শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Labels: , , ,

আমরা ইবাদাত কেন করি? ইবাদাতের উদ্দেশ্য

●|● আমরা ইবাদাত কেন করি? ●|●
ইসলাম কয়েকটি নীতির সমষ্টি যাকে বলা হয় উসুল। আমরা এই নীতিগুলো কোথা থেকে পাই? আমরা এই নীতিগুলো পাই কুর’আন থেকে। এই নীতিগুলো কী? খুবই সোজা – কুর’আন আপনার ব্যক্তি জীবনে কী আনতে চায়? কী কী গুণ আপনার থেকে আশা করে? আমাকে বলুন তো কুর’আনের মতে, কী কী গুণ থাকা উচিত আমাদের মধ্যে? যে গুণগুলো আল্লাহ চান আপনার ব্যক্তি জীবনে প্রকাশ পাক। কী কী হতে পারে?

দয়া, ধৈর্যশীলতা, তাকওয়া, যিকির, নম্রতা, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সততা ইত্যাদি। এগুলো হল ইসলামের উসুল। যিকির, তাকওয়া, ধৈর্যশীলতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ভালবাসা ইত্যাদি ইসলামের উসুল। আপনি কীভাবে জানবেন ইসলামের উসুল কী? আপনি কুর’আনের ঐ আয়াতগুলো দেখুন যেগুলোতে বলা হয় ‘ওল্লাহু উহিব্বু…’ ‘আল্লাহ ভালোবাসেন…’ এরপর যা আসে। যেমন ‘ওল্লাহু ইউহিব্বুস সাবেরিন’, অথবা মুত্তাকিসহ আর যে সব গুণ তিনি ভালবাসেন। আর আছে ‘আল্লাহু মা’আ…’, ‘আল্লাহ সাথে আছেন…’ এরপর যেসব গুণের কথা বলেন ঐসব গুণ হল ইসলামের উসুল।
আরও আছে ‘লা’আল্লাকুম…’, ‘যাতে করে তোমরা…’ তাকওয়া অর্জন করতে পার, চিন্তা করতে পারও, স্মরণ করতে পার। এগুলোই হচ্ছে ইসলামের উসুল। ইসলাম চায় আপনি যেন স্মরণকারী, কৃতজ্ঞ, ধৈর্যশীল ইত্যাদি হন। এইসব গুণ হল ইসলামের মূল উপাদান, আর কুর’আন চায় এই সব গুণ আপনার আমার মাঝে যেন আসে।
এখন এই গুণসমূহ কোন বস্তু নয়, এইগুলো আইডিয়া – অবস্তুগত ব্যাপার, তাই না? এসব গুণাবলী অবস্তুগত বিষয় কিন্তু কীভাবে আপনি ঐসব গুন নিজের জীবনে আনবেন? এই জন্য আল্লাহ কিছু বড় বড় আদেশ দিয়েছেন আমাদের বাস্তবায়ন করতে (যেমন সালাহ, সাওম)। প্রত্যেক বড় বড় আদেশসমূহ ঐসব গুণাবলীকে শক্তিশালী করে যেসব গুণ আমাদের মধ্যে থাকা উচিত।

এখন আমাকে কিছু বড় বড় আদেশের কথা বলুনতো। হ্যাঁ, নামাজের কথা আল্লাহ বলেছেন, ‘আকিমুস সালাতি লি যিকরি’, ‘সালাহ প্রতিষ্ঠা কর যেন আমাকে স্মরণ করতে পার’। আল্লাহকে স্মরণ করা একটা মৌলিক গুণাবলী, তাই না? হুম, অবশ্যই । এখন এই গুণটি অর্জন করার জন্য বাস্তব উপায় কোন পদ্ধতি? সালাহ এর মাধ্যমে।
তাকওয়া কি মৌলিক গুণাবলী? তাকওয়া তো উসুলের মধ্যে একটি, তাই না? আল্লাহ বলেছেন,
‘কুতিবা আলাইকুমুস সিয়াম কামা কুতিবা আলাল্লাযিনা মিন কাবলিকুম লাআল্লাকুম তাত্তাকুন’।
‘সিয়াম পালন কর যেন তাকওয়া গুণটি অর্জন করতে পার’।

অন্যকথায়, তাকওয়া অবস্তুগত একটি বিষয়, কিন্তু বাস্তবে কীভাবে এই গুণটি আমার নিজে মধ্যে নিয়ে আসবো? এর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অনুশীলন দেওয়া হয়েছে যা করলে আপনি তাকওয়া গুণটি নিজের মধ্যে নিয়ে আসতে পারবেন। এই অনুশীলন হল রোযা রাখা। বুঝতে পেরেছেন?
অতএব, ইসলামের বিভিন্ন ইবাদতগুলো বা আনুষ্ঠানিকতা ঐসব গুণাবলীকে শক্তিশালী করার জন্যে। বুঝতে পেরেছেন, আমি আবার বলি সহজ ভাষায়, ইসলামের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা (সালাহ, সাওম, যাকাত ইত্যাদি) ঐসব গুণাবলীকে (তাকওয়া, ভ্রাতৃত্ব, সত্যবাদিতা …) শক্তিশালী করার জন্যে।

এটাই হল আমাদের দ্বীনের মূল বিষয়। আরও অনেক বিষয় আছে যা আজকে বলা সম্ভব হচ্ছে না। এখন উম্মাহর সংকট কোথায় জানেন? এখন ইবাদাতের আনুষ্ঠানিকতা আছে, ইসলামের ইবাদাতের আনুষ্ঠানিকতা ভালোই জীবিত আছে অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকতা আমাদের মধ্যে যে গুণগুলো নিয়ে আসার কথা ছিল তা এখন একদমই নেই।
আপনারা আছেন আমার সাথে? আর এখানেই সমস্যা। ফিক্‌হ (মাসআলা মাসায়েল) এর বই আপনাদের কী শেখায়? কীভাবে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। ফিক্‌হ এর বই কী শেখায় না? ঐ আনুষ্ঠানিকতা আপনার জীবনে কী গুণ আনার কথা ছিল। আপনি ঐটা কোথা থেকে পাবেন? আপনি এটা পাবেন কুর’আন থেকে। অনেকেই কুর’আন পড়ে শুধুমাত্র আদেশ-নিষেধ বের করার জন্যে। ব্যস, এতটুকুই। এ কাজ করলে আপনি শুধু তাই পাবেন। এভাবে করলে আপনি একটা ধর্ম পাবেন যা শুধু একগাদা নিয়ম-কানুনের সমষ্টি। কিন্তু এগুলো শুধুই নিয়ম-কানুন না।

প্রত্যেক নিয়ম-কানুনগুলোর উদ্দেশ্য আছে। এই নিয়ম-কানুনগুলো আপনার জীবনে গুণ আনার কথা। আপনি যদি জানেনই না যে আপনি কেন নামায পড়ছেন, তাহলে এটি খুবই স্বাভাবিক যে একজন টিনএজার (যুবক) এসে আমাকে বললে, “আমার আম্মু খালি আমাকে নামায পড়তে বলে, আর আমি জানি না কেন নামায পড়তে হয়।” আমি বলি না ‘আসতাগফিরুল্লাহ ইয়া আইউহাল কাফের! ইয়া মুরদাত!

মনে মনে বলতে পারি হা হা হা , কিন্তু আমি এসব কিছু বলি না। কেন জানেন? এটা তার দোষ নয়! কারণ তাকে কখনও বলা হয় নি এই আনুষ্ঠানিকতা সরাসরি ঐ গুণের সাথে সংযুক্ত যা আল্লাহ চেয়েছেন তার মধ্যে আসুক। এই কথা আমি যদি তাকে বলি তার থেকে আরও বেশী কাজে দিবে। কার কথা বলেন তো? আল্লাহর।

আল্লাহই সরাসরি তাকে বলুক, কুর’আনই তাকে বলুক। এরপর সে ঠিক থাকবে একদম। সে জীবিত থাকবে। আমাদেরকে মানুষদের মাঝে উসুল ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে উসুলকেও পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে ফেলেছি। আমাদের বলা হয় উসুল হল আকীদার বই, কিছু পরিভাষা। ভালো কথা, এগুলো কে ঠিক করেছে? তুমি কি আল্লাহর চেয়ে ভালো জানো? আমার ৭ মিনিট সময় আছে আমি বক্তব্য গুছিয়ে আনি।
প্রথম কথা, আমাদেরকে ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। আমাদেরকে স্বীকার করতে হবে বেশ কিছু ভালো কাজ হচ্ছে মুসলিমদের মধ্যে।

দ্বিতীয় কথা, আমাদেরকে কুর’আনের মূল বক্তব্যের সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। আর এই কাজকে সহজ করে দিতে হবে। আমাদেরকে পুনরায় কুর’আনের সাথে বন্ধন তৈরি করতে হবে। যদি আমরা মানুষ হিসেবে পুনরায় উজ্জীবিত হতে চাই।

আমরা আবার সভ্য হতে পারবো না যদি ঐ বই, যে বই বর্বর বেদুঈন আরবদেরকে, যারা ১০ বছর আগে মরে যাওয়া ছাগলের কারণে একে অপরকে হত্যা করার জন্য তৎপর থাকত, ওদেরকে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে সভ্য জাতিতে পরিণত করেছিল। যতক্ষণ ঐ বইকে ঘিরে আমাদের চিন্তাভাবনা পরিচালিত না হয়, আমরা কখনও সভ্য হতে পারব না। আপনি ঘুরে আসেন সৌদি, দুবাই , কাতার , পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা মিশর, আপনি ঘুরে আসেন। খুবই কষ্ট হয় বলতে এগুলো সভ্যদেশ। সত্যি কথা বলতে গেলে খুব কষ্ট বলা।

0 comments
Labels: , , ,

ধৈর্য ও তার পুরস্কার

“ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”  
ইন্না লিল্লাহি = কোন সন্দেহ নেই, আমরা আল্লাহ্‌রই জন্য। 
ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন = এবং আমরা একমাত্র তার কাছেই ফিরে যাব। অর্থাৎ আমাদেরকে আমাদের মালিকের কাছেই ফিরিয়ে দেয়া হবে।

বিপর্যয়ের সময় এই আয়াতটি কেন গুরুত্বপূর্ণ ?
আমাদেরকে এর হিকমা সম্পর্কে ভাবতে হবে যে যখনই কোন বিপদ আপদ আসে, কেন আমরা “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” বলব? যখন আপনি ফোনে কোন খারাপ খবর শুনলেন, কেন আপনি সঙ্গে সঙ্গে বলেন “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”? এখন প্রথমে বুঝতে চেষ্টা করুন যে, আপনি যদি এটা বলেন তাহলে কুরআন আপনার জন্য একটি পুরস্কার বরাদ্দ রেখেছে। কুরআনে আপনার জন্য একটি পুরস্কার রয়েছে। প্রথমে আমি আপনাদের সাথে সেই পুরস্কারটি শেয়ার করতে চাই। কি সেই পুরস্কার? ঠিক আগের আয়াতটিতে আল্লাহ আদেশ করেছিলেন মুমিনদেরকে অভিনন্দন জানাতে। এখানে আদেশটি হলো : 'আল আমর ফিল মুফরাদ'। এখানে বহুবচন وبشروا الصابرين বলা হয়নি বরং বলা হয়েছে وبشر الصابرين যা একবচন।এখানে আদেশটি একবচনে ব্যবহৃত হয়েছে। আর যখন আল্লাহ পাক শুধু একজনকে আদেশ করছেন, তখন এটি আমাদের নবী (সা) এর উপর সরাসরি আদেশ।


 অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার নিজের মুখ থেকেই ধৈর্যশীলদের অভিনন্দন জানাবেন। আর এর পরের আয়াতটিতে তিনি বলছেন যে, যারা “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” বলছে বিপদের সময়ে (আল্লাহ পাক আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন), যখন আমরা কেয়ামতের দিনে দাঁড়িয়ে থাকব, আমরা যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হই যাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে অভিনন্দন জানাবেন! এই আয়াতটি এটাই বলছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে তাদেরকে অভিনন্দন জানাবেন যারা এই কাজটি করবে। আর আমরা অবশ্যই তাঁর কাছে থেকে অভিনন্দন পেতে চাই। যখন আমাদের পরিবার আমাদের অভিনন্দন জানায় তখন আমাদের এক ধরনের অনুভূতি হয়, আবার যখন স্কুলের প্রিন্সিপাল অভিনন্দন জানায় তখন আমাদের ভিন্ন অনুভূতি হয়, যখন ভার্সিটির ডিন আমাদের অভ্যর্থনা জানায় তখন আবার অন্য রকম এক অনুভূতি।আর যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওই ধৈর্যশীলদের অভ্যর্থনা জানাবেন, আল্লাহ পাক তাঁকে আদেশ করেছেন তাদের অভিনন্দন জানাবার জন্য, আমরা অবশ্যই তাদের মাঝে একজন হতে চাই। এটাই সেই পুরস্কার।

এখন আমরা “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” এ ফিরে যাই। কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। আমি জানি, আপনাদের কারও কারও সমস্যা হয়ত এর চেয়ে আরও অনেক অনেক বড়, এটা শুধু আমি একটি উদাহরণস্বরূপ দিচ্ছি আমার কল্পনা থেকে। আপনারা নিজেদের ব্যাপারেই ভাবুন এই উদাহরণ গুলোর পরিপ্রেক্ষিতে। ধরুন আমি একটি প্রাইভেট কার ড্রাইভ করছি। একদম নতুন কেনা। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই গাড়িতে কোন একটা সমস্যা দেখা গেল। বাধ্য হয়ে গাড়িটা সাইড করে রাস্তার পাশে রাখতে হল। প্রচন্ড রাগ হল আমার, অনেকগুলো টাকা দিয়ে গাড়িটা কিনলাম। কিভাবে হতে পারে এমন কিছু? জরুরি কাজটা আজ মিস হয়ে যাচ্ছে। এই গরমে জ্যামের মাঝে আটকে আছি, ওইদিকে এসিটাও ঠিকভাবে কাজ করছেনা। এই সবকিছু নিজের মনে ভাবছি।

কিন্তু একজন সত্যিকারের মুমিন হিসেবে যেটা ভাবা উচিত, তা হল “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”। কেন? কারণ আমি নিজেকে মনে করিয়ে দিচ্ছি, গাড়িটার উপর আমি বিরক্ত কারণ আমিই এটার মালিক। গাড়িটা আমারই। কিন্তু আমি নিজেকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে আমি আসলে কিছুরই মালিক নই, কোন কিছুই আমার সম্পদ নয়। বরং আমি নিজেই অন্য কারও সম্পত্তি। আমি একমাত্র আল্লাহর, তিনিই আমার মালিক। কোন সন্দেহ নেই, আমি তাঁরই জন্য। কিভাবে আমি তাহলে অভিযোগ করবো কিছুর ব্যাপারে? আমিতো কিছুরই মালিক নই!

মানুষ তখনই রেগে যায় যখন সে তার প্রাপ্য কিছু আশা করে, যখন আমার কিছু পাওয়ার কথা, পাওয়া উচিত। যখন আমাদের ফোন ঠিকভাবে কাজ করেনা, গাড়িটা ঠিকভাবে কাজ করেনা, লাইটটা অন হচ্ছে না। যখন প্রাপ্য কিছু আমরা না পাই, তখনই আমরা রেগে যাই। অথচ এই আয়াতটিতে আমরা বলি, “ইন্না লিল্লাহ”(আমরা আল্লাহর জন্য)। আমরা মেনে নেই, যে আসলে আমাদের প্রাপ্য বলতে কিছুই নেই। আমি তো আল্লাহরই জন্য, তিনি আমার মালিক। সবকিছু তাঁর প্রাপ্য, আমার নয়। এটি সব কিছুকে শান্ত করে দেয়। তখন এই দুনিয়ায় আমরা যাই পাই, সবকিছুই উপহারস্বরূপ। এমন কিছু নয় যা আমরা অর্জন করি , বরং উপহারমাত্র। আর যখন কিছু পাইনা, তখন বুঝতে পারি যে আরে এটাতো আমার প্রাপ্যই নয়।

আমরা আমাদের হাতকে খুব স্বাভাবিক কিছু বলে মনে করে নেই, আমাদের চোখকেও তেমনি স্বাভাবিক কিছুই মনে করি, আমাদের নাককেও খুব স্বাভাবিক কিছু মনে করি, আমাদের জিহবাকে খুব স্বাভাবিক কিছু মনে করি। আমি যে আপনাদের সামনে দাড়িয়ে কথা বলছি, আমি যে আপনাদের সাথে কথা বলতে পারছি এই সব কিছুকেই আমরা একদম স্বাভাবিক কিছুই মনে করি। কিন্তু এই জিহবার মালিক তো আমি নই। আমি তো কাউকে এই জন্য কোন টাকা দেইনি। একমাত্র আল্লাহ পাকই এটার মালিক। তাই যদি কখনও তোতলামি চলে আসে, “ইন্না লিল্লাহ”।

