শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Labels: , ,

উপাসনা না দাসত্ব ? : নুমান আলী খান

আমি আপনাদেরকে আরবি শব্দ ইবাদাহ বা এর মাছদার উবুদিয়া এর অর্থ বোঝাতে চাই। শব্দটি দ্বারা দুটি জিনিস বোঝায়, যদি আমি এর যেকোনো একটি অর্থ ব্যবহার করে অনুবাদ করি তাহলে অনুবাদটি হবে অসম্পূর্ণ। এটা ক্লাসিকাল আরবির বিপরীতে ইংরেজি বা বাংলার সীমাবদ্বতা। ক্লাসিকাল আরবির একটি শব্দ দিয়ে একই সময়ে অনেকগুলো অর্থ প্রকাশ করা হত। যদি আমরা এই ধারনাটি (ইবাদা শব্দটি ) আংশিক বাংলা অর্থ দিয়ে অনুবাদ করি , তাহলে বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। যে দুটি পদ আরবি শব্দ ইবাদার পরিপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে তাহলো - উপাসনা এবং দাসত্ব। অধিকাংশ সময় আমরা যেকোনো একটি অর্থ গ্রহণ করি। বাংলায় দুটি আলাদা বিষয়, কিন্তু আরবি একটি শব্দ ইবাদা দ্বারাই উভয়টি বেঝায়। সুতরাং যখন রাসুল (স) বলেন -' লা আ'বুদু মা তা'বুদুন ' - এর অর্থ শুধু এটা নয় যে, আমি উপাসনা করব না বরং এর অর্থ এটাও যে, আমি গোলাম হব না , আমি দাস হব না।

সংক্ষিপ্তভাবে আমি আপনাদেরকে উপাসনা এবং দাসত্বের পার্থক্য স্মরণ করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব। যখন মাগরিবের নামাজের সময় হয়, আমরা আল্লাহর উপাসনা করি। আবার যখন এশার নামাজের সময় হবে, আমরা উপাসনা করব। কিন্তু এই দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে আমরা কি ? আল্লাহর দাস। যখন আপনি ঘুমাচ্ছেন আপনি উপাসনা করছেন না, কিন্তু তখনও আপনি আল্লাহর একজন দাস। যখন আপনি ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন , গাড়ি চালিয়ে কাজে যাচ্ছেন , দাত ব্রাশ করছেন , নাস্তা খাচ্ছেন , গাড়ি পার্ক করছেন - যদিও এই সময় আপনি কুরআন তিলাওয়াত করছেন না বা কোনো উপাসনার কাজ করছেন না - কিন্তু এই সময়েও আপনি আল্লাহর একজন দাস।

অন্য কথায় উপাসনা হলো - কিছু সুনিদৃষ্ট কাজের নাম। রোজা রাখা, নামাজ পড়া , হজ্জ পালন করা , কুরআন তিলাওয়াত করা , দান করা এইসব কাজ হলো উপাসনা। কিন্তু একজন দাস সবসময়-ই একজন দাস। সে এই কাজগুলো পালন করুক আর নাই করুক। এই ধারনাটি খুবই শক্তিশালী। এর মানে হলো - আমাদেরকে জীবন যাপন করতে হবে সেভাবে- যেভাবে আল্লাহ জীবন যাপন করতে বলেছেন। শুধু মাত্র জুমার নামাজ পড়া বা খুতবা শোনার সময়-ই নয়।

আমরা দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়েও আল্লাহর বান্দাহ। আল্লাহ বলেন :

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ
(2:238)

''সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও।

কোনো কোনো তাফসীর কারকের মতে الصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ মানে হলো ---দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময় আল্লাহর সাথে সম্পর্ক যুক্ত থাকা।

আপনারা জানেন , অধিকাংশ সময় লোকজনের কি হয় ? লোকজন আল্লাহর উপাসনা করে কিন্তু তার দাসের মত আচরণ করে না। কারো কারো মদের দোকান আছে , আবার প্রত্যহ পাচবার নামাজ পড়তে আসে। সে আল্লাহর উপাসনা করে কিন্তু সুস্পষ্টরূপে সে কার মত আচরণ করে না ? আল্লাহর দাস। সে আল্লাহর নির্দেশ পালন করছে না। যেহেতু আমাদের কাছে ইবাদতের এই আংশিক অনুবাদ আছে এতে কি ঘটে আপনারা জানেন , আমরা নিজেদেরকে এই বলে স্বান্তনা দেই যে , অন্তত:পক্ষে আমিতো আল্লাহর উপাসনা করছি। সুতরাং কাজ শেষ। না, আপনি আল্লাহর উপাসনা করেন কিন্তু এখনো আপনি আল্লাহর বান্দাহ নন। উপাসনা হলো একটি অংশ আর দাসত্ব হলো অন্য অংশ। উপাসনা এবং দাসত্ব উভয়ই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।

এখন আরবদের দুটো সমস্যা ছিল। (এক.) তারা আল্লাহর উপাসনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। কিন্তু আপনারা জানেন তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কি ছিল ? (দুই.) তারা আল্লাহর দাস হতে অস্বীকার করেছিল। এই সুরায় দুটো সমস্যার কথা বলা হয়েছে।


আমাদেরকে তা সুস্পষ্ট করে তুলে ধরতে হবে। যখন তারা শুধুমাত্র আল্লাহকে সিজদা করতে এবং সকল প্রকার প্রতিমা- মূর্তি পূজা ত্যাগ করতে অস্বীকার করলো, তখন এটা কোন প্রকারের সমস্যা ছিল ? উপাসনাগত না দাসত্তসম্পর্কিত ? এটা একটা উপাসনা কেন্দ্রিক সমস্যা। কিন্তু যখন তারা এতিমকে দান করতে অস্বীকার করলো , যখন তারা কন্যা সন্তানকে হত্যা করা থেকে বিরত থাকতে প্রত্যাখ্যান করলো, যখন তারা অভাবীদের অন্ন দিতে অস্বীকার করলো, যখন তারা ন্যায় বিচার করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলো , যখন তারা বিনা বিচারে খুন করা থেকে বিরত থাকতে অসম্মত হলো, যখন তারা দাসদেরকে নির্যাতন করতে থাকলো, যখন তারা এইসব কিছু করতে থাকলো তখন তারা মূলত কি করতে অস্বীকার করলো ? তারা আল্লাহর গোলামের মত আচরণ করতে অস্বীকার করলো।

আল্লাহর দাস হওয়া - উপাসনা এবং দাসত্ব - দুটোই অন্তর্ভুক্ত করে। এখন আয়াতটি বুঝতে চেষ্টা করুন। لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ আমি গোলাম হব না এবং আমি পূজা করব না -তার -তোমরা যার উপাসনা এবং গোলামী করছ। এই আয়াতে রাসুল (স) কে তাদের সম্পর্কে কথা বলতে বলা হয়েছে , মুশরিকরা যার পূজা করে এবং যার গোলামী করে। এখন তারা কার উপাসনা করত এবং কার গোলামী করত ? তারা একদিকে ছিল মূর্তি পূজারী, মিথ্যা খোদার পূজারী। আর অন্যদিকে তারা ছিল তাদের প্রবৃত্তির দাস। দুটো বিষয় -১. তারা মূর্তি পূজা করত এবং ২. তারা নিজেরা নিজেদের গোলাম ছিল। তারা নিজেদের নফস এর দাস ছিল। আর রাসুল (স) বলেন - আমি তোমাদের মূর্তির পূজা করতে অস্বীকার করছি। এবং আমি একই সাথে আমার নিজের প্রবৃত্তির দাসত্ব করতেও অস্বীকার করছি। আমি উভয়টাই প্রত্যাখ্যান করছি।

মুশরিকরা বলছে - তিনি প্রায় এক দশক যাবত আমাদের ধর্ম অস্বীকার করছেন। চল তার সাথে একটা সমঝোতায় আসি, ভবিষ্যত এতে ভালো হবে আশা করি। সবসময় মুসলিম-অমুসলিম দ্বন্দে মক্কা হয়ে গিয়েছিল তখন অশান্তিময়। চল একটা সমঝোতায় আসি, এতে জীবন-যাপন শান্তিময় হয়ে উঠবে। আমরা একবছরের জন্য আপনার ধর্ম গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তারপর পরবর্তী বছর আপনি আমাদের ধর্ম গ্রহণ করবেন। তারপর আমরা আবার আপনার ধর্ম গ্রহণ করব এবং পরের বছর আপনি আবার আমাদের। অন্য কথায়, আমরা সবাই এক সময়ের জন্য ইসলাম পালন করব, আবার অন্য সময়ের জন্য শিরক পালন করব। যদি আমরা সমঝোতা করি , তাহলে মক্কায় আর কোনো অশান্তি থাকবে না। আমাদের ভবিষ্যত হবে উন্নত।

লা আ'বুদু --অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ এর মতে -- যেটা মুদারে --মুদারে বর্তমানের চেয়েও ভবিষ্যতের উপর গুরুত্বারোপ করে বেশি। অন্য কথায় , রাসুল (স) বলেন , তোমরা এত বেশি আশা করো না। আমি এটা করতে যাচ্ছি না , এটা কখনোই ঘটবে না। তোমরা যদি মনে কর এতে ভবিষ্যত ভালো হবে তবুও-- তোমরা যার গোলাম এবং উপাসক, আমি কখনই তার গোলাম এবং উপাসক হব না।


Lecture link : https://www.youtube.com/watch?v=ee03TxZIlDM

0 comments
Labels: , , ,

কেমন আছ তুমি :: নুমান আলী খান

কেমন আছ তুমি :: নুমান আলী খান 

কেমন আছ” — আমি বোধহয় জীবনে এই প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি শুনেছি। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, চাকুরিক্ষেত্রের সহকর্মীরা — সবাইই প্রতিদিন অজস্রবার এই প্রশ্ন করে। প্রতিটি মানুষেরই কুশল বিনিময়ের প্রথম প্রশ্ন “কেমন আছেন”? ইদানিং পরিচিতজনরা বেশিরভাগই একটা উত্তর দেয় — “এইতো”… কী অদ্ভূত !! এইতো মানে আবার কী? ভালো নাকি খারাপ?

খারাপ বলতেও ‘এইতো বলা’ লোকদের বাঁধে — কেননা তারা সবাইই আসলে অনেক ভালো আছেন। জীবনে প্রাপ্তি তাদের প্রচুর। “খারাপ আছি” — বললেই তাকে জিজ্ঞেস করা হবে — কী হয়েছে? যার উত্তর দিতে পারবেন না। আবার “ভালো আছি” সেটা স্বীকার করলে সম্ভবত নিজের উচ্চাকাংখা প্রকাশ করা হবেনা, তাই সবাইই বলেন — “এইতো”.. ভালো আছি বললে তার আরো অনেক কিছু পেতে হবে, সেইটা আবার প্রশ্নদাতা হয়ত খেয়াল করবেন না, তাকে আরো বেশি মূল্যায়ণ করবেন না, তাই হয়ত বলে — “এইতো”। “ভালো আছি” বলার মানুষ কেন যে এত কম সেটা ভেবেই পাইনা!

ছোটবেলায় আব্বুকে দেখতাম এই প্রশ্নের উত্তরে সবসময়ে “আলহামদুলিল্লাহ” বলতে। অনেকটা ট্রেডিশান হিসেবেই এটা আয়ত্ব করেছিলাম। তারপর একসময় ভুলেও গিয়েছিলাম কৈশোরে। আবার প্রতিদিনের এই নিত্য প্রশ্নের উত্তরটিকে আত্মস্থ করতে চেষ্টা করছিলাম যখন ভার্সিটির হলে থাকতাম। তখন প্রচন্ড বাজে পরীক্ষা হতো হঠাৎ হঠাৎ। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে দুনিয়ার সব বন্ধু মহলের মতন আমাদেরও কমন প্রশ্ন ছিলো — “কেমন হলো”? আমার রুমমেট ছিলো অসাধারণ চমৎকার একটা ছেলে মাশাআল্লাহ। কেবলমাত্র ওকেই সবাই “কেমন হলো পরীক্ষা” বলে উত্তর পেতো “আলহামদুলিল্লাহ”; একবার তো এক বন্ধু বলেই বসেছিলো — “ওদের দুইজনকে প্রশ্ন করে লাভ নেই, ভালো খারাপ যা-ই হোক, উত্তর হবে একটাই” ; সেদিন যদিও মজা পেয়েছিলাম, কিন্তু আমি জানতাম — অভ্যাস করে ফেলেও আমি একদম হৃদয়ের ভিতর থেকে ফিল করতে পারতাম না সবসময়ে সেই “আলহামদুলিল্লাহ” কথাটা। খচখচ করতো মনটা একটা প্রশ্নের উত্তরের অভাবে।

আলহামদুলিল্লাহ কথাটার অর্থ সেদিন নুমান আলী খানের সূরা ফাতিহার উপরের আলোচনাতে শুনছিলাম।

আরবিতে একটা শব্দ আছে — ‘মাদহু’, যার অর্থ প্রশংসা।
আরেকটা শব্দ আছে — ‘শুকরু’ — যার অর্থ কৃতজ্ঞতা।
আমাদের এই জীবনে এমন অনেককিছু আছে, যেগুলোর আমরা প্রশংসা করি, এমন অনেক মানবীয় গুণাবলী আছে — যা দেখে আমরা মোহিত হয়ে প্রশংসা করি। যেমন ফুলের সৌন্দর্য্য, খেলোয়াড়ের দারুণ নৈপুণ্য। এইসব মুগ্ধতা আর মোহনীয়তা আমাদের প্রশংসা কুড়ায়, কিন্তু আমরা সেগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ হইনা।
আমার এমনঅনেক মানুষ আছে, যারা আমাদের উপকার করার পর আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হই, কিন্তু কৃতজ্ঞ হলেই তার প্রশংসা করিনা, বরং তাদের প্রতি শুধুই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

