ্রুত ওয়্যারলেস হ্যান্ডসেটে নিকটস্থ মোবাইল প্যাট্রোল টিমকে ঘটনাস্থলে যেতে বললাম। সেবার স্রষ্টার অপরিসীম দয়ায় আটজনকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছিলাম।

লিফটের ওই ভদ্রলোক দুদিন পরে আমার অফিসে এসেছিলেন বড়সড় একটা ফুলের তোড়া নিয়ে। অল্প কিছুদিন আগে উত্তরার ছয়টি থানা কভার করে এরকম একটি এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ রিলিজ করা হয়েছিলো উত্তরা ক্রাইম ডিভিশনের পক্ষ থেকে। ওই চরম বিপদের মুহূর্তে ওটা ব্যবহার করেই তিনি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন, যার ফলে রক্ষা পেয়েছিল আটটি অমূল্য প্রাণ।

এই এ্যাপটি আমাদেরকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তৈরি করে দিয়েছিলো বুয়েটের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তারিক ও তন্ময়। ক্যাডেট কলেজের ছোটভাই হিসেবেই ওদের সাথে আমার পরিচয়, আর দেশের জন্যে কিছু করার তাগিদ থেকেই ওদের এই "ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো"-র ব্যবস্থা।

উত্তরার সাফল্ল্যে উজ্জীবিত হয়ে আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার সবকটি পুলিশ স্টেশনকে এধরণের একটি এ্যাপের অধীনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিই, যেটি অনুমোদন করেন ডিএমপি কমিশনার জনাব বেনজীর আহমেদ। মাসখানেকের প্রচেষ্টায় সমগ্র ঢাকার জন্যে একটি এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ দাঁড়ায়, যেটি এবছরের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৫০,০০০ ব্যক্তি এটি ব্যবহার করছেন।পাঠকদের জন্যে এই এ্যাপটির বিশেষ বিশেষ ফিচারগুলোর বর্ণনা দিচ্ছিঃ

১) ঢাকার সকল থানার ওসি এবং ডিউটি অফিসারের নম্বর সহ এতে রয়েছে প্রতিটি থানার ঠিকানা এবং ম্যাপ। এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে ঢাকার যে কোন স্থান থেকে আপনি আপনার সবচেয়ে কাছের থানাটি সহজেই খুঁজে বের করতে পারবেন; সেই সাথে গুগল ম্যাপে আপনাকে সেই থানায় যাওয়ার পথও দেখিয়ে দেবে এটি। ওসি এবং ডিউটি অফিসার যেন আপনার ডাকে সাড়া দেন সেজন্যে সব ওসিদের ডেকে স্বয়ং কমিশনার অফিস থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।


২) ডিএমপির ফেসবুক পেইজে সহজেই যে কোন পোস্ট বা মেসেজ দেয়ার জন্যে এতে রয়েছে একটি ‘ফেসবুক বাটন’ যা আপনাকে সরাসরি ডিএমপির সর্বশেষ তথ্য ও সেবা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।




উপরের ছবিতে ইংরেজি "এ" লেখা বাটনটি ল্যঙ্গুয়েজ বাটন, এর মাধ্যমে বাংলা বা ইংরেজি যে কোন ভাষায় পুরো এ্যাপটি দেখা যাবে। এর নীচেই ফেসবুক বাটন, তারপর ম্যাপ বাটন, যেটি আপনার অবস্থান থেকে নিকটস্থ থানার ম্যাপ দেখিয়ে দেবে।

৩) ডিএমপির একটি নিজস্ব ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে, যেটির সাহায্যে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে রক্তদান করে থাকেন।জরুরী প্রয়োজনে ডিএমপির ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত সংগ্রহ এবং এ সম্পর্কিতে অন্যান্য তথ্য জানার জন্যে এতে সংযোজন করা হয়েছে একটা ‘ব্লাড বাটন’।


৪) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটের নাম উইমেন সাপোর্ট এ্যান্ড ইনভেস্টিগশন ডিভিশন। এই ইউনিটটিতে কন্সটেবল থেকে ডেপুটি কমিশনার পর্যন্ত সবাই নারী, এবং এদের মূল উদ্দেশ্য নারী ভিকটিমদের সহায়তা দেয়া। এদের ২৪ ঘন্টা হেল্পলাইন রয়েছে। কোন নারী ভিকটিম এই ইউনিটের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে ব্যবহার করতে পারেন নারী বাটন।


৫) ডিএমপি-ম্যাপ থেকে খুব সহজেই আপনি যে কোন থানার অবস্থান ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন আপনার কোন বন্ধু বা নিকটজনকে। জরুরী প্রয়োজনে এই অ্যাপ্লিকেশনে থাকা যে কোন ফোন নম্বর আপনার কোন বন্ধুকে এসএমএস করতে পারবেন মাত্র এক ক্লিকেই।


৬) হঠাৎ রাস্তায় ঘটা কোন দুর্ঘটনায় ডিএমপির হটলাইনে জানানোর জন্যে এতে রয়েছে একটি ‘কুইক কনটাক্ট বাটন’ যা ব্যবহার করে সহজেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে যে কোন তথ্য দেয়া যাবে সরাসরি ফোনে বা ইমেইলে। কোন অপরাধী সম্পর্কে পুলিশকে কোন তথ্য দেয়া বা ছবি পাঠানো কিংবা আপনার এলাকার কোন অপরাধ পুলিশকে জানাতে এখন আর কষ্ট করে থানায় আসতে হবে না, মাত্র একটি ক্লিকই যথেষ্ট।


৭) ট্রাফিক সম্পর্কিত তথ্য ও সহায়তার জন্যে রয়েছে ট্রাফিক বাটন, যেটির মাধ্যমে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত অফিসারদের সাথে সরসরি কথা বলতে পারবেন এবং ট্রাফিক আপডেট জানতে পারবেন। নীচের ছবিতে আরো কয়েকটি বাটন আছে, যেমনঃ বিদেশী নাগরিকদের সহায়তার জন্যা "চ্যান্সেরি বাটন", সবগুলো থানার ঠিকানা, ম্যাপে অবস্থান ও ফোন নম্বর নিয়ে বিল্ডিং-আকৃতি বাটন ইত্যাদি।


৮) এছাড়াও এই অ্যাপ্লিকেশনটিতে ডিএমপির বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে।


৯) ঢাকাবাসীর ব্যবহারের জন্যে এই মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১৩ জানুয়ারি উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ। এর পরেই গুগল প্লো স্টোরে সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এটি। যে কেউ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিচের ঠিকানা থেকে এটি ডাউনলোড করতে পারবেন।


ডাউনলোড লিংক: http://goo.gl/UkdJoZ

গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে "ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ" লিখলেও পেয়ে এটি সহজেই পেয়ে যাবেন।

অ্যাপ্লিকেশনটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে ফেসবুকের এই পেইজ থেকে এবং আগ্রহীরা এখানে সরাসরি নির্মাতাদের সাথে কথা বলার এবং বিভিন্ন মতামত শেয়ার করারও সুযোগ পাবেন:

https://www.facebook.com/mobileappofdmp

এবার একটি মজার তথ্য দিই, এই এ্যাপটি তৈরি করতে তারিক আর তন্ময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে মজুরী হিসেবে নিয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা।তাদের বক্তব্যঃ

ছয় বছর ক্যাডেট কলেজ আর ৪ বছর বুয়েট- দেশের টাকাতেই আমাদের এতদূর আসা।তাই দেশমাতৃকার প্রতি আমাদের এই ক্ষুদ্র নিবেদন। আমরা চাই আমাদের মত আরো অনেক মানুষ নিজেদের জায়গা থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কিছু একটা করুক।

তারিক আর তন্ময় আমার ক্যাডেট কলেজের ছোটভাই- এই গর্বে আজকাল আমি মাটির তিন হাত উপর দিয়ে হাঁটি। ওদের এই বক্তব্যের পরে আমাকে কি খুব একটা দোষ দেয়া যাবে?


পরিশিষ্টঃ

ক) উত্তরার এ্যাপটি বাংলাদেশ সরকারের যে কোন প্রতিষ্ঠানের প্রথম এ্যাণ্ড্রয়েড এ্যাপ, আর ডিএমপি এ্যাপটি দ্বিতীয়।ডিএমপি এ্যাপটির মূল কাজ পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ঘটানো এবং তথ্য দিয়ে পুলিশি সেবা সরাসরি নাগরিকদের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেয়া। আমরা জানি, পুলিশের পক্ষ থেকে নানারকম সমস্যা হতে পারে, হয়ত কেউ কেউ ফোন করেও আশানুরূপ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে।এসব সমস্যা নিয়েও আমরা আশাবাদী, কারণ অন্ততঃ শুরু তো হল!

খ) এই এ্যাপটির অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের ( আই ফোন, উইন্ডোজ ইত্যাদি ) কাজ শেষের পথে, মাসখানেকের মধ্যে রিলিজ দেয়া হবে। এছাড়াও, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সারা দেশের সবগুলো থানা, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং হাসপাতাল একত্রিত করে একটি এ্যাপের কাজ শুরু হয়েছে, যেটি এবছরের মাধ্যমে রিলিজ দেয়া হবে।

গ) জানি, হাজারটা সীমাবদ্ধতা আছে। তাই বলে কি আমরা থেমে থাকব? বাংলাদেশ পুলিশের মত "ভাঙ্গাচুরা" (??!!) বিভাগ যদি এ্যাপ বের করে ফেলতে পারে, বাকিদের পক্ষে কি কি করা সম্ভব সেটা চিন্তা করলে ইচ্ছে করে আকাশে উড়ে বেড়াই।

আমাদের দেশটাকে আমরা স্বপ্নের দেশ হিসেবে দেখতে চাই, এবং সেটা খুব তাড়াতাড়ি।

চলুন, হাত লাগাই!

মাসরুফ হোসেন
সহকারী পুলিশ কমিশনার
(ক্যান্টনমেন্ট জোন)
গুলশান অপরাধ বিভাগ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ
০১৭১৩৩৯৮৩৪২

0 comments

সুরা ফাতিহা, সুরা হুমাজা, সুরা ইখলাস বাংলা

এক বোন (Sara Nowreen) তিনটি সূরার অনুবাদ দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের এই বোনকে উত্তম প্রতিদান দিক। আমিন।

Surah Fatiha
https://drive.google.com/file/d/0B5cANnNgIKAcM09JTjRqSzJpeTA/edit?usp=sharing

Surah Humazah
https://drive.google.com/file/d/0B5cANnNgIKAca2RoWjdXUWZTcmc/edit?usp=sharing

Surah Ikhlas
https://drive.google.com/file/d/0B5cANnNgIKAca1lxTFpSM0YxMEE/edit?usp=sharing


Source:Nouman Ali Khan Collection In Bangla
https://www.facebook.com/NAKBangla

0 comments
Labels: ,

বাংলাদেশের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসলামের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট


বাংলাদেশের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসলামের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিবেচনা : বাংলাদেশকে পাকিস্তান আক্রমন করেছিল বাংলাদেশ করেনি, পাকিস্তানিরা এদেশে এসে হত্যা চালিয়ে ছিল তাই না।

এবার ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ গুলো দেখুন কোথায় হয়েছে মদিনায় বা মক্কার বাইরে , কারা আক্রামন করেছে মক্কার কোরাইশরা তাই না, কারা যুদ্ধ শুরু করেছে মক্কার কোরাইশ রা তো যখন আপনি কউকে আক্রমন করতে যাবেন তখন যেই নারীদের নিয়ে যাচ্ছেন যুদ্ধ পরবতীতে তাদের কি হবে তা ভেবেছেন? সেই নারীরা কি সেচ্ছেয় যু্দ্ধে যায় নি? মুসলমানরা কি কখনো আগে আক্রমন করেছে?

বাংলাদেশের নারীরা এখানেই ছিল তারা এসে আমাদের আক্রমন করেছে আমাদের নিজেদের বাচাতে আমাদের নারীরা যুদ্ধে সহায়তা করেছে বলে পাকিরা আমাদের নারীদের এমন করে এখানে দোষ পাকিদের আর সেখানে দোষ কি সেই মক্কার কোরাইশদের নয় যারা নারীদের যুদ্ধে ব্যবহার করেছে ?

