শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Labels: , , ,

নাস্তিক হবার ৩টি কারণ

●|● নাস্তিক হবার ৩টি কারণ ●|●

অনেক মুসলিমের মাঝে একটি আচরণ আমি খেয়াল করেছি, সেই মনোভাবটি সর্বপ্রথম আমি নিজের মাঝেই খুজে পেয়েছিলাম। তাই আমি জানি এমনটা হয়। কারণ এটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা—যে কুরআন বর্তমান সময়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়। কুরআন আমার জীবনের ব্যপারে কিছু বলছে না। এটা এমন কিছু নিয়ে বলছে যা অনেক আগেই ঘটে গেছে। আমি যাদেরকে চিনি যারা কুরআন নিয়ে কথা বলে, তাদেরকে দেখলে মনে হয় তারা ৫০০ বছর আগেই পড়ে আছে। তারা আধুনিক মানুষের মত নয়। তারা যখন কথা বলে, এমনভাবে কথা বলে যেভাবে আর কেউই কথা বলে না। আমার বন্ধুরা, সহকর্মীরা, শিক্ষকরা কেউই এইভাবে কথা বলেনা।

আপনি একজন খাতিবের বন্ধু হতে পারেন। তারা এমনভাবে কথা বলে যেন তারা ভিন্ন কোন যুগের মানুষ যাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। ধর্মীয় আলোচনার পর আমার প্রথম মনোভাব ছিল যে এটি এই সময়ের জন্য নয়। এটি একটি পুরাতন কিছু, প্রাচীন কিছু মানুষের জন্য। এই ধর্ম পালন করে এই যুগে বেচে থাকা সম্ভব নয়। অসম্ভব।

আর আমি যত লেকচার শুনেছি সব সময়ই তারা এই কথাই বলত যে এখনকার সময়টা কতটা খারাপ। এখন বেশ খারাপ সময়, আগে কতই না ভালো সময় ছিল। তো আমি নিজেকে বলতাম যে কিন্তু ঐ সময় তো চলে গেছে। আর এখন খারাপ সময় চলছে। তো কি আর করার? এটি প্রথম সমস্যা।

দ্বিতীয় যে সমস্যা আমি দেখেছি। আবারও, আগে নিজের মাঝেই দেখেছি এরপর আরও লাখ লাখ মানুষের মাঝে যে এই ধর্ম, এই বইটি খুবই কঠোর। আর কঠিন। যেই নিয়ম কানুন আছে তা পালন করা সহজ নয়। এই নিয়ম নীতি গুল কিছু জিনিস থেকে দূরে থাকতে বলে, কিছু করতে বলে। কিন্তু এগুলোর সংখ্যা অতি মাত্রায় বেশি, বেশ কঠিন এবং প্রাসঙ্গিক নয়। পালন করা সম্ভব নয়। আর যদি পালন করতেই হয়, তবে আমাকে চরমপন্থি হতে হবে। সাধারন-সুখী কেউ থাকতে পারবেনা এগুলো পালন করে। আর যতই বেশি ধার্মিক আপনি হবেন, তত বেশি বিষণ্ণ হবেন। তত বেশি রাগী, দেখতেও প্রচন্ড রাগী। আমি যত ধার্মিক লোকজন চিনি, তারা খুবই রাগী মানুষ। আমি ঐ রকম হতে চাইনা। তারা এমন হয়েছে তার কারণ নিশ্চয়ই এই ধর্ম। এই ধর্ম বেশ কঠোর, তাই মানুষকেও কঠোর, রাগী বানিয়ে ফেলে।

শুধু তাই না, আমি আল্লাহ পাকের এই পথে আসার আগে যদি দাড়িওয়ালা কাউকে দেখতাম, উল্টা দিকে দৌড় দিতাম। কারণ তারা আমাকে শুধু বলত, কেন আমি জাহান্নামে যাচ্ছি। অথবা তারা আমাকে কিছু করতে বলবে, যাও নামাজ পড়। নাহলে কোন প্রশ্ন করবে, তুমি এই পোশাকে কেন? কি শুনছো? কি দেখছ? থামুন। আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাইনা। আমাকে একা থাকতে দিন। আপনি আরাম করছেন, পিজা খাচ্ছেন। একজন দাড়িওয়ালা কেউ ঢুকল রেস্তোরাঁয়। এই হয়েছে! আমি ভালোই খাচ্ছিলাম, তার কি এখানেই আসতে হল? তো দ্বিতীয় মনোভাব হল, এই ধর্ম বেশ কঠোর, যারা মেনে চলে তারাও কঠোর।

তৃতীয় হল, কেউ যখন আল্লাহ পাকের ধর্ম নিয়ে কথা বলতো, কেউ আমাকে বলতোনা কেন আমাকে মুসলিম হতে হবে? শুধু হতে হবে। এগুলো তোমাকে করতে হবে। যদি জিজ্ঞাসা করি, কেন? কারণ না করলে তোমাকে জাহান্নামের আগুনে পুড়তে হবে। আমি কেন বিশ্বাস করবো? প্রশ্ন করা মানে তুমি কাফির হয়ে যাবে। তোমার মনে সন্দেহ আছে?! তোমার ঈমান নেই?

একই মানুষের কাছে গিয়ে যদি আপনি প্রশ্ন করেন যে, পৃথিবীতে তো আনেক গুলো ধর্ম আছে, আমরা কিভাবে জানলাম যে এই ধর্মই ঠিক? তিনি আপনাকে বলবে, আর আমাকে বলেছিল যে ছেলে তুমি এখনই ওযু করো, আর দুই রাকাত নামাজ পড়। শয়তান তোমাকে এগুলো বলছে। ওযু আর দুই রাকাত নামাজ পড়ার পরেও আমার একই প্রশ্ন। আমরা এই ধর্ম কেন অনুসরণ করছি? যখনই আমি কাউকে জিজ্ঞাসা করেছি সবাই বলেছে, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ কিভাবে তুমি এমন প্রশ্ন করতে পারলে? ইন্না লিল্লাহ! তোমার বাবা মা জানে এই ব্যাপারে? ভাই, তুমি বস। তোমার উপর কোন রুকিয়াহ করে দেই।

কিন্তু রুকিয়াহ করার পরও আমার মনে একই প্রশ্ন। এরপর আমি কি ভাবতে শুরু করেছিলাম? আর আরও লাখ লাখ যুবক যুবতী ভাবতে শুরু করে? তাদের কাছে এর উত্তর নেই। প্রথমত, তারা চায় তুমি প্রাচীন মানুষের মত থাকো। ২০১৫ তে না, ১২৭৫ এ বাস করো। তারা তোমাকে উমর বিন খাত্তাব (রা) এর সময়ে থাকতে বলে। তো প্রথমত, এটা প্রাসঙ্গিক নয়। দ্বিতীয়ত, এটা বেশ কঠোর। তৃতীয়ত, তারা আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে চায়না। তারা মনে করে আমার প্রশ্ন হল শয়তানী কিছু।

এই তিন কারণ যথেষ্ট, কারও বলার জন্য যে আমি ইসলামের ধারে কাছেও যেতে চাইনা। আপনার যদি এই তিনটি কারণ থাকে, আর আপনি ইসলামের ধারে কাছেও যেতে চান না, আমি মেনে নিলাম। এটা যুক্তিযুক্ত। তো আমি আপনাদের বেশ আত্ম বিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি, যে এমন কোন দেশে আমি যাই নি, মুসলিম হোক আর নন-মুসলিম যে ঠিক এই রকমি ভাবছে, এমন কেউ নেই। একটি লেকচারে যতজন মানুষই আসে, তাদের মাঝে শত শত, হাজারে হাজারে মানুষ, মুসলিম হোক আর নন-মুসলিম, এই সমস্যায় ভুগছে। বহুদিন ধরে আমি এমনটা দেখেছি। আমার জীবনের অনেকটা সময়ই আমি কুরআন থেকে দূরে ছিলাম এই জন্য নয় যে আমার সময় নেই। বরং এটা কঠোর, এই জন্য। এটি আমার প্রশ্নের উত্তর দিবে না।

আমি নিউ ইয়র্কে কলেজে যখন গেলাম, আমি ফিলসফি, সাইকোলজি, অ্যানথ্রপলজি যখন নিলাম, ফ্রয়েড যখন পরা শুরু করলাম, বিবর্তন যখন পড়া শুরু করলাম, ১৪০০ বছর আগের এক বই কিভাবে আমার প্রশ্নের উত্তর দিবে? নিশ্চয়ই এটি আমার প্রশ্নের উত্তর দিবে না। তো এটির কাছে যাওয়ার আমার কোন প্রয়োজন নেই।

কিন্তু আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতের কারনে, আর কোন কারণ নেই, শুধু এই কারনে যখন আমি আল্লাহ পাকের বইয়ের সাথে পরিচিত হলাম, আর ভাগ্যবশত দারুন কিছু শিক্ষকের সন্ধান যখন পেলাম, তখন বুঝতে পারলাম, ঐ তিনটি প্রশ্নই সত্য নয়।

অবিশ্বাস্যভাবে এটি প্রাসঙ্গিক। এতে উত্তর আছে আমার প্রশ্নের, আমার ব্যক্তিগত সমস্যার, এই যুগেরই। সমাজের বা দুনিয়ার সমস্যার কথা পরে, ওটা ২য় ধাপ আর ৩য় ধাপ, আমি নিজের ব্যক্তিগত সমস্যাবলির কথা বলছি। এটায় উত্তর আছে।

দ্বিতীয় সমস্যা ছিল, এটা কঠোর। যত আমি গবেষণা করেছি, আমি বুঝেছি মানুষ হল কঠোর। এই বইটি মোটেও না। আল্লাহ পাক বইটিকে রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমাদের মাঝে তা নেই, তাই আমরা যখন কথা বলি, আমরা রাহমাটা উহ্য রাখি। আল্লাহ পাকের বই তা করে না, আমরা করি। আমাদের সহ্য, ধৈর্য নেই। এই ব্যাপারে পরে আবার আমি কথা বলব।

তৃতীয় সমস্যা ছিল, আমার প্রশ্নের কেউ জবাব দিচ্ছে না। আমার প্রশ্ন আছে, আর তারা বলে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ শয়তান! অথচ কুরআন বলছে, তোমাদের প্রশ্ন আর সমালোচনাগুলো নিয়ে আসো। দুনিয়ার কোন ধর্ম বলে, আসো, সমালোচনা করো। শুধুই ইসলাম, আর একটিও নেই। তোমাদের প্রশ্ন আর সমালোচনাগুলো নিয়ে আসো। আমি যখন পড়ছিলাম, আমি ভাবছিলাম, এগুলো কি বলছে? আমি তো ভেবেছিলাম, এখানে লিখা থাকবে বিশ্বাস করো, নাহলে তোমাকে পুড়তে হবে! অথচ এখানে বলছে, ‘আফালা তাকিলুন’। তুমি ভাবো না কেন? অন্য কোন ধর্ম তোমাকে নিজের মত ভাবতে বলে? অন্য সব ধর্ম বলে, ভাবনা থামাও, বিশ্বাস করো। আর এটি বলছে, কোনোভাবেই তুমি চিন্তা করা থামাবে না। তোমাকে চিন্তা করতেই হবে, আর শুধু মাত্র তখনি তুমি সত্যিকারের অর্থে বিশ্বাস করতে পারবে। আর কোনও ধর্ম নেই এমন। আমরা বলতে থাকি নন-মুসলিমদের দাওয়াত দেবার ব্যাপারে, আমি বলছি আমাদের নিজেদের উম্মাহ কুরাআন থেকে দূরে সরে গেছে। যখনি তারা কুরআন সম্পর্কে কিছু শুনছে, তারা শুনছে এমন কিছু যা কঠোর, যা প্রাসঙ্গিক নয় আর যা তাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না। অথচ কুরআন মোটেও এমন নয়, এখানে সব প্রশ্নের উত্তরই আছে। কিন্তু যে এটা উপস্থাপন করছে, সে ঐভাবে উপস্থাপন করছে না। ভুলভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে। অতি নিচু ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই সমস্যাটি আমি দেখছি আমার সামনে। এই সময়ের চ্যালেঞ্জ এটাই। আমার কাছে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কতকিছুই না বলা হয় কুরানের আয়াত নিয়ে। খুবই সহজ একটি আয়াত তুলে ধরা। মোটেও কঠিন নয়। আর এর অপব্যবহারও খুবই সহজ। খুবই সহজ। আর মানুষ এটা করেও। মাঝে মাঝে মানুষ এমন অপব্যবহার করা কুরানের আয়াতের আর নিষ্পাপ মানুষ মারা যায়। এই কুরআনের এই অপব্যবহার এই দুনিয়াতে শুধু ফাসাদ তৈরি করে তা নয়, রক্তপাত ও ঘটানো হয় এর নামে। এমনটা হচ্ছে। এমন অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ আরও দূরে সরে যাচ্ছে কুরআন থেকে। এমনটা হচ্ছে। এমনভাবে কুরআন নিয়ে মানুষ কথা বলছে, যে এমনকি মুসলিমও বলছে, ইসলাম আমার আর দরকার নেই। আমি সরে যেতে চাই। এটা হল এই সময়ের ট্র্যাজেডি।

আমি এখন ট্র্যাজেডির ব্যাপারে কথা বলা বন্ধ করবো। আপনারা অনেক শুনেছেন এই ব্যাপারে।

- উস্তাদ নুমান আলী খান

ইউটিউব লিঙ্কঃ https://youtu.be/gYIxxVRIKzc

0 comments
Labels: , , ,

দাওয়াহ দিন বিনম্র শব্দ ব্যবহারে

●|● দাওয়াহ দিন বিনম্র শব্দ ব্যবহারে ●|●

অনেক সময়ই মানুষ উপদেশ গ্রহণ করেনা এ কারণে যে, তারা আত্মমর্যাদাবোধে পরিপূর্ণ থাকে। আমি যদি আমার কাজিন কিংবা আঙ্কেলকে কোনো উপদেশ দিতে যাই (তারা বলবেন) "বিরক্ত করো না! কেন শুধু শুধু আমার সময় নষ্ট করছো?" তাদের প্রকাশভঙ্গি এমন হবে যে তারা কথাটা শুনতে চাইছেন না। কারণ তাদের মনে কাজ করে আমি তোমাকে কেন জিতিয়ে দেব? আমাকে কেন তোমার কথা শুনতে হবে? তুমি নিজেকে কী মনে কর?
কিন্তু যখন আপনি চলে গেলেন হয়তো তারা ভাববে, "সে ঠিকই বলেছিলো। আমার ওর কথা শোনা উচিত ছিলো।" তবে তারা আপনার কাছে তা প্রকাশ করতে চাইবেন না কারণ এটা তার আত্মমর্যাদার বিষয়। তাই না? আর এতে কোনো সমস্যা নেই। 