কিন্তু এই ‘হামদ’ শব্দটিতে কৃতজ্ঞতা আর প্রশংসা দুটোই একসাথে প্রকাশিত হয়। হামদ শব্দটি ব্যবহার করে জুমুআর দিন খতীবরা বলেন — “নাহমাদুহু ওয়া নাসতা’ইনুহু…” এই শব্দ দিয়ে তিনি বলেন যে আমি প্রশংসা করছি… কিন্তু যখন শব্দটির সাথে যখন “আল” যুক্ত হয়ে “আলহামদু” হয়, তখন সেটা যে অর্থ বুঝায় তা হলো সমস্ত প্রশংসা আর কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। আর তাই “আলহামদুলিল্লাহ” শব্দটি দাঁড়ায় সমস্ত প্রশংসা আর কৃতজ্ঞতা কেবলমাত্র আল্লাহর, আর কারো না; এইটা আমার বলা বা না বলার উপর নির্ভর করছেনা বরং সমস্ত প্রশংসা আর কৃতজ্ঞতা পাওয়ার পরম যোগ্যতা কেবলই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার।

কী অদ্ভুত সুন্দর এই কৃতজ্ঞতা ! আমার জীবনের প্রতিটি অনুক্ষণের জন্যই আমি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁর অনুপম ভালোবাসায় আমি সিক্ত, আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস আল্লাহ আমার প্রতি কতটা দয়াময় তারই প্রতিচ্ছবি। এই “আলহামদুলিল্লাহ” বলতে কেন আমাদের সংকোচ হবে? হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে আমাদের জীবনে আল্লাহ পরীক্ষা নিয়ে থাকেন, কঠিন সময় আসে। সে তো পরীক্ষা বলেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তো আমাদেরকে বলেই দিয়েছেন যে তিনি ক্ষুধা, ভয়, দারিদ্র্য দিয়ে আমাদের পরীক্ষা নিবেন, আর ধৈর্য্যধারণকারীরা সেই পরীক্ষার ফলাফলের সুসংবাদ পাবে। ক’দিন আগে একটা লেখায় পড়েছিলাম যেই চিন্তাটা আমার পছন্দ হয়েছিলো — ধৈর্য্য বা সবর অর্থ এমন নয় যে কতখানি সময় আমি কষ্টের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করলাম, বরং কষ্ট করার সময়টা আমি কেমন করে পার করেছিলাম — সেটাই সবর। আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টচিত্তে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে অতিক্রম করলাম, নাকি বিরক্ত হয়ে আর “কেন সব বিপদ আমার উপরেই আসে” টাইপের মূর্খ আচরণে দিনাতিপাত করলাম।

সূরা ফাতিহাতে শিখেছি “আর রাহমানুর রাহিম”.. পরম দয়াময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ আমাকে নিঃসন্দেহে আমার মা-বাবার চাইতেও আমাকে বেশি ভালোবাসেন। তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এক অপার ভালোবাসায়। তিনি আমার জন্য বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে এই বসবাসের জায়গাটা ঠিক করে রেখেছিলেন অনেক আগেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার প্রতিদিনের রিযিক ঠিক করে রেখেছেন, আমার প্রতি আমার বাবা-মা,ভাই-বোনের যেই ভালোবাসা — সেটাও তারই ঠিক করে রাখা রাহমাতের নিদর্শন হিসেবে পাই প্রতিদিন। এই কীবোর্ডের উপর প্রতিটি আঙ্গুলের স্পর্শ দেয়ার সক্ষমতা, সেও তো আল্লাহর দেয়া অপার রাহমাতেরই নিদর্শন। ঠিক এই মূহুর্তে পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ আইসিইউতে শুয়ে আছেন, তাদের চাইতে আমি কতনা ভালো আছি! এখন অনেক যুদ্ধপীড়িত দেশে দারিদ্র্য আর ভয়ে কাটাচ্ছে আমাদেরই ভাইবোনেরা। তাদের তুলনায় আমরা কতই না ভালো আছি। যারা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তারাও তার ভালোবাসাই পেয়ে যাচ্ছি ক্রমশঃ। আর তো মাত্র ক’টা দিন — তারপরে ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই আবার তাঁর কাছেই চলে যাবো। তিনিই তো আমাদের অন্তরতম, প্রেমময় আপনজন।

আমাদের আল্লাহ আমাকে যেমন করে আপন ভালোবাসায় এই জীবন দান করেছেন, তিনিই আমাদের অন্য প্রতিটি ভাইবোনের জীবনেরই অধিকর্তা। এই পৃথিবী-আকাশ-নক্ষত্র — এসব তো কেবলই আমাদের জানা জগত। আল্লাহ আমাদের জানা এবং অজানা সমস্ত জগতেরই ক্ষমতাবান। আমাদের অজানা যে জগত – সেও আল্লাহরই এক সৃষ্টি। আল্লাহ হলেন শ্রেষ্ঠতম বিচারক — যার পৃথিবীর জীবনে একটু বেশি কষ্ট হচ্ছে অন্য সবার তুলনায় — সেই অজানা জগতটায় তার জীবনটা যে দয়াময় আল্লাহ অনেক সহজ করে দেবেন না — সেটা কেউ বলতে পারে না। আল্লাহ হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ ন্যায়বিচারক যিনি প্রতিটি অণু পরিমাণ কাজের উপর নির্ভর করেই আমাদের ফলাফল দেবেনঃ জান্নাত আর জাহান্নাম।

কিন্তু আমাদের এই একটাই জীবন, সেখানে আমার কৃতজ্ঞ বান্দা হবার জন্য প্রয়োজন এই “আলহামদুলিল্লাহ” নিঃসঙ্কোচে, নির্দ্বিধায় বলে ফেলা। এই কথাটাকে বলে ফেলার অভ্যাস করে ফেলা। যেন প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় উৎফুল্ল হয়ে আমরা বলতে পারি — “আলহামদুলিল্লাহ”.. আমি যে দেখতে পারছি, কানে শুনতে পাচ্ছি, আমার সুস্থ স্বাভাবিক শরীর আছে, আমার আত্মীয়স্বজন আমার চারপাশে, আমার সামাজিকভাবে সম্মান বজায় আছে — এমন অজস্র রাহমাত আমাদের জীবনে আছে যার যেকোন একটি না থাকতে পারতো, আর না থাকলে আমাদের কিছুই করার থাকতো না।

আমার আল্লাহকে স্মরণ করার একটা আত্মা আছে সবকিছুর জন্যই আমি কৃতজ্ঞ আমার আল্লাহর প্রতি। এই আত্মাটা হিদায়াতের খানিক স্পর্শ পেয়েছে বলেই আল্লাহর দেয়া রাহমাতের কথা ভেবে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কথা চিন্তা করতে পারছি। কিন্তু আল্লাহ যেন এই অপার রাহমাতগুলো আমাকে আরো বাড়িয়ে দেন, তিনি যেন আমার উপরে আরো সন্তুষ্ট থাকেন সে আশায় তো আরো চাইতে হবে, আরো কৃতজ্ঞ হতে হবে! কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে আল্লাহ আরো বেশি বেশি করে দান করেন। রাত জেগে তাহাজ্জুদ আদায় করে পা ফুলিয়ে ফেলার কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একজন সাহাবা প্রশ্ন করলে তিনি বলেছিলেন আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? আমাদের প্রিয় নেতা, সুন্দরতম চরিত্রের শ্রেষ্ঠ এই মানুষটিও চাইতেন তাঁর রব আল্লাহর প্রতি আরো আরো কৃতজ্ঞ হতে। তার অনুসারী হিসেবে আমাদের শিক্ষাও তো সেই অনুপম শিক্ষা — মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কৃতজ্ঞ বান্দা হতে চাওয়া।

আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে আরো আরো কৃতজ্ঞ বান্দা হবার তাওফিক দান করেন। আল্লাহ যেন আমাদের কথার, লেখার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে কবুল করে নেন। আল্লাহ যেন আমাদেরকে এমন বান্দাদের দলে অন্তর্ভুক্ত হবার করে নেন যারা পৃথিবী থেকে বিদায়ের কালে তাঁর উপর সন্তুষ্ট থাকবে এবং তিনিও আমাদের উপরে সন্তুষ্ট থাকবেন।





— লিখেছেনঃ স্বপ্নচারী আব্দুল্লাহ




রেফারেন্স

– [অডিও- MP3] সূরা ফাতিহার উপরে আলোচনা :: উস্তাদ নুমান আলী খান
– [ভিডিও - ইউটিউব] সূরা ফাতিহা — Points To Ponder [প্রথম অংশ] :: নুমান আলী খান

http://alorpothe.wordpress.com/2012/04/07/alhamdulilah/

0 comments
Labels: ,

সুরা আবু লাহাব- কঠোর শাস্তির আড়ালে লুকানো বেদনা গুলো

অনেক বছর আগের কথা । সূর্যের খরতাপে ক্লান্ত মরু প্রান্তর ঘেরা মক্কা নগরী । লোকালয়ের বাগানের খেজুর গরমে লাল হয়ে উঠছে । বাতাসে পাকা খেজুরের মিষ্টি গন্ধ ।
আব্দুল উযযার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে তার দুই ছেলে উতবা আর উতাইবা

“বউ দের তালাক দিবে কিনা বল ? “
মক্কার অন্যতম ধনী প্রভাবশালী আবদুল উযযার ফর্সা মুখ রাগে গনগনে আগুনের মত হয়ে গেছে রাগে । অল্পতেই তার চেহারা এমন হয়ে যায় । লোকে তার নাম দিয়েছে আগুন বরণ মুখ বা আবু লাহাব ।আবু লাহাব বললো , এই তোমরা মাথা নিচু করে থেকো না , কথার জবাব দাও ।

আবু লাহাবের অত্যন্ত রূপবতী স্ত্রী উম্মে জামিল ও উপস্থিত আছে এই পারিবারিক সভায় । সে অভিজাত বংশীয় নারী । হারব বিন উমাইয়ার কন্যা । আবু সুফিয়ানের বোন । তার একটা ভাল নাম ছিল “ আরদা “ কিন্তু বিখ্যাত সৌন্দর্যের কারণে তাকে উম্মে জামিল বলে সবাই । মক্কার কুরাইশ বংশীয় নারীদের মধ্যে আছে তার বিশাল আধিপত্য । তার গলার অত্যন্ত মূল্যবান সোনার হারের উজ্জ্বলতা তার আভিজাত্য ঘোষণা করছে । আবু লাহাবের যোগ্য স্ত্রী সে । উম্মে জামিল ছেলের বউদের এ সংসারে আর এলাউ করতে পারছেন না ।

তাঁর ছেলেদের বউ এর নাম রুকাইয়া ও কুলসুম । তারা মোহাম্মাদ ( সাঃ ) এর আদরের দুই কন্যা ।

কাউকে চূড়ান্ত আঘাত করতে চাইলে তার আদরের সন্তানদের আঘাত করতে হয় । এটা অতি সাধারণ হিসেব । সদ্য তালাকপ্রাপ্তা দুই কন্যার কান্না মোহাম্মদের ( সাঃ ) বুকে কতটা শেল হয়ে বিঁধবে এটা ভাবতেও উম্মে জামিলের মনটা নিষ্ঠুর আনন্দে ভরে যাচ্ছে ।

কিন্তু উতবা কেন রাজি হতে পারছেনা । দীর্ঘদিনের দাম্পত্যজীবনের সুখ দুঃখের ছবি তার মনে এসে আছড়ে পড়েছে । আমৃত্যু যে বাঁধন অটুট রাখবে বলে সে কথা দিয়েছে তার উপর এ কি কঠিন মরু ঝড়ের আঘাত ? তার চোখ ছল ছল করে উঠছে , চোখের জল না হয় দেখানো যায় , অন্তর ভেংগে খান খান হয়ে যাচ্ছে সেটা কিভাবে দেখাবে বাবা মাকে ।


(২) সেই সময়টা

সময়টা ছিল তখন দলাদলি, হানাহানি ও রক্তারক্তির
পৌত্তলিকতার নিকষ কালো অন্ধকারে ম্লান । চারিদিকে অজ্ঞতা , অশ্লীলতা , স্বেচ্ছাচারিতা , কুসংস্কার । এক গোত্রের সাথে আরেক গোত্রের মারামারি , কাটাকাটি । মানুষেরা ছিল হয় মনিব না হয় দাস ।
আল্লাহকে ভুলে গিয়ে প্রায় সকলেই মূর্তিপূজা করতো । পবিত্র কাবা শরীফে ছিল ৩৬০ টি মূর্তি । এমন কি হযরত ইব্রাহীম আর ইসমাইল ( আঃ ) ছবিও টাঙ্গানো ছিল । সেই ছবি তে ভাগ্য নির্ণয়ের জন্য তীর ছোঁড়া হত । মানুষ দেবতাকে খুশি করার জন্য কুরবানি দিত , মানত করতো । ভাবা যায় কি পুরুষ ও মহিলারা উলঙ্গ অবস্থায় কাবা শরীফ তওয়াফ করতো ।

অভিজাত শ্রেণীর পুরুষ আর মহিলাদের মর্যাদা ছিল সমাজে । কিন্তু বাকি সব মহিলার অবস্থা ছিল ভয়াবহ । নারী পুরুষের সম্পর্ক তলোয়ারের ধার আর বল্লমের ফলা দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করতো । অসংখ্য স্ত্রী ছিল সকলের । একসাথে দুবোনকে বিয়ে করা যেত । বাবা তালাক দিয়ে দিলে সৎ মা কে বিয়ে করতে পারতো ।অবাধ যৌনসংসর্গ ছিল প্রতিষ্ঠিত ।

তখন স্বাধীন নারীর তুলনায় দাসী দের অবস্থা ছিল ভয়াবহ । কন্যা শিশু দের দেয়া হত জীবন্ত কবর । সমাজের লোকলজ্জা , নিন্দা , তাদের জন্য টাকা খরচ হয়ে যাবার ভয়ে তাদের কে হত্যা করতে দ্বিধা বোধ করতোনা। অসত্য ও অন্যায়ের কাছে সত্য ও ন্যায় ছিল পর্যুদস্ত ।
এখানে এতিম দের কোন ঠাঁই নাই
আখিরাতের কোন ভয় নাই
শিরক আর কুফরিতে ঢেকে গেছে সব ।

