শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Labels: ,

কোরআনের ভাষাগত সৌন্দর্য:পর্ব ৪/ সূরা আল মুদ্দাসসির আয়াত:৩

وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ

ওয়া রাব্বাকা ফাকাব্বির
আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষনা করুন,
(৭৪) সূরা আল মুদ্দাসসির ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত :৩



দেখুন কোরআনের ভাষা ও শব্দের সৌন্দর্য
এই আয়াত টা এমন যে উল্টা করে পড়লে অক্ষর বিন্যাস প্রায় একই থাকে।

কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করা যেতে পারে:

১। কোরআনের আয়াত প্রথমে মুখস্ত করা হয়, এবং মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে আয়াত নাযিল হওয়ার পরে তিনি সাহাবিদের বলতেন অতঃপর সাহাবিরা মুখস্ত করে লিখে রাখতেন, আপনি বসে সময় নিয়ে চিন্তা করে এমন বাক্য বানাতে/লিখতে পারেন তবে তা অবশ্যই অনেক কস্টকর ও সময়সাধ্য ব্যপার। কিন্তু হটাৎ করে বলা --> আপনি মাত্র একটি চান্স পাবেন ঠিক ভাবে বলার জন্য কারন মুহাম্মদ (সঃ)যা বলতেন সাথে সাথে সাহাবিরা তা মনে রাখার জন্য চেস্টা করতেন এবং লিখে রাখতেন। তাই মুহাম্মদ (সঃ) কোন চান্স নেই যা বলতেন তা ফিরিয়ে নিয়ে আবার ঠিক করে বলার।

২। দ্বিতীয়ত এই আয়াতটার সাথে এটার আগে পরের আয়াতও একসাথে পড়া হয় (সম্ভবত একসাথেই নাযিল হয়), এ আয়াত টা বাক্যের মাঝের একটা আয়াত আর আসল ব্যপার হল এই আয়াতের অর্থ এত সুন্দর ভাবে বাকো আয়াতের সাথে মিলে যে এটাকে উল্টো ভাবে পড়লে ও এটার অর্থের সঙ্গতি ও মুল ভাব পরিবর্তন হয় না।

৩।এই আয়াতটা এমন যে অক্ষর উলটা করিয়া পড়লেও একই থাকে সেটা তখন কার সময়ে জানা ছিল না এটা অনেক পরে ইসলামি ভাষাবিদ / ভাষাতত্ত্ব পণ্ডিতরা পরে খুজে বের করেন। এটা এমন না যে মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন দেখ এইযে আয়াতটা এটা দু দিক থেকে একই ইত্যাদি, এটা সেখানেই ছিল সর্বদা কারন এটা আল্লাহন বানী মানুষ রচিত নয়।

অনুবাদ করে লিখেছেন-  ফয়সাল হাসান

0 comments
Labels: ,

কোরআনের ভাষাগত সৌন্দর্য: পর্ব ৩ ইসলামে পিতা মাতার অধিকার


আমরা দেখবো কিছু গুরুত্বপুর্ন কোরআনের আয়াত যা আলোচনা করেছে দুটি খুবই গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে যেমন-

وَقَضَى رَبُّكَ أَلاَّ تَعْبُدُواْ إِلاَّ إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاَهُمَا فَلاَ تَقُل لَّهُمَآ أُفٍّ وَلاَ تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا
তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদের সাথে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। ১৭) সূরা বনী ইসরাঈল ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত ২৩

একটি হল: আপনার পালন কর্তা/ প্রভু একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা (এই আয়াতের প্রথম অংশ ডিমান্ড করে আল্লাহর অধিকার আমাদের উপরে) আর দ্বিতীয়টি বলা হয়েছে পিতামাতার সাথে সবচেয়ে ভাল ব্যবহার করা আর এটা বলা হয়েছে আল্লাহর অধিকার সম্পর্কে বলার পরেই এতেই বুঝা যায় আল্লাহ কত গুরুত্ব দিয়ে কথাগুলো বলেছেন।

আপনি যদি প্রথম অংশ দেখেন তবে মনে হবে শুধু আল্লাহ সম্পকে বলা হয়েছে কিন্তু পুরোটা আয়াত দেখলে বুঝবেন যে বেশিরভাগই পিতা মাতা সম্পকে বলা হয়েছে।

আল্লাহ ছারা অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। পিতা-মাতার মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদের সাথে শিষ্ঠাচারপূর্ণ/ সুন্দর/ আদবের সাথে কথা।

আল্লাহ একের পর এক পিতা মাতার প্রতি দায়িত্ব তাদের প্রতি উহ শব্দটিও না বলা, ধমক না দেয়া এবং সবচেয়ে ভাল মধুর সুন্দর কথা বার্তা বলতে বলেছেন, আর শুধুমাত্র একটি বার আল্লাহ সম্পকে বাকি পিতামাতা
মানে আল্লাহ --> পিতা-মাতা-->পিতা-মাতা-->তাদেরকে--> তাদের সাথে--> ।


তবুও একটি বিষয় দেখতে হবে যে আল্লাহ তার সম্পর্কে প্রথমে বলেছেন মানে হচ্ছে আপনি আপনার পিতা মাতার প্রতি ভাল ব্যবহার উত্তম আচারন করতে পারবেন না যদি না আপনি আল্লাহর বান্দা/গোলাম না হন (মানে আল্লাহর সন্তুস্টির জন্য যদি না করেন)

তাহলে বুঝা যাচ্ছে যে আপনি যদি প্রথম অংশ ভালভাবে না মানেন তবে আপনি পরের অংশেও ঠিক মত পালন করতে পারবেন না, মানে আপনি যদি পিতামাতার সাথে ভাল ব্যবহার না করেন, তবে আপনি আল্লাহর বান্দা নন।

সবচেয়ে ভাল ব্যবহার বেস্ট বিহেভ বলতে কি বুঝায় :আল্লাহ উক্ত আয়াতে আরো বলেন ওবিল ওলিদাইনে ইহসানান وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانً তিনি বলেন নি ওয়া ইহসানান বিল ওয়ালিদাইনি তবে অর্থ ভিন্ন হত,
ওবিল ওলিদাইনে ইহসানান মানে স্পেশালি যখন পিতামাতার ব্যপার এবং শুধুমাত্র পিতা মাতার ব্যপারে আপনাকে অবশ্যই বেস্ট বিহেভ সেরা আচরন করতে হবে


আল্লাহ জানেন আপনার পক্ষে বসের কাছে ভাল/সেরা আচরন করা ইজি হবে কারন নাইলে চাকরি থাকবেনা, আপনার পক্ষে স্যার/প্রফেসরে কাছে ভাল/সেরা আচরন করা ইজি হবে কারন নাইলে আপনি পাস করতে পারবেন না বা নম্বর কম পাবার সম্ভাবনা থাকে, আপনার পক্ষে বন্ধু / প্রমিকা/প্রেমিকের কাছে ভাল/সেরা আচরন করা ইজি হতে পারে কারন আপনাকে সে ছেরে চলে যেতে পারে কিন্তু যখন পিতা মাতার ব্যপার আসে আপনি গুরুত্ব দেননা আপনি মনে করেন তারা আর কি ইত্যাদি

ধরুন আপনি যখন ফোনে কথা বলছেন বা কম্পিউটারে গেম খেলছেন আপনার আম্মা আপনাকে খাবারের জন্য ডাকলে আপনি কি বলেন আসছি , কি? দারাও, ধুর পরে খাব ইত্যাদি এজন্যই আল্লাহ বলেন ওবিল ওলিদাইনে ইহসানান وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانً মানে যখনই তারা আপনাকে ডাকবে তাদের জন্য দুনিয়াবি সবকিছু বাদ দিয়ে তাদের ডাকে সারা দিতে।

দ্বিতীয়ত বলা হয়েছে যখন তারা বার্ধক্যে উপনীত হবেন এজন্যই যে যখন তারা বার্ধক্যে উপনীত হবেন তখন আপনি পুর্ন যুবক বা নিজে স্বাবলম্বি থাকবেন এবং তখন আপনি মনে করেন আপনি আপনার নিজের ডিসিশন নিতে পারবেন নিজের পরসোনাল জীবন আছে ইত্যাদি আর তারা আপনাকে এখনো ছোট মনে করে তারা বুঝে না ইত্যাদি তাদের প্রতি আপনি মনে মনে নালিশ করেন/ বিলাপ করেন/অভিযোগ করেন অথবা বন্ধুদের সাথে বলেন আপনার পিতা মাতা আপনাকে কস্ট দিচ্ছে ইত্যাদি

আল্লাহ তাই বলেন স্পেশালি যখন তারা বার্ধক্যে উপনীত হবেন , যখন তাদের ডিমান্ড বেশি থাকে, তাদের আচরন শিশুদের মত হয়ে যায়, যখন তারা একা হয়ে যায় তখন আরো বেশি কেয়ার নিতে তাদের প্রতি উফ করতে না, আর এটা অবশ্যই একটা কঠিন কাজ।

তাই যদি আপনি প্রথমত আল্লাহর এবং দ্বিতীয়ত আপনার পিতামাতার জন্য তাদের দিকে সুনজরে না তাকান তাদের প্রতি বেস্ট ব্যবহার না করেন তবে এটা আপনার কাছে অনেক কঠিনই মনে হবে, এজন্যই আল্লাহ বন্দাদের মনে করিয়ে দেন আল্লাহর কছে ফিরে যেতে হবে আল্লাহর জন্য হলেও আপনি যেন পিতা মাতার প্রতি ভাল ব্যবহার করেন।

পরের আয়াতে আল্লাহ বলেন وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন। ১৭) সূরা বনী ইসরাঈল ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত ২৪

আল্লাহ এখানে নম্রভাবে মাথা নত করে দাও বলেছেন এজন্যই কারন আমাদের পিতা মাতা আমাদের কিছু বল্লে আমরা অনেকে সেটা শুনি না , তাদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেই (আমাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ) আমরা ভুলে যাই আমরা আমাদের মা কে কত কস্ট দিয়েছি তার গর্ভে থাকতে তার অবস্থাটা চিন্তা করুন আপনার জন্য তাকে প্রত্যেক আধা ঘন্টায় বমি করার মত অবস্থা আর দশ মাস আপনাকে লালন পালন করে যখন আপনি দুনিয়াতে আসেন তখনো তার কলিজায় লাথি মেরে বের হন যখন তার জান যায় যায় অবস্থা শুধু মাত্র আপনার জন্য , তাই আপনি যদি ঈমানদার নাও হন অন্তত আপনার মার জন্য তো অবশ্যই সবসময় আপনা মাথা নত করা উচিৎ। তাই আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দেন যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন সুবহানাল্লাহ।

শেষে আল্লাহ বলেন তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর: মিনার রহমা মুলত বুঝায় :

১। তাদের প্রতি নম্র হতে যদিও আপনার এবিলিটি/সুযোগ আছে নম্র না হওয়ার কিন্তু আপনার করা আবশ্যিক কারন তারা সেই বয়সে যখন আপনার দয়া/ অনুগ্রহ /রহম তাদের দরকার/প্রয়োজন।