আর এই সমস্যাটার দ্বিতীয় অংশ, আল্লাহ পাক কিভাবে আমাদের ধর্মে সকল সমস্যার সমাধান দেন। কী জ্ঞানগর্ভ নির্দেশনাই না তিনি দান করেন!! যখন আমরা বিপদে পড়ি। দ্বিতীয় অংশ হল “ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”। কোন সন্দেহ নেই, তার কাছেই আমরা ফিরে যাব। কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ? কারণ আমি আপনি এই মুহূর্তে যেই বিপদেই থাকি না কেন, সেটা চিরস্থায়ী নয়! হোক সেটা টাকা পয়সার সমস্যা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, পরিবার নিয়ে সমস্যা, ইমোশনাল সমস্যা, শারীরিক সমস্যা, যেটাই হোক। কোনটাই চিরস্থায়ী নয়। কারণ আমি,আপনি,আমরা নিজেরাই চিরস্থায়ী নই। যখন আমরাই স্থায়ী নই, তাহলে আমাদের সমস্যাগুলো কিভাবে স্থায়ী হবে? আমাদের নিজেদেরই আল্লাহ পাকের কাছে ফিরে যেতে হবে। এই সমস্যাটা কিছুই নয়, বরং ভুলে যান এটি, কারণ আমরাই তো থাকবনা। শুধু যে এই ঝামেলাগুলো থাকবে না তা নয়, আমরাই থাকব না। আমাদেরই ফিরে যেতে হবে আল্লাহ পাকের কাছে।

সবকিছু সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করুন । আর তখনই আপনি বুঝতে পারবেন আসলে আপনার কি নিয়ে চিন্তা করা উচিত। সার্বিক দিক থেকে সবকিছু বিচার না করলে যেকোন ভুল ব্যাপারে আপনি মনোনিবেশ করতে পারেন। আমার শিক্ষক সবসময় এই উদাহরণটি দিতেন যে, যদি কোন একটি বিল্ডিঙের ভিতরে থাকেন, যদি সেখানে আগুন লাগে, আর তখন আপনি কারও সাথে ঝগড়া করছেন কোন দেয়ালে কোন রঙ করা যায় তা নিয়ে?? ''আমার মনে হয় নীল রংটাই ভালো লাগছে।'' জনাব! বিল্ডিঙে আগুন লেগেছে! আমাদের এখন সবার আগে পানি দরকার। আগুন নিভাতে হবে। এখান থেকে বেরিয়ে যেতে হবে।


যখন আমরা পুরো প্রেক্ষাপটটা বুঝব যে আরও বড় সমস্যা আছে। আর সেই সমস্যাটি হল যে আমরা এখনো মেনে নেইনি যে আমরা আল্লাহ পাকের জন্য। হয়তো কখনও কখনও আমি আপনি কোন সমস্যার মাঝে দিয়ে এইজন্যই যাই যাতে আল্লাহ পাক আমাদের মনে করিয়ে দিতে পারেন যে আমি-আপনি- আমরা সবাই আল্লাহ পাকেরই জন্য। হয়তো আমি আপনি কোন বিপদের মাঝে দিয়ে যাচ্ছি এইজন্যই যে আল্লাহ পাক আমাদেরকে সেই পুরস্কারটি দিতে পারেন যে আমরা শুধু জিহবা দিয়ে বলব না বরং আমরা মন থেকেই বলতে পারব “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”। শুধু এটাই অনেক বড় এক পুরস্কার। এটা যদি আমরা মনে গেঁথে নিতে পারি, তবে ধৈর্য ধরা তখন সহজ হয়ে যায়। আর যদি আমি আপনি ধৈর্য ধরতে পারি, (আল্লাহ আমাদের ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন।) তবেই আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভ্যর্থনা পাব।


0 comments
Labels: , ,

শ্রবণের গুরুত্ব

আজ আমি আপনাদের সাথে সুরা আনফালের দুটি আয়াত আলোচনা করব।  আয়াত ২১ ও ২২।

এই দুটি আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামীন শ্রবণের গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ বলেন, "আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না,
যারা বলে যে, আমরা শুনেছি, অথচ তারা শোনে না।"
অতএব শুধু শুনলেই হবে না, মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।
এই আয়াতে মনোযোগী শ্রোতা হওয়ার ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আপনারা জানেন যে, আজকাল আমরা মিডিয়ার উপরখুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। আপনি হয়ত একই সময়ে কিছু শুনছেন এবং অন্য কিছু দেখছেন, আবার হয়ত আপনার বাবা-মার কথাও শুনছেন।
আমরা একই সময়ে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে ব্যস্ত আছি, কিন্তু আসলে কোনোটাই মনোযোগ দিয়ে করছি না।
আমাদের এমন ভাবে নিজেদের তৈরি করতে হবে যে, যখন আমরা কিছু শুনব, আমরা যেন তাতে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারি।

আজকাল এটা খুবই সাধারণ ঘটনা যে, এমনকি জুমআহ’র নামাজে, লেকচারে বা ধর্মীয় আলোচনার আসরেও শ্রোতারা মনোযোগ দিচ্ছেন না। এমনকি আপনারা যখন আমার এই লেকচার শুনছেন আপনারা মোবাইলে মেসেজ চেক করছেন। কেউ কেউ হয়ত মোবাইল ঘাঁটছেন বা ফেইসবুক আপডেট করছেন ।এই ভিডিওটিও শুনার সময়ই আপনি হয়ত অর্ধেক মনোযোগ দিয়ে আমার লেকচার শুনছেন। বাকি অর্ধেকটা দিয়ে অন্য কিছু করছেন।
আল্লাহ বলেন, “তাদের মত হয়ো না যারা বলে যে, শুনছি কিন্তু আসলে মনোযোগ দিয়ে শুনে না।” রাসুলাল্লাহকে (সাঃ) তাদের যে সম্মান দেখানোর কথা এখানে তার কথাই বলা হচ্ছে।
তাহলে আয়াতের প্রথম অংশে মনোযোগ দেয়ার কথা বলা হচ্ছে।
প্রথম উপদেশ হচ্ছে যে, “আমরা যখন কারো কথা শুনব…”

দেখুন, এখানে কিন্তু সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি যে, কার কথা শুনব,এখানে এই মুহূর্তে শুধু শিষ্টাচারের কথাই বলা হচ্ছে।
আমাদের ভালো মনোযোগী শ্রোতা হতে হবে। আপনার মা আপনার সাথে কথা বলছেন, ফোন সরিয়ে রাখুন।
আপনার শিক্ষক কিছু বলছেন, ফোনটি সরিয়ে রাখুন। কারণ তা আপনার মনোযোগ কেড়ে নিতে পারে। জানালার দিকে তাকাবেন না। আপনার শিক্ষক যখন কিছু বলছেন, অন্য কাজ করবেন না। শুধুমাত্র মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনুন। যখন আপনার শিক্ষক বলে যে খাতা, কলম, ট্যাব সরিয়ে রাখতে, তখন কথা শুনুন; তখন শুধুমাত্র তাই করুন।

তাদের মত হবেন না, যারা বলে ‘শুনছি’ কিন্তু আসলে শুনে না।
দ্বিতীয় পয়েন্ট হচ্ছে যে, কিছু মানুষ শুনে ঠিকই, কিন্তু উপলব্ধি করে না। আসলে "শ্রবণ" শব্দটি খুবই আকর্ষণীয় সব ভাষাতেই বাংলায় বলুন, বা আরবিতে, ইংরেজিতে, ফার্সিতে কিংবা উর্দুতে। যেমন, আমরা মাঝে মাঝে বলি, “আমি তাকে উপদেশ দেয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে শুনেনি।”
এখানে তাহলে কী বলা হচ্ছে?

বলা হচ্ছে যে, সে শুনেছে ঠিকই, কিন্তু উপলব্ধি করেনি, বা আপনার কথায় কান দেয়নি। অর্থাৎ তার মধ্যে কোনও পরিবর্তন আসেনি। আমি বলার চেষ্টা করছি, কিন্তু তুমি শুনছ না। মানে তুমি আমার উপদেশ মেনে নিচ্ছ না।
কাজেই তাদের মত হবে না: যে বলে যে, “আমি হাজার বার শুনেছি। এই উপদেশ আমি আগেও পেয়েছিলাম।”
অর্থাৎ তারা উপদেশটি বিবেচনাও করে দেখছে না। আপনি উপদেশটি বাস্তবে আপনার নিজের জন্য আসলেই নিচ্ছেন না। শোনা দরকার তাই আপনি শুনছেন। অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার মত, শুধু শুনছে আর কোনই পরিবর্তন হচ্ছে না।
আসলে কি এটা আমাদের সবার বেলাতেই প্রযোজ্য নয়?

আমরা জুম’আহতে যাই, খাতিবের খুতবা শুনি। তিনি যা উপদেশ দেন তার কিছুই কি আমরা আসলে অনুধাবন করি বা কাজে লাগানোর মত করে শুনি? যখন আপনার সাইকিয়াট্রিস্ট, একাউন্টেন্ট বা আপনার ডাক্তার আপনাকে কোনও উপদেশ দেয়, তখন কিন্তু আপনি ঠিকই তা মেনে চলেন। পুলিশ যখন কিছু করতে বারণ করে তখনও কিন্তু আপনি ঠিকই তা মেনে চলেন।

অথচ যখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কিছু বলেন, আপনার পিতা-মাতা কিছু বলেন বা ইমাম যখন বলেন বা এমনকি কুরআনে যা কিছু বলা হয়, আমরা কি আসলেই তা শুনি?
“তাদের মত হয়ো না”

আল্লাহ তা’য়ালা যারা শুনে কিন্তু বাস্তবে শুনে না। তাদেরকে পশুর সাথে তুলনা করেছেন এই আয়াতে।
কেন এই তুলনা? শুধু কি এইজন্যে যে, আল্লাহ তা’য়ালা তাদের উপর রেগে আছেন? আসলে তাদের সাথে খুব মিল আছে এই ব্যাপারে। আপনি যদি কোনও পশুকে কোনও উপদেশ দেন, তার মধ্যে কি কোনও পরিবর্তন আসবে? তাই আল্লাহ বলছেন যে, কোনও ভালো উপদেশ শুনেও যদি তোমার মধ্যে কোনও পরিবর্তন না আসে, তাহলে তোমাকে এই উপদেশ দেয়া আর একটা বানরকে সেই উপদেশ দেয়ার মধ্যে কোনও তফাত নেই। অথবা একটা বিড়ালকে উপদেশ দেওয়ার মত, খুব একটা পরিবর্তন আসবে না উপদেশ দিয়ে।

তাই পরের আয়াতে তিনি বলছেন যে, আল্লাহ তা’য়ালার নিকট সর্বনিকৃষ্ট পশু হচ্ছেال‍‍‍صُّ‍‍‍مُّ ‌الْبُكْمُ
প্রথমে আল্লাহ তাদেরকে পশুর সাথে তুলনা করলেন এবং পরবর্তীতে বললেন যে, সর্বনিকৃষ্ট পশু হলো: যারা শুনতে পায় না বা কথা বলতে পারে না। বধির আর বোবা। ওরা বধির আর বোবা।
আল্লাহ তায়ালা কেন উল্লেখ করলেন যে, তারা কথা বলতে পারেনা? আমি সবশেষে এটাই আপনাদের সাথে আজকে আলোচনা করব।

আপনি যখন কিছু পরিষ্কার করে বা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন না,আপনি কিন্তু সেটা কাউকে বোঝাতেও পারবেন না ভালো করে। ক্লাসে দেখবেন যে শিক্ষক কখনো বলেন যে, ভালো করে শোনো, কারণ কালকে তুমি আমাকে এটা বোঝাবে। আরবিতে একটা কথা আছে, أساء سمعاً فأساء إجابةً” তুমি ভালো করে শোননি, তাই ভালো করে উত্তর দাওনি।
আল্লাহ বলছেন যে, তুমি মনোযোগ দিয়ে না শুনলে সঠিক জবাব দিতে পারবে না।

আমি চাইছি যে, আপনারা এটা খুব ভালো ভাবে চিন্তা করুন। আমি এই মুহূর্তে হয়ত খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু শুনছি না, অথচ আমি ঠিকই কথা বলতে পারছি। কিন্তু হাশরের ময়দানে শুধুমাত্র তারাই কথা বলতে পারবে যারা এই জীবনে ভালো করে মনোযোগ দিয়ে আল্লাহর নির্দেশ শুনেছেন। পরকালে যখন ফেরেশতা এসে জিজ্ঞাসা করবেন যে, “বল তোমার রব কে?” তখন যারা মনোযোগ দিয়ে শুনত, শুধু শুনার জন্য শুনা না যারা অনুধাবন করত, তারাই বলতে পারবেন যে, আল্লাহ আমার রব। যারা আন্তরিকভাবে নেয়নি বিষয়গুলো তারা যদিও বা মুসলিম হয়, তারা তখন জবাব দিতে পারবে না।

তাই আল্লাহ বলছেন যে, সর্বনিকৃষ্ট পশু হলো সেটাই যে কথা বলতে পারে না। তারা অনুধাবন করতে পারছে না, চিন্তাই করতে পারছে না যে, আসলে তারা কী করছে।
আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে চিন্তাশীল হওয়ার তৌফিক দান করুন এবং মনোযোগী শ্রোতা করে তুলুন। এবং আমাদের শক্তি ও ধৈর্য্য ধারণ করার তৌফিক দিন যেন আমরা মেনে চলতে পারি যা শুনি। আমীন।
অনুবাদ করেছেনঃ মুশফিক সালেহীন

0 comments
Labels: , , ,

পর্নোগ্রাফী আত্মা ধ্বংসের হাতিয়ার

●|● পর্নোগ্রাফী আত্মা ধ্বংসের হাতিয়ার ●|●
এরপর আল্লাহ গুরুতর বিষয়টি নিয়ে বলেন। আর এই বিষয় নিয়ে বলেই আসলে আমি আমার কথা শেষ করতে চাচ্ছি। যদিও আরও অনেক কিছু নিয়েই বলা যেত। কিন্তু এই বিষয়টিকে আল্লাহ এত বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন যে বলার মত নয়!
ঠিক যেভাবে, ৩টি আয়াত রয়েছে, “শেষ-বিচারের দিন” নিয়ে। এখন পাচ্ছি,
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ
إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ
فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ
(সুরাহ মাআ’রিজঃ আয়াত ২৯-৩১)
৩টি আয়াত, একই বিষয় নিয়েই, আবারও! একমাত্র অন্য আরেকটি বিষয় যা নিয়ে ৩টি আয়াত এসেছে, কী সেটা? এই তালিকায়, একমাত্র আর কোন বিষয়ে ৩টি আয়াত রয়েছে? –“শেষ-বিচারের দিন”। “শেষ বিচারের দিন এবং শাস্তি”।
আর এরপর, পরবর্তী যে বিষয় নিয়ে ৩টি আয়াত এসেছে, জানেন কী সেটা?
-“বেহায়াপনা”! আর তাদের কথা, যারা কীনা নিজেদের লজ্জাস্থান কে হেফাজত করে।

আমরা বর্তমানে বাস করছি চুড়ান্ত নির্লজ্জ এক পৃথিবীতে। এমন এক পৃথিবী, যেখানে আপনার হাতের মুঠোফোন দিয়েই যেকোন ওয়েবসাইট থেকে যেকোন ভিডিও চালানো যায় অনায়াসেই!
পর্নোগ্রাফী ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে একটি মাল্টি-ট্রিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি!যার উদ্দেশ্য এবং কাজই হল আপনাদের প্রত্যেকেই যেন, কোন না কোনভাবে এসব নোংরামীর ভোক্তা হন, সেটা নিশ্চিত করা। এবং প্রতিটা নারী-পুরুষ ও শিশুর সামনে এইগুলো যেন উন্মোচিত হয়। আর তারা আশা করে আপনিও দেখবেন, আসক্ত হবেন এবং পরিণত হবেন আরও একজন ভোক্তায়!
এটা...এটাই হল আমাদের সমাজকে দেয়া পর্নোগ্রাফীর উপহার।এটা তৈরী করছে অমানুষ, মানুষকে পরিণত করছে পশুতে, যৌনবিকারগ্রস্ত মানুষে। এবং আপনাদের মধ্যেই দূর্ভাগ্যক্রমে কারও কারও এই আসক্তি রয়েছে এবং আপনারা এসব জঞ্জাল অনলাইনে দেখছেন। আপনারা দেখেন আবার নিজেদের বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইস বা অ্যাপ এ সেইভ করে রাখেন এবং এই নিয়ে আপনাদের ভিতরে আর খারাপও লাগেনা। কেননা আপনারা নিজেরাই মনেমনে নিজেদের জন্য এগুলোকে গ্রহনযোগ্য ধরে নিয়েছেন। হয়ত মাঝেমধ্যে আপনার এনিয়ে একটু অনুশোচনা হয়, কিন্তু আবারও ফিরে যান এসবে।

আপনি ভাবছেন, “অন্তত, আমিতো আর কারও ক্ষতি করছিনা, অন্য কাউকেতো দেখাচ্ছিনা। নিজেই দেখছি। এটুকু ঠিকই আছে।” কিন্তু জানেন...আসলে কী হচ্ছে? ভেতরে ভেতরে আপনার আত্মা নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে! আপনার ভেতরে আর আত্মার কীছু বাকী নাই। আপনার সালাত হয়ে গেছে অন্তঃসারশূণ্য। এবং সেসময় আপনি একটুও চোখের পানি ফেলতে পারেন না, কেননা আপনার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় এতটাই কমে গেছে। কারণ হল সেইসব নোংরামী, যা আপনি দেখে আসছেন এতদিন ধরে।তারই ফলাফল। এগুলাই আপনাকে পরিণত করেছে একটা মানুষরূপী পশুতে।যার ফলে, আপনি এখন আর স্বাভাবিকভাবে তাকাতেও পারেন না, যখন একজন নারী আপনার পাশ দিয়ে যায়- আপনি যেন দেখেন একটি মাংসপিন্ড হেঁটে যাচ্ছে।আপনি আর তাকে একজন মানুষ হিসেবে দেখতে পাননা যাঁরও রয়েছে সম্মান পাওয়ার অধিকার। আপনার দুচোখ সর্বদাই নিরীক্ষন করে বেড়াচ্ছে প্রতেককে, প্রতিটা বস্তুকে। সারাটাক্ষন আপনি হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন, চেয়ে থাকেন, চোখ নামিয়ে নিতে আপনার রীতিমত কষ্ট হয়! যখন আপনি সাবওয়েতে কীংবা ক্যাম্পাসে,অথবা যখন কর্মক্ষেত্রে, নয়ত রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, আপনি পারছেননা নিজেকে সংযত রাখতে। হয়ত একটা বিলবোর্ড এর দিকে তাকালেন,আপনি দ্বিতীয়বার ফিরে তাকান, তৃতীয়বার তাকান! এমন একটা সুযোগও আপনি হাতছাড়া করেন না যা দিয়ে আপনার অন্তরটা কলুষিত হয়।আপনি পরিপূর্ন ভাবে একজন আসক্ত ব্যক্তি।
তারপর কীনা আপনি বলেন, “ভাই,সালাতে(নামাযে) খুশু(মনোযোগ)আনব কীভাবে?!”
কোন দুনিয়ায় থাকেন আপনি?? কোন জগতে আপনি বাস করেন??