এসময় বিশ্ব জগতের রহমত নবুওয়াতের আলোক ধারায় স্নাত হলো হেরা গুহা । নবুওয়ত লাভ করেন মহানবী (সাঃ ) । রহমত স্বরূপ কোরআন নাজিল হয় । মানুষ কে ফিরিয়ে নিতে একেশ্বরবাদের দিকে ।

আল্লাহর নির্দেশে নবীজী ( সাঃ ) ইসলাম প্রচার শুরু করেন ।দীর্ঘ ২৩ বছরে অল্প অল্প করে নাযিল হয় আল কুরআন । আস্তে আস্তে অল্প অল্প করে এসব অমানবিকতা সমাজ তুলে দেয়ার জন্য নির্দেশ আসতে থাকে । বহু বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়েছে । কিন্তু কিছু কিছু আঘাত আছে যা শরীর থেকে মনেই আঘাত করে বেশি । তেমনি এক সম্পর্ক আবু লাহাবের সাথে নবীজী (সাঃ ) এর ।

(৩) চাচা ভাতিজার সম্পর্ক -



ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে গিয়েই মোহাম্মদ (সাঃ ) এর সাথে আবু লাহাবের সম্পর্কের অবনতি ঘটে । আইয়ামে জাহেলিয়াত বলা হয় যে সময়ের বর্ণনা দিতে গেলে তখন নিজেদের গোত্র কে রক্ষা করার একটাই উপায় ছিল সেটা হল, নিজের গোত্রের প্রতি একনিষ্ঠ ভাবে সমর্থন দিয়ে যাওয়া ।সহোদর ভাই , চাচাতো ভাই , গোষ্ঠী ও গোত্রের লোকজন অত্যন্ত শক্ত মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল । আত্মীয়তার বন্ধন ছিল বেশ দৃঢ় । তা না হলে কারো বেঁচে থাকার আর কোন উপায় নাই । গোত্রের মান মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করতে কোন দ্বিধা বোধ ছিলনা । সাম্প্রদায়িকতা আর আত্মীয়তা ছিল গোত্রের নিয়ম শৃঙ্খলার উৎস । নিয়ম ছিল ,
“ নিজ ভাইকে সাহায্য কর সে অত্যাচারিত হোক বা অত্যাচারী হোক । “

নবীজীর চাচা হলেন আবু লাহাব । আবু লাহাবের সাথে নবীজীর সুসম্পর্ক ছিল বরাবরই । । পিতৃহীন এই এতিম কে আবু লাহাব অত্যন্ত স্নেহ করতো । মোহাম্মদের (সাঃ ) জন্মের সময় খুশিতে সে ক্রীতদাসীকে আজাদ করে দিয়ে ছিল । সে ক্রীত দাসীর নাম সুয়াইবা ।কারণ সুয়াইবা র বুকের দুধ মহানবী (সাঃ ) প্রথম পান করেছিলেন । আবু লাহাবের এ কৃতদাসী মহানবী( সাঃ ) প্রথম দুধ মা হবার সম্মানে কৃতজ্ঞ চিত্তে খুশি মনে আবু লাহাব তাঁকে মুক্তি দেন । আত্মীয়তার সম্পর্ক আরো মজবুত করতে রোকাইয়া আর কুলসুম কে আবু লাহাবের দুই পুত্র উতবা আর উতাইবার বউ করে নিয়ে এসেছিল ।কিন্তু ইসলাম প্রচার কে আবু লাহাব কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি । প্রথমে হালকা প্রতিবাদ এর পর একরোখা জিদ দিয়ে ইসলামের আর নবীজীর শত্রুতে পরিনত হয়েছে ।

যখন নবুওয়তের গুরু দায়িত্ব নিয়ে ধীর যাত্রা শুরু হয়েছিল মহানবীর ( সাঃ ) , নিজের আত্মীয় দের কাছে ইসলামের আলো বিতরণের নির্দেশ ছিল মহান আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে । প্রকাশ্যে দাওয়াতের প্রথম সম্মেলন মহানবী (সাঃ ) ডাকলেন তাঁর বাড়িতেই । নবীজী একদিন তার চাচা , চাচাতো ভাই এরকম ৪০ -৪৫ জন আত্মীয়কে দাওয়াত করলেন ।খাওয়াদাওয়ার পর ইসলাম সম্পর্কে সবাই জানাবেন এমন ইচ্ছা ছিল ।তাঁর গোপন ধর্ম প্রচারের কথা আবু লাহাব ঠিক ই জানতো । তাই সে এ মজলিসের উদ্দেশ্য আগেই ধরতে পেরেছিল । সে নবীজীকে কোন কথা তুলতেই দিল না ।

সে বলল , দেখো মুহাম্মাদ , তোমার মধ্যে কোন অস্থিরতা থাকলে তা বাদ দাও ।তোমার জন্য আমাদের বংশ আরবের সবার শত্রু হয়ে যাচ্ছে । আর আমাদের এমন কোন শক্তি নেই যে আমরা এসবের মোকাবেলা করতে পারবো । তোমার মত এভাবে বংশের ক্ষতি আর কেউ করেনি । তোমার চাচা রা , চাচাতো ভাই এরা এখানে উপস্থিত আছে । সব আত্মীয় স্বজনের উচিত তোমাকে শিকল দিয়ে আটকে রাখা । “

সেদিন আর কথা তোলা গেলনা ।নবীজী (সাঃ ) নীরব রইলেন । এই অপমানে নবীজী বেদনাহত হলেও আশা হত হলেন না । আবার বনু হাসিম গোত্রের সবাই কে ডাকলেন । নবীজী এই গোত্রেরই সন্তান । চাচা আবু তালিব , আবু লাহাব এরা আবার এলেন ।

আজ আবু লাহাবকে কোন সুযোগ না দিয়েই নবীজী ইসলামের দাওয়াত পেশ করলেন ।আমি আল্লাহর আদেশে কল্যাণের পথে আপনাদের আহ্বান করছি । এই কঠোর পরীক্ষায় কে কে আমার সাথী হবেন ?মজলিসে কারো মুখে কোন কথা নেই । সত্যের বানী যেন বজ্র কণ্ঠে সবার অন্তরে আছাড়ে গিয়ে পড়লো । বাচাল আবু লাহাব ও পারলো না সে মৌনতা ভেঙ্গে দিতে ।

নীরবতা ভেঙ্গে নবীজীর চাচা আবু তালিবের ছেলে , নবীজীর চাচাতো ভাই আলী বললেন , আমি সাথী হব । আমি সত্য কে গ্রহণ করে নিলাম ।ঘটনার আকস্মিকতায় আবারো সবাই স্তব্ধ । কিন্তু নিজ গোত্রের বিরোধিতা আবু লাহাব ই করল ।

সে ভাই আবু তালিব কে দু কথা শুনিয়ে দিয়ে বলল , আপনার ভাতিজা মোহাম্মদের কারণে আপানার বাচ্চা ছেলেটা উচ্ছন্নে গেলো । এখন তার কথা শুনেই আপনাকে চলতে হবে ।

(৪ ) সাফা পাহাড়ের পাদদেশে আবু লাহাবের প্রতিক্রিয়া -

নবীজীর আলোর কাফিলায় যোগ দিলেন খাদিজা , আলী , যায়েদ , উম্মে আয়মান , আবু বকর সিদ্দিক , উসমান , জোবায়ের , তালহা , আবু ওবাইদা , আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ ( রাঃ ) প্রমুখ । কিন্তু প্রকাশের জন্য যে আলোর আগমন তার আত্মগোপন আর কত ? বাঁধার পাহাড় ডিঙ্গানো যে পথের ধর্ম তা কি আত্ম প্রকাশ না করে পারে ?
দীর্ঘ ৩ বছর গোপনে নিজের আত্মীয় দের কাছে ইসলাম প্রচারের পর আল্লাহর নির্দেশ এলো আরবের অন্যদের মাঝেও ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ।

আরবের একটা নিয়ম ছিল । কোন বিপদের আশংকা করলে বা গুরুত্বপূর্ণ কোন খবর দিতে হলে পাহাড়ের উপর উঠে বিশেষ কতগুলো শব্দ উচ্চারণ করতে হবে । নবীজী (সাঃ ) মক্কাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই পথ অনুসরণ করলেন । সকালে সাফা পাহাড় থেকে ডাক দিলেন “ হে সকাল বেলার বিপদ “ হে সকাল বেলার বিপদ “

এই বিশেষ শব্দ গুলো ভোরের নীরবতা ভেঙ্গে ছড়িয়ে পড়লো মক্কার ঘরে ঘরে । মানুষ সমবেত হল সাফা পাহাড়ে ।
নবীজীর (সঃ ) প্রত্যেক গোত্রের নাম ধরে বলতে লাগলেন , হে কোরাইশ বংশীয়রা , আজ যদি আমি তোমাদের বলি পাহাড়ের অপর পাশে প্রবল এক শত্রু বাহিনী তোমাদের সব লুটে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে , তাহলে কি তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করবে?

বিনয় , নম্র আচরন , সত্যবাদীতা , সহনশীলতা , আমানতদারীর জন্য যার নাম তারা নিজেরাই আল আমিন দিয়েছে ,শুধু বন্ধু নয় , শত্রুরাও যাকে পরম শ্রদ্ধা করতো, তাঁর কথা তারা অবশ্যই বিশ্বাস করবে ।এ কথা শুনে নবী বললেন , তাহলে শুন , তোমাদের জন্য অবশ্যই কঠিন বিপদ আসছে পাপ আর খোদা দ্রোহিতার জন্য । আমি উপদেশ নিয়ে এসেছি আল্লাহর পক্ষ থেকে , তোমাদের মঙ্গল হবেনা যখন না তোমরা ‘ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ না বল । ““ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই “


যুগ যুগান্তরের নীরবতা ভেঙ্গে ইথারের কণায় কণায় কাঁপন জাগিয়ে ছড়িয়ে পড়লো চারিদিকে । নবীজীর ভরাট কণ্ঠের এ আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হল পাহাড় থেকে পাহাড়ে । পৃথিবী ব্যাপী জাহেলিয়াতের জমাট অন্ধকারের এ আলোর বিস্ফোরণে সাফা পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে মক্কা বাসী ছিল নীরব নিস্পন্দ ।

নীরবতা ভেঙ্গে প্রতিক্রিয়ার কণ্ঠ জাগ্রত হল । কেউ কিছু বলার আগেই নবী করিমের আপন চাচা আবু লাহাব বলে উঠলো , “ তোমার সর্বনাশ হোক ! এ কথা বলার জন্যই কি তুমি ডেকেছ ?

তার আপন ভাতিজা , অতি আদরের সন্তান সম মোহাম্মদ কে আঘাত করার জন্য নিষ্ঠুর আবু লাহাব একটা পাথর ও তুলে নিয়েছিলো । অথচ তার আগে কোনদিন ও অবিশ্বাস করেনি ।বরং সেও আল আমীন “ বা বিশ্বাসী বলে ডাকতো । নাজিল হয় সুরা আবু লাহাবের আয়াত , আবু লাহাবের হাত দুটি ধ্বংস হোক ১১১:১

(৫ ) সুরা আবু লাহাব আর উম্মে জামিল -
কিন্তু এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে । সামনে পড়ে আছে আরো অত্যাচারের ক্লান্ত ক্লিষ্ট হয়ে যাবার দিন । মহানবীকে তাই সেন্সিটাইজ করার দরকার মনে করেছেন আল্লাহ । এই আবু লাহাব পরিবার আরো অত্যাচার করবে , যাতে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে যাবে । আর আল্লাহ ও জানেন এত কাছের আত্মীয় হওয়াতে তাদের অত্যাচারে নবীজী শরীরে আঘাতের চেয়ে মনেই বেশি আঘাত পাবেন । নাজিল হয় সুরা আবু লাহাব । যেটা ছিল ভবিষ্যৎ বানী ।

আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জমিল কিন্তু ছিল একজন কবি । হযরত আবু বকরের মেয়ে অসমা ( রা: ) বর্ণনা করেন , এ সুরা নাজিল হবার খবর উম্মে জামিলের কানে আসা মাত্র ই রেগে আগুন হয়ে যায় । (এইটা কিন্তু স্বাভাবিক :P )
"আজ দেখে নিব মোহাম্মদ ( সাঃ ) আর তার দ্বীনকে" , এটা বলে সে গালাগালি সম্বলিত কবিতা আওড়াতে আওড়াতে কাবার দিকে ছুটে যায় । আর হাতে তুলে নেয় কয়েকটি পাথর ।

কাবা শরীফে তখন নবীজী আবু বকরের সাথে বসে ছিলেন । আবু বকরের প্রথম নজরে পড়ে যে উম্মে জামিল আসছে রেগে মেগে । আবু বকর নবীজীকে বললেন , হে আল্লাহর রাসুল । দেখুন উম্মে জামিল আসছে । না জানি আজ সে আপনার সাথে কি অভদ্র আচরণ করে ।নবীজী বললেন , সে আমাকে দেখতে পাবে না ।

তা-ই হল , রাগে অন্ধ উম্মে জামিল নবীজীকে দেখতে পেলনা । নবীজীকে দেখার ক্ষেত্রে আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তিকে সীমিত করে দেন । আবু বকরকে সামনে পেয়ে বলল , শুনলাম তোমার সাথী আমার নিন্দা করেছে ?আবু বকর ভেবে দেখলেন , নবীজী (সাঃ ) তো আসলে নিন্দা করেন নি । নিন্দা যদি করতেই হয় সে আল্লাহ করেছেন । নবীজীর (সাঃ ) দোষ কোথায় ?আবু বকর তাই জবাব দিলেন , এ ঘর এর কসম , তিনি তো তোমার কোন নিন্দা করেন নি ।এ কথা শুনে উম্মে জামিল বলল , তার সাথে দেখা হলে আজ তার খবর ছিল । এই পাথর গুলো ছঁড়ে মারতাম । জানতো আমি যে একজন কবি ।