আর সবার শেষে যখন মক্কা বিজয় হলো তখন কতজন যুদ্ধ বন্দিনি ধরা হয়ে ছিল কতজন কে ধর্ষন করা হয়েছিল? তখন কি বলা হয়নি ..।

মোহাম্মদ (সঃ) মক্কা বিজয়ের পর কোরআইশদের উদ্দেশ্যে বলেন : " যে আবু সুফিয়ান এর বাসায় প্রবেশ করবে সে নিরাপদ, যে অস্ত্র ফেলেদিবে\সারেন্ডার করবে সে নিরাপদ, যে ঘরের দরজা বন্ধ করেছে সেও নিরাপদ " এমন ক্ষমার দৃস্টন্ত পৃথিবীতে আজো বিরল, অতুলনীয়, শুধু তাই নয় মোহাম্মদ (সঃ) আরো বলেন :

আমি তোমাদের জন্য সেই কথাই বলবো যেমনটি ইউসুফ তার ভাইদের বলেছিল " আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের কে ক্ষমা করুন। তিনি সব মেহেরবানদের চাইতে অধিক মেহেরবান। "

সুবহানাল্লাহ এরচেয়ে সুন্দর , ক্ষমার, ভ্রাতৃত্বের, বন্ধনের, আদর্শের উদাহরন আর কোথায় পাবেন ইসলাম ছারা।

0 comments
Labels: , , ,

সত্য প্রত্যাখ্যানের কৌশল

সত্য মিথ্যার চিরকালীন দ্বন্দ্বে মিথ্যাবাদীরা কি কৌশলে প্রভাব খাটিয়ে কিছুদিনের জন্য টিকতে পারে তার নিয়ে ওস্তাদ নোমান আলী খান কুরআন হাদীস ঘেটে তাদের ৫টি কৌশলের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এক খুৎবাতে। লিখা একটু বড় হতে পারে একটু ধৈর্য ধরে পড়ার অনুরোধ রইলো।

মিথ্যাবাদীদের কৌশল গুলো বলার আগে দেখি আল্লাহ সত্যকে কিভাবে চিত্রায়িত করেছেন কুরআনে।  সত্য সবসময় আগ্রাসী আর মিথ্যাকে সামনে পেলেই চুরমার করে ফেলে:

“আমরা সত্যের দ্বারা মিথ্যার উপর আঘাত হানি, ফলে তার মগজ চুরমার হয়ে যায়, তখন দেখো! তা অন্তর্হিত হয়। আর ধিক তোমাদের প্রতি! তোমরা যা আরোপ কর সেজন্য।“
সুরা আম্বিয়া ১৭

সত্যের নিজের কোন অস্ত্র লাগেনা। মিথ্যাকে মারার জন্য সত্য নিজেই এক অস্ত্র। কোন বিষয়ের সত্য মিথ্যা একসাথে রাখলে সত্য একদম নিঃশেষ করে দেয় মিথ্যা কে। সত্য খুবই আগ্রাসী এ ব্যাপারে।
সত্যের আগমনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তারাই হয় যারা এতদিন মিথ্যা কিছু তথ্য আর বিশ্বাসের উপর ভর করে বিশাল বিশাল ইমারত তৈরি করে নিয়েছে আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম অন্ধ ভাবে তা মেনে চলছে।

এইসব অহংকারী মিথ্যাবাদীরা কিভাবে সত্যকে নিশ্চিতভাবে জানার পরও প্রথম যে কৌশল এর আশ্রয় নেয় তা হল By Force  বা পেশী শক্তি আর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে। যেমন

ছোট দুর্বল এক ছেলে তার এক বড় ভাইকে বির বির করে বলল:
২+২=৪
বড়ভাই বলে উঠল ভারী গলায় “না ২+২ =৫”
“কিন্তু দেখেন দুই হচ্ছে এক যোগ এক আর...”
“থাম, আমি বলছি ৫ , তাই ৫ এখন অফ যাও”

ইব্রাহীম (আঃ) যখন তাদের গোত্রদের বলল তোমরা ভুল ইলাহদের প্রার্থনা করছে আর জবাবে ওরা বলে
তাই না? ওকে জীবন্ত পুড়াও।
শুধু জোর খাটিয়ে পেশী শক্তি আর হুংকার দিয়ে সত্যকে দূরে ঠেলে দেয়।

দ্বিতীয় কৌশল হল চরিত্র হনন। আগের উদাহরণে আসি।

-“জান ভাইয়া ২+২=৪”
“তাই না?  তুমি তো বাইট্টা, ঠিকমত হাটতেও পারনা আর আমারে শিখাইতে আইসো না?”

মুসা (আঃ) যখন সত্যের দাওয়াত নিয়ে আসল তখন ফিরআউন বলত - ও আর কি দাওয়াত দিতে আসছে? ও নিজেও একজনকে খুন করে পালিয়ে গেছিল আর এখন যাদু করে বেড়ায়। কি আশা কর আর ওর থেকে?

এইভাবে যখন কেউ সত্য কথা সম্মুখে বলে তখন যে লোকটি কথাটি বলল তাকে নিয়ে, তার চরিত্র নিয়ে এরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

তৃতীয় কৌশল হল বিশাল এক জনসমাগমের আয়োজন করা আবেগী মানুষদের নিয়ে।

এটি হল ফিরাউনের কৌশল। মুসা (আঃ) কে হেনেস্তা করার জন্য নিজের মানুষদের নিয়ে বিশাল এক জনসমাগম করেছিল।মুসা(আঃ) তার মোজেজা দেখাবেন আর ফিরাউনের যাদুকরেরা যাদু দেখাবে।  মুসা (আঃ) যাই বলবেন আর যাই করবেন আর তখনই লোকেরা Boooooooooo করে উঠবে। সত্য কথা হলেও। মোটামুটি এই হল কৌশল।

পরে অবশ্য যাদুকরেরা ঐ জনসমাগমেই ঈমান আনলেন আর ফিরাউন যাদুকরদের বলল আমি জনতাম তোমরা এইখানে আসার আগে মুসার সাথে গোপন আলাপ করে এসেছিলা!

যখনই যুক্তিতে পেরে উঠেনা, তখনই এই সমমনা জনতার প্রয়োজন হয় আর এতেই প্রমান হয় তাদের যুক্তির দৌড় কতদুর। এই জনতার কোন একজনের সাথে যদি ব্যক্তিগত কথা বলা যায় দেখা যাবে যুক্তিসহ কথা বার্তা হচ্ছে কিন্তু ঐ যখনই জনসমুদ্রে যায় তখন আর কিছুর ধার ধারে না, যা বলছি তাই, তুমি ভণ্ড!

চতুর্থ কৌশলটা একটু গভীর আর ভয়ংকরও বটে। তা হল সে দাওয়াত নিয়ে আসছে সত্যের উপর তার নিজের আনুগত্যের প্রশ্ন তুলবে তারা। ইমোশনাল ব্ল্যাক-মেইল করা।  যেমন

একজন তার বাবাকে বলল, বাবা তোমার আয়ে তো সুদ জড়িত একটু ...
এইতো শুরু হল বাবার,

“তোমাকে বড় করছে কে? এতদিন দিনের পর দিন কষ্ট করে খাওয়ছি পড়াইছি আর এইসব কথা শুনাও না এখন? কি পালতেছি আমি!!?? খুব ইসলাম পালন করতেছ তাই না? দেখতেছিত কেমন ইসলাম। ইসলাম এই শিখাইছে না? বাবা মাদের সাথে এই আচরণ শিখছ না?......”

যাই হোক ছেলে যে সুদের প্রসঙ্গ তুলে আনলে সেটি এই কৌশলে ঢাকা পড়ে গেল।

নবী (স) কে উদ্দেশ্য করে কাফেররাও বলত যে সে নাকি শান্তি আনতে চাচ্ছে অথচ আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আসার পর অশান্তি আরও বেড়ে গেছ। ভাই-ভাই, স্বামী স্ত্রী, বাবা-ছেলে বন্ধন ভেঙ্গে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আর সর্বশেষ আর সবচেয়ে জনপ্রিয় কৌশল হল ভুলভাবে উদ্ধত করা। সোজা বাংলায় তেনা পেঁচানো। ফেসবুকের জামানায় এটা তো আরও বেশি হয়।
যেমন কেউ একজন বলল তুমি যেটা করছ ঐটা তো হাদীসে নিষেধাজ্ঞা আছে।
অন্যজন বলল ঐ হাদীসটা কে বর্ণণা করেছে?
জানি না
ও, জানও না? (দলবল নিয়ে হেসে উঠল) আর হাদীসের কথা বল না??

আর কেউ একজন কমেন্ট করল। আর অন্যজন আসে মুল কমেন্ট নিয়ে কিছু না বলে কমেন্টের বানানে কি ভুল হল আর অন্য প্রসঙ্গ টেনে এনে মুল কথা থেকে অনেক দূরে সরে এসে পেঁচাল পাড়ে।

এই হল মোটামুটি কৌশল গুলো। সত্য আসার পর মানুষ কেন তা অস্বীকার করে এই সব কৌশলের আশ্রয় নেয় তার কারণ বিশ্লেষণ করলে একটাই উপসংহার আসে। তা হল মানুষের Ego বা অহংকার।


##নোমান আলী খানের Quranic Imagery লেকচার অবলম্বনে। 

0 comments
Labels: ,

✦সুরা আল কাহাফ এর সিক্রেট✦

কখনো কি ভেবেছেন কেন মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ) আমাদেরকে প্রতি শুক্রবার সুরা আল কাহাফ পরতে বলেছেন।

চলুন আজ তা জানার চেস্টা করি ইনশাআল্লাহ..

এই সুরাতে চারটি কাহিনী রয়েছে, যাতে রয়েছে মোরাল বা শিক্ষনীয় বিষয়, চলুন তবে দেখাযাক এবং বাঝার চেস্টা করি সেই গল্প গুলো আমাদের কি বোঝাতে চেস্টা করছে।

১) গুহার লোকেরা: এটা একটি ঘটনা কয়েক জন যুবকের যারা এক অবিস্বাসীদের শহরে বসবাস করতো, তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে আল্লাহর জন্য তারা হিজরত করবে বা দেশান্তরে যাবে এবং তারা চলে যায় এবং আল্লাহ তাদের কে দয়া করেন সাহাজ্য করেন দেখুন আল্লাহ বলেন সুরা কাহাফ সুরা নং১৮ আয়াত নং ১৬: "তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক হলে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করে তাদের থেকে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয়গ্রহণ কর। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ কর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করবেন। "

আল্লাহ তাদের কে গুহাতে সুর্য হতে রক্ষা করেন এবংন যখন তারা জেগে ওঠে তখন তারা দেখতে পায় সম্পুর্ন শহর বিস্বাসীদের । সুর্য হতে রক্ষা বিষয়ে আরো বিস্তারিত ডাঃ নার্গিস পারভীন কুরআন কি বিজ্ঞানময় ? পোস্ট টা অবশ্যই পড়বেন অসাধারন পোস্ট টি পাবেন এখানে
Click This Link

মোরাল/শিক্ষা: ধর্মবিশ্বাসের উপর পরিক্ষা


২) দুটি বাগানের মালিক আয়াত ৩২ হতে ৪৫
এই ঘটনাটি দু ব্যক্তির উদাহরণ যাদের আল্লাহ বাগানের মালিক করেছেন, এর মাঝে এক ব্যক্তি আল্লাহর শুকুর করেনি এবং সে কেয়ামত, পরকাল ও আল্লাহ সর্ম্পকেও সন্দেহ করে। অতপর তার বাগান ধবংস হয়- এবং সে দুঃখপ্রকাশ ও অনুশোচনা করে কিন্তু ততক্ষনে অনকে দেরি হয়ে গিয়েছে তাই তার দুঃখপ্রকাশ কোন কাজে আসেনি।

মোরাল/শিক্ষা: সম্পদের উপর পরিক্ষা

৩) মুসা (আঃ) এবংন খিদির (আঃ)/ জ্ঞানী ব্যক্তি আয়াত ৬৫ থেকে ৮২

যখন মুসা (আঃ) সে কিগ্গেস করা হলো-" এ পৃথিবীতে কে সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ? তিনি বললেন আমি কিন্তু আল্লাহ মুসা (আঃ) কে এমন এক লোকের সাথে সাক্ষাত করেলেন যাকে আল্লাহ রহমত দান করেছিলেন ও দিয়েছিলেন এক বিশেষ জ্ঞান যা সচরাচর দেখা যায় না এবং আমরা অনেকে যা বিস্বাস করতে পারিনা যে মানুষ অনেক কিছু জানতে পারে যা তার আয়ত্তাধীন নয়।

