শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Labels: , ,

Bangla Dubbed || কুরআনের ভাষাগত মু'জিযা - মক্কা নাকি বাক্কা?

আরেকটি চমৎকার তুলনা হতে পারেঃ মক্কা আর বাক্কা।

মক্কার এই দুটি নাম কি আগে কখনো শুনেছেন আপনারা? দুটি নামই একবার করে এসেছে কুরআনে। কুরআনে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল মক্কা শব্দটি ব্যবহার করেছেন সূরা মুহাম্মাদে। আবার সূরা আল ইমরানে ব্যবহার করেছেন বাক্কা শব্দটি।ইতিহাসগতভাবে শব্দ দুটি মক্কা শহরটিরই ভিন্ন দুটি নাম মাত্র। অনেকে বলে থাকেন যে বাক্কা ছিল প্রাথমিক সময়ের নাম আর মক্কা পরবর্তী সময়ের।

তবে ভাষাতাত্ত্বিকদের মত এই যে, মক্কা হল শহরটির মূলনাম আর বাক্কা হল এর ডাকনাম। বাক্কা শব্দটি এসেছে আরবি ক্রিয়াপদ “বাক” থেকে, যার অর্থ “জনাকীর্ণতা”। প্রচুর লোকের সমাগমে ভিড় সৃষ্টি হওয়া, আধুনিক আরবিতে যাকে বলা হয়ে থাকে “আল-ইজদিহাম”।

এখন দেখা যাক, সূরা ইমরানে বাক্কা শব্দটি ব্যবহার হয়েছে, যেখানে শব্দের শুরুতে উপস্থিত “বা” ধাতুটির উৎপত্তি “ভিড়” শব্দটি থেকে। এখানে যেই আয়াতগুলো রয়েছে সেগুলো মূলত হজ্জের আয়াত - “ওয়া লিল্লাহি আলান নাসি হিজ্জুল বায়িত”। হজ্জ শব্দটির সাথে কীসের চিন্তা মাথায় আসে? লোক সমাগম, ভিড়। তাহলে হজ্জের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ কোনটি? বাক্কা। কিন্তু সূরা মুহাম্মাদের উল্লেখিত অংশে হজ্জের কোন কথাই নেই, তাই সেখানে এসেছে মূল শব্দটি - মক্কা। সুবহান আল্লাহ!

আমাদের জন্য মক্কা, বাক্কা তো একই শব্দ, একটার জায়গায় আরেকটা তো ব্যবহার করাই যায়। শব্দ দুটি একই জিনিসের দুটি ভিন্ন নাম বটে, তবে কুরআনে শব্দ দুটির ভিন্ন প্রয়োগ এর পুঙ্খানুপুঙ্খতার মানদণ্ডে যে মাত্রা যোগ করেছে তা কুরআনের অপ্রতিদ্বন্দ্বীটার আরেকটি প্রমাণ ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষ যখন কথা বলে তখন এরকম পরিপূর্ণ সূক্ষ্মতা বজায় রাখতে পারে না। এভাবে সে চিন্তাই করতে পারে না।


0 comments
Labels: , ,

Bangla Dubbed || কুর'আনের ভাষাগত মু'জিযা - ইয়াসরিব নাকি মদীনা?

স্ক্রীনে দেখানো দুটো নামই আপনারা জানেন, ইয়াথরিব এবং মদীনা। দুটোই কি একই শহরের নাম? অবশ্যই।

কুরআন মদীনা শহরের কথা বলার সময় "মদীনা" শব্দটি বহুবার ব্যবহার করেছে। স্ক্রীনে আপনাদের জন্য অন্তত সেরকম তিনটি আয়াত দেখানো হয়েছে। কিন্তু কুরআন মাত্র একবার "ইয়াথরিব" শব্দটি ব্যবহার করেছে। শুধুমাত্র সুরা আহযাবে, ব্যস! কুরআনের অন্য কোথাও "ইয়াথরিব" শব্দটি ব্যবহার করা হয় নি। দুটোই কিন্তু মদীনারই নাম।

তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া যেতে পারে, দুটোই তো একই জিনিস, তাই না? তাহলে আমি কেন ইয়াথরিব শব্দটি বদলে মদীনা লিখতে পারি না? অথবা মদীনার না বলে ইয়াথরিব বলি না? তোমরা বারবার বল, কুরআনের শব্দচয়ন পুরোপুরি পারফেক্ট। তোমরা তো জানই ইয়াথরিব আর মদীনা দুটোই একই জিনিস। তাহলে কেন ইয়াথরিবের বদলে মদীনা কিংবা মদীনার বদলে ইয়াথরিব ব্যবহার করা যাবে না? কতটুকুই আর হেরফের হবে তাতে? এই সামান্য পরিবর্তনে কি আসে যায়?

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আমাদের ইতিহাসের দিকে একটু তাকাতে হবে। রাসুল (স) মদীনায় আসার আগে মদীনার নাম কি ছিল? ইয়াথরিব। রাসুল (স) আসার পর তাকে যখন সবাই একবাক্যে নেতা বলে ঘোষণা দিল, তখন শহরটার নাম হল “মদীনাতুন্নাবী” বা “নবীর (স) শহর”। সংক্ষেপে “শহর”। তাহলে মদীনা শব্দটি কিসের সংক্ষিপ্ত রূপ? “নবীর (স) শহর” শব্দটির। আর আসল নাম “ইয়াথরিব”। অথবা আপনারা এভাবেও ভাবতে পারেন যে, রাসুল (স) আসার আগে শহরটির নাম ছিল ইয়াথরিব, আর উনি আসার পর এর নাম হল মদীনা।