২। তারা তাদের দয়া/ অনুগ্রহ /রহম আপনাকে দেখিয়েছেন যখন আপনি ছোট ছিলেন আর যখন বড় হয়েছেন তখন তারা আপনাকে লিস্ট করে বিল হিসেবে দেয়নি যে তারা আপনার জন্য কি কি করেছে। তাই তারা আপনাকে যেমন দয়া/ অনুগ্রহ /রহম দেখিয়েছে তাদেরও অধিকার রয়েছে ঠিক সেই রকম দয়া/ অনুগ্রহ /রহম পাওয়ার।

৩। পরিশেষে আপনি যদি আল্লাহন দয়া/ অনুগ্রহ /রহম পেতে চান তবে আপনার পিতা মাতাকে দয়া/ অনুগ্রহ /রহম করুন।

আপনি হয়ত আমাকে বলবেন আপনি বুঝেন না , আপনি জানেন না আমার অবস্থা, আমার পিতা মাতা ঠিক নন, আমার ব্যপার ভিন্ন/ এক্সসেপশনাল , তবে আমি বলব শুনুন সবাই মনে করে তারটা ভিন্ন বিষয় তারটা এক নয় তার অবস্থা সবার মত নয়, সবাই ভাবে এটা আমার জন্য না এটা অন্যর জন্য, কেউ ভাবে না এটা তাদের প্রতি বর্তায় আল্লাহ সবার জন্যই বলেছেন আপনি আলাদা কেউ নন সকল মানুষের দায়িত্ব তার পিতা মাতার জন্য সমান, সবাই ভাবে এটা অন্যের জন্য যার অবস্থা নরমাল আমারটা ভিন্ন তবে শুনে রাখুন আল্লাহ জানেন তিনি কি বানিয়েছেন আমাদেরকে তিনি ভালভাবেই জানেন, তিনি আমাদের সৃস্টিকর্তা, আমাদেরকে তিনি সবচেয়ে ভাল জানেন (আমাদের সকল গোপন বা বাহ্যিক বিষয় সম্পর্কে তিনি জানেন ) তাই তিনি বার বার সবধান করে দিয়েছেন।

আপনি যখন নীচের আয়াত গুলো খেয়াল করবেন দেখবেন যতবার একটি আয়াতে আল্লাহ পিতা মাতার কথা বলেছেন ঠিক সেই আয়াতে তিনি তার কথাও স্মরন করিয়েছেন যাতে আমরা আমাদের পিতা মাতার অধিকারের গুরুত্ব বুঝতে পারি।

আরো দেখুন কোরআনের আলোকে:

وَاعْبُدُواْ اللّهَ وَلاَ تُشْرِكُواْ بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالجَنبِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ إِنَّ اللّهَ لاَ يُحِبُّ مَن كَانَ مُخْتَالاً فَخُورًا
আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে। ৪) সূরা আন নিসা ( মদীনায় অবতীর্ণ ), আয়াত ৩৬

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্তি-সামর্থেøর বয়সে ও চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম। ৪৬) সূরা আল আহক্বাফ ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত নং ১৫

قُلْ تَعَالَوْاْ أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلاَّ تُشْرِكُواْ بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَلاَ تَقْتُلُواْ أَوْلاَدَكُم مِّنْ إمْلاَقٍ نَّحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ وَلاَ تَقْرَبُواْ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلاَ تَقْتُلُواْ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা-মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রেøর কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ। ৬) সূরা আল আন-আম ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত ১৫১

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا وَإِن جَاهَدَاكَ لِتُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরীক করার জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না। আমারই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর আমি তোমাদেরকে বলে দেব যা কিছু তোমরা করতে। (২৯) সূরা আল আনকাবুত ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত: ৮

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ
আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। ৩১) সূরা লোকমান ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত: ১৪

وَإِن جَاهَدَاكَ عَلى أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই ; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।
৩১) সূরা লোকমান ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত: ১৫

হাদীস (সিহাহ সিত্তাহ) আলোকে:
হাদীস গুলো নেয়া হয়েছে এই ব্লগ থেকে:
Click This Link

১. এক ব্যক্তি নবীজীর স. কাছে এসে বলল, সদ্ব্যবহার পাওয়ার অধিকার বেশি কোন মানুষের? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটা বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা। লোকটা বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপরও তোমার মা। লোকটা বলল, এরপর কে? তিনি বললেন, এরপর তোমার বাবা। -বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী

২.এক ব্যক্তি নবীজীর স. কাছে এসে জিহাদের জন্য অনুমতি চাইল। নবীজী স. বললেন, তোমার পিতা-মাতা জীবীত নাকি? লোকটা বলল,হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তাদের জন্যই পরিশ্রম করো (এতেই তুমি জিহাদের সওয়াব পাবে)। -বুখারী, মুসলিম

৩.এক ব্যক্তি নবীজীর স. কাছে এসে বলল, আমি আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশায় আপনার হাতে হিজরত ও জিহাদের ব্যাপারে শপথ করছি। নবীজী স. বললেন, তোমার পিতা-মাতার কোনো একজন জীবীত নাকি? লোকটা বলল,হ্যাঁ, বরং উভয়ই। তিনি বললেন, তুমি তো আল্লাহর কাছে সওয়াব আশা করো। লোকটা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তোমার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো। - মুসলিম

৪.একদা নবীজী স. বললেন, ধ্বংস হোক। ধ্বংস হোক। পুনরায় ধ্বংস হোক। বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কার কথা বলছেন? তিনি বললেন, যে তার পিতা-মাতা উভয়কে বা কোনো একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেয়েছে, অথচ এরপরও সে (তাদের খিদমত করে) জান্নাতে যেতে পারে নি। -মুসলিম

৫.নবীজী স. বলেছেন, সর্বোত্তম কাজ হলো, পিতার সৃহৃদদের (বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন) সাথে সম্পর্ক রাখা। বুখারী, মুসলিম

৬.নবীজী স. বলেছেন, পিতা-মাতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। -তিরমিযী

৭.আবু দারদা রা. বলেন, আমি নবীজীকে স. বলতে শুনেছি, পিতা-মাতা জান্নাতের মাঝের দরজা। যদি চাও, দরজাটি নষ্ট করে ফেলতে পারো, নতুবা তা সংরক্ষণও করতে পারো। - তিরমিযী

৮.রাসূলুল্লাহ স. বলেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গোনাহ কোনগুলো তা বলব না? সাহাবাগণ বললেন, অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, এতটুকু বলে নবীজী স. বসে পড়লেন, এতক্ষণ তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন। অত:পর নবীজী স. বললেন, মিথা সাক্ষ্য দেয়া। এ কথাটি তিনি এতবার বলতে থাকলেন যে আমরা মনে মনে বললাম, আর যদি না বলতেন! –তিরমিযী

৯.রাসূলুল্লাহ স. বলেন, অন্যতম কবীরা গোনাহ হলো, ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে গালমন্দ করা। সাহাবাগণ বললেন, পিতা-মাতাকেও কি কেউ গালমন্দ করে? নবীজী স. বললেন, হ্যাঁ। কেউ কারো পিতাকে গালি দিলে সেও তার পিতাকে গালি দেয়। আবার কেউ কারো মাকে গালি দিলে, সেও তার মাকে গালি দিলে। (এভাবে অন্যের পিতা-মাতাকে গালমন্দ করলে প্রকারান্তরে নিজের পিতা-মাতাকেই গালমন্দ করা হয়।) –তিরমিযী

১০.রাসূলুল্লাহ স. বলেন, তিন রকম দোয়া নি:সন্দেহে কবুল হয়। মজলুমের দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া। -তিরমিযী

১১.রাসূলুল্লাহ স. বলেন, সন্তান কোনো ভাবেই পিতা-মাতাকে প্রতিদান দিতে পারে না। তবে যদি পিতা-মাতা গোলাম হয়, তখন তাকে ক্রয় করে আজাদ করে দিলে হয়ত প্রতিদান হয়। -তিরমিযী
১২. নবী করিম (সাঃ) বলেছেন- তোমাদের পিতা মাতার নিকট হতে ফিরিয়া যাইওয়া। যে পিতা মাতার নিকট হইতে ফিরিয়া যায় সে কাফেরে গন্য।

১৩. হজরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। ‘এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সন্তানের ওপর পিতা-মাতার কি হক রয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, তারা দু’জন তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম’।

আমরা বায়েজীদ বোস্তামির ঘটনাটাই মনে করি না কেন! যে ঘটনাতে ছিল মাতৃভক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যে বায়েজীদ সারারাত পানির গ্লাস হাতে নিয়ে মায়ের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। ফজরের আযান হল। মা ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন। তিনি দেখতে পেলেন বায়েজীদ পানির গ্লাস হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে। মা বললেন হে বায়েজীদ! তুমি এখানে এ অবস্থায় কেন? বায়েজীদ বলল, মা তুমি গভীর রাতে পানি চেয়েছিলে। কিন্তু পানি ঘরে না থাকায় অনেক দূর থেকে পানি এনেছিলাম তোমার জন্য। কিন্তু এসে দেখি তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ। তাই যতণ না তুমি ঘুম থেকে উঠবে ততণ আমিএই পানির গ্লাস নিয়ে তোমার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম। এ কথা শুনার সাথে সাথে বায়েজীদের মা বায়েজীদকে বিছানায় কম্বল দিয় শুইয়ে দিল। আর ফজরের নামায শেষে মা বায়েজীদের জন্য এই বলে দোয়া করলেন যে, হে আল্লাহ আজকে বায়েজীদ আমার জন্য যা করেছে তার জন্য আমার কলিজা ঠান্ডা হয়ে গেছে। হে আল্লাহ আমি তার মা হয়ে দোয়া করি, তুমি তাকে সুলতানুল আরেফীন বানাইয়া দিও। আর সেই দোয়া শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর হয়ে গেল।

* আল্লাহ পাক বলেছেন- “তোমার ইবাদতের পরই হচ্ছে তোমার পিতা-মাতা. তাই তোমরা পিতা-মাতাকে সম্মান কর।”