তারপর সে কবিতা আওড়াতে আওড়াতে ফিরে গিয়েছিলো ।
আমরা তার নির্দেশ অমান্য করেছি
তার দ্বীনকে ঘৃণা আর অবজ্ঞা করে ছুঁড়ে ফেলেছি ।



(৬ ) সংশয়বাদী আবু লাহাব - ইসলামের শত্রু বলেই আবু লাহাবের সতর্ক দৃষ্টি পড়ে থাকে ভাতিজার দিকে ।
নবীজী প্রচার করেন শান্তির ধর্ম । প্রচার করেন মানবতা । তার মনও চায় অনেক তপ্ততার পরে শান্তির ছোঁয়া । এতিমদের নিয়ে ইসলাম বলে ,আখিরাতের পুরষ্কার ও শাস্তিকে মিথ্যা বলেছে যে । সে-ই এতিম কে ধাক্কা দেয় এবং মিসকিনকে খাবার দেয়না , ( সুরা মাউন )

ধনীদের ধনে আছে গরীবের অধিকার । এটাকা শুধু গুনে গুনে রেখে দেয়ার জন্য নয় । গরীবদের ধিক্কার আর নিন্দা করা যাবেনা ।ধ্বংস এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে লোকদের ধিক্কার দেয় ও নিন্দা করতে অভ্যস্ত । যে অর্থ জমায় ও গুনে গুনে রাখে । সে মনে করে তার অর্থ সম্পদ চিরকাল থাকবে । ( সূরা হুমাযাহ )

ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা আর মেয়ে শিশুদের জ্যান্ত মাটিতে পুঁতে ফেলবে না । কারণ আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ এসেছে যখন সূর্য প্রভা হারাবে , তারা গুলো এদিক সেদিক বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে ।পর্বত গুলো সরে যাবে , দশমাসের গর্ভবতী উট উপেক্ষিত হবে , বন্য পশুরাও একত্রিত হবে , সমুদ্র জ্বলতে থাকবে আর যখন প্রাণ কে শরীরের সাথে জুড়ে দেয়া হবে তখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে , কি অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিলো ? ( সুরা তাকবীর )


আবু লাহাব ও হয়তো বুঝতে পারে সমাজে এগুলি দূর হয়ে গেলে মন্দ হয় না । কিন্তু আভিজাত্যের অহংকার তার বুকে বাজে । মোহাম্মাদ তার চাচার সম্মানের দিকে খেয়াল রাখতে পারতো । সে এমন ধর্ম প্রচার করতে পারতো যেখানে কুরাইশদের মধ্যে আবু লাহাবের মান মর্যাদা , প্রভাব প্রতিপত্তি আরো বাড়ে । আবু লাহাব নবী করিম ( সাঃ ) কে একদিন জিজ্ঞাসা করলো , আমি যদি তোমার প্রচারিত দ্বীন কবুল করি তাহলে আমি কি পাব ? উত্তরে নবীজী (সাঃ ) বলেছিলেন , সব ইমানদার লোক যা পাবে , আপনিও তাই পাবেন ।সে বললো , বাড়তি কোন সম্মান , বাড়তি কোন মর্যাদা আমার জন্য থাকবেনা ?নবীজী বললেন , আপনি আর কি চান ?

আবু লাহাব চরম ক্ষেপে গিয়ে গিয়েছিলো। সে বুঝে নিয়েছিলো দুনিয়াদারীর টাকা পয়সা মান ইজ্জতের সাথে ইসলাম যায়না । সে রকম হলে এটা আবু লাহাবের স্বার্থ পরিপন্থী হয়ে যায় । ইসলামে মোমিন হলেই সেটা ধনী আর দরিদ্র দিয়ে মান মর্যাদা নির্ধারিত হয়না । এক কাতারে দাঁড়িয়ে তারা প্রার্থনা করে ।, আবু লাহাবের মত ধনী মক্কায় আর মাত্র চার জন । আর ইসলাম মিশিয়ে দিবে তাকে এতিম , মিসকিনদের সাথে । “ তোমার দ্বীনের সর্বনাশ হোক , যাতে আমি অন্য লোকের সমান হয়ে যাব । (ইবনে জরীর )


মাঝে মাঝে সে সংশয়ে পড়ে বলতো , মোহাম্মদের ধর্ম সত্য হতে পারে । তাহলে তো আমার অন্যায়ের জন্য আমাকে শাস্তি দিবেন আল্লাহ । আমি আমার এত ধন সম্পদ থেকে কিছুটা আল্লাহ কে দিয়ে মাফ চেয়ে নিবো না হয় ।

আহারে বোকা আবু লাহাব : আবু লাহাব মানুষিক ভাবে বিকারগ্রস্তের মত ইসলামের ক্ষতি করেছে । যদি ফয়সালা তার অনুকূলে হতো তাহলে সে কি করতো ? এ ধরনের লোক নিয়ে সুরা নূরের ৫০-৫১ আয়াতে আছে , " আর যদি ফয়সালা তাদের অনুকূলে হত তাহলে তারা বিনীত ভাবে ছুটে আসে । তাদের মনে কি কোন ব্যাধি আছে ? নাকি তারা সংশয়বাদী ? তারা কি এ ভয় করে আল্লাহ ও তার রসুল তাদের উপরে জুলুম করবে ? তার নিজেরাইতো জালিম ।

(৭) পুরষ্কারের লোভ অথবা মধ্যপন্থা


বাপ দাদাদের মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম কথা তুলেছে বলে মক্কার লোকেরা নবীজীর উপর অত্যন্ত বিরক্ত হল । তারা এটাকে নিজেদের ধর্মের অবমাননানা বলে ধরে নিল । তারা বলতে লাগল মুহাম্মদ ( সাঃ ) যতদিন যুবক ছিল ততদিন সবার প্রিয় পাত্র ছিল । সবচেয়ে সত্যবাদী আর বিশ্বাসী ছিল । আর যখন তার মাথার চুল সাদা হতে শুরু করেছে সে পাগলের মত কথা বলছে । “ তারা আরো বলে এ কেমন রাসুল যে খাবার খায় , হাটে বাজারে চলাফেরা করে , তার কাছে ফেরেশতা আসেনা কেন , তার জন্য একটা বাগান আসেনা কেন ,যা থেকে সে আহার করতে পারে । যালিমরা বলে তোমরাতো যাদুগ্রস্থ লোকের অনুসরন করছো । ( সুরা আলফুরকান ২৫/৭ ) 

কুরাইশদের দূত গেলো নবীজীর কাছে , আবার নবীজীকে নিয়ে একসাথে তারা মিটিং ও করলো “ দেখো বাবা তুমি তো আমাদের পর নও , কিন্তু তুমি আমাদের বাপ দাদাদের মূর্তি পূজার ধর্ম বাদ দিয়ে এসব কি প্রচার করছো ? বল তুমি কি চাও ? যা চাও তাই দেব । সোনা দানা , টাকা পয়সা সব । নাকি নেতা হতে চাও? যাও নেতা হিসেবেও মেনে নেব । তবুও ইসলাম প্রচার বন্ধ কর ।" এ বিষয়ে আরেকটি পোস্ট
http://ummosque.blogspot.com.au/2012/07/blog-post_9.html

নবীজী বললেন দুদিনের দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহে তিনি চির সত্য ইসলাম প্রচার থেকে বিরত হবেন না । কিছু লোক সমযোতার প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল । এমন কিছু কি করা যায় না যাতে দেবদেবীর পূজা বন্ধ না হয় । মোহাম্মদের ধর্মের কিছু কিছু অংশ বাদ দিয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করলে ও তো হয় ।
কুরআনের আয়াত নাযিল হয় ,বলে দাও , হে কাফেররা ! আমি তোমাদের ইবাদত করিনা যাদের ইবাদত তোমরা কর । আর না তোমরা তার ইবাদত করো যার ইবাদত আমি করি । ( সুরা আল কাফিরুন )

কুরাইশরাও বললো , “ আমরাও তোমাকে দেখে নেবো । “ ভাতিজার এই এক রোখা আচরণে খুব বিরক্ত হল আবু লাহাব । আমাদের কথা যেহেতু শুনবেই না আজ থেকে তোমার সাথে সব সম্পর্ক শেষ ।

(৮ ) নবীজীর পুত্রশোকে আবু লহাবের উল্লাস -

নবীজীর পুত্র কাশিম এর মৃত্যুর পর তাঁর ২য় পুত্র আব্দুল্লাহও মারা যান । নবীজীর শোক মুগ্ধ করে আবু লাহাব কে । মনে সে বিপুল আনন্দ ও প্রশান্তি লাভ করে । এই উৎসব মুখর খবর টি সে কুরাইশ সর্দারদের মাঝে , নাও আজ তো মোহাম্মদের (সাঃ) নাম নিশানাও মুছে গেলো দুনিয়া থেকে ।
আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দা মহানবীর পাশে তখনো ছিলেন সান্ত্বনার বানী নিয়ে ।


আল্লাহ বলেন , “ ( হে নবী !) আমি তোমাকে কাউসার দান করেছি । কাজেই তুমি নিজের রবের জন্য নামাজ পড় ও কুরবানি করো । তোমার দুশমন ই শিকড় কাটা নির্বংশ । “ সুরা আল কাউসার ।

মানুষ মোহাম্মাদ ( সাঃ ) কে অনেক রকম দুঃখই সহ্য করতে হয় । এর মধ্যে সন্তান হারানো কি কষ্টের তা অনেকেই অনুধাবন করতে পারবেন । আর একজনের দুঃখ নিয়ে যে উল্লাস করতে পারে তাকে মানুষের পর্যায়ে ফেলা যায় না ।

(৯) সন্তানদের কষ্ট দিয়েই কষ্ট দিতে হবে মোহাম্মদকে -

কোন ভাবেই মোহাম্মদ ( সাঃ ) কে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে তারা আরেক বুদ্ধি বের করলো । আবু লাহাব , উম্মে জামিলের নজর পড়লো রুকাইয়া আর কুলসুম ( রাঃ ) দিকে ।নিরপরাধ দুই মেয়ের ম্লান মুখই পারবে তাদের বাবাকে এই ধর্ম প্রচার থেকে বিরত রাখতে । আল্লাহর প্রতি ভালবাসা ধুয়ে মুছে দূরে সরে যাবে । উতবা , উতাইবা কে নিয়ে মিটিং বসালো আবু লাহাব আর তার স্ত্রী উম্মে জামিল ।

“বউ দের তালাক দিবে কিনা বল ? “
মনের মধ্যে বয়ে যাওয়া কষ্টের মরু ঝড়কে চেপে রেখে উতবা সাহস করে বললো , " বাবা , আমাদের কি দরকার মোহাম্মদ ( সাঃ ) এর শত্রুদের সাথে হাত মিলানোর ? উনি আপনার ভাতিজা । এই আওয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে নিকট আত্মীয় লোকদের সাথে ভাল আচরণ করা আরবের ঐতিহ্য । বনী হাসিম , বনী মুত্তালিবের লোকদের অনেকেই তো ইসলাম গ্রহণ করেনি অনেকে , তবুও তারা তো মোহাম্মদ (সাঃ ) সমর্থন দিচ্ছে , তার তো বাকী কুরাইশদের সাথে হাত মিলায় নি ।

আবু লাহাব হুংকার দিয়ে বললো , “নীচু লোকেরা মেয়েদের যেমন জ্যান্ত কবর দিয়ে দেয় , আমি কেন তোমাদের কে তাই করলাম না । কুলাঙ্গার ছেলে । তোমাদের বাপের মান ইজ্জত তোমাদের কাছে কিছুই না তাহলে ?
আমি অত কথা শুনতে চাইনা ,তোমাদের সাথে আমার মেলামেশা হারাম হয়ে যাবে যদি তোমরা মোহম্মদ (সা: ) এর মেয়ে দুটোকে তালাক না দাও । তালাক দিবে কিনা বল , হ্যাঁ নাকি না ?উতাইবা বললো , " হ্যাঁ , বাবা আপনাকে ছোট করা আমি সহ্য করবোনা । মেয়েকে দিয়ে আসার সময় থুথু ছিটিয়ে দিয়ে আসবো আমি ।উতবা আর কোন কথা বললনা, সে চুপ করে রইলো ।রোকাইয়া আর কুলসুম দুজনেরই তালাক হয়ে গেলো ।

আর উতাইবা ঠিক বর্বরতার সীমা লঙ্ঘন করে গেলো । নবীজির সামনে এসে থু থু ছিটিয়ে দিল । যদিও নবীজীর গায়ে লাগেনি । কতটা আঘাত প্রাপ্ত হয়েছিলেন তিনি নিজের এত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় দের এ আঘাত পেয়ে ?