মজার ব্যাপার হল, সুরাতুল আহযাব, সুরা নম্বর ৩৩ এ আসলে মদীনা এবং ইয়াথরিব, দুটোই ব্যবহার করা হয়েছে, একই সুরাতে। আরও মজার ব্যাপার হল, সুরাতুল আহযাব একটি মাদানী সুরা। মাদানী সুরার ব্যাপারে আমরা কি জানি? রাসুল (স) সেসময় কোথায় ছিলেন? মদীনাতে। তাহলে তখন শহরটাকে কি বলা হত? মদীনা, কিন্তু এখানে আমরা “ইয়াথরিব” শব্দটি দেখতে পাচ্ছি। ধাঁধাঁটা ধরতে পারছেন তো? ব্যাপারটা হল, মদীনা শব্দটি “মদীনাতুন্নাবী” বা “নবীর (স) শহর” এর সংক্ষিপ্ত রূপ। যখন মদীনাকে শত্রুরা চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলল, তখন কিছু ইহুদী গোত্র একসাথ হল।

তারা এসে উহুদ যুদ্ধের পরাজয়ের পর কুরাইশদের বোঝাল মদীনার দিকে দল বেঁধে আবার আসতে। তারা ছোট ছোট গোত্রগুলোর সাথে জোট বেঁধে বিশাল এক সেনাবাহিনী তৈরি করে মদীনাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলল। প্রায় সপ্তাখানেক ধরে মদীনা শহরকে একরকম বন্দী করে রাখা হল।
অবস্থা আরো খারাপের দিকে গেল ভেতরে থাকা কিছু মানুষের জন্য, ভেতরে কিছু মানুষ ছিল যারা শুধু নামেই মুসলিম ছিল, কিন্তু তাদের হৃদয়ে ইসলাম ছিল না। তাদেরকে কি বলা হয়? মুনাফিক বা ভন্ড, তাই না?

রাসুল (স) আসার আগে মুনাফিকরা কোন শহরের নেতা ছিল? তারা ছিল ইয়াথরিবের নেতা। রাসুল (স) আসার পর তারা তাদের নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ স্বভাবতই মুসলিমদের নেতা কে? মুহাম্মদ (স)।

এখন যখন মদীনাকে কাফেররা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে, তখন তারা এটার সুযোগ নিয়ে বলল, দেখ সবাই, মুহাম্মদের নেতৃত্ব আমাদের কোথায় নিয়ে এসেছে। তাই তারা বলল, "ওয়া ক্বলু, ইয়া আহলা ইয়াথরিব লা মুক্বামা লাকুম"। মানে হল, "হে ইয়াথরিবের লোকজন, তোমাদের যাওয়ার আর কোন জায়গা বাকি নেই"। "ফারজি'য়ু" "চল আমরা ফিরে যাই"। কিসে ফিরে যাই? শহরটাকে আবার ইয়াথরিব করে ফেলি। রাসুল (স) নেতৃত্বে আসার আগে যেমনটা ছিল, ঠিক তেমনটায়।

আপনারা কি বুঝতে পারছেন যে "ইয়াথরিব" শব্দটা ব্যবহার করে তারা কি প্রকাশ করল? তাদের আসল আনুগত্য কাদের প্রতি। কারণ, যদি তারা রাসুল (স) কে তাদের নেতা বলে আসলেই মেনে নিত, তাহলে তারা কোন শব্দটা ব্যবহার করত? মদীনা। তাই, শুধুমাত্র এই একটা শব্দ ব্যবহার করে, আল্লাহ সেই শব্দটা ধরেছেন, কুরআনে সেটাকে প্রকাশ করেছেন এবং আমরা সেখান থেকে তাদের আসল উদ্দেশ্য কি সেটা বুঝতে পারি, যেটা হল, "একদিন শহরটা আবার ইয়াথরিব হয়ে যাবে, মদীনা আর থাকবে না।"

এই ব্যাপারটা আরো স্পষ্ট আর পরিষ্কার হয়, যখন আমরা অন্য আরেকটি সুরায় যাই। সুরাতুল মুনাফিকুন, যে সুরাতে কাদের কথা বলা হয়েছে? মুনাফিকদের, ভন্ডদের। মুনাফিকদের নিয়ে সুরাটা অনেক ইন্টারেস্টিং। সুরাটা শুরু হয়েছে মুনাফিকদের রাসুল (স) এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা দিয়ে। মুনাফিকরা তাদের স্বভাব থেকে সরে গিয়ে রাসুল (স) এর প্রতিদ আনুগত্য দেখানোর জন্য বলত, "ইযা যাকাল মুনাফিকুন কালু নাশশাহাদা ইন্না কালা রাসূলুল্লাহ" - "মুনাফিকরা যখন আপনার কাছে আসে, তারা বলে, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি, কোন সন্দেহ নেই আপনিই নিশ্চিত ভাবে আল্লাহর রাসুল"।

মুসলমানদের রাসুল (স) কে প্রতিবার এটা বলতে হত না, শুধুমাত্র মুসলমান হবার সময় বললেই হত, তাই না? যখন সে ইসলাম গ্রহণ করে শুধু তখন সেটা বলা দরকার। আর বাকী সময়গুলোতে দরকার নেই কারণ, সে জানে যে তিনি আল্লাহর রাসুল।

কিন্তু আপনি যদি সেটা না ভেবে আপনার মনে অন্য কিছু থাকে, তখন আপনি সেটাকে পূরণ করা চেষ্টা করবেন, ঠিক একটা বাচ্চা যেভাবে বলে, আমি কিন্তু করি নি। আর শুনে আপনি বলেন, তুমি কি কর নি? এটা আসলে অপরাধবোধ থেকে বলা। তাদের অপরাধী বিবেক তাদেরকে বারবার বলতে বাধ্য করে, "আমরা আসলেই বিশ্বাস করি যে আপনি আল্লাহর রাসুল।" এই সুরাতে তারা বাইরে বাইরে রাসুল (স) এর প্রতি আনুগত্য দেখানোর জন্য বলেছে, "লা ইররাযানা ইলাল মাদিনাহ লা ইয়ুখরি জান্নাহ আজ্জু মিনাল আজাল" - "তারা বলেছে, আমরা যখন "মদীনা"তে ফিরে যাব।" কারণ তারা তাদের আনুগত্য দেখানোর চেষ্টা করছিল।