আসুন মা এর সম্মান নিয়ে হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) এর ঘটনা পড়ি।
একদিন হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর নিকট এসে কাঁদছেন। রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু হোরায়রা তুমি কেন কাঁদছ? আবু হোরায়রা বললেন, আমার মা আমাকে মেরেছেন। রাসুল (সাঃ) বললেন, কেন তুমি কি কোন বেয়াদবী করেছ? আবু হোরায়রা বললেন, না হুজুর কোন বেয়াদবী করিনি। আপনার দরবার হতে বাড়ি যেতে আমার রাত হয়েছিল বিধায় আমার মা আমাকে দেরির কারণ জিজ্ঞেস করায় আমি আপনার কথা বললাম। আর আপনার কথা শুনে মা রাগে আমাকে মারধর করল আর বলল, হয়ত আমার বাড়ি ছাড়বি আর না হয় মুহাম্মদ (সাঃ) এর দরবার ছাড়বি। আমি বললাম, ও আমার মা। তুমি বুড়ি মানুষ। তোমার গায়ে যত শক্তি আছে তত শক্তি দিয়ে মারতে থাকো। মারতে মারতে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দাও। তবুও আমি আমার রাসুলকে ছাড়তে পারবো না। তখন রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমার মা তোমাকে বের করে দিয়েছেন আর এজন্য আমার কাছে নালিশ করতে এসেছ? আমার তো এখানে কিছুই করার নেই। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বললেন, হে রাসূল (সাঃ) আমি আমার মায়ের জন্য এখানে নালিশ করতে আসি নাই। রাসুল (সাঃ) বললেন, তাহলে কেন এসেছ? আবু হোরায়রা বললেন, আমি জানি আপনি আল্লাহর নবী। আপনি যদি হাত উঠিয়ে আমার মায়ের জন্য দোয়া করতেন, যাতে আমার মাকে যেন আল্লাহ হেদায়েত করেন। আর তখনই সাথে সাথে রাসুল (সাঃ) হাত উঠিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমি দোয়া করি আপনি আবু হোরায়রার আম্মাকে হেদায়েত করে দেন।” রাসুল (সাঃ) দোয়া করলেন আর আবু হোরায়রা বাড়ির দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন। পিছন থেকে কয়েকজন লোক আবু হোরায়রার জামা টেনে ধরল এবং বললো, হে আবু হোরায়রা! তুমি দৌড়াচ্ছ কেন? তখন আবু হোরায়রা বললেন, ওহে সাহাবীগণ তোমরা আমার জামা ছেড়ে দাও। আমাকে দৌড়াতে দাও। আমি দৌড়াইয়া বাড়িতে গিয়ে দেখতে চাই আমি আগে পৌঁছলাম নাকি আমার নবীজির দোয়া আগে পৌঁছে গেছে। হযরত আবু হোরায়রা দরজায় নক করতে লাগলো। ভিতর থেকে তার মা যখন দরজা খুললো তখন আবু হোরায়রা দেখলেন তার মার সাদা চুল বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে। তখন মা আমাকে বললেন, হে আবু হোরায়রা! তোমাকে মারার পর আমি বড় অনুতপ্ত হয়েছি, অনুশোচনা করেছি। মনে মনে ভাবলাম আমার ছেলে তো কোন খারাপ জায়গায় যায়নি। কেন তাকে মারলাম? আমি বরং লজ্জায় পড়েছি তোমাকে মেরে। হে আবু হোরায়রা! আমি গোসল করেছি। আমাকে তাড়াতাড়ি রাসুল (সাঃ) এর দরবারে নিয়ে চল। আর তখনই সাথে সাথে আবু হোরায়রা তার মাকে রাসুল (সাঃ) এর দরবারে নিয়ে গেলেন। আর তার মাকে সেখানেই কালিমা পাঠ করে মুসলমান হয়ে গেলেন।

ঘটনা গুলো নেয়া হয়েছে এই ব্লগ থেকে:
Click This Link

ধনী হোক কি গরিব,পিতা মাতার প্রতি আসদাচরনের অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের মাঝে প্রকৃত শিক্ষার অভাব। মনুষ্যত্ব, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অভাব। দিন দিন আমরা আত্মকেন্দ্রিক ও অসামাজিক হয়ে উঠছি। আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠছে- কিভাবে সমাজে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হব। আমরা এতই ব্যস্ত যে, নিজের জীবনের অসহায় অবস্থা থেকে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত চিন্তা করারও সময় নেই। মা-বাবার নিঃস্বার্থ সংগ্রাম-সাধনা, অক্লান্ত পরিশ্রমকে আজ বড় হয়ে আমরা মূল্যায়ন করি না। সত্য হলো, তারা আমাদের মুখ থেকে শুধু মূল্যায়নই শুনতে চান। পরিবারের ঐক্য তিনি কামনা করেন। অথচ আমরা লক্ষ করছি- যে বয়সে তাদের যত্নের প্রয়োজন, পারিবারিক সহায়তা ও আন্তরিকতার প্রয়োজন, সেই বয়সেই জীবন বাঁচাতে কেউ ভিক্ষা করছেন এবং অন্যের বাড়ি থাকছেন। অপর দিকে কেউ টাকা পেলেও অসহায়, নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন।

একটা শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় তার পরিবার থেকে। তারপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। তাই পিতামাতার কর্তব্য, তারা যেন সন্তানদের সময় দেন, ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে নৈতিক শিক্ষা তথা মূল্যবোধ গড়ে তোলেন; যাতে পরবর্তীকালে সন্তানদের থেকেই তার সুফল পেতে পারেন।
সন্তান হিসেবে আমাদের কাছে সবচাইতে বড় জিনিস হচ্ছে মা বাবা।

মাওলানা সাহেবের দোয়া, পীর সাহেবের দোয়া, কবুল হতেও পারে, নাও হতে পারে। ৫০-৫০। কিন্তু মা বাবার দোয়া কবুল হবে, ১০০% নিশ্চিত।

“প্রত্যেক মা-ই নারী। কিন্তু প্রত্যেক নারী ‘মা’ নন। মা হওয়া আল্লাহ-প্রদত্ত অনুগ্রহ। তাই এর শুকরিয়া আদায়ের লক্ষ্যে তার দায়িত্বানুভূতির আলোকে স্বীয় কর্তব্য পালনে এগিয়ে আসতে হবে। মায়ের যেমন মর্যাদা বেশি, তেমনি মায়ের দায়িত্বও বেশি। মায়ের কাজ হলো মানব বাগানে ফুল প্রস্ফুটিত করা, মানব বংশ সম্প্রসারণ সংরক্ষণ ও প্রসূত সন্তানের জীবনকে সুন্দর পরিপাটি ও পরিমার্জিত করে গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সাচ্চা মুসলিম, সচ্চরিত্রবান, সৎ ও যোগ্যতম সুনাগরিক এবং আদর্শ দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলা।

একটি শিশুর সুষ্ঠু প্রতিপালনের ওপর নির্ভর করে তার ভবিষ্যৎ। যে প্রজন্মের ওপর রাষ্ট্রভার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি গুরুদায়িত্ব অর্পিত হবে, তাদের লালন-পালন যদি সুষ্ঠু, সুন্দর ও আদর্শিক না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মই শুধু বিনষ্ট নয়, সুখী-সমৃদ্ধশালী ও কল্যাণকর সমাজ উপহার দেয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।


কাজেই আল্লাহর সৃষ্টির উদ্দেশ্য সার্থক করতে ‘মা’ তার দায়িত্ব পালন করবেন। আর সন্তানরা মায়ের অধিকার আদায়ে তার ভরণ-পোষণ, সেবা-যত্ন, দেখাশোনাসহ যাবতীয় হক আদায়ে দিবানিশি সজাগ দৃষ্টি পালন করবেন। জীবিত অবস্থায় যেমন তার সুখী জীবন ও কল্যাণ কামনা করতে হবে, তেমনি তার মৃত্যুর পরও সুখী জীবন ও কল্যাণ কামনার দোয়া করতে হবে।

আল্লাহপাক এ দোয়ার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়ে বলেছেন¬ বলুন! " হে প্রভু, আমার মাতাপিতাকে দয়া ও রহমত কর, যেরূপ আমার শৈশবে তারা আমাকে করেছে।

0 comments
Labels: , ,

কোরআন কিভাবে পড়েবন Lesley Hazleton: On reading the Koran (অনুবাদ)

 

এটা কি চিন্তা করা যায় কীভাবে কেহ পুরো কোরআন (৪টা ভিন্ন অনুবাদ জদিও পড়ে?) তবুও সে ভাল মুসলিম হতে পারে না? অর্থ না বোঝার কারনে
TEDxRainier - Lesley Hazleton


Video Translation(ভিডিও আনুবাদ)আপনি হয়তো কোরআনের স্বর্গ সম্পর্কিত ধারনা তে অবগত আছেন ৭২ কুমারী সম্পর্কে। এবং আমি ওয়াদা করছি যে আমি সেই কুমারী সম্পর্কে ফিরে আসব।

এখানে নর্থ ওয়েস্ট এ আমরা বাস করছি খুব কাছাকাছি কোরআনের স্বর্গ সম্পর্কিত ধারনা তে, যেখানে ৩৬ বার বলা হয়েছে “ বাগান যার নিচে প্রবাহমান ঝরনা ধারা” আমি বাস করি একটি হাউজ বোটে, যেখানে পানি প্রবাহমান লেক ইউনিয়ন হতে, এটা আমর কাছে পরিপূর্ণ বোধগম্য বুঝতে পাড়ি কোরআনে কেন বলে “ বাগান যার নিচে প্রবাহমান ঝরনা ধারা”।

কিন্তু বিষয় হল কীভাবে এটা(কোরআন) মানুষের কাছে নেগেটিভ খবরের বস্তু হল? আমি জানি অনেক ভাল মনোভাব সম্পন্ন অমুসলিম যে কোরআন পরা শুরু করেছে, কিন্তু ছেড়ে দিয়াছে, এর কোরআনের প্রতি হতাশ হয়াছে। কারন সে এর অসল অর্থ বুঝতে পারেনিইতিহাস বিদ টমাস কারলাইল মোহাম্মাদ কে বিশ্বের সফলতম মানুষ(হিরো) হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন যদিও তিনি কোরআন কে বলেছেলিন কঠিন পড়া হিসেবে , বিভ্রান্ত আর বিভিন্ন বিষয়ে কনফিউজ কৃত বই হিসেবে।
এ সমস্যার কারন হিসেবে , আমি ভাবি যে, আমরা কল্পনা করি যে কোরান একটি বই হিসেবে সাধারণত পড়া যাবে যেমন পড়া হয়—যেমন আমরা উপন্যাস পড়ি বৃষ্টির দিনে বিকেলে হাতে পপ কর্ণ এর বাটি নিয়ে যেন গড এবং কোরআন সমগ্রভাবে গড তার কথা বলছেন মোহাম্মেদ এর সাথে। এ যেন বেস্ট সেলার তালিকায় অন্য একটি লেখক মাত্র

যদিও আসল কারন এই যে অনেক কম মানুষই আসলে কোরআন পরে যেভাবে পরা উচিত তাই কোরআন অনেকে সহজে উদ্রিতি দেয়ার চেয়ে ভুল উদ্রিতি করে থাকে। আয়াত ও সুরার অংশ গ্রহণ করা হয়ে থাকে বাইরের প্রসঙ্গে যেমনটা কোরআন মিন করেনা সে বিষয়ে ,যেটাকে আমি বলি হাইলাইটেড ভার্সন, যেটা পছন্দনিও মুসলিম ফান্ডামেন্টালিস্ট ও মুসলিম বিরোধী এবং নাস্তিকদের কাছে।