মোরাল/শিক্ষা: জ্ঞানের পরিক্ষা

৪) যুলকারনাইন সম্পর্কে আয়াত ৮৩-১০২

যুলকারনাইন সম্পর্কে বলা আছে যে তিনি ছিলেন মহান শক্তিধর শাসক যাকে আল্লাহ জ্ঞান ও ক্ষমতা দান করেন। যুলকারনাইন পৃথিবীর সুযদয় স্থান হতে সুর্যাস্থল স্থান পর্যন্ত তিনি ভ্রমন করেন এবং তার সামর্থ অনুযায়ী দান ও সাহাজ্য করতে থাকেন । তিনি ইয়াজুজ ও মাজুজ যা সমস্যা করছিলো সেটা মোকাবেলা করেন এবং সেই এলাকার লোকদের সাহাজ্যে বিশাল এক সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেন।

মোরাল/শিক্ষা: ক্ষমতার পরিক্ষা

এই সুরার মাঝের দিকে আল্লাহ ইবলিস \শায়তান সর্ম্পকে বলেন যাকেও এই সকল পরিক্ষা করা হয় দেখুন আয়াত ৫০ "যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল। "

চলুন এবার দেখি বর্তমান সময়ে সুরা কাহাফ আমাদের জন্য কি ভাবে সম্পর্কিত:

আমদের জীবনে সবাইকে চারটি বিষয়ে পরিক্ষা দিতে হয়।

১। ধর্মবিশ্বাসের উপর পরিক্ষা
২। সম্পদের উপর পরিক্ষা
৩। জ্ঞানের পরিক্ষা
৪।ক্ষমতার পরিক্ষা

প্রথমত আমাদের ধর্মবিস্বাসে যা আছে সেটা কি আমরা মানি পালন করি আল্লাহর হক যেমন নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত, কুরবানি, জিকির এবং মানুষের হক যেমন অন্যের প্রতি ভালোব্যবহার, সর্বোত্তম সাহায্য, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা , প্রাপ্য অধিকার দান, এবং শান্তি কামনা করা ও শান্তি বজায় রাখা ইত্যাদি কতটুকু আমরা করছি সেটার পরিক্ষা।

আমাদের সম্পদের ব্যবহার, সেটার সুষম বন্টন, সম্পদে যাদের হক পরিবার, ভাই বোন, ও গরীব অসুস্থ ও দুস্থ লোকের জন্য দান সেটা আমরা কতটুকু করি কিভাবে আয় করি কিবাভে ব্যায় করি সকল কিছুই পরিক্ষা আল্লাহর পক্ষ হতে

আমাদের জ্ঞানের পরিক্ষা আমরা যা জানি সেটা কি ভাবে কাজে লাগাই সেটা দিয়ে কিভাবে অনে্যর উপকার ,করি ও সমাজের শান্তি ও উন্নয়নে এই জ্ঞান কতটুকু কাজে লাগাই, জ্ঞান কোন কাজে ব্যবহার করি এসকলও পরিক্ষা।

ক্ষমতা আল্লাহ সবাইকে দেন না আর যাকে দেন তাকে পরিক্ষা করেন সে তার ক্ষমতা কিভাবে কাজে লাগাচ্ছে বা ব্যবহার করছে।

এখন এসকল পরিক্ষার কথা জানলাম তবে পরিক্ষায় ভালো করার ফমুলাটাও জানি চলুন দেখি:

সারভাইভাল কিট ১: ভালো সাহচর্য্য. ভালো বন্ধু ভালো পরিবেশ
সুরা কাহফ আয়াত ১৮ "আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না।"

সারভাইভাল কিট ২ : এ পৃথিবীর সর্ম্পকে জানা
সুরা কাফহ আয়াত ৪৫ "তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান।"


সারভাইভাল কিট ৩: নিরহঙ্কারী ও ধৈর্য্যশীল হন
আয়াত ৬৯ "মূসা বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না। "

সারভাইভাল কিট ৪: আন্তরিকতা
আয়াত ১১০ "বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে। "

সারভাইভাল কিট ৫: আল্লাহতে ভরসা করুন, তার দেয়া কোরআন পড়ুন জানুন বুঝুন ও প্রচার করুন।
আয়াত ২৭: আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না।

সারভাইভাল কিট ৬: আল্লাহর সকল কর্তৃত্ব এবং কুকুর সহ সকল প্রানী মানুষের কল্যানে তৈরি
আয়াত ১৮: তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে। যদি তুমি উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়তে।"

সারভাইভাল কিট ৬: শেষ বিচারের কথা স্বরন করুন যাতে বিপথগামী না হন
আয়াত ৪৮-৪৯ "তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।

আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।

লেখাটির বিষয়বস্তু Tag / Keyword: আল কোরআনসুরা কাহফসুরা নং ১৮কোরআনের শিক্ষাকোরআনে ঘটনাকোরআনে কাহীনি,

0 comments
Labels:

Nouman Ali Khan - Popular Discourse Against Islam

0 comments
Labels: , ,

কুরআন কি বিজ্ঞানময় ?



কুরআন কে বলা হয়েছে বিজ্ঞানময় কুরআন । অনেক কিছুই কিন্তু আমাদের বুঝে আসেনা । আমাদের বুঝে না এলেই সেটা মিথ্যা এরকম একটা গ্রুপ মনে করে ।আমিও মনে করতাম ।

আমিও কুরআন নিয়ে ব্যাপক সংশয়ে ছিলাম । তো কুরআনে একটা মাত্র আয়াত দেখে আমি ইসলাম গ্রহণ করি ,মানে হল এটা মেনে নিয়েছি আমার জ্ঞানের মধ্যে কমন পড়ুক আর না পড়ুক কুরআন আল্লাহর বাণী ।

আমার জ্ঞান খুব সীমিত । আমি যদি মেডিক্যালে না পড়তাম তাহলে এটা আমি ধরতে পারতাম না । তবু আমার আবিষ্কৃত কুরানের বিজ্ঞানময় অর্থ নিয়ে আজকের পোস্ট । তাহলে শুরু করি ? আপনাদের জানাই কোন সে আয়াত যা দেখে আমি মুসলিম হয়েছিলাম ।

কিছু গুহার অধিবাসীদের নিয়ে এই আয়াত। চারিদিকে বৈরী পরিস্থিতি তৈরী হওয়ায় কিছু যুবক গুহায় আশ্রয় নেয় আর আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে । আল্লাহর সাহায্য তারা পান ।
" আপনি কি গুহার অধিবাসী ও রাকিমের অধিবাসীদের আমার বিস্ময়কর নিদর্শন মনে করেন ?"( কাহফ ৯)

হ্যাঁ , আমি মনে করি । যুবকদেরকে লুকিয়ে রাখার জন্য সেই গুহায় ৩০৯ বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয় । "অতঃপর তাদেরকে কয়েক বছর পর্যন্ত ঘুমন্ত অবস্থায় রাখলাম ।" (কাহফ ১১)
"তারা তাদের গুহায় ৩০৯ বছর পর্যন্ত অবস্থান করছিল' (কাহফ ২৫)


তো কি ঘটল সেখানে ? পাঠকের বোধগম্য করার জন্য এইবার এক ধরনের রোগীর চিকিৎসা পদ্ধতি বলি । আপনারা স্ট্রোকে প্যারালাইসিসের রোগী দেখে থাকবেন । এরা নিজেরা নড়তে চড়তে পারেন না । যদি একভাবে পড়ে থাকে তবে তাহলে প্রেশার পয়েন্টে ঘা হয়ে যায় । বেডসোর বলি আমরা সেই ঘা কে । এই বেড সোর প্রিভেন্ট করার জন্য পাশ ফিরিয়ে দিতে হয় । আর ঘণ্টায় ঘণ্টায় পার্শ্ব পরিবর্তন করতে হয় । দীর্ঘদিন মরার মত ঘুমিয়ে থাকলে ও একই কাহিনী । ৩০৯ বছর ঘুমিয়ে থাকলে তাদের ও বেডসোর হওয়ার সম্ভাবনা । কিন্তু তাদের হলনা । তাদেরকেও সাইড চেইঞ্জ করানো হত ।
কুরআনে এই সায়েন্টিফিক ব্যাপারটি যেদিন আমি প্রথম দেখেছি আমি চমকে গেছি ।
"অতঃপর তাদেরকে কয়েক বছর পর্যন্ত ঘুমন্ত অবস্থায় রাখলাম ।" (কাহফ ১১) "তারা তাদের গুহায় ৩০৯ বছর পর্যন্ত অবস্থান করছিল' (কাহফ ২৫)
" আর তাদের কে আমি পার্শ্ব পরিবর্তন করাতাম " (কাহাফ ১৮)

সাইড চেইঞ্জের বিষয়টির উল্লেখ দেখে আমি চমকে গেছি । যতবার দেখি ততবারই চমকে যাই । উহ , এত সুস্পষ্ট বিজ্ঞান ময় কুরআন । তারপরেতো আর অবিশ্বাস করা যায়না । বিষয়টি উল্লেখ করার কারণ ই হয়ত যেন চিকিতসক সমাজকে চিন্তার সুযোগ করে দেওয়া ।

জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কে যত টুকু বলা আছে সেটা আমি বুঝতে পারিনি ।"আর উদয় কালে সূর্যকে তাদের গুহা থেকে ডান দিকে হেলতে দেখবে আর যখন অস্ত যায় তখন তা বাম দিক দিয়ে অতিক্রম করে , অথচ তারা সে গুহার প্রশস্ত স্থানে থাকে । এটি আল্লাহর নিদর্শন । " (কাহাফ ১৭ )

এটা এন্টেনার উপর দিয়ে গেছে । তবে এন্টেনার উপর দিয়ে গেলেই যারা মনে করে সবই মিথ্যা আর সেটা তারা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে । ভালই লাগে তদের কে দেখলে জগতে আমার থেকে অবুঝ কেউ আছে এটা দেখে শান্তি পাই ।( শয়তানী হাসি )

আমি মনে করি বাতাস না দেখলেও বাতাস আছে । তেমনি যা বুঝতে পারছিনা কেউ না কেউ তা বুঝে ।

আর যে আয়াত দেখে আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি তা দেখে অন্যরা গ্রহণ করবে এটা আমি মনে করিনা ।একই জিনিস দেখে কেউ হয়ত ঠিক পথে যায় আর কেউ হয়ত আরো বিপথে চলে যায় ।" তিনি এর দ্বারা অনেককেই বিপথগামী করেন এবং অনেককেই সৎ পথে পরিচালিত করেন । "(বাক্বারা/২৭) " আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন সে-ই হেদায়েত প্রাপ্ত হয় , যাকে তিনি বিপথগামী করেন , সে তার পথপ্রদর্শক অভিভাবক পাবেনা । " ( কাহাফ ১৮)

৩০থেকে ৪০ বছর বয়সটাই হয়ত এমন মন খোঁজ করে আধ্যাত্মিকতার। অনেককে হয়ত ভাল ভাবে আসতে বললে আসেনা , তাদের জন্য নানা রকম বিপদ আপদ দিতে হয় ।তারা হল ত্যাড়া গ্রুপ । আমিও ত্যাড়া গ্রুপের সদস্য । চরম বিপদ আপদে পড়ে আমিও প্রশান্তির খোঁজ করতে গেছিলাম ।
কিন্তু সবই সত্য জেনে ও আমার প্রতিদিনের অ ধঃপতন দেখে নিজেরই খারাপ লাগে । ডিজিটাল আমল নামা থাকলে বুঝে নিতাম কত টুকু পাপ পূণ্য অর্জন করেছি । হায়রে দীর্ঘশ্বাস শুধু। এ জীবন শুধু পরীক্ষা ক্ষেত্র । আর কিছু না । তাই চেষ্টা করে যাই ভাল থাকার ভাল রাখার ।

