শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Labels: , ,

একটি জিনিসের মাধ্যমে তিনটি জিনিসের সাদাকায়ে জারিয়াহর সাওয়াব

যে একটি জিনিসের মাধ্যমে আমরা তিনটি জিনিসের সাদাকায়ে জারিয়াহর সাওয়াব পাবো(জীবিত ও মৃত্যুর পরে ক্রমাগত সাওয়াব পেতেই থাকব)

আবু হুরাইরা (রা) বলেন – রাসূল (সা) বলেছেনঃ একজন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু তিনটি আমাল এর ব্যতিক্রম। ১। সাদাকায়ে জারিয়াহ ২। এমন জ্ঞান যা মানুষের উপকারে করে। ৩। নেক সন্তান যে পিতামাতার জন্য দোয়া করবে। (মুসলিম শরীফ-৪০৭৭, তিরমিযী-১৩৮০)

স্কলাররা বলেছেন এর মাঝে জ্ঞানই এমন উপাদান যা তিনটি ক্ষেত্রেই অবদান রাখে এবং সাদাকায়ের জারিয়াহর সওয়াব পেতে পারে!! চিন্তা করতে পারেন জ্ঞান এত বড়, হাশরের কঠিন ময়দানে এই জ্ঞান আমাদের কত উপকার করতে পারে, সেই মহান স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভে এটা কতবড় মাধ্যম হতে পারে !! সুবহানাল্লাহ।

আপনি সাদাকায়ে জারিয়াহ করলে তার সওয়াব জীবিতাবস্থায় এবং মৃত্যুবরণ করার পরও পেতে থাকবেন। এবং নেক সন্তান যে আপনার জন্য দোয়া করবে এবং হাদীস অনুযায়ী আপনাদের জন্য অন্যান্ন কাজও সে করবে এবং এসবের সওয়াব পেতে থাকবেন।

কিন্তু “জ্ঞান’ এক্ষেত্রে ভিন্নতর এবং অনেক বেশি কার্যকরী। কেন?

১। আপনি নিজে ‘জ্ঞান’ অর্জন করে তা আমাল করলেন এবং
২। অন্যকে শেখালেন(যা তারাও আমল করতে থাকবে এবং এর সওয়াব আপনি পেতেই থাকবেন), জ্ঞানের মাধ্যমে অন্যকে উৎসাহিত করলেন ভালো কাজ করার জন্য,
সদকা করার জন্য উৎসাহিত করলেন,
৩। ছোট ছোট বাচ্ছাদের শিক্ষা দিলেন, মাহফিলে ওয়াজ করলেন, দারসে আলোচনা করলেন, বাবা-মাকে সেবা করার জন্য বললেন, তাদের জন্য দোয়া করার জন্য বললেন – এসবই আপনার আমলনামায় সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আসবে।

তাহলে জ্ঞানের ক্ষেত্রে অন্তত আমাদের কখনই পিছপা হওয়া উচিৎ নয়। এক্ষেত্রে ইন্টানেটের যুগে তো আরো সহজ হয়ে গেছে আমাদের এই ধারাটা- সাদাকায়ে জারিয়াহ অর্জনের পথ। আমরাও চাইলেই পারি এই সাদাকায়ে জারিয়াহর প্রচুর সুযোগ নিতে-কাউকে ভালো বই এর সাজেশন দিয়ে, একটি ভালো লেকচার দেখার জন্য বলে, কোন ভালো ইসলামী সাইট বা পেইজ সাজেশন করে, অমুক স্কলার ভালো-তাঁর রিসোর্সগুলো দেখতে পারো এভাবে বলে। মোটাদাগে আমাদের একটা ক্লিক, একটা মেসেজ একটা শেয়ার হতে পারে জান্নাতে যাওয়ার বিরাট সুযোগ, সাদাকায়ে জারিয়াহর আশান্বিত পথ।

উস্তাদ নুমান আলী খান বর্তমান বিশ্বে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ, যার কথা আমরা বাংলা ভাষায় আপনাদের জানাতে চেষ্টা করি। বিশেষত ইংরেজিতে যাদের দক্ষতা নেই, তাদের জন্য এগুলো অনেক বেশি গুরত্বপূর্ণ। আধ্যাত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের সমন্বয়ে উস্তাদ নোমান আলী খান যেভাবে কোরআনের ভাষাতাত্ত্বিক ও আধুনিক বাস্তবতাকে তুলে ধরেন গভীরভাবে, এখানেই উস্তাদ নুমান আলী খান আমাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর কিছুটা কাজ উস্তাদ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে “কোরআনের কথা”র সংকলণ যা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্ব বহন করে।(আমাদের আগের একটি নোট যা উস্তাদের প্রাসংগিকতা অনেক ভালো করে তুলে ধরেছেন লেখক - নুমান আলী খান: লক্ষ তরুণের অনুপ্রেরণা - http://tinyurl.com/k6jcgc5 )

আমরা চাইলেই এটার মাধ্যমে তিন ধরণের সাদাকায়ে জারিয়াহ অর্জন করতে পারি। মনে আছে তো জ্ঞানের মাধ্যম হতে পারে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের একটি বড় উপায়। আমরা এই একটি লিংক(কোরআনের কথা) দিয়েও সেটার একটা বড় সুযোগ নিতে পারি ইন শাআ আল্লাহ।

কিভাবে?