ভাইয়েরা আমার। বিশেষ করে ভাইদেরকেই বলছি, জানি কিছু বোনেরও এই সমস্যা রয়েছে। এটা একটা অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা। এটা একটা যুদ্ধ। এবং এই যুদ্ধ যেকোন সামরিক যুদ্ধের চেয়েও ভয়ংকর। এটি সেই যুদ্ধ যা কীনা ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের অন্তরকে।এই জিনিস আমাদের ঘর পর্যন্ত প্রবেশের পথ করে নিচ্ছে, রাস্তা বানিয়ে নিচ্ছে।
আচ্ছা, আমিও চাই আমার সন্তানদেরকে এসবের হাত থেকে যতদূর সম্ভব বাঁচাতে। কিন্তু যখন আমার সন্তান স্কুলে যায়, সেটা ইসলামিক স্কুলই হোক না কেন, খুবই উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে যে কেউ একজন, হতে পারে তাদেরই এক বন্ধু, তার আইপড কীংবা অনুরূপ কোন মোবাইল ডিভাইসে ওইসব নিয়ে এসে দেখাবে, “এই দেখ, দেখ সবাই”।
এটা খুবই বাস্তব একটা চিত্র। মোটেই কাল্পনিক কিছু নয়। এজন্য, আমাকেই আমার সন্তানদেরকে প্রস্তুত করতে হবে এই কুৎসিত-কদাকার জগত সম্পর্কে, যার মুখোমুখি তারা হবেই একসময়। এর থেকে পালানোর আর কোন পথ নেই আসলে, কোন মুক্তি নেই। এগুলো সবখানে, সব জায়গায়।

আপনারা ইসলামিক লেকচার দেখছেন ইউটিউবে, নিশ্চয়ই দেখে থাকবেন যে সেখানে যেকোন ভিডিওর পাশ দিয়েই ফলো-আপ ক্লিপগুলো দেয়া থাকে। তারমধ্যে একটা না একটা বাজে জিনিস থাকবেই, একটা কিছু নোংরা জিনিস থাকতেই হবে। আর আমার মনে হয়না এটা নিছক দুর্ঘটনা। এমন না যে, সবকিছুতেই আমি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাই। তবুও আমি মনে করিনা এগুলো এমনি এমনিই হচ্ছে।
আর আপনাদের বেলায় আসলে কী হয়? আপনি একটা ভিডিও দেখছেন, পাশে একটা বাজে জিনিস দেখে ক্লিক করলেন, আবার আরেকটায় ক্লিক করলেন, আবার আরেকটায় ক্লিক করলেন, শেষপর্যন্ত গিয়ে ঐসব জঘন্য কিছু একটা দেখে ফেলেন। তাই হয় আপনাদের সাথে।

وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ (সুরাহ মাআ’রিজ, আয়াত ২৯)
বিশেষত, যখনই লজ্জাস্থান এর ব্যাপার আসে, তারা তা হেফাজত করে। তারা তাদের হায়া/লজ্জাবোধ কে সুরক্ষিত রাখে।
“ভাই, আমার জন্য কী সমাধান? আমার কী বিয়ে করে ফেলা উচিৎ?”
দেখলেন না, ঐদিন যেমন একজন জিজ্ঞেস করল, “আমি কীভাবে এখনই বিয়ে করতে পারি?!”
না রে ভাই, এই জিনিসের সমাধান বিয়ে নয়। আপনি যদি একজন যৌন-বিকারগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে বিয়ের পরেও আপনি তাই থাকবেন। আপনার যদি এখনই লজ্জা না থেকে থাকে, বিয়ের পরেও আপনার লজ্জা থাকবেনা। সত্যি!!
আপনি ভাবছেন, বিয়ের মাধ্যমে আপনার সমস্যা শেষ হবে? না…আপনার সমস্যা বিয়ে নয়।আপনার সমস্যা আপনার আধ্যাত্মিক এবং মানসিক চিন্তাচেতনায়। আপনার সাহায্য দরকার। আপনাকে এসব বন্ধ করতে হবে। আপনার নিজেকে এভাবে কষ্ট দেয়া থামাতে হবে। নয়তো আপনার ভেতরে আর কিচ্ছু অবশিষ্ট থাকবে না।
কদিন আগেই একটা ইমেইল পেলাম, একজন টিনেজ বালক এর থেকে, যে কীনা পর্নোগ্রাফীতে আসক্ত। নামবিহীন মেইল, ১৪/১৫ বছরের টিন-এজার। সে লিখেছে, “আমি নিজেকে মেরে ফেলতে চাই, আমি পারছিনা বন্ধ করতে।আমি ১১ বছর বয়স থেকে এগুলো দেখছি। আমার বাবা-মা কিছু জানেন না”।

আমি এগুলা পড়ি আর কাঁদি। কারণ এই ছেলেতো একা নয়, এরকম লক্ষ লক্ষ মুসলিম ছেলেমেয়ের আজ এই অবস্থা। লক্ষ লক্ষ, লাখ লাখ! আমাদের ওদেরকে সাহায্য করতে হবে। যা কিছু পারি তাই করতে হবে।
এগুলোকে প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের নেই ট্রিলিয়ন ডলারের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা। নেই আমাদের। আর এটা আমার জন্য বলাটাও বাস্তবসম্মত হবেনা যে, এইসব ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ইন্টারনেট এগুলো সব হারাম! এটাই বাস্তব।এগুলো এখন অক্সিজেন এর মতই একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।

আমরা শুধুমাত্র যা করতে পারি, তা হল, আমাদের তরুনদের সাথে এই বিষয়ে পরিপক্ব কথাবার্তা বলতে হবে এবং তাদেরকে শেখাতে হবে, কীভাবে এসব জিনিসকে মোকাবিলা করতে হয়, কীভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, এগুলোর ফাঁদে না পড়ে।

এখানে যারা প্রাপ্তবয়স্ক আছেন, ইন্ডিয়ান মুভি দেখা বন্ধ করুন ভাই! আপনি কেন এসব লেকচার এ অংশগ্রহন করছেন? কথা বলছেন সালাত(নামায)নিয়ে, সালাতের(নামাযের) গুরুত্ব নিয়ে, অথচ নিজেদের সংযম ধরে রাখতে পারছেন না! মা-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী, বোনেরা মিলে একসাথে যা ইচ্ছা দেখছেন, কী না দেখছেন?! আল্লাহ!!
থামুন। বন্ধ করুন এসব।
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ

তারা তাদের লজ্জাস্থান হিফাজত করে। লজ্জাস্থান হিফাজত করা মানেই যে ব্যাভিচার/যিনা না করা তা কিন্তু নয়।এর মানে সেই সকল জিনিস (থেকে বিরত থাকা)যা আমাদের ঐ প্রলোভন এর দিকে ধাবিত করে। ঠেলে নিয়ে যায়। তারা লক্ষ্য করে, তারা রক্ষা করে।তারা জানে (কখন)তাদের সংযম-পালন আক্রমনের কবলে, তারা জানে (যখন) তাদের হায়া/লজ্জাবোধ হুমকির মুখে পড়ে। তারা বোঝে তাদের দূর্বলতা (কীসে) এবং আকাঙ্ক্ষা/চাহিদা সম্পর্কে। এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা আল্লাহই আমাদের ভিতরে দিয়ে দিয়েছেন এবং সেটা আল্লাহ দিয়েছেন সঙ্গত কারণেই। তিনি এটা করেছেন। আর সবার মধ্যেই এই চাহিদা আছে।এটা বলতে আমার কোন দলিল এর প্রয়োজন নেই, জানি আমি।

পুরুষ মানুষ যারা এখানে আছেন, প্রতিদিন প্রতিনিয়তই আপনারা সবাই এই চ্যালেঞ্জ কে মোকাবিলা করছেন। বিশেষ করে এরকম একটা শহরে। অন্তত টেক্সাস আরেকটু বেশী রক্ষনশীল। অনেক বেশী না, কিছুটা বেশী। কিছু শহরে অন্তত এসব কুরুচিকর বিলবোর্ড বা এধরনের জিনিস বসানোর অনুমোদন দেয়া হয়না। আসলে তারা বিলবোর্ডই টাঙ্গানোর অনুমোদন দেয়না। কিন্তু সেটা হয়ত দ্রুতই বদলে যাবে, কেননা শেষপর্যন্ত যে সাম্রাজ্যবাদেরই জয় হয়!তাই না?!
কথা হচ্ছে, আপনারা এমন এক শহরে বাস করেন যেখানে সবই আপনাদের সামনে উন্মুক্ত, কোনকিছুই বাদ নেই। সবকিছুই। আর আপনাদের রীতিমত মরণ-যুদ্ধ করতে হয় নিজেদের বাঁচানোর জন্য।

এই অনুচ্ছেদটিতে এমনকী খুব বেশী বড় লক্ষ্য অর্জনের কথাও বলা হয়নি। এখানে কেবল ন্যুনতম অংশটুকুই এসেছে। আগেই বলেছি আপনাদের,তাই না? এগুলো হল ন্যুনতম, যা না হলেই নয়।আমাদের ন্যুনতম কর্তব্য হল যে আমরা যাবতীয় নির্লজ্জতা/বেহায়াপনা থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে চলবো। নিজেদের ভেতরে এই প্ররোচনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করব। আর আমি জানি, আপনাদেরই কেউ কেউ আছেন যারা এসব বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন, তারপর আবার ফিরে গেছেন, আবারও চেষ্টা করেছেন, আবারও ফিরে গেছেন। আবার ফিরে গেছেন। বারবার ফেঁসে যাচ্ছেন এই চক্রান্তে। জানি আমি, অনেকেরই এমনটি হচ্ছে। আপনারা যুদ্ধ করে যাচ্ছেন এর সাথে। তবে হাল ছেড়ে দিবেন না।হাল ছেড়ে দিবেন না।

আর সেজন্য যা প্রয়োজন করুন...কখনও একা থাকবেন না। সবসময় ভাল বন্ধুর সাথে থাকুন। বাসার বাইরে থাকুন। অন্য কোথাও গিয়ে পড়াশোনা করুন। লাইব্রেরী চলে যান আর সেখানে পড়াশোনা করুন। এমন কোথাও চলে যান যেখানে আপনার আশেপাশে আরও মানুষ থাকবে।কারণ যখনই আপনি একা থাকেন,শয়তান আপনাকে পেয়ে বসে। আর আল্লাহর ভয় যদি আপনার জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে অন্তত মানুষের ভয়ে যদি কাজ হয়। অন্তত নাই মামার চেয়ে তো কানা মামা ভাল?

আপনারা জানেন, এসব কথা অন্যখানে আমি আগেও বলেছি, বাবা-মায়েদেরকে আবারও বলছি, যদি আপনাদের বাসায় কম্পিউটার থেকে থাকে, দয়া করে সেটা যেন ল্যাপটপ না হয়, বাসায় ডেস্কটপ রাখুন। আর মনিটরটা যেন বিরাট বড় হয়, সবচাইতে বৃহৎ যেই মনিটরটা পাবেন! সত্যি সত্যি!! আর এটাও নিশ্চিত করবেন কম্পিউটার যেন রান্নাঘর কীংবা খাওয়ার ঘরে থাকে। বসার ঘরে ব্যবস্থা করবেন না, বাচ্চাদের ঘরে তো নয়ই,এমনকী আপনাদের শোবার ঘরেও না। খাবার ঘরে কম্পিউটার রাখবেন, একদম সব্বাই দেখতে পাচ্ছে এমন দিকে মুখ করে। তুমি হোম-ওয়ার্ক করতে চাচ্ছ?কর। মনিটর এদিকে ওদিকে ঘুরাতে পারবেনা। সবার মুখের সামনেই থাকবে।এভাবেই আপনাকে করতে হবে।বুঝলেন, এভাবেই আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
আপনার ১১ বছরের বাচ্চাকে কখনও স্মার্টফোন দিবেন না। কী ভাবছেন আপনি? ব্যাপারটা মোটেও স্মার্ট নয়।বাচ্চাদের আপনার স্মার্টফোন দিবেননা। আমি কেন এমন দেখি, যে ইসলামিক স্কুলে,ক্লাস টু বা ফাইভের বাচ্চার হাতে আইফোন! আইফোন-ফাইভ!! আমার নিজেরই তো আইফোন-ফাইভ নাই, আর তাদের কীনা আছে! কীসের জন্য? আপনার জানেন, এগুলো কত ভয়ংকর হতে পারে?
إِلَّا عَلَىٰ أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ

তাদের স্বামী/স্ত্রী ব্যতীত এবং তাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত,সেক্ষেত্রে (সংযত না হলে)দোষের কিছু নেই।আল্লাহ বলেছেন,আমাদের এসব আকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং আমরা সেগুলা সম্পাদন করতে পারব,পূরণ করতে পারব।কিন্তু শুধুমাত্র আমাদের বৈধ স্বামী-স্ত্রীর মাধ্যমে।কিন্তু এর বাইরে আমরা কোনকিছুই করতে পারবনা।আরেকটা ব্যাপার, যখন মানুষ ওইসব জঘন্য জিনিসে আসক্ত হয়,অবিরতভাবে ওইসব নিয়েই পড়ে থাকে এবং অতিরিক্ত বেশি পরিমানে সেসবের সংস্পর্শে থাকে, তাদের দাম্পত্য জীবন হয় দূর্বিসহ!তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক সহজেই ভেঙ্গে যায়। ভোগ-সুখ নিয়ে তাদের নিজেদের ভেতরে একধরনের অলীক এবং অবাস্তব ধারণা গড়ে উঠে এবং তখন তারা আর নিজ স্বামী-স্ত্রীর কাছ থেকে সেই সুখ খুঁজে পায়না।ঘরে-ঘরে এগুলো নিয়ে অনেক বড় ফিৎনা হয়,পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়,মুসলিম পরিবার!এগুলাই আমাদের বর্তমান সমাজে হচ্ছে আজকাল।

আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেন,যারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে, তিনি বলেন,
“আমি বর্ণনা করছি যারা সালাত(নামায) প্রতিষ্ঠা করে”। এগুলো হচ্ছে মওসুফ-আল-মুসল্লীন,সালাত প্রতিষ্ঠাকারীর বৈশিষ্ট্য।এরপর “আল্লাজিনা…”, সব “আল্লাজিনা” গুলোর প্রত্যেকটিই হচ্ছে মুসল্লীদের এক একটি সিফাত বা বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ, যারা সালাত কায়েম করে,
-তারাই নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।
-তারাই শেষ-বিচারের দিন কে ভয় করে।
-তারাই হল সেসব মানুষ যারা নিজেদের সালাত কায়েমের ব্যাপারে নিয়মিত এবং অবিচল।
এরাই সেসব মানুষ। فَمَنِ ابْتَغَىٰ وَرَاءَ ذَٰلِكَ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْعَادُونَ (৭০:৩১)

আর যারা কীনা এই সীমার বাইরে চলে যায়, তারা মূলতঃ আগ্রাসনে লিপ্ত। এসব(নির্লজ্জ) কাজই একপ্রকার আগ্রাসন। দেখুন, যখন কীনা “আদু”(عَادُو) উল্লেখ করা হচ্ছে অথবা “আদি”(عَادِ) ।
“‘আদিন”(عَادٍ) আসছে “‘আদু”(عَادُو) থেকে, “আদা-ইয়াদু” থেকে। ঠিকাছে? “আল-আদুন”। “আল-আদাওয়া”(الْعَدَاوَةَ) আরবীতে এর মানে হল শত্রুতা। আল্লাহ বলছেন, যারাই কীনা তাদের কামনা-বাসনা চরিতার্থ করে, হালাল পথের বাইরে, বিবাহের বাইরে, যারাই সেটা করে তারাই একধরনের সক্রিয় আগ্রাসনে লিপ্ত।
প্রশ্ন হচ্ছে,কার বিরুদ্ধে এই আগ্রাসন?কেননা যখন আপনি কোন শত্রুর কথা বলেন,তাহলে মাথায় আসে সে কার শত্রু।যদি তারা শত্রুতে পরিণত হয়,তাহলে কাদের জন্য শত্রু?আল্লাহ সেটি বলেনি,উল্লেখ করেননি কোন মাফ’উল বিহি(আরবী ব্যকরনিক পরিভাষা)কীংবা কোন জার,মাজরুর।এর মানে কী হতে পারে জানেন?তারা তাদের নিজেদের শত্রু,তাদের পরিবারের শত্রু,তারা এমনকি আল্লাহর দেয়া শিক্ষার বিরুদ্ধেও শত্রুতায় লিপ্ত।বুঝতে পারছেন।এরাই হল এধরনের মানুষ।

আপনার আর আমার সবচেয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তা হল আমাদের অন্তর,আমাদের হৃদয়।আর এই নির্লজ্জতা আমাদের অন্তরটাকে ধ্বংস করে দেয়।নিশ্চিহ্ন করে দেয়।সবচেয়ে মূল্যবান যে জিনিসটিকে আমাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে তা হল আমাদের ঈমান।আর এইসব নোংরা জিনিসগুলো আমাদের ঈমান কেই নষ্ট করে দিচ্ছে।আপনাদের ঈমান কে দুমড়ে মুচড়ে ছিড়ে ফেলছে!