কিন্তু সুরাতুল আহযাবে যখন রাসুল (স) এর বিপদের সময় আসল, তাদের মুখ থেকে ভুল শব্দটা বেরিয়ে আসল, আর তাদের আসল আনুগত্য কাদের প্রতি, সেটা প্রকাশ পেয়ে গেল।


0 comments
Labels: , ,

মূসা (আঃ) এর নাম, একটি মৃত ভাষা ও কুর'আনের মু’জিযা

মূসা (আঃ) এর নাম, একটি মৃত ভাষা ও কুর'আনের মু’জিযা

মূসাকে হিব্রু ভাষায় 'মুশেহ' বলা হয়... মূসা বলা হয় না। এই মুশেহ এর প্রথমাংশ ‘মু’ এর অর্থ হল আরবী ‘মা’(=পানি) এর মত। মূসা অর্থ পানি, আর এক্ষেত্রে ইহুদিরা বলে মূসা শব্দটি হিব্রু।

আমি বলি মূসা শব্দটি হিব্রু নয়। এটা হিব্রু শব্দ হতে পারে না। অথচ ইহুদিরা এটাকে হিব্রুই বলে। আমি বলিঃ

<> বলুন তিনি কোথায় জন্মগ্রহন করেছিলেন?
- মিশরে।
<> তিনি কোথায় বড় হয়েছিলেন?
- ফিরাউনের প্রাসাদে।
<> তাঁর দায়িত্বে কে ছিল?
- ফিরাউন।
<> তাহলে একজন নতুন শিশুকে কে নামকরণ করবে? যে দায়িত্বে আছে সে নাকি চাকর-বাকরেরা?
- অবশ্যই দায়িত্বরত ব্যক্তি।
<> তাহলে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা কার ভাষায় নামরকণ করবে প্রভূর ভাষায় নাকি চাকরদের ভাষায়?
- অবশ্যই প্রভূদের ভাষায়। আর প্রভূদের ভাষা ছিল মিশরীয়, হিব্রু নয় ((ফিরাউনের রাজ্য মিশর, আর তার ভাষা মিশরীয়)।

কিন্তু সমস্যাটা কোথায় জানেন? রাসূল (সাঃ) এর জন্মের ৩০০০ বছর পূর্বে মিশরীয় ভাষা বিলুপ্ত হয়েছিল। কেউ মিশরীয় ভাষা জানত না। সুতরাং রাসূল (সাঃ) এর সময়ে কেউ যদি জিজ্ঞেস করত ‘মূসা’ অর্থ কী? কেউ বলতে পারত না। (আমরা না হয় আধুনিক যুগে বাস করি এবং এজিপ্টলজি বা মিশরীয় হায়ারুগ্লিফিক্স আবিষ্কারের কারণে এখন অর্থ বের করতে পারব, কিন্তু রাসূল সা এর সময়ে এটা জানা অসম্ভব ছিল)।

মূসা এর অর্থ কী এটা জানার আগে চলুন দেখি কুর'আন কী বলে। সূরা কাসাস এর ৯নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,

০ لَا تَقْتُلُوهُ عَسَى أَن يَنفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

অর্থঃ "...তাকে হত্যা করো না। এ আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে নতুন পুত্র হিসেবে গ্রহন করে নিতে পারি।"

‘মূসা’ শব্দটি মিশরীয় ভাষায় বলা হয় ‘নতুন জন্মপ্রাপ্ত’। তার মানে লক্ষ্য করেছেন? নিশ্চয় আল্লাহ কুর'আনে ‘মূসা’ শব্দের অনুবাদ করেছেন ‘وَلَدًا’ বা ‘নতুন জন্মপ্রাপ্ত শিশু’ হিসেবে অর্থাৎ 'মূসা = নতুন জন্মপ্রাপ্ত শিশু’, অথচ রাসূল (সাঃ) এর সময় মিশরীয় ভাষা ছিল মৃত।

কিন্তু কুর'আন (আল্লাহর কুদরত) ঠিকই জানে কী এর অর্থ এবং ঠিক মিশরীয় শব্দের আরবী অনুবাদ আল্লাহ ব্যবহার করেছেন একজন নিরক্ষর ব্যক্তির মাধ্যমে অথচ সেই ভাষা তখন কেউই জানত না !!!

আসিয়া তাকে মূসা নামে ডেকেছিলেন তাঁকে আর কুর'আন সেই নামের অর্থেই ডেকেছে আরবীতে অথচ তখন ঐ ভাষা ছিল মৃত। কী সুন্দরভাবেই না আল্লাহ তাঁর বাণীর অলৌকিকতা প্রকাশ করেন !!!

সুবহানআল্লাহ।
-------------------------

উৎসঃ কুর'আন এর ৩০টির উপর ভাষাতাত্ত্বিক মু'জিযার টাইপোগ্রাফি সংকলন (30+ Stunning Dazzling Miracles of The Holy Quran Kinetic Typography)।

0 comments
Labels: , ,

Bangla Dubbed || কুর'আনের ভাষাগত মু'জিযা - শুয়াইব (আঃ)

শুয়াইব (আঃ), আপনারা জানেন তিনি একজন নবী, ঠিক? এখন নবী (আঃ) হিসেবে তাঁর নাম কুর'আনে বহুবারে এসেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ওয়া ইলয়া মাদিয়ানা আখা’খুম শুয়াইবা” মাদিয়ানের নিকট আমি প্রেরণ করেছিলাম তাদের ভাই শুয়াইবকে (আঃ)। এখন একটা কথা বলে রাখি, কোন জাতির কাছে শুয়াইব (আঃ) কে প্রেরণ করা হয়েছিল? মাদিয়ান.. ঠিক? এখন মাদিয়ান একই সাথে দুটি জিনিস কে বোঝায়, ঠিক আছে?