আমাদের মানুষকে এমনভাবে দাওয়াহ দিতে হবে না যে আমাদের কথা শোনামাত্র তারা নিজেদের জীবনপদ্ধতি পাল্টে ফেলবেন। হৃদয়ের পরিবর্তন তো আমাদের হাতে নেই। তবে আমাদের কর্তব্য হলো বারবার তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া। এটাই সকল নবীর প্রদত্ত শিক্ষা।

নবীরা যুগের পর যুগ মানুষের মাঝে কোনো পরিবর্তন দেখতে পাননি। আর আল্লাহ আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে কী উপদেশ দিয়েছিলেন?
"আপনি এর চেয়ে ভালো বক্তা পাবেন না..."
"আপনি এর চেয়ে ভালো বার্তা পাবেন না..."
"আপনি এর চেয়ে ভালো শ্রোতা পাবেন না যারা এই বার্তা সরাসরি বুঝতে পেরেছিলো…" (কুরাঈশদের মতো)।
কল্পনা করুন সেই জাতিকে যারা সর্বশ্রেষ্ঠ বার্তা শুনতে পেয়েছিলো সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষকের কাছ থেকে টানা দশ বছর ধরে, তারপরেও এর মূল্যায়ন করেনি। চিন্তা করতে পারেন, কতটা একগুঁয়ে জাতি তারা। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাঁর রাসূল (সা)-কে কী বলেছেন? বলেছেন, "তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকুন। আপনার কাজ কেবল মনে করিয়ে দেওয়া। আন্তরিক ও সহানুভুতিশীল উপদেশ দেওয়া।"

সহানুভুতিশীল উপদেশ দেওয়ার অর্থ হলো অন্যের ভালো চাওয়া। আপনার কাজ এটা না যে আপনি শুধু তাদের বলবেন যে তারা জাহান্নামে যাচ্ছে, তারা যা করছে তা ভুল। আপনি তাদের ভালো চাইছেন। ঠিক যেমনটা আপনি নিজের সন্তানের ভালো চান, নিজের ভাইয়ের ভালো চান। আর অন্যভাবে ভেবে দেখলে তারা আপনার ভাইয়ের মতোই। কারণ আমাদের আদি পিতা একজনই... আদম (আ)। তো তারা আসলেই আপনার-আমার ভাই-বোন। এটা বুঝানোর জন্যেই আল্লাহ বলেছেন আমরা একই বাবা-মা এর কাছ থেকে এসেছি… যেন আমরা একে অপরকে নিজের পরিবারের সদস্য মনে করি।

তাই উপদেশ দিতে হবে অকৃত্রিম সচেতনতার সাথে। অনেক সময়ই মানুষ যে পদ্ধতিতে উপদেশ দেয় সেটা খুবই অপমানজনক। "কী ব্যাপার বোন? আপনি হিজাব পড়ছেন না কেন? আপনি জানেন না এটা ইসলামের আদেশ? কেমন মুসলিম আপনি?" -- আপনার মা যদি হিজাব না করতেন তাহলে কি তাঁকে এভাবে উপদেশ দিতেন? মানুষের সাথে কথা বলার একটা সৌন্দর্য আছে। আর নবীরা আমাদের তা শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন। শুধু কী বলতে হবে সেটা না, কীভাবে বলতে হবে সেটাও।

আমাদের অনেকটা আন্তরিক থাকতে হবে আল্লাহর বানী পৌঁছে দেয়ার সময়। কারণ এই আন্তরিতাই মানুষের মনকে বিগলিত করতে পারে।
ইউটিউব লিঙ্কঃ https://youtu.be/bivxB6oqPwo

0 comments
Labels: , , ,

আমার স্ত্রী হিজাব করছে না ‒ কী করবো?

●|● আমার স্ত্রী হিজাব করছে না ‒ কী করবো? ●|●

তাকে হিজাব পরার ব্যাপারে কিছুই বলবেন না। হিজাব বিষয়ে তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিন। একেবারেই বন্ধ করে দিন। আপনি যেটা করবেন, আসলে আপনি তার সাথে কথা বলবেন না(ইসলাম নিয়ে)… কারণ প্রায় সময়ই দেখা যায়, যেই মানুষেরা আমাদের প্রতি দাওয়াহ দিতে সবচেয়ে অকার্যকর তারা আসলে নিজস্ব পরিবারের সদস্য। তারা একজন অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে কথা শুনতে বেশি আগ্রহী এবং তার উপদেশ গ্রহণ করতে রাজি আছে কিন্তু নিজের পরিবারের কাছ থেকে তা শুনতে চাইবে না। এটা কিন্তু আমাদের মত বক্তাদেরও সমস্যা। তারা সারা দুনিয়াকে দাওয়াহ দিতে পারে। কিন্তু দেখা যায়, তারা অন্য কারও টেপ বা অন্য কারও সিডি নিয়ে আসে গাড়িতে শুনার জন্যে। (কারণ পরিবারের সদস্যরা বলতে থাকে) ‘তোমার কথা আর শুনতে চাই না! অনেক শুনেছি!’ তাই না? এমনটা হয়ে থাকে।
তো প্রথমত আপনাকে বুঝতে হবে, যখন পরিবারের কাছে দ্বীনের শিক্ষা দিবেন আপনার একটু কৌশলী হতে হবে। আপনার ধাপে ধাপে আগাতে হবে। একজন খুব দক্ষ বক্তা খুঁজে বের করুন যিনি আখিরাত এবং শেষ বিচারের দিন সম্পর্কে বলেছেন। আপনার স্ত্রীর সবচেয়ে বড় সমস্যা এটা না যে, তিনি হিজাব করছেন না। হিজাব কেবল রোগের লক্ষণ, আসল অসুখ নয়। তার অসুখ হলো দুর্বল ঈমান। আপনি কিভাবে ঈমানকে পুনর্জীবিত করবেন? তাকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে। আর এর জন্যে সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রন্থ কোনটি? কুরআন।

আপনি যদি কুরআনের সেই আয়াত গুলো পর্যবেক্ষণ করেন যাতে অনুস্মরণের কথা বলা হয়েছে… সেখানে সব সময় কী বিষয়ে কথা বলা হয়েছে? আখিরাত আর অতীতের মানুষদের ধ্বংসের কারণ। এটাই শক্তিশালী উপদেশ। ‘যেই মানুষেরা উপদেশ গ্রাহ্য করেনি দেখ তাদের সাথে সাথে কি হয়েছিলো। দেখ, তাদের সাথে কি হতে যাচ্ছে।’ তাই না? আপনি যদি আপনার পরিবারে এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন যে, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট আপনারা একত্রে কুরআনের কথা শুনবেন, শক্তিশালী উপায়ে। আর বর্তমানে অসংখ্য বক্তাদের রিসোর্স সহজেই পাবেন, আপনি যা শুনতে পারবেন। এসব কাজ থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ নিন।

আর এই বিষয়টা বুঝতে শিখুন যে, কিছু মানুষের জন্যে আপনি হয়ত দাওয়াহ দেওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যম নন। কেউ কেউ হয়ত অন্য কারও কাছ থেকে উপদেশ গ্রহণ করবে। আমরা সবাইকে দাওয়াহ দিতে পারব না। হয়ত কিছু কিছু মানুষের জন্যে আমাদের পদ্ধতি কার্যকর কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আমরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সবারই পৃথক অনুসারী আছে। ইনশাআল্লাহ এই কথা গুলো আপনাকে সাহায্য করবে আপনার স্ত্রীর অবস্থার ব্যাপারে।

আর একটা শেষ কথা আমি বলতে চাই, আমার মন বলছে আপনার স্ত্রীর হিজাবের ব্যাপারে কোনো যুক্তিগত সমস্যা নেই। এমনটা না যে তিনি হিজাবের গুরুত্ব সম্পর্কে সন্দিহান। তার সমস্যা আসলে এটা যে, তিনি আল্লাহর প্রত্যেকটি আদেশ পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন নন। এটাই তার প্রকৃত সমস্যা। এই সমস্যা সমাধান হয়ে গেলে তিনি এমনিতেই হিজাব এবং অন্যান্য কর্তব্য পালন করবেন, ইনশাআল্লাহ।

0 comments
Labels: , , , ,

ইসলামে স্ত্রীর অধিকার

আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। গাল্ফ ট্যুরে থাকা কালীন আমি বেশ কিছু চিঠি পেয়েছি।এটা তার মাঝে একটা।
‘আমি একজন অমুসলিম, কুয়েতে অল্প কয়েক বছর ধরে কাজ করছি।আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলাম কারণ আমি আমার অফিসের এক ধার্মিক মুসলিম কলিগ কে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম।আর আমি তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম।’

উস্তাদ-আচ্ছা!

‘আমি তাই ইসলাম সম্পর্কে আরো জানতে চাচ্ছিলাম।আমি যেই মানুষটিকে পছন্দ করেছি তিনি একজন পাকিস্তানি ভাই।তার কালচার আরও ভালো ভাবে জানার জন্যে, আমি একজন মহিলা কলিগের সঙ্গ নিলাম যে এক পাকিস্তানি পরিবারে বিয়ে করেছিলো।আমি ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্যে কুরআন পড়ছি। আর এতে একজন স্ত্রীকে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে তা খুবই হৃদয়গ্রাহী এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ।কিন্তু যখন আমি আমার মেয়ে বন্ধুটির জীবনের দিকে তাকাই, তাকে এত কিছু করতে হয় তার শ্বশুর বাড়ির জন্যে।আর তার স্বামী তাকে জোর করে সে যেন তার শাশুড়ির সেবা-যত্ন করে।আর তার শাশুড়ি তাকে অনেক যন্ত্রণা দিয়ে থাকে।তিনি তাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া সৃষ্টি করে। এদিকে তার ননদেরা তাকে সব সময় কাজের মেয়ের মত খাটায়।তার স্বামী এ ব্যাপারে অনেক কঠোর।আমি এক্ষেত্রে অনেক অবিচার দেখতে পাই।তিনি তাকে ভয় দেখান যে তিনি স্ত্রীকে ছেড়ে চলে যাবেন যদি সে কথা না শুনে, শ্বশুরপক্ষের সকলের ইচ্ছা পূরণ না করে।এটাই যদি ইসলামের আসল রূপ হয়, আমি মুসলিম হওয়ার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত।এ ব্যাপারে আপনার উপদেশ কি?’

উস্তাদ- আমি আসলে প্রথমবারের মত এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হইনি,আমাকে বেশ কিছু মানুষ জিজ্ঞেস করে একজন নারীর অধিকার সম্পর্কে...বিশেষ করে তার শ্বশুরপক্ষের কাছে কি অধিকার আছে সে সম্পর্কে।এটা বেশ জটিল একটা বিষয়।তবে আমি কিছু মূল ধারণা সকলের কাছে উপস্থাপন করেতে চাই।যেই বোন প্রশ্নটি করেছেন, প্রথমত আপনার এই প্রশ্নের জন্যে ধন্যবাদ।আর এই প্রশ্ন শুধু আপনার নয়, আমার মনে হয় আরও অগণিত মানুষ এ থেকে উপকৃত হতে পারেন ইনশাআল্লহু তা’আলা।


প্রথমত, ইসলামে যেকোনো সম্পর্ক কিছু অধিকার ও কর্তব্যের ভিত্তিতে স্থাপিত।একজন পুরুষ হিসেবে আমার স্ত্রীর প্রতি আমার কিছু কর্তব্য রয়েছে।ঠিক যেমন আমার প্রতি তার কিছু দায়িত্ব রয়েছে।আর বাবা-মায়ের প্রতি আমার কিছু দায়িত্ব রয়েছে, ঠিক যেমন আমার প্রতি তাদেরও দায়িত্ব আছে।তাদের কাছে আমার কিছু অধিকার আছে।এখন, এক্ষত্রে মূলনীতি হলো, আপনি যেকোনো একটি সম্পর্কের অধিকার আদায় করতে গিয়ে অন্য আর একটি সম্পর্কের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারেন না।প্রশ্ন হলো আপনি কিভাবে সব অধিকারের সমন্বয় ঘটাবেন?বিশেষ করে আমরা এখন কথা বলছি একজন স্বামী, স্ত্রী ও তার শ্বশুর পক্ষের ব্যাপারে।একজন ছেলেসন্তান হিসেবে আমাকে আমার বাবা-মায়ের প্রতি অনুগত হতে হবে, তাদের সম্মান দেখাতে হবে,দয়া দেখাতে হবে।তারা আমার কাছে যাই চায়, তা পূরণ করতে হবে।যদি না তারা আমাকে ইসলামের বাইরে কিছু করতে আদেশ দেয়, কিংবা আল্লাহকে অমান্য করতে আদেশ দেয়।