1. আমরা নিজেরা পড়ব,

2. আমাদের পাশের লোকদের পড়তে দেবো,

3. প্রত্যেকেই অন্তত পাঁচজন করে নোটে গিয়ে ৫ জনকে ট্যাগ করে মেনশন করুন যাতে তারাও সুযোগ পায় এটা দেখতে, ডাউনলোড করতে এবং আপনার সাদাকায়ে জারিয়াহকে বৃদ্ধি করতে,

4. প্রত্যেকেই ৫ জনকে ইনবক্স করে এই নোটের লিংক দিতে পারে- কারণ ইনবক্স মেসেজ খুবই গুরত্বসহকারে দেখে সবাই

5. আপনাদের ওয়ালে নোট শেয়ার করতে পারে- নোটের আগে অবশ্যই কিছুটা উল্লখ করবেন নোট থেকে – কারণ নোটের ভ্যালুএবল অংশই মানুষকে সাহায্য করে ভেতরে প্রবেশ করতে

কোরআনের কথার নোট, সংক্ষিপ্ত ঠিকানা - http://tinyurl.com/obakf9y
আমরা কি পারবো সাদাকায়ে জারিয়াহর এই সুযোগ নিতে? আমরা কি আল্লাহর সান্নিধ্যে পাওয়ার জন্য প্রস্তুত? – তবে চলুন শুরু করি সাদাকায়ে জারিয়াহর কাজ...আমার জান্নাতের পথের কাজ, আল্লাহর সান্নিধ্যের কাজ...

যারা ইংরেজী বুঝতে পারেন তারা Ustadh Nouman Ali Khan এর এই তিনটি অসাধারণ লেকচার দেখার ও ভালো করে উপলব্ধি করার অনুরোধ রইল।

1. Importance of seeking knowledge from the Quran-http://www.youtube.com/watch?v=gbwPImkxtmE

2. Seeking Islamic Knowledge-http://www.youtube.com/watch?v=6le_I7Qho2I

3. The Quran - The Book of Timeless Guidance - http://www.youtube.com/watch?v=3R3uXMfw4z8

আসুন সর্বশেষ তিনটি হাদীস দেখি...সংক্ষিপ্ত কিন্তু এগুলোর গভীরতা অনেক বেশি, অনেক বেশি ।

“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি #উত্তম যে নিজে কোরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।”

“যে ব্যক্তি কাউকে সৎ পথের রাস্তা দেখিয়ে দেয়, সে ঐ আমলকারীর অনুরুপ সওয়াব পাবে অথচ আমলকারী কোন কম করা হবে না ”

“যে ব্যক্তি কাউকে সৎ পথ দেখিয়ে দেয়, সে যেন উহার আমলকারী(অর্থাৎ আমলকারীর অনুরুপ সওয়াব পাবে)”

0 comments
Labels: , ,

কোরআনের কথা বাংলা ভাষায় আধুনিক, প্রাসঙ্গিক, যৌক্তিক, যুক্তিখন্ডন, যুগোপযোগী, গভীর ও বাস্তবিক আলোচনা

বিসমিল্লাহির রাহমানীররাহীম

বাংলা ভাষায়  কোরআন-এরএই অসাধারণ  আলোচনাসমূহ  আপনার জীবনকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করবে , কোরআনেরউপলব্ধির এক নতুন দ্বার উন্মোচিত  করবে আপনার সম্মুখে,  কোরআনের প্রতি মমত্ববোধ বাড়িয়ে দিবে অকল্পনীয়ভাবে ইন শাআল্লাহ।

কোরআনের উপর সর্ব প্রথমবাংলা ভাষায় এরকম চাতুর্মুখিক বুদ্ধিমত্ত্বা ও প্রাসঙ্গিক আলোচিত হয়েছে। ইংরেজী ওআরবীতে অনেক থাকা সত্বেও বাংলা ভাষায় এর আলোচনার প্রাসংগিকতা, বাংলা ভাষাভাষীদেরজন্য এক বিরাট রাহমা ও বারাকা হিসেবে আসবে!

আমরা আল্লাহকে আল-আলিম(সর্বজ্ঞানী),আল-হাকিম(সর্বজ্ঞ) ইত্যাদি গুনবাচক নামে বিশেষায়িত করি...এটা আমাদের বিশ্বাসেরমধ্যেই থাকে। এটার মাধ্যমে আমরা কতটুকু যে নিজেদেরকে ধোঁকায় ফেলতেছি  তার প্রমান আমরা বাস্তবে কোরআনকে কোরআনেরগভীরতা খুব অল্পই চিন্তা করি এবং এর মাঝে যে অকল্পনীয় জ্ঞানের ঝর্ণা প্রবাহিতহয়েছে আল্লাহর বিশাল ও অসীম জ্ঞান থেকে তাঁর- তা খুবই কম জানি। এর আয়াত নিয়েগভীরভাবে ভাবি না, আল্লাহর জ্ঞানের বিশালতা ও অসীমতা নিয়ে পড়ার প্রতি মনোযোগ দেইনা-কারণ কোরআনকে একেবারেই নিরস মনে হয় !!!

এটুকুই উপলব্ধি যথেষ্ট যেআমরা কোরআন পড়ি না...কারণ আল্লাহ কোরআনকে যেভাবে দেখতে বলেছে, পড়তে বলেছে, চিন্তাকরতে বলেছে, রাসূল সা. যেভাবে পড়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন, সাহাবা রা. ও আমাদের সৎপূর্ববর্তীগন পড়েছেন, শিখেছেন ও শিক্ষা দিয়েছেন এবং কোরআনের উপর, আরবী ভাষার উপরআধুনিক ইসলামী স্কলারদের লেখার প্রতি সম্পর্ক নেই যার মাধ্যমে আমরা কোরআনকে আরোগভীরভাবে ও চিন্তাশিলতার সাথে উপলব্ধি করব

বিশেষত কোরআনকে আমাদেরপড়তে অনীহা লাগার অনেকগুলো কারণ রয়েছে- এর   মাঝে রয়েছে কোরআনের প্রাসঙ্গিকতা, এটিকে সুশৃঙ্খল মনে না হওয়া এবং পাশাপাশিকোরআনকে বুঝতে হলে শুধু কোরআনই নয় বরং অন্যান্ন জ্ঞানের শাখাও যে সমানভাবে লাগেসেগুলোর জ্ঞান না থাকায় আমরা একে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারে না এবং এটা পড়তেওইচ্ছা করে না। এসব কিছুই মধ্য দিয়েই কোরআনের এই অসাধারণ আলোচনাসমূহ-যার কারণেআপনার কাছে কোরআনকে আর নিরস মনে হবে না, কোরআনের আবেদন নতুনভাবে উন্মোচিত হবে,নতুনভাবে পরিচিত পাবে কোরআনের সাথে।