শুধু বলি " হে আমার রব ভুলগুলোর জন্য পাকড়াও করবেন না । হে রব ! আমাদের উপর বোঝা দিবেন না পূর্ববর্তীদের ন্যায় ; হে আমাদের রব ! ক্ষমতার বাইরে কোন গুরুভার আমাদের উপর দিবেন না । আমাদের পাপ মোচন করুন ,ক্ষমা করুন , দয়া করুন , আপনি ই আমাদের একমাত্র অভিভাবক । (বাক্বারা ২৮৭)

Written by-না পারভীন

0 comments
Labels: ,

ইসলাম বনাম দাসপ্রথা: কিছু ভুল ধারনা এবং ভুল বোঝাবুঝির অবসান।

মুসলিম তারুণ্যের মনে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন বা সন্দেহ জাগাতে কমিউনিস্টদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে এই বিষয়টি। তারা বলে “ যদি ইসলাম মানবতার ধর্ম এবং সবসময়ের জন্য প্রযোজ্য হতো তবে এটি দাস প্রথার অনুমোদন দিত না। এটি প্রমান করে যে ইসলাম সবসময়ের জন্য নয়। কেবল মাত্র অতিতের কিছু সময়ের জন্য এটি কার্যকারী ছিল , এটি তার লক্ষ্য অর্জন করেছে। বর্তমান সময়ের জন্য প্রযোজ্য নয়।

 “ আমাদের মুসলিম তরুণরা এই চক্রান্তের শিকার হয়। তাদের মনে প্রশ্ন জাগে কেন ইসলাম দাস প্রথার অনুমোদন দেয়, এই ধর্মটি আল্লাহ্‌র প্রেরিত, এতে কোনো সন্দেহ নেই, এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে এই ধর্মটি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সবসময়ের জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু ইসলাম কিভাবে দাসপ্রথা স্বীকার করে নেয়? যে ধর্মটি সবার জন্য সমান, যে ধর্মটি জাতী, বর্ণ, ধনী গরীব সবার জন্য একি জীবন ব্যবস্থার কথা বলে সেটা কিভাবে দাসপ্রথা অনুমোদন দেয় এবং এর জন্য আইন তৈরি করে? তবে কি আল্লাহ্‌ মানুষকে মালিক এবং দাস এই দুই পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন? তিনি কি চান কিছু মানুষকে দাস হিসেবে ক্রয় বিক্রয় করা হবে, পন্যের মত? কিন্তু তিনি নিজেই তো বলেছেন যে সব মানুষ আদম এবং হাওয়া হতে সৃষ্টি, সব মানুষ সমান।

যদি আল্লাহ্‌ মানুষে মানুষে বিভেদ পছন্দ না করেন তবে কেন তিনি এই প্রথা কোরআনে নিষিদ্ধ করেননি? এক কথায় আজকের মুসলিম তরুণরা জানে এবং বিশ্বাস করে যে ইসলাম সত্য ধর্ম, কিন্তু তাদের মনের কোনে মাঝে মাঝে এসব প্রশ্ন উঁকি দিয়ে যায়। অনেকটা কোরআনে বর্ণিত ইব্রাহিম (আঃ) এর কথামত।

 আর স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম বলল, হে আমার পালনকর্তা আমাকে দেখাও, কেমন করে তুমি মৃতকে জীবিত করবে। বললেন; তুমি কি বিশ্বাস কর না? বলল, অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু দেখতে এজন্যে চাইছি যাতে অন্তরে প্রশান্তি লাভ করতে পারি।আল কোরআন (২:২৬০)

কমিউনিজম মুসলিম তরুণদের মনে এসব সন্দেহের সৃষ্টি করে এবং এসব সন্দেহ পরিস্কার হবার সুযোগ না দিয়েই তাদেরকে এই সিদ্ধান্তে নিয়ে আসতে চায় যে, ইসলাম পুরনো এবং বাতিল জীবন ব্যবস্থা, এটি বর্তমান সময়ের সাথে খাপ খায় না।

কমিউনিস্টরা, যারা নিজেদের বিজ্ঞান্মনস্ক বলে দাবি করেন, মানুষকে বুঝাতে চায় যে তারা মানব সমাজের অমোঘ, অমোচনীয় সত্য আবিষ্কার করেছে যা কখনো সন্দেহ এবং প্রশ্নের সম্মুখীন হবে না। তারা প্রচার করে যে, মানুষের জীবন কিছু নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক দশার মধ্যে দিয়ে গমন করে। এই দশা গুলো হচ্ছে ১ম কমিউনিজম, দাসপ্রথা, সামান্ততন্র, পুঁজিবাদ এবং ২য় কমিউনিজম ( যাকে মানব ইতিহাসের শেষ পর্যায় হিশেবে গণনা করা হয়)। তাদের মতে মানব ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনা, চিন্তা, নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ইত্যদি বিভিন্ন অর্থনৈতিক অবস্থার বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিফলন মাত্র। তাদের মতে শুধুমাত্র একটি জীবন ব্যবস্থাই সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না।
ইসলাম পৃথিবীতে এসেছিল এমন একটা সময়ে যখন দাসপ্রথা বিলুপ্ত হচ্ছিল এবং সামান্ততন্ত্র শুরু হচ্ছিল। ইসলাম নিজস্ব কিছু আইন কানুন, নিয়ম শৃঙ্খলা, জীবন বিধান নিয়ে আসলো যা পূর্বের এবং পরের ( দাসপ্রথা এবং সামান্ততন্ত্র) দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এই কারনেই ইসলাম দাস প্রথা এবং সামান্ততন্ত্র দুটোকেই অনুমোদন দিয়েছিল। কারন ইসলাম অর্থনৈতিক উন্নয়নের কনো পর্যায়ের কথাও চিন্তা করেনি আবার এমন নতুন কোনো ব্যবস্থাও আনতে চায়নি যার সাথে মানুষ পুরোপুরি অবগত নয়।
২১ শতকের বর্তমান পৃথিবীতে দাড়িয়ে যদি কেউ এই দাসপ্রথা নিয়ে ভাবে তখন দাসদের উপর বর্বরতা অত্যাচার, দাসদের সাথে নিষ্ঠুর ব্যবহার ( বিশেষ করে তৎকালীন রোমান সম্রাজ্যের চিত্র) এসব চিত্র তার চোখে ভেসে উঠবে। এসবকে জঘন্যতম অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করবে সে। সে ভাববে, কিভাবে ধর্ম এসব ব্যাপার অনুমোদন দেয়? কিভাবে ইসলাম শান্তির ধর্ম হয়েও এমন নিষ্ঠুর দাসপ্রথার অনুমোদন দেয় যেখানে ইসলাম মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্তির কথা বলে? এসব প্রশ্ন তাকে দ্বিধান্বিত করবে।

আসুন একটু ভাবি, ভেবে দেখি ইতিহাস এ সম্পর্কে আমাদের কি বলে। ইতিহাস যে নিষ্ঠুর, বর্বর দাসপ্রথার কথা বলে তার বেশিরভাগই রোমান সম্রাজ্যের, যা ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। রোমান সম্রাজ্যের সময়কালে দাসরা পন্য হিসেবে বিবেচিত হতো। তাদের মানুষ বলে গন্য করা হতো না। তাদের কোনো অধিকার ছিল না। তাদের যা আদেশ করা হতো তাই করতে তারা বাধ্য থাকত। তারা ছিল যুদ্ধবন্ধি। এসব যুদ্ধ কনো মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে হতো না। শুধুমাত্র রাজ্য জয় করে নিজের অধিকারে রাখার জন্য এসব যুদ্ধ হতো। এসব দাসরা রোমান জনগণের জন্য কাজ করত আর রোমানরা আরাম আয়েশে দিন কাটাত। দাসদের দিয়ে তারা ক্ষেত খামারে কাজ করাত। এসব কাজ করার সময় দাসদের পায়ে শিকল বাঁধা থাকত যাতে তারা পালিয়ে যেতে না পারে। তাদের উপযুক্ত পরিমান খাদ্য দেয়া হতো না। বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই দেয়া হতো খেতে।

রোমানরা ভাবত যে দাসরা অন্যান্য পশুপাখির মত শুধুমাত্র তাদের সেবা করার জন্যই জন্মেছে। দাসদের থাকার জায়গা হতো অন্যান্য গৃহপালিত পশুর সাথে অন্ধকার এবং দুর্গন্ধময় স্থানে। রোমানদের মনোরঞ্জনের জন্য দাসদের হিংস্র পশুর সাথে লড়াইয়ে নামতে হতো যা রোমানদের কাছে খেলা হিশেবে বিবেচিত হতো। শুধু রোমান সম্রাজ্যই নয়, পারস্য, ভারত এবং অন্যান্য দেশেও দাসদের ভাগ্য প্রায় একিই রকম ছিল। দাসদের জীবনের কনো মূল্য ছিলনা। তাদের হত্যা করা অপরাধ হিশেবে গন্য করা হতো না।

পৃথিবীর অবস্থা এমনই ছিল যখন ইসলাম দৃশ্যপটে আসে। ইসলাম তখন মানবতার বানী নিয়ে আসে। ইসলাম মালিক ও দাস উভয়কেই একথা বলে “ তোমরা উভয়ই সমান। যে তার দাসকে হত্যা করবে আমরা তাকে হত্যা করব। যে তার দাসের নাক কর্তন করবে আমরা তার নাক কর্তন করব। যে তার দাসের সাথে ভাল ব্যবহার করবে আমরা তার সাথে ভাল ব্যবহার করব।

ইসলাম বলে মানুষে মানুষে কনো ভেদাভেদ নেই।ইসলাম বলে “
 "And be good to the parents and to the near of kin and the orphans and the needy neighbor of (your) kill and the alien neighbor and the companion in a journey and the wayfarer and those whom your right hand possesses; surely Allah does not love him who is proud, boastful" (iv: 36).” 

“Your slaves are your brothers..so he who has a brother under him should feed him and clothe him as he himself feeds and dresses; do not ask them to do things which are beyond their power and if you do ask them to do such things then help them (Al-Hadith.)".


ইসলাম প্রথমে দাসের প্রতি মালিকদের আচরন এবং ব্যবহার বদল করতে চেষ্টা করে। চেষ্টা করে দাসদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদল করতে। এর ফলে দাসরা আর ব্যবসার বস্তু বা পন্য হিশেবে বিবেচ্য হল না। তারা তার মালিকের মতই মানুষ হিসাবে বিবেচ্য হতে থাকল। ইসলাম প্রথমে দাস এবং মালিকের মধ্যে সম্পর্ককে ভাতৃত্বে বদল করল। তারপর পর্যায়ক্রমে দাসদের মুক্তির কথা বলল। ইউরোপের অনেক বিখ্যাত লেখক এবং পণ্ডিত ইসলামের এই সফলতা স্বীকার করে নেয় এবং এর প্রশংসা করে। ইসলামের এই চেষ্টার ফলশ্রুতিতে দাসরা আস্তে আস্তে মালিকের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে পড়ল।

মহানবী (সঃ) মুসলিমদের দাসদের সাথে আদেশের সূরে কথা বলতে নিষেধ করেন। তিনি তাদের সাথে নম্র ভাষায় কথা বলতে বলেন যাতে তারা নিজেদের ঐ পরিবারের একজন মনে করতে পারে এবং তাদের হীনমন্যতা দূর করতে পারে। তিনি বলেন “ নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তোমাকে তাদের মালিক বানিয়েছেন। যদি তিনি চান তবে তুমি তাদের পর্যায়ে থাকতে পার। “ ইসলাম মালিক এবং দাসদের মানবতার বন্ধনে আবদ্ধ করে। ইসলাম দাস ও মালিকদের মধ্যে সমান অধিকারের কথা বলে।

ইসলামের প্রথম পর্যায়ে দাসদের অধিকার, দাসদের প্রতি ব্যবহার, সমাজে দাসদের অবস্থান ইত্যদি ব্যাপার সঠিক করে। কিন্তু শুধু এতেই থেমে থাকেনি। প্রথমে দাসদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদল করে। এরপর ক্রমান্বয়ে তাদের মুক্তির পথে এগোয়। দুটি পদ্ধতিতে এই দাসত্ব থেকে মুক্তির উপায় বের করে ইসলাম।

এই পদ্ধতি দুটি হচ্ছেঃ 
১। মালিকদের স্বেচ্ছায় তাদের অধিনস্ত্য দাসদের মুক্তি দানে উৎসাহ প্রদান। (Al Itq)
২। লিখিত চুক্তির মাধ্যমে। (Mukatabah),