এটা ছাড়া অন্য কোনো ব্যাপারে তাদের অনুগত থাকতে আমার কোনো সমস্যা থাকা উচিত নয়।অন্যদিকে আমার স্ত্রীকেও তাদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে, সাধারণ শিষ্টাচার দেখাতে হবে।কিন্তু তাকে তাদের বাধ্যগত হয়ে চলতে হবে না।আর স্বামী হিসেবে আমি যদি তার কাছে আমার বাবা-মায়ের সেবা দাবি করি তাহলে আমি তার প্রতি অবিচার করছি।স্ত্রীকে তার নিজের বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্যশীল হতে হয়, তার তো নিজের অভিভাবক রয়েছে।এরা তার নিজের অভিভাবক নয়, আপনার অভিভাবক।যেটা সত্য কথা, রক্তের বন্ধনে যে সম্পর্ক হয় আর বিয়ের বন্ধনে সে সম্পর্ক হয় তা মোটেই এক নয়।তো স্বামী হিসেবে আপনার স্ত্রীর কাছে আপনার বাবা-মায়ের সেবা আশা করা এক ধরনের অবিচার।আর ইসলাম তা সমর্থন করে না।এমন কোনো নীতিও দেওয়া হয়নি এ ব্যাপারে।কিছু মানুষ জিজ্ঞেস করে, ‘কিন্তু আপনাকে তো আপনার স্বামীর আনুগত্য করতে হবে, সে যাই করতে বলুক না কেন!’এটাও সম্পূর্ণ সত্যি নয়।আমরা কোনো মানুষেরই এতটা বাধ্যগত নই যে, ‘সে যাই করতে বলুক না কেন’ তা করতে হবে।আমি আমার বাবা-মায়ের আনুগত্য করতে পারবো না তারা যা বলবে তার সব কিছুর ব্যাপারে।আমার বাবা যদি আমাকে স্টুডেন্ট লোন নিতে বলতেন, যা সুদের ভিত্তিতে দেওয়া হবে, আমি তা করতাম না।আমি এটা করতে পারি না।

এতে আল্লাহর অবাধ্যতা হয়।আমি এমনটা করব না।আর এমনও হয় মাঝে মাঝে যে আপনাকে সম্মানের সাথে আপনার বাবা-মায়ের অবাধ্য হতে হবে কারণ তারা অযৌক্তিক কাজ করতে বলছে।এরকমও হতে পারে...আপনার বাবা আপনাকে বলছেন লোন নিতে যা সুদের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে না কিন্তু তিনি আপনাকে এমন ব্যবসায় যেতে বলছেন যার ব্যাপারে আপনি নিশ্চিত যে আপনার বেশ ক্ষতি হবে, আপনি নিশ্চিত জানেন যে এই ব্যবসা কোনোভাবেই চলবে না।অথচ তিনি চাইছেন আপনি আপনার জীবনের সব পুঁজি সেই ব্যবসায় ঢেলে দিন।সেই মুহূর্তে আপনার বাবার কথা না শুনা তার অবাধ্যতা নয়।এভাবে ভাবলে চলবে না।বস্তুত, অভিভাবকের বাধ্যগত থাকার অর্থ যৌক্তিকতার ঊর্ধে নয়।আর অবশ্যই আমরা যখন তাদের অবাধ্য হই, আমরা কক্ষনো, কোনোভাবেই তাদেরকে অসম্মান করে তা করি না।আর এটাও সত্যি আমাদের জন্যে যদি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, আমাদের প্রতি যদি তারা কঠোরও হন সেক্ষেত্রেও তাদের আনুগত্য করতে হবে।কিন্তু যদি তারা অযৌক্তিক কিছু করতে বলেন, কিংবা এমন কিছু যা অন্যকে সমস্যার সম্মুখীন করে তোলে...আমি উদাহরণ স্বরূপ যা বলেছি, আমি যদি সব পুঁজি দিয়ে তাদের কথা মত এমন ব্যবসায় নেমে পড়ি যেটা সফল হবে না, এতে আমি তাদের ইচ্ছামত কাজ করেছি ঠিকই কিন্তু আমি আমার বাচ্চাদের কষ্টের মুখে ফেলে দিয়েছি, আমার স্ত্রীকে কষ্ট দিচ্ছি এবং যারা আমার উপর নির্ভর করে আছে তাদের সকলকে সমস্যায় ফেলছি।আমি এমন কাজ করতে পারি না।তারা আমাকে যা খুশি তা করতে বলতে পারেন কিন্তু তারা আমাকে দিয়ে অন্য কারও উপর অত্যাচার করাতে পারেন না।এভাবে অধিকার আদায় করা যায় না।

কিছু পরিবার আছে যারা সেই স্বামীকে জোর করেন কেবল একটা একাউন্ট রাখতে, আর তার অভিভাবকেরা হলেন সেই একাউন্টের কো-সাইডার।এদিকে স্ত্রী সপ্তাহে কেবল হয়ত ২০ ডলার করে পাচ্ছেন।এভাবেও জীবন যাপন করলে চলবে না।আপনি এটা করতে পারেন না।আপনি আপনার স্ত্রীকে বিয়ে করেছেন, আপনি তার ওয়ালী হয়ে তাকে তার বাবার কাছ থেকে নিয়ে এসেছেন।আপনাকে এখন তার প্রতি সেসব কর্তব্য পালন করতে হবে যা তার প্রতি তার বাবা করে এসেছেন।কিন্তু এখানে ঘরে সকলে তার সাথে ২য় শ্রেনীর মানুষের মত আচরণ করে, যেন সে শ্বশুর-শাশুড়ির কাজের মেয়ে কিংবা আপনার বোন অথবা অন্য কারও কাজের মেয়ে।এটা চরম প্রতারণা এবং এটা এমন এক বিষয় যার ব্যাপারে আপনাকে এবং আমাকে শেষ বিচারের দিন জিজ্ঞেস করা হবে।

অন্যদিকে আছে আরেক চরম্পন্থীরা।একদিকে আমরা দেখি বউকে বাড়ির কাজের মেয়ে বানিয়ে ফেলা হয়েছে যা চরম অবমাননাকর এবং উদ্ভট।কোনোভাবেই যা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।আর অন্যদিকে আছে এমন সব স্ত্রী অথবা স্বামী যারা তাদের শ্বশুরপক্ষের সকলের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ… তাদের কারও সাথে আমি সম্পর্ক রাখতে চাই না, তাদের মুখও দেখতে চাই না, আমি চাই না তারা আমাদের বাসায় আসুক...আমি চাই না তুমি তোমার মায়ের বাসায় যাও, তার সাথে কথা বল...আমি তাকে ঘৃণা করি,তাকে আমি সহ্য করতে পারি না...ইত্যাদি ইত্যাদি।এভাবে অত্যাধিক দূরত্ব সৃষ্টি করেন আপনার স্বামীর পরিবার থেকে।এটাও একধরনের চরম্পন্থা। আর এটাও অবিচার।


তারা আপনার স্বামীর অভিভাবক।তাদের অধিকার আছে আপনার স্বামীর উপর।তারা যেন তাদের নাতি-নাতনিকে দেখতে আসতে পারে।তারা যেন আপনার বাসায় ‘ঝগড়া সৃষ্টি হবে’ এমন দুশ্চিন্তা করা ছাড়াই আসতে পারে...অথবা তাদের উপস্থিতিতে আপনি যেন তাদের সামনে স্পষ্টভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে বসে না থকেন।তো এতে আপনি আপনার দিক থেকে অত্যাচার করছেন আপনার স্বামীর উপর, কারণ তার প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে আপনার অন্তত তার পরিবারের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করা উচিত।ভদ্রতা এবং শ্রদ্ধা করা...এতটুকুই তো!আপনার স্বামী আপনার উপর তা চাপিয়ে দিতে পারেন না কিন্তু এই আচরণ তো আপনার নিজ থেকেই আসা উচিত।আর এগুলো তো এমন বিষয়...আপনাদের ঘোর কাটানোর জন্যে বলছি...এই সৌজন্যমূলক আচরণ গুলো তো সব মুসলিমই অন্য মুসলিমের প্রতি করে থাকে।যারা একই পরিবারের অংশ হয়ে গিয়েছে তাদের কথা তো না বললেও হতো!আমাদের এমনিতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সর্বোচ্চ সুন্দর ব্যবহার করা উচিত। হ্যাঁ, জটিল অবস্থারও সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে।সত্যিই, সেসব জটিল পরিস্থিতিতে চলে যায়।অন্যান্য অনেক কালচারের মধ্যে...বিশেষ করে ‘দেশি’ কালচারে আমরা সকলে মিলে এক ছাদে থাকার প্রতি গুরুত্বারোপ করি।

আর পরিবারের খরচাপাতি বাবা-মা পরিচালনা করেন।আর বউকে এই করতে হবে, সেই করতে হবে...একজন ভালো স্ত্রী হিসেবে পরিচয় পেতে।এই নীতি বেশির ভাগ পরিবারের ক্ষেত্রেই কাজে দেয় না। আর যদি কাজে না দেয় বোনেরা, আমি বলছি না আপনারা এক্ষত্রে বিয়ে ভেঙ্গে ফেলুন।তবে এটা বাস্তবিকই আলোচনার দাবি রাখে।কারণ এই পন্থা ইসলামিক নয়।যদিও আপনারা পুরো পরিবার মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,এই সিদ্ধান্তকে ইসলামের আড়ালে লুকিয়ে রেখে ভাববেন না ইসলাম আপনার কাছে এটাই চায়।ইসলাম আপনার কাছে এমন কিছু প্রত্যাশা করেনি, এটা আপনার পরিবার চেয়েছে।কিছু ব্যাপারে আপনাকে পরিবারের সকলকে সঙ্গে নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।আল্লাহ আযযা ওয়াজাল বলেছেনঃ
ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ
“তোমরা যেসব নি’আমত ভোগ কর সে ব্যাপারে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে।”

আমার স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, বাবা-মা...এরা সবাই আল্লাহর নি’আমত যা আমি উপভোগ করি।তাই আমার উচিত তাদের অধিকার আদায় করা।তো আমি প্রার্থনা করছি যেন এই কথা গুলো যেন এসব ভ্রান্ত ধারণাকে কিছুটা হলেও হ্রাস করে যারা ভাবে যে, এটা আসলে ইসলামেরই আদেশ।ইসলাম এ ব্যাপারে এমন কিছু বলেনি।এটা কেবলই সংস্কৃতির অপচর্চা...যেভাবে মেয়েদের সাথে আচরণ করা হয়ে থাকে...কুরআন একে সমর্থন করে না, রাসূলের (স) সুন্নাহ কোনোভাবেই একে সমর্থন করে না।

বারাকাল্লাহু লি ওয়ালাকুম, ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

https://youtu.be/zP7SR6NetxU

0 comments
Labels: , , ,

পিতা মাতাকে সম্মান করুন

●|● পিতা মাতাকে সম্মান করুন ●|●
ইউটিউব লিংক: https://youtu.be/j3wLqPAAnm8

"তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদাত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা। তাদের সামনে ভালবাসার সাথে, নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বলঃ হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।" [সূরা বনী ইসরাঈলঃ ২৩-২৪]

আসসালামু আলাইকুম কুরআন উইকলি। আমি কুরআনের কিছু আয়াত নিয়ে আপনাদের ৪-৫ মিনিটের রিমাইন্ডার দিয়ে চাই যেখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে প্রথমটি হলো, আল্লাহ বলেন,
وَقَضَى رَبُّكَ أَلاَّ تَعْبُدُواْ إِلاَّ إِيَّاهُ
যার অর্থ মূলত, তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদাত করো না। তাহলে আয়াতের প্রথম অংশ আমাদের ওপর আল্লাহর অধিকারের ব্যাপারে দাবি জানাচ্ছে। আর দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে,
وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
“তুমি কেবল তারই ইবাদাত করবে” বলার পরপরই আল্লাহ বলছেন, “তুমি অবশ্যই তোমার পিতামাতার সাথে সর্বোত্তম আচরণ করবে।” ভাষাগত ব্যাকরণে না যেয়ে বলা যায় যে ‘ইহসানান’ শব্দটি দ্বারা এখানে জোর উপদেশ দেয়া হয়েছে। আপনি তাদের সাথে যথাসম্ভব ভালো ব্যবহার করবেন। আর এখানে মনে হতে পারে যে আয়াতের অর্ধেক অংশে আল্লাহ সম্পর্কে আর বাকি অর্ধেকে পিতামাতার ব্যাপারে বলা হয়েছে। কিন্তু আপনি যদি লক্ষ করেন, আয়াতের অধিকাংশই পিতামাতার ব্যাপারে কথা বলছে।


 প্রথমে আল্লাহ বলছেন, “তুমি তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করবে”, এরপর তিনি বলেন,
إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ
“তারা যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়”
أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاَهُمَا
“...তাদের মধ্যে একজন অথবা উভয়েই...”
فَلاَ تَقُل لَّهُمَآ أُفٍّ
“...তাদেরকে ‘উফ’ শব্দটিও বলো না”
আমি এ ব্যাপারটায় এক্টূ পরেই ফিরে আসবো।
وَلاَ تَنْهَرْهُمَا
“... আর তাদেরকে ধমক দিয়ো না বা দূরে ঠেলে দিয়ো না...”
وَقُل لَّهُمَا قَوْلاً كَرِيمًا
“আর বিশেষ করে তাদের সাথে সম্মানের সাথে ও শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা বলো।”


একটার পর আরেকটা, তারপর আরেকটা এভাবে একের পর এক জায়গায় শুধুই পিতামাতাকে নিয়ে বলা হয়েছে। মাত্র একবার আল্লাহর সম্পর্কে বলা হয়েছে, আর বাকি সব অংশ পিতামাতার ব্যাপারে কথা বলছে। তাই চিন্তা করে দেখুন, এ বিষয়টি কতই না গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখানে প্রশংসনীয় ব্যাপার হচ্ছে আল্লাহ নিজেকে প্রথমে উল্লেখ করেছেন। আর এখানে একটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো আপনি প্রকৃতপক্ষে আপনার পিতামাতার কাছে ভালো হতে পারবেন না যদি আপনি আসলেই আল্লাহর বান্দা ও ইবাদাতকারী না হন। আপনি যদি প্রথম অংশটি যথার্থভাবে পালন না করেন তাহলে দ্বিতীয় অংশে এসেও আপনি ব্যর্থ হবেন। তাই আপনাদের মধ্যে কেউ যদি নিজের পিতামাতার সাথে সম্পর্কের মাঝে গড়বড় ঘটান সেটা কী বলে দেয়? এটা বলে দেয় যে আপনি প্রকৃতপক্ষে এখনো আল্লাহর বান্দা হতে পারেননি। আপনি প্রথম করনীয় কাজটি এখনো করেননি। কেননা পরেরটা করা আপনার জন্য সহজ হয়ে যেত যদি আপনি তার আগেরটা করতেন। এটা হল প্রথম পয়েন্ট। 