বাংলা ভাষায় কোরআনের উপর অসাধারণ চমকারিত্ত্বেরচৌম্বকীয় শক্তির ধারা প্রবাহিত হয়েছে এইসব আলোচনায়। কোরআনকে যেখানে নিরস মনে হতএতদিনে, মনে হতে আরবের ইতিহাসের একটা অংশ পাঠ করছি, যেখানে আমাদের প্রাসংগিকতাখুবই কম পাওয়া যেতো...সেখানে এই আলোচনা আসলেই বাংলা ভাষাভাষীদের এক বিরাট নিয়ামতহিসেবে আবির্ভুত হবে ইন শাআ আল্লাহ।


আধুনিক মানুষের জন্য সমসাময়িক প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব এবং ঘটনাগুলোকে কুরআনের আলোকে দেখা এবংকুরআনের আয়াতে লুকিয়ে থাকা বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং যুক্তির উপর আলোচনা হয়েছে এইসব প্রাসঙ্গিক লেখায়

কু’রআনের আয়াতগুলোর সরাসরি বাংলা অনুবাদ পড়ে আয়াতের বাণীর খুব কমই বোঝা যায়,  কারণআরবি থেকে বাংলা অনুবাদ করার সময় অনেক আরবি শব্দের প্রকৃত  অর্থ,  অর্থের ব্যাপকতা এবংপ্রেক্ষাপট হারিয়ে যায়। অন্যদিকে তাফসীরগুলো হচ্ছেচরম পর্যায়ের ভাব সম্প্রসারণ, যা পড়ার ধৈর্য অনেকেরই হয় না। একারণে আমাদের দরকার মাঝামাঝি এমন একটা কিছু, যেটা কুরআনের অনুবাদের মতো সংক্ষিপ্ত, অপর্যাপ্ত নয় এবং একই সাথে তাফসীরের মতো এত দীর্ঘএবং  খুঁটিনাটিতে ভরা নয়; যেটা কুরআনের প্রতিটি আয়াতেরবাণীকে অল্প কথায়, যুগোপযোগী উদাহরণ দিয়ে, বৈজ্ঞানিক যুক্তি এবং প্রমাণ দিয়ে প্রাঞ্জল বাংলায় তুলে ধরে , যা পড়ে আধুনিক যুগের মানুষ তাদের জীবনের ঘটনারসাথে  মিলাতে পারবেন। এটিকোনো তাফসীর নয়, বরং প্রসিদ্ধ তাফসীরগুলো থেকে  উল্লেখযোগ্য এবং আজকের যুগের জন্য প্রাসঙ্গিক আলোচনারসংকলন।

মাত্র ৬ মেগাবাইটেরকোরানের উপর বাংলা ভাষায় অসাধারণ অনেকগুলো আলোচনা স্থান পেয়েছে ।
সত্যি  এটি আপনার জীবনে কোরানেরপ্রতি দৃষ্টিভংগি বদলে দিবে। এতদিনে যেই কোরানকে নিরস মনে হত আজথেকে  সেটাপ্রাণোজ্জল মনে হবে, মনে হবে এতো আমাদের কথাই বলা হচ্ছে, এটা চৌদ্দশত বছরের সেইপ্রাচীন কোরআন আজকের কোর’আননই  মনে হবে। যেই কোরআনকে পড়তে আমাদের এত অনীহা ছিল, সেই কোরআন ইআজকে আত্মার বাধনে আধ্যাত্বিকতায় মিলিয়ে যাবে, হবে আপনার সাথে এক অমূল্য বন্ধনেআবদ্ধ।

এখানে বিশেষত সেইসবরেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে তারা সবাই কোরানের উপর অনেক বিস্তৃত, গভীর ও আধুনিক কাজকরেছে। উস্তাদ নোমান আলি খান থেকে মূল  প্রেরণা নেওয়াহয়েছে এবং সেই সাথে উস্তাদের উল্লেখ করা অন্যান্ন অনেক স্কলারদের তাফসীর থেকেওসাহায্য নেওয়া হয়েছে।
আরো যেসব লেখক থেকে সাহায্য নেওয়া হয়ছে তাদের মধ্যে মুহাম্মাদ আসাদ(তাঁরব্যাখ্যা আধুনিক ধারার মনে করা হয়), মুহাম্মাদ মোহার আলি(কোরআনের শাব্দিক অনুবাদেরজন্য বিখ্যাতগ্রন্থ), আমিন আহসান ইসলাহি(ফারাহির উত্তরসূরী যিনি কোরআনের নাজম-Coherence(সংগতি, ঐক্যতান, মিল)এর উপর তাঁর তাদাব্বুরে কোরআন-যারা উস্তাদ নোমান আলী খানে ড্রিম তাফসীর শুনেছেন তারা বুঝতে পেরেছেন উস্তাদ কতবেশি সাহায্য নিয়েছেন এটার), ড: ইসরার আহমেদ(পাকিস্তানের বিখ্যাত ও গভীর তাফসীরকারক যিনি ২০টি কোরআনের তাফসীর থেকে তাফসীর করেছিলেন-নোমান আলী খান সেখান থেকেতাঁর তাফসীরে প্রচুর সহায়তা নিয়ে থাকেন, বিশষত যেখানে উস্তাদ নিজেও সমস্যার মধ্যেথাকেন বা বুঝতে অসুবিধায় পতিত হন), আব্দুল হালিম(কোরআনের সর্বাধুনিক অনুবাদক)সহঅনেকগুলো তাফসীরের বাংলা ভাষায় প্রাসংগিকতা, গভীরতা, ও কোরআনের অসাধারণ মুজিজাসমূহতুলে ধরেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সম্ভব হলে প্রিন্ট করে বইআকারে বাধাই করে পড়তে পারেন...এটা পড়ার ক্ষেত্রে আরো বেশী মনোযোগ আনবে...সাথেঅসাধারণ কোরআনের উপর অনেকগুলো চমৎকার লেখা পাচ্ছেন।