এরকম হতে দিয়েন না আপনার সাথে,ঘটতে দিয়েন না এমনটা নিজের সাথে।আর আমি খালি আপনাকে মুখের কথা শোনাতেই পারব।আপনাকে দিয়ে কোনকিছু বন্ধ করাতে আমি পারবনা।সেটা আপনার নিজেরই নিজেকে দিয়ে করানো লাগবে।নিজেকে আপনার নিজেরই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, “আমার ঈমান কী আসলেই যথেষ্ট মূল্যবান আমার কাছে?আমার সালাত কী যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে?...নাকি আমি এভাবেই চলতে থাকব আর ভান করব?!”

আচ্ছা,আমি আপনাদের কে “যাজুয়া’র কথা বলেছিলাম না?যখন কীনা আপনি পাপ এর সংস্পর্শে আসেন,তখন আর পুরো ব্যাপারটিকে মোকাবিলা করতে চাননা।কোনরকম এড়িয়ে যান।আর এরকম অনেকেই আসলে আছেন,যারা অনেককিছুই শোনেন,কিন্তু সেগুলো নিয়ে কাজ করেন না, খালি এড়িয়ে যান। সেক্ষেত্রে আপনিও আসলে “যাজুয়া”।আপনি মুসল্লীদের অন্তর্ভূক্ত নন। الْمُصَلِّينَ إِلَّا (৭০:২২)

“যাজুয়া”(جَزُوعً) সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত হবেন না। “যাজু’ইন” দের দলভুক্ত হবেন না।যারা কীনা সবকিছু বাদ দিয়ে চলে।যারা কীনা তাদের সমস্যা কে মোকাবিলা করতেও চায়না।এর থেকে পালিয়ে থাকতে চায়।সবসময় (প্রলোভনের মুখে)হার মেনে নেয়, আর তারা খুব দ্রুতই সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। আর এটাই এই অনুচ্ছেদের শুরুর দিকের সুন্দর একটি ব্যাপার।“হালু’আ”(هَلُوعً) অর্থাৎ সংবেদনশীল।সাধারনতঃ আমরা প্রলোভনে সাড়া দেই।একটা ছবি দেখে আপনার একটা প্রতিক্রিয়া হয় যা আপনাকে আরেকটা ওয়েবসাইটে ঢুকতে উদ্বুদ্ধ করে যা থেকে আপনি আরেক জায়গায় চলে যান এবং সেখান থেকে অন্যত্র।প্রতিনিয়তই আপনি বিভিন্ন জিনিসের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন।আপনাকে আসলে শিখতে হবে, কীভাবে আপনার প্রতিক্রিয়াটি সঠিক হবে।আর সঠিক প্রতিক্রিয়া তখনই আসবে যখন আমরা সালাত-কায়েমকারী দের অন্তর্ভুক্ত হব।

0 comments
Labels: , ,

অন্তহীন পুরষ্কার

অন্তহীন পুরষ্কার:

আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি 'Amazed by the Quran'সিরিজে। আর এ সিরিজে আমি আপনাদের সাথে কুরআনে পাওয়া কিছু চমকপ্রদ বিষয়ে কথা বলি। আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই ৯ নম্বর সুরা তওবার একদম পরপর দুটি আয়াত, আয়াত নঃ ১২০ আর ১২১।

[ ১২০। '' مَا كَانَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَنْ حَوْلَهُم مِّنَ الْأَعْرَابِ أَن يَتَخَلَّفُوا عَن رَّسُولِ اللَّهِ وَلَا يَرْغَبُوا بِأَنفُسِهِمْ عَن نَّفْسِهِ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلَا نَصَبٌ وَلَا مَخْمَصَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَطَئُونَ مَوْطِئًا يَغِيظُ الْكُفَّارَ وَلَا يَنَالُونَ مِنْ عَدُوٍّ نَّيْلًا إِلَّا كُتِبَ لَهُم بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ মদীনাবাসী ও পাশ্ববর্তী পল্লীবাসীদের উচিত নয় রসূলুল্লাহর সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলের প্রাণ থেকে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করা। এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফেরদের মনে ক্রোধের কারণ হয় আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়-তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয়ে নেক আমল। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।''


১২১। '' وَلَا يُنفِقُونَ نَفَقَةً صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً وَلَا يَقْطَعُونَ وَادِيًا إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ لِيَجْزِيَهُمُ اللَّهُ أَحْسَنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَআর তারা অল্প-বিস্তর যা কিছু ব্যয় করে, যত প্রান্তর তারা অতিক্রম করে, তা সবই তাদের নামে লেখা হয়, যেন আল্লাহ তাদের কৃতকর্মসমূহের উত্তম বিনিময় প্রদান করেন।'']


এই দুটি আয়াত প্রায় একি ভাবে শেষ হয়েছে নিদেন পক্ষে বলা যায়, তাদের বিষয় বস্তু প্রায় একি। আল্লাহ বলছেন “إِلَّا كُتِبَ لَهُم بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ”- “তা ব্যতিত যে ওই লোকের জন্য একটি নেক আমল লিখা হলো এই কারনে”- একজন লোকের জন্য একটি ভাল কাজ লিখা হয়েছে তার আমলনামায়।“ইন্নাল্লাহা লা ইয়ুদিউ আজরাল মুহসিনীন”- “নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎ কর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।এর পরের আয়াতে আল্লাহ বলছেন “ إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ لِيَجْزِيَهُمُ اللَّهُ
أَحْسَنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ”
 

“ তা সবই তাদের নামে লিখা হয়, যেন আল্লাহ তাদের কৃত কর্মের উত্তম বিনিময় প্রদান করেন।যেই জিনিসটা আমি এখানে আলোকপাত করতে চাচ্ছি, দুটি আয়াত ই শেষ হয়েছে ‘পুরষ্কার’দিয়ে,আল্লাহ তাদের কে তাই দিবেন যা তাদের জন্য লেখা হয়েছে। পার্থক্য এই যে একটাতে বলা হচ্ছে তাদের জন্য নেক আমল লিখা হবে, আরেকটাতে নেক আমল লিখার কথা কিছু বলা হয়নি। এটাই পার্থক্য। এক খানে বলা হচ্ছে, ‘নেক আমল’ যেটার জন্য‘পুরষ্কার’ দেওয়া হবে, আরেকটিতে বলা হচ্ছে‘তাদের জন্য লিখা হয়েছে’, “নেক আমল’ লিখা হয়েছে এটা উল্লেখ করা হয় নি।এখন, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে যেখানে ‘নেক আমল’এর উল্লেখ হয় নি, আল্লাহ বলছেন

وَلَا يُنفِقُونَ نَفَقَةً صَغِيرَةً وَلَا
كَبِيرَةً وَلَا يَقْطَعُونَ وَادِيًا إِلَّا كُتِبَ لَهُمْ
“আর তারা অল্প বিস্তর যা খরচ করে, যত প্রান্তর তারা
অতিক্রম করে, তা সবই তাদের নামে লিখা হয়”
খরচ করা একটি কাজ? হ্যাঁ বা না, হ্যাঁ। আল্লাহর খাতিরে প্রান্তর অতিক্রম করা কাজ? হ্যাঁ বা না, হ্যাঁ এটি একটি কাজ।অর্থাৎ এগুলো আমল বা কাজ, তাই আল্লাহ আর উল্লেখ করেননি যে এগুলো আমল।কারণ এটি স্পষ্ট। সবাই জানে এগুলো আমল, তাই আর বলার দরকার নেই। এখন আগের আয়াতটি দেখুন, ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ لَا يُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلَا نَصَبٌ
وَلَا مَخْمَصَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ওহ! কী চমৎকার !!
''এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে'' 



আপাতত এই তিনটি জিনিস ভাবুন, পিপাসা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা, এর কোনটাই কিন্তু আমল বা কাজ নয়, আপনি পিপাসার্ত হয়ে এখানে বসে আছেন, এটা কোনো কাজ নয়, আপনি ক্লান্ত এটাও কোন কাজ নয়, আপনি ক্ষুধার্থ এটাও কোন কাজ নয়, কিন্তু যখন এটি আল্লাহর জন্য, এটি একটি কাজ, এটা তখন একটি ‘নেক আমল’ হিসাবে তার জন্য লিখা হয় (যে আলাহ্ র জন্য করছে তার জন্য)।

সুবহানাল্লাহ!! 



আপনি সিয়াম রত অবস্থায় বসে আছেন,আপনি পিপাসার্ত,যতবার আপনার পিপাসা পাচ্ছে আপনি একটি নেক আমল পাচ্ছেন।এমনকি যখন আপনি ঘুমাচ্ছেন সেটাও একটি ‘আমল’হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে আল্লাহর কাছে। ভাবা যায়!!! আপনি ক্লান্ত, হয়তো আল্লাহর জন্য কোন কিছু করেছেন, এখন ক্লান্ত হয়ে বসে আছেন, সেটাও একটি
‘আমল’আল্লাহর কাছে।আপনি পিঠে ব্যথা নিয়ে শুয়ে আছেন(আল্লাহরজন্য কিছু করতে গিয়ে)(আশা করি আল্লাহ এটাও গ্রহণ করবেন) আপনি যা করছেন আল্লাহ শুধু তাই হিসাব রাখছেন না, আপনি ক্লান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন সেটাও হিসাব রাখছেন।সেটাও আপনার জন্য লিখা হচ্ছে।এটাই হচ্ছে এই শব্দ গুলোর সৌন্দর্য। যেটা আপনি চিন্তাই করেন নি যে ‘আমল’ হিসাবে গোনা হবে,কিন্তু আল্লাহ গুনছেন।আল্লাহ আমদের সেসব কাজ গ্রহন করুক যা আমরা করি, বা সেগুলো যা আল্লাহ আমাদের কাজ হিসাবে গন্য করেন।


0 comments
Labels: ,

কাফিরের সাথে মিশলে গুনাহ

এক সিনিয়র আপু একদিন আমাকে ডালাস নিবাসী এক ভদ্রলোকের গল্প বলেছিলেন, যিনি নাকি কোন "কাফিরের" সাথে ছোয়াছুয়ি হয়ে গেলে বাড়িতে গিয়ে গোসল করে পাক সাফ হয়ে আল্লাহর দরবারে তওবা করেন। যিনি অতি গর্বের সাথে বলে বেড়ান তাঁর কোন কাফির বন্ধু নেই। তাঁর ছেলে মেয়েরাও কোন বিধর্মীর সাথে মেলামেশা করেনা।
বেচারার ঘটনা শুনে আমার অতি প্রাচীন একটি বাংলা প্রবাদের কথা মনে পড়ে গেল - খালি কলসি বাজে বেশি। ভদ্র বাংলায় বললে অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। ইংরেজিতেও আক্ষরিক প্রবাদ আছে, Little knowledge is a dangerous thing. যেহেতু ইংরেজিতেও প্রবাদটির প্রচলন আছে, তারমানে এটি সকল জাতির সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। শুধুমাত্র বাঙালিরাই এককভাবে এই দোষে দুষ্ট নয়।
এখন মূল কথায় আসা যাক।

আমাদের মুসলিমদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ধর্মীয় ব্যপারে আমরা খুব গোড়া। এটা করলে জাহান্নামে যেতে হবে, ওটা করলে জাহান্নামে যেতে হবে - সেটাতো করাই যাবেনা। যে যত কঠিন ফতোয়া জারি করবে, আমরা চোখ বন্ধ করে কিছু যাচাই বাছাই না করেই মেনে নিব। "জান্নাতে যেতে হবে, রাস্তা এত সহজ হলে চলে?"
কাজেই কাফিরদের সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দাও। ওদের হাতের খাবার খাওয়াতো দুরের কথা, ওদের হাতের স্পর্শও এড়িয়ে চলো। ওরা বাঁচুক কী মরুক আমার কী? আমি আমার আল্লাহর ইবাদত করে যাব। কারণ তিনিতো আমাকে তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। কুরআন শরীফে স্পষ্ট লেখা আছে যে!

লোকটাকে কে বুঝাবে যে একটা লোকের সাথে হাসিমুখে কথা বলাটাও আল্লাহর ইবাদত। একটা অসহায়ের মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দেয়াটাও আল্লাহর ইবাদত। আল্লাহর যদি কেবল নিজের নামের জিকির আসগরের জন্যই সৃষ্টি করতে হতো, তাহলে মানুষকে সৃষ্টি করতেন না - সেজন্য ফেরেস্তা ছিলই। মানুষের সৃষ্টি হয়েছে আরও কল্যানের জন্য, এর পেছনে আরও মহৎ উদ্দেশ্য জড়িত। সুরাহ ইয়াসিনের সেই লোকটার মতন আফসোস করে বলতে হয়, "আমার লোকেরা যদি বুঝতে পারতো!"

এখন নিজের যুক্তির পেছনের প্রমানে আসা যাক। এবং বরাবরের মতই আমি আমার নবীর(সঃ) জীবনী থেকে উদাহরণ দিব। কারও কোন সন্দেহ থাকলে সে যেন ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে গবেষণা করে নেয়। এই বাহানায় অন্তত কেউতো তাঁর জীবনী পড়বেন! আফসোস! তাঁর জীবনী যেখানে আমাদের inside out, upside down মুখস্ত থাকার কথা ছিল - সেখানে আমরা বলতে গেলে কিছুই জানিনা। তাঁর জীবনী ঠিক মতন জানা থাকলে পৃথিবীতে কোনই সমস্যা থাকত না। সবাই বুঝতো, চৌদ্দশ বছর আগের ঘটনাও কিভাবে বর্তমান জীবনের সাথেও যোগসূত্র স্থাপন করে!
মুতইম ইবনে আদির নাম কয়জন জানেন? বনু নওফল গোত্রের একজন শক্তিশালী নেতা ছিলেন এই ব্যক্তি। মক্কার দুর্ধর্ষ কুরাইশ নেতাদের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও যিনি ন্যায়ের জন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়াতেন। এবং অবশ্যই এই লোকটি জীবিতাবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেননি। এখন যদি বলি এই লোকটির কাছে আমাদের নবীজি এবং ইসলাম ধর্মই ঋণী হয়ে আছে, বিশ্বাস করবেন?

ভদ্রলোকের অনেক ঘটনা আছে, তবে দুইটি ঘটনা উল্লেখ করতে চাই।
নবীজির জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম তিনটি বছরের ঘটনা কে কে জানেন? যখন তাঁকে ও তাঁর সাথীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হলো, কেউ তাঁদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখবে না, কোন লেনদেন করবে না - তাঁরা মরুক কী বাঁচুক, কেউ তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসবেনা, মুসলিমরা মক্কার বাইরে একটি উপত্যকায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে, উপত্যকাটি ছিল আবু তালিবের, আমাদের নবীজির (সঃ) চাচা এবং একজন "কাফির।" যিনি নিজেও বৃদ্ধ বয়সে সমাজচ্যুত এই মুসলিমদের সাথে বেরিয়ে এসেছিলেন। মুশরিক ও কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নেতা হবার পরেও। "কাফির" হবার পরেও।

যাই হোক, সামাজিক বয়কটের ঐ তীব্র সময়টা কতটা ভয়ংকর ছিল সেটা বর্ণনা করা অসম্ভব। খাবার নেই, পানি নেই, সাহাবীরা বলেছিলেন "আমরা আমাদের পশুর চামড়া সিদ্ধ করে খেয়েছি। গাছের পাতা চিবিয়ে খেয়েছি। আমরাও জানিনা আমরা কিভাবে তখন বেঁচেছি।"

তিনটা বছর এই অমানবিক কষ্টের মধ্য দিয়ে তাঁদের যেতে হয়েছিল। তাঁরা মারাই যেতেন, কিন্তু একজনের জন্য সেটা ঘটেনি। তিনি হচ্ছেন এই মুতইম ইবনে আদি। তিনি প্রতি এক দুইমাসে একটি উট বোঝাই খাবার দাবার দিয়ে তাঁদের উপত্যকায় ছেড়ে আসতেন। সেই উটের মাংস ও রুটি খেয়ে আমাদের নবীজি (সঃ) ও তাঁর সাহাবীরা বেঁচে ছিলেন। নাহলে "ইসলাম" সেই মক্কার পাশের সেই উপত্যকাতেই দাফন হয়ে যেত। আমাদের কী সেই কাফিরের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ না?
আর ওরা বলে "কাফিরদের হাতে কিছু খাওয়া হারাম!"