মাদিয়ান দুইটি অর্থ বহন করে। মাদিয়ান একই সাথে একটা জায়গার নাম আবার একই সাথে এটি একটি জাতির নাম। ঐ জাতিটিকে মাদিয়ান বলা হয়, আবার তাদের জায়গা কেও মাদিয়ান বলা হয়। এবং আল্লাহ বলেন মাদিয়ানের নিকট আমি প্রেরণ করেছিলাম তাদের ভাই শুয়াইবকে (আঃ)। সূরা শু’রায়, ২৬তম সূরা, আল্লাহ তায়ালা আমাদের বিভিন্ন নবী-রাসূলদের ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “Idh qaala lahum akhuhum Lootun; idh qaala lahum akhuhum Saalihun; idh qaala lahum akhuhum Hoodun; idh qaala lahum akhuhum Noohun”- যখন তাদের ভাই নুহ (আঃ) কে তাদেরকে বললো। এর পরের বর্ণনায় আরেক নবীর কথা বলা হয়। যখন তাদের ভাই সালিহ (আঃ) কে বললো, তার নিজের জাতির কাছে। তারপর আসেন হুদ (আঃ)।

যখন তাদের ভাই হুদ (আঃ) তাদেরকে বললো। তারমানে সালিহ, হুদ, নুহ এবং লুত (আঃ) – চারজনের বেলায়ই বলা হলো তাদের ভাই, তাদের ভাই, তাদের ভাই। পঞ্চম স্থানে শুয়ায়ব (আঃ) এর কথা বলা হচ্ছে। আল্লাহ বলেন – যখন শুয়াইব তাদেরকে বললো। এখানে তিনি শুধু বললেন “ইয কালা লাহুম শুয়াইবুন” যখন শুয়াইব তাদেরকে বললো। একই সূরায় আগের সব নবীদের সাথে কী বলা হয়েছিল? তাদের ভাই নুহ, তাদের ভাই সালিহ, তাদের ভাই লুত, তাদের ভাই হুদ। কিন্তু যখন শুয়াইব (আঃ) এর কথা বলা হলো তখন বলা হলো শুধু শুয়াইব - এখানে ভাই কথাটির উল্লেখ নাই। আরো মজার ব্যাপার হলো কুর'আনের অনান্য জায়গায় আল্লাহ বলেন “ওয়া ইলাইয়া মাদিয়ানা” আগে যেভাবে বলা হয়েছে, “ওয়া ইলাইয়া মাদিয়ানা আখাহুম শুয়াইবা”। মাদিয়ানের কাছে, বিশেষ ভাবে, আমি তাদের ভাই শুয়াইবকে প্রেরণ করেছিলাম। যে সূরায় সবাইকে তাদের নিজ জাতির ভাই হিসেবে বলা হচ্ছে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই শুয়াইব (আঃ) এর ব্যাপারে আমরা কী দেখবো বলে আশা করা উচিত? তাদের ভাই।

কিন্তু “ভাই” শব্দটি এখানে বাদ দেয়া হলো। শুধু তাঁর বেলাতেই বাদ দেয়া হলো। আর বাকি সবার বেলায় থাকলো, আরো মজার ব্যাপার হলো এর একটু আগেই, মনে আছে? যে জাতির কাছে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল, তার নাম কি ছিল? মাদিয়ান। তাদের আরেকটি নাম ছিলো “আসহাবুল আইকা”। এটা একটু বড় নাম। “আস হাবুল আইকা” মানে হলো "আল-আইকার জাতি"। আইকা হলো একটা বিশাল গাছ, যেটা তারা পূজা করতো। সেই গাছটার নাম হলো আইকা। তাই তাদেরকে এই ধর্মীয় নামেও ডাকা হতো।

তাদের ধর্মীয় পরিচয় হলো আল-আইকার জাতি। ঘটনা হলো তিনি (শুয়াইব (আঃ)) মাদিয়ানেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যেটা মাদিয়ান শহরের ভেতরেই অবস্থিত এবং মাদিয়ান জাতির তত্ত্বাবধানেই ছিলেন, ঠিক? আরবদের একটা অংশ। তারমানে জাতিগত এবং স্থানগত দু’দিক থেকেই তিনি তাদের ভাই, তাই আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদের ভাই শুয়াইবকে।

কিন্তু যখন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে মাদিয়ানের জাতি না বলে তাদেরকে আল-আইকার, সেই গাছের পরিচয়ে বর্ণনা করছেন, তারমানে আল্লাহ তায়ালা তখন তাদের ধর্মের ব্যাপারে কথা বলছেন, অর্থাৎ যখন তাদের ধর্মের ব্যাপার আসছে, তখন কি তিনি তাদের ভাই? না, অবশ্যই না। এজন্যে যখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের ধর্ম দিয়ে যখন বর্ণনা করেছেন আল্লাহ বলেন – যখন শুয়াইবকে তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিলো – কোনো ‘ভাই’ নেই। এই নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে, ‘ভাই’ শব্দটি বর্জন করে এখানে কী বোঝানো হয়েছে? বোঝানো হয়েছে যে, যখন কারো দ্বীন এর পার্থক্য থাকে তখন তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ থাকতে পারে না, এটি চলে যায়। খুবই গভীর এবং নিখুঁত শব্দচয়ন। যে কারণে সূরা শু’রাতে একের পর এক “আখিহুম, আখিহুম, আখিহুম, আখিহুম” বলার পর হঠাত করে এক জায়গায় আর "আখিহুম" বলা হয়নি। নিখুঁত শুদ্ধতা এবং আপনারা দেখতে পেলেন কী জন্যে এটা করা হয়েছে। এটা ছিল প্রথম উদাহরণ।