সুতরাং শেষ বসন্তকালটি, যখন আমি মোহাম্মেদের জীবনী লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, আমি অনুধাবন করলাম আমার কোরআন পড়া উচিত ঠিক ভাবে- - যতটুকু ঠিক ভাবে পরা সম্ভব ,তাই আমি চারটা ভাল অনুবাদক্রীত কোরআন নিলাম এবং পড়লাম পাশা পাশি, আয়াতের সাথে আয়াত এর সাথে অনুবাদ এবং সপ্তম শতাব্দির আরবীর সাথে পড়া শুরু করলাম। আমার একটি সুবিধা ছিল , আমার শেষ বই ছিল শিয়া-সুন্নি বিভক্তি নিয়ে, এবং তার জন্য আমাকে কাজ করতে হয়েছে ইসলামের ইতিহাস নিয়ে, তাই আমি জানি কোন ঘটনা আর সময় নিয়া কোরআন বলছে। এ যেন ধারাবাহিক ভাবে একটা রেফেরেন্সের ফ্রেম ঘটনার সুন্দর উপস্থাপন। আমি এতটুকু জানি যে আমি একজন ট্যুরিস্ট কোরআন পড়াতে – একজন জ্ঞাত আর বলতে পারেন অভিজ্ঞ জন, কিন্তু তবুও আমি বাহিরের একজন, একজন জিঊ যে পরছে অন্যজনের পবিত্র বই।

আমি এই প্রজেক্টের জন্য তিন সপ্তাহ আলাদা করে রেখেছিলাম, আমার মনে হয় আমি যা বুজাতে চেয়ে ছিলাম হিব্রুতে কারন এটা এসে দাড়ায় তিন মাস এ । আমি আমার উৎফুল্লতা ও মনের ইচ্ছাকে কে দমিয়ে রেখেছি কোরআনের শেষ দিকে আগে পড়ার যেখানে ছোট আর পরিষ্কার এবং রহস্যজনক অধ্যায় সমুহ রয়েছে। কিন্তু যখনই আমি ভেবেছি আমি কোরআনের হ্যান্ডেল ধরতে পেরেছি সেই অনুভুতি "I get it now" সেটা এক রাতের মধ্যে ছুটে যায়। এবং সকালে আমি ফিরে আসি ভাবি যদি আমি না হারিয়ে যেতাম রহস্যজনক কোরআনে যদিও খুবই পরিচিত অনুভুতি টা থাকতো যা আমাকে হারিয়ে যেতে দেয়নি।

কোরান ঘোষণা করে যে এটি তোরাহ এবং বাইবেল এর বার্তা পূর্ণ করতে এসেছে সুতরাং কোরআনের এক তৃতীয় কাহিনী বাইবেলিয় পরিসংখ্যানের গল্পের সাথে মিলে যেমন আব্রাহাম, মুসা, জোসেফ, মেরি, যীশুর মত সবার কথা । ঈশ্বর নিজে —সবখানেই বলছেন আর কোন খোদা নাই একমাত্র তিনি ছাড়া । উট, পর্বত, মরুভূমি এবং বসন্তকালের উপস্থিতি আমাকে নিয়ে যায় সেই বছরে যা আমি ব্যায় করেছিলাম সিনাই পাহাড়ে ঘুরার সময় এবং এইটির(কোরআনের) সুরের মুর্ছনায়, আমাকে মনে করিয়ে দেয় সেই সন্ধ্যার স্মৃতি যখন বয়োজ্যেষ্ঠ বেদুইনরা পড়ত এবং ধারাবাহিক বর্ণনা করত কবিতা সমগ্র যা আবৃত্তি করেছিল পুরটাই মুখস্ত থেকে এবং আমি উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম কেন বলাহয় যে কোরাআন তখনি কোরআন যখন আরবীতে ।

যেমন ধরুন সুরা ফাতিহা, সাত আয়াত কোরআন শুরুর প্রথম অধ্যায় যেটিকে খোদার প্রার্থনা বলাহয়, এইটি আরবীতে মাত্র ২৯ শব্দ অনুবাদে ৬৫ থেকে ৭২ টি পর্যন্ত পাবেন কিন্তু এখানেও আরও যত বেশি আপনি যোগ করেন, আরও বেশি মিসিং মনে হবে। আরবীর একটি গুন আছে incantatory (A formula used in ritual recitation; a verbal charm or spell.), কোরআনের সম্মোহিত গুনমান রয়েছে যা আবেদন করে পড়ার চেয়ে শুনতে এবং আলাদা ভাবে বোঝার চেয়ে আরও বেশি অনুভব করেতে। কোরআন মিষ্টি করে বের হতে চায় উপলব্ধি করতে হয় গানের মতো কানে, স্বাদের মত জিহ্বায় ।

ইংরেজীতে কোরান সুতরাং নিজের ছায়ার একটি ধরন মাত্র, আর্থার আরবেরি তাঁর অনুবাদ কে বলেছিলেন “একটি ইন্টারপ্রেশন” মাত্র, কিন্তু সমস্ত অনুবাদে হারিয়েও যায় না। কোরান প্রতিজ্ঞা করে, ধৈর্য্যের পুরষ্কার হয় এবং অনেক চমক আছে-- ঘটনা গুলো পরিবেশ সংক্রান্ত সচেতনতার যেমন খোদার তৈরি মানুষ নিয়ে যা আছে তা বাইবেল সাথে তুলনা হয় না বরং তারচেয়ে বেশিই আছে এবং যেখানে বাইবেল মানুষকে একচেটিয়াভাবে সম্বোধন করা হয় এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যক্তির ব্যবহার করছে, সেখানে কোরান মহিলাদেরও অন্তর্ভুক্ত করে এভাবে যেমন বিশ্বাসী মানুষ এবং বিশ্বাসী মহিলা - - সম্মানিত পুরুষ এবং সম্মানিত মহিলা।

অথবা ধরুন মহা পরিচিত আয়াত আবিশ্বাসী দের হত্যা করার ব্যাপারে, হ্যাঁ, কোরআন তা বলে কিন্তু অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট বিষয়ঃ পবিত্র মক্কা নগরীতে যেখানে হত্যা সাধারনত নিষিদ্ধ, এবং অনুমতি শুধুমাত্র আসে কোয়ালিফাইড লোকদের আলোচনা সাপেক্ষে। এই না যে আপনাকে অবশ্যই মারতে হবে কিন্তু আপনি পারবেন, আপনার অনুমতি আছে, তখনই যখন হজ্জের সময় পার হবে এবং অন্য কোন উপায় নাই এবং শুধু তখনই যদি তারা আপনাদের কাবা তে যেতে বাধা দেয়, এবং শুধু তখনই তারা যদি আগে আক্রমণ করে তবুও- খোদা ক্ষমাকারী, ক্ষমা মহৎ- এবং পরিশেষে সেটাই উত্তম যদি তুমি (তাদের হত্যা) না কর।

কোরআনের বৃহত্তম চমক সম্ভবত ছিল-- কত নমনীয় কোরান যে অন্তত তা ফান্ডামেন্টালি ইনফ্লেক্সিবল নয়। “কিছু আয়াত সুনির্দিষ্ট অর্থের” আর কিছু নির্দিষ্ট নয়। হৃদয় এসকল অনির্দিষ্ট আয়াতের মধ্যে হতে ভাল আর খারাপটা বের করে নিবে । ঈশ্বরই কেবল সত্যি অর্থ জানে। শব্দ সমষ্টি “ঈশ্বর সুক্ষ্ণ বাছবিচারপূর্ণ " পুনরায় এবং পুনরায় আবির্ভূত হয় এবং বাস্তবিকপক্ষে, আমাদেরের সর্বাপেক্ষার চেয়ে আরও বেশি সুক্ষ্ণ বাছবিচারপূর্ণ নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে কোরানের বিশ্বাস স্থাপনে ।

এখন আসি হুর প্রসংগে :কোরআনে হুরিস শব্দ চার বার ব্যবহার করা হয়েছে, যার অনুবাদে পরিবরর্তন হয়ে কালো চোখের, সুন্দর বক্ষ এবং উজ্জ্বল, যৌনাবেদন কুমারী মেয়ে হিসেবে পরিণত করা হয়, যদিও মূল আরবীতে সেখানে সুধুমাত্র একটি কথা: হুরিস। না সুন্দর বক্ষ না উজ্জ্বল, যৌবন কুমারী মেয়ে।

এখন এটি মনেহয় হতে পারে শুদ্ধ (পিওর) কিছু- যেমন ফেরেস্থা – অথবা গ্রীক করউস (Kouros or Kórē) এক অনন্ত যৌবন , কিন্তু সত্য হল কেউ জানিনা , এবং সেটাই মুল বিষয় কারন কোরআন একদম পরিষ্কার যখন বলে “ একটি নতুন তৈরি কৃত প্রজাতি, আবার তোমাদের তৈরি করা হবে যা সম্পর্কে তোমরা জানো না” যা মনে হয় আরো আবাদনময়ি কুমারী মেয়ে থেকে


এবং সেই নাম্বার ৭২ কখনো দেখা যায়নি কোরআনে ৭২ কুমারির ধারনা শুধু আসে ৩০০ বছর পরে।

স্বর্গ হচ্ছে তাঁর উলটো এটা কুমারী মেয়ে নয় এটা ফিকান্দিটি (The quality or power of producing abundantly; fruitfulness or fertility. Productive or creative power: fecundity of the mind) স্বর্গ হচ্ছে সবার সমঅধিকারের জায়গা, যা বিশাল, অফুরন্ত, স্বর্গ হচ্ছে বাগান যার মাঝে রয়েছে পানি প্রবাহিত ঝরনা ধারা চির শান্তির স্থান।


ধন্যবাদ


স্পিকার: সাংবাদিক এবং থিওলজিস্ট " Lesley Hazleton লেখক " "After the Prophet: The Epic Story of the Shia-Sunni Split."। " তিনি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সাইকলজিস্ট এবং অভিজ্ঞ প্রতিবেদক ব্রিট্রেনে জন্মগ্রহন করেন । শেষ দশ বছর তিনি কাটিয়েছেন আরবে, ঘুরেছেন বিশাল মরুদ্যান এবং প্রায়শই মধ্যপ্রাচ্যে ভীতিকর জায়গায় গেছেন রাজনীতি এবং ধর্ম সম্পর্কিত খবর সংগ্রহ করতে , তার সর্বাপেক্ষা সাম্প্রতিক বই, নবীর পরে: শিয়া- সুন্নি এর বিভক্তি , ২০১০ PEN-USA নন ফিকশন পূরস্কারের জন্য একটি ফাইনালিস্ট হয়েছিল। তিনি জেরুজালিমে ১৩ বছর বসবাস এবং কাজ করেছিলেন। তিনি ১৯৯২ তে বিমানচালকের লাইসেন্স পেতে সিয়াটলে এসেছিলেন সেখানে একটি ভাসমান বাড়ি দেখে থেকে গেছেন। ১৯৯৪ এর মধ্যে, সে তিনি তার সমস্ত সঞ্চয় ব্যয় করেন লেখা লেখিতে এবং কখনও অনুতাপ করেননি।

এখন তিনি বিশ্লেষন ধমী লেখার দিকে মনোযোগী এবং কাজ করছেন তাঁর পরবরতি বই দি “ফাস্ট মুসলিম এ নিউ লুক এট এ লাইফ অফ মুহাম্মাদ” এর জন্য,.