আবু তালিবের মৃত্যুর পর আবু লাহাব যখন নেতা হলো, সে নবীজির (সঃ) উপর থেকে protection উঠিয়ে নিল। আধুনিক ভাষায় বলতে গেলে সিটিজেনশিপ revoke করলো। নবীজীর (সঃ) আর কোন আশ্রয় থাকলো না। তিনি মক্কা থেকে তায়েফে চলে যাবার চেষ্টা করলেন। সেখানে কী হয়েছিল আমরা সবাই জানি। এবং তায়েফ থেকে আহতাবস্থায় ফিরে আসার পর মক্কায় তাঁর থাকার কোন উপায় ছিল না। এই সময়ে মুতইম ইবনে আদি তাঁর ছেলেদের নিয়ে বেরিয়ে এসে ঘোষণা দিলেন, "আমি এবং আমার ছেলেরা বেঁচে থাকতে খবরদার কেউ মুহাম্মদের (সঃ) এতটুকু ক্ষতি করার কথা চিন্তাও করো না।"

আবু সুফিয়ান তখনও কুরাইশ নেতা, গলা উঁচিয়ে বললেন, "তুমিও কী মুসলিম হয়ে গেলে?"
"না।"
"তাহলে ঠিক আছে। আমরা আপাতত মুহাম্মদকে (সঃ) কিছু করবো না।"
এবং তারপরেও আমরা জানি কিভাবে ওরা সবাই মিলে এক রাতে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল। এবং তিনি সেই রাতেই মদিনায় পালিয়ে যান।
মদিনায় পালানোর ব্যপারেও একটা উদাহরণ আছে। হত্যায় ব্যর্থ কুরাইশরা রাগে উন্মাদ হয়ে ঘোষণা দিল, "যে মুহাম্মদের (সঃ) মৃতদেহ আমাদের সামনে হাজির করবে, তাকে একশ উট পুরস্কার দেয়া হবে।"

তখনকার যুগের একশ উট মানে এখনকার যুগে মিলিয়ন ডলার। টাকার লোভ ভয়ংকর লোভ। ছেলে নিজের আপন পিতার সাথেও পয়সার লোভে বেইমানি করে বসে। তাই তখন চারিদিকে নবীজির(সঃ) শত্রু। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তিনি মদিনা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য গাইড হিসেবে কাকে বেছে নিলেন? একজন কাফিরকে। যে লোকটা এত এত টাকার লোভ সামলেও নবীজি(সঃ) ও তাঁর সঙ্গী হজরত আবু বকরকে (রাঃ) নিরাপদে মদিনায় পৌছে দিয়েছিলেন।
এবং তারপরেও একদল আহাম্মক দাবি করে কাফিরদের সাথে মেলামেশা হারাম। ওদের স্পর্শ পেলে তওবা করতে হয়। ম্যা ম্যা ম্যা।

এই সমস্ত লোকেরা সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলে তখন কাফির-মুসলিম নিয়ে তর্ক করার পরে শুরু করে শিয়া-সুন্নি বিতর্ক। তারপর হানাফি-শাফিই। তারপর বাঙালি-অবাঙালি। মোট কথা এই সমস্ত কুলাঙ্গারগুলিই সমাজে বিভেদ তৈরির জন্য দায়ী। এদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন, গ্যারান্টি দিচ্ছি, সমাজে কোন অশান্তি থাকবে না।
"অমুকের কাজ শরীয়ত মোতাবেক নয়।"
"তমুকের কাজ ইসলাম বিরোধী।"
"অমুকতো জাহান্নামী! ওর নাম মুখে আনাও পাপ।"

কথা হচ্ছে, সবার বোঝা উচিৎ যে আমরা সবাই একটি অতি বৃহৎ পরিকল্পনার অতি ক্ষুদ্রতম অংশ। কে মুসলিম হবে, কে কাফির থাকবে, কে আবু জাহেল হবে, কে মুতইম ইবনে আদি হবে এবং কে হবে আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) - এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আল্লাহ আমাদের উপর ছাড়েন নাই। উল্টা তাঁর পরিকল্পনায় ফালতু মন্তব্য করা তাঁকেই অপমান করার সামিল। আদম সৃষ্টির বহু আগেই ইবলিশকে সৃষ্টি করা হয়েছিল - কেন কখনও কী ভেবে দেখেছে?
এক বিখ্যাত অভিনেতাকে চিনতাম যিনি গোপনে দুইটা এতিম খানায় প্রচুর দান খয়রাত করতেন। এতিম শিশুগুলি বেঁচে ছিল মূলত তাঁর দেয়া পয়সায়।

লোকটা মারা যাওয়ার পর অনেককেই বলতে শুনেছি তিনি নিশ্চিতভাবে জাহান্নামে যাচ্ছেন। কিন্তু একজনকেও দেখিনি এগিয়ে এসে বলতে যে "আমিই সেই এতিমখানাগুলোর দায়িত্ব নিলাম।"
এতিম শিশুগুলির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, কে তাঁদের কাছে হিরো? "লোকটা জাহান্নামী" - ফতোয়া দেয়া মাওলানা, নাকি সেই জাহান্নামী ব্যক্তিটা?

আমাদের নবীজি (সঃ) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন গরিবদের প্রতি সদয় হতে, এতিমদের দেখভাল করতে। আমার মনে পড়েনা আমি কোথাও পড়েছি তিনি মুসলিম এতিমকে বেশি আদর করেছেন এবং মুশরিক এতিমকে তাড়িয়ে দিয়েছেন।
আমরা বারবার ভুলে যাই, রাসুলুল্লাহ হবারও বহু আগে থেকে তিনি আল-আমিন ছিলেন। মক্কা ছেড়ে যাবার সময়েও তাঁর কাছে গচ্ছিত আমানত যেন সবাই ফেরত পান, সেকারনে নিজের প্রিয় সহচর ছোট্ট আলীকে (রাঃ) জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রেখে গিয়েছিলেন। কাদের আমানত ছিল সেসব? তাঁরই জীবন নিতে চাওয়া কাফির মুশরিকদের।
আমরা নিজেদের আমাদের নবীর(সঃ) চেয়েও বেশি পন্ডিত মনে করি। সমস্যাটা এখানেই।
খালিদ বিন ওয়ালিদ মৃত্যুশয্যায় বলে গিয়েছিলেন, "আমি সারাজীবন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকায় কুরআন শিক্ষা নিতে পারিনি। তবে আমার আফসোস নেই, আমি অন্যভাবে আল্লাহর কাজে এসেছি।"

খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাণী। কে কিভাবে আল্লাহর কাজে আসছে সেটা বুঝার ক্ষমতা আপনাকে আমাকে দেয়া হয়নি। কাজেই ফালতু মন্তব্য করার আগে কয়েকবার ভেবে চিন্তে নিবেন।

যে ভদ্রলোক গর্ব করে বলেন তার এলাকায় কোন বিধর্মী প্রতিবেশী নেই, তাঁকে শুধু জানিয়ে দিতে চাই যে আমাদের নবীজিরও (সঃ) ইহুদি প্রতিবেশী ছিল, এবং সেই নবীই "প্রতিবেশীর অধিকার" শিরোনামে অনেকগুলো নির্দেশ দিয়ে গেছেন, যা পালন করা অবশ্য কর্তব্য।

দ্বীনের দাওয়াত দিতে বস্তিতে যাচ্ছেন খুবই ভাল কথা। কিন্তু যখন তাঁদের শিশুরা না খেয়ে ঘুমাতে যায় এবং অসহায় মা বাবা নিরবে অশ্রু ফেলেন তখনও অন্তত এক মুঠ চাল আর সাথে কিছু সবজি নিয়ে হলেও আপনার সেখানে গিয়ে বলা উচিৎ, "নবীর নির্দেশ পালন করতে এসেছি। ছেলে মেয়েদের উঠাও, একসাথে মিলে চারটা ভাত খাই।"
বিশ্বাস করেন, আপনি শুধু আপনার আচরণ দিয়েই পৃথিবী পাল্টে দিতে পারবেন। কোন বন্দুক, তলোয়ার, বুলেটের প্রয়োজন হবেনা।

ঈদের দিনে আপনার পাড়ার হতদরিদ্র বিধর্মী পরিবারকে নিজের বাড়িতে এনে নিজের সেরা আসনে বসিয়ে জর্দা-সেমাই খাওয়ান। ওরাও জানুক আমরা কেমন নেতার ফলোয়ার। আর তাছাড়া মুতইম ইবনে আদির মতন লোকেদের কাছে আমরা চিরঋণী হয়ে আছি, এতে যদি কিছুটা ঋণ শোধ হয়!

পোস্টটি  লিখেছেন: মঞ্জুর চৌধুরী 

0 comments
Labels: , ,

মুহাম্মদ (সঃ) নবী হয়ে কেন যুদ্ধ করেছিলেন? একজন নবী কী যুদ্ধ করতে পারে?

ত্যানা প্যাচানোওয়ালা নাস্তিকদের জবাবে....
মুহাম্মদ (সঃ) নবী হয়ে কেন যুদ্ধ করেছিলেন? একজন নবী কী যুদ্ধ করতে পারে?"
এরপর শুরু হয়ে গেল গালাগালি। কোন কথা শুনাশুনিতে নাই। অবশ্য কোন কথা শুনতেও রাজি নয়। ওদের একটাই কথা, "তোদের নবী একজন খুনি। আমরা কোন খুনিকে ফলো করি না। ঘেউ ঘেউ ঘেউ।"
বলতে ইচ্ছা হয়, না করলে না করবি, আমার কিসের ঠ্যাকা?

এমন ভাব যেন আমি গিয়ে ওদের হাতে পায়ে ধরছি, "প্লিজ আমার নবীকে 'গ্রেট' বল! প্লিজ! নাহলে পা ছাড়ছি না।"
যে লোকটাকে আল্লাহ সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছেন, কোন ফকিরনি তাঁকে নিয়ে কী বলল না বলল তাতে কিই বা আসে যায়?

তবে ওদের কথা শুনে কিছু মানুষের মনে এমন প্রশ্ন উঠে, "আসলেইতো, একজন নবী কী করে যুদ্ধের হুকুম দিলেন? আল্লাহ কী করে যুদ্ধের হুকুম দিলেন? তাহলে ইসলাম দেখছি আসলেই জঙ্গি ধর্ম!"
প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে একটা কথা বলে নেই, যদি আমাদের নবী যুদ্ধ না করতেন, তাহলে ওরা এখন কী বলতো জানেন?

"কিসের নবী তোদের? কিসের ধর্ম? মানুষ এসে চড় থাপ্পর মেরে যায়, তোরাও লাথি উষ্টা খেয়ে যাস, তারপরেও কিছু বলতে পারিস না। 'ধৈর্য্য ধর' 'ধৈর্য্য ধর' আওয়াজ তুলিস! আরে তোরা হচ্ছিস নপুংশকের জাত! নিজের অধিকার আদায় করতে জানিস না।"

সিনেমা হলের একটা চেয়ারের কভারে একটা ছোট ছিদ্র করে আসুন। একমাসের মধ্যেই দেখবেন সেই কভারের খাল বাকল সব ছিলা হয়ে গেছে। মানুষ সেই ছোট ছিদ্রটা দেখার সাথে সাথেই মনের অজান্তে ইচ্ছা মতন খাবলা খুবলি করে এই হাল করেছে।

বনের বাঘকে সবাই ভয় পায়। অথচ বাঘের চেয়ে শারীরিকভাবে অনেক বড় গরু দিয়ে মানুষ হালচাষ করে।
তেমনি কোন মানুষকে অত্যাচারিত হতে দেখুন। দেখবেন চিকন থেকে চিকনতম মেরুদন্ডের মানুষও সেই দুর্বলের উপর অত্যাচার করা শুরু করে দিয়েছে। "এক গালে চড় দিলে আরেক গাল পেতে দাও" থিওরি বাস্তব জীবনে একদমই অকেজো। গান্ধীজির চ্যালারা যদি মনে করে থাকেন তাঁর এই মতবাদের কারনেই ভারত ছেড়ে ব্রিটিশরা পালিয়েছিল তাহলে সবাই মুর্খের রাজ্যে বাস করছেন। গান্ধীজির পাশাপাশি বিপ্লবীদের অবদানও যথেষ্ট ছিল। সেই সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইংল্যান্ডের ভরাডুবিও ছিল আরেকটা কারন।

ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে কোন কোন পরিস্থিতিতে চড় খেলে চুপচাপ গাল ফিরিয়ে সরে যেতে হবে, আবার কোন পরিস্থিতিতে কেউ চড় দিলে একদম হাত ভেঙ্গে দিতে হবে।

যারা দাবি করে, নবীজি যুদ্ধবাজ ছিলেন, তারা অত্যন্ত যত্নসহকারে তাঁর মক্কার জীবনটা এড়িয়ে যায়। প্রথমে নিজের পরিবারের লোকজনেরাই (আবু লাহাব, চাচা) তাঁর শত্রু হলেন। তারপর নিজ শহরের লোকেরাও একই কাজ করলো। প্রথমে তাঁকে মারধর না করলেও তাঁর নামাজ পড়া অবস্থায় তাঁর উপর পশুর গলা নাড়িভুড়ি ফেলা হলো। তাঁর ফলোয়ারদের অমানুষিক অত্যাচার করা হলো। বিলালকে (রাঃ) মরুভূমির গরম বালুতে শুইয়ে রেখে তাঁর উপর গরম পাথর রাখা হত। তাও এমনই গরম পাথর যার উপর মাংস ফেলে রাখলে কিছুক্ষনের মধ্যেই সেটা রান্না হয়ে যেত।
খাব্বারের(রাঃ) পিঠের উপর তাঁর মালকিন লোহা গলানোর কয়লা ঢেলে দিয়ে তাঁর চিৎকার শুনে হাততালি বাজাত।
সুমাইয়া ইয়াসিরকেতো (রাঃ) তাঁদের ছেলের সামনেই নৃসংশভাবে হত্যা করা হলো। বর্ণনা দিব? সুমাইয়ার(রাঃ) যোনি পথ দিয়ে বর্শা ঢুকিয়ে খুঁচিয়ে খুচিয়ে তাঁকে হত্যা করে শরীর দুই ভাগ করা হলো। এবং ইয়াসিরকে(রাঃ) দুই পাশ দিয়ে ঘোড়া দিয়ে টানিয়ে মাঝবরাবর ছিড়ে ফেলা হলো।
কেন? কারন তাঁরা শুধু বিশ্বাস করেছিলেন আল্লাহ এক, এবং অদ্বিতীয়।

তারপরেও কিছুতে কিছু হচ্ছিল না বলে তাঁদের সমাজচ্যুত করা হলো। তিনটা বছর মুসলিমদের সাথে কেউ কথা বলেনি, কোন লেনদেন করেনি। না খেয়ে মুসলিম শিশুরা মরেছে, বৃদ্ধরা মরেছে, নারীরা মরেছে - কেউ এগিয়ে আসেনি ওদের সাহায্যে। পশুর চামড়া আর গাছের লতাপাতা চিবিয়ে খেয়ে বাঁচতে হয়েছে। মুতইম ইবনে আদী যদি সেসময়ে মাঝে মাঝে তাঁদের খাবার না পাঠাতো, তাহলে খবরই ছিল। একটা প্রতিবাদ করেননি আমাদের নবী(সঃ)।
তারপরেও তারা শান্ত হয়নি। এইবার নবীজিকেই (সঃ) মেরে ফেলতে চাইলো। রাতের আঁধারে তাঁর বাড়িতে এসে হামলা করলো। তিনি মদিনায় "হিজরতে" গিয়ে প্রাণে রক্ষা পেলেন। সাহাবীরা প্রতিরাতে স্বপ্ন দেখেন একদিন জন্মভূমিতে ফিরে যাবেন। নিজের বাড়িঘরের দেয়ালে চুমু খাবেন, নিজের মাতৃভূমির মাটিতে সিজদাহ দিবেন। বুক ভরিয়ে ফেলবেন মক্কা নগরীর বাতাসে। তাঁদের লেখা কবিতায় তখন এইসব হাহাকার প্রকাশ পায়।

এইদিকে মক্কাবাসী কুরাইশরা কী করলো? তাঁদের ফেলে যাওয়া চৌদ্দ পুরুষের সহায় সম্পত্তি সব লুটে নিল। লুটের টাকা সিরিয়ায় পাঠিয়ে আরও প্রফিট বানালো।
যদি নবীজি(সঃ) এর পরও চুপ থাকতে বলতেন, তাহলেও সাহাবীরা চুপ থাকতেন। কিন্তু ব্যপারটা কতখানি প্র্যাকটিকাল হতো?
বাস্তব উদাহরণ দিলেই বুঝবেন।

পাকিস্তান আমাদের উপর একটানা শোষণ করে গেছে। আমরা মাঝে মাঝে চুপ থেকেছি, মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু যেদিন আমাদের ঘরে ঘরে ঢুকে ওরা গুলি করে মারতে লাগলো, আমাদের মা বোনদের উঠিয়ে নিয়ে যেতে লাগলো, তখন কী আমাদের ধৈর্য্য ধরে বসে থাকলে চলতো? "এক গালে চড় খেলে আরেক গাল পেতে দাও" ফিলোসফি কাজে আসতো? They didn't mind killing Bengalis.