দ্বিতীয় পয়েন্ট হলো, সর্বোত্তম হওয়া বলতে আসলে কী বুঝায়? এখানে বলা হচ্ছে, “ওয়াবিল ওয়ালিদাইনি...”। এমনকি “ওয়া ইহসানান বিল ওয়ালিদাইনি” বলা হয়নি, তাহলে এটার ভিন্ন অর্থ হতো। “ওয়াবিল ওয়ালিদাইলি ইহসানান”। যেটা বুঝাচ্ছে যে, ‘বিশেষভাবে’ যখন আপনার পিতামাতার কথা বলা হয়, অন্যদের সাপেক্ষে যখনই পিতামাতার ব্যাপার চলে আসে, আপনি তাদের কাছে সর্বোত্তম হবেন। অন্যকথায়, নিজের বসের কাছে ভালো হওয়া খুবই সহজ, কেননা আপনি তার সাথে ঝামেলায় জড়ালে নিজেই বিপদে পড়বেন। আপনার প্রফেসরের সাথে ভালো আচরণ করা স্বাভাবিক, কারণ তিনি আপনাকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিতে পারেন। একইভাবে আপনার বন্ধুদের কাছেও, কেননা আপনি তাদের হারাতে চান না। কিন্তু যখনই আপনার পিতামাতার কথা আসে আপনি তাদেরকে নিজের প্রাপ্য বলে ধরে নেন। তাই আল্লাহ বলছেন যে, না, যখনই পিতামাতার ব্যাপার চলে আসে... ধরুন আপনি ফোনে বন্ধুর সাথে কথা বলছেন আর আপনার মা আপনাকে ডাক দিলো। আপনি তক্ষণই তার ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যাবেন। ব্যাস! এখানে আর কোন ‘কিন্তু’ নেই। আপনি ভিডিও গেমস খেলছেন আর আপনার মা বললেন “নাস্তা রেডি!” আপনি বলবেন না “দাড়াও না! বললাম তো আসছি! একটু বসে থাকো!” না না না।

সাথেই সাথেই সেটাকে রেখে দিন, চলে যান। আমি আপনার বাসায় থাকলে আপনার টিভিটাই ভেঙে ফেলতাম। “যান আপনার মায়ের কথা শুনে আসুন।” এটা আমাদের দ্বীনে একটি প্রাথমিক দায়িত্ব। “ওয়াবিল ওয়ালিদাইনি ইহসানা”।
এরপর আল্লাহ বলেন,
“ইম্মা ইয়াব্‌লুগ্বন্না ঈনদাকাল্‌ কিবার আহাদু হুমা উকিলা হুমা”

এটিকে তিনি একটি বিষয়বস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছেনঃ তাদের একজন বা উভয়েরই বার্ধক্যে উপনীত হওয়া। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, যখন আমাদের মাতাপিতার বয়স বাড়তে থাকে তার সাথে সাথে তাদের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। আর তারা যখন বার্ধক্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে, আপনিও একই সাথে আরও স্বাধীন হতে থাকছেন এবং একসময় প্রাপ্তবয়স্কে উপনীত হন। তখন আপনি ভাবেন যে আপনি নিজেই নিজের সিদ্ধান্তগুলো নেবেন, এখন আপনার নিজের একটা জীবন আছে আর তারা এখনও আপনাকে বাচ্চা হিসেবে দেখছে, তারা আপনাকে বুঝতে পারেনা, এরকম নানা অভিযোগ আপনার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আপনি আপনার বন্ধুদের কাছে এগুলো বলে বেড়ান।

কিন্তু আল্লাহ বলছেন যে, ‘বিশেষভাবে’ যখন তারা বৃদ্ধ হয়ে পড়ে, ‘বিশেষভাবে’ যখন তারা অযৌক্তিক হয়ে যায়, ‘বিশেষভাবে’ যখন তারা আর আপনার প্রেক্ষাপট বুঝতে পারে না, আপনার ওপর নানা দাবিদাওয়া চাপাতে থাকে, তখনই সময় তাদের কাছে সর্বোত্তম হওয়া। আর যে আল্লাহর ভালো বান্দা নয় তার কাছে এটা মোটেও সহজ হবে না। এগুলো তাদের জন্য না, বরং আল্লাহর জন্য করতে হবে। এটা হল দ্বিতীয় দিক যা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন।
তারপর তিনি বলেন,
“ওয়া লা তানহার হুমা”
“তাদেরকে ধমক দিয়ো না কিংবা দূরে সরিয়ে দিয়ো না”

ঠিক একই আদেশ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম)-কে দেয়া হয়েছিলো এতিমদের ব্যাপারে। ফাআম্মাল ইয়াতিমা ফালা তানহার। একই শব্দ, তাইনা? “এতিমদেরকে ধমক দিয়ো না, তাদের দূরে ঠেলে দিয়ো না।”
তার পাশ কাটিয়ে চলে যাবেন না। আপনার মা আপনার সাথে কথা বলছে আর আপনি হুট করে চলে যান অথবা আপনি কথা বলার সময় তাকে দিকে তাকানও না। আপনার লজ্জা হওয়া উচিত! মায়ের সাথে কিভাবে আপনি এমনটা করতে পারলেন? আপনার জন্য তিনি কতইনা কষ্টের মধ্যে দিয়ে গেছেন। আর আপনি তার সব কষ্টের কথা ভুলে গিয়ে বলতে থাকেন “আরে আমার মা সারাক্ষণ চ্যাঁচামেচি করে, বকবক করে...”

কী চরম অকৃতজ্ঞতা! শুধু আপনার মায়ের প্রতি না, প্রথমে আল্লাহর প্রতি আবার এর ওপর আপনার মায়ের প্রতি। আপনি ইমানদার না হলেও... আপনি কি ভুল গেছেন?... আপনার হয়তো মনে নেই যে আপনি তার গর্ভের মধ্যে ছিলেন। যে কারণে একটু পরপরই তার বমি হতো... ভেতর থেকে আপনি তার পাঁজরে লাথি মারতেন... আর পেট থেকে বের হওয়ার সময় আপনি তাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিলেন। কত ব্যথা-বেদনার মধ্য দিয়ে তিনি আপনাকে লালনপালন করেছেন, রাতে ঘুমোতে যাননি।

আর আপনি কেবল মনে না থাকার কারণেই এর মর্ম উপলব্ধি করতে পারেন না। এজন্য আপনি যাচ্ছেতাই ভাবে তার সাথে কথা বলেন।
“ওয়া ক্বুল লাহুমা ক্বওলান কারীমা”
“তাদের উভয়ের সাথে সম্মানের সাথে, শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা বলো।”
আপনাদের অনেকেরই মুখ দিয়ে বাজে শব্দ, খারাপ ভাষা বের হতে থাকে কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো। আপনি এগুলো বলার সময় একটু চিন্তাও করেন না। পিতামাতার সাথে কথা বলার সময় আপনার অবশ্যই এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর এমনিতেও এসব ভাষা ব্যবহার করা উচিত না। বিশেষ করে পিতামাতার সাথে তো মোটেও না।

এরপরে আরও একটি আয়াত পিতামাতাকে কেন্দ্র করে নাযিল হয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে, “ওয়াখ্‌ফিদ্ব্‌ লাহুমা জানাহায্‌ যুল্লি মিনার্‌ রহ্‌মাহ্‌”। সুবহানাল্লাহ! “তোমার কোমলতা ও বিনয়ের ডানা অবনত করো”। আরবিতে ডানা নত করার অর্থ হলো আপনার পাখির মতো ঊড়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে, কিন্তু তারপরেও আপনি নিচে যেকোনো জায়গায় নেমে আসেন। আপনার চলে যাওয়ার ক্ষমতা আছে, তাদের মুখের সামনে জোরে দরজা লাগিয়ে দিতে পারেন কিংবা ফোন কেটে দিতে পারেন। তবুও এগুলো সহ্য করেন, তাদের বকবকানি মেনে নেন। কিন্তু আপনি যদি আমাকে বলেন বা ফেসবুক পেজে লেখেন “আপনি বুঝতে পারছেন না, আমার পিতামাতার মাথা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে” অথবা “আমার ব্যাপারটা পুরো আলাদা”; কী মনে হচ্ছে? প্রত্যেকেই ভাবে যে তাদের অবস্থাটা অন্যদের থেকে আলাদা। কেউ ভাবে না যে এগুলো তাদের ক্ষেত্রে খাটে, সবাই মনে করে এই কথাগুলো পাশের কাউকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে যার অবস্থা স্বাভাবিক।

আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে খুব ভালো করেই জানেন। তাই তিনি আমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থেকেই এ কথাগুলো বলেছেন। তাই তাদের প্রতি বিনয়ের ডানা অবনত করুন।
আমার শেষ মন্তব্য, “...মিনার্‌ রহ্‌মাহ্‌” আয়াতের এই শেষ অংশে... আমি মাঝখানে অনেক বিষয় রেখে চলে যাচ্ছি কারণ আমার আপনাদের মনোযোগ দরকার।

তো, “মিনার্‌ রহ্‌মাহ্‌”, “দয়া পরবশ হয়ে”, এটি অন্তত তিনটি দিক বুঝায়। প্রথমত, আপনি তাদের প্রতি বিনয়ী হবেন যদিও তার বিপরীত হবার ক্ষমতা আপনার আছে। আপনি তা করবেন কারণ তারা এমন বয়সে উপনীত হয়েছে যখন আপনার দয়া তাদের খুব প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, কেননা তারা আপনি ছোট থাকা অবস্থায় তারা আপনার প্রতি দয়া করেছিলো। আর তারা কিন্তু এসবকিছু রেকর্ডে লিখে রেখে বিল বানিয়ে আপনাকে দিয়ে বলেনি “দ্যাখো, আমরা তোমার এতো সেবা-যত্ন করেছি, এত ঘন্টা তোমার প্রেছনে শ্রম দিয়েছি। এখন এর মূল্য পরিশোধ করো।”
না, তারা আপনাকে দয়া দেখিয়েছে, এখন আপনারও তাদের প্রতি দয়া করার সময় এসেছে। তৃতীয় এবং সর্বশেষ পয়েন্ট হলো, আপনি যদি চান আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুক, আপনি তাদের প্রতি দয়া দেখান। মিনার্‌ রহ্‌মাহ্‌।
আল্লাহ আমাদেরকে পিতামাতার প্রতি সর্বোত্তম বানিয়ে দিন। আর তিনি যেন আমাদের এই আয়াতগুল উপলব্ধি ও সে অনুযায়ী জীবনযাপন করার তাওফিক দেন। বারাকাল্লাহু লি ওয়ালাকুম ফিল কুরআনিল হাকিম...আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

0 comments
Labels: , , , ,

যৌন আকাঙ্ক্ষা

●|● যৌন আকাঙ্ক্ষা ●|●

আসসালামু আলাইকুম। কুরআন উয়িকলি। আমি আপনাদের সাথে একটা আয়াত শেয়ার করবো এবং এটির সূক্ষ্মদর্শিতা নিয়ে আলোচনা করবো। এটি কুরআনের ১৭ তম সূরা, সূরা বনী ইসরাইলের ৩২ নম্বর আয়াত। ওয়ালা তাকরাবুজ্জিনা ইন্নাহু কানা ফাহিশাতান ওসাআ সাবিলা। এই আয়াতটি কুরআনের সেই অংশ যেটি মহানবী (সঃ) এর দশটি বিখ্যাত আদেশের শামিল। কিছু সাহাবী বলেছেন, এটি হচ্ছে মুসা (আঃ) কে দেয়া শিক্ষার যে মূলনীতিগুলো ছিল সেগুলোর শামিল। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে এই আয়াতটি যে সূরাতে তাঁর নাম হচ্ছে সূরা বনী ইসরাইল। ইসরাইলের সন্তানগণ। যাই হোক, এই বিশেষ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তোমরা জিনা (অশ্লীলতা, ব্যভিচার) এর নিকটবর্তী হয়োনা। এটির ধারেকাছেও যেও না। তিনি এটা বলেননি, লা তাজিনু, তোমরা ব্যভিচার করোনা, ব্যভিচার করতে যেওনা। তিনি বলেছেন, তোমরা এর ধারেকাছেও যাবেনা। অন্যভাবে বলা যায়, একটা কাজ এবং অনেক গুলো ছোট ছোট আচরণ যেগুলো কাজটির দিকে নিয়ে যায়, কাজটির একটি পরিধি আছে যা চারপাশে ঘুরতে থাকে এবং আপনি কাজটির ধারেকাছেও যেতে পারবেন না। যেই সংবেদনশীলতা নিয়ে কুরআনের ভাষা কোন একটি বিষয়কে উপস্থাপন করে সেই কুরআনের ভাষা আমাদেরকে বুঝতে হবে, যাতে আমরা আল্লাহ আজ-ওয়াজাল এর বিজ্ঞতার তারিফ করতে পারি, কিভাবে তিনি আমাদের পরামর্শ দিচ্ছেন যাতে আমরা সমস্যাগুলো উতরে উঠতে পারি।