0 comments
Labels: , , , ,

সালাতে খুশু - একটি সহজ ও কার্যকরী নসীহা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

[উস্তাদ নুমান আলী খানের লেকচার অবলম্বনে অনুবাদ]

আপনি যদি কোন ভিআইপি কারো সাথে দেখা করতে যান, তখন সর্বাপেক্ষা উত্তম পোশাক পরিধান করেন, কোন গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ গেলে উত্তম পোশাক পরেন, কোন অনুষ্ঠানে গেলেও উত্তম পোশাক পরেন। সালাতে কার সাথে দেখা করতে যান আপনি ভাবতে পারেন? আপনার রবের সাথে দেখা করতে যান, তাঁর সাথে কথা বলতে যান, তাঁর সাথে আপনার কথোপকথন হয়। তাহলে সালাতে কেন ভালো ও উত্তম পোশাক পরিধান করেন না? এটা কি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না?

আপনিই তো বলেন যে সালাতে মন ধরে রাখতে পারি না, সালাতে ও সালাতের বাইরে খুশু (একাগ্রতা, নিমগ্নতা, ভয়) আসে না। দেখুন আল্লাহ কীভাবে বলেছেন সালাতের ব্যাপারেঃ

“হে আদম সন্তান, প্রত্যেক মাসজিদে (সালাত ও সালাতের সময়) সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহন করো।” (সূরা আরাফঃ ৩১)

খুশুর মাধ্যমে আপনার মধ্যে প্রশান্তি ও একাগ্রতার একটা বীজ এই পোশাকেই নিহিত রয়েছে। কীভাবে?

আপনি যখন একটি বিশেষ পোশাক পরিধান করবেন একজন বিশেষ কারো জন্য, তখন নিশ্চয়ই আপনার মন এই পোশাকের সাথে সেই বিশেষ কারো জন্যই নিমগ্ন থাকবে। তাহলে আপনি যখন পৃথিবীর কারো জন্য নয়, একমাত্র আল্লাহর জন্য একটি বিশেষ পোশাক পরিধান করবেন তখন কি অন্যদিকে আপনার মন চলে যেতে পারে? না, পারে না। কারণ এই পোশাক পরিধানের একটাই লক্ষ্য, সেই লক্ষ্যের দিকেই আপনার মন একাগ্রভাবে নিমগ্ন। এভাবে সালাতের ভেতরে একাগ্রতা ও নিমগ্নতা আনতে পারেন। তাহলে চিন্তা করে দেখুন আল্লাহ কেন সালাতে উত্তম পোশাক পরিধান করতে বলেছেন, তাঁর সাথে প্রশান্তির অনুভূতি জাগানোর জন্য, তাঁর সাথে উত্তম কথোপকথনের মাধ্যমে প্রশান্তি অর্জনের জন্য।

আরেকটি বিষয় হল আমরা সালাতের বাইরেও এই খুশু পাই না, আল্লাহর ভয় কাজ করে না; কারণ এই সালাতের ভেতরেই রয়েছে। সালাত যেহেতু যাবতীয় মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, আর যদি না রাখে তবে নিশ্চয়ই আমার সালাতে সমস্যা আছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? কেন আমি আমার চক্ষুকে খুশুর মাধ্যমে সালাতের বাইরে অবনত করতে পারি না?

এখানেও পোশাকেই একটা ওষুধ আছে। চিন্তা করুন, আপনি একটি সুন্দর পোশাক পরিধান করে, মাথায় টুপি বা পাগড়ি দিয়ে সালাত আদায় করলেন, বা মেয়েরা তাদের মত উত্তম পোশাক পরিধান করে সালাত আদায় কর। সালাত থেকে আপনি যখন এই পোশাক নিয়ে বের হবেন, তখন কি পারবেন এই পোশাক ও টুপি পড়ে অন্য ছেলে বা মেয়ের দিকে তাকাতে? নাহ, কারণ এই পোশাকই আপনাকে বাধা দিবে। কারণ এই পোশাক একজন বিশেষ কারো জন্য। তাহলে আল্লাহর জন্য যখন এই পোশাক পরিধান করে তাঁর সাথে দেখা করতে যাই, তাঁর আদেশ-নিষেধ মানতে যাই, এই একই পোশাক পড়ে কি আমি তাঁর বিরোধিতা করতে পারব? না, পারব না।

এভাবেই আল্লাহর জন্য, তাঁর আদেশে উত্তম পোশাক পড়তে পারলে আমাদের ভেতরেও খুশু আসবে ইন-শা-আল্লাহ।

-- উস্তাদ নুমান আলী খানের সূরা আরাফের তাফসীর ও লেকচার থেকে।

0 comments
Labels: , ,

আমাদের জীবনের অবস্থা কেমন?

আপনি নতুন বিয়ে করেছেন, রাস্তা দিয়ে আপনার স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছেন। হঠাৎ করে তিনি হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন। আপনি দ্রুত গিয়ে তুললেন, সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, "আমি কখনই তোমার কিছুই হতে দেব না, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি!"