তিনি তো একজন মানুষ । ফেরেশতা তো আর নন । তাঁর মনেও দুঃখ বেদনা লাগে । যতটা আঘাত তারা দিতে চেয়েছে ঠিক ততটাই বুকে এসে লাগলো ।তিলে তিলে সুখ দিয়ে সাজিয়ে তোলা সংসার ভেংগে যাওয়ায় কন্যাদের চোখ অশ্রুসজল । নিজের আদরের কন্যাদের উপর এ নিষ্ঠুর আঘাত , পিতা হয়ে এটা সহ্য করা অনেক বেদনা দায়ক । একই সাথে দুই মেয়ের কান্না , নবীজীর মন বিদীর্ন করে দেয় । তার উপর উতাইবার এ বেয়াদবী , নবিজীর সহ্যের সীমা ভেদ করে চলে যায় ।অত্যন্ত বেদনা হত হয়ে নবীজীর বদ দোয়া বেরিয়ে এলো । “ হে আল্লাহ ! তোমার কুকুরদের থেকে একটি কুকুরকে এর ব্যবস্থা নিতে পাঠাও ।“

(১০) উম্মে জামিলের সাধ্যাতীত শত্রুতা -


উম্মে জামিল ছিল একজন প্রতিহিংসা পরায়ণা নারী । নবীজীকে (সাঃ ) সে নানা ভাবে কষ্ট দিত । অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করতো । কটুক্তি করতো , মিথ্যা অপবাদ দিত ।মোহাম্মদের প্রতি বিন্দু মাত্র মমতা যেন আবু লাহাবের মনে কাজ না করে সে জন্য যতটা কুটনামী করা লাগে করেছে । ক্রমাগত কুটনামী করে করে রোকাইয়া , কুলসুম আর মোহাম্মদের প্রতি মন বিষিয়ে দিতে তার ভূমিকা অগ্রগন্য । রোকাইয়া ও কুলসুম (রাঃ ) এর ঘর ভেংগে দিয়েছে । প্রিয় দুই কন্যার অপমান পিতার মনকে ভেংগে দেয়ার জন্য যথেষ্ট ।

শুধু কি তাই ? সামান্য দেয়ালের ওপাশেই মোহাম্মদ পরিবারের রান্না ঘর । রান্না প্রায় হয়ে এলে উম্মে জামিল রান্নায় বালি ছুঁড়ে দেন নির্বিকার ভাবে । সে আর অন্যান্য প্রতিবেশী মিলে মোহাম্মদ ( সাঃ )নামাজে দাঁড়ালে ময়লা নাড়িভুঁড়ি , গোবর , মলমূত্র ছুঁড়ে মারতো । নবীজীর নামাজ পড়ার ধরন তাদের কাছে বেশ হাস্যকর লাগতো । তার উতসাহে পাড়ার ছেলেরা নবীজী সিজদায় গেলে উটের নাড়িভুঁড়ি তার পিঠে চাপিয়ে দিত । আর তাদের এ কাজে নিজেরাই একে অপরের গায়ে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তো ।

ঘরে থেকে বের হয়ে পা দিলেই মরুর ক্যাকটাসের ধারালো কাঁটা যেন ফুটে যায় উম্মে জামিল পথে বিছিয়ে রাখতো কাঁটা । বড় বড় ধারালো কাঁটা যুক্ত ডাল পালা সে নিজে বহন করে আনতো ।নবীজীকে একটু কষ্ট পেতে দেখলেও তার আত্মা ঠাণ্ডা হয় ।

উম্মে জামিল সবসময় বলতো , লাত ও উযযার কসম আমার এই মহামূল্যবান গলার নেকলেসটি বিক্রি করে দিব যদি মোহাম্মদকে ধ্বংস করার জন্য তোমাদের টাকার ঘাটতি হয় । মুসলমানদের মধ্যে নানা রকমের ফিতনা ফ্যাসাদের অগুন জ্বালিয়ে রাখতো । উস্কানি দিতে দিতে বিভীষিকাময় যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরী করা ছিল তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট ।


আবু লাহাব আর তার স্ত্রী উম্মে জামিলের মধ্যে এত মিল দেখে মনে পড়ে সুরা নূরে ২৭ নং আয়াত , " আর দুশ্চরিত্র রমণী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য আর সৎ নারীরা উত্তম পুরুষের জন্য । "

মহিলাদের পক্ষে যতটা কুটনামী করা সম্ভব তার সবটাই উম্মে জামিল করেছে । অহংকার তাকে অন্ধ করে দিয়েছে । তার পাপের বোঝা পূর্ণ হয়ে যাবে । তওবা করার মত যতটুকু নিরহংকার হতে হয় তা সে কোন দিন হতে পারেনি । কোনদিন ক্ষমা চায় নি । বরং আবু লাহাবকে ক্রমাগত উস্কানি দিয়ে গেছে । আবু লাহাব তো জাহান্নামের আগুন কে নিজের ঠিকানা করে নিয়েছে । যোগ্য স্ত্রী হিসেবে সেও সেখানে থাকবে । যে সোনার হার তার গলার অহংকার সেখানে থাকবে খেজুর গাছের পাকানো রশি ।

মহিলা বলে মাফ পেয়ে যাবার কোন কারন নাই । মহিলাদের জন্য আলাদা ভাবে কম বা বেশি শাস্তির ব্যবস্থাও নাই ।

“ যারা না জেনে মন্দ কর্মে লিপ্ত হয় তার যদি তওবা করে ও সংশোধিত হয় , তবে নিঃসন্দেহে আপনার প্রতিপালক তাদের জন্য অতীব ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু । “ সূরা নাহল ১২০ ।


পাপের পথ দিয়ে দূরে যেতে যেতে বহু দূর চলে গেলে অন্তরে যদি সিল পড়ে যায় , ফিরে আসার পথ ও কিন্তু খুঁজে পাওয়া যায় না । নিশ্চয় বিপথগামীদের আপনার রব ভালভাবে চেনেন এবং পথপ্রান্তদের ও ভালভাবে জানেন । ( সূরা নাহল ১২৬)


(১১) আবু লাহাবের অভিশপ্ত হাত দুটি ভেঙ্গে যাক




আবু লাহাব সবসময় নবীজীর পিছনে লেগে থাকতো । হজ্জ্বের সময়ে নবীজী বাহিরের মানুষের কাছে ইসলাম প্রচার করতেন । আবু লাহাব ও নিজের সাধ্যমত অপপ্রচার চালাতো । মহানবী হেঁটে হেঁটে প্রচার করছিলেন , " বল আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই । " কিন্তু স্যান্ডেল ভিজে যাচ্ছে রক্তে । পাথর ছুঁড়ে মারা হচ্ছে তাঁকে । তাও কে মারছে ?? লোকজন হতভম্ব । কে এই লোক ? যে আল আমিন কে এভাবে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে । রক্ত এসে পায়ের স্যান্ডেলে জমাট বেঁধে যাচ্ছে । কে এই পাষাণ ?হায় সুঠাম দেহী সুন্দর এ পুরুষ এ তার ই আপন চাচা । তাঁর ই দাদা জানের আবদুল মুত্তালিবের ছেলে আবু লাহাব ।

ও আবু লাহাব তুমি সমস্ত আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেছো , সীমা অতিক্রম করে গেছো । কিভাবে তুমি হাত তুলতে পার এই পবিত্র গায়ে ? আমার নবীজীর গায়ে হাত তুলেছে আবু লাহাব ? কি তাঁর অপরাধ ?

ভেঙ্গে যাক তোমার হাত । তুমি ব্যর্থ মনরথ হয়ে ফিরে যাও । নবীজীর আত্মীয়রা আর সাহাবীরা কান্না ধরে রাখতে পারেন না নবীজীর পবিত্র রক্ত দেখে , আঘাত গুলো দেখে ।

নবীজী অনেক মানুষের কাছে অনেক অত্যাচারের শিকার হয়েছেন । আরো বড় বড় শত্রু তাঁর আছে । কিন্তু নিজের রক্ত আবু লাহাবের বেঈমানিতে আল্লাহর আরসও কেঁপে উঠেছে ।

ভবিষ্যৎ বানী আবু লাহাবের য সেটাই ছিল সান্ত্বনা ।আবু লাহাবের হাতদুটো ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে । কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে । এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে । তার গলদেশে খেজুর গাছের রশি নিয়ে। সুরা আবু লাহাব

নবুওয়তের সপ্তম বছরে কুরাইশদের সমস্ত পরিবার মিলে যখন বনি হাশেম ও বনি মুত্তালিবকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে বয়কট করলো ।তারা নিজেরা একটি লিখিত চুক্তি করলো । দলীলে বলা হল , “ ,মক্কার কোন ব্যক্তি বনু হাসিম গোত্রের সাথে আত্মীয়তা করবেনা । তাদের কাছে কোন কিছু ক্রয় বিক্রয় করবেনা । তাদের কাছে খাদ্য প্রেরণ করবেনা । যতদিন না পর্যন্ত বনু হাসিম গোত্র রসুল ( সাঃ ) হত্যার জন্য কুরাইশদের হাতে তুলে না দেয় ততদিন পর্যন্ত চুক্তি বলবত থাকবে । “ কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে দেয়া হল এই চুক্তি । নবীজীর প্রতি অবিচল সমর্থনের জন্য আবু তালেব গিরিপথে মোহাররম মাসের প্রথম চাঁদ রাতে অন্তরীন হয়ে গিয়েছিলেন মুসলিম রা ।

নিজের পরিবার আর বংশের লোকদের পক্ষে না গিয়ে কাফেরদের পক্ষ নিয়েছিল আবু লাহাব । দীর্ঘ ৩ বছর এ বয়কট অব্যাহত ছিল । অনাহারের ছোবল এ ক্লান্ত বনি হাসিম পরিবার ।বাহিরের কোন বাণিজ্য কাফেলা এই গিরি পথে এলেও যাতে অন্তরিন লোকেরা খাবার কিনতে না পারে সে জন্য আবু লাহাব শকুনের দৃষ্টি ফেলে রেখেছিল ।

বাহিরের বনিকদের সে পূর্ণ আশ্বাস দিয়ে রেখেছিল , তোমাদের যত টাকা ক্ষতি হোক সে আমি পুষিয়ে দেবো কিন্তু তোমরা ওদের কাছে এত বেশি দাম চাও যাতে ওরা কোন খাবরই কিনতে না পারে ।

নাহ , কিনতে পারতোনা হাশিম আর মুত্তালিব পরিবার । বিরাট ভাবে হাঁকানো দামের কাছে কাছে তাদের চেহারায় শুধু অসহায়ত্বের ফুটে উঠত । শেষে নিজের অনাহারের কষ্ট বুকে পুষে রেখে খালি হাতে পাহাড়ে ফিরে যেতো ক্ষুধা কাতর সন্তান দের কাছে ।

গাছের পাতা পর্যন্ত খেয়ে থাকতে হয়েছে মোমিন দের ।ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না য় উল্লাস করেছিলো কুরাইশরা । সেই সাথে আবু লাহাব ও ।



এই সুরা নাযিল হবার পর ও আরও প্রায় ১০ বছর মুসলমানদের আবু লাহাবের শত্রুতা সহ্য করে যেতে হয় । ১০ বছর দীর্ঘ সময় ।আবু লাহাবের অত্যাচার সহ্য করার জন্য সুরা আবু লাহাব আর বাকি বিধর্মীদের অত্যাচার সহ্য করার জন্য ও আয়াত নাজিল হয় । আর আপনি ধৈর্য ধরুন , আপনার ধৈর্য তো আল্লাহর সংগে । তাদের কারণে দুঃখ পাবেন না এবং তাদের চক্রান্তে মনঃক্ষুন্ন হবেন না ,। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মুত্তাকী ও পুণ্যবানদের সংগে আছেন । ১২৭ , ১২৮ সূরা নাহল।


আবু লাহাব সুরায় আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর কথাই বলা আছে । ছেলেদের কথা কিন্তু বলা নাই । কারণ আল্লাহ জানেন শেষ পর্যন্ত কি ঘটবে ।আমরাও ইতিহাস ঘেঁটে তা দেখে নিব ।

(১২ ) হিসাব মিলানোর পালা



কিছুদিন পর ই উতাইবা আবু লাহাবের সাথে সিরিয়া যায় । সেই সফরে তারা রাত কাটানোর জন্য একটি জায়গায় তাঁবু ফেলে । স্থানীয় লোকেরা এই জায়গায় তাঁবু দেখে ছুটে এসে সাবধান করে দিয়ে যায় । তোমরা এখানে খুব সাবধানে থাকবে । এখানে রাতে কিন্তু হিংস্র প্রাণীরা ঘোরা ফেরা করে ।

আবু লাহাবের মন কেঁপে ওঠে । মোহাম্মাদ ( সাঃ ) এর বদদোয়ার কথা তার মনে পড়ে যায় । উতাইবা নবীজীকে থুথু নিক্ষেপ করার পরের বদদোয়া ।সে কোরাইশের লোকদের আদেশ দেয় উতাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে । ওরা উট দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির পরিকল্পনা করে ।উতাইবার তাবুর চারপাশ ঘিরে থাকবে উট । উট গুলো শুয়ে থেকে একটা উটের প্রাচীর তৈরি করবে ।নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করে তারা বেশ সন্তুষ্ট হয়ে ঘুমাতে গেলো আর গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে গেল ।গভীর রাতের বেলা একটি বাঘ উটের দিকে কোন নজর না দিয়ে , উটের বেষ্টনী ভেদ করে ভিতরে প্রবেশ করে উতাইবা কে ছিন্ন ভিন্ন করে খেয়ে গেলো ।


আসলেই আবু লাহাব যা কিছু উপার্জন করেছে , যা কিছু ব্যয় করেছে ইসলামের ধ্বংসের পেছনে তা সফল হয় নি । সুরা আবু লাহাব নাযিলের ৭ – ৮ বছর পরেই বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের বেশির ভাগ বড় বড় সর্দার নিহত হয় । ভেঙ্গে পড়ে আবু লাহাবের মনোবল । ইসলাম বিরোধিতা আর ইসলামের প্রতি শত্রুতায় তারা ছিল আবু লাহাবের সহযোগী ।

তখনো কিন্তু সে ইসলাম গ্রহণ করতে পারতো কিন্তু সে করেনি । এর পর আবু লাহাব আর বেশি দিন বেঁচেছিল না । তার মৃত্যু ও ছিল বড় ভয়াবহ ও শিক্ষণীয় । তার সমস্ত শরীর ভরে যায় সাংঘাতিক ধরনের ফুসকুড়িতে ।
পরিবারের সবাই সংক্রমণের ভয়ে তাকে মৃত্যু শয্যায় রেখেই পালিয়ে যায় । তার মৃত্যুর তিন দিন পর্যন্ত কেউ ধারে কাছে ঘেঁষেনি । লাসে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে । পচা গন্ধে টিকতে না পেরে সবাই ছেলেদের ধিক্কার দিতে থাকে । শেষে ছেলেরা হাবশী কৃতদাস ভাড়া করে । তারা একটি গর্ত খুঁড়ে দূর থেকে লম্বা লাঠি দিয়ে লাশ গর্তে ফেলে দেয় । আর উপর দিয়ে মাটি চাপা দেয় ।