প্রথম পদ্ধতিতে ইসলাম মালিকদের কোনরূপ শর্তারোপ না করে দাস মুক্তি দিতে উদ্বুদ্ধ করে। এক্ষেত্রে প্রথমেই মহানবী (সঃ) তাঁর অধিনস্ত সব দাসদের মুক্তি দেন। সাহাবীরাও তাকে অনুসরন করেন। আবুবকর (রাঃ) প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন মালিকদের কাছ থেকে দাস ক্রয় করতে এবং পরে তাদের মুক্তি দেন। মহানবী (সঃ) বদর যুদ্ধের বন্ধীদের এই শর্তের দ্বারা মুক্তি প্রদান করেন যে, যদি তাদের প্রত্যকে ১০ জন মুসলিমকে লেখতে এবং পড়তে বা অন্য কোন উপকারে আসতে পারে তবে তারা মুক্ত। ইসলাম সে সময় ভুলবশত কনো লোকের হত্যার প্রায়শ্চিত্ত হিশেবে একজন দাসকে মুক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে জরিমানা স্বরূপ অর্থ দেয়ার আইন প্রনয়ন করে। ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি যে ঐ সময়ে বা এর পূর্ববর্তী বা পরবর্তী সময়ে আর কনো জাতীতে এত প্রচুর সংখ্যক দাস মুক্তির ঘটনা ঘটেনি যেমনটা ইসলামের অধিনস্ত জাতি সমুহে হয়েছিল। তাই ইসলামকে বলা হয় মানবতার ধর্ম।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসলাম মালিক এবং দাসদের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে দাস মুক্তির ব্যবস্থা করে। এক্ষেত্রে দাসরা তার মালিকের সাথে একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ যোগানের চুক্তিতে মুক্তি লাভ করে।দাস যখনি চুক্তির পরিমান অর্থ মালিককে দিতে পারবে তখনই মালিক তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য থাকবে। নতুবা দাস এর প্রতিকার চাইতে পারবে বিচারালয়ে। যে সময় কোনো দাস মুক্তির দাবি করবে নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে, সে সময় থেকে মালিক দাসের কাছ থেকে অর্থের সমপরিমাণ কাজ আদায় করতে পারে অথবা দাসকে বাহিরে অন্যান্য কাজ করে অর্থ উপার্জনের সুযোগ দিতে বাধ্য থাকবে। ঠিক এই নিয়মটিই ইসলামের নিয়ম চালু হওয়ার ৭০০ বছর পর ১৪০০ শতকে ইউরোপে দাস মুক্তির ক্ষেত্রে চালু হয়েছিল। ইসলাম এই আইন করে ঐসব দাসদের মুক্তির উপায় করে দেয় যারা মালিকের দয়ার জন্য অপেক্ষা না করে নিজ উদ্যেগে মুক্তি পেতে ইচ্ছুক। শুধু তাই নয়, ইসলাম এমন দাসদের সাহায্যের জন্য যাকাত বা বায়তুল মাল থেকে অর্থ দানের ব্যবস্থা করে। এভাবে আস্তে আস্তে ইসলাম তৎকালীন সমাজ থেকে দাস প্রথার বিলোপ ঘটিয়েছিল। ইসলামের এই মহৎ এবং মানবিক নিয়মগুলো পরবর্তীতে ইউরোপে দাস মুক্তির ক্ষেত্রে প্রভাবক হিশেবে কাজ করেছিল, যা অনেক বিখ্যাত পণ্ডিত তাদের লেখায় স্বীকার করে গেছেন।

অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে কেন ইসলাম মানবতার ধর্ম হয়েও এত পর্যায়, পদ্ধতি এবং সময় নিল, মালিকদের বিনা শর্তে তাৎক্ষনিক দাস মুক্তির আদেশ না দিয়ে? এর উত্তরের জন্য আমাদের তখনকার সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অবস্থার কথা বিবেচনা করতে হবে। যখন ইসলাম আসলো তখন দাসপ্রথা পুরো পৃথিবীর সমাজ এবং অর্থনীতির আবিচ্ছেদ্য অংশ হিশেবে বিবেচিত হতো। খুব কম লোকই তখন এর খারাপ দিক নিয়ে ভাবত বা এর বিলোপের কথা ভাবত। তাই দাসপ্রথা বিলোপের আগে দাসদের প্রতি সমাজ এবং মালিকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল। তাই ইসলাম প্রথমে সমাজে দাসদের অবস্থান এবং অধিকার সমুন্নত করার পদক্ষেপ নেয়। এরপর আস্তে আস্তে তা বিলোপ করার দিকে অগ্রসর হয়। তাই ইসলামে এই প্রথা বিলোপ করতে মহানবীর জীবনকাল থেকেও বেশি সময় লেগেছিল।

যেহেতু তাঁর জীবনকালেই কোরআন অবতীর্ণ হয় সে কারনেই কোরআন এবং হাদিসে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে কোনো কথা নেই। কিন্তু এটি থাকবেই বা রাখতেই হবে এমন কিছুও বলা নেই। বরং দাসদের মুক্তির কথাই বলা হয়েছে অনেকবার। সে কারনেই মহানবীর মৃত্যুর কিছু সময় পর ইসলামী বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হয়ে দাস প্রথা নিষেধের আইন প্রণয়ন করেন। এতে কোরআনের বা হাদিসের কোনো কথার বিরুদ্ধে যাওয়া হয়নি। এই ঐক্যমতের ভিত্তিতে ইসলামী আইন বা নিয়ম সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসার পদ্ধতি কেই ইজমা বলা হয়। ঠিক একই রকম ব্যাপার ঘটে মদ্যপানের নিষেধের আইনের ক্ষেত্রেও। কোরআনে প্রথমে মদ্যপানের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয় এবং একে এড়িয়ে যেতে বলা হয়। এরপর যখন উপযুক্ত সময় আসলো তখন কোরআনে মদ্য পান হারাম বলে আয়াত নাযিল হলো। আল্লাহ্‌ তখনিই নিসেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন যখন উপযুক্ত সময় এসেছিল। আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ। যদি মহানবীর জীবনকালেই তৎকালীন সামাজিক অবস্থা উপযুক্ত পর্যায়ে পৌঁছাত তখন আল্লাহ্‌ অবশ্যই কোরআনে দাস প্রথা নিষেধ করে দিতেন।


যখন আমরা বলি ইসলাম সকল মানুষের এবং সকল সময়ের জন্য এবং এটি সব ভাল এবং সুন্দর জিনিস গ্রহন করে যা সুস্থ এবং সুন্দর জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তখন এই কথাটি দ্বারা এটা বুঝানো হয় না যে এতে সবসময়ের সব কিছু, সকল রিতিনিতি বলা আছে। এমনটা কখনোই নয়। ইসলামে ঐসব ব্যাপারের পুংখানপুঙ্খ বিবরন এবং দিকনির্দেশনা দেয় যেসব মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ব্যাপারগুলো সবসময়ের জন্যই প্রযোজ্য এবং অপরিবর্তনীয়। ইসলাম মানুষের ঐসব গুরুত্বপূর্ণ অপরিবর্তনীয় ব্যাপার গুলোর নির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দেয়। ইসলাম চেয়েছে মানুষকে কিছু সাধারণ দিকনির্দেশনা দিতে যার দ্বারা মানুষ ভবিষ্যতের উন্নতির পরিকল্পনা করতে পারে। ঠিক এই ব্যাপারটিই করেছে ইসলাম দাসপ্রথার ক্ষেত্রে। এটি প্রথমে দাসদের অধিকার সমুন্নত করে এবং পরবর্তীতে দাসদের মুক্তির পথ ঠিক করে দেয় যাতে নিকট ভবিষ্যতে এই নিষ্ঠুর প্রথা সমূলে উৎপাটিত হয়।

ইসলাম কোনো যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় মুহূর্তেই সমস্যা দূর করেনি। একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছে যাতে মানুষ আস্তে আস্তে সভ্য এবং সুন্দর জীবন লাভ করে। ইসলামের এই শিক্ষা আমাদের অনেক তথাকথিত ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো জানেন না বা মেনে চলেন না। তারা চান হথাত করে সমাজে ইসলামী নিয়ম কানুন প্রতিষ্ঠা করতে। হঠাত পরিবর্তন ঘটাতে। কিন্তু তা সম্ভব নয়। জোর করে কোনো মানুষকেই নিয়ম কানুন মেনে চলতে বাধ্য করা যায় না। মানুষকে আগে ইসলামের লক্ষ্য,উদ্দেশ্য এবং সুফল সম্পর্কে অবগত করতে হবে যাতে মানুষ নিজে থেকেই তা গ্রহন করে। এরপর আসে আইন কানুনের প্রচলন যা মানুষকে তার কু প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। কিন্তু এই ব্যাপারটি আমাদের অনেকেই উপলব্ধি করতে পারেন না। উনারা চান হঠাত পরিবর্তন।

যদি এমনটাই হতো তাহলে আল্লাহ্‌ অবশ্যই আল্লাহ্‌ নিজেই মানুষের মনকে ভাল করে দিতেন যাতে মানুষ খারাপের সংস্পর্শে না আসতে পারে। তিনিই সেই ক্ষমতার অধিকারী, সর্বশক্তিমান এবং সর্বজ্ঞ। কিন্তু তিনি কখনোই তার সৃষ্ট নিয়মের বাহিরে যেয়ে কিছু করেন না। তাই ইসলাম প্রথমে সমাজকে এমন অবস্থায় নিয়ে আসে যার ফলে পরবর্তীতে ইসলামে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হয়। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এবং তাঁর সাহাবীরা এমন সব অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছিলেন যা পরবর্তীতে দাস প্রথা বিলপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ইসলাম সমাজ থেকে দাস প্রথা দূর করার সাথে সাথে মানুষের মন থকেও এই প্রথা দূর করেছিল। ইসলাম আব্রাহাম লিংকনের মতো শুধুমাত্র আদেশ যারি করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। এমন ব্যবস্থা করেছে যাতে দাসরা সমাজের এবং রাষ্ট্রের একজন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্টিত এবং পরিগণিত হয়। তারা যাতে সমাজের সাধারণ মানুষের মতই অধিকার ভোগ করে সে ব্যবস্থাই করেছে ইসলাম।

কিন্তু এতসব কিছুর পরও ইসলামের সমালোচকরা ইসলামে দাসপ্রথার অনুমোদন নিয়ে সমালোচনায় ব্যাস্ত থাকে।তারা এটা জানেনা বা জানলেও স্বীকার করেনা যে ইসলাম ইউরোপের ৭০০ বছর পূর্বে দাস প্রথাকে সমূলে উৎপাটন করেছিল। কারন তাদের ধারনা অনুযায়ী, ইসলামের প্রশংসা করা মানেই তো পুরনো ধ্যান ধারণার অনুসারী হয়ে যাওয়া, আধুনিক সমাজ থেকে ছিটকে পরা বা তথাকথিত আধুনিক মানুষদের চোখে হাস্যকর হওয়া। আবার তারাই জোর গলায় বলেন তারা নাকি সত্যের পূজারি। সত্যিই অদ্ভুত। যা সত্য তা সত্যই থাকবে। যতই এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হোকনা কেন। আল্লাহ্‌ কোরআন এবং ইসলামের সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই এর রক্ষাকর্তা। এবং একসময় এসব মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ইসলাম জয়ী হবেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

ধন্যবাদ সবাইকে এত বড় একটি লেখা পড়ার জন্য। আমি যথাসম্ভব ছোট করার চেষ্টাই করেছি যাতে সংক্ষেপে কথা গুলো বলা যায়।

Written by-মেহেদী আনোয়ার

0 comments
Labels: ,

মুসলিমরা কি অমুসলিমদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে পারেনা?