ডাউনলোড করুন এখান থেকে -


http://quranerkotha.com/Quraner%20Kotha%20upto%20June%2030.pdf

-----------

মূল সাইট - http://quranerkotha.com/
উস্তাদ নোমান আলী খানের ড্রিম তাফসীর - http://www.nakcollection.com/download-tafsir.html
Coherence এর জন্য একটি উদাহরণ দেখুন শাইখ আব্দুন নাসির জাংদার - http://www.youtube.com/watch?v=dWFdF44opPg (Salah and Marriage)
দেখুন - আমার কু’রআন পড়তে ভালো লাগে না - http://tinyurl.com/p558voo

0 comments
Labels: , , ,

মুসলিমদের দায়িত্ব

সূরা আন-নিসা আয়াত ১৬৫: “রাসুলরা ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদবাহী ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শনকারী,তাদের এজন্যই পাঠানো হয়েছিল যাতে করে রাসুলদের আগমনের পর আল্লাহ্‌ তায়ালার নিকট মানবজাতির কোন অজুহাত পেশ করার সুযোগ না থাকে; সত্যিই আল্লাহ্‌ তায়ালা মহাপরাক্রমশালি ও প্রজ্ঞাময়।"

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতাল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।

আজকের সংক্ষিপ্ত অনুস্মারক বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ্‌ সুবহানাহুওয়াতায়ালা সূরা নিসা আয়াত ১৬৫ তে আমাদের যা বলেছেন তা অনেক শক্তিশালী। “রাসুলরা ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদবাহী ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শনকারী”। অবশ্যয় আমরা জানি তাঁরা তা করেছেন। কিন্তু তারপর আল্লাহ্‌ বললেন আমাদের যে কেন তিনি তাঁদের পাঠিয়েছিলেন “যাতে করে রাসুলদের আগমনের পর আল্লাহ্‌ তায়ালার ওপর মানবজাতির কোন অজুহাত খাড়া করার সুযোগ না থাকে”।অন্যভাবে বলা যায় রাসুলদের পাঠানোই হয়েছে যাতে মানবজাতির কোন অজুহাত না চলে আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুওয়াতালার পথ থেকে সরে যাওয়ার। এই কারণে রাসুলদের পাঠানো হয়েছে।এটা আসলেই অনেক কঠিন। এটা এই রুপ যেন আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুওয়াতায়ালা বলছেন “ ইনিই সেই রাসুলুল্লাহ , শেষ নবীকে পাঠানো হয়েছে মানবজাতির আর কোন অজুহাত চলবেনা। ইনিই শেষ নবী"।

আপনি কি জানেন এটার মানে একজন মুসলিমের জন্য কি দাড়ায়?এটার মানে এই দুনিয়াতে যদি কেউ মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে না চিনেন উনি আসলেই কেমন তা না জানেন , তিনি তেমন নয় যারা তাকে ঘৃণা করে তারা যেভাবে উপস্থাপন করেন, তেমন ও নয় মিডিয়া অন্যের সামনে তাঁকে যেভাবে তুলে ধরে বরং তারা তো জানেনই না উনি সত্যিকারে কেমন, কিন্তু তিনি আসলেই কেমন তা যদি আমরা না জানি এটা আমাদের বহন করতে হবে কারন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিশনের বাহক।

কিন্তু এখন মানবজাতির কোন বিকল্প পথ নেই। কোন অজুহাত ও নেই। এই কারনেই রাসুলদের পাঠানো হয়েছিল। যদি রাসুলদের শুধু মাত্র তাঁদের জাতির জন্য প্রেরন করা হত তখন তাঁদের কাজ হত তাঁদের জাতির প্রত্যেকে সংবাদটি পেয়েছে এটি নিশ্চিত করা। এবং যেহেতু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠানো হয়েছে সব মানুষের জন্য, পুরু মানবজাতির জন্য, তিনি সব মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছাতে পারেন নি, তিনি কখনো চায়নার লোকদের সাথে কথা বলেন নি,তিনি কখনো ইন্ডিয়ার লোকদের সাথে কথা বলেন নি,তিনি কখনো ইউরোপের লোকদের সাথে কথা বলেন নি। উনার মিশন এরাবিয়ান পেনিনসুলাতে সীমাবদ্ধ ছিল, এবং সামান্য সংখ্যক যোগাযোগ তিনি অন্য জাতির সাথে করতে পেরেছিলেন চিঠির মাধ্যমে। এই টুকুই। তার সেই দায়িত্ব যেহেতু তিনি মানবজাতির শেষ রাসুল তার বার্তা গুলো আল্লাহ্‌ সংরক্ষণ করে রেখেছেন এবং এটি সংরক্ষিত থাকবে শেষ বিচারের দিন পর্যন্ত। তিনি কুরআন ঠিক সেভাবেই সংরক্ষন করে রেখেছেন যেভাবে তিনি রেখে গিয়েছিলেন। তিনি এটা এভাবে সংরক্ষন করে রেখেছেন যাতে আপনি এবং আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংবাদ বাহক হতে পারি। মানবজাতির কোন অজুহাত থাকা উচিত না। এই কারণে আল্লাহ্‌ সুবাহানাহুওয়াতায়ালা রাসুলদের নির্বাচন করেছেন। এবং এই আয়াতে আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা সরাসরি আমাদের সংযোগ স্থাপন করছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিশনের সাথে। এটা খুব খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়াত। তাই আমি চায় আপনারা ভাবুন, মুসলমানেরা, রাসুলদের সময়ের লোকেরা এবং বাকি মানবজাতি, শেষ বিচারের দিন আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়াতায়ালা জিজ্ঞেস করবেন তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে “ তুমি কি তাদের সংবাদ পৌঁছে দিয়েছিলে”? এবং তিনি বলবেন “হ্যাঁ”। এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়াতায়ালা মানুষকে জিজ্ঞেস করবেন “ তোমরা কি সংবাদ গ্রহন করেছিলে”? তারা হয়ত বলবে “না”।