আল্লাহ আজ ওয়াজাল আমাদেরকে বলছেন, কিছু কাজ আছে যা করা হারাম নয়। আপনি এই কাজগুলোর দিকে আঙ্গুল উঠিয়ে বলতে পারবেন না যে এই কাজগুলো ভুল। কিন্তু যখন আপনি এইসব কাজে যুক্ত হয়ে পড়বেন, তখন মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের একটা টান অনুভব করবেন যেটা আস্তে আস্তে, একটু একটু করে আপনাকে অবশেষে হারাম কাজের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। এবং অবশেষে কাজটা আপনাকে দিয়ে করাবে। আপনারা জানেন, শয়তানের বিষয়ে আমরা একটা জিনিস জানি। আমি লক্ষ্য করেছি যে, শয়তান অত্যন্ত দূরদর্শিতা সম্পন্ন। সে একবারে আপনাকে ধরে না, সে আপনার কাছে আসবে এবং আস্তে করে, আস্তে আস্তে করে, একটু একটু, একটু একটু করে আপনাকে পথভ্রষ্ট করবে যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার চরিত্র নষ্ট করতে পারে। শয়তান আপনার কাছে একবার এসেই আপনাকে দিয়ে খারাপ কিছু করাতে পারেনা। আপনারা জানেন। আদম (আঃ) এবং হাওয়া (আঃ) এর গল্পেও, ইনশা আল্লাহ যখন আমরা ওই গল্পে যাব অথবা ওই গল্প থেকে কুরআনের জ্ঞানসম্পন্নতা সম্পর্কে জানব , যেভাবে শয়তান অগ্রসর হয়েছিল, সুরাতুল আরাফ এ এটি বলা হয়েছে যা অত্যন্ত আকর্ষণীয়। শয়তান অবিরামভাবে, সে এটা একবারে করেনি। ধরুন, শয়তান আসল এবং বলল, হেয়! দেখ এই গাছটা! এটাকি অনেক সুন্দর না! এবং তারপর সে চলে গেল। না, শয়তান এরকম না। সে চরমভাবে নিরন্তর ছিল। সে একটু একটু করে পথভ্রষ্ট করছিল এবং তাদের মনের মধ্যে এমন এক ধারণা গেঁথে দিয়েছিল যতক্ষণ না তারা মনে করেছিল এটা তাদেরই অভিপ্রায়! আপনারা জানেন।

এবং যখন মানুষ শয়তানের কথা শুনতে শুরু করে, এটি একই সূরাতে আল্লাহ বলেছেন, ইন্না ইবাদি লাসালাইকা আলাহিম সুলতান। আমার বান্দাদের উপর তাদের (শয়তানের) কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। অন্যভাবে বলা যায়, যেসব লোক সত্যিকার ভাবে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে তাদের উপরে শয়তানের কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। কিন্তু যারা, আস শায়তান ইয়া আদুকুম ফাঁকরুআ ইয়া'আ মুরুকুম বিন ফা'আশার। সুরাতুল বাকারা। সে (শয়তান) আপনাকে আদেশ করবে বেলেল্লাপনা করার জন্যে। অন্যভাবে বলা যায়, যখন আপনি শয়তানের কথা একটু শুনবেন, আপনি তাকে একটু শক্তি দিচ্ছেন। আপনি তাঁর কথা আরেকটু শুনবেন, তো আপনি তাকে আরেকটু বেশি শক্তি দিবেন। আর আপনি যখন তার কথা অবিরামভাবে শুনতেই থাকবেন, একসময় সে আপনাকে আদেশ করবে। আপনি নিজেকে এমনভাবে বলবেন যে, আমি আর নিজেকে সাহায্য করতে পারছি না। আমি এটা জানিও না! আমি জানি না কি করে আমি কম্পিউটার বন্ধ করব। আমি জানি না কিভাবে প্রতি রাতে এটা হয়ে যায়! আমি জানি না কিভাবে আমি ওইখানে, ওই চ্যাটগুলো করি, আতঙ্ককর ওয়েবসাইটে লগ ইন করি। আপনারা জানেন, অশ্লীলতা দেখি! আমি এইসব কেন করছি? লিফটে অথবা যখন আমি রাস্তায় হেটে যাই, কেন আমি আমার চোখ নামিয়ে রাখতে পারিনা? আমি নিজেকে সাহায্য করতে পারছি না। আমি জানি না কি করা উচিত। আর আপনি জানেন, শয়তান আঁকড়ে ধরে, বেশ শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে। কদভ্যাসযুক্ত চক্রের মধ্যে আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে আমরা বলতে পারি। এটা আস্তে আস্তে খারাপ, আরও খারাপ, আরও খারাপ এবং অধিকতর খারাপের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এবং আপনি যদি এটা স্বীকার না করেন, তাহলে এটা অধিকতর খারাপের দিকে যায়। আর এটা আপনার আত্মা একদম ধ্বংস করে দেয়।

আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক নির্ভর করে আপনার অন্তর কতটা পরিষ্কার তাঁর উপর। যতবার আপনি অশ্লীলতায় উদ্ভাসিত হন, আপনার অন্তরের উপর আরও ময়লা, আরও অন্ধকার, আরও আবরণ ঢালতে থাকে। এবং ঢালতেই থাকে, ঢালতেই থাকে, ঢালতেই থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি আল্লাহর কথা শুনবেন কিন্তু আপনার চোখে এক ফোটা পানিও আসবে না। এটা আসবে না। কারণ, আপনার হৃদয় এতই কঠিনে পরিণত হয়েছে যে, আপনি যত অনাবৃত অবস্থা দেখছেন, যত পাপ করছেন চোখ দিয়ে সবসময়, আর আপনি এটার গুরুত্বও দিচ্ছেন না। আপনারা জানেন, একটা সুন্দর হৃদয় যন্ত্রণাগ্রস্ত হয় যখন অসমীচীন কিছু একটা দেখে যা আল্লাহর নির্দেশ এর সাথে মিলে না। এটা আকর্ষিত হয় না, বরং যন্ত্রণাগ্রস্ত হয়। এটি বলে, না! এটি ভুল। অবিলম্বে তাঁর বিবেক চাঙ্গা হয়ে ওঠে, অস্থিরতা বন্ধ হয়ে যায়। যখন আপনার এরকম হৃদয় থাকবে, এরকম অবস্থায় যাবেন, আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, এগুলোর মধ্যে ভালো কিছুই খুঁজে পাবেন না। আপনার এরকম কোন অনুভূতিই হবে না। আপনার এই অনুভূতিও হবেনা যে, এটা ভুল। যেটা হবে, আপনি কোন বোনের দিকে তাকানোর আগে তাঁর আশেপাশে দেখবেন যে অন্য কেউ তাকে দেখছে কিনা। এবং তারপর আপনি ভালো দৃষ্টি নিয়ে তাকাবেন। দেখবেন যে আল্লাহর ভয় একদমই নেই। একমাত্র যে ভয়টা আছে সেটি হল পাপের ভয়। পাপ ছাড়া আর কোন ভয়ই নেই। কি ভীষণ অতিমানবিক অবস্থা এটি! আল্লাহ বলেছেন, ইয়া'লামু খ ইনাতাল আহনু ওমা তুখসুদু। তিনি জানেন, চুরি করে তাকানো, একটু এদিক সেদিক তাকানো। তিনি এটা জানেন, আপনার একটু চাহনি, তাকানোর মানে কি? এবং তিনি জানেন আমাদের বক্ষ:স্থল কি লুকিয়ে রেখেছে।

আপনারা কি জানেন আমি এই বিশেষ আয়াতটি কেন আলোচনা করছি? "তোমরা জিনা এর নিকটবর্তী হয়োনা।" ইন্নাহু কানা ফাহিশাতান - এটা সবসময়ই একটা অস্থিরতা, বেলেল্লা, অশ্লীল কাজ। ওসাআ সাবিলা - একটা ভয়ঙ্কর পথ। আল্লাহ এটাকে একটা পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, ভয়ঙ্কর পথ। অন্যভাবে বলা যায়, পথে পদক্ষেপ থাকে, ঠিক? পথ মানেই পদক্ষেপ। আপনাকে সনাক্ত করতে হবে আপনি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এই পদক্ষেপ নিতে আপনাকে কি করতে হচ্ছে? আপনারা জানেন, প্রত্যেকটা কাজের কিছু প্রক্রিয়া থাকে, কিছু চক্র থাকে। আপনি নিজে নিজে ঘুরতে চাচ্ছেন, সকুলের পরে আপনি কয়েক ঘণ্টা সময় পাচ্ছেন আপনার পিতামাতা বাসায় ফেরার আগ পর্যন্ত। আপনারা জানেন, আপনি কিছু বন্ধুদের সাথে ঘুরছেন যাদের কোন মান নেই। প্রত্যেকটা সময় সনাক্ত করতে হবে কোন কাজগুলো আপনাকে পাপের দিকে টেনে নিয়ে যায়। আমাদেরকে গোঁড়া থেকে এগুলো কেটে ফেলতে হবে। আমাদেরকে ওই পথে গা ভাসিয়ে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ওসাআ সাবিলা। আমাদের কাছে এই আয়াতের অসাধারণ দিকটি কি জানেন? যেভাবে এটি সংপৃক্ত করা হয়েছে।

এই আয়াতের পরের আয়াতেই আল্লাহ বলেছেন- তোমরা মানুষ হত্যা করোনা। ওয়ালা তাকতুলুন্নাফ সাল্লাতি হাররামাল্লাহু ইল্লাবিল হাক্ক[সূরা বনী ইসরাইলঃ৩৩]। তোমরা নির্দোষ মানুষকে হত্যা করোনা। আল্লাহ এটা (জিনা ) কে প্রথম অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং হত্যাকে দ্বিতীয় অপরাধ হিসেবে। আপনি কি এটা চিন্তা করতে পারছেন? আপনি মনে করেন, হত্যা অনেক বড় অপরাধ, ঠিক? কিন্তু আল্লাহ বলেছেন, যখন আপনি অন্য মানুষের মর্যাদা লঙ্ঘন করবেন, এটি হচ্ছে ফাহশা। আপনি যখন মানুষকে নিয়ে এভাবে চিন্তা করবেন তখন আপনি নিজের এবং তাদের মর্যাদা লঙ্ঘন করবেন। এবং আমরা যদি কাউকে হত্যা করি, আমরা তাঁর শারীরিক, আপনারা জানেন তাঁর বেঁচে থাকার অধিকার লঙ্ঘন করি। আর ওটা হচ্ছে আত্মার হত্যা। ফাহশা। আর এটি হচ্ছে শারীরিক হত্যা। ফাঁতর। দুই রকম হত্যা রয়েছে। তাই আল্লাহ আত্মার হত্যার কথা প্রথমে বলেছেন। আমাদের সবার মান এত নিচে নেমে গিয়েছে যে, একটা নতুন সিনেমা মুক্তি পেলে আপনি হয়তো অনেকগুলো ট্রেলার দেখে ফেলেছেন আর নিজেকে বলছেন, আহহ! এখানে মাত্র একটা খারাপ দৃশ্য আছে! ব্যাপার না! এটি একটি পিজি-থারটিন (সিনেমার গুণমান নির্ধারক যা নির্দেশ করে যে এটি ১৩ বছরের নিচের শিশুদের দেখার অনুপযোগী), শুধু এটাই। ১০ বছর আগে যেটা হওয়া উচিত ছিল এখন সেটা পিজি-থারটিন! যেটা আগে পিজি-থারটিন হওয়ার কথা ছিল এখন সেটা পিজি(সিনেমার গুণমান নির্ধারক যা নির্দেশ করে যে এটি শিশুদের জন্যে অনুপযোগী)। কাজেই সব জায়গায় অশ্লীল দৃশ্য!

এবং যে আত্মার মূল্য আমরা হারিয়ে ফেলছি তাঁর প্রতি আমরা যত্নবানও হচ্ছিনা! এটা আমাদের নামাজের উপর প্রভাব ফেলছে, দোয়ার উপর প্রভাব ফেলছে, আমাদের চরিত্রের উপর প্রভাব ফেলছে, এটা আমাদের পরিবারের উপর প্রভাব ফেলছে, এটা প্রভাব ফেলছে। এবং আমরা গুরুত্বও দিচ্ছিনা! আমরা মনে করি এটাই জীবন, আমরা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলছি! ঠিকই আছে, সবাই এই কাজই করছে, আমরা কি করতে পারি? তাই আপনি যেসব ছবি ফেসবুকে পোস্ট করছেন তাঁর গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আমি ফেসবুক ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছি। আমি বলছিনা যে, ফেসবুক ব্যবহার করা হারাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা চালাতে পারছি না। আপনারা জানেন, আমি এটা ব্যবহার করিনা। আমি সামাজিকীকরণের জন্যে কিছু একটা পোস্ট করলাম, কোন ঘোষণা বা কিছু একটা শেয়ার করলাম, কিন্তু কিছু জিনিস দেখে আমি খুব মর্মাহত হয়েছি যে আপনি কিভাবে এটা করতে পারেন? আপনি একজন মুসলিম এবং কিভাবে আপনি এই ধরনের ছবি পোস্ট করতে পারেন? আপনারা জানেন। নিজের মর্যাদা নিজেই বজায় রাখুন, নিজের পরিবারের মর্যাদা বজায় রাখুন। নফস কে নিয়ন্ত্রণ করুন। চোখ দিয়ে তাকানো, চোখের জিনা থেকেই বাকি সব শুরু হয়। অন্য সব কিছুই এখান থেকে শুরু হয়। অন্য সব কিছুই চোখের জিনা থেকে শুরু হয়।

ইনশা আল্লাহু তাআলা আমি আপনাদের সাথে এই বিষয়ে ছোট ছোট টুকিটাকি, কুরআন থেকে এই বিষয়ের উপর কিছু সংযুক্ত আয়াতের অংশ নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করব। কিন্তু আজকে ইনশা আল্লাহু তাআলা শেষ জিনিসটি হচ্ছে, ফাহিশাহ-শব্দটি নিয়ে যার অনুবাদ হচ্ছে লজ্জাহীনতা, উত্তেজনা, অশ্লীলতা। আরবি ভাষার কিছু নিয়ম আছে যেগুলো একই রকমের। ওহাশ এবং ফাহাশ। ওহাশ মানে হচ্ছে বন্য প্রাণী,ফাহাশ মানে হচ্ছে যে বন্য প্রাণীর মত আচরণ করে। লজ্জাহীনতা এমন একটি আচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যেটি বন্য প্রাণীর আচরণের মত। আল্লাহ মানবকুলকে মর্যাদাপূর্ণ করেছেন। আদম (আঃ) এর উপরে যে শাস্তি দেয়া হয়েছিল, সেটা হল তাঁর জামা কাপড় খোলে ফেলা হয়েছিল। আমাদের আদি পিতামাতার জামাকাপড় খুলে ফেলা হয়েছিল। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা শাস্তি ছিল। এবং অবিলম্বে তারা বুঝতে পেরেছিল যে তাদের উচিত নিজেদের ঢেকে রাখা। তারা সমাজ থেকে নিজেদেরকে ঢাকার শিক্ষা পাননি। সমাজ তাদের লজ্জাহীনতার শিক্ষা দেয়নি। আপনারা জানেন, আজকাল আপনাদের নৃবিদ্যার অধ্যাপক আপনাদেরকে শিখাবে যে, "আপনারা জানেন সমাজ আমাদেরকে জামা কাপড় দিয়েছে। এটা একটা সামাজিক যৌক্তিকতা যে, আমরা ইতিহাস থেকে জামা কাপড় এবং নিজেদের ঢেকে রাখার শিক্ষা পেয়েছি। কিন্তু প্রকৃতিগতভাবে আমাদের বন্য প্রাণীর মত থাকার কথা ছিল।"