যে ইসলামের পথ স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য সে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলো তার সন্তানদের ইসলাম গ্রহণের মধ্যে দিয়ে তার চূড়ান্ত বিজয় রচিত হয় ( সবাই বাবা মায়ের মত সাইকো হয়নি )তাঁর মেয়ে দাররা হিজরত করে মদিনা গিয়ে আগেই ইসলাম গ্রহণ করে । আর মক্কা বিজয়ের পর তার দুই ছেলে উতবা আর মুয়াত্তাব হযরত আব্বাস (রাঃ ) এর সাথে রসুল (সা: ) এর সামনে হাজির হন আর ইসলাম গ্রহণ করেন ।

(১৩ ) আত্ম উপলব্ধি


আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর পরিণতি দেখে অত্যাচারিত মন খুশি হয়ে উঠতে পারে । কিন্তু আমাদের বেশি খুশি হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা । কুরআনের মাত্র ৫ টি আয়াতে আবু লাহাবের কথা বলা আছে । যারা পূর্ব পুরুষদের ইতিহাস দেখে শিক্ষা নিতে চায় তাদের জন্য আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর পরিণতি শুধু একটি উদাহরণ । এরকম আরো উদাহরণ আছে ," আর স্মরণ কর আদ, ছামূদ , কূপ বাসী ও তাদের মধ্যবর্তী কালের বহু জনপদের কথা যাদেরকে আমি ধ্বংস করেছি । আমি এদের প্রত্যেকের জন্য দৃষ্টান্ত রাখলাম , তাদের প্রত্যেককে পূর্ণ ধ্বংস করলাম ।( সুরা ফুরকান ৩৯ -৪০)

( ফেরাউনের দলকে ) অন্য দলকে নিমজ্জিত করলাম এতে রয়েছে নিদর্শন । ( সুরা শু আরা ৬৭/ ৬৮ )

নূহ ( আঃ ) এর সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বলা আছে , অতঃপর আমি তাকে ও তার সঙ্গীদের বোঝাই নৌকায় রক্ষা করলাম । পরে অবশিষ্ট সবাইকে ডুবিয়ে মারলাম । অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে । ( সুরা শু আরা ১২০ / ১২১ )

কুরআনে আছে সমস্ত জীবন ব্যবস্থা । আর আদেশ অমান্য কারীদের জন্য ভয়াবহ শাস্তির কথা ও বলা আছে ।


আবু লাহাব ও তার স্ত্রী যে পাপ গুলো করেছে সেগুলি কি আর হয় না ? হয় । আরো বেশিও হয় । কূটচালের কারণে কত সংসার ভেঙ্গে যায় । এখনো প্রতিবেশীরা পরস্পর পরস্পরকে কষ্ট দেয় । গীবত আজকাল জাতীয় সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে । কন্যা শিশুদের দেয়া হত জীবন্ত কবর ( এখন মানুষ এক ধাপ এগিয়ে , আল্ট্রাসনোতে কন্যা শিশু দেখেই এবরশন করিয়ে নেয় , বিশেষত ইন্ডিয়ায় , তখন তো আর আল্ট্রাসনো করার ব্যবস্থা ছিল না , কন্যা শিশু জন্ম গ্রহণ করার পর দেখতো কন্যা হয়েছে , তারপর দিয়ে দিত জীবন্ত কবর )

তাহলে যারা পাপী তাদের জন্য সে শাস্তি অপেক্ষা করে আছে ।আর ইসলাম আর তার মূল্যবোধকে ভূলুণ্ঠিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে কত আবু লাহাব , কত উম্মে জামিল । সবার জন্য একই শাস্তি । মুমিন নরনারীকে কষ্ট দেয়া , প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়া , আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করা , সব কিছুর জন্য শাস্তি দো্যখের আগুন ।

“ যারা মুমিন পুরুষ আর নারীকে নিপীড়ন করেছে , অতঃপর তওবা করেনি , তাদের জন্য আছে জাহান্নামের শাস্তি ,আর আছে দহন যন্ত্রণা । “ আল বুরুজ ১০
আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্টকারী বেহেসতে প্রবেশ করবেনা ।
প্রতিবেশির হক নষ্ট কারীরা ও বেহেশতে প্রবেশ করবেনা ।


আমাদের আল্লাহ হিদায়াত দান করুক । এই সব পাপ হতে আমাদের দূরে রাখুক ।

হে আল্লাহ আমাদের সরল পথ সিরাতুল মুস্তাকিম দেখিয়ে দাও । তাদের পথ যাদের তুমি অনুগ্রহ করেছো । তাদের পথ নয় যারা অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে । ( সুরা ফাতিহা )


পোস্ট শেষ ।

Written by ডাঃ নার্গিস পারভীন

প্রাণ ঢালা কৃতজ্ঞতা :
* সকল প্রশংসা আল্লাহর আর প্রানের চেয়ে প্রিয় নবীজির উপর অসংখ্য দুরুদ আর সালাম । অনিচ্ছা কৃত ভুল আর ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থি ।
* প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদ , তার অসমাপ্ত লেখা নবীজী ( বই লীলাবতীর মৃত্যু ) লেখার ইচ্ছা ছিল বছর তিনেক ধরে । কিন্তু বইটি হাতে পাওয়ার পর কিবোর্ড নিয়ে বসা । আল্লাহ তাঁকে বেহেসতে নসীব করুন ।
* আবুল আসাদ - বই আমরা সেই সে জাতি -২ ( ভাষা মাধুর্যে মুগ্ধ । অনেক লাইন সরাসরি ধার করা হয়েছে )
*আর রাহিকুল মাকতুম বা মোহরাঙ্কিত জান্নাতী সুধা ( পুরস্কারপ্রাপ্ত নবীজীর জীবনী গ্রন্থ)
* ব্লগার তন্দ্রা বিলাস ( তার তাফসির এর পোস্ট টির জন্য )
* তাফসীর ফী যিলযালালিল কুরআন
*শব্দার্থে আল-কুরানুল মজীদ ( দশম খন্ড )
* তাফহীমুল কুরআন ( ১৯ তম খণ্ড )
* ছহীহ নূরানী বঙ্গানুবাদ কুরআন শরীফ ( মিনা বুক হাউজ )
*মেঝ মামা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম
*ছোট বোন নাসিমা পারভীন সুমি
*এবং আরো অনেকের প্রতি
* ছবি গুগল

0 comments
Labels:

ডিজিটাল শিক্ষক

ডিজিটাল শিক্ষক
চট্টগ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষক হাফেজ আল্লামা মোহাম্মদ মহিউল হক। ব্রিটিশ কাউন্সিলের 'কানেকটিং ক্লাসরুম প্রজেক্ট'-এ মুনশিয়ানা দেখিয়ে পেয়েছেন কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। মাইক্রোসফট স্বীকৃত বাংলাদেশের একমাত্র 'এক্সপার্ট এডুকেটর' তিনি। গত মাসে স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মাইক্রোসফট গ্লোবাল ফোরামে 'পোভার্টি' বিভাগে ৯৭টি দেশের এক হাজার ১০০ প্রতিযোগীর মধ্যে হয়েছেন প্রথম রানারআপ।

২০০৯ সালে চট্টগ্রামের অজপাড়াগাঁর নজিরিয়া নঈমিয়া মাহমুদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মহিউল। সে বছরই মাদ্রাসাটিকে যুক্ত করেন 'কানেকটিং ক্লাসরুম'-এর সঙ্গে। কানেকটিং ক্লাসরুম হলো ব্রিটিশ কাউন্সিলের স্কুলভিত্তিক একটি প্রকল্প, যার মাধ্যমে এক দেশের স্কুলের শিক্ষার্থীরা আরেক দেশের স্কুলের নিয়মকানুন ও সিলেবাস সম্পর্কে জানতে পারে। শিক্ষাবিষয়ক নানা অভিজ্ঞতাও একে অন্যের সঙ্গে আদান-প্রদান করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, কানেকটিং ক্লাসরুমের অন্তর্ভুক্ত বিদেশি স্কুলগুলোর বিজ্ঞান মেলা, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া যায়। নজিরিয়া নঈমিয়া মাহমুদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসাটি যুক্তরাষ্ট্রের ডারহ্যাম-সান্ডারল্যান্ডের চারটি স্কুলের সঙ্গে 'কোলারভেটিভ পার্টনারশিপ' হিসেবে যুক্ত হয়। মহিউলের এ উদ্যোগ অল্প কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নতুন মাত্রা যোগ করে। তিনি দেখিয়েছেন লেখাপড়াটা শিক্ষার্থীদের কাছে বিরক্তিকর নয়, বরং মজার। অজপাড়াগাঁর যে ছেলেমেয়েদের ইন্টারনেট ব্যবহার করাটা স্বপ্নের ব্যাপার ছিল, সেখানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান করতে পারছে। এতে মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার মানোন্নয়ন হয়েছে। যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কয়েকটা বিষয়ে ফেল করত, তারাই এই প্রকল্পের বদৌলতে রাতারাতি বদলে গেল। মহিউল হকের হাত ধরে এই মাদ্রাসা শুধু শিক্ষায় উন্নতি করেনি, বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের নামটাও আরো উঁচুতে তুলে ধরেছে। কানেকটিং ক্লাসরুম প্রজেক্টে অসামান্য সাফল্য অর্জনের প্রতিদান হিসেবে মাদ্রাসাটি ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় যুক্তরাজ্য থেকে পেয়েছে ২০১০ সালে 'স্টার পার্টনারশিপ অ্যাওয়ার্ড', ২০১১ সালে '১০০ ওয়ার্ডস ড্রামা অ্যাওয়ার্ড', ২০১২ সালে বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যাওয়ার্ড (আইএসএ)'।

২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র মাদ্রাসা হিসেবে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত প্যারা অলিম্পিক গেইমসে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় নজিরিয়া নঈমিয়া মাহমুদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা। এমনকি ২০১৩ সালে ১০০ ওয়ার্ড অডিও বিজয়ী হিসেবে নাম লেখায় এই মাদ্রাসা।


Bangladeshi Madrasa teacher shows ‘How it’s done’ !

More links: http://www.thedailystar.net/print_post/connecting-classrooms-2468 
http://62.164.186.166/blog/76584
http://hifipublic.com/bangladeshi-madrasa-teacher-shows-how-its-done/

0 comments
Labels: ,

মুঠোফোনে পুলিশি সেবাঃ ডিএমপি-এর এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার অল্প ক'দিন পরের কথা, তখন আমি উত্তরা ক্রাইম ডিভিশনে কর্মরত। শুক্রবারে সাধারণত আমি অফিস করিনা,তবুও ওদিন গিয়েছিলাম আলিয়স ফ্রসেসে।ফ্রেঞ্চ স্পিকিং দেশগুলোতে ইউ এন মিশন করতে গেলে ফ্রেঞ্চ জানা বাধ্যতামূলক- এটা শুনে খোঁজ খবর করতেই যাওয়া। ফেরার পথে হঠাৎ শুনি আমার মোবাইল ফোনে কে জানি বার বার চেষ্টা করছে। কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে কয়েকবার রিসিভ করলাম, কথা ঠিকমত শোনা যাচ্ছিলনা। তবুও খানিকটা সন্দেহ হওয়ায় যা শুনলাম তাতে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যাবার দশা!

"স্যার, আমি উত্তরার লেক রোড থেকে বলছি। আমরা আটজন লিফটে উঠেছিলাম, লিফট ছিঁড়ে আমরা সবাই এখন আটকা পড়েছি।বাসায় কেউ নেই,মোবাইল ফোনে আপনার নাম্বার ছিলো- এখন প্লিজ স্যার আমাদেরকে বাঁচান"।

দ্রুত ওয়্যারলেস হ্যান্ডসেটে নিকটস্থ মোবাইল প্যাট্রোল টিমকে ঘটনাস্থলে যেতে বললাম। সেবার স্রষ্টার অপরিসীম দয়ায় আটজনকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছিলাম।

লিফটের ওই ভদ্রলোক দুদিন পরে আমার অফিসে এসেছিলেন বড়সড় একটা ফুলের তোড়া নিয়ে। অল্প কিছুদিন আগে উত্তরার ছয়টি থানা কভার করে এরকম একটি এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ রিলিজ করা হয়েছিলো উত্তরা ক্রাইম ডিভিশনের পক্ষ থেকে। ওই চরম বিপদের মুহূর্তে ওটা ব্যবহার করেই তিনি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন, যার ফলে রক্ষা পেয়েছিল আটটি অমূল্য প্রাণ।

এই এ্যাপটি আমাদেরকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তৈরি করে দিয়েছিলো বুয়েটের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তারিক ও তন্ময়। ক্যাডেট কলেজের ছোটভাই হিসেবেই ওদের সাথে আমার পরিচয়, আর দেশের জন্যে কিছু করার তাগিদ থেকেই ওদের এই "ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো"-র ব্যবস্থা।

উত্তরার সাফল্ল্যে উজ্জীবিত হয়ে আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার সবকটি পুলিশ স্টেশনকে এধরণের একটি এ্যাপের অধীনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিই, যেটি অনুমোদন করেন ডিএমপি কমিশনার জনাব বেনজীর আহমেদ। মাসখানেকের প্রচেষ্টায় সমগ্র ঢাকার জন্যে একটি এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ দাঁড়ায়, যেটি এবছরের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৫০,০০০ ব্যক্তি এটি ব্যবহার করছেন।পাঠকদের জন্যে এই এ্যাপটির বিশেষ বিশেষ ফিচারগুলোর বর্ণনা দিচ্ছিঃ