বর্তমান বিশ্বে ইসলাম বিরোধীরা, ইসলাম বা মুসলিমদেরকে ‘হেট মঙ্গার’ জাতি বলে প্রচার করছে! বলা হচ্ছে যে, মুসলিমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি মনে-প্রাণে ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করে। এর জন্য নাকি আল-কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে, যা একজন মুসলিমকে অবশ্যই পালন করতে হবে! আর তাদের অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে তারা যে সকল আয়াত তুলে ধরেন সেগুলোর মধ্যে সূরা আল-মায়েদার ৫:৫১ আয়াত উল্লেখযোগ্য (যে ভাবে বর্তমানে বাংলায় অনুবাদ আছে)-

হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদের বন্ধু এবং অভিভাবক রূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু এবং অভিভাবক। এবং তোমাদের মধ্যে যে কেহ তাদের [বন্ধু এবং অভিবাবকরূপে] গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অন্যায়কারীকে [সুপথে] পরিচালিত করেন না। (কোরআন ৫:৫১)

উপরের আয়াতে বাংলা অনুবাদে অনুবাদকগণ 'বন্ধু' ও 'অভিভাবক' শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু মূল আরবীতে এই শব্দ দুটির প্রতিশব্দ রূপে একটি শব্দ দেওয়া হয়েছে, আর তা হল 'আউলিয়া।' সাধারণতঃ সবাই জানেন যে- আরবীতে ‘বন্ধু’ শব্দের সরল প্রতিশব্দ হল ‘সাদিক’, কিন্তু গভীরভাবে খেয়াল করুন, আল্লাহপাক কোরআনের এই নির্দিষ্ট আয়াতগুলোতে ‘সাদিক’ ব্যবহার না করে ‘আউলিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সাদিককে 'সাদিক' না বলে 'আউলিয়া' শব্দটি ব্যবহার করা হল কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের ‘আউলিয়া’ শব্দটির অর্থ জানতে হবে। আরবী ‘অলি’ (অভিভাবক) শব্দ বহুবচনে ‘আউলিয়া’ হয়েছে। তাহলে দেখি ‘অলি’ শব্দটি বলতে কী বুঝায়? আমাদের দেশে বিয়ে-সাদির সময় বলা হয়ে থাকে বর বা কনের অলি কে? তখন জবাব দেওয়া হয়- যদি কনে বা বরের বাবা থাকেন, তাহলে বলা হয়- কনে বা বরের বাবাই অলি। যদি বাবা না থাকেন, চাচা/মামা বা অন্য কেউ থাকেন, তখন বলা হয়- অমুক কনে বা বরের অলি। এখানে ‘অলি’ মানে ‘অভিভাবক’ বা ‘তত্বাবধায়ক’ কাউকে বুঝানো হয়। অলি’র বহুবচন আউলিয়া- মানে অভিভাবকগণ বা তত্বাবধায়কগণ। এই আয়াতের নাজিলের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে বিবেচনা করলে যে কেউ বুঝতে পারবে এই আয়াতে 'আউলিয়া' শব্দ দ্বারা 'নিরাপত্তাদানকারী' বুঝাচ্ছে। যেমন রাসুল সাঃ এর নিরাপত্তাদানকারী ছিলেন উনার চাচা আবু তালিব, যার কারণে মক্কার কাফিরগণ রাসুলের কোন ক্ষতি করতে পারে নাই। তবে এই আউলিয়া শব্দের প্রয়োগ আরো ব্যাপক, এই একই শব্দ দিয়ে আমরা ৪টি শব্দের প্রতিরূপ পেতে পারি যেমন- মিত্র (allies), বন্ধু (friend), অভিভাবক (guardian) ও নিরাপত্তাদানকারী (protectors)। এবং অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই চারটি প্রতিশব্দের যে কোন একটি বা একত্রে চারটি প্রতিশব্দকে প্রয়োগ করা যাবে।

এবার আল-কোরআনের সূরা মুমতাহিনার ১৩ নং আয়াত দেখা যাক-

হে বিশ্বাসীগণ! যে সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহ্‌ রুষ্ট হয়েছেন, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। ইতিমধ্যে তারা পরলোক সম্বন্ধে নিরাশ হয়েছে, যেমন নিরাশ হয়েছে অবিশ্বাসীরা কবরস্থদের বিষয়ে। (কোরআন ৬০:১৩)


এখানে দেখুন আল্লাহ বলছেন- লা তাতাওয়াল্লু (তাতাওয়াল্লু শব্দটি এসেছে আউলিয়া থেকে) কাওমান (কওম)। আল্লাহ এখানে স্পষ্ট করে শুধু সম্প্রদায়ের সাথে মিত্রতা না করতে বলছেন, কিন্তু এখানে ব্যক্তিগতভাবে কোন ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সামাজিক বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করছেন না। এক সম্প্রদায় আরেক সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব নয় মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।

আমি মনে করি সর্বক্ষেত্রে অনুবাদ আমাদের রেফারেন্স হতে পারেনা, অনুবাদ যদি মূল ভাবকে যথার্থ ভাবে প্রকাশ করতে না পারে তাহলে আমাদের মূল আরবী শব্দটিকে গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য ইসলামি বিশেষজ্ঞরা সব সময় অনুবাদের সাথে মূল আরবীকে মিলিয়ে দেখার উপদেশ দিয়ে আসছেন। এজন্য আমি মনে করি উপরোক্ত আয়াতে মিত্র/ নিরাপত্তাদানকারী প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হলে সঠিক হবে, যা ইংরেজিতে Allies/Guardian বুঝায়।



অতএব, উপরোক্ত দুটি আয়াত থেকে দেখা যায় যে, এখানে বাংলায় বন্ধুকে অভিভাবক/নিরাপত্তাদানকারী হিসাবে দেখানো হয়েছে (৫:৫১) এবং এই নির্দেশ নিছক ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, এটি দেওয়া হয়েছে সম্প্রদায়গতভাবে (৬০:১৩)। তাই স্বাভাবিকভাবে আরবীতে বন্ধু বলতে যে শব্দ (সাদিক) ব্যবহার করা হয়, উপরোক্ত দুটি আয়াতের একটিতেও তা ব্যবহার করা হয়নি!
[এই প্রবন্ধটি আজ ভোরে পোস্ট করেছিলাম- ২৪টি মন্তব্য, ৭ জনের ভাললাগা ১৬/১৭ প্রিয়তে নেওয়া আর ২৫০ এর উপর পঠিত ছিল। কিন্তু আজ দুপুরে ব্লগে এসে দেখি পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছে! অবাক হলাম বুঝতে পারলাম না কেন আমার এই পোস্টকে ড্রাফটে পাঠিয়ে দেওয়া হলো! এডমিনের কাছে জানতে চেয়ে ইমেল দিয়েছিলাম। জবাব পাই নাই। তাই ঘটনাটি কি বুঝতে পারছিনা। তাই আবার রিপোস্ট করলাম। যারা কমেন্ট করেছিলেন তাদের কমেন্ট মুছে যাবার জন্য দূঃখিত!!]


এবার দেখা যাক ঐ আয়াতের ঐতিহাসিক প্রক্ষাপট- অর্থাৎ কখন, কোথায় এবং কী প্রয়োজনে নাজিল হয়েছিল। আপনারা জানেন- ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে- কীভাবে মুসলিমদেরকে তাদের সহায়, সম্পদ, ভিটেমাটি ফেলে জন্মভূমি থেকে দেশান্তরী হতে হয়েছিল। সেই দেশান্তরী মানুষদের তখন মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে বেশ কিছু মানুষ মদিনাতে আশ্রয় দিয়েছিল। মুসলিমরা আশ্রয় নেবার সাথে সাথে ঐ নগরীর অন্যান্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সহিত একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ঐ চুক্তিতে এই মর্মে শর্ত ছিল যে- এই নগরের যে কোন গোত্র ও ধর্মীয় গোষ্ঠী যদি বহিরাগত শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়, তাহলে সবাই মিলে তা প্রতিহত করতে হবে। এবং এই শান্তিচুক্তির অধীনের কেউ কখনো চুক্তি ভুক্ত গোত্রের কোন দুশমনদেরকে সাহায্য করতে পারবেনা। চুক্তি ভুক্ত গোত্রগণ একে অপরের সহিত যুদ্ধও করতে পারবেনা।



এই শান্তি চুক্তি মদিনার অন্যান্য গোত্র সহ মদিনার ইহুদীদের সাথেও ছিল। কিন্তু ইহুদীদের মধ্যে বানু কাইনুকাইরা মুসলিমদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে যুদ্ধ বাধিয়েছিল। ইসলাম-পূর্ব সময় থেকে মদিনার কোন কোন মুশরিক গোত্রের সাথে এই ইহুদী বানু কাইনুকাদের মৈত্রীতা ছিল। তাই ঐ মিত্রতার শর্ত ছিল- কাইনুকাইরা আক্রান্ত হলে তাদের মিত্ররাও এদের রক্ষা করতে এগিয়ে যেতে হবে। যেহেতু ইসলাম গ্রহণের ফলে মদিনার সকল মুশরিক গোত্র এক মুসলিম মিল্লাতে অঙ্গীভূত হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের পূর্বকৃত মিত্রতা অকার্যকর হয়ে যায়। আর এই অবস্থায় আল-কোরআনের এই আয়াত দিয়ে আল্লাহ নও-মুসলিমদের কী করতে হবে তার স্পষ্ট নির্দেশ বলে দিয়েছেন। কাজেই আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপটে একটি অনুবাদ এভাবে হতে পারে-


হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে তোমাদের মিত্র এবং নিরাপত্তা প্রদানকারী (Protectors) রূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর পরস্পরের মিত্র এবং নিরাপত্তা প্রদানকারী। এবং তোমাদের মধ্যে যে কেহ তাদেরকে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অন্যায়কারীকে পরিচালিত করেন না

বাংলা ব্লগগুলোতে দেখা যায় যে- যে কেউ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় এমন আয়াত পেলে তৎক্ষণাত তুলে নিয়ে আসেন। কিন্তু এটি কোরানিক সুনান নয়। আল-কোরআনের কোন এক আয়াত পড়েই কেউ তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা। আল-কোরানের অনেক আয়াত আছে যেগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থাকে, তাই একাধিক আয়াতকে সামনে এনে বিচার বিশ্লেষণ করে তবেই সিদ্ধান্তে আসতে হয়। ঐতিহাসিক সেই প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করলে মূল অর্থ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনুবাদকের চেয়ে ইসলাম বিরোধীদের অজ্ঞতাই বেশী দায়ী। কিন্তু সেই অজ্ঞতাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার পরও একে নিয়ে চর্বিত-চর্বণ কপটতার শামিল। দুঃখজনক হলো এটাই ব্লগগুলোতে আজকাল অনেকে করছে।



যেহেতু এই একটি আয়াত নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীরা যখন তখন ইসলামকে ‘হেট মঙ্গার’ ধর্ম প্রমাণ করতে লেগে যায়, তাই আমি এই আলোচনা আমার শিরোনামের আলোচ্য সূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেষ্টা করেছি। তবে একজন সঠিক মুসলিম জানেন যে- একজন অমুসলিমদের প্রতি একজন মুসলিমের সম্পর্ক কেমন হবে, তার স্পষ্ট দিক-নির্দেশনা আল্লাহ পাক আল-কোরআনে দিয়ে রেখেছেন! বাস্তব সত্য হচ্ছে যে- নানাবিধ প্রতিকূলতার জন্য পৃথিবীর প্রতিটি ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, সম্প্রদায়ের সাথে সম্প্রদায়ের, রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেনা। কিন্তু তার মানে এই নয় যে- বন্ধুত্ব নেই বলে তারা পরস্পরের দুশমন হয়ে যায়। বন্ধুত্ব অনেক প্রকার হতে পারে। ব্যক্তিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক, পেশাভিত্তিক, রাষ্ট্রিক ও আন্তর্জাতিক। তবে যদি ধরে নেয়া হয় যে- এই আয়াত দ্বারা ব্যক্তি কেন্দ্রিক বন্ধুত্বকে নিষেধ করা হয়েছে, তবে সেই বন্ধুত্বটি হবে আত্মিক বন্ধুত্ব, আর আত্মিক বন্ধুত্বের জন্য অবশ্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ হবার দাবি রাখে।



ব্যক্তি, সম্প্রদায়, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব বজায় সম্পর্কে আল-কোরআনে আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে- যে সব অমুসলিম, ব্যক্তি, সম্প্রদায়, রাষ্ট্র, ও আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করবে, আমরা যেন তাদের সাথেও ভাল ব্যবহার করি। যারা জানেন না- তাদের জানার জন্য আমি এখানে তার উল্লেখ করছি। উপরের বহুল আলোচিত আয়াতের কিছু পরের আয়াত নং ৫৭-৫৮ তে আল্লাহ পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন, কাদের সাথে এক জন মুসলিম বন্ধুত্ব করতে পারবে বা পারবেনা-