আদম (আঃ) সমাজ থেকে কিছু শিখেন নি। তাঁকে আল্লাহ বিবেক দিয়েছিলেন এবং যখন তাঁর কাপড় খুলে ফেলা হয়েছিল, তিনি প্রকৃতিগত ভাবেই তাড়াতাড়ি নিজেকে ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন।

আমাদের আদি মাতা নিজেকে ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন। আমাদের এমন মানুষ হওয়া উচিত যেন আমরা আমাদের নিজেকে ঢেকে রাখতে পারি এবং অন্যের দিকে না তাকিয়ে অন্যদেরকে মর্যাদা দিতে পারি। যদিও তারা নিজেদের মর্যাদা নিজেরা রাখতে না পারে তবুও আমাদেরকেই তাদের মর্যাদা দেয়া উচিত এবং তাদের দিকে তাকানো উচিত না। কারণ, ওরাও আল্লাহর সৃষ্টি। যদিও তারা আল্লাহর হতাশাদায়ক সৃষ্টি! তারাও আল্লাহর সৃষ্টি। এবং আমাদের নিজেদের প্রতি এবং সম্মিলিতভাবে মানবকুলের প্রতি বেশি সম্মানবোধ থাকতে হবে তাদের দিকে না তাকিয়ে যেভাবে এক বন্য প্রাণী অন্য প্রাণীর দিকে তাকায়।

আল্লাহ আজ ওয়াজাল আমাদেরকে আধ্যাত্মিক ভাবে এবং ক্রমবর্ধমান, চলতি আত্মিক সমস্যা যা আমাদেরকে চোখ নিচে নামিয়ে রাখতে দেয় না তা থেকে সুস্থ রাখুন। এবং আল্লাহ আমাদেরকে অসৎ সঙ্গ, ওই অবস্থা, ওইসব কাজে সম্পৃক্ততা যেগুলো আমাদেরকে ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর পথের দিকে টেনে নিয়ে যায় তা থেকে বিরত রাখুন। আল্লাহ আজ ওয়াজাল যেন আমাদের শুদ্ধ এবং সুস্থ আধ্যাত্মিক জীবনের পথ পরিষ্কার করে দেন অথবা সহজ করে দেন। বারাক আল্লাহি ওয়ালাকুম।
আসসালামু আলাইকুম। কুরআন ওয়িকলি।

আসসালামু আলাইকুম। কুরআন ওয়িকলি। নবীজি (সঃ) আমাদেরকে বলেছেন, যে লোক অন্যকে ভালো কাজের দিকে নির্দেশ দেয়, সেও ওই ভালো কাজের সওয়াব পাবে। আমাকে অনুগ্রহ করুন এবং আপনাদের সবাইকে অনুগ্রহ করুন এবং এই ভিডিও থেকে যদি ভালো কিছু পেয়ে থাকেন তাহলে ভালোটা শেয়ার করুন। বন্ধু এবং পরিবারের সাথে শেয়ার করুন। সওয়াব পান। এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি প্রকল্প। আমি সত্যিকার অর্থেই কুরআন ওয়িকলি সফলভাবে চালানোর জন্যে সবাইকে তারিফ করছি। আমি দোয়া করছি যাতে আল্লাহ তাদেরকে আরও বেশি বেশি করে রহমত দান করেন। তারা আরও ভালো ভালো কাজ করুক। তাদের এই সমস্ত উদ্যোগ, আল্লাহ বলেছেন, যারা মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়, তারা আল্লাহর প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানায়। মহানবী (সঃ) এর হাদিস থেকেও আমরা এই শিক্ষা পাই, আমাদেরকে অবশ্যই ভালো কাজের তারিফ করতে হবে। অন্যের ভালো কাজের তারিফ করা একই সাথে আল্লাহর কথা ছড়ানো মানে তাদেরকে আরও বেশি সওয়াব পেতে সাহায্য করা, নিজেদেরকে আরও বেশি সওয়াব পেতে সাহায্য করা ইনশা আল্লাহু তাআলা।

0 comments
Labels: , ,

আখিরাতের জন্য পরিকল্পনা করা

●|● আখিরাতের জন্য পরিকল্পনা করা ●|●
কোন কিছুকে বড় করে দেখলেই সেটা বড় ব্যাপার হয়ে যায়। কোন কিছুকে ছোট করে দেখ তাহলেই সেটা সামান্য মনে হবে। জানেন, এই আয়াতে আখিরাতকে বড় এবং দুনিয়াকে ছোট করে দেখানো হয়েছে।পুরো আয়াতটা এটা নিয়েই।
দুনিয়াতে আমরা জীবন যাপন করবো। আমাদের ক্যারিয়ার হবে।আমাদের শিক্ষাগত অর্জন থাকবে।আমাদের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এই সব কিছুই জীবনে থাকবে।কিন্তু একটা ব্যাপার কি জানো এই সব কিছু ক্ষণস্থায়ী। সব কিছুই।

একদিন আসবে যেদিন এক জমায়েত হবে।এবং সেদিন তারা নামায পড়বে। আর সেদিন তারা একটা ঘোষণা দিবে।যে একটা জানাযা হবে। এবং এই ঘোষণাটা একদিন হবে আমার জন্য এবং একদিন হবে আপনার জন্য।
এটা হতে যাচ্ছে এবং একদিন মানুষ আমাদের জন্য জানাজার নামায পড়বে। এবং ততক্ষনে আমরা চিরকালের জন্য চলে গেছি। এবং এটা শীঘ্রই ঘটবে, দেরীতে নয়।

আমি বলতে চাচ্ছি আমাদের জীবনের অনেকখানি তো ইতোমধ্যেই কেটে গেছে। সুতরাং এমন নয় যে সেই দিনটা থেকে আমরা দূরে যাচ্ছি, বরং আমরা সেই দিনের আরো কাছে পৌছাচ্ছি।

তাই যত তাড়াতাড়ি আমরা এটা আত্মস্থ করি যে, আল্লাহর কাছে যা আছে তা তুলনামূলক ভাবে ভালো। কারন যে কোন ভাবেই হোকনা কেন আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। তাহলে আমরা নিজেরা নিজেদেরই উপকার করব । যদি আমরা শুধু এটা শিখতে পারি যে কিভাবে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হয়। যেমনটা আমি বললাম যে আমরা ১০ বছরের পরিকল্পনা করি, ১৫ বছরের পরিকল্পনা করি।কিন্তু আমরা আখিরাতের কথা চিন্তাই করিনা। তাহলে আখিরাতের কথা কিভাবে ভাবা উচিত? কিভাবে আখিরাতের জন্য বাস্তবতা ভিত্তিক পরিকল্পনা করা যায়? আখিরাতের জন্য আমরা ১০ বছরব্যাপী, ১৫ বছরব্যাপী পরিকল্পনা করিনা।
আমরা এর জন্য দৈনন্দিন পরিকল্পনা করি। এটা দীর্ঘ সময়ব্যাপী লক্ষ্য নির্ধারণ করা নয়।

এটা আজকের দিনটা আপনি কিভাবে ব্যয় করলেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট। আপনি তার পরে কি করতে যাচ্ছেন এটা তার সাথে সংশ্লিষ্ট।
আপনি আগামীকালটা কিভাবে কাটাবেন?
আপনি কখন ঘুম থেকে উঠবেন?
আপনি আপনার অবসর সময়ে কি করবেন?
আপনি কবে আপনার ফোন থেকে ঐ অকাজের গেমগুলো মুছে ফেলবেন?
কবে আপনি এত বেশিক্ষন টিভি দেখা বন্ধ করবেন?
কবে বন্ধ করবেন এসব?
আপনি কবে সময় নষ্ট করা বন্ধ করবেন, শুধু চ্যাট করে বা ট্রল করে।
কবে বন্ধ করবেন?

যদি আজকে না হয়, তবে কবে আপনি আপনার জন্য একটি উচ্চতর মান বজায় রাখবেন। আপনি যদি দিনের কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন না আনেন। আপনি কখন ঘুমাতে যাবেন, কখন ঘুম থেকে উঠবেন। আপনি যা বলেন এবং আপনি যা করেন। বিশেষত আপনি যেটাকে অবসর সময় বলে মনে করেন সেটাকে কিভাবে ব্যয় করেন। কারন এটা বিনামূল্য নয়। আপনি এখন এটার জন্য কোন মূল্য দিচ্ছেননা, কিন্তু আপনাকে এবং আমাকে আল্লাহর কাছে এর হিসাব দিতে হবে। আমাদেরকে এর জবাবদিহীতা করতে হবে। এই সময়েরও দাম আছে।

আমাদের হয়তো খেয়াল থাকেনা যে আমাদেরকে এর জন্য মূল্য দিতে হবে, কিন্তু এর হিসাব রাখা হচ্ছে। আপনারা তো জানেন মানুষ যখন ঘড়ির কাঁটা ধরে না চলে তখন তারা কেমন হালকা মেজাজে থাকে। যখন তারা অফিস থেকে বের হয়। কিন্তু ফেরেশতারা ঘড়ি ধরে আমাদের সব সময়ের হিসাব রাখছে। তারা কোন বিরতি নেয়না। এবং যখন তারা বিরতি নেয় তখন তারা অন্যদের তাঁদের দায়িত্ব দিয়ে যায়। জানেন এটা এ কারনেই আমাদের প্রতিদিনের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে। তাই কেননা আমরা নিজেদের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি করি । এটা আর কাউকে জানানোর জন্য নয়। এটা শুধু আপনিই জানবেন।

এব্যাপারে আপনি নিজেই আপনার সবচেয়ে কঠিন সমালোচক । আপনাকে আর আমাকেই ঠিক করতে হবে আমরা কিভাবে ভিন্ন রকম জীবনযাপন করব। কারন আল্লাহ্‌র কসম যে মুহূর্তে আমরা বলতে শুরু করবো …যে আমি তো বেশ ভালোই করছি। আমার জীবনে পরিবর্তন করার কিছু নাই। এটাতো বিভ্রম। অন্য কোন মানুষ হয়তোবা আপনাকে নিজের ব্যাপারে ভুল ধারণা দিয়েছে। তারা আপনাকে দীর্ঘদিন অন্ধকারে রেখেছে। তারা চোখে এতো ধূলা দিয়েছে যে এখন আপনি নিজে কি সেটাও বুঝতে পারেননা।

0 comments
Labels: , ,

কুর’আন কী?

●|● কুর’আন কী?
অন্যের ধর্মের ভাই বোনেরা যদি জিজ্ঞাসা করেন কুর’আন কী? আমরা কী বলব?

— ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন উস্তাদ নুমান আলী খান অন্য ধর্মের মানুষদের সামনে।
আপনাদের তো বলেছিলাম এটা কি প্র্যাকটিস ছিল। মৌখিক নাকি লৈখিক? মৌখিক। তাহলে এটি একটি মৌখিকভাবে সংরক্ষিত টেক্সট। এখন আপনারাই আমাকে বলুন, কোনটা সংরক্ষন করা কঠিন? লৈখিক কিছু নাকি মৌখিক কিছু?মৌখিক। সবাই তাহলে স্বীকার করছেন, মৌখিক এমন কোন ঐতিহ্য সংরক্ষন করে রাখা বেশ কঠিন। উদাহরণ দেই একটি। যদি আমি চুপি চুপি এরিকার কানে কিছু বলি, তাকে বলি যে আপনি একইভাবে এটি পাশের জনকে বলুন, আপনি তার পাশে, সে তার পাশে, এভাবে পুরো ক্লাস। আমরা শেষ মানুষটির কাছে যদি যাই। আর আমি এরিকাকে বলেছিলাম, বব জোকে ধাক্কা দিয়েছে। এরপর এটি সে চুপি চুপি বলেছে, এরপর সে আরেকজনকে, এরপর সে আরেকজনকে, এভাবে চলছে। আসল কথাটি কি ছিল? বব জোকে ধাক্কা দিয়েছে। এবং শেষ মানুষটির কাছে যাওয়া পর্যন্ত হবে- বব জো’য়ের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, তার গাড়ি চুরি করেছে এবং গ্রামের সবাইকে মেরে ফেলেছে। মৌখিক প্রাকটিসে এমন কিছু হয়ে যায়, কেউ ইচ্ছা করে আসল কথাটিকে পরিবর্তন করেনা। কেউ ব্যাপারটাকে তার নিজের মত করে বলতে যায় আর অল্প একটু পরিবর্তন করে ফেলে। কেউ অর্ধেক ভাগ, কেউ আরও অর্ধেক ভাগ, কেউ এক ভাগ, কেউ দুই ভাগ করে পরিবর্তন করলো। দুই শতাংশ কোন ক্ষতি করার কথা না তাইনা? কিন্তু এটি যখন একটি বিপুল পরিমান লোকজনের মাঝ দিয়ে যায়, তখন আর এটাকে চেনাই যায়না। এই ধরনের পরীক্ষা যোগাযোগ মনোবিজ্ঞ্যানে সব সময়ই করা হয়।