নতুন বিবাহের মধ্যে এরকম ভালোবাসাই থাকে.. .এরকম আবেগের মধ্য দিয়েই আমরা যাই... এভাবে আমাদের জীবনের অনেকগুলো স্তর থাকে... বিবাহের প্রাথমিক অবস্থা থেকে সন্তান-নাতি-নাতকুর বয়স পর্যন্ত।

আমাদের জীবনের অবস্থা কেমন? ছোটবেলার খেলা নিয়েই পড়ে থাকি, কিছুটা বড় হলে পড়ালেখা ধরি, আর কিছুটা বড় হলে আমাদের মধ্যে স্মার্টনেস আসা শুরু করে, মেয়ে বা ছেলে দেখলেই একটু সাজুগুজু করার চেষ্টা করি, ভাব নেই। আরো একটু বড় হলে পড়ালেখা কখন শেষ হবে, একটা সার্টিফিকেট পাবো এই চিন্তা করি। চাকরি এবং এরপরে বিয়ে, স্বামী-স্ত্রীর আনন্দ... এভাবে আর কিছু দিন, সন্তান-সন্তুতি... এরপর নাতী-নাতকু... এভাবে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে হাজির হই। আমাদের সেই ছোট্ট জীবন থেকে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে হাজির হই। শেষে আর কিছুতেই মজা পাই না, আমাদের জীবনের রঙ শেষ হয়ে আসে, জীবনের রঙ পাল্টাতে শুরু করে।

জীবনের শেষপ্রান্তে এসে আপনার স্ত্রীকে নিয়ে যদি আবার সেই একই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যান এবং আপনার স্ত্রী হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যান তখন বলেন, "কী সমস্যা তোমার, তোমাকে নিয়ে কি রাস্তায়ও বেড়োনো যাবে না?" সেই প্রাথমিক বিবাহিত অবস্থার ভালোবাসা আজ নেই, জীবনে ভালোবাসা আজ পীতবর্ণ ধারণ করেছে, ধূসর রঙ ধারণ করেছে।

এভাবেই আমাদের জীবনও একই অবস্থা দিয়ে যায়। ছোট্ট শিশু, কৈশর, যৌবন, বৃদ্ধাবস্থা... এভাবে আমাদের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। এই ক্ষণস্থায়ী জীবন থেকে চিরস্থায়ী জীবনের দিকে। ঠিক আল্লাহ এই উপমাকেই এখানে চিত্রায়িত করেছেন এভাবে... আমাদের ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবন, যেন আমরা এখানে এভাবে পড়ে না থাকি, আমরা যেন ধোঁকায় পড়ে শাস্তিযোগ্য না হই। আমাদের সফলতার জন্য আল্লাহ আমাদের সতর্ক করে দিলেন আমাদের চোখের সম্মুখে দেখা একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দিয়ে। আল্লাহ বলেন,

"তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পারিক অহমিকা এবং ধন ও জনের প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়, যেমন এক বৃষ্টির উপমা, যার দ্বারা উৎপন্ন সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, এরপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও, এরপর তা খড়কুটা হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর মাগফিরাত ও সন্তূষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছু নয়।" [সূরা আল-হাদীদঃ ২০]

--------------------------------------------------------------------------

উস্তাদের Happiness Fun and Pleasure লেকচার থেকে অনুপ্রাণিত।

0 comments
Labels: , , , ,

ইসলামের দাওয়াহ অন্যের কাছে পৌছানো- কী দিয়ে ?

অনেকেই আমরা দাওয়াহকে হালকা করে দেখি। আমরা কি জানি...

রাসূল (সা) এর দাওয়াহর বা মানুষকে ইসলামের প্রতি আহবানের জন্য একটা অন্যতম বড় মূলনীতি ছিল, যা তাঁকে শক্তি যোগান দিতো - সেটা ছিল তাঁর চরিত্র। তিনি সৎ ছিলেন, সবার নিকট বিশ্বস্ত ছিলেন, সবাই তাঁকে সত্যবাদী হিসেবে জানতো। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ছিল, সমাজ তাঁর উপর আস্থা রাখতো, সবাই তাঁর উপর বিশ্বাস রাখতো। আমাদের ব্যক্তিগতভাবে যদি এসব যোগ্যতা না থাকে বা সমাজে যদি আমাদের এসব গুণাবলী না থাকে, তাহলে আমরা সমাজে উচ্চ আদর্শের কথা বলতে পারবো না।

একজন ব্যক্তি প্রতিদিন অফিসে দেরি করে আসে, তাহলে সে যতই নিয়মানুবর্তিতার বিষয়ে কথা বলুক না কেন, সেটার কোন মূল্য নেই, সেটা অর্থহীন। এটা এক প্রকার কৌতুকে পরিণত হয়।

অথচ দিনশেষে আমাদেরকে কোন উচ্চ আদর্শের কথা প্রচার করতে হবে। ইসলামের প্রতি আহবান করা বা দাওয়াহ যদি আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য হয় তবে এর মধ্যে ন্যায়বিচার, নৈতিকতা, নৈতিক আদর্শ, মানবতার প্রতি আন্তরিকতা - এগুলো যদি আমরা প্রদর্শন না করি আমাদের নিজেদের মধ্য দিয়ে এবং আমরাই যদি এমন হই যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করি সর্বশেষে, ধৈর্য ধারণ করি সবার পরে - অর্থাৎ এসব প্রাথমিক ও মৌলিক গুণাবলী প্রকাশে আমরা অন্যদের চাইতে দেরিতে করি তাহলে কীভাবে আমাদের উচ্চ আদর্শের কথা ফলপ্রসূ হবে? অথচ রাসূল (সা) এর এসব গুণাবলীকে যে কেউ মূল্যায়ন করতো, এমনকি তাঁর এসব গুনাবলীকে ইসলামের পূর্বে ও পরেও কুফফাররা ব্যাপকভাবে মূল্যায়ন করতো। ইসলাম আসার পূর্বেই রাসূল (সা) এর এসব বৈশ্বিক গুণাবলী ছিল। এসব গুণাবলীর অধিকারী হতে মুসলিম হতে হয় না।

আপনার যদি এসব গুণাবলী না থাকে, তবে দাওয়াহর কথা ভুলে যান — আপনি কী দিয়ে দাওয়াহ দিবেন? এগুলো হল দাওয়াহ দেওয়ার মূল উপাদান।

আমাদের উদ্দেশ্য হল ইসলামের দাওয়াহ অন্যের কাছে পৌছানো, কাউকে ইসলামে ভিড়ানো নয়। আর এজন্য আমাদেরকে এসব গুণাবলী দিয়েই দাওয়াহ দিতে হবে।