নবিজিই(সঃ) উদাহরণ সেট করে গেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় "মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই" হাদিসটা ভয়েড হয়ে যায় কুরআনের একটি আয়াত দিয়ে "যখন দুইজন মমিনের মধ্যে লড়াই বাঁধবে তখন তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে দুইজনের মধ্যে মিমাংসা করে দাও। আর যদি সেই দুইজনের মধ্যে একজন জালিম হয়ে থাকে, তবে দুর্বলের পক্ষ্য নিয়ে জুলুমকারীর বিরুদ্ধে লড়, ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না সে পরাজিত হয়।" আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ।
ছাত্ররা কলম ছেড়ে অস্ত্র তুলে নিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর একটা রিক্সাওয়ালার কাঁধে কাঁধ রেখে শত্রুর মোকাবিলা করলো। দেশ স্বাধীন হলো।

যদি নবিজি(সঃ) উদাহরণ সেট করে না যেতেন? ট্রাস্ট মি, আজকে পৃথিবীতে মুসলমান সংখ্যা এত বেশি হতো না। তার বহু আগেই অত্যাচারিত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। আর বাকিরা ভয়েই দূরে সরে যেত।
ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের নবী(সঃ) সেদিনকার রাজাকার বনু কুরায়দাকে যেমন মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন, তেমনি মক্কা বিজয়ের পর চিরশত্রু কুরাইশদের হাতের মুঠোয় পেয়েও সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি কী একটা যুদ্ধ জয়ের শেষেও ভিকট্রি পার্টি করেছিলেন? বাংলায় বললে বিজয়োৎসব? রং ছুড়াছুড়ি, খুশিতে এর ওর মুখে জোর করে মিষ্টি খাইয়ে দেয়া? খুঁজতে থাকেন। একটাও যদি উদাহরণ পান, প্লিজ দেখান।
ত্যানাবাজরাই কেবল বনু কুরায়দা, কাব বিন আশরাফ আর বিভিন্ন যুদ্ধ নিয়ে ত্যানা প্যাচায়।
এখন এটাও ঠিক ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এবং একদল মুর্খ জঙ্গিদের জন্য গোটা ইসলামকেই দোষ দিচ্ছে।

কিন্তু ক্রিমিনোলজি নিয়ে বিন্দুমাত্র পড়াশোনাও যদি কেউ করে থাকে, তারই বুঝবার কথা যে প্রতিটা অপরাধীর নিজস্ব কিছু ফিলোসফি থাকে। হিটলার জাতীয়তাবাদের নামে লাখ লাখ ইহুদি মেরে সাফ করে দিয়েছিল। স্তালিন কমিউনিজমের নামে লাখ লাখ স্বজাতির হত্যা করেছিল। দেশপ্রেমের নামে অ্যামেরিকা যে কয়টা দেশ উজার করে দিয়েছে কে হিসেব করবে? আমাদের দেশেও বিএনপি আওয়ামীলীগের নামে প্রতিদিন হত্যার ঘটনা ঘটছে।
"তুই ওকে মারলি কেন?"
"ও আওয়ামীলীগ করে। ভারতের দালাল।"
"তুইই বা ওকে মারলি কেন?"
"ও বিএনপি করে। যুদ্ধাপরাধী।"
"ও পাকিস্তানি ওকে পায়ের নিচে পিষে মারা দরকার।"
এই কথাতো আমরা প্রায় প্রতিদিনই শুনি। আবার একই বক্তব্য হয়তো কোন এক পাকিস্তানিরও আমাদের বাঙালিদের প্রতি।
আস্তিক নাস্তিকদেরও একই ঘটনা। শুধু শব্দের হেরফের হয়।
"ও নাস্তিক। ওর ফাঁসি চাই।"
"ও ছাগু! ও শুধু কোপাতেই জানে। ওরও ফাঁসি চাই।"

কাজেই, নিতান্তই আহাম্মক না হলে কেউ অপরাধীর অপরাধকে ধর্মের ভিত্তিতে ফিল্টার করেনা।
ক্যানাডা এয়ারফোর্সের হাইলি ডেকোরেটেড অফিসার কর্নেল রাসেল উইলিয়ামস নিজের বেসের প্রতিবেশী মেয়েদের আন্ডার গার্মেন্টস চুরি করতো। সে কিন্তু ধর্ষণ করতো না। সুন্দরী মেয়েদের আন্ডার গার্মেন্টসের গন্ধ নিতে তার ভাল লাগতো। পারভার্ট এই লোকটার এই অপরাধ ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে দুইটা খুনে গিয়ে শেষ হলো। মেয়েগুলো তাকে চুরির সময়ে দেখে ফেলেছিল বলে। তাহলে কী এখন সব দোষ ভিক্টোরিয়া'স সিক্রেট জাতীয় কোম্পানিগুলোর?
একজন সন্ত্রাসী, সে যেই হোক, সে একজন সন্ত্রাসী। এবং দেশের প্রচলিত আইনেই তার বিচার হওয়া উচিৎ। এবং সে যদি মুসলিম হয়, তাহলে আমার দাবি তার বিচার সর্বোচ্চ ও কঠোরতর হওয়া উচিৎ। এখানেও আমি ইসলামেরই দৃষ্টান্ত দেব।

উমার (রাঃ) আমির-উল-মু'মিনীন নির্বাচিত হয়ে প্রথমেই নিজের ছেলেদের ডেকে পাঠালেন। তারপর গম্ভীর স্বরে বললেন, "তোমাদের বাবা ইসলামের খলিফা নির্বাচিত হয়েছে। সবাই জানে ন্যায়ের পক্ষ্যে উমার কতখানি কঠোর। কেউ অপরাধ করলে আমি অবশ্যই তাকে শাস্তি দেব। এবং অপরাধী যদি তোমরা হয়ে থাক, তাহলে সেই শাস্তির পরিমাণ হবে দ্বিগুন। প্রথমত অপরাধের জন্য, দ্বিতিয়্ত, খলিফার ছেলে হয়েও অপরাধ করার জন্য। তোমাদের শাস্তি এত প্রচন্ড হবে যে তোমরা যেন আফসোস করে ভাব, কেন তোমাদের বাবা খলিফা নির্বাচিত হলেন!"
তিনি তাঁর কথা রেখেছিলেন। নিজের ছেলেকেই মদ্যপানের শাস্তি দিতে গিয়ে পুত্রহারা হয়েছিলেন। একজন পিতা জানেন তাঁর কাঁধে সন্তানের মৃতদেহ কতখানি ভারী।

একেকটা খুনি জঙ্গিকে বেত্রাঘাত করতে করতে ফাঁসিতে ঝুলানোর আগে যেন তাদের আফসোস হয়, কেন তারা খুন করতে গেল। এবং তারচেয়েও বেশি আফসোস হয়, একজন মুসলিম হবার পরেও সে কেন খুন করতে গেল।
শেষ করি সাম্প্রতিক একটি ঘটনা দিয়ে। বঙ্গদেশের একটা ষোল বছরের হারামজাদা মাতাল অবস্থায় গাড়ি দিয়ে একটি যাত্রীবাহী রিক্সা পিষে ফেলেছে। বাপ চাচা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশের সহায়তায় হারামিটা পালিয়েও যেতে পেরেছে। দেশের সরকার হয়তো এই ছেলেটার কিছুই হতে দিবেনা। গরিব রিক্সাওয়ালা মরলে মরুক, রিক্সা চরনেওয়ালা যাত্রী মরলে মরুক....এইচবিএম ইকবালের ভাতিজা বলে কথা। চাচায় মিছিল করে পিস্তল নিয়ে, ভাতিজা যদি দুই একটা মানুষ গাড়িচাপা না দিল তাহলে চলবে?

উমার(রাঃ) কী করেছিলেন শুধু একটা ঘটনা বলি।
মিশর থেকে এক ব্যক্তি এসে খলিফাকে বিচার দিলেন মিশরের গভর্নরের পুত্র তাঁর উপর অত্যাচার করেছে। উমার সাথে সাথে মিশরের গভর্নর আমর ইবনে আস(রাঃ)সহ তাঁর পুত্রকে সমন পাঠালেন। খলিফার সমন পেয়ে আমর(রাঃ) নিজের পুত্রকে বারবার জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কোন অপরাধ করনিতো? নাহলে খলিফা কেন খবর পাঠালেন?"
আমরের পুত্র বারবার পিতাকে আশ্বস্ত করলেন তিনি কিছুই করেননি।

খলিফার দরবারে মিশরীয় ব্যক্তি প্রমাণ করে দিলেন ঘটনা। খলিফা নিজের লাঠি ধরিয়ে দিয়ে বললেন, "একে ততক্ষণ পর্যন্ত পিটাও যতক্ষণ না তোমার মন শান্ত হয়।"
গভর্নরের সামনেই এক সাধারণ জনতা তাঁর পুত্রকে লাঠি দিয়ে পেটালেন।
একটা সময়ে বেচারা ক্লান্ত হয়ে লাঠি ফেরত দিতে দিতে বললেন, "ধন্যবাদ হে আমিরউল মু'মিনীন। আমি আমার বিচার পেয়ে গেছি।"

উমার(রাঃ) বললেন, "বিচার এখনও শেষ হয়নি। এই নাও লাঠি, এখন তুমি গভর্নরকে মারো। তাঁর ছেলে তাঁর বাপের পজিশনের জোরেই এই কুকর্ম ঘটিয়েছে। কাজেই সে বুঝে নিক, তাঁর বাপের পজিশন তাঁর বাপকেও অপরাধ করার লাইসেন্স দেয় না।"

নজরুলের মতন আমারও আফসোস করে বলতে ইচ্ছা করে
"শুধু অঙ্গুলি হেলনে শাসন করিতে এ জগতের
দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমশের
ফিরদৌস ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের ধরি
আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!" 

পোস্টটি  লিখেছেন : মঞ্জুর চৌধুরী 

0 comments
Labels: , , , ,

আপনার যদি কোন মেয়ের দিকে অশালীনভাবে তাকানোতে সমস্যা না থাকে ?




আপনার যদি কোন সমস্যা না থাকে কোন মেয়ের দিকে তাকানোর প্রতি, অশালীনভাবে তাকানোতে, অর্থাৎ আপনি তারদিকে সম্মানের সাথে তাকাচ্ছেন না, আপনি যেন তাকে পশু বা মাংসপিণ্ড মনে করছেন, যদি এই আপনার মনোভাব হয়, তার মানে এই যে, আপনার নিজের মায়ের প্রতি, নিজের বোনের প্রতি, নিজের স্ত্রীর প্রতি, নিজের কন্যার প্রতি আপনার কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই। তারাও নারী। আপনি কখনই চাইবেন না যে মানুষ তাদের দিকে অশোভন ভাবে তাকাক। আর আপনি যার দিকে তাকাচ্ছেন তিনিও কারো কন্যা, কারো বোন বা কারো মা। তাই সাবধান হউন।

এমনকি উনাদের যদি নিজেদের জন্য শ্রদ্ধা নাও থাকে, কখনও অমুসলিম নারীদের নিজেদের প্রতি সম্মানবোধ থাকেনা, তাই তারা কখনো কখনো ‪#‎অশালীন‬ পোশাক পরে, এমনকি মুসলিমরাও অশোভন পোশাক পরে থাকে। কিন্তু আপনারতো নিজের প্রতি এবং আপনার পরিবারের নারীদের প্রতি সম্মানবোধ আছে, তাই আপনি নিজের দৃষ্টিকে নত করুন। অবশ্যই করুন।

আর এটা খুবই ঘৃণ্য ব্যাপার যে, পুরো পরিবারে সবাই একসাথে বসে মুভি দেখে, আর যখন কোন আপত্তিকর দৃশ্য আসে, তখন মা আর মেয়ে তাদের স্বামী আর ভাইদের সাথে একসাথে তা দেখে – “ওহ, এইটা মাত্র একটা খারাপ দৃশ্য, এইটা এমন কিছু না”। এটা খুবই ন্যাক্কারজনক, এটা কোন মুসলিম পরিবারের আচরণ হতে পারেনা। এই ধরণের অশ্লিলতায় আমাদের বিরক্তি হওয়া উচিৎ। আমাদের এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। এটা আমাদের সমাজের একটা বিশাল সমস্যা, আমাদের সমাজে অনেক ভাল ব্যাপার আছে, অনেক অনেক ভাল দিক আছে। কিন্তু এটা এমন একটা ব্যাপার যা আমাদের তরুণদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। অশ্লিলতার অতিরিক্ত প্রকাশ। কোন এক মেয়ে যদি আপনাকে মেসেজ পাঠায়, “আমি তোমার ফেসবুক ফ্রেন্ড হতে চাই”। ঠিক আছে। কিন্তু আমি চাইনা। না। যাও তোমার ভাইয়ের সাথে ফ্রেন্ডশিপ কর। তোমার কি বাবা নেই? সে কি তোমার সাথে বন্ধুভাবাপন্ন নয়? তোমার কেন অন্য বন্ধু দরকার?

আমি খুব গুরুত্ব দিয়ে বলতেসি, আমি খুবই জোর দিচ্ছি, আপনারা এটাকে মজা মনে করবেন না। “ওহ, কি সুন্দর ছবি...” – এইটা আপনার জাহান্নামেরও টিকেট। আপনি আপনার চরিত্র নষ্ট করছেন। আপনি কি এমন কোন মেয়ে কে বিয়ে করবেন যার সাথে আর ১০০ ছেলের যোগাযোগ আছে। “হ্যাঁ, ও দেখতে বেশ সুন্দর, ওহ, তুমি অই মেয়েকে বিয়ে করেছ, আচ্ছা, আচ্ছা বেশ ভাল”। আপনার পরুষত্ব কোথায়? মুসলিমদের লজ্জাশীলতা থাকা উচিৎ, পুরুষ ও নারী উভয়েরই। এবং আমাদের নারীদের, কারও আপনার স্ত্রীর দিকে তাকানোর কথা না, কে ছাড়া?- আপনি। তার সৌন্দর্য আপনি ছাড়া আর কারও উপভগ করার কথা না। আপনার বিরক্ত হওয়া উচিৎ যদি কেউ আপনাকে এসে বলে “মাশাল্লাহ, আপনার স্ত্রী খুবই সুন্দর দেখতে”। এটাতে আপনার বিরক্ত লাগবে – তাই না? আমাদের এমন বিরক্তিই লাগা উচিৎ যখন আমরা মাহ্রাম নয় এমন কারও দিকে তাকাব। আমাদের মধ্যে লজ্জাশীলতা থাকতে হবে। আমি জানিনা এইটা কোথায় গেল। আজকাল এইটা মনে হয় ছুটি কাটাচ্ছে। অনেক মুসলিমের জন্যই সত্যি যে, তাদের শালিনতাবোধ ছুটি কাটাচ্ছে।

নিজের লজ্জাশীলতাকে ফিরিয়ে আনুন। এটা খুবই জরুরি, নাহলে আপনার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। আপনার বিয়ে সুখকর হবেনা, আর নিশ্চিতভাবেই আপনার বাচ্চারাও ভালভাবে গড়ে উঠবে না, যদি আপনার মধ্যে শালীনতাবোধ না থাকে। আপনার মাঝে অবশ্যই ‪#‎লজ্জাশীলতা‬ বা ‪#‎শালীনতাবোধ‬ থাকতে হবে।



আর টেলিভিশন এ যে নোংরা জিনিষ দেখান হয়, যা আপনারা দেখে থাকেন, আপনারা জানেন যে, মহানবী (সাঃ) আমাদের সাবধান করেছেন যে, তারা এমন কাপড় পড়ে যেন মনে হয় তারা কোন কাপড় পড়েনাই (শালীনভাবে), তিনি আমাদের এমন সময়ের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। “ওহ এইটা শুধু পিজি-১৩ মুভি, ঠিক আছে আমরা এইতাতে যেতে পারি, এটা শুধুই পিজি-১৩। অথবা এইটাতে শুধু একটা খারাপ দৃশ্য আছে, এইটা এমন খারাপ কিছু না”। “আপনি কি চান? আমরা কি করি? আমরা কি মুভিও দেখতে পারবনা? আমার বাবা আর মা আমাকে কিছুই করতে দেয়না”। “আমার জীবন এ দুঃখ ছাড়া কিছুই নেই, কারন আমি এইটা দেখতে পারিনাই ...... যাইহোক”। তাইনা? নিজের উপর নিয়ন্ত্রন আনুন। নিজেকে সবসময় বিনোদনের মধ্যে রাখার উপর নিয়ন্ত্রন আনুন। আপনি একজন মুক্ত মানুষ। টেলিভিশন আর মুভি এর বাইরেও জীবন আছে । আর who.com বা বিভিন্ন ওয়েবসাইট এর বাইরেও আছে। এইসব কিছুর বাইরেও জীবন আছে। এখনও বাইরে অক্সিজেন আছে, আপনার জীবন বেঁচে থাকবে, আমার কথা বিশ্বাস করুন। আপনি এইসব বাদ দিয়েও বেঁচে থাকবেন, বরং সুখেই থাকবেন।

আর যেহেতু আমি আপনাকে বলছি আপনি কি করবেন না, তাহলে আমাকে এটাও বলতে হবে যে আপনি কি করবেন, তাই না? মানে আপনি যদি এসব কিছু না করেন, তাহলে আপনি কি করবেন? খেলাধুলার জন্য সময় বের করুন। বাইরে যান, জগিং বা এরকম কিছু করুন। স্বাস্থ্যকর কোন অভ্যাস করুন, আমি বলছি না যে আপনাকে ধর্মীয় কোন কাজ করতে হবে, আমি এই মুহুরতে আপনাদের কাছ থেকে তা আশাও করিনা, কিন্তু আমি এটা আশা করি যে আপনি এমন কিছু করছেন যা আপনাকে খারাপ মানুষে পরিনত করছেনা। আপনারা কি বুঝতে পারছেন যে আমি কি বলতে চাচ্ছি? কমপক্ষে খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকুন। কমপক্ষে খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকুন।