১) ঢাকার সকল থানার ওসি এবং ডিউটি অফিসারের নম্বর সহ এতে রয়েছে প্রতিটি থানার ঠিকানা এবং ম্যাপ। এই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে ঢাকার যে কোন স্থান থেকে আপনি আপনার সবচেয়ে কাছের থানাটি সহজেই খুঁজে বের করতে পারবেন; সেই সাথে গুগল ম্যাপে আপনাকে সেই থানায় যাওয়ার পথও দেখিয়ে দেবে এটি। ওসি এবং ডিউটি অফিসার যেন আপনার ডাকে সাড়া দেন সেজন্যে সব ওসিদের ডেকে স্বয়ং কমিশনার অফিস থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।


২) ডিএমপির ফেসবুক পেইজে সহজেই যে কোন পোস্ট বা মেসেজ দেয়ার জন্যে এতে রয়েছে একটি ‘ফেসবুক বাটন’ যা আপনাকে সরাসরি ডিএমপির সর্বশেষ তথ্য ও সেবা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।




উপরের ছবিতে ইংরেজি "এ" লেখা বাটনটি ল্যঙ্গুয়েজ বাটন, এর মাধ্যমে বাংলা বা ইংরেজি যে কোন ভাষায় পুরো এ্যাপটি দেখা যাবে। এর নীচেই ফেসবুক বাটন, তারপর ম্যাপ বাটন, যেটি আপনার অবস্থান থেকে নিকটস্থ থানার ম্যাপ দেখিয়ে দেবে।

৩) ডিএমপির একটি নিজস্ব ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে, যেটির সাহায্যে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে রক্তদান করে থাকেন।জরুরী প্রয়োজনে ডিএমপির ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত সংগ্রহ এবং এ সম্পর্কিতে অন্যান্য তথ্য জানার জন্যে এতে সংযোজন করা হয়েছে একটা ‘ব্লাড বাটন’।


৪) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিটের নাম উইমেন সাপোর্ট এ্যান্ড ইনভেস্টিগশন ডিভিশন। এই ইউনিটটিতে কন্সটেবল থেকে ডেপুটি কমিশনার পর্যন্ত সবাই নারী, এবং এদের মূল উদ্দেশ্য নারী ভিকটিমদের সহায়তা দেয়া। এদের ২৪ ঘন্টা হেল্পলাইন রয়েছে। কোন নারী ভিকটিম এই ইউনিটের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে ব্যবহার করতে পারেন নারী বাটন।


৫) ডিএমপি-ম্যাপ থেকে খুব সহজেই আপনি যে কোন থানার অবস্থান ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন আপনার কোন বন্ধু বা নিকটজনকে। জরুরী প্রয়োজনে এই অ্যাপ্লিকেশনে থাকা যে কোন ফোন নম্বর আপনার কোন বন্ধুকে এসএমএস করতে পারবেন মাত্র এক ক্লিকেই।


৬) হঠাৎ রাস্তায় ঘটা কোন দুর্ঘটনায় ডিএমপির হটলাইনে জানানোর জন্যে এতে রয়েছে একটি ‘কুইক কনটাক্ট বাটন’ যা ব্যবহার করে সহজেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে যে কোন তথ্য দেয়া যাবে সরাসরি ফোনে বা ইমেইলে। কোন অপরাধী সম্পর্কে পুলিশকে কোন তথ্য দেয়া বা ছবি পাঠানো কিংবা আপনার এলাকার কোন অপরাধ পুলিশকে জানাতে এখন আর কষ্ট করে থানায় আসতে হবে না, মাত্র একটি ক্লিকই যথেষ্ট।


৭) ট্রাফিক সম্পর্কিত তথ্য ও সহায়তার জন্যে রয়েছে ট্রাফিক বাটন, যেটির মাধ্যমে ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত অফিসারদের সাথে সরসরি কথা বলতে পারবেন এবং ট্রাফিক আপডেট জানতে পারবেন। নীচের ছবিতে আরো কয়েকটি বাটন আছে, যেমনঃ বিদেশী নাগরিকদের সহায়তার জন্যা "চ্যান্সেরি বাটন", সবগুলো থানার ঠিকানা, ম্যাপে অবস্থান ও ফোন নম্বর নিয়ে বিল্ডিং-আকৃতি বাটন ইত্যাদি।


৮) এছাড়াও এই অ্যাপ্লিকেশনটিতে ডিএমপির বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়েছে।


৯) ঢাকাবাসীর ব্যবহারের জন্যে এই মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১৩ জানুয়ারি উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ। এর পরেই গুগল প্লো স্টোরে সর্বসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এটি। যে কেউ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিচের ঠিকানা থেকে এটি ডাউনলোড করতে পারবেন।


ডাউনলোড লিংক: http://goo.gl/UkdJoZ

গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে "ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ" লিখলেও পেয়ে এটি সহজেই পেয়ে যাবেন।

অ্যাপ্লিকেশনটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে ফেসবুকের এই পেইজ থেকে এবং আগ্রহীরা এখানে সরাসরি নির্মাতাদের সাথে কথা বলার এবং বিভিন্ন মতামত শেয়ার করারও সুযোগ পাবেন:

https://www.facebook.com/mobileappofdmp

এবার একটি মজার তথ্য দিই, এই এ্যাপটি তৈরি করতে তারিক আর তন্ময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে মজুরী হিসেবে নিয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা।তাদের বক্তব্যঃ

ছয় বছর ক্যাডেট কলেজ আর ৪ বছর বুয়েট- দেশের টাকাতেই আমাদের এতদূর আসা।তাই দেশমাতৃকার প্রতি আমাদের এই ক্ষুদ্র নিবেদন। আমরা চাই আমাদের মত আরো অনেক মানুষ নিজেদের জায়গা থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কিছু একটা করুক।

তারিক আর তন্ময় আমার ক্যাডেট কলেজের ছোটভাই- এই গর্বে আজকাল আমি মাটির তিন হাত উপর দিয়ে হাঁটি। ওদের এই বক্তব্যের পরে আমাকে কি খুব একটা দোষ দেয়া যাবে?


পরিশিষ্টঃ

ক) উত্তরার এ্যাপটি বাংলাদেশ সরকারের যে কোন প্রতিষ্ঠানের প্রথম এ্যাণ্ড্রয়েড এ্যাপ, আর ডিএমপি এ্যাপটি দ্বিতীয়।ডিএমপি এ্যাপটির মূল কাজ পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ঘটানো এবং তথ্য দিয়ে পুলিশি সেবা সরাসরি নাগরিকদের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেয়া। আমরা জানি, পুলিশের পক্ষ থেকে নানারকম সমস্যা হতে পারে, হয়ত কেউ কেউ ফোন করেও আশানুরূপ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সেক্ষেত্রে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে।এসব সমস্যা নিয়েও আমরা আশাবাদী, কারণ অন্ততঃ শুরু তো হল!

খ) এই এ্যাপটির অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের ( আই ফোন, উইন্ডোজ ইত্যাদি ) কাজ শেষের পথে, মাসখানেকের মধ্যে রিলিজ দেয়া হবে। এছাড়াও, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সারা দেশের সবগুলো থানা, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং হাসপাতাল একত্রিত করে একটি এ্যাপের কাজ শুরু হয়েছে, যেটি এবছরের মাধ্যমে রিলিজ দেয়া হবে।

গ) জানি, হাজারটা সীমাবদ্ধতা আছে। তাই বলে কি আমরা থেমে থাকব? বাংলাদেশ পুলিশের মত "ভাঙ্গাচুরা" (??!!) বিভাগ যদি এ্যাপ বের করে ফেলতে পারে, বাকিদের পক্ষে কি কি করা সম্ভব সেটা চিন্তা করলে ইচ্ছে করে আকাশে উড়ে বেড়াই।

আমাদের দেশটাকে আমরা স্বপ্নের দেশ হিসেবে দেখতে চাই, এবং সেটা খুব তাড়াতাড়ি।

চলুন, হাত লাগাই!

মাসরুফ হোসেন
সহকারী পুলিশ কমিশনার
(ক্যান্টনমেন্ট জোন)
গুলশান অপরাধ বিভাগ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ
০১৭১৩৩৯৮৩৪২

0 comments

সুরা ফাতিহা, সুরা হুমাজা, সুরা ইখলাস বাংলা

এক বোন (Sara Nowreen) তিনটি সূরার অনুবাদ দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের এই বোনকে উত্তম প্রতিদান দিক। আমিন।

Surah Fatiha
https://drive.google.com/file/d/0B5cANnNgIKAcM09JTjRqSzJpeTA/edit?usp=sharing

Surah Humazah
https://drive.google.com/file/d/0B5cANnNgIKAca2RoWjdXUWZTcmc/edit?usp=sharing

Surah Ikhlas
https://drive.google.com/file/d/0B5cANnNgIKAca1lxTFpSM0YxMEE/edit?usp=sharing


Source:Nouman Ali Khan Collection In Bangla
https://www.facebook.com/NAKBangla

0 comments
Labels: ,

বাংলাদেশের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসলামের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট


বাংলাদেশের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসলামের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিবেচনা : বাংলাদেশকে পাকিস্তান আক্রমন করেছিল বাংলাদেশ করেনি, পাকিস্তানিরা এদেশে এসে হত্যা চালিয়ে ছিল তাই না।

এবার ইসলামের ইতিহাসে যুদ্ধ গুলো দেখুন কোথায় হয়েছে মদিনায় বা মক্কার বাইরে , কারা আক্রামন করেছে মক্কার কোরাইশরা তাই না, কারা যুদ্ধ শুরু করেছে মক্কার কোরাইশ রা তো যখন আপনি কউকে আক্রমন করতে যাবেন তখন যেই নারীদের নিয়ে যাচ্ছেন যুদ্ধ পরবতীতে তাদের কি হবে তা ভেবেছেন? সেই নারীরা কি সেচ্ছেয় যু্দ্ধে যায় নি? মুসলমানরা কি কখনো আগে আক্রমন করেছে?

বাংলাদেশের নারীরা এখানেই ছিল তারা এসে আমাদের আক্রমন করেছে আমাদের নিজেদের বাচাতে আমাদের নারীরা যুদ্ধে সহায়তা করেছে বলে পাকিরা আমাদের নারীদের এমন করে এখানে দোষ পাকিদের আর সেখানে দোষ কি সেই মক্কার কোরাইশদের নয় যারা নারীদের যুদ্ধে ব্যবহার করেছে ?

আর সবার শেষে যখন মক্কা বিজয় হলো তখন কতজন যুদ্ধ বন্দিনি ধরা হয়ে ছিল কতজন কে ধর্ষন করা হয়েছিল? তখন কি বলা হয়নি ..।

মোহাম্মদ (সঃ) মক্কা বিজয়ের পর কোরআইশদের উদ্দেশ্যে বলেন : " যে আবু সুফিয়ান এর বাসায় প্রবেশ করবে সে নিরাপদ, যে অস্ত্র ফেলেদিবে\সারেন্ডার করবে সে নিরাপদ, যে ঘরের দরজা বন্ধ করেছে সেও নিরাপদ " এমন ক্ষমার দৃস্টন্ত পৃথিবীতে আজো বিরল, অতুলনীয়, শুধু তাই নয় মোহাম্মদ (সঃ) আরো বলেন :

আমি তোমাদের জন্য সেই কথাই বলবো যেমনটি ইউসুফ তার ভাইদের বলেছিল " আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের কে ক্ষমা করুন। তিনি সব মেহেরবানদের চাইতে অধিক মেহেরবান। "

সুবহানাল্লাহ এরচেয়ে সুন্দর , ক্ষমার, ভ্রাতৃত্বের, বন্ধনের, আদর্শের উদাহরন আর কোথায় পাবেন ইসলাম ছারা।

0 comments
Labels: , , ,

সত্য প্রত্যাখ্যানের কৌশল

সত্য মিথ্যার চিরকালীন দ্বন্দ্বে মিথ্যাবাদীরা কি কৌশলে প্রভাব খাটিয়ে কিছুদিনের জন্য টিকতে পারে তার নিয়ে ওস্তাদ নোমান আলী খান কুরআন হাদীস ঘেটে তাদের ৫টি কৌশলের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এক খুৎবাতে। লিখা একটু বড় হতে পারে একটু ধৈর্য ধরে পড়ার অনুরোধ রইলো।

মিথ্যাবাদীদের কৌশল গুলো বলার আগে দেখি আল্লাহ সত্যকে কিভাবে চিত্রায়িত করেছেন কুরআনে।  সত্য সবসময় আগ্রাসী আর মিথ্যাকে সামনে পেলেই চুরমার করে ফেলে:

“আমরা সত্যের দ্বারা মিথ্যার উপর আঘাত হানি, ফলে তার মগজ চুরমার হয়ে যায়, তখন দেখো! তা অন্তর্হিত হয়। আর ধিক তোমাদের প্রতি! তোমরা যা আরোপ কর সেজন্য।“
সুরা আম্বিয়া ১৭

সত্যের নিজের কোন অস্ত্র লাগেনা। মিথ্যাকে মারার জন্য সত্য নিজেই এক অস্ত্র। কোন বিষয়ের সত্য মিথ্যা একসাথে রাখলে সত্য একদম নিঃশেষ করে দেয় মিথ্যা কে। সত্য খুবই আগ্রাসী এ ব্যাপারে।
সত্যের আগমনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তারাই হয় যারা এতদিন মিথ্যা কিছু তথ্য আর বিশ্বাসের উপর ভর করে বিশাল বিশাল ইমারত তৈরি করে নিয়েছে আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম অন্ধ ভাবে তা মেনে চলছে।

এইসব অহংকারী মিথ্যাবাদীরা কিভাবে সত্যকে নিশ্চিতভাবে জানার পরও প্রথম যে কৌশল এর আশ্রয় নেয় তা হল By Force  বা পেশী শক্তি আর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে। যেমন

ছোট দুর্বল এক ছেলে তার এক বড় ভাইকে বির বির করে বলল:
২+২=৪
বড়ভাই বলে উঠল ভারী গলায় “না ২+২ =৫”
“কিন্তু দেখেন দুই হচ্ছে এক যোগ এক আর...”
“থাম, আমি বলছি ৫ , তাই ৫ এখন অফ যাও”

ইব্রাহীম (আঃ) যখন তাদের গোত্রদের বলল তোমরা ভুল ইলাহদের প্রার্থনা করছে আর জবাবে ওরা বলে
তাই না? ওকে জীবন্ত পুড়াও।
শুধু জোর খাটিয়ে পেশী শক্তি আর হুংকার দিয়ে সত্যকে দূরে ঠেলে দেয়।

দ্বিতীয় কৌশল হল চরিত্র হনন। আগের উদাহরণে আসি।

-“জান ভাইয়া ২+২=৪”
“তাই না?  তুমি তো বাইট্টা, ঠিকমত হাটতেও পারনা আর আমারে শিখাইতে আইসো না?”