মৌখিকভাবে এভাবে কিছু সংরক্ষন করা প্রায় অসম্ভব। আর যতই এটা ছড়াবে, ততই পরিবর্তিত হবে। এটাই যৌক্তিক, যত ছড়াবে ততই পরিবর্তন আসবে। তুলনা করলে দেখা যাবে, লিখিত কিছু সংরক্ষন করা নিরাপদ। একেবারেই যে নিরাপদ তা নয়, এমন না যেন তাদের ব্যাকআপ স্ক্যান কপি আছে, ক্লাউড ড্রাইভ আছে ঐ সময়ে। কিন্তু আপনার কাছে বই হিসেবে লেখা থাকলেও বই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, পৃষ্ঠা ছিঁড়ে হারিয়ে যেতে পারে, এরপর নিজের স্মৃতি থেকে হয়তো আবার লিখতে হতে পারে। তাহলে আপনার কাছে কিছু লেখা থাকলেও সেটি ১০০ ভাগ নিরাপদ নয়। এরপর এই লেখার সত্যতার ব্যাপারে কিছু সংশয় থাকতে পারে। আমার মতে যৌক্তিক। কোনও লেখার উৎস নিয়ে কারও সংশয় থাকতেই পারে। কুরআনের যে যুক্তি, আমাদের নবীর যে দাবি, এমনকি ঐ সময়ের কিছু সংশয়বাদীরা প্রশ্ন করছিলো যে তার উপর কি করে কোন বই নাযীল হবে, তিনি (স) তো পড়তেই পারেন না । তিনি যে কোন বই লিখতে পারবেন না, তা তো স্পষ্ট! কিন্তু তিনি তো পড়তেও পারেননা, তাহলে তিনি কিভাবে লিখবে্ন!এটি ছিল শুধুই মৌখিক। এরপরে বইটি যখন সংকলন করা হয়, তখন সেটি মৌখিক ছিলনা। এটি লিখিত ছিল। কিন্তু ঐ মৌখিক ক্রমে ছিলনা যেটা আমি বলেছি। যেটি আরেকটি জটিলতা বাড়িয়ে দেয়।

এখন মুগ্ধ করার ব্যাপার হল, তার এই ক্যারিয়ারের, রাসুল (সা) ২৩ বছর কাটিয়েছেন একজন রাসুল হিসেবে। এই সময়ের মাঝে প্রায় লক্ষের পর্যায়ে মানুষ মুসলমান হয়েছে। এর মাঝের অনেকেই, বেশ কিছু মানুষ পুরো কুরআনটা মুখস্ত করছে। পুরো আজকের ৬০০ পৃষ্ঠা। আজকেও মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় ঐতিহ্য হল কুরআন মুখস্ত করা। এই মানুষগুলো শুধু কুরআন মুখস্ত করে বসে থাকেনি, বরং অনেক দুরের দেশে ভ্রমন করেছে। তারা মূল ভুমি থেকে তখন বিচ্ছিন্ন। এমন না যে ইমেইলের মাধ্যমে তারা নিজেদের মাঝে যোগাযোগ রাখত। প্রাচীন যুগের ব্যাপার এটি। একবার চলে আসলে যোগাযোগের ব্যাবস্থা নেই। যদি কোন বার্তা পাঠাতেই হয়, কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। কারণ ঘোড়া তার মত করে সময় নেয়। এই মানুষগুলো ছড়িয়ে পড়লো, আর তারা তাদের নিজেদের গ্রামে কুরআন শিখানো শুরু করলো, নিজেদের শহরে। যদি আপনি যৌক্তিক ভাবে দেখেন, এরকম অনুমান করতে পারেন যে, এক বছরের মাঝে তাদের মধ্যে ১০০০ রকম কুরআন থাকার কথা। থাকা উচিত। এরকম একটি মৌখিক লিখনির অগনিত পরিবর্তিত রুপ থাকা উচিত। এমনটাই হওয়া উচিত।

আমরা সময় টেনে আজকের দিনে, ২০১৩ তে চলে আসি। আরভিং মসজিদে কুরআন মুখস্তের একটি প্রোগ্রাম আছে। ছেলেপেলেরা এখানে কুরআন মুখস্ত করে। আমার মেয়ে কুরআন মুখস্ত করে পার্ট টাইম, আমিও কুরআন মুখস্ত করি পার্ট টাইম। এইভাবে পার্ট টাইমে আমি প্রায় অর্ধেকটা মুখস্ত করেছি। বেশ অলস আমি, এতদিনে আমার এটা শেষ করে ফেলা উচিত ছিল। পার্ট টাইমে অর্ধেকটা মুখস্ত করেছি এইজন্য না যে আমার ফটোগ্রাফিক মেমোরি আছে, বরং কি যেন আছে এই বইটাতে, এটি মুখস্ত করা বেশ সহজ। বেশ অবাক করার ব্যাপার। আরও অবাক ব্যাপার হল, আমি কুরআনের কিছু অংশ মুখস্ত করেছি, আমি এরপর মালয়েশিয়ায় গেলাম, আমি মালয় ভাষা জানিনা। আমি এরপর নামাজে ইমাম দাঁড়ালাম। আর যখন আমরা নামাজে ইমামতি করি, আমরা নিজের স্মৃতি থেকে কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করি, আমি ইমামতি করছি, কুরআন জোরে তিলাওয়াত করছি, আমার পিছনে কিছু ছোট বাচ্চারা আছে যারা কুরআন মুখস্ত করছে, আমি একটি শব্দ ভুল করলে তিন বাচ্চা সেটি সংশোধন করে দেয়। আমি তাদের ভাষা জানিনা। তাদের সাথে আগে দেখাও হয়নি। তারা আমাকে এয়ারপোর্টে নামাজ পড়তে দেখেছে, তাই তারাও যোগ দিল। মুসলিমরা এমনটাই করে।

তারা যদি আপনাকে নামজ পড়তে দেখে, আর তখন নামাজের সময়, তারাও আপনার সাথে যোগ দেয় ও পিছনে দাঁড়িয়ে একসাথে জামাতে নামাজ পড়ে, যদিও একে অপরকে তারা চিনেনা, তবুও। ঐভাবে ব্যাপারটা কাজ করে। আর আমাদের নামাজের দীর্ঘতম অংশ হল দাঁড়িয়ে থাকা, এবং দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা। আর যদি একজন এক শব্দে ভুল করে, বা শব্দেরও একটি অংশ ভুল করে, সঙ্গে সঙ্গে পিছনের কেউ তাকে সংশোধন করে দিবে, আর ইমাম তখন তা ঠিক করে নিবে, শব্দাংশ পর্যন্ত।

আরও অবাক করা ব্যাপার, আমরা আরভিংএ আছি, মনে করুন, কোন ইন্টারনেট নেই, কোন লাইব্রেরী নেই, কোন বই নেই, কোন সেল ফোন নেই, কম্পিউটার ও নেই। যত তথ্য আমাদের কাছে থাকে, কিছুই নেই। আমেরিকার সংবিধানের কোন কপি নেই, বাইবেলের কোন কপি নেই, কিছুই নেই। কোন বই নেই, কোন তথ্য নেই। আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি, ২৪ ঘন্টার মাঝে আমরা কুরআন পেয়ে যাব। আরভিং এই। আসলে পুরো আরভিং ও খোঁজার দরকার নেই। এখান থেকে পাঁচ ব্লকের মাঝেই চলবে। পুরো কুরআনটা আমরা পেয়ে যাব, কেন? স্মৃতি। কিন্তু ওটাকে আবার লিখনিতে রুপ দিতে হবে। কিছু ছেলে পেলেকে বসিয়ে দিতে হবে, সবাই এক পৃষ্ঠা করে লিখবে, হয়ে যাবে কিছুক্ষনের মাঝে। লেখার পর তারা যদি একটি লাইব্রেরি কপির সাথে তুলনা করে, কি হবে? একই জিনিস। এমনকি শব্দাংশ পর্যন্ত, দাড়ি, কমা পর্যন্ত। এটা আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে। কিভাবে একটি বই এতটাই বদ্ধমুলভাবে মানুষের মনে গেঁথে থাকে। যাতে এত সহজেই এটা পুনরুদ্ধার করা যায়! আর এটা শধুমাত্র আরভিং এ নয়, আমি ইউলিস এ এটা করতে পারি, এটা ফোরট ওরথেও করতে পারি, এমনকি মিকেনিতেও! আমি এটা আর যেকোনো জায়গায়ই করতে পারি। এতেই আমি মুগ্ধ হচ্ছি যে একটি মৌখিক কিছু এতটাই দারুনভাবে সংরক্ষিত ও একীভুত। অথচ যুক্তিগত দিক দিয়ে এটির লাখ লাখ ভার্সন থাকা উচিত ছিল।

লিখে রাখার যে রীতি ছিল সেগুলোকে একত্রিত করা হয়েছিল অনেক পরে!মুখস্থ করার রীতি সেখানে অনেক কাল ধরেই চলে আসছিল।অনেক অনেক কাল আগে থেকে।যাই হোক,এটা মৌখিক ঐতিহ্য ছিল। আমি আপনাদের বলেছিলাম আমাদের নবীর একটি অপারগতার কথা…সেটি কি বলতে পারবেন?তিনি কি যেন করতে পারতেন না?ওহ্‌, মনে পড়েছে… তিনি লিখতে পারতেন না।তো এখন…একটি সূরা…কতগুলো যেন সূরা আছে কুরআনে? ১১৪ টি!এগুলো বড় কিংবা ছোট। সূরাগুলো বড়ও হতে পারে ছোটও তে পারে।সবচেয়ে বড় সূরাটিতে ২৮৬ টি স্তবক (আয়াত) আছে! আমি স্তবক বলছি আপনাদের জন্যে… আমি একে স্তবক বলি না। আপনাদের জন্যে ২৮৬ টি স্তবক।

স্তবক গুলি সব একসাথে নাযিল হয়নি বরং প্রথমে সূরাটির অল্প কিছু অংশ নাযিল হয়, আর ইতোমধ্যেই অন্য সূরার অন্য কিছু স্তবক ও নাযিল হতে থাকে।আবার আর এক সূরার আরও কিছু স্তবক নাযিল হতে থাকে।আমাদের নবী সেসব পড়তেন আর তার সঙ্গীদের বলে দিতেন… আসলে এই স্তবকগুলো এই সূরার অন্তর্ভুক্ত…আর ঐ স্তবক গুলো ঐ সূরার অন্তর্ভুক্ত…আর তিনি সব সময় এভাবে বলে দিতেন।তো তাঁর কাছে ধরুন ২০ টি সূয়া নাযিল হচ্ছে…সবগুলোই আংশিক ভাবে…সব গুলোই অল্প অল্প করে নাযিল হচ্ছে আর তিনি তাঁর সঙ্গীদের বলছেন কোন স্তবক কোথায় বসবে। তাঁর সামনে কোন কাগজে সেসব লিখাও ছিল না…থাকলেও কোন লাভ হত না কারণ তিনি পড়তে জানতেন না।এসব কিছুই ঘটছিল মুখে মুখে।একটা সময়ে সম্পূর্ণটা বলা ও সাজানো শেষ হয়ে গেল।আর আমরা একে একটা বই হিসেবে পেলাম যা কালানুক্রমিক নয়, যার আকারের বা বিষয়ের কোন ধারাবাহিকতা নেই।

মনে আছে আমি যে বলেছিলাম?তো কুরআনের যেটি সবচেয়ে বড় সূরা… ইতিহাসবেত্তা গণের মতে এটি নাযিল হতে ১০-১২ বছর সময় লেগেছিল।এই সূরাটি যখন নাযিল হচ্ছিল তখনই কুরআনের অনেক বড় একটা অংশও নাযিল হচ্ছিল…যেগুলো ছিল অন্য সূরার অন্তর্ভূক্ত।সূরাটি নাযিল হল…মানুষ তা মুখস্থও করে ফেলল।কিন্তু সে সময় তারা স্তবকে নম্বর দিত না! আমি যেমন বললাম সূরাটিতে ২৮৬ টি স্তবক আছে…এটা আমি বলতে পেরেছি কারণ কুরআনের একটা ছাপানো কপিতে স্তবকের সংখ্যা দেওয়া থাকে।কিন্তু প্রকৃত কুরআনে কি তা ছিল?না!আর তারা এমন ভাবে নিজেদের সাথে কথাও বলতে পারত না যে,”তুমি কি স্তবক নম্বর ৪৩ শুনেছ?”… তারা এভাবে কথা বলতেন না।সে সময় এমন ক্রমবিন্যাস ছিল না। তারা কেবলই পড়ে যেতেন।

সূরা বাকারাহ যেটি কুরআনের ২য় সূরা…সবচেয়ে বড় সূরা। একদিন আমি পড়ছিলাম আর কুরআনের literary nuance(সুক্ষ্ম তারতম্য) গুলো খেয়াল করছিলাম।২৮৬ এর অর্ধেক কত হয়?১৪৩! বেশ ভাল…সবাই দেখি ম্যাথ মেজর! এই সূরার ১৪৩ নম্বর স্তবকে বলা হচ্ছে “এভাবে আমি তোমাদের মধ্যম জাতিতে পরিণত করলাম”। ‘মধ্যম’ কথাটি সূরাটির আর অন্য কোথাও উল্লেখ নেই এই মধ্যম স্তবকটিতে ছাড়া। যেটা কেবল মানুষের মুখে মুখেই প্রচলিত ছিল এবং ১০-১২ বছর সময় নিয়ে নাযিল হয়েছিল, যার কোন স্তবক সংখ্যা দেওয়া ছিল না।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিও এর সাবটাইটেল ও ভিডিও এর ট্রাকস্ক্রিপ্ট অনুবাদে।
সাথে আরেকটি বোনাস আর্টিকেল দেখতে পারেন প্রাসঙ্গিক -
মধ্যমপন্থী জাতি ও অলৌকিক মু’জিযা
- http://tinyurl.com/qzcdoko

0 comments
Labels: , , ,

নামাজের পূর্বে সুন্দর পোশাক পরিধান করুন

●|● নামাজের পূর্বে সুন্দর পোশাক পরিধান করুন ●|●
আল্লাহ্‌ বলেন, “ইয়া বানী আদাম, খুজু ঝিনাতা ইনদা কুল্লি মাসজিদ”।
নামাজের পূর্বে যেকোনো স্থানে তুমি তোমার পোশাকের প্রতি যত্নবান হও, তোমার সৌন্দর্যের প্রতি মনোনিবেশ করো। আমার সামনে দাঁড়াবার পূর্বে নিজেকে প্রশংসনীয় রূপে উপস্থাপন করো। নামাজের পূর্বে সুন্দর পোশাক পরিধান করো। বিছানার পরিহিত পোশাক পড়ে ফজর নামাজ আদায় করতে এসো না। সুন্দর পোশাকের ব্যাপারে যত্নশীল হও।