------------------------------------------------------------------------------

উস্তাদের "How To Give Dawah" লেকচার হতে অনুপ্রাণিত

0 comments
Labels: , , ,

যতই জ্ঞানী হবেন ততই বিনয়ী হবেন

আমাদের মধ্যে কিছু লোক আছেন যারা বিভিন্ন সেমিনার, প্রোগ্রাম বা হালাকায় যান এবং বিভিন্ন ধরণের জ্ঞানার্জন করেন। তারা মনে করেন তারা এগুলো জানেন এবং মনে করেন যে এগুলো দিয়ে অন্যদের সাথে ডিবেট করা যাবে। তারা অন্যদের ব্যাপারে বলতে থাকেন "ঐ ব্যক্তি তো বুঝেই না, এই আয়াত, হাদীস, প্রমাণ, রেফারেন্স জানেনই না"। এভাবে অনেক রেফারেন্স আপনি জানেন কিন্তু এগুলো ব্যবহার করছেন আপনার বিপরীত পক্ষকে বলের মত ছুড়ে ফেলার জন্য। আপনি এসব জ্ঞানার্জন করছেন অন্যকে ডিবেটে পরাজিত করার জন্য।

সুতরাং আপনি যেই জ্ঞানার্জন করছেন তা ‘বিনয়ী বা বিনম্র’ হওয়ার জন্য নয় বরং ‘বিনয়ী বা বিনম্রভাবকে দূরীভূত করার জন্য’।

অথচ এটা বিশ্বাসীদের নয়, বরং অবিশ্বাসীদের বৈশিষ্ট্য। অবিশ্বাসীরা জ্ঞানার্জন করে নিজেদের নামের পাশে টাইটেল যোগ করার জন্য এবং দেখে থাকবেন তারা সাধারণত তাদের নাম বলার আগেই বলে বসেন 'আমি ডক্টর, এমফিল, এই টাইটেল, সেই টাইটেল' ইত্যাদি ইত্যাদি। এভাবে বুঝাতে চায় যে আমার জ্ঞান আপনার চাইতে বেশি। এটা সকলের জন্য সত্য না হলেও অনেকের জন্যই সত্য।

কিন্তু ইসলামী দ্বীনি পদ্ধতি হল আপনি যতই জ্ঞানী হবেন ততই বিনয়ী হবেন। কিন্তু আপনার জ্ঞান যদি জাজমেন্টাল হয়, অন্য স্কলারদের প্রতি বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার জন্য হয়, তবে এটা অবিশ্বাসীদের চাইতে কি তফাৎ হল?

নিজেদের এভাবে বড় ভাবার কারণ কি জানেন? - তাওহীদের অভাব। যেখানে আল্লাহ থাকে না সেখানে তাওহীদের পরিবর্তে ভিন্ন কিছু প্রতিস্থাপিত হয় - আপনার ইগো বা অহংকার সেই স্থান দখল করে। অথচ আপনার জানা উচিৎ ছিলঃ

“প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির উপর আছে অধিকতর জ্ঞানী সত্তা।” [সূরা ইউসুফঃ ৭৬]

-------------------------------------------------

- উস্তাদ নুমান আলী খানের ‘Intellectual Humility’ লেকচার হতে

0 comments
Labels: , , ,

শয়তানের পথভ্রষ্টতা থেকে বাঁচার উপায়

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

[উস্তাদ নুমান আলী খানের সূরা আরাফের ১৭ নং আয়াতের তাফসীর থেকে অনুপ্রাণিত]

"অতঃপর আমি অবশ্যই (পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে) আমি তাদের সম্মুখ দিয়ে, পেছন দিক দিয়ে, ডান দিক দিয়ে এবং বাম দিক দিয়ে তাদের কাছে আসব। আর আপনি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ বান্দারূপে পাবেন না।" (সূরা আরাফঃ ১৭)

শয়তানকে যখন আদম আলাইহিস সালাম এর ব্যাপারে আল্লাহর আদেশ মান্য করল না, আল্লাহর আদেশের বিরোধিতা করল, অহংকার করল আল্লাহর আদেশের ব্যাপারে একজন মানুষের প্রতি, তখন আল্লাহ শয়তানকে বললেন বেরিয়ে যাও এখান থেকে, তুমি পাপী, তুমি আমার আদেশ মানোনি।

তখন শয়তান শপথ করে বলল আমি অবশ্যই, অবশ্যই আপনার বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করার জন্য তাদের পথে বসে থাকব যতক্ষণ না আমি তাদের পথভ্রষ্ট করতে পারি।

এখানে ১৭ নং আয়াতে তার আক্রমনের কথা তার নিজের ভাষায়ই আল্লাহ বলেছেন সে শয়তান প্রচন্ড শপথ করে বলল, যতক্ষণ লাগুক না কেন সে বসে থাকবে সৎ বান্দাদের পথে এবং আক্রমণ করবে ৪টি দিক দিয়ে — ডান, বাম, সম্মুখ ও পেছন দিক দিয়ে।

এখানে কেবল একটি দিক বাদ রয়ে গেছে। তা হল ‘উপরের দিক’। কেন উর্ধ্ব বা উপরের দিক বাদ?