এদের মাঝে কারা আছি? আমরা। তারপর আল্লাহ্‌ সুবাহানুহুওয়াতায়ালা আমাদের দিকে মানে মুসলিমদের দিকে ফিরবেন এবং জিজ্ঞেস করবেন “তোমরা কি রাসুলের বানীগুলো পৌঁছে দাওনি”? এবং আমরা তখন তাঁকে বলবো “আসলে আমরা ব্যস্ত ছিলাম, আমাদের এত সময় ছিলনা”, অথবা আমরা মুখে বলেছি কিন্তু আমাদের চরিত্রে তা প্রকাশ পায়নি। এটাই পরীক্ষা। আমাদের অবস্থা স্যন্ডউইচের মত হয়ে যাবে। একদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলবেন “আমি আমার কাজ করেছি তারা দায়ী” । অন্য দিকে মানবজাতি বলবে “ আমরা কোন সংবাদ পাইনি। এই লোক গুলো! আপনি চান আমরা তাদের অনুসরণ করি?আপনি কি দেখেছেন মুসলিমরা কিরকম আচরণ করত? কারন আমরা জানি তারা কিরকম আচরণ করত। আমরা জানি তারা কিরকম ব্যবসা করত।আমরা কেন তাদের মত মুসলিম হতে চাইবো”?যদি তারা আমাদের উপর এই মামলা ঠুকে দেয় এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি উনার দায়িত্ব পালন করায় মুক্তি পেয়ে যাবেন তখন আমাদের কি হবে? আমরা তখন উভয় দিক দিয়ে স্যান্ডউইচে পরিনত হব। এটাকে “শাহাদা আলা আন্নাস” বলে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আপনার বিপক্ষে সাক্ষী দিবেন যদি আপনি আপনার দায়িত্ব পালন না করেন এবং আপনি হয়ত তখন মানুষের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবেন। আপনি হয়ত বলবেন “ আমরা সংবাদ পৌঁছে দিয়েছি”। মানুষ জানত ইসলাম কি যদিও আমরা মুখে কিছু বলিনি।মুসলিমদের সন্নিকটে থেকেই তারা জানত ইসলাম কি এবং এর বৈশিষ্ট কি,এর নৈতিকতা ও ভিন্নতা কি, মুসলিমদের নীতি সমুহ কি। এবং যদি তারা না জানে আমরা ফাঁদে আটকে যাব। আমরা ফাঁদে আটকে যাব। আল্লাহ্‌ সুবাহানুহু ওয়াতায়ালা বলবেন তাই মানুষের কোন অজুহাতই থাকবেনা রাসুলদের আগমনের পর। এবং আল্লাহ্‌ তায়ালা মহাপরাক্রমশালি ও প্রজ্ঞাময়। আল্লাহ্‌ তায়ালা সবসময় মহাপরাক্রমশালি এবং আল্লাহ্‌ তায়ালা সবসময় প্রজ্ঞাময়। 


আল্লাহ্‌ জানতেন যে রাসুলরা মানুব জাতির জন্য যথেষ্ট হবে।

তাই এখন যখন লোকেরা বলেন “ এই ধর্মকে নির্বাচন করার মত যথেষ্ট পরিমান যুক্তি আমাদের কাছে ছিল না”। এই দোষের কিছু অংশ তাদের উপর বর্তায় আর কিছু অংশ মুসলিম জাতির উপর বর্তায় যারা তাদের কাজ ঠিক মত করে নি। এটা আমাদের জন্য চিন্তা করার মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । আমরা যদি সংবাদ বহন না করি, আমি বলছিনা আমাদের সবারই বাইরে বের হতে হবে এবং প্রচারক হতে হবে, আমি এটা বলছিনা, আমি যেটা বলছি তা হল যদি আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইসলামের আলোকিত বৈশিষ্টগুলো ধারন না করি, আমরা যদি এটাই না জানি আমাদের বইতে প্রথমে কি আছে, এখনকার সময়ে আপনার কাউকে গিয়ে দাওয়া দিতে হয়না, মানুষ নিজ থেকে এসেই জিজ্ঞেস করে “ তোমরা মুসলিম? তোমরা নামায পড়? তোমরা কিভাবে নামায পড়? তোমরা কি কি করো”?
আমার বাড়িতে কিছু কাজ ছিল এবং এক লোক সে পেইন্টিং করে সে জিজ্ঞেস করলো “এটা কিসের পেইন্টিং”। আমি তাকে বললাম “এটা প্রার্থনার পেইন্টিং”।

তারপর আমরা নামায নিয়ে আলোচনা শুরু করলাম। আমি তাকে দাওয়া দি নি। সেই নিজ থেকে আমার কাছে দাওয়া চেয়েছে। এটাই আমি বলছি। সুযোগটা এখানেই। আমাদের এভাবেই এগুতে হবে, তাই আমি প্রার্থনা করি যে আমরা এভাবে এগুতে সক্ষম কারন মানবজাতির যদি কোন অজুহাত না থাকে তাহলে অবশ্যই এটার পিছে কারন আপনি আমি এবং যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেন, যারা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন তাদের প্রচারনার কারণেই।
চূড়ান্ত কথা।