আচ্ছা মনে করুন, আপনার অফিসের সিইও এর সাথে, অথবা আপনার ভার্সিটির ডীনের সাথে অথবা ইমিগ্রেশন অফিসারের সাথে দেখা করতে গেলে কি আপনি ময়লা পোশাক পড়ে যাবেন? বরং আপনার সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পড়েই তাদের সাথে দেখা করতে যাবেন। তাহলে আল্লাহ্‌র সামনে আপনি এইভাবে কেন দাঁড়াচ্ছেন? আল্লাহ্‌র সামনে সুন্দর ভাবে দাঁড়ানোর ব্যাপারে যত্নশীল হোন। বলুনতো কেন এটা এতো গুরুত্বপূর্ণ? আপনি যখন সালাতের জন্য আপনার কাপড় ইস্ত্রি করবেন মনে রাখবেন আপনি সালাতের সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করছেন।

 যখন আপনি আপনার পছন্দের পোশাক নির্বাচন করছেন আপনি সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মানুষ সাধারনত পার্টিতে গেলে সুন্দর পোশাক পরিধান করে, তাইনা? কিন্তু কেন? কারণ তার আশেপাশের লোকগুলো তার দিকে বারবার তাকাবে, হয়তো দুই একটা ছবিও তুলে ফেলতে পারে। কিন্তু যদি তাকানোর মতো কেউ না থাকে আপনি কি সেজেগুজে থাকবেন? পার্টিতে কেউ নিজেকে জবুথবু রূপে উপস্থাপন করে না অথবা করতে চায় না। এটাই সত্যি কথা।

আমার একটা ছাত্র ছিল যে কাপড় ইস্ত্রি না করেই ক্লাসে চলে আসতো। তার বাবা একদিন বাঁধা দিয়ে বললেন, হয় নিজের কাপড় ইস্ত্রি করে পরিধান করো, নয়তো ক্লাসে যাওয়া বন্ধ করো। আমরা যখন সুন্দর পোশাক পড়ি আমরা আশেপাশের মানুষের রুচির কথা খেয়াল রেখেই পোশাক পড়ি। তাহলে আপনি যদি সালাতের জন্য উত্তম পোশাক পরিধান করেন আপনার সচেতন মন স্বাভাবিক ভাবেই আল্লাহ্‌র দিকে নিজেকে রজ্জু করবে কারণ আপনি জানেন আল্লাহ্‌ আপনার দিকে তাকিয়ে আছেন। এই সামান্য কাজটা আপনার সালাতে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে। আল্লাহ্‌ তার বান্দাদের সালাতে মনোযোগ বাড়ানোর উপায় বাতলে দিচ্ছেন।

মানুষ প্রায় বলে আমি কিভাবে সালাতে মনোযোগী হবো? সালাতে কিভাবে ধৈর্যশীল থাকা যায় বলতে পারেন? আমি কিভাবে তার পরিপূর্ণ উপস্থিতি বুঝতে পারবো? আল্লাহ্‌ তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, সুন্দর পোশাক পড়ে সালাতের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আসো।

তাহলে আমাদের প্রথম প্রথম কাজ হল নিজেকে উত্তম পোশাক দ্বারা আবৃত করা। আপনি যদি মনে করেন আল্লাহ্‌র সামনে সবচেয়ে উত্তম পোশাক পড়ে হাজির হয়েছেন তাহলে বুঝে নিন অন্য যেকোনো জায়গায় আপনার জন্য এই পোশাকটি সবচেয়ে উত্তম পোশাক। যে সকল বোন হিজাবের সঠিক দিক নির্দেশনা জেনেও হিজাব পালন করেনা তারাও যখন মসজিদে সালাত আদায় করতে যায় সঠিক ভাবে হিজাব পালন করেই যায়। তারা জানে তারা ঐ মুহূর্তে আল্লাহ্‌র সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়। ছেলেদের ক্ষেত্রেও একি কথা প্রযোজ্য। আচ্ছা প্রতিদিন আমরা কয়বার সালাত আদায় করি? পাঁচ বার। তাই যখন আপনি সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে পারবেন আপনাকে সত্যি আল্লাহ্‌র কাছে সুন্দর লাগছে তখন বুঝে নিবেন আপনার এই পোশাকটি অন্য লোকদের কাছেও গ্রহণীয় হবে।

এমন যেন না হয় সালাতের জন্য জবুথবু পোশাক পড়লেন আর অন্য জায়গায় সুন্দর পোশাক পড়ে গেলেন। তাহলে মনে রাখবেন আপনি সালাতের সঠিক ড্রেস কোড অনুসরণ করলেন না। ঠিক যে মুহূর্তে আপনি পোশাকের ব্যাপারে সাবধান হবেন, নিজেকে সুন্দর করে আল্লাহ্‌র কাছে প্রকাশ করবেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আপনি পোশাকের হালাল হারামের বিতর্ক থেকে বেঁচে গেলেন কারণ এ বিতর্ক আপনার জন্য অর্থহীন। আর পোশাকের ব্যাপারে আপনি যদি যত্নশীল থাকেন তাহলে আপনি সত্যিকার অর্থেই নিজের সালাতকে সৌন্দর্যমন্দিত করলেন।

0 comments
Labels: , ,

আমরা মুসলিম, কিন্তু কেনো?

●|● আমরা মুসলিম, কিন্তু কেনো? ●|●

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,
قُلْ هَٰذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ ۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي ۖ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ
“বলে দিনঃ এই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে বুঝে সুঝে দাওয়াত দেই আমি এবং আমার অনুসারীরা। আল্লাহ পবিত্র। আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই।” (সূরা ইউসুফঃ ১০৮)

এই হলো সাবিল (পথ, পন্থা)। চমৎকার বাক্য। আমি আল্লাহর পথে ডাকি চোখ খোলা রেখে, সঠিক উপলব্ধি সহকারে। ‘বাসীরা’। ‘বাসীরা’ হলো যখন কোনো কিছুর প্রতি আপনার পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টি রয়েছে। আসলে , আরবি ভাষা অনুযায়ী এই মুহুর্তে আমার ‘বাসীরা’ নেই কারণ এই পিলারটির জন্য পিলারের পেছনের মানুষদের আমি দেখতে পাচ্ছি না এবং তারাও আমাকে দেখতে পাচ্ছে না তাই আমার বাসীরা নেই। ‘বাসীরা’ মানে হলো আপনার পূর্নাঙ্গ দৃষ্টি রয়েছে। এমনকি আংশিক দৃষ্টিও ‘বাসীরা’ নয়। আল্লাহ বলেন : আমরা লোকদের দ্বীনের পথে ডাকি দৃষ্টি খোলা রেখে। আপনারা জানেন এর মানে কী ? এর মানে হলো – আমাদের পরিপূর্ণ জ্ঞান রয়েছে যে কেন আমরা মুসলিম।

শুধু এটা নয় যে , আলহামদুলিল্লাহ আমরা জানি যে আমরা মুসলিম। কিন্তু আমাদের চোখ খোলা থাকতে হবে। কেন আমি মুসলিম? কেন আমি বলি – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ? কেন আমি বলি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? কেন কুর’আন আল্লাহর কিতাব? আমার নিজের জন্যই এই বিষয়ে আমার পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। বহু মুসলমান আজকে মুসলিম কারণ, আর আপনি যদি তাদের জিজ্ঞেস করেন কেন তুমি মুসলিম ? তারা বলবে – কারণ আমার বাবা-মা মুসলিম। অথবা তারা বলবে কারণ আমি বড় হয়েছি একটি মুসলিম দেশে। অথবা তারা বলবে : আমি জানি না, আমার মনে হয় সবাই মুসলিম তাই আমিও মুসলিম। এগুলো ভালো জবাব নয়। ঐ প্রশ্নের এগুলো ভালো উত্তর নয়। আর আমি আপনাদের বলছি ..আমি আপনাদের বলছি – কারণ আমি এটা নিজের চোখে দেখেছি, আমি বলতে দেখেছি মুসলিম পরিবার থেকে আসা মুসলিম সন্তানদের যে – আমি আসলে জানিনা আমি কেন মুসলিম!

আমেরিকাতে তারা ইসলাম ত্যাগ করতে শুরু করেছে । কারণ কেউ তাকে বলবে না যে , আস্তাগফিরুল্লাহ সে মুরতাদ হয়ে গেছে। এ ভয় এখানে নেই। তাই তারা দ্বীন ছাড়তে শুরু করেছে। এই কিছুদিন আগে মেক্সিকো সিটিতে গিয়েছিলাম। ৩৮ মিলিয়ন মানুষ। আমি হালাল রেস্টুরেন্ট খুঁজতে ছিলাম। আমি একটা খুঁজে পেলাম , সেখানে দুইটি হালাল রেস্টুরেন্ট রয়েছে। আমি মেক্সিকো সিটির একটি আলজেরিয়ান রেস্টুরেন্ট এ গেলাম। আমি এক ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম – ১৯৭০ সাল থেকে তিনি সেখানে বসবাস করছেন- তিনি বললেন ১৯৭০ এর দশকে প্রায় ১ লক্ষ জর্ডানী মুসলিম এখানে এসেছেন। এক লক্ষ বা তার চেয়ে কিছু বেশি। কিন্তু বর্তমানে মেক্সিকো সিটিতে একটি বা দুটি মসজিদ রয়েছে , জুমার নামাজের সময় ২০০ বা ৩০০ মুসলমান উপস্থিত হয়। এরাই সব। বাকিরা হারিয়ে গেছে!

কারণ কেন তারা মুসলিম এই বিষয়ে জ্ঞান না দিয়েই তাদের বড় করা হয়েছে। তাই যখন তারা তাদের চারপাশের সমাজ ব্যবস্থাকে দেখল, তারা মনে করলো আমি অন্য সবার মত হয়ে যেতে পারি। আমাকে কেন মুসলিম থাকতে হবে, এর কী কারণ? বিশ্বায়ন আমাদের দুনিয়াকে পরিবর্তন করে ফেলছে। ইউটিউব সবখানে। আমাদের সন্তানরা , আমাদের যুবকরা এমনসব ভিডিও দেখছে যা তাদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরী করছে। আর আপনি এটা বন্ধ করতে পারবেন না। তারা এগুলোর সম্মুখীন হবেই। যতক্ষণ না আমরা তাদের শিক্ষা দেই যে , কেন আমরা মুসলিম। যতক্ষণ না তাদের থাকবে ‘বাসীরা’। তারা সমাজকে কিছু দিতে পারবে না।

এই আয়াতে বর্ণিত দুটি ধারণা একটি আরেকটির সাথে জড়িত। একদিকে আমরা চাই এমন মানুষ যারা সমাজকে কিছু দিবে। অন্যদিকে আমরা চাই এমন মানুষ যাদের এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা আছে যে কেন তারা মুসলিম। আর যখন আপনার এই বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকবে যে কেন আপনি মুসলিম, যখন আপনার থাকবে ‘বাসীরা’, তখন এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকবে না যে, আপনি অবশ্যই সমাজের সেবা করবেন। এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, আপনি আপনার সমস্ত শক্তি ব্যয় করবেন আল্লাহর দ্বীনের জন্য।

রাসুল স বলেন, আমি আল্লাহর পথে ডাকি দৃষ্টি খোলা রেখে। আমি এবং যে আমার অনুসরণ করে(তারও দৃষ্টি খোলা )। আমাদের দ্বীন আলাদা। যখন মানুষ জিজ্ঞেস করে কেন তুমি ইসলাম পালন কর? তুমি কেন এই এই সব কাজ কর ? আমরা এই জবাব দেই না যে, আমি জানি না বা আমরা এটা করি কারণ এটা আমাদের সংস্কৃতি। আমরা এই জবাব দেই না। অন্যান্য ধর্ম এ জবাব দিতে পারে। আমরা এই জবাব দেই না। আমরা যা করি তার পেছনে কারণ রয়েছে।
আমাদের বুদ্ধি রয়েছে যা আমাদের ব্যবহার করার কথা। কেন তোমরা চিন্তা কর না? আমাদেরকে হতে হবে চিন্তাশীল মানুষ। বিশেষ করে একটি মুসলিম সমাজে যেখানে আমরা ধারণা করি যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ইতোমধ্যে জানে যে ইসলাম সত্য। এটা কল্পনা করবেন না। তাদের নিজেদেরকেই এই উপসংহারে আসতে হবে। তাদেরকে এই শিক্ষা দিতে হবে যাতে তারা নিজেরাই বলতে পারে কেন তারা মুসলিম। হ্যা , নিশ্চিতভাবে এটা সত্য। তারা নিজেরাই বারবার নিজেদের ঈমানের নিশ্চয়তা দিবে। তাদের জানা উচিত কেন (তারা মুসলিম).. এটা মুসলিম যুবকদেরকে শক্তিশালী করবে।

আর এই শেষ কিছু বিষয় নিয়েই আমি আপনাদের সামনে কথা বলতে চাই, ইনশাল্লাহু তা’য়ালা। যখন মুসলিম যুবকদের থাকবে সত্যিকারের ঈমান, যখন মুসলিম যুবকদের থাকবে শক্তিশালী ঈমান , তখন বিশ্বকে পরিবর্তন করে দেয়ার শক্তি তারা অর্জন করবে। তখন আজকের বিশ্বকে একটি উন্নত বিশ্বে পরিবর্তন করে দেয়ার শক্তি তাদের থাকবে। কিন্তু যখন মুসলিম যুবকদের সত্যিকারের ঈমান থাকে না, যখন তাদের দৃঢ় বিশ্বাস থাকে না, তখন তারা হলো সমাজের অপচয়, তারা হলো একটি প্রজন্মের অপচয়।

0 comments