মুসা (আঃ) যখন সত্যের দাওয়াত নিয়ে আসল তখন ফিরআউন বলত - ও আর কি দাওয়াত দিতে আসছে? ও নিজেও একজনকে খুন করে পালিয়ে গেছিল আর এখন যাদু করে বেড়ায়। কি আশা কর আর ওর থেকে?

এইভাবে যখন কেউ সত্য কথা সম্মুখে বলে তখন যে লোকটি কথাটি বলল তাকে নিয়ে, তার চরিত্র নিয়ে এরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

তৃতীয় কৌশল হল বিশাল এক জনসমাগমের আয়োজন করা আবেগী মানুষদের নিয়ে।

এটি হল ফিরাউনের কৌশল। মুসা (আঃ) কে হেনেস্তা করার জন্য নিজের মানুষদের নিয়ে বিশাল এক জনসমাগম করেছিল।মুসা(আঃ) তার মোজেজা দেখাবেন আর ফিরাউনের যাদুকরেরা যাদু দেখাবে।  মুসা (আঃ) যাই বলবেন আর যাই করবেন আর তখনই লোকেরা Boooooooooo করে উঠবে। সত্য কথা হলেও। মোটামুটি এই হল কৌশল।

পরে অবশ্য যাদুকরেরা ঐ জনসমাগমেই ঈমান আনলেন আর ফিরাউন যাদুকরদের বলল আমি জনতাম তোমরা এইখানে আসার আগে মুসার সাথে গোপন আলাপ করে এসেছিলা!

যখনই যুক্তিতে পেরে উঠেনা, তখনই এই সমমনা জনতার প্রয়োজন হয় আর এতেই প্রমান হয় তাদের যুক্তির দৌড় কতদুর। এই জনতার কোন একজনের সাথে যদি ব্যক্তিগত কথা বলা যায় দেখা যাবে যুক্তিসহ কথা বার্তা হচ্ছে কিন্তু ঐ যখনই জনসমুদ্রে যায় তখন আর কিছুর ধার ধারে না, যা বলছি তাই, তুমি ভণ্ড!

চতুর্থ কৌশলটা একটু গভীর আর ভয়ংকরও বটে। তা হল সে দাওয়াত নিয়ে আসছে সত্যের উপর তার নিজের আনুগত্যের প্রশ্ন তুলবে তারা। ইমোশনাল ব্ল্যাক-মেইল করা।  যেমন

একজন তার বাবাকে বলল, বাবা তোমার আয়ে তো সুদ জড়িত একটু ...
এইতো শুরু হল বাবার,

“তোমাকে বড় করছে কে? এতদিন দিনের পর দিন কষ্ট করে খাওয়ছি পড়াইছি আর এইসব কথা শুনাও না এখন? কি পালতেছি আমি!!?? খুব ইসলাম পালন করতেছ তাই না? দেখতেছিত কেমন ইসলাম। ইসলাম এই শিখাইছে না? বাবা মাদের সাথে এই আচরণ শিখছ না?......”

যাই হোক ছেলে যে সুদের প্রসঙ্গ তুলে আনলে সেটি এই কৌশলে ঢাকা পড়ে গেল।

নবী (স) কে উদ্দেশ্য করে কাফেররাও বলত যে সে নাকি শান্তি আনতে চাচ্ছে অথচ আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আসার পর অশান্তি আরও বেড়ে গেছ। ভাই-ভাই, স্বামী স্ত্রী, বাবা-ছেলে বন্ধন ভেঙ্গে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আর সর্বশেষ আর সবচেয়ে জনপ্রিয় কৌশল হল ভুলভাবে উদ্ধত করা। সোজা বাংলায় তেনা পেঁচানো। ফেসবুকের জামানায় এটা তো আরও বেশি হয়।
যেমন কেউ একজন বলল তুমি যেটা করছ ঐটা তো হাদীসে নিষেধাজ্ঞা আছে।
অন্যজন বলল ঐ হাদীসটা কে বর্ণণা করেছে?
জানি না
ও, জানও না? (দলবল নিয়ে হেসে উঠল) আর হাদীসের কথা বল না??

আর কেউ একজন কমেন্ট করল। আর অন্যজন আসে মুল কমেন্ট নিয়ে কিছু না বলে কমেন্টের বানানে কি ভুল হল আর অন্য প্রসঙ্গ টেনে এনে মুল কথা থেকে অনেক দূরে সরে এসে পেঁচাল পাড়ে।

এই হল মোটামুটি কৌশল গুলো। সত্য আসার পর মানুষ কেন তা অস্বীকার করে এই সব কৌশলের আশ্রয় নেয় তার কারণ বিশ্লেষণ করলে একটাই উপসংহার আসে। তা হল মানুষের Ego বা অহংকার।


##নোমান আলী খানের Quranic Imagery লেকচার অবলম্বনে। 

0 comments
Labels: ,

✦সুরা আল কাহাফ এর সিক্রেট✦

কখনো কি ভেবেছেন কেন মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ) আমাদেরকে প্রতি শুক্রবার সুরা আল কাহাফ পরতে বলেছেন।

চলুন আজ তা জানার চেস্টা করি ইনশাআল্লাহ..

এই সুরাতে চারটি কাহিনী রয়েছে, যাতে রয়েছে মোরাল বা শিক্ষনীয় বিষয়, চলুন তবে দেখাযাক এবং বাঝার চেস্টা করি সেই গল্প গুলো আমাদের কি বোঝাতে চেস্টা করছে।

১) গুহার লোকেরা: এটা একটি ঘটনা কয়েক জন যুবকের যারা এক অবিস্বাসীদের শহরে বসবাস করতো, তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে আল্লাহর জন্য তারা হিজরত করবে বা দেশান্তরে যাবে এবং তারা চলে যায় এবং আল্লাহ তাদের কে দয়া করেন সাহাজ্য করেন দেখুন আল্লাহ বলেন সুরা কাহাফ সুরা নং১৮ আয়াত নং ১৬: "তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক হলে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করে তাদের থেকে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয়গ্রহণ কর। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ কর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করবেন। "

আল্লাহ তাদের কে গুহাতে সুর্য হতে রক্ষা করেন এবংন যখন তারা জেগে ওঠে তখন তারা দেখতে পায় সম্পুর্ন শহর বিস্বাসীদের । সুর্য হতে রক্ষা বিষয়ে আরো বিস্তারিত ডাঃ নার্গিস পারভীন কুরআন কি বিজ্ঞানময় ? পোস্ট টা অবশ্যই পড়বেন অসাধারন পোস্ট টি পাবেন এখানে
Click This Link

মোরাল/শিক্ষা: ধর্মবিশ্বাসের উপর পরিক্ষা


২) দুটি বাগানের মালিক আয়াত ৩২ হতে ৪৫
এই ঘটনাটি দু ব্যক্তির উদাহরণ যাদের আল্লাহ বাগানের মালিক করেছেন, এর মাঝে এক ব্যক্তি আল্লাহর শুকুর করেনি এবং সে কেয়ামত, পরকাল ও আল্লাহ সর্ম্পকেও সন্দেহ করে। অতপর তার বাগান ধবংস হয়- এবং সে দুঃখপ্রকাশ ও অনুশোচনা করে কিন্তু ততক্ষনে অনকে দেরি হয়ে গিয়েছে তাই তার দুঃখপ্রকাশ কোন কাজে আসেনি।

মোরাল/শিক্ষা: সম্পদের উপর পরিক্ষা

৩) মুসা (আঃ) এবংন খিদির (আঃ)/ জ্ঞানী ব্যক্তি আয়াত ৬৫ থেকে ৮২

যখন মুসা (আঃ) সে কিগ্গেস করা হলো-" এ পৃথিবীতে কে সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ? তিনি বললেন আমি কিন্তু আল্লাহ মুসা (আঃ) কে এমন এক লোকের সাথে সাক্ষাত করেলেন যাকে আল্লাহ রহমত দান করেছিলেন ও দিয়েছিলেন এক বিশেষ জ্ঞান যা সচরাচর দেখা যায় না এবং আমরা অনেকে যা বিস্বাস করতে পারিনা যে মানুষ অনেক কিছু জানতে পারে যা তার আয়ত্তাধীন নয়।

মোরাল/শিক্ষা: জ্ঞানের পরিক্ষা

৪) যুলকারনাইন সম্পর্কে আয়াত ৮৩-১০২

যুলকারনাইন সম্পর্কে বলা আছে যে তিনি ছিলেন মহান শক্তিধর শাসক যাকে আল্লাহ জ্ঞান ও ক্ষমতা দান করেন। যুলকারনাইন পৃথিবীর সুযদয় স্থান হতে সুর্যাস্থল স্থান পর্যন্ত তিনি ভ্রমন করেন এবং তার সামর্থ অনুযায়ী দান ও সাহাজ্য করতে থাকেন । তিনি ইয়াজুজ ও মাজুজ যা সমস্যা করছিলো সেটা মোকাবেলা করেন এবং সেই এলাকার লোকদের সাহাজ্যে বিশাল এক সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেন।

মোরাল/শিক্ষা: ক্ষমতার পরিক্ষা

এই সুরার মাঝের দিকে আল্লাহ ইবলিস \শায়তান সর্ম্পকে বলেন যাকেও এই সকল পরিক্ষা করা হয় দেখুন আয়াত ৫০ "যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল। "

চলুন এবার দেখি বর্তমান সময়ে সুরা কাহাফ আমাদের জন্য কি ভাবে সম্পর্কিত:

আমদের জীবনে সবাইকে চারটি বিষয়ে পরিক্ষা দিতে হয়।

১। ধর্মবিশ্বাসের উপর পরিক্ষা
২। সম্পদের উপর পরিক্ষা
৩। জ্ঞানের পরিক্ষা
৪।ক্ষমতার পরিক্ষা

প্রথমত আমাদের ধর্মবিস্বাসে যা আছে সেটা কি আমরা মানি পালন করি আল্লাহর হক যেমন নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত, কুরবানি, জিকির এবং মানুষের হক যেমন অন্যের প্রতি ভালোব্যবহার, সর্বোত্তম সাহায্য, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা , প্রাপ্য অধিকার দান, এবং শান্তি কামনা করা ও শান্তি বজায় রাখা ইত্যাদি কতটুকু আমরা করছি সেটার পরিক্ষা।

আমাদের সম্পদের ব্যবহার, সেটার সুষম বন্টন, সম্পদে যাদের হক পরিবার, ভাই বোন, ও গরীব অসুস্থ ও দুস্থ লোকের জন্য দান সেটা আমরা কতটুকু করি কিভাবে আয় করি কিবাভে ব্যায় করি সকল কিছুই পরিক্ষা আল্লাহর পক্ষ হতে

আমাদের জ্ঞানের পরিক্ষা আমরা যা জানি সেটা কি ভাবে কাজে লাগাই সেটা দিয়ে কিভাবে অনে্যর উপকার ,করি ও সমাজের শান্তি ও উন্নয়নে এই জ্ঞান কতটুকু কাজে লাগাই, জ্ঞান কোন কাজে ব্যবহার করি এসকলও পরিক্ষা।

ক্ষমতা আল্লাহ সবাইকে দেন না আর যাকে দেন তাকে পরিক্ষা করেন সে তার ক্ষমতা কিভাবে কাজে লাগাচ্ছে বা ব্যবহার করছে।

এখন এসকল পরিক্ষার কথা জানলাম তবে পরিক্ষায় ভালো করার ফমুলাটাও জানি চলুন দেখি:

সারভাইভাল কিট ১: ভালো সাহচর্য্য. ভালো বন্ধু ভালো পরিবেশ
সুরা কাহফ আয়াত ১৮ "আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না।"

সারভাইভাল কিট ২ : এ পৃথিবীর সর্ম্পকে জানা
সুরা কাফহ আয়াত ৪৫ "তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান।"


সারভাইভাল কিট ৩: নিরহঙ্কারী ও ধৈর্য্যশীল হন
আয়াত ৬৯ "মূসা বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না। "

সারভাইভাল কিট ৪: আন্তরিকতা
আয়াত ১১০ "বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে। "

সারভাইভাল কিট ৫: আল্লাহতে ভরসা করুন, তার দেয়া কোরআন পড়ুন জানুন বুঝুন ও প্রচার করুন।
আয়াত ২৭: আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না।

সারভাইভাল কিট ৬: আল্লাহর সকল কর্তৃত্ব এবং কুকুর সহ সকল প্রানী মানুষের কল্যানে তৈরি
আয়াত ১৮: তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে। যদি তুমি উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়তে।"

সারভাইভাল কিট ৬: শেষ বিচারের কথা স্বরন করুন যাতে বিপথগামী না হন
আয়াত ৪৮-৪৯ "তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না।

আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।

লেখাটির বিষয়বস্তু Tag / Keyword: আল কোরআনসুরা কাহফসুরা নং ১৮কোরআনের শিক্ষাকোরআনে ঘটনাকোরআনে কাহীনি,

0 comments
Labels:

Nouman Ali Khan - Popular Discourse Against Islam

0 comments