এটা খুবই সুন্দর। আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়াতায়ালা সব রাসুলদের পাঠিয়েছেন এবং তিনি তাদের ধারা ও বর্ণনা করেছেন, তারা সুসংবাদ দিয়েছেন এবং সতর্ক ও করেছেন। তিনি আগে কোনটা উল্লেখ করেছেন? তারা সুসংবাদ দিয়েছেন। আমাদের ভালো সংবাদের বাহক হতে হবে। আমাদের কাউকে এটা বলতে হবেনা যে তারা জাহান্নামে যাচ্ছে, আমাদের কাউকে এটা বলতে হবেনা যে তারা দণ্ডপ্রাপ্ত। এভাবে আপনি ইসলামের সংবাদ পৌঁছাতে পারবেন না। এটা আশার সংবাদ। এটা আশাবাদের সংবাদ। এবং এখন যদি মুসলিমরা নিজেদের নিয়ে আশাবাদী না হন, আশা পূর্ণ না হন, অনেক মুসলিম যাদের সাথে আমি কথা বলেছি তারা সত্যি বিশ্বাস করে তারা জাহান্নামে যাবে, তারা জান্নাতে যাওয়ার মত নিজেদের যোগ্য মনে করেনা। “ জান্নাত হল খুব খুব ভালো মানুষদের জন্য। এটা আমাদের জন্য না”। আপনি যদি নিজেকেই বিশ্বাস না করেন তাহলে অন্যদের কি করে বুঝাবেন?অন্যদের কে কিভাবে পথ দেখাবেন? রাসুলরা এসেছিলেন সুসংবাদ দেয়ার জন্য। প্রথমে সুসংবাদগুলো নিজেদের মধ্যে ধারন করুন তাহলে আপনি অন্যদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন।

বারাকাল্লাহু লি ওয়ালাকুম, ওয়া-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।


.https://www.youtube.com/watch?v=elZWWknsrtA...
ভিডিওটি অনুবাদ করে দিয়েছেনঃ তাসনিম সুসান আযাদ 

0 comments
Labels: , , ,

কিভাবে আমার চরিত্রের উন্নতি করবো?

প্রথম কথা হল হারাম কাজ পরিত্যাগ করা। মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা। মন্দ কাজ থেকে বিরত হবার আগ পর্যন্ত ভালো কথা বলতে যেও না। কারণ তুমি শরীরের ক্ষতস্থানে রক্ত প্রবাহিত অবস্থায় ঔষধ দিলে সেটা ফলপ্রসু হবে না আর মন্দ কাজ বা পাপ থেকে বিরত না হয়ে ভালো কথা বললেও সেটা ফলপ্রসু বা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম তোমাকে আনন্দের মধ্য দিয়ে যে বদ অভ্যাস গড়ে তুলেছ তা থেকে বিরত থাকতে হবে। মুভি দেখা বাদ দিতে হবে, রাস্তায় চলমান অবস্থায় চক্ষুকে অবণত করতে হবে-কারণ নারীর প্রতি তোমার প্রত্যেকটা চাহনির সাথে তোমার মানবিক গুনকে নষ্ট করে ফেলছ। তুমি একজন নারীর দিকে এমনভাবে তাকাও যেন সে একটা খাবারের টুকরা, যেন সে একটা প্রাণী- আর এটাই প্রমাণ করে যে তুমি একজন মানুষকে তাঁর মানবিক অবস্থানমূলক সম্মানের জায়গাকে অপমানিত করছ। এটাই প্রমাণিত করে যে তুমি নিজেই এক প্রাণীতে পরিণত হয়েছ।

সুতরাং চারিত্রিক উন্নতি করতে হলে তোমাকে অবশ্যই প্রথমে সেই মানবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তারপর তোমার জীবনকে ভালো কাজ দিয়ে সুশোভিত কর, তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত কর।
নিজেকে ভালো করে গড়ে তুলার ক্ষেত্রে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে থাকো – যেমন , সুন্দর ও পারফেকটভাবে সালাত আদায় কর, কিছু প্রয়োজনীয় দোয়া মুখস্ত করা, কাজের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা, পিতা-মাতার প্রতি সদয় হওয়া। আর এগুলো তেমন কিন্তু তেমন কঠিন কাজ নয় - চাইলেই পারো।

আল্লাহ আমাদের কাছ থেকে এইগুলোই প্রত্যাশা করেন।

কেউ প্রশ্ন করতে পারে আল্লাহ কেন আমাদের কাছে এগুলো প্রত্যাশা করেন, এগুলো কি তাঁর কোন উপকারে আসে?

এর উত্তরে বলা যায়- আমরা জানি আল্লাহর একটি নাম হল “গনী” যার অর্থ যিনি ধনী, এমন ধনী যে যার আর কোন কিছুরই দরকার নেই কারো কাছে। অর্থাৎ চূড়্রান্ত ধনী। তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে আল্লাহর আমাদের কাজ দরকার? নাহহহহ।

তাহলে?

বরং একাজগুলো আমাদেরই দরকার, কারণ আমরাই কিন্তু দূর্নীতিগ্রস্থ, আমরাই পাপী, আমরাই মন্দ কাজ করে আমাদের চরিত্রকে ধ্বংস করে ফেলেছি। এ কারণেই আল্লাহ এসব ভালো কাজ করতে বলেছেন যাতে তুমি উত্তম হতে পারো, হতে পারো ধনী-তিনি তোমার চাহিদা পূরণ করে দিবেন, তোমার উপর রহমত ও দয়া বর্ষণ করবেন।

ভালো কাজ আমাদের শুধু উপকারই করে না বরং এগুলো আমাদের জন্য ঔষধস্বরুপ; কিন্তু এর অধিক উপকারিতা হল এই যে - ভালো কাজ আমাদের দুনিয়াতেও উপকার করে আবার আখিরাতেও বোনাস হিসেবে উপকার করবে। সুবহানাল্লাহ !!

যেমন তুমি তোমার মায়ের প্রতি অসত ছিলে, মন্দ ছিলে কিন্তু যখনই তুমি সৎ ব্যবহার করতে শুরু করলে তোমারও জীবনে কল্যাণ আসতে শুরু করল। এটা তোমার মায়ের প্রতি ভালো ব্যবহারের একটা প্রতিদান দিয়েছেন আল্লাহ।

এভাবে তুমি যতই তুমি ভাল কাজ করবে, সেই ভালো কাজগুলো তোমার আরো বেশি কল্যাণের পথ দেখিয়ে দিবে। এভাবেই আল্লাহ তোমার প্রতি এই দুনিয়ার সদয় হন। যে ব্যক্তি আল্লাহর ব্যাপারে সদা-সচেতন হয়, আল্লাহ তার জন্য অবারিত ধারায় উত্তম পথের সন্ধান দিয়ে দেন, তার কল্যাণের জন্য। আল্লাহ তার জন্য এমন জায়গা থেকে প্রতিদান দেন যা সে কল্পনাও করতে পারত না- এর কারণ সে আল্লাহর ব্যাপারে সচেতন হয়েছে, আর আল্লাহও তার প্রতি সর্বদা খেয়াল রাখেন। আল্লাহ আমাদের কাছে এই ভালো কাজগুলো চান এবং এর বিনিময়ে তিনি আমাদের জীবনকে আরো উত্তম করে দেন, আরো সহজ করে দেন।