অনুবাদ করে লিখেছেন-  ফয়সাল হাসান

0 comments
Labels: ,

লাইলাতুল কদর মহিমান্বিত শ্রেষ্ঠ রাত, ঐশ্বর্যময় রাত, কোরআনের রাত কেন? জানেন কি?

শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ রাত কেন? জানেন কি?


‘লাইলাতুল কদর’ আরবি শব্দ। এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুন’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা। । এ রাত্রিকে লাইলাতুল কদর হিসেবে নামকরণ করার কারণ হলো, এ রজনীর মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদীর সম্মান বৃদ্ধি করা হয়েছে বা এ রাতে মানবজাতির তাকদির পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই এই রজনী অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত। আল্লাহ তাআলা যে মহিমাময় রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন, যে একটি মাত্র রজনীর ইবাদত-বন্দেগিতে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, [কারন একদিনের বোধোদয়/জ্ঞান হাজার মাস অজ্ঞ বা নিরক্ষর থাকা হতে উত্তম]
The Night of Majesty is better than a thousand months. [A day of enlightenment is better than a life-time of ignorance]

কদরের রাত কে কেন কোরআন বোঝার ও পড়ার রাত বলাহয় তার কারন সুরা কদর এর সাথে পুর্বের সুরার সম্পক যেমন:
১। সুরা আলাক শুরু হয়েছিল কিভাবে আল্লাহ কোরআন নাযিল শুরু করেন ,আর এই সুরা কদর কখন কোরআন নাযিল হয় সেটা নিয়ে আলোচনা করে।

২। সুরা আলাক শুরু হয় " اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ
পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন
আর সুরা কদর শুরু হয়েছে "إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে। "

আরো দেখুন সুরা কদরের ২ নং আয়াতে বলা হয়েছে
وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?
অথ যা বুঝাচ্ছে যে: আপনি জানতেন না কদরের রাত কি। আপনি শুধুমাত্র জানতে পেরেছেন কারন আল্লাহ আপনাকে এ বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন / বলেছেন।

৩। সুরা আলাকের শেষ আয়াত ১৯ নং :"كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِبْ
কখনই নয়, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।[ সেজদাহ্ ]"

সুরা কদরে বলা হয়েছে- সারাবছরের মধ্যে সবচেয়ে ভাল সময় হলো আল্লাহর কাছাকাছি যাবার - কদরের রাতে (যা রমজানের শেষ দশ রাত্রিতে)

আর কাছাকাছি যাবার মাধ্যম হল সেজদাহ্ তাই দেখুন সুরা আলাক শেষ হয়েছে সেজদাহ্ দিয়ে।

৪। সুরা আলাকে বলা হয়েছে ইকরা-পড়ুন(কোরআন)
আর সুরা কদরে বলা হয়েছে কোরআন নিয়ে মানে কোরআন পড়তে বলা হয়েছে।

এবার দেখি কদরের রাত কোনটি হতে পারে?
আমরা মোটামুটি শিওর যে এটা রোজার/রমজানের শেষ দশ রাতের মধ্যে যে কোন বেজোর একরাত (২১,২৩,২৫,২৭ অথবা ২৯ তম রাতে হতে পারে)

সুরা কদরের আয়াত সংখ্যা ৫ টি ঠিক যেমন রমজানের শেষের বেজোর রাতও ৫ টি।

ইবনে আব্বাসের একটি মতামত রয়েছে যে লাইলাতুল কদর ২৩তম রাত্রিতে (উনার ইজতিহাদ বা রিসার্চের উপর নির্ভর করে উনি বলেছিলেন)
পরবর্তীতে উনি মতামত দেন লাইলাতুল কদর ২৭তম রাত্রিতে।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত মতামত বেশির ভাগ আলেম/বিদ্বানেরা ২৭ তম রাত্রিকেই লাইলাতুল কদর বলে মতামত দিয়েছেন।

এটা খুবই কৈতুহলপুর্ন/আকর্ষনীয় যে কিভাবে ইবনে আব্বাস হজরত উমর ইবনে খাত্তাব (রঃ)কে ব্যখ্যা করেন কেন তিনি ২৭তম রাত্রিকে কদরের রাত বলে মতামত দেন তিনি বলেন: লাইলাতুল কদর ৯টি অক্ষর নিয়ে গঠিত [লাম, ইয়া, লাম, তা,আলিফ, লাম, কাফ, দাল, রা=৯টি অক্ষর]

এবং তিনি আরো বলেন লাইলাতুল কদর সুরা কদরে তিন বার উল্লেখ করা হয়ছে তাই ৯ x৩ =২৭ তাই তিনি মতামত দেন যে লাইলাতুল কদর ২৭শে রমজান।

এই পদ্ধতিকে দলিল বা প্রমান হিসেবে নেয়া হয়নি তবে এটা খুবই ইন্টারেস্টিং যে কিভাবে তিনি তার মতামত দেয়ার পিছনে যুক্তি দাড় করিয়ে ছিলেন।

তিনি আরো বলেন এই সুরা কদরে ৩০ টি শব্দ আছে (ঠিক যেমন ৩০টি রোজা) কিন্তু ২৭ মত শব্দ হলো هِيَ হিয়া [যার অর্থ এটি] আয়াত নং ৫ এ।

তিনি তারপর বলেন হিয়াবা যার অর্থ এটি দ্বারা বোঝায় যে- এই শব্দটা ৩০টি শব্দের মধ্যে ২৭ তম, ঠিক যেমনি ২৭ তম রাত কদরের রাত ৩০টি রমজানের রাতের মধ্য হতে।

তাই দেখুন সাহাবারা কোরআনকে নিয়ে কত রকম ভাবে ও কত গভীরে চিন্তা করতেন।

সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো এটা শেষের যে কোন বেজোর রাতে আর আমরা ঠিক জানিনা কোন রাতটা আর আলেমরা মতামত দেন যে আপনি শেষের ১১ টি রাতকে গুরুত্ব সহকারে নিন কারন ভিন্ন মতামত ও কনফিউসনের জন্য যাতে আপনি শবে কদর মিস না করেন। তাই শেষের ১১ টি রাতকে গুরুত্ব সহকারে নিলে আপনি একদিন না একদিন কদরের রাত পাচ্ছেনই।


লাইলাতুল কদরের অপার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, ‘হা-মীম! শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআন) এক মুবারকময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।’ (সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ১-৪) কদরের রাতে অজস্র ধারায় আল্লাহর খাস রহমত বর্ষিত হয়।

আমরা যাতে আমাদের এনার্জি জমা রাখি প্রথম ২০ রোজায় কারন অনেক মুসলিম দেখবেন প্রথম দিকে খুব উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যেদিয়ে রোজা রাখে সকল নামাজ পড়ে এমনি ২০ রাকাত তারাবি নামাজও কিন্তু শেষ দশ দিন মানুষ কমতে থাকে যখন কি শেষ ১০ দিনেই আছে সেই মহিমান্বিত ঐশ্বর্যময় শবে কদর।

আমরা যেন নামাজ পড়ি শুধু মাত্র আল্লাহকে স্বরনের উদ্দেশ্যে কারন আল্লাহ বলেন (২০) সূরা ত্বোয়া-হা ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত ১৪:
إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর।

তাই সবার কাছে অনুরোধ এই রমজান মাসে শুধু নয় যখনই পারবেন কোরআন পড়ার চেস্টা করবেন শুধু মাত্র বোকার মত তিলাওয়াত নয় অর্থ সহ জেনে বুঝে পড়ার চেস্টা করবেন কারন একদিনের বোধোদয়/ জ্ঞান হাজার মাস অজ্ঞ বা নিরক্ষর থাকা হতে উত্তম।

আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমিন
অনুবাদ করে লিখেছেন-  ফয়সাল হাসান

In Depth Analysis & Tafseer of Surah 97 al-Qadr by Nouman Ali Khan


0 comments
Labels:

আপনি কি শেষ বিচারে বা জাজমেন্ট ডে তে বিশ্বাস করেন? যদি না করেন তবে আপনি ন্যায়বিচারে বিশ্বসী নন, কিন্তু তা হবে কেন?


আমরা কি ন্যায়বিচার বিশ্বাস করি? উত্তর যদি হ্য হয় তবে শেষবিচারে আমাদের বিশ্বাস করতে হবে কারন:

ধরুন কেহ যদি কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করে তবে সবচেয়ে বড় সাজা সে কি পেতে পারে?
মৃত্যুদন্ড তাই না?

আর সে যদি ১০০ নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করে তবে সবচেয়ে বড় সাজা সে কি পেতে পারে?

মৃত্যুদন্ড তাই না? তবে সেটা মাত্র ১ টা জীবন ১০০ টা জীবনের বিনিময়ে এটা কি আসলেই ন্যায় বিচার?

আর কেহ যদি ১০০ লোক কে বাচায় তবে সে কি ১০০ টা জীবন পুরস্কার পাবে এই জীবনে? সে অবশ্যই ১০০ টা জীবন পুরস্কার পাবেনা বা ১০০ জীবন সমপরিমান সময় পাবেনা এই পৃথিবীতে বাচতে তবে এটাই কি ন্যায়বিচার? সে কি ন্যায়বিচার হতে বন্চিত হচ্ছেনা?