যারা বয়স্ক আছেন তাদের কে বলছি। আপনাদের থেকে একটু সময় নিচ্ছি। যদি এমন হয় যে আমাদের তরুনেরা মসজিদে আসছে, কিন্তু তারা ইসলাম নিয়ে কিছুই শিখছে না, তারা এইখানে শুধু বসে আছে, পিজা খাচ্ছে বা এমনি কথা বলছে, হয়ত কোন ভিডিও গেম নিয়ে কথা বলছে। আমি খুবই আনন্দিত যে তারা এটা করছে, কারন তারা যদি এইখানে এইটা না করত, খুব সম্ভবত বাসায় তারা আর খারাপ কিছুই করত। তাই দয়াকরে এমন বলবেন না যে, “এই, বাচ্চারা এইখানে কি করছে?” দয়া করে এমন বলবেন না। তাদের কে এইখানে থাকতে দিন। কারন এখানে না থাকলে তারা আরও খারাপ কিছুই করবে। অন্তত তারা কোন ক্ষতি করছে না। তারা বাইরে অন্য যে কিছুর চেয়ে এইখানে ভাল আছে। আপনারা কি বুঝতে পারছেন আমার কথা? আমাদের তরুণদের কাছ থেকে সবচেয়ে ভাল আচরণ আশা করবেন না, কারন আপনারাই তাদের সেভাবে গড়ে তোলেননি। তাই, আপনারা কিভাবে তাদের থেকে এটা আশা করেন? আপনারা তাদের পাবলিক স্কুলে পাঠিয়েছেন, তারা নিজে থেকে যায়নি। আপনারা পাঠিয়েছেন, তাদেরকে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে অশালীন পরিবেশে ছেড়ে দিয়েছেন, আর যখন তারা এমন আচরণ করেনা, যেমন তাবিইন রা করতেন, তখন আপনি বলেন, “তারা কিভাবে এইটা করতে পারল?”। আপনি কিভাবে এইটা চিন্তা করেন? বাস্তবে আসুন, বাস্তবিক ভাবে চিন্তা করুন। এটাই বাস্তবতা। আমি নিবেদিতভাবে সমাজের বয়স্কদের বলছি, মসজিদে তরুণদের সাথে ভাল ব্যবহার করুন। তাদেরকে ভালভাবে গ্রহন করুন, তাদেরকে বের করে দিবেন না।

আর আমি নিবেদিতভাবে তরুণদের বলছি, আমার শেষ পরামর্শ শালীনতা নিয়ে, তারপর আমি শেষ করব ইনশাল্লাহ। আমি কথা দিচ্ছি, এটাই শেষ। সত্যি সত্যি বলছি। বন্ধুত্ব করার জন্য আরও ভাল মানুষ খুজে বের করুন। আপনার বন্ধুরা যদি অশালীন হয় তাহলে আপনিও অশালীন হবেন। আর যদি আপনার বন্ধুদের মাঝে শালীনতা আর ভদ্রতা থাকে তাহলে আপনার মধ্যেও শালীনতা আর ভদ্রতা থাকবে। যদি আপনার বন্ধুরা খারাপ হয়, তাহলে তারা তাদের সাথে আপনাকেও দোজখে টেনে নিয়ে যাবে। আপনি মনে করছেন যে তারা খুব cool, কিন্তু একদিন এমন সময় আসবে যখন আপনি দেখবেন তারা আসলে খুব hot (জাহান্নামের আগুনের মত)। তখন আর এটাকে cool মনে হবেনা। আমি দোয়া করি ইনশাল্লাহ আপনারা এই পরামর্শগুলো গুরুত্তের সাথে নিবেন, আমি এত কিছু নিয়ে বলতে চাইনি, কিন্তু বলতেই হল।

আমার মনে হয় যে আমি যথেষ্ট সময় ও সুযোগ পাইনা তরুণদের পরামর্শ দেয়ার জন্য। খুব সহজে বলতে গেলে, অশ্লীলতা পরিহার করুন, নিজের ভিতরের খারাপ প্রবৃত্তির মোকাবিলা করুন, ইনশাল্লাহ আপনার লজ্জাশীলতা ফিরে আসবে। আমি দোয়া করি যেন আপনারা এই দ্বীনের নেতৃত্ব দিতে পারেন, আর এর বার্তা বহন করতে পারেন আর যখন সময় আসবে তখন শক্তিশালী, স্বাস্থ্যকর মুসলিম পরিবার গঠন করতে পারেন। আপনারাই আমাদের নেতা। আপনারা এটা চান আর না চান। আগামি দশকে আপনারাই আমাদের সমাজের নেতা হবেন। আপনারা মিলেই এই সমাজ, আপনারা মিলেই ইসলাম ইনশাল্লাহ। এই দায়িত্ব আপনাদেরই। আল্লাহ আপনাদের কে এই দায়িত্ব ঠিক ভাবে পালনের তৌফিক দান করুন ইনশাল্লাহ, আর আল্লাহ আপনাদের পিতামাতাদের আপনাদেরকে সঠিক ভাবে গড়ে তোলার সুযোগ দান করুন। আল্লাহ আপনাদেরকে ভাল বন্ধু পেতে সাহায্য করুন, আর খারাপদের থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করুন। আল্লাহ আপনাদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে থাকতে সহায়তা করুন, আর অশালিনতার থেকে দূরে রাখুন। পিতামাতার সাথে কথা বলার সময় নিজের জিহ্বা সতর্ক করুন, সময় নষ্ট করা বন্ধ করুন, সালাতে নিয়মিত হউন।

আমি যদি ভাল আর সত্যি কিছু বলে থাকি তাহলে তা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে নিয়ামত। আর যদি কোন ভুল করে থাকি, তাহলে তার দায় আমার নিজের।

সুত্র: নোমান আলী খান
Nouman Ali Khan Collection In Bangla


0 comments
Labels: , , ,

দুনিয়া মু’মিনের জন্য জেলখানা, কাফিরের জন্য বেহেশত।- কথা কি সত্য ?

“মনে করে দেখো, যখন আমি বলেছিলাম, “এই শহরে প্রবেশ করো এবং এখানে তোমরা ইচ্ছেমতো যত খুশি খাও, কিন্তু এর দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় আমার প্রতি (কৃতজ্ঞতায়) অবনত হয়ে প্রবেশ করো এবং বলতে থাকো, “আমাদের পাপের বোঝা হালকা করে দিন!” তাহলে আমি তোমাদের দোষ-ত্রুটি-অন্যায় আচরণ ক্ষমা করে দিব এবং যারা ভালো কাজ সুন্দরভাবে করে তাদের পুরস্কার আরও বাড়িয়ে দিব। [আল-বাকারাহ ৫৮]

কু’রআনে এই কথাগুলো বার বার আসে: সুস্বাদু খাবারের কথা, জীবনকে উপভোগ করার কথা, আল্লাহর ﷻ সৃষ্টি করা এই অত্যন্ত সুন্দর পৃথিবী এবং আকাশ ঘুরে দেখা। আল্লাহ ﷻ আমাদেরকে কু’রআনে বার বার তাঁর অনুগ্রহের কথা চিন্তা করতে বলেছেন, আমাদেরকে হালাল উপায়ে জীবনকে উপভোগ করে আখিরাতে আরও বেশি আনন্দের জন্য চেষ্টা করতে বলেছেন।

কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত কারণে অনেক মুসলিমের ভেতরে একটি ধারণা চলে এসেছে যে, যদি একজন আদর্শ মুসলিম হতে চাও, তাহলে আজকে থেকে জীবনের সব আনন্দ ছেড়ে দিয়ে, কোনোমতে চলে–এরকম একটা জীবন-যাপন করো এবং নিজেকে যত পারো কষ্টের মধ্যে রাখো। হাজার হলেও, হাদিসে আছে: “দুনিয়া মু’মিনের জন্য জেলখানা, কাফিরের জন্য বেহেশত।”(তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, সহীহ মুসলিম)

এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা যে, একজন আদর্শ মুসলিম হতে হলে জীবনের সব হালাল আনন্দ, সম্পদ অর্জনের সুযোগ, উচ্চতর ডিগ্রি পাওয়ার চেষ্টা – এই সব ছেড়ে দিয়ে, গরিবের মতো জীবন যাপন শুরু করতে হবে। “সবসময় মুখ গম্ভীর করে রাখতে হবে, যেন মানুষ আমাকে দেখলেই বুঝতে পারে আমি একজন খাঁটি ঈমানদার। সস্তা, সাধাসিধে, তালি দেওয়া কাপড় পড়তে হবে, যেন আমাকে দেখলে মনে হয় আমি একজন আদর্শ সুন্নতি বান্দা। পরিবারকে নিয়ে ভুলেও রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া যাবে না, যতক্ষণ না দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে, সবাই যাকাত দিয়ে, সব গরিব মানুষ সচ্ছল হয়ে না যাচ্ছে। দিনরাত নিজেকে বিভিন্ন ধরনের কষ্টের মধ্যে রাখতে হবে। কারণ যত বেশি কষ্ট, তত বেশি সওয়াব”— এগুলো সবই ভুল ধারণা, যা হাদিসটির বিভিন্ন ধরনের অপব্যাখ্যা থেকে এসেছে। এধরনের অপপ্রচারের কারণে আজকাল মানুষ ‘ইসলাম’ মানেই মনে করে একটি বন্দি, হতাশাকর, বিষণ্ণ জীবন ব্যবস্থা।

এই দুনিয়াতে মানুষের আত্মাকে আল্লাহ ﷻ দেহ নামের এক জেলখানায় ভরে দিয়েছেন। এই জেলখানায় থাকার অনেক নিয়মকানুন আছে। এখানে কিছু কাজ করা নিষিদ্ধ, কিছু কাজ নিয়মিত করা বাধ্যতামূলক। এই নিয়মগুলো দেওয়া হয়েছে জেলখানার সবার ভালোর প্রতি লক্ষ রেখে, জেলখানায় নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। এই হচ্ছে জেলখানার প্রকৃতি। একজন মু’মিনের কাছে এই ব্যবস্থাকে একটা জেলখানার মতো মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই বাস্তবতা এবং সে সেটা মেনে নেয়।

কিন্তু অবিশ্বাসীরা এটা বিশ্বাস করতে চায় না যে, একদিন কিয়ামত হবে, বা মৃত্যুর পরে আর কোনো জীবন আছে। তারা মনে করে: এই দুনিয়াটাই হচ্ছে তাদের বেহেশত— এখানে কোনো নিয়ম নেই, কোনো নিষেধ নেই, যখন যা খুশি তাই করা যাবে। যেহেতু তাদের কাছে এই দুনিয়াটাই হচ্ছে একমাত্র জীবন, এর পরে আর কোনো অস্তিত্ব নেই, তাই তারা এই দুনিয়াটাকে তাদের মতো করে বেহেশত বানিয়ে, যতটুকু সম্ভব আমোদ ফুর্তি করে যেতে চায়। এই দুনিয়ার মতো ক্ষণস্থায়ী একটা জায়গা, যেখানে অসুখ হয়, প্রিয়জনেরা হারিয়ে যায়, পদে পদে নানা কটু কথা, অন্যায় সহ্য করতে হয়–এটাই তাদের শেষ বেহেশত। এর পরে আর কিছু পাওয়ার আশা নেই।

এরকম একটি ধারণা মানুষকে কতখানি হতাশ করে দেয়, সেটা আমাদের মুসলিমদের পক্ষে চিন্তা করাটা কঠিন। একটা মানুষ যখন প্রতিদিন নিজেকে বোঝায়: “একদিন আমি মরে যাবো, আর এই সবকিছু হারিয়ে যাবে, আমার পরিবার আমাকে ছেড়ে চলে যাবে, আর কোনোদিন আমি তাদেরকে পাবো না; আমার সব সম্পত্তি একদিন আমার কাছ থেকে চলে যাবে, আমার অস্তিত্ব একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, আর মাত্র কয়েকটা বছর, তারপর সব শেষ”–কি ভয়ংকর হতাশাকর পরিস্থিতির মধ্যে তাকে জীবনটা পার করতে হয়। সে তখন মরিয়া হয়ে যায় এই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে যত বেশি করে পারে আনন্দ করে নিতে। তখন সে বন্ধু বান্ধব নিয়ে মরিয়া হয়ে ড্রিঙ্ক করে মাতাল হয়ে যায়। যৌবন শেষ হয়ে গেল, শরীর নষ্ট হয়ে গেল–এই তাড়নায় ছুটতে থেকে অশ্লীল কাজে গা ভাসিয়ে দেয়।

তারপর শরীর এবং মন ভর্তি অসুখ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে। একসময় সে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তার ভয়ংকর আসক্তির জন্য এবং জঘন্য সব স্মৃতিকে ভুলে থাকার জন্য নিজেকে অ্যালকোহলে, ড্রাগে বুঁদ করে রাখতে হয়। এদেরকে বাইরে থেকে দেখে অনেক আমোদে আছে, জীবনটা অনেক উপভোগ করছে মনে হলেও, রাতে ঘরে ফেরার পর যখন তারা একা হয়, তখন তাদের উপরে হঠাৎ করে নেমে আসে ভয়ংকর বিষণ্ণতা, অবসাদ এবং হতাশা। তাদের জীবনে আর বড় কোনো গন্তব্য নেই, বড় কোনো উদ্দেশ্য নেই। এই নষ্ট দুনিয়াটাই তাদের শেষ চাওয়া-পাওয়া।

আপনারা যদি পাশ্চাত্যের অমুসলিমদের মুসলিম হওয়ার ঘটনাগুলো পড়েন, দেখবেন তাদের ঘটনায় একটি ব্যাপার বার বার ঘুরে ফিরে আসে: তাদের অনেকেই দিনরাত ফুর্তি করত, ব্যভিচার, মদ ছিল তাদের জীবনে খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। শনি-রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বারে গিয়ে সারারাত ড্রিঙ্ক করে মাতাল হয়ে আসত। তারপর যখন সোমবারে হুঁশ ফিরত, এক ভয়ংকর হতাশা, বিষণ্ণতায় ডুবে যেত। জীবনটা তাদের কাছে অসহ্য মনে হতো। নিজের কাছে নিজেকে একটা পশু মনে হতো। “জীবন কি এটাই? জীবনে কি এর চেয়ে বড় কিছু নেই? এভাবে নিজেকে শেষ করে দিয়ে কি লাভ?”—এই ধরনের প্রশ্ন তাদেরকে পাগলের মতো তাড়িয়ে বেড়াত। তাদের জীবনে কোনো সুখ ছিল না, ছিল কিছু ক্ষণস্থায়ী ফুর্তি। হতাশা, বিষণ্ণতা, অশান্তি এবং নিজেকে শেষ করে দেওয়ার একটা অসহ্য ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখার জন্য তাদেরকে দিনরাত নিজের সাথে সংগ্রাম করতে হতো, নিজেকে মদে বুঁদ করে রাখতে হতো।


আল্লাহ ﷻ আমাদেরকে এর ঠিক উল্টোটা করতে বলেছেন। তিনি আমাদেরকে যে জীবন-বিধান দিয়ে দিয়েছেন, সেভাবে জীবন পার করলে এই দুনিয়াতেই আমরা হাসিখুশি থাকতে পারব, নিজের জীবনে, পরিবারে, সমাজে, দেশে শান্তি নিয়ে আসতে পারব। একই সাথে মৃত্যুর পরে অনন্তকাল পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে অনাবিল, অফুরন্ত শান্তিতে জান্নাত উপভোগ করতে পারব। তিনি আমাদেরকে বলেননি এই দুনিয়াতে নিজেদের উপরে ইচ্ছা করে কষ্ট দিতে। বরং তিনি পৃথিবীতে অসংখ্য হালাল আনন্দের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং সেগুলো উপভোগ করার নির্দেশ কু’রআনেই দিয়েছেন—

আল্লাহ তোমাদেরকে এই জীবনে যা দিয়েছেন, তা ব্যবহার করে এর পরের জীবনকে পাওয়ার জন্য চেষ্টা কর, কিন্তু সেই সাথে এই দুনিয়াতে তোমার যে প্রাপ্য রয়েছে, সেটা ভুলে যেও না। অন্যের সাথে ভালো কাজ কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দিয়েছেন। এই পৃথিবীতে দুর্নীতি ছড়ানোর চেষ্টা করবে না। দুর্নীতিবাজদের আল্লাহ পছন্দ করেন না! [আল-কাসাস ২৮:৭৭]


বল, “কে তোমাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট সৌন্দর্য এবং ভালো-পবিত্র খাবার উপভোগ করতে মানা করেছে, যা তিনি তার বান্দাদের জন্যই তৈরি করেছেন?” বলে দাও, “এগুলো তাদেরই জন্য যারা এই দুনিয়াতে বিশ্বাস করে: কিয়ামতের দিন এগুলো শুধুমাত্র তাদেরই হবে।” এভাবেই আমি আমার বাণীকে পরিষ্কার করে দেই বুদ্ধিমান লোকদের জন্য। [আল-আরাফ ৭:৩২]


ও প্রভু, আমাদেরকে এই দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন। আর আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেন। [আল-বাকারাহ ২:২০১]