আল্লাহ তোমাদের বোঝাকে হালকা করতে চান, যেহেতু মানুষকে দূর্বল(রুপে)করে সৃষ্টি করা হয়েছে।(সূরা নিসা - ২৮)

তুমি কি মনে করো আড্ডা দিয়ে, গীবত করে , মিথ্যা বলে, ফেইসবুকে মেয়েদের সাথে চ্যাট করে জীবন সহজ হবে ? বরং তুমি তোমার জীবনকে আরো অধিক কষ্টদায়ক করছ, জীবনকে অধিক ভারী করে তুলছ।। আল্লাহ তোমার জীবনকে সহজ করতে চান, তোমার বোঝাকে নামিয়ে নিতে চান, কিন্তু তুম বুঝতে পারছ না,- কারণ তুমি খুবই দূর্বল; কিন্তু আল্লাহ ‘গানী’ বা ধনী – আর তাই ঐ ধনীর(আল্লাহর)কাছে যাও এবং তাঁর নির্দেশনা মেনে নিয়ে নিজের অভাব পূরণ কর।

# Help Taken From The Lecture - Tips To Improve Your Character by Ustadh Nouman Ali Khan

# সম্পূরক লেকচার হিসেবে শাইখ সালেম আল-আমরী এর Effects of Sins লেকচারটি অবশ্যই দেখার অনুরোধ করব। এখানে পাপের কেন করি-কারণ, পাপের বিভিন্ন ধরণ এবং বিশেষত ইবনুল কাইয়্যুম(র) এর একটি চমৎকার বই থেকে পাপ থেকে কিভাবে বেঁচে থাকা যায় সেগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে প্র্যাক্টিক্যাল উদাহরণসহ।

http://www.youtube.com/watch?v=cTM8cKGme-8

0 comments
Labels: , , ,

আপনার চরিত্রই আপনার সর্বশ্রেষ্ট দাওয়াহ।

ভাবতে পারেন কথাটুকুর গুরুত্ব কতটুকু?...কি বুঝতে পারছেন না?- এতটুকুই জেনে রাখুন যে মানুষের এই চারিত্রিক ব্যবহারের কারণেই কেউ জান্নাতে যাবে আবার কেউ বা জাহান্নামে যাবে--- এবার কিছুটা উপলব্ধি করতে পারছেন তো।

রাসূল (সা) এর ঐ হাদীসটা মনে আছে না – এক ব্যক্তি রাসূল (সা)কে প্রশ্ন করল হে আল্লাহর রাসূল(সা)- একনারী সালাত আদায় করে প্রচূর, যাকাতও দেয় এবং অন্যান্ন নফল আমলও করে প্রচূর কিন্তু সাথে প্রতিবেশির সাথে দূর্ব্যবহারও করে- তার ব্যাপারে আপনার মত কি? – রাসূল (সা) বললেন – সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

আবার জিজ্ঞেস করলেন – একনারী ফরজ সালাত আদায় করে, ফরজ যাকাত দেয় এবং অন্যান্ন ফরজগুলোও ঠিকমত আদায় করে কিন্তু নফল তেমন করে না এবং প্রতিবেশির সাথে উত্তম ব্যবহার করে, তার ব্যাপারে আপনার মত কি? – রাসূল (সা) বললেন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

রাসূল (সা) এর মাঝেই আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে তাই না? – সেই আদর্শ কি?

--চারিত্রিক সৌন্দর্য ও গুনাবলীর পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি। – মুয়াত্তা ইমাম মালেক

--নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত। (সূরা কালাম-৪)

--নিঃসন্দেহে কিয়ামতের দিন মু’মিনের পাল্লায় যে জিনিসটি অধিক ভারী হবে তা হলো উত্তম চরিত্র। আর নিঃসন্দেহে আল্লাহ অশ্লীলভাষী ও নির্লজ্জ ব্যক্তির প্রতি শত্রুতা পোষণ করেন। – তিরমিযী

--মুমিনদের মধ্যে পরিপূর্ণ ঈমানদার হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। (আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী)

এখন আমরা যারা ফেইসবুক ব্যবহার করি, বা কাউকে পছন্দ করি না --- এইসব ব্যবহারের দিকটা কি লক্ষ করেছি? – ফেইসবুকে কেউ কারো সাথে দ্বিমত করলেই কাফির ফতোয়া দেই, ইহুদিদের দালাল বলে ঘোষণা দেই, মন্দ ব্যবহার করি, গালি দেই... আপনি কি রাসূল (সা) কে দেখেছেন কখনো কারো সাথে মন্দ ব্যবহার করতে? – নাহহহহ। তাহলে তিনি যদি আদর্শ হন আমাদের- তাহলে ফেইসবুকে গালি দেই কেন?, দ্বিমত পোষণ করলে তার সাথে মন্দ ব্যবহার করি কেন? অথচ আপনি জানেন মন্দ ব্যবহারের কারণে মানুষ জাহান্নামে যাবে...