এজন্যই ন্যায়বিচারে বিশ্বাস মানে আপনাকে শেষ বিচারে / জাজমেন্ট ডে তে বিশ্বাস করতে হবে যাতে আপনি আপনার কৃতকর্মের, সকল কাজের যোগ্য প্র‌তিদান/ পুরস্কার পান।

আর শেষ বিচারে বিশ্বাস মানে আপনাকে এমন একজনের প্রতি বিশ্বাস করতে হবে যিনি ন্যায় বিচারক, সকল কাজের খবর জানেন, যিনি আপনাকে আবার জীবিত করতে পারবেন, অর্থাৎ আপনার মালিক,প্রভু বা আল্লাহতে বিশ্বাস

আপনার কাজই আপনার পরিক্ষা ভাল বা খারাপ যেটাই করেন তার জন্য আপনাকেই প্রতিদান দেয়া হবে দেখুন সুরা আম মুলক সুরা নং ৬৭ আয়াত নং ২ এ আছে "যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।"

আর ন্যায়বিচারের দিন কেমন হবে তা আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন এভাবে "সেদিন প্রত্যেকেই যা কিছু সে ভাল কাজ করেছে; চোখের সামনে দেখতে পাবে এবং যা কিছু মন্দ কাজ করেছে তাও, ওরা তখন কামনা করবে, যদি তার এবং এসব কর্মের মধ্যে ব্যবধান দুরের হতো! আল্লাহ তাঁর নিজের সম্পর্কে তোমাদের সাবধান করছেন। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। " ৩) সূরা আল ইমরান আয়াত ৩০

সেদিন সবাইকে প্রশ্ন করা হবে আমাদের কে যে সকল নেয়ামত যেমন জীবন, আলো , বাতাস, পানি, মানুষের শোনার ক্ষমতা , দেখার ক্ষমতা আরো যা কিছু প্রদান করা হয়েছে নেয়ামত হিসেবে "এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। " ১০২) সূরা তাকাসূর আয়াত নং ৮।

এবং "নিশ্চয় কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে। " সূরা বনী ইসরাঈল সুরা নং ১৭ আয়াত নং ৩৬

সুতরাং ন্যয়বিচার যারা বিশ্বাস করেন তারা মহান আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত সমুহকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, কান দিয়ে ভাল কথা শুনুন, মুখ দিয়ে ভাল কথা বলুন, হাত দিয়ে ভাল কাজে সহায়তা করুন, তবেই শেষ বিচারের দিন আপনি নিজের প্রতি ন্যায়বিচার পাবেন

আল্লাহ বলেন "নিশ্চয়ই আল্লাহ কারো প্রাপ্য হক বিন্দু-বিসর্গও রাখেন না; আর যদি তা সৎকর্ম হয়, তবে তাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং নিজের পক্ষ থেকে বিপুল সওয়াব দান করেন। " সুরা আন নিসা সুরা নং ৪ আয়াত নং ৪০

আপনার প্রতি যে ন্যায় বিচার করা হবে তার প্রমান হিসেবে আল্লাহ বলেন "আমি কেয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি জুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট। " সুরা আম্বিয়া সুরা নং ২১ আয়াত 
নং ৪৭।

অনুবাদ করে লিখেছেন-  ফয়সাল হাসান

In a mother's womb were two babies.
One asked the other: "Do you believe in life after delivery?"
The other replies, "why, of course. There has to be something after delivery.

Maybe we are here to prepare ourselves for what we will be later. "Nonsense," says the other. "There is no life after delivery. What would that life be?" "I don't know, but there will be more light than here. Maybe we will walk with our legs and eat from our mouths."

The other says "This is absurd! Walking is impossible. And eat with our mouths? Ridiculous. The umbilical cord supplies nutrition. Life after delivery is to be excluded. The umbilical cord is too short." "I think there is something and maybe it's different than it is here." the other replies, "No one has ever come back from there. Delivery is the end of life, and in the after-delivery it is nothing but darkness and anxiety and it takes us nowhere."

"Well, I don't know," says the other, "but certainly we will see mother and she will take care of us." "Mother??" You believe in mother? Where is she now? "She is all around us. It is in her that we live. Without her there would not be this world." "I don't see her, so it's only logical that she doesn't exist." To which the other replied,

"sometimes when you're in silence you can hear her, you can perceive her." I believe there is a reality after delivery and we are here to prepare ourselves for that reality.... 

0 comments
Labels: , , ,

সুরা দুখান -শবে বরাত না শবে কদর সম্পকে নির্দেশ করে ও কিছু প্রশ্ন

শব্দ গত বিশ্লেশন: শবে বরাত শব্দ দু’টি যেরূপ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর কোথাও নেই তদ্রূপ নামায, রোযা, খোদা, ফেরেশতা ইত্যাদি শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এর কোথাও নেই। এখন শবে বরাত বিরোধী লোকেরা কি নামায, রোযা ইত্যাদি শব্দ কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ এ না থাকার কারনে ছেড়ে দিবে?

অবশ্যই শবেবরাতে নামাজ পরুন, দান করুন, আত্বীয় প্রতিবেশিদের সাথে দেখা করুন কোন সমস্যা নেই,এর সামাজিক ও পারিবারিক উপকারিতা কম নয় কিন্তু এই রাতেই আবার দেখাযায় মাজারে মহা ভীড়, লোকজান গরিব দের না দিয়ে নিজেরা বড় বড় রুটি হালুয়া অপচয়ে ব্যস্ত ,যদিও এখন আতশ বাজী বোম ফোটানো নেই।

আল্লাহর কাছে কিছু বিশেষ মর্যাদাপুর্ন দিন/রাত আছে তাই বলে বাকি দিনের খবর আমরা বেমালুম ভুলে যাই। শবে বরাতে এত নামাজ কেন পড়ি যাতে পুরা বছর ভালা যায় তাই একদিনে সব পুরন করে নিব বাকি দিন আমারে মসজিদের আশে পাশেও দেখবেন না এইরকম করাটা কতটুকু ঠিক তা সবার কাছে প্রশ্ন?

নামাজ=সালাত, রোজা=সাওম, খোদা= আল্লাহ/রব্ব , ফেরেস্তা=মালাইকা এই সব কোরআনে যে আছে সবার নিশ্চই জানা আছে। তাই আর কিছু বলার নেই।

এখন দেখি শবে বরাত আছে কি না ? সেটা আপনারা খুজে দেখতে পারেন কোরআনে নেই, শাবে কদর যে আছে আর সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আছে মানে পুরা একটি সুরাই আছে। অনেকে শবে বরাত সম্পকে বলতে গিয়ে সুরা দুখানের প্রথম ৫ টি আয়াত রেফার করেন

এখন আসি সুরা দুখান ৪৪ আয়াত ১-৫ বিষয়ে ,আসুন আগে আয়াত গুলো অর্থ দেখি

অর্থঃ শপথ প্রকাশ্য কিতাবের! নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি। নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী। আমারই নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো ফায়সালা হয়। আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী।” (সূরা দু‘খান, আয়াত শরীফ ২-৫)বিশেষ করে ৩ নং আয়াতটা إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ

03আমি একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।


এবার দেখি সুরা কদর ৯৭


إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
01আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে।


وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ

02শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?

لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ

03শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

এই দুটি সুরার আয়াতে একটি মিল কি জানেন দুটোয় বলাআছে ইন্না আনযালনাহু ফিই লাইলাতুল (কদর/মুবারাকা) আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে/বরকতময় রাতে

অনেকে বলেন দেখুন এখানে Click This Link :মহান আল্লাহ পাক তিনি যে সুরা দু’খান-এ বলেছেন, “ আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি ” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল “ আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিলের ফায়সালা করেছি “। আর সুরা ক্বদর-এ ” আমি ক্বদরের রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি ” এর ব্যাখ্যামুলক অর্থ হল ” আমি ক্বদরের রজনীতে কুরআন শরীফ নাযিল করেছি “।

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি শবে বরাতে কুরআন শরীফ নাযিলের সিদ্ধান্ত নেন এবং শবে ক্বদরে তা নাযিল করেন।

এখন আপনারাই বলেন একই শব্দের [ইন্না আনযালনাহু]দুটি অর্থ কিভাবে ব্যখ্যা করবেন? একটি হলো নাযিল করেছি আর একটি নাযিলের ফয়সালা করেছি, তবে নাযিলের ফয়সালা অর্থটা সুরা কদরে কেন হবেনা? এটা কি সুস্পস্ট ভুল ব্যখ্যা নয়?

আর সুরা দুখানের অর্থগুলো যদি একটু খেয়াল করেন আল্লাহ বলেছেন

শপথ প্রকাশ্য কিতাবের!= আল কোরআনের শপথ

নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে কুরআন নাযিল করেছি। = যেই রাতে কোরআন নাযিল হয়েছে সেটা নিশ্চই বরকতময় রাত্রি

নিশ্চয়ই আমিই সতর্ককারী।= কারন আল্লাহ কোরআনের মাধ্যমে মানুষকে সকর্ত করেন

আমারই নির্দেশক্রমে উক্ত রাত্রিতে প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো ফায়সালা হয়।= আল্লাহর নির্দেশেই প্রতিটি প্রজ্ঞাময় বিষয়গুলো মানুষের জন্য যা কল্যন কর বা অকল্যান কর তা তিনি কোরআনে ফয়সালা করে দিয়েছেন,

আর নিশ্চয়ই আমিই প্রেরণকারী= আল্লাহ কোরআন প্রেরন করেছেন। প্রেরনের চিন্তা করেন নি বা নাযিলের ফায়সালা করেন নি, তিনি নাযিল করেছেন শবে কদরে।


তো সুরা দুখান নিশ্চই কোরআন নাযিলের রাতকেই নির্দেশ করছে নাযিলের ফয়সালা কে নয়। কারন সুরা দুখানের ঐ আয়াত সমুহে কোরআনের মহাত্ব নিয়ে বর্ননা রয়েছে আর তাই কোরআন নাযিলের রাত্রির কথা প্রাসংগিক ভাবে এসেছে। আর অনেকে যে আয়াত কে শবে বরাতের দিকে নির্দেশ করেছে বলছেন তাদের বলব সুরা দুখানের ৩নং আয়াতের আশে পাশে আয়াত দেখুন কোরআন সম্পকে বলা আছে ।


আর অনেকে বলেছেন লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে।

তো আল্লাহ কি ভুলে গেছেন শবে বরাত কে কোরআনে উল্লেখ করতে? শবে বরাত যদি আল্লাহ আমাদের জন্য এত গুরুত্বপুর্ন মনে করতেন তবে তিনি নিশ্চই বলতেন একটি আয়াত হলেও শবে বরাত শব্দ উল্লেখ করতেন তিনি বলতেন এই সেই মহিমান্মিত রাত শবে বরাত যাতে তোমাদের ভাগ্য লিখা হয়, বা তোমরা শবে বরাতের রাতে বরকতের তালাশ কর, বা কোন একটি সুরা শবে বরাতের নামে কারন অনেকেই বলেন লাইলাতুম মুবারাকাহ শবে বরাত বা ভাগ্য রজনীকে বুঝানো হয়েছে।

তবে কি আল্লাহ আমাদেরকে তার ভাগ্য রজনী সম্পকে জানাতে ভুলে গেছেন, তিনি যদি সুরা কদর নাযিল করতে পারেন এর মর্যাদার জন্য তবে শবে বরাতের জন্য কেন নয়?