হে মুমিনগণ, আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর যখন তোমরা নামাযের জন্যে আহবান কর, তখন তারা একে উপহাস ও খেলা বলে মনে করে। কারণ, তারা নিবোর্ধ। (৫:৫৭-৫৮)

উপরের আয়াতের আলোকে যদি দেখি তাহলে শুধু ইহুদি নাসারা নয়, যারা যেখানেই হোক এমনকি এই ব্লগেও আমার ধর্মকে উপহাস করে, আমাদের রাসুলকে নিয়ে খারাপ উক্তি করে, আমাদের বিশ্বাসকে ভ্রান্ত বলে, আর সে যদি মুসলিম মা-বাবা'র সন্তানও হয়ে থাকে কিংবা আমার আপন ভাই হয়ে থাকে তার সাথেও আমাদের আত্মিক সম্পর্কযুক্ত বন্ধুত্ব হতে পারেনা।



আর যদি কোন ইহুদি-নাসারা কিংবা নাস্তিক যিনি আমার ধর্ম, আমার বিশ্বাস, আমার রাসুল, আমার কিতাব নিয়ে নীরব থাকেন, কোন ধরণের নেগেটিভ আচরণ না করেন, তাহলে আত্মিক না হলেও সামাজিক বন্ধুত্ব করতে আপত্তি থাকার কথা নয়। এই নীতি ব্যক্তিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিক ও আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।



সূরা আল-মুমতাহিনার ৯ নং আয়াতে আল্লাহ নিষেধ করেন-

আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম। (৬০:৯)

আবার একই সূরার ৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন কাদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা যাবে-

ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন। (৬০:৮)

উপরোক্ত আয়াত দ্বারা- পানি থেকে তেল যেমন আলাদা হয়ে থাকে, তেমনি অমুসলিমদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা আর না রাখার নির্দেশ স্পষ্ট হয়ে গেছে। একজন স্বল্প জ্ঞানী লোকও বুঝতে পারবেন যে- এই আয়াতগুলোর আলোকে আল্লাহ অতি ক্ষুদ্র এক মানব গোষ্ঠিকে বুঝাচ্ছেন- যারা নিজেরাই হেট মঙ্গার, ইসলাম বিদ্বেষী, অসহিষ্ণু, ইসলামের কুৎসারটনাকারী, মুসলিমদের প্রতি জোর-জবরদস্তকারী, ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির। কোরআনের এই আয়াতগুলোতে কোনভাবেই পৃথিবীর যে কোন মতবাদে বিশ্বাসী ভাল, সভ্য ও শান্তিকামী মানুষদের বুঝানো হয়নি।
বর্তমান বিশ্বে ইসলাম বিরোধীরা, ইসলাম বা মুসলিমদেরকে ‘হেট মঙ্গার’ জাতি বলে প্রচার করছে! বলা হচ্ছে যে, মুসলিমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি মনে-প্রাণে ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করে। এর জন্য নাকি আল-কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে, যা একজন মুসলিমকে অবশ্যই পালন করতে হবে! আর তাদের অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে তারা যে সকল আয়াত তুলে ধরেন সেগুলোর মধ্যে সূরা আল-মায়েদার ৫:৫১ আয়াত উল্লেখযোগ্য (যে ভাবে বর্তমানে বাংলায় অনুবাদ আছে)-

হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদের বন্ধু এবং অভিভাবক রূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু এবং অভিভাবক। এবং তোমাদের মধ্যে যে কেহ তাদের [বন্ধু এবং অভিবাবকরূপে] গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অন্যায়কারীকে [সুপথে] পরিচালিত করেন না। (কোরআন ৫:৫১)

উপরের আয়াতে বাংলা অনুবাদে অনুবাদকগণ 'বন্ধু' ও 'অভিভাবক' শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু মূল আরবীতে এই শব্দ দুটির প্রতিশব্দ রূপে একটি শব্দ দেওয়া হয়েছে, আর তা হল 'আউলিয়া।' সাধারণতঃ সবাই জানেন যে- আরবীতে ‘বন্ধু’ শব্দের সরল প্রতিশব্দ হল ‘সাদিক’, কিন্তু গভীরভাবে খেয়াল করুন, আল্লাহপাক কোরআনের এই নির্দিষ্ট আয়াতগুলোতে ‘সাদিক’ ব্যবহার না করে ‘আউলিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সাদিককে 'সাদিক' না বলে 'আউলিয়া' শব্দটি ব্যবহার করা হল কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের ‘আউলিয়া’ শব্দটির অর্থ জানতে হবে। আরবী ‘অলি’ (অভিভাবক) শব্দ বহুবচনে ‘আউলিয়া’ হয়েছে। তাহলে দেখি ‘অলি’ শব্দটি বলতে কী বুঝায়? আমাদের দেশে বিয়ে-সাদির সময় বলা হয়ে থাকে বর বা কনের অলি কে? তখন জবাব দেওয়া হয়- যদি কনে বা বরের বাবা থাকেন, তাহলে বলা হয়- কনে বা বরের বাবাই অলি। যদি বাবা না থাকেন, চাচা/মামা বা অন্য কেউ থাকেন, তখন বলা হয়- অমুক কনে বা বরের অলি। এখানে ‘অলি’ মানে ‘অভিভাবক’ বা ‘তত্বাবধায়ক’ কাউকে বুঝানো হয়। অলি’র বহুবচন আউলিয়া- মানে অভিভাবকগণ বা তত্বাবধায়কগণ। এই আয়াতের নাজিলের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে বিবেচনা করলে যে কেউ বুঝতে পারবে এই আয়াতে 'আউলিয়া' শব্দ দ্বারা 'নিরাপত্তাদানকারী' বুঝাচ্ছে। যেমন রাসুল সাঃ এর নিরাপত্তাদানকারী ছিলেন উনার চাচা আবু তালিব, যার কারণে মক্কার কাফিরগণ রাসুলের কোন ক্ষতি করতে পারে নাই। তবে এই আউলিয়া শব্দের প্রয়োগ আরো ব্যাপক, এই একই শব্দ দিয়ে আমরা ৪টি শব্দের প্রতিরূপ পেতে পারি যেমন- মিত্র (allies), বন্ধু (friend), অভিভাবক (guardian) ও নিরাপত্তাদানকারী (protectors)। এবং অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই চারটি প্রতিশব্দের যে কোন একটি বা একত্রে চারটি প্রতিশব্দকে প্রয়োগ করা যাবে।

এবার আল-কোরআনের সূরা মুমতাহিনার ১৩ নং আয়াত দেখা যাক-

হে বিশ্বাসীগণ! যে সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহ্‌ রুষ্ট হয়েছেন, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। ইতিমধ্যে তারা পরলোক সম্বন্ধে নিরাশ হয়েছে, যেমন নিরাশ হয়েছে অবিশ্বাসীরা কবরস্থদের বিষয়ে। (কোরআন ৬০:১৩)


এখানে দেখুন আল্লাহ বলছেন- লা তাতাওয়াল্লু (তাতাওয়াল্লু শব্দটি এসেছে আউলিয়া থেকে) কাওমান (কওম)। আল্লাহ এখানে স্পষ্ট করে শুধু সম্প্রদায়ের সাথে মিত্রতা না করতে বলছেন, কিন্তু এখানে ব্যক্তিগতভাবে কোন ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সামাজিক বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করছেন না। এক সম্প্রদায় আরেক সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব নয় মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।

আমি মনে করি সর্বক্ষেত্রে অনুবাদ আমাদের রেফারেন্স হতে পারেনা, অনুবাদ যদি মূল ভাবকে যথার্থ ভাবে প্রকাশ করতে না পারে তাহলে আমাদের মূল আরবী শব্দটিকে গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য ইসলামি বিশেষজ্ঞরা সব সময় অনুবাদের সাথে মূল আরবীকে মিলিয়ে দেখার উপদেশ দিয়ে আসছেন। এজন্য আমি মনে করি উপরোক্ত আয়াতে মিত্র/ নিরাপত্তাদানকারী প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হলে সঠিক হবে, যা ইংরেজিতে Allies/Guardian বুঝায়।



অতএব, উপরোক্ত দুটি আয়াত থেকে দেখা যায় যে, এখানে বাংলায় বন্ধুকে অভিভাবক/নিরাপত্তাদানকারী হিসাবে দেখানো হয়েছে (৫:৫১) এবং এই নির্দেশ নিছক ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, এটি দেওয়া হয়েছে সম্প্রদায়গতভাবে (৬০:১৩)। তাই স্বাভাবিকভাবে আরবীতে বন্ধু বলতে যে শব্দ (সাদিক) ব্যবহার করা হয়, উপরোক্ত দুটি আয়াতের একটিতেও তা ব্যবহার করা হয়নি!



এবার দেখা যাক ঐ আয়াতের ঐতিহাসিক প্রক্ষাপট- অর্থাৎ কখন, কোথায় এবং কী প্রয়োজনে নাজিল হয়েছিল। আপনারা জানেন- ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে- কীভাবে মুসলিমদেরকে তাদের সহায়, সম্পদ, ভিটেমাটি ফেলে জন্মভূমি থেকে দেশান্তরী হতে হয়েছিল। সেই দেশান্তরী মানুষদের তখন মদিনাবাসীদের মধ্য থেকে বেশ কিছু মানুষ মদিনাতে আশ্রয় দিয়েছিল। মুসলিমরা আশ্রয় নেবার সাথে সাথে ঐ নগরীর অন্যান্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সহিত একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ঐ চুক্তিতে এই মর্মে শর্ত ছিল যে- এই নগরের যে কোন গোত্র ও ধর্মীয় গোষ্ঠী যদি বহিরাগত শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়, তাহলে সবাই মিলে তা প্রতিহত করতে হবে। এবং এই শান্তিচুক্তির অধীনের কেউ কখনো চুক্তি ভুক্ত গোত্রের কোন দুশমনদেরকে সাহায্য করতে পারবেনা। চুক্তি ভুক্ত গোত্রগণ একে অপরের সহিত যুদ্ধও করতে পারবেনা।



এই শান্তি চুক্তি মদিনার অন্যান্য গোত্র সহ মদিনার ইহুদীদের সাথেও ছিল। কিন্তু ইহুদীদের মধ্যে বানু কাইনুকাইরা মুসলিমদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে যুদ্ধ বাধিয়েছিল। ইসলাম-পূর্ব সময় থেকে মদিনার কোন কোন মুশরিক গোত্রের সাথে এই ইহুদী বানু কাইনুকাদের মৈত্রীতা ছিল। তাই ঐ মিত্রতার শর্ত ছিল- কাইনুকাইরা আক্রান্ত হলে তাদের মিত্ররাও এদের রক্ষা করতে এগিয়ে যেতে হবে। যেহেতু ইসলাম গ্রহণের ফলে মদিনার সকল মুশরিক গোত্র এক মুসলিম মিল্লাতে অঙ্গীভূত হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের পূর্বকৃত মিত্রতা অকার্যকর হয়ে যায়। আর এই অবস্থায় আল-কোরআনের এই আয়াত দিয়ে আল্লাহ নও-মুসলিমদের কী করতে হবে তার স্পষ্ট নির্দেশ বলে দিয়েছেন। কাজেই আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপটে একটি অনুবাদ এভাবে হতে পারে-


হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে তোমাদের মিত্র এবং নিরাপত্তা প্রদানকারী (Protectors) রূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর পরস্পরের মিত্র এবং নিরাপত্তা প্রদানকারী। এবং তোমাদের মধ্যে যে কেহ তাদেরকে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অন্যায়কারীকে পরিচালিত করেন না

বাংলা ব্লগগুলোতে দেখা যায় যে- যে কেউ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় এমন আয়াত পেলে তৎক্ষণাত তুলে নিয়ে আসেন। কিন্তু এটি কোরানিক সুনান নয়। আল-কোরআনের কোন এক আয়াত পড়েই কেউ তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা। আল-কোরানের অনেক আয়াত আছে যেগুলোর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থাকে, তাই একাধিক আয়াতকে সামনে এনে বিচার বিশ্লেষণ করে তবেই সিদ্ধান্তে আসতে হয়। ঐতিহাসিক সেই প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করলে মূল অর্থ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনুবাদকের চেয়ে ইসলাম বিরোধীদের অজ্ঞতাই বেশী দায়ী। কিন্তু সেই অজ্ঞতাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার পরও একে নিয়ে চর্বিত-চর্বণ কপটতার শামিল। দুঃখজনক হলো এটাই ব্লগগুলোতে আজকাল অনেকে করছে।