আরবীতে তথ্যের কোন উপকার নেই জানেন? একারণে আপনি ঈমান আনার সাথে সাথে আমালের কথা বলা হয়েছে কোরআনের অনেক আয়াতে। আপনি ঈমান আনলেন, আপনার কাছে প্রচূর ইসলামী জ্ঞান আছে ...আপনার কোন লাভ নেই যদি তা পালন না করেন।

সর্বশেষ আরো একটি হাদীস মনে রাখুন – রাসূল (সা) বলেছেন ; কিয়ামাতের দিন সর্বনিকৃষ্ট হবে ঐ ব্যক্তি যার কর্কশভাষার জন্য(মন্দ ব্যবহারের কারণে) লোকেরা তাকে এড়িয়ে চলবে।

(অথচ আপনি এখান থেকে দুটি জিনিস অর্জন করতে পারেন – কেউ আপনার প্রতি মন্দ ব্যবহার করলেও তার প্রতি মন্দ ব্যবহার না করে উত্তম চরিত্র অর্জন করা এবং সবর শিক্ষা করা – দুটী সাওয়াব পাচ্ছেন)।

আল্লাহ আমাদের উত্তম চরিত্র অর্জন করার তাওফিক দিন।

0 comments
Labels: , ,

মিউজিক \ গান কি এতই খারাপ...?

আমার মতে, বর্তমান সময়ে মিউজিক হল নৈতিক অবক্ষয়ের অন্যতম সহজ উপায়। বর্তমানে মিউজিক হল অডিও পর্ণগ্রাফি। এটা সত্যিই তাই। এটা স্পষ্টতই অশালীন এবং অভদ্র। এটা আপনার মধ্য থেকে মনুষ্যত্ব দূর করে দেয়, এটা আপনাকে নারীকে ভোগ্যপণ্য ভাবতে শিখায়, এমনকি ভোগ্যপণ্য থেকেও নিকৃষ্ট ভাবতে শিখায়। পশুর চেয়েও খারাপ ভাবতে শিখায়। এরা নারী সম্পর্কে এমন ভাবে কথা বলে যেন নারীরা পশু। সত্যি। এটা নারীকে ভোগ্যবস্তু রূপে পেশ করে, আমি বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করেছি যে, আমার পরিচিতদের মাঝে অনেকেই এমন যারা মুসলিম, কিন্তু তারা “হিপ হপ” সংস্কৃতিতে আকৃষ্ট। তাদের অনেকেই গানগুলো হিফয বা মুখস্ত করে ফেলে, তাইনা? তারা গানগুলো মুখস্ত করে এবং পূর্ণ তাজ্বীদ এর সাথে গানগুলো গাইতেও পারে, তাইনা? এবং তাই তারা এটা করে এবং গান গুলোর ভাষা খুবই কদর্য, খুবই ভয়াল, ভয়াল, ভয়াল নিম্নমানের ভাষা। 

আপনাদের কি আর বলব, আমার একমাত্র মতামত এটাই যে, আপনার যদি আল্লাহের কিতাবের প্রতি বিন্দুমাত্রও শ্রধা থাকে, যদি আপনি সত্যি বিশ্বাস করেন যে এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে, “বি সালিস্মুল ফুসুকু বা’দাল ঈমান”, এমন কি খারাপ জিনিষ এর নাম, এর উল্লেখ, এ শব্দ ব্যবহার করাও ভয়াবহ, যদি আপনার বিশ্বাস থেকে থাকে। এমনকি কোন ভয়ানক খারাপ জিনিষ এর উল্লেখ করাও আপনার জন্য ক্ষতিকর, যদি আপনার বিশ্বাস থেকে থাকে। আপনার জিহব্বা/ভাষা অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে। আপনাকে বলতে হবে- “কুল্লি ইবাদুল ইয়াকুলুললাতি হিয়া আহসান” – আমার বান্দাদেরকে বলুন তাই বলতে যা সবচেয়ে ভাল। সবচেয়ে ভাল কথা বলুন। আপনার জিহবা দিয়ে ভাল কথা বলুন। এটাই হল প্রথম ধাপ। যখন আপনি কদর্য কথা বলেন এবং এমন কথা বলেন যা আমাদের জন্য আল্লাহের নির্ধারিত নৈতিক মাপকাঠির সরাসরি বিপরীতে, তখন খুব স্পষ্টতই আপনি আপনার স্বাভাবিক বিশ্বাস থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন, আল্লাহের পথে চলার প্রবণতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। আপনি যখন বিরতিহিন ভাবে এসব আবর্জনা শুনতে থাকেন, তখন আপনি পথভ্রষ্ট হয়ে যান, তখন আল্লাহ কে অমান্য না করলে আপনার ভাল লাগেনা, আর এটাই হল হৃদয়ের অসুখের লক্ষণ। তাই অবশ্যই তাকে এর থেকে দূরে আস্তে হবে। এটাই প্রথম পদক্ষেপ। 

আমি আপনাদের কে বলব, যদিও এটা আমার ব্যক্তিগত বিবেচনা, এটা কোন ফতওয়া নয়, এটা আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ, আপনাকে এটা মানতেই হবে এমন নয়, কিন্তু যদি কোন মানুষের দীর্ঘদিন “হিপ হপ ” মিউজিক আর এটা ওটা শোনার পর তার কাছে কুরআন শুনাকে বিরক্তিকর মনে হয়, যখনই কেউ গাড়িতে কুরআন তেলাওয়াত চালু করে, জানেন তারা কি বলে? “ওহ এটা বন্ধ কর, আমি শুধু কথা বলতে চাই”। আর কুরআন শোনা মাত্রই তারা তাৎক্ষনিকভাবে বিরক্ত হয়ে উঠে, এর আসল মানে হল তারা শয়তানের কব্জায় চলে গেছে, এবং তারা বিরতিহীন ভাবে এই মানুষটিকে কুবুদ্ধি দিচ্ছে। শয়তান কন জিনিষটিকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে? তারা কুরআন কে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে। তারা আল্লাহের বানীকে ঘৃণা করে। তারা পালিয়ে যায়- কারন এটা তাদের জন্য ক্ষতিকর। তাই তারা কি করে জানেন? যেহেতু মানুষটি এদের কব্জায় আছে, এর হৃদয় তাদের কব্জায় আছে, তারা তার হৃদয়ে খোঁচা দিতে শুরু করে যখন সে কুরানের বানী শুনে, আর সে বলে “আহহ আমি এটা শুনতে চাইনা”। এটা সার্জারি করার মত, এটা যেন দাঁত তোলার মত যন্ত