শবে বরাত যদি এতই গুরুত্বপূর্ণ হত তাহলে এই রাতের নাম "লাইলাতুল বারাত" শব্দটি কুরআন তো দূরের কথা, কোন দূর্বল হাদীসেও পাওয়া যায় না কেন? যদি এতই গুরুত্বপূর্ণ রাত হত তাহলে রাসূলুল্লাহ(সা) কি সাহাবীদের জানাতেন না এবং রাতভর ইবাদত করতে উদ্বুদ্ধ করতেন না? যদি করতেন তাহলে এর স্বপক্ষে শক্তিশালী হাদীস নেই কেন? সাহাবীরা এ রাত পালন করতেন এরকম দলীল নেই কেন? আর আমার জানামতে মানুষের ভাগ্য তার জন্মের পূর্বেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, প্রতি বছর বছর হালনাগাদ হয় না। ইবাদত করতে দোষ নেই এ রাতে তবে এ রাতকে উদ্দেশ্য করে ইবাদত করে একে একটা আচারে পরিণত করাটা বিদআত হওয়াটাই স্বাভাবিক।

যেটাতে আমি গুরুত্বপুর্ন ভাবছি আমাদের মিডিয়ার উচিত এই বিষয়টা স্পস্ট করে প্রচার করা। যেন আমরা আমাদের মধ্যে শবে কদরের রাতটি হয়ে ওঠে সর্বাপেক্ষা মহিমান্নিত ও গুরুত্বপূর্ণ। আর শবে বরাতের কথা যেহেতু নেই তাই যে ইচ্ছা পালন করুক তবে যেন ভুল ধারনায় নয় যেন এই রাত্রিতে সব কিছু নির্ধারিত তাই যদি কিছু পাওয়ার ইচ্ছা থাকে শবে কদরে বেশি নামাজ রোজা মোনাজাত করুন।

ইসলামী শরীয়তে হাজার হাজার বিসয় আছে যেগুলো সরাসরি কুরআন শরীফে নেই। তাহলে আপনি সে সব বিষয়েও কি বলবেন আল্লাহ ভুলে গেছে?   
    
হ্য নাই হাজার হাজার বিষয় , এখন দুটি দিক দেখতে হবে এক শবে বরাত কি কোরআনে আছে অথবা হজরত মুহাম্মদ (সঃ) বা সাহাবিরা পালন করেছিলেন,

কারন বিদায় হজ্জের শেষ কথা কি ছিল নিশ্চই জানেন , আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীন কে পরিপুর্ন করলাম।আল কোরআনের শেষ নাযিল কৃত আয়াত

আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।সুরা আল মায়েদাহ আয়াত ৩।
“This day I have perfected your religion for you, completed My Favour upon you, and have chosen for you Islam as your religion.” [5:3]

আমি কাউকে নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকতে বলিনি, বলেছি যাতে আপনারা এটা মনে না করেন যে শবে বরাত কোরআন দ্বারা প্রতিস্ঠিত। অনেকে আবার এর আমাকে জন্য মুরতাদ বলতেও থেমে থাকবেন না সেটা তাদের ব্যপার।


অনেকে আমাকে শাবে বরাত সম্পকে জিগ্গেস করছেন তাদের জন্য শবে বরাত সম্পকে বই: যাতে এর উৎপত্তির কারন , বিকাশ ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর রেফারেন্স সহ আশাকরি কাজে লাগবে

শিরোনাম: শবে বরাত ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা
ভাষা: বাংলা
লেখক : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
http://www.islamhouse.com/p/43454


লিখেছেন-  ফয়সাল হাসান

মিলাদ , শবে বরাত ও মিলাদউন নবী
হাফেজ মুহাম্মদ আইয়ুব
Milad Shobe Borat O Miladun Nabee Keno Bid'at Hafiz Muhammad Ayyub
Click This Link  

0 comments
Labels: ,

ডিসিশন... কোনটি নিবেন??

আপনি যদি টাকা চান আমরা আপনার জন্য এত টাকা যোগার করব যাতে আপনি আমাদের মত ধনি হতে পারেন।


আপনি যদি লিডারশিপ/ক্ষমতা চান তবে আমরা আপনাকে আমাদের লীডার/নেতা বানাব এবং আপনার অনুমতি ব্যতিত কোন কিছু ডিসাইড করবোনা।



আর আপনি যদি রাজত্ব চান তবে আমরা আপনাকে আমাদের রাজা/প্রধান মন্ত্রী বানাব।



আপনি যদি বউ চান আমরা আপনার জন্য সবচেয়ে সু্ন্দরী মেয়ে খুজে আনবো ।



আপনি কি উত্তর দিবেন যদি এ সব কিছু আপনাকে অফার করা হয়???


যখন মহানবী মোহাম্মদ (সঃ) ইসলাম প্রচার শুরু করেন সেই সময়ে আরবের কোরআইশরা মহানবী মোহাম্মদ (সঃ) কে উপরোক্ত অফার গুলো দেয়।

আপনি কি জানেন তিনি কি উ্ত্তর দিয়ে ছিলেন? তোমরা যদি আমার এক হাতে চন্দ্র ও অন্য হাতে সূর্য এনে দাও তবুও আমি সত্য প্রচারে বিমুখ হবো না।

মহানবী মোহাম্মদ (সঃ) এর সবই প্রত্যাখান করেন।


তিনি চাইলেই প্রথম দিকে কোন রিস্ক ও ডিফিকালটি ছারাই এগুলো পেতে পারতেন তবু কেন তিনি মানুষ কে আল্লাহর পথে ডাকতে থাকেন এই অফার গুলো ছেরে??

কেন তিনি নিজের লোকদের দ্বারা অত্যাচরিত হতে থাকলেন ? কেন তিনি নিজের প্রিয় মক্কা নগরী ছেরে মদিনায় হিজরত করলেন?? যখন তিনি মক্কাতেই রাজার মত থাকতে পারতেন তাদের অফার গুলো মেনে।

তার মানে এই নয় কি ইসলাম সত্য ধর্ম। কোন লোভ লালসার বা মোহাম্মদ (সঃ) নিজের বানানো বা নিজের লাভের জন্য প্রচারিত ধর্ম নয়??

মোহাম্মদ (সঃ) কে জানুন তারপর ডিসিশন নিন...কোনটি নিবেন??

পোস্ট আইডিয়া সুত্র:

লিখেছেন-  ফয়সাল হাসান

0 comments
Labels: ,

ঈশ্বর/খোদা/ আল্লাহ আছেন প্রমান দেন? (চর মেরে) প্রমানিত।

একটি ছেলে বিদেশে পড়তে গিয়েছিল অনেকদিন পর যখন সে ফিরল সে তার বাবা মা কে বলল তাকে একজন ধার্মিক গুরু বা যে কোন শিক্ষিত এক্সপার্ট এনে দিতে যে তার তিনটি প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে। শেষে তার বাবা মা একজন মুসলিম ইস্ক্লার ডেকে দিলেন

যুবকঃ আপনি কে? আপনি কি আমার তিনটি প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন?
মুসলিম ব্যক্তিঃ আল্লহ চাহেন তো আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব।
যুবকঃ আপনি কি শিওর? এর আগে অনেক প্রফেসর আর এক্সপার্ট আমার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।
মুসলিম ব্যক্তিঃ আমি আমার সবাত্তক চেষ্টা করবো । আল্লহ চাহেন তো উত্তর পেয়ে যাবেন।


যুবকঃ আমার তিনটি প্রশ্নঃ
১# ঈশ্বর/আল্লাহ/ খোদা কি আছেন? থাকলে দেখান বা প্রমান দিন?
২# তাকদির বা ভাগ্য কি?
৩# শয়তান যদি আগুনের তৈরি হয়, তবে শেষে তাকে কেন জাহান্নামের আগুনে ফেলা হবে সেওতো আগুনের তৈরি, এটা অবশ্যই তাকে যন্ত্রনা দিবেনা যেহেতু শয়তান ও জাহান্নাম দুটোই আগুনের তৈরি। আল্লাহ্‌ কি এতদূর পরজন্ত ভেবেছেন।


হঠাৎ মুসলিম ব্যক্তি যুবকের গালে জোরে চর মারলেন।
যুবকঃ(ব্যথা সহ) আপনি আমার উপর রেগে গেলেন কেন?

মুসলিম ব্যক্তিঃ আমি রেগে যাইনি আমার চর হল তোমার প্রশ্নের উত্তর।
যুবকঃ আমি ঠিক বুজতে পারলাম না?
মুসলিম ব্যক্তিঃ চর খাওয়ার পর তুমি কেমন অনুভব করছ?
যুবকঃ আবশ্যই ব্যথা পেয়েছি।
মুসলিম ব্যক্তিঃ তাহলে তুমি বিশ্বাস কর ব্যথা আছে?
যুবকঃ হ্যাঁ
মুসলিম ব্যক্তিঃ আমাকে ব্যথা দেখাও ?
যুবকঃ আমি পারবনা। ব্যথা কি দেখাযায়।
মুসলিম ব্যক্তিঃ এটা হল আমার প্রথম উওর। আমরা সবাই খোদার অস্তিত অনুভব করতে পারি তাকে দেখা ছারাই।

গত রাতে তুমি কি সপ্নে দেখেছ যে তুমি আমার কাছে চর খবে?
যুবকঃ না
মুসলিম ব্যক্তিঃ তুমি কি কখনো ভেবেছ যে তুমি আমার কাছে আজ চর খবে?
যুবকঃ না
মুসলিম ব্যক্তিঃ এটাই হল ভাগ্য বা তকদীর। এটা আমার দ্বিতীয় উত্তর।


আচ্ছা আমার হাত যা দিয়ে চর মারলাম টা কিসের তৈরি?
যুবকঃ এটা রক্ত মাংসে গরা।
মুসলিম ব্যক্তিঃ তোমার গাল টা কিসের তৈরি?
যুবকঃ এটাও রক্ত মাংসে গরা।
মুসলিম ব্যক্তিঃ চর খাওয়ার পর তুমি কেমন অনুভব করেছ?
যুবকঃ আবশ্যই ব্যথা পেয়েছি।

মুসলিম ব্যক্তিঃ আর এটাই হচ্ছে আমার তৃতীয় উওর, শয়তান এবং জাহান্নাম যদিও আগুনের তৈরি যদি আল্লাহ্‌ চাহেন তবে জাহান্নাম হবে শয়তানের জন্য সবচ্চ কঠিন(ব্যথার)আযাবের জায়গা।

Finally: I love Allah, Allah is my fountain of Life and My Savoir. Allah keeps me going day and night. Without Allah, I am no one, but with Allah, I can do everything, Allah is my strength. May Allah help you to Succeed threw QUARAN . Amen.