যেহেতু এই একটি আয়াত নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীরা যখন তখন ইসলামকে ‘হেট মঙ্গার’ ধর্ম প্রমাণ করতে লেগে যায়, তাই আমি এই আলোচনা আমার শিরোনামের আলোচ্য সূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেষ্টা করেছি। তবে একজন সঠিক মুসলিম জানেন যে- একজন অমুসলিমদের প্রতি একজন মুসলিমের সম্পর্ক কেমন হবে, তার স্পষ্ট দিক-নির্দেশনা আল্লাহ পাক আল-কোরআনে দিয়ে রেখেছেন! বাস্তব সত্য হচ্ছে যে- নানাবিধ প্রতিকূলতার জন্য পৃথিবীর প্রতিটি ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, সম্প্রদায়ের সাথে সম্প্রদায়ের, রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেনা। কিন্তু তার মানে এই নয় যে- বন্ধুত্ব নেই বলে তারা পরস্পরের দুশমন হয়ে যায়। বন্ধুত্ব অনেক প্রকার হতে পারে। ব্যক্তিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক, পেশাভিত্তিক, রাষ্ট্রিক ও আন্তর্জাতিক। তবে যদি ধরে নেয়া হয় যে- এই আয়াত দ্বারা ব্যক্তি কেন্দ্রিক বন্ধুত্বকে নিষেধ করা হয়েছে, তবে সেই বন্ধুত্বটি হবে আত্মিক বন্ধুত্ব, আর আত্মিক বন্ধুত্বের জন্য অবশ্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ হবার দাবি রাখে।



ব্যক্তি, সম্প্রদায়, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব বজায় সম্পর্কে আল-কোরআনে আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে- যে সব অমুসলিম, ব্যক্তি, সম্প্রদায়, রাষ্ট্র, ও আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করবে, আমরা যেন তাদের সাথেও ভাল ব্যবহার করি। যারা জানেন না- তাদের জানার জন্য আমি এখানে তার উল্লেখ করছি। উপরের বহুল আলোচিত আয়াতের কিছু পরের আয়াত নং ৫৭-৫৮ তে আল্লাহ পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন, কাদের সাথে এক জন মুসলিম বন্ধুত্ব করতে পারবে বা পারবেনা-

হে মুমিনগণ, আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর যখন তোমরা নামাযের জন্যে আহবান কর, তখন তারা একে উপহাস ও খেলা বলে মনে করে। কারণ, তারা নিবোর্ধ। (৫:৫৭-৫৮)

উপরের আয়াতের আলোকে যদি দেখি তাহলে শুধু ইহুদি নাসারা নয়, যারা যেখানেই হোক এমনকি এই ব্লগেও আমার ধর্মকে উপহাস করে, আমাদের রাসুলকে নিয়ে খারাপ উক্তি করে, আমাদের বিশ্বাসকে ভ্রান্ত বলে, আর সে যদি মুসলিম মা-বাবা'র সন্তানও হয়ে থাকে কিংবা আমার আপন ভাই হয়ে থাকে তার সাথেও আমাদের আত্মিক সম্পর্কযুক্ত বন্ধুত্ব হতে পারেনা।



আর যদি কোন ইহুদি-নাসারা কিংবা নাস্তিক যিনি আমার ধর্ম, আমার বিশ্বাস, আমার রাসুল, আমার কিতাব নিয়ে নীরব থাকেন, কোন ধরণের নেগেটিভ আচরণ না করেন, তাহলে আত্মিক না হলেও সামাজিক বন্ধুত্ব করতে আপত্তি থাকার কথা নয়। এই নীতি ব্যক্তিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিক ও আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।



সূরা আল-মুমতাহিনার ৯ নং আয়াতে আল্লাহ নিষেধ করেন-

আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম। (৬০:৯)

আবার একই সূরার ৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন কাদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা যাবে-

ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন। (৬০:৮)

উপরোক্ত আয়াত দ্বারা- পানি থেকে তেল যেমন আলাদা হয়ে থাকে, তেমনি অমুসলিমদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা আর না রাখার নির্দেশ স্পষ্ট হয়ে গেছে। একজন স্বল্প জ্ঞানী লোকও বুঝতে পারবেন যে- এই আয়াতগুলোর আলোকে আল্লাহ অতি ক্ষুদ্র এক মানব গোষ্ঠিকে বুঝাচ্ছেন- যারা নিজেরাই হেট মঙ্গার, ইসলাম বিদ্বেষী, অসহিষ্ণু, ইসলামের কুৎসারটনাকারী, মুসলিমদের প্রতি জোর-জবরদস্তকারী, ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির। কোরআনের এই আয়াতগুলোতে কোনভাবেই পৃথিবীর যে কোন মতবাদে বিশ্বাসী ভাল, সভ্য ও শান্তিকামী মানুষদের বুঝানো হয়নি।

Written by-মুনিম সিদ্দিকী

0 comments
Labels: ,

বেঞ্চমার্ক মুহাম্মদ (স):। লাইফ ইজ বিউটিফুল। ট্রাই করেই দেখুন না। প্লিজ!

জন্মের আগেই তিনি বাবাকে হারান। মা ও চলে যান ৬ বছর হতে না হতে। শেষ সম্বল দাদাও ওপারে পাড়ি জমান ৮ম বছরে। দরিদ্র চাচার ঘরে শেষ আশ্রয়। একই কস্ট যাদের বুকে আছে তারা এভাবে ভাবতে পারেন যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষটির শুরুটা এমনই ছিল। এতটাই শুন্য। সমাজের এমনতর শিশুটির প্রতি হাতটা বাড়িয়ে দিন। হয়তো সে ও বড় কিছু হবে। চাচা হলে পরম মমতায় কোলে নিন অনাথ ভ্রাতুস্পুত্র/ত্রীটিকে। তার জমি-জমা কেড়ে নেয়ার চক্রান্ত্ বাদ দিন।

তিনি শুয়ে বসে চাচার ঘরে খাননি। একপাল ছাগল/দুম্বা চড়াতেন। হেল্প করতেন নানানভাবে। সিরিয়ার দিকে ও হজের সময় চাচার ব্যবসায় লেগে গেছেন কৈশোরেই। আমাদের কৈশোরও অল্প-বিস্তর এমনটি হতে পারে। মাকে একটু হেল্প। বাবার আয়ের সাথে দুটো টাকার যোগ। জগতটাকে চেনা। হতে পারে ক্ষুদ্র ব্যবসা বা চাকরী। যখন যেখানে যেভাবে পারা যায়।

কৈশোরেই ছেলেটি আল-আমিন উপাধি পেয়ে যায় পাড়ার লোকদের কাছে। তজ্জন্য নবী বা রাসুল হবার দরকার পড়েনি। স্কুল-গামী কিশোরিদের শিষ দেয়া বা নিছক বোকা সোকা ভাল ছাত্র হবার চেয়ে Active ভাল ছেলে- সৎ, সাহসি হিসেবে নাম ফুটলে দোষ কি?

বিশিস্ট ব্যবসায়ী খাদিজার ব্যবসায়িক ফার্মে ম্যনেজার হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি অল্প সময়েই সৎ, দক্ষ, ব্রিলিয়ান্ট অফিসার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যান।পরে খাদিজা (র) সমস্ত ব্যবসার দায়িত্বই তাকে দিয়ে দেন। এমনকি জীবনাটাও একসাথে কাটানোর প্রস্তাব পাঠান। আমরা যারা অন্যের ব্যবসা প্রতিস্টানে কাজ করছি তাদের কাছে এর চেয়ে ভালো Example কি হতে পারে?

ব্যবসার মালিকানা হাতে পেলে তিনি হলেন Employer. জগৎবাসীর কাছে এর চেয়ে ভাল বস্‌ আর কে হতে পারে? আমরা যারা বস্‌ আছি তারা অনায়াসেই মুহাম্মদ (স) কে ভালো বসের উপমা হিসেবে নিতে পারি। পরবতীকালে উনার রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে উনি কেমন নেতা ছিলেন তাও আমরা জানি। ফালতু কথা, মিথ্যাচার, বেইনসাফি, বেঈমানির নেতাগিরির কালচারটা বাদ দিয়ে আমরাতো তাঁর মত নেতা হতে পারি। যে পার্টিই হোকনা কেন। অন্তত: কর্মিদের কাছে।

তিনি ছিলেন স্বামী, পিতা, দাদা, চাচা সবই। কেমন আচরণ করেছেন আত্নীয়কুলের সাথে। দুধ-মা হালিমা বা দুধভাইর সাথে। আমরা কেমন করি? মেকিভ্দ্রতার খোলস ছেড়ে আমরা চাইলে তেমন হতে পারি।

তিনি অনেকের প্রতিবেশি ছিলেন। দূর কোন বনবাদাড়ে থাকতেন না। ঢাকা শহরে আমার প্রতিবেশিরা কেমন আছে? তারা কি খায়? গ্রামান্চলের প্রতিবেশি সম্পর্কই বা কেমন? রেষারেষির অনল বা আধহাত সীমানা গন্ডগোলের চক্র থেকে চাইলে আমরা বেরুতে পারি। মনটা ভাল থাকবে।

তিনি মেহমান হতেন। তবে অল্প সময়ের জন্য। বে আক্কেলের মত দিনের পর দিন আত্নী্য় বাড়িতে পড়ে থাকতেননা। গৃহকর্তার সামর্থ্যমত আপ্যায়নে পরমতৃপ্ত হতেন। 'বোরহানি বা ডিম ছিলনা' বলতে বলতে বিয়েবাড়ি ত্যাগের ঘৃন্যতা ছিলনা উনার মধ্যে। আসুন আমরা তেমন হই।

মেহমান আসত তার কাছে। প্রায়ই। এমনকি রাতে বিছানা নস্টকরে চলে যাওয়ার রেকর্ডও আছে। রাগ করেননি। কৃত্রিম হাসি দাতে চেপে 'খেয়ে গেলে ভাল হতোনা' ধরনের ভন্ডামি করেন নি। ধনী আর দরিদ্র ভেদে বিহেভ করেননি। আসুন বিষয়টা শোধরাই।

মুসলিম ছাড়াও ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক নানাবিধ অনুসারিদের সাথে তিনি চলাফেরা, উঠাবসা, লেনদেন করেছেন। কারও বিন্দুমাত্র সম্পদ লুট করেন নি। মানুষের অধিকারের প্রতি চরমতর শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। হিন্দুর জমি, বসত ভিটা, দোকান লুট করে যেসব মুসলিম 'লেকচার' দেন তাদেরজন্য ডাবলঘৃনা। এমনকি ভিন ধর্মানুসারীদের নুন্যতম 'হেয়' চোখে দেখাও ঘোরতর অপরাধ।

মুহাম্মদ (স) সৈনিক, সেনাপতি, রাজনৈতিক, বিরোধিদলীয় নেতা, সরকার প্রধান, রাস্ট্রপ্রতি, ইমাম, মুসল্লি, পথচারী, কয়েদি, জেলার, লোনদাতা, লোনগ্রহীতা, বক্তা, শ্রোতা অসংখ্য চরিত্রে 'অভিনয়' করেছেন। ধনাঢ্যতা, দারিদ্র্য, নিপিড়ীত, ক্ষমতাবান সব ধরনের সময় পেয়েছেন। আমরাও এর কোন একটি সময় বা চরিত্র পার করছি।

অনুসরন করতে চাইলে পুরোটাই তার কাছে পাওয়া যাবে। কেননা মুহাম্মদ (স) পেশাদার কোন নান, পাদ্রী, মাওলানা, ঠাকুর, পীর, দরবেশ ছিলেননা, তিনি ছিলেন হাজারো মানুষের মাঝে, আমাদের মত সুখে কিবা দুখে, শৈশবে, যৌবনে এবং বাধর্ক্যে। সদা। ফলো করলে শান্তি পাবেন।

Written by -পাললিক মন

0 comments