উপরের আয়াতগুলো এবং বাকারাহ-এর আলোচ্য আয়াতের মূলকথা একটাই: জীবনকে উপভোগ করতে হবে আল্লাহর প্রতি অনুগত থেকে, কৃতজ্ঞ থেকে এবং পাপের ব্যাপারে সবসময় সাবধান থেকে। মনে রাখতে হবে, দুনিয়াতে আমরা যা কিছুই উপভোগ করব, কিয়ামতের দিন সেগুলোর সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। সুতরাং আমরা যেন উপভোগ করতে গিয়ে আল্লাহর ﷻ অবাধ্য না হই। এমন কিছু যেন করে না ফেলি, যেটা কিয়ামতের দিন আমাদেরকে দেখানো হলে আমরা লজ্জায় কিছু বলতে পারব না।

আমরা পৃথিবীতে আল্লাহর ﷻ তৈরি সৌন্দর্য, ভালো-পবিত্র খাবার যখন ইচ্ছে উপভোগ করতে পারি, যদি সেটা আল্লাহর ﷻ প্রতি অনুগত অবস্থায়, তাঁর দেওয়া নিয়মের মধ্যে থেকে করি, এবং একই সাথে আমরা যে সবসময় ভুল করছি, সেটার জন্য তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। এরকম বিনীত, কৃতজ্ঞ অবস্থায় পৃথিবীতে আল্লাহর ﷻ অসাধারণ অনুগ্রহগুলো পরিমিতভাবে উপভোগ করে, জান্নাতে গিয়ে অনন্তকাল আনন্দ করার চেষ্টার মধ্যে কোনোই বাধা নেই

(সোর্স এবং আরো বিস্তারিত দেখুন এখানে- উস্তাদ নুমান আলী খানের তাফসীরের প্রেরণায় বাংলা ভাষায় অসাধারণ এই সাইট থেকে - http://quranerkotha.com/baqarah-58/ )

0 comments
Labels: , , ,

আজকে "ব্লগার" একটি গালি! ধার্মিক মানেই মৌলবাদী, সন্ত্রাসী! মুক্তমনা মানেই ভন্ড।

বাংলাদেশী অনলাইন জগতে এখন সবচেয়ে আলোচিত শব্দ হচ্ছে "মুক্তমনা।" একদল লোক শব্দটিকে গালি বানিয়ে দিয়েছে। তাদের কাছে মুক্তমনা মানেই কাফের, নাস্তিক, এদের ফাঁসি চাই। আরেকদল নিজেদের মুক্তমনা দাবি করে নিজেদের মনের পারভার্টনেস, গালাগালি, মস্তিষ্কের পায়খানা ইত্যাদি বের করে এনে অনলাইন জগৎকে দূষিত করছে। আজকে হঠাৎ করেই মনে হলো, এ নিয়েই কিছু কথা বলে ফেলি।
তাহলে একটু ঘুর পথেই মূল বিষয়ে যাওয়া যাক।

মত প্রকাশের অধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার। মায়ের পেট থেকে সে স্বাধীন হয়েই বের হয়। তাঁকে কেউ পরাধীন বানালে সেটা মানুষ বানায়, প্রকৃতি নয়। জন্মের পর থেকেই নানান অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে বড় হতে থাকে। তাঁর মস্তিষ্কের ব্ল্যাংক হার্ডডিস্কে ধীরে ধীরে নানা তথ্য জমা হতে থাকে। এবং অতি স্বাভাবিক কারনেই তাঁর মনে নানান বিষয়ে নানান সময়ে নানান প্রশ্ন জেগে উঠে। কিছু কিছু বিষয়ে তাঁর একান্ত নিজস্ব মত সৃষ্টি হতে থাকে। এবং এই প্রশ্ন করার অধিকার, এবং কোন বিষয়ে মত প্রকাশের অধিকারটাই তাঁর জন্মগত অধিকার। আমাদের কাউকে ক্ষমতা দেয়া হয়নি সেই অধিকার দাবিয়ে রাখার।

এখন সেই মত প্রকাশের বা প্রশ্ন করার মাঝে একটা শালীনতা, একটা পরিমিতি বোধ থাকা প্রতিটা মানুষেরই উচিৎ। আমার হাতে রাইফেল ধরিয়ে দিলেই আমি গুলি করে যাকে তাকে মেরে ফেলতে পারিনা। এইটুকু বিবেক বোধ আমার থাকাটা জরুরী।যখনই কেউ সীমা অতিক্রম করে, তখন সেটা আর মুক্তমন থাকেনা, ফাজলামি হয়ে যায়। এখন আমাদের দেশে ঠিক যেটা চলছে।
ব্যাখ্যা করলে কিছুটা স্পষ্ট হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যৌবনে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁর "ব্লগের" উপসংহারে লিখেন, "ইহা আসলে কোন মহাকাব্যই নয়।"এখন মাইকেলের ভক্তেরা যদি রবীন্দ্রনাথের উপর ক্ষেপে গিয়ে ব্লগিং শুরু করে দেন যে "এই শালা বউদির সাথে প্রেম করে, যেখানে সেখানে প্রেম করে, লুইচ্চা ব্যাটা মহাকাব্যের কী বুঝে?" এবং অফ টপিক সমালোচনা, ব্যক্তিগত আক্রমন। সেটা আর মত প্রকাশ থাকেনা, মুক্তমনেরতো ধারে কাছেও যায় না। এইটাই ফাজলামি। আসল মুক্তমনারা রবীন্দ্রনাথের সাথে সুস্থ আলোচনায় বসবে, এবং যদি আলোচনা ফলপ্রসু না হয় তাহলে যে যার বিশ্বাস নিয়ে স্থির থাকবে। তবু ভদ্রতার সীমা অতিক্রম করবে না।
কথা প্রসঙ্গে বলে ফেলি, শেষ বয়সে রবীন্দ্রনাথ বুঝতে পেরেছিলেন যৌবনে তিনি কী ভুলটাই না করেছিলেন। তিনি তাই নিজের সমালোচনা করে বলেছিলেন, মেঘনাদবধ কাব্যের মাহাত্য বুঝার মত বয়স তখন তাঁর ছিল না।
এমনি এমনি কেউ "কবিগুরু" হয়না। বিশাল একটা কলিজা থাকা লাগে।
এখন সরাসরি পয়েন্টে আসি।

আজকাল মুক্তমনার ছদ্মবেশে মানুষ ধর্মকে সরাসরি আক্রমন করছে। ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখালেখি এক বিষয়, আর ফাজলামি ভিন্ন। দেশে এখন ফাজলামি চলছে বেশি। যেমন, কেউ যদি হিন্দু ধর্মের গোড়ামির সমালোচনা করতে চায়, সে বর্ণ প্রথা নিয়ে সমালোচনা করুক। "বিধবা নারীর বিবাহ শাস্ত্র সিদ্ধ নয়," "সতিদাহ প্রথা মহাপুন্যের," "ব্রাক্ষণের সঙ্গে যৌন মিলনে পাপ নেই" - ইত্যাদির বিরুদ্ধে বলুক। এবং তারচেয়ে বড় কথা, নিজে সেটা পালন করুক।
কিন্তু কৃষ্ণ, রাম, শিবদের নামে খিস্তি গাওয়ার কী মানে?এর মানে একটাই, তাদের মূল উদ্দেশ্য সমাজ সংস্কার নয়, তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য উস্কানি।ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যা সাগর নিজের পুত্রের বিয়ে এক বিধবা নারীর সাথেই দিয়েছিলেন। যতদূর জানি, ঈশ্বর চন্দ্র কোন লেখায় কোন ধর্মকে আক্রমন করে কিছু লিখেননি।

তাই আমরা দেখতে পাই, "মুক্তমনার" দাবি তোলা এইসমস্ত ব্লগাররা কখনই সমাজ বদলের জন্য তেমন মুখ্য ভূমিকা রাখেননা। তারা অনলাইনে গালাগালি আর উস্কানি নিয়ে ব্যস্ত। সোমালিয়ায় একটি এতিম শিশুকে দেখভাল করতে মাসে মাত্র তিরিশ ডলার লাগে। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশে খরচ এর কাছাকাছিই হবে। কখনই দেখবেন না এইসব মুক্তমনাদের এইসব এতিম শিশুদের দেখভাল করতে।

আমি একবার এক মানবতাবাদী মুক্তমনাকে দেখেছিলাম রিক্সাওয়ালাকে ঠাস করে চড় মারতে। কারন সে ন্যায্য ভাড়ার চেয়ে পাঁচ টাকা বেশি চেয়েছিল। রিক্সাওয়ালার যুক্তি, সেদিন গরম বেশি ছিল।
মানুষের প্রতি মমতা এদের অনলাইন জগতেই সীমাবদ্ধ। আর পশুপাখির প্রতিতো নেই বললেই চলে।
এক সাইকোকে চিনতাম যে ক্ষধার্ত কুকুরের উপর গরম পানি ঢেলে দিয়ে খুব মজা পেত। চামড়া ঝলসে যাওয়ার যন্ত্রনায় কুকুরের চিত্কার শুনতে তার খুব ভাল লাগতো। সেই কিনা আবার নিজেকে মুক্তমনা দাবি করে মাঝে মাঝে স্ট্যাটাস দেয়।

তবে যারা আসলেই মানবতাবাদী, তাঁরা ফালতু খিস্তি আওরান না। তাঁদের মানসিকতাই ভিন্ন। এরাই অ্যাগনস্তিক, মানে হচ্ছে লজিক্যাল এবং তারচেয়েও ভদ্র, নাস্তিক। মোটেও ফাজিল নয়। আমার বন্ধু তালিকায় এদের সংখ্যা প্রচুর।
আর এইদিকে সেসব উস্কানিমূলক লেখা পড়ে মুমিন মুসলমানের রক্ত টগবগিয়ে ফুটে। তারা ঝাপিয়ে পড়ে মানুষ খুনের কাজে। এমন ভাব যেন ইসলাম বিপন্ন, এরা না মরলে ইসলামের সম্মান ধুলায় লুটাবে। নারায়ে তাকবির! আল্লাহু আকবার!

আহারে মুসলিম! আল্লাহর উপর এই তোদের ভরসা! এই তোদের রাসুলের নির্দেশ মেনে চলা?
এর ফলে পরিচিতি পাচ্ছে ইসলাম একটি সন্ত্রাসী ধর্ম। মুসলিম মানেই সন্ত্রাসী!
এদের কিছু বুঝাতে যাবেন, আপনি হবেন কাফির। আপনিও হবেন নাস্তিক।
একদিকে তথাকথিত মুক্তমনা, অন্যদিকে এইসমস্ত মূর্খ মৌলবাদী - আমাদের অবস্থা পিষ্ট হওয়া মরিচের থেকেও দফারফা।
এইবার আসা যাক আসল পয়েন্টে।

বিরাট সংখ্যক মুসলমানদের একটা বিশ্বাস আছে যে আমাদের ধর্মকে কোন রকম প্রশ্ন করা যাবেনা। যা আছে, চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে হবে। কারন ঈমানের আভিধানিক অর্থই বিশ্বাস। এবং ইসলাম শব্দের অর্থ আত্মসমপর্ন। নবীজি (সঃ) যা বলেছেন, আল্লাহ যা বলেছেন, চোখ বন্ধ করে আত্মসমর্পণ করে ফেলার নামই ঈমান।
কিন্তু কিউরিয়াস মন মাঝে মাঝেই জানতে চায়। এটা কেন হলো? ওটা কেন হলো? এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রশ্ন করার অধিকার কী ইসলাম আমাকে দিচ্ছে? উত্তর হচ্ছে, আপনার পাড়ার মোল্লা হয়তো নাও দিতে পারেন, ইসলাম কিন্তু সেই অধিকার দিচ্ছে।
উদাহরণ দিচ্ছি।

আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুলের নাম কেউ কেউ হয়তো শুনেছেন। এই লোকটাকে বলা হতো মুনাফেক সর্দার। এক নম্বরের বিশ্বাসঘাতক। এই সেই শয়তান যে আরও অনেক অপকর্মের পাশাপাশি হজরত আয়েশার (রাঃ) নামে কুৎসা রটিয়েছিল। মানে নবীজির (সঃ) তার পারসনালপার্সোনাল শত্রুতা থাকার যথেষ্ট কারন ছিল।যেদিন সে মারা গেল, এবং সেটি ছিল ন্যাচারাল ডেথ, কোন কোপাকোপি নয়; নবীজি (সঃ) গেলেন তার জানাজায়। তিনি নিজে তার কবরে নেমে তাকে মাটিতে শুইয়ে দিলেন। নিজের গায়ের কাপড় দিয়ে তার কাফন জড়ালেন। যদি কোন বাহানায় আল্লাহ এই মুনাফেককে মাফ করেন!

ছোট নোট, নবীজির এই ক্ষমার বৈশিষ্ট্য মুক্তমনা কিংবা মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের কারও নজরে পরবে না। এরা কাব বিন আশরাফ কাব বিন আশরাফ বলে লাফাতে থাকবে। বিরক্তিকর!  ছিদ্রান্বেষী না হয়ে যদি কেউ সত্যান্বেষী হতো, তাহলে অবশ্যই তাদের চোখে পড়তো।

তা যা বলছিলাম, নবীজির (সঃ) এহেন কর্মে অবাক হয়ে এক সাহাবী প্রশ্নই করে বসলেন, "হে আল্লাহর দূত! আল্লাহ কী আপনাকে নিষেধ করেননি এদের জন্য ক্ষমা চাইতে?"নবীজির কর্মকান্ডে প্রশ্ন করার সাহস কারোরই ছিল না। একজন বাদে। হজরত উমার(রাঃ)। যিনি ছিলেন "আল ফারুক" - সত্য মিথ্যার প্রভেদকারী। নবীজি (সঃ) তখন উত্তরে বললেন, "ইয়া উমার(রাঃ)। আল্লাহ আমাকে বলেছেন তুমি যদি সত্তুরবারও ওদের জন্য ক্ষমা চাও, তবুও আমি মাফ করবো না। তাই আমি একাত্তুরবার ক্ষমা চাইবো। যদি তিনি মাফ করেন!"
তাহলে এই ঘটনায় আমরা কী পাই? নবীজিকেও প্রশ্ন করা যায়। কেন এমন হচ্ছে? অমন কেন হচ্ছে না?
আরেকটা উদাহরণ লাগবে?

হুদায়বিয়ার সন্ধি। এখানেও প্রশ্নকর্তা সেই একই ব্যক্তি, উমার(রাঃ)।
"আপনি কী রাসূল নন? আমরা কী সৎপথে চালিত নই? ওরা কী জুলুমকারী নয়? তাহলে কেন সন্ধির এই অপমানজনক শর্তগুলো মেনে নিলেন? একে বিজয় বলছেন? কিভাবে?"
এক গাদা প্রশ্ন! বা সেই সাহাবিকেই বা আমরা কিভাবে ভুলে যাই যিনি নবীজিকে গিয়ে বলেছিলেন, "আমাকে ব্যাভিচারের অনুমতি দিন। আমি এবং মেয়েটি যদি পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যভিচারে লিপ্ত হই, তাহলে কেন সেটি পাপ হবে?"কথা হচ্ছে, তিনি কী একবারও প্রশ্ন শুনে কাউকে কোপানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন?

এই গেল নবীজি। আপনারা কী জানেন আল্লাহকে পর্যন্ত প্রশ্ন করা যায়?
আদম সৃষ্টির ইচ্ছা প্রকাশ করলে ফেরেস্তাদের রিয়েকশন কী ছিল? "কেন আপনি ওদের সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন? ওরাতো পৃথিবীতে গিয়ে ঝামেলা ছাড়া আর কিছুই করবেনা। আপনার ইবাদতের জন্য কী আমরাই যথেষ্ট নই?"
জ্বী, প্রশ্ন করার অধিকার ইসলামে আছে। তাই কেউ প্রশ্ন করলেই মারতে তেড়ে যাবেন না। নিজের সর্বোচ্চ বিদ্যা দিয়ে বুঝাবেন। না পারলে ক্ষমা চেয়ে নিবেন, এবং নিজেও সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা নিবেন। এতে আপনার নিজের জ্ঞান বাড়বে। কুপিয়ে দিলে জাহান্নামের খাতায় নিজের নামটা লেখানো ছাড়া আর কিছুই লাভ হবেনা।
এবং কে বলেছে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কখনও কিছু লেখা যাবেনা?

আপনি ইসলাম ধর্মে প্রচলিত নানান কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলুন, সমস্যা কী? আমি নিজে কী বলছি না? পীর ব্যবসা, পীর পূজা, কবর পূজা, মাজার ব্যবসা, ঝারফুক থেকে শুরু করে ধর্মের নামে কুপিয়ে মানুষ হত্যা - সবকিছুর বিরুদ্ধেইতো লিখছি। ইসলামী রেফারেন্স দিয়ে দিয়েই লিখছি। কেউ আসুক প্রমান নিয়ে, ভুল ধরিয়ে দিক। আমি তাহলে নিজের কথা ফিরিয়ে নিব। সেটা মুক্তমনা হোক, বা কাঠমোল্লা।

আমাদের বাঙালিদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা আমাদের ভদ্রতার স্ট্যান্ডার্ড দিন দিন একদম পাতালে নামিয়ে আনছি। একটা সময়ে কেবল ভদ্রজনেরাই লেখালেখি করতেন। আফসোস! আজকে "ব্লগার" একটি গালি! আগে ধার্মিকদের দিকে মানুষ শ্রদ্ধার সাথে তাকাতো। আজকাল ধার্মিক মানেই মৌলবাদী, সন্ত্রাসী! 
Written by: মঞ্জুর চৌধুরী 

0 comments