0 comments
Labels: ,

কোরআনের ভাষাগত সৌন্দর্য:পর্ব: ২ :- নিশ্চই আমি মানুষকে কষ্ট/পরিশ্রমি রূপে সৃষ্টি করেছি।



আল্লাহ সুরা বালাদ ৯০:আয়াত ৪ এ বলেন নিশ্চয় আমি মানুষকে কষ্ট/তকলিফ/শ্রমনির্ভর/পরিশ্রমি রূপে সৃষ্টি করেছি। অর্থ আমাদের জীবন সুখে পরিপূর্ন নয়, ফুলের বিছানা নয়।

لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ فِي كَبَدٍ 
লা কাদ খালাকনা আল ইনসানা ফিই কাবাদ 
নিশ্চই আমি মানুষকে শ্রমনির্ভর রূপে সৃষ্টি করেছি
[সুরা বালাদ ৯০:আয়াত ৪]

কাবাদ= তীব্র/প্রচণ্ড /প্রগাঢ়/দারূণ/চরম/প্রচুর, কঠিন/শক্ত/মুশকিল/কষ্টকর / বেয়াড়া/দু: সাধ্য/শ্রমসাধ্য/দুরূহ/অত্যন্ত জটিল/ভার/সঙ্কটপূরন

কঠোর পরিশ্রম বা এমন যা মানুষকে চারদিক থেকে আকরে ধরে রাখে / অশান্তিতে রাখে। মানুষ জাতিকে (পুরুষ/মহিলা) কে সৃষ্টি করা হয়েছে সংগ্রাম করে বেচে থাকতে।

এই আয়াত আলোচনা করতে দুটি দিক নিয়ে আলোচনা করা যায়: একদিক হলো আল্লাহর দিক বা আল্লাহর পথ
আর একদিক হলো যা আল্লাহ থেকে দুরে সরিয়ে দেয় সেই পথ;

যে পথই আপনি নির্বাচন করুন না কেন- আপনাকে বিভিন্ন ধরনের সংগ্রাম/কষ্টকর /দুরূহ/অত্যন্ত জটিল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যদিও এক সংগ্রাম কস্ট আপনাকে আল্লাহর ক্ষমা ও পুরস্কার এর দিকে নিয়ে যাবে আর অন্য পথ আপনাকে নিয়ে যাবে আল্লাহর শাস্তির দিকে।

মানুষ আল্লাহর পথ ইসলামের পথ হতে দুরে সরে যায় কারন সে মনে করে ইসলামী নিয়মে চললে তাকে অনেক কস্টের সম্মুখিন হতে হবে। কিন্তু সে বুঝতে পারেনা যে যদিও সে আল্লাহর নির্দেশিত পথ হতে দুরে সরে যায়- সে তবুও অনেক কস্টের/কঠিন চাপের সম্মুখিন হবে জীবনের অন্যান্য বিষয় হতে।

আল্লাহ আমাদের বলেন:

يُرِيدُ اللّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَاللّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ 
আল্লাহ তোমাদের জন্যে সব কিছু পরিষ্কার বর্ণনা করে দিতে চান, তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে চান। এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান, আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ। 

وَاللّهُ يُرِيدُ أَن يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَن تَمِيلُواْ مَيْلاً عَظِيمًا 
আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হতে চান, এবং যারা কামনা-বাসনার অনুসারী, তারা চায় যে, তোমরা পথ থেকে অনেক দূরে বিচ্যুত হয়ে পড়।

 يُرِيدُ اللَّهُ أَن يُخَفِّفَ عَنكُمْ ۚ وَخُلِقَ الْإِنسَانُ ضَعِيفًا
  আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান। মানুষ দুর্বল সৃজিত হয়েছে। 
God wishes to lighten your burdens (with His guidance). For, the human being has been created weak. (সুরা নিসা ৪ আয়াত:২৬-২৮)

কাবাদ বলতে আরো বুঝায়- দিনের মধ্যবর্তী সময় (সবচেয়ে কঠিন সময়/ সবচেয়ে গরম থাকে যে সময়, আরবের জন্য মরুভুমিতে ঠিক দুপুরের সময় বুঝাতে কাবাদ।এটা আরো নির্দেশ করে এমন অবস্থা যেমন আপনি মরুভুমিতে হাটছেন আর আপনার পা বালুতে আটকে যাওয়ার মত না পারবেন হাটতে না পরবেন দৈরাতে সেখানেই আটকা পরে যাবার মত।

সমার্থক শব্দ কিবদ -বলতে বুঝায় যখন আপনার যকৃতের পীড়া হয় যাতে মানুষ কস্ট পায় সুখকর নয় এমন অনুভুতি।

কিছু সাহাবা কবদ কে দেখেন জীবনের ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায় হিসেবে: যেমন আমনি যখন মায়ের গর্ভ থেকে বের হন তখন আপনার এবং আপনার আম্মার জন্য কস্টকর

অতপর যখন আপনি বড় হন- আপনি তখন সংগ্রাম করেন এবং বিভিন্ন শিক্ষার মধ্যে দিয়ে যান যেমন খাবার , হাটা, কথা বলা ইত্যাদি , এখন দেখুন প্রতিটা সময় আপনি সংগ্রাম করেন কস্ট করেন যা চলতে থাকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।

মুফতি মুহাম্মদ শাফি বলেন: মানুষ কখনোই চিন্তা ও কস্ট হতে ফ্রি হতে পারেনা। সবচেয়ে ধনি যে তার চিন্তা বা সংগ্রাম থাকে টাকা বা তার পরিবারর সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে এবং এটা আপনার আমার জন্য চিন্তার কারন না হতে পারে কারন আমরা গরিবরা আমাদের পরিবারের সাথে ভাল সম্পক থাকতে পারে , তাদের (ধনিদের) সমস্যা তাদের ছেলে মেয়েদের মাদকাসক্তি,শিশা, মদ, জুয়া ইত্যাদি যা গরিবদের না থাকতে পারে কিন্তু সেটা ধনিদের জন্য খুবই চিন্তা ও কস্টের বিষয়।

এই পৃথিবীতে উদ্বেগ বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকমের হয় (যেমন রাজনীতি বিদদের গুম বা ইলেকশন নিয়ে উদ্বেগ) কিন্তু একটি জিনিস কমন হলো সবারই উদ্বেগ আছে (যেমন মেয়েদের জুতার সাথে জামার ম্যচ না হওয়া আর ছেলেদের আইপ্যাড/ল্যপটপ ইত্যদি নিয়ে উদ্বেগ)

প্রত্যেক মানুষের জীবনে তাদের নিজস্ব উদ্বেগ আছে। তাই কেন না আমরা সেই কস্ট কে উদ্বেগকে মেনে নেই যে কস্টে/উদ্বেগে রয়েছে উত্তম প্রতিদান?? কারন আপনি তো সারা জীবন কস্টে/উদ্বেগে কাটাবেনই-- যাই করুন না কেন??

লিখেছেন-  ফয়সাল হাসান

0 comments
Labels: ,

#কোরআনের ভাষাগত সৌন্দর্য সুরা বাকারা আয়াত ১৪৩

আপনি কি মুসলিম তবে আপনারই দায়িত্ব সবার মাঝে শান্তি বজায় রাখা তা হতে পরে আপনার পরিবার হতে পারে দেশ।

আপনি কি জানেন আল্লাহ কত সুন্দর ভাবে বলেছেন সুরা বাকারা তে : সুরা বাকারা সম্পকে না জানলে একটু দেখুন :: আল কোরআন সুরা নং: ২ আয়াত:১৪৩ যাকে বলা হয় মধ্যবর্তী আয়াত সেখানে আল্লাহ বলেন :

The Middle (wasat) Ayah of al-Baqarah.
وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا


এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। And thus We have made you a Wasata (Middle way – Just/Balanced) Ummah/Nation..- al Baqarah 2:143

এটার সৌন্দর্য দেখুন: সুরা বাকারাতে মোট আয়াত সংখা ২৮৬ এবং আল্লাহ সুরা বাকারার আয়াতে মধ্যবর্তী বুঝাতে আল্লাহ ঠিক সূরা বাকারার মাঝখানটাকে ব্যবহার করলেন সেটা সকলের বিস্বয় আর কোরআনেই ভাষাগত সৌন্দর্য এবং এটা যে আল্লাহর বানী তাই প্রমান করে।

নোট: মনে রাখবেন সুরা বাকারা কিন্তূ কয়েক বছর সময় ধরে নাযিল হয়েছিল এবং এটা প্রথমে মুখস্ত করা হয় (মুহাম্মদ সঃ সময় পুরো কোরআন লিখা হয়নি সাহাবিরা মুখস্ত রাখতেন হজরত উসমান (রঃ) প্রথম কোরআন সংকলন করেন মুহাম্মদ (সঃ)ইন্তিকালের অনেক পরে)

যখন কোরআন সংকলন করাহয় তখনো আয়াত নং ছিল না যেমন এখন আমরা দেখি তাই এটা ইম্পসিবল যে আয়াতটি ইচ্ছাক্রত ভাবে মাঝখানে বসানো কারন সুরাটা সবাই আগেই মুখস্ত করে রেখেছিল তাই মানুষের পক্ষে পরবর্তীতে তা পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই

এবার অংকটা নিজেই করুন: [ সুরা বাকারার মোট আয়াত ২৮৬/২=১৪৩]
১৪৩ নং আয়াতকে সুরা বাকারার মধ্যবর্তী আয়াত হিসেবে ধরা যায় আর সেই মধ্যবর্তী আয়াতেই আল্লাহ আমাদের বলেন তিনি আমাদের মধ্যবর্তী সম্প্রদায় হিসেবে মনোনীত করেছেন। সুবহানাল্লাহ

এখন এই আয়াত থেকে আমরা শিক্ষা পাইযে যদি আমরা ঈমান আনি ও নিজেদের কে মুসলিম হিসেবে মানি তবে আমাদের দায়িত্ব হল সমাজে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখা আপনি নিজেও শান্তি বজায় রাখবেন আপনার পরিবার , সমাজ ও দেশের শান্তি বজায় রাখতে সর্বদা সচেস্ট থাকবেন।

তবেই সম্ভব আমাদের দেশের সুন্দর দিন ফিরে পাওয়া, দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়া যদি সবাই মিলে দেশে ও সমাজে শান্তি বজায় রেখে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় হিসেবে সবার সাথে(অন্য সম্প্রদায় হিন্দু খ্রিস্টান) এবং নিজেদের সাথে একে অপরে ভাল ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এই ভাবে থাকার সুফল দুদিকেই এক দুনিয়াতে আপনি শান্তি বজায় রাখবেন আর দ্বিতীয় যখন আপনাকে কেউ সাহাজ্য করতে পারবেনা তখান আপনি পাবেন আপনার রাসুল (সঃ) কে আপনার সাক্ষ্যদাতা হিসেবে। এর চেয়ে ভাল পুরস্কার আর কি হতে পারে একজন মুসলিমের জন্য।

তবে যারা সমাজে শান্তি বিনস্ট করছে মানুষ কে কস্ট দেয়ার মাধ্যমে , ঘুষ দূর্নীতি, মানুষ কে তার হক থেকে বন্চিত করে ও অন্যান্য অপরাধের মাধ্যমে তাদের নাম যত সুন্দর মুসলিম নাম হোক না কেন বা তারা যদি মসজিদের ঈমামও হন তবে তারা যে আসলেই মুসলিম কিনা তা আপনারা বুঝেছেন নিস্চই।

একজন মুসলিম সেই যার আচার ব্যবহারে থাকবে কোমলতা একে অপরের জন্য সহায়তা সবোপরি সৎ চরিত্রের অধিকারি যেমন ছিলেন আমাদের মহানবী (সঃ) যার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে মানুষ ইসলাম কবুল করত।

আল্লাহ আমাদের মধ্যপন্থী সম্প্রদায় হিসেবে সবাইকে কবুল করুন। আমিন

Quran Gem: Middle Nation | Kinetic Typography



অনুবাদ করে লিখেছেন-  ফয়সাল হাসান

0 comments