স্কলাররা বলেছেন কারণ এটা হল ‘ওহী’ আসার দিক, ‘আল্লাহর বাণীর দিক’, ‘আল্লাহর দিক’। আর ‘ওহী’ বা আল্লাহর বাণীকে শয়তান কিছুই করতে পারে না, শয়তান আল্লাহর বাণীকে ধারণ করে, এমন ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করতে পারে না।

যেহেতু শয়তান চতুর্দিক থেকে আঘাত করবে বলেছে এবং একটি দিক দিয়ে সে পারবে না সে নিজেও জানত, কারণ আল্লাহর ক্ষমতার কাছে তার ক্ষমতা টিকবে না, তাই আমরা যদি আল্লাহর কাছে চাই (দোয়া করি), আল্লাহর বাণীর দিকে ফিরে যাই (কুর'আনের কাছে), আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি (আল্লাহর পানে চেয়ে), আসমানের দিকে আল্লাহর পানে আশ্রয় চাই, তবে শয়তান এই দিক দিয়ে কখনই আক্রমন করতে পারবে না আর আমরাও শয়তান থেকে বেঁচে থাকতে পারব, তার ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকতে পারব।

সুতরাং যত পারুন দুআ করতে থাকুন, ঐ আসমান থেকে আসা কুর'আন পড়তে থাকুন, ঐ আসমানের মালিকের নিকট সালাতের মাধ্যমে চাইতে থাকুন কারণ শয়তান এদিক দিয়ে কোন আক্রমন করতে পারে না।

ইবলিস কোন কোন দিক থেকে মানুষের কাছে আসবে এইভাবে বলে দিয়েছিল...

"এরপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে।" (সূরা আল-আ'রাফঃ ১৭)

একটি দিক বাদ গেল - উপর থেকে। তার মানে, উপর থেকে যা মানুষের জন্য আসে ঐ ব্যাপারে শয়তান অসহায়। যেমন কুরআন।

এই আয়াতে কিছুক্ষণ পর আল্লাহ আরেকটি জিনিসের কথা বলেছেন যেটি উপর থেকে আসে। আর সেটি হলঃ

"হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি।" (সূরা আল-আ'রাফঃ ২৬)

সুবহানাল্লাহ, পোশাকও আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এই ব্যাপারে একটু গাফলতি করলে শয়তান সুযোগ পেয়ে যায়। সেই গাফলতিটি কী? পোশাকের শালীনতার ব্যাপারে ইসলামের বিধানসমূহ উপেক্ষা করা।

0 comments
Labels:

সুরা তাকাসুর, সুরা আসর এবং সুরা হুমাযাহ ---- সুরার নিবিড় সম্পর্ক

সুরা তাকাসুর, সুরা আসর এবং সুরা হুমাযাহ ---- এই তিনটি সুরার পরস্পরের ভেতর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

সুরা তাকাসুর -এ আল্লাহ'তালা বিবরণ দিচ্ছেন যে, মানবজাতি বিভ্রান্তির ভেতর আছে। দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও স্বার্থ পূজার কারণে মানুষ বেশী বেশী ধন-সম্পদ আহরণ, পার্থিব লাভ, স্বার্থ উদ্ধার, ভোগ, প্রতিপত্তি, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভ এবং তার মধ্যে প্রতিযোগিতামূলকভাবে একজন আর একজনকে টপকে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। আর এসব অর্জন করার ব্যাপারে অহংকারে মত্ত থাকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত। তাই যখন তারা অনুধাবন করতে পারে ততক্ষনে তাদের কবরে যাবার সময় চলে আসে। যে বিষয়টি এই সুরায় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে তা হল, 'বিভ্রান্ত হয়ো না, বরং সময় থাকতেই সাবধান হও কারণ হাতে সময় অনেক কম'। এদিকে 'সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে' ---- এটাই হচ্ছে সুরা আসর এর মৌলিক শিক্ষা। "সময়ের কসম। মানুষ আসলে বড়ই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে"। কিন্তু এই স্বল্প সময়কে যদি মানুষ নিজ কল্যাণে কাজে লাগাতে না পারে তাহলে তার জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ সর্বনাশ। এবং এই নিদারুণ সর্বনাশের ভয়াবহতা সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় সুরা হুমাযাহ -তে। এটি এই তিনটি সুরার পরস্পরের ভেতর যৌক্তিক সম্পর্ক এর একটি ধারা। 

উপরন্তু সুরা আসর এর মুখ্য নির্যাস হচ্ছে উল্লেখিত আয়াত "মানুষ আসলে বড়ই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে"। একটা সার্বজনীন বক্তব্য এই আয়াতে ফুটে উঠেছে। আর এই ক্ষতির পরিমাণ কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এর তীব্রতা কি ভয়ংকর হতে পারে, একজন মানুষের জন্য এটা যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের ক্ষতি ---- তার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে সুরা হুমাযাহ -তে। অনেক স্কলারদের মতে দোযোগের আগুনের ভয়াবহতম বর্ণনা এই সুরাতে বিবৃত হয়েছে। কারণ বিশেষভাবে 'নারুল্লাহ' শব্দটির ব্যবহার।

কুরআনে একমাত্র এখানে ছাড়া আর কোথাও জাহান্নামের আগুনকে আল্লাহর আগুন বলা হয়নি। এখানে এই আগুনকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করার মাধ্যমে কেবলমাত্র এর প্রচণ্ডতা ও ভয়াবহতারই প্রকাশ হচ্ছে না। বরং এই সঙ্গে এও জানা যাচ্ছে যে, দুনিয়ার ধন-সম্পদ লাভ করে যারা অহংকার ও আত্মম্ভরিতায় মেতে ওঠে তাদেরকে আল্লাহ‌ কেমন প্রচণ্ড ঘৃণা ও ক্রোধের দৃষ্টিতে দেখে থাকেন। এ কারণেই তিনি জাহান্নামের এই আগুনকে নিজের বিশেষ আগুন বলেছেন এবং এই আগুনেই পাপীদেরকে নিক্ষেপ করা হবে।
অধিকন্তু সুরা হুমাযাহ হচ্ছে জুজ আম্মাহ এর এবং ধারাবাহিকতার দিক দিয়ে কুরআনের এর সর্বশেষ সুরা যেখানে আখিরাত সম্পর্কে সরাসরি আলোচনা করা হয়েছে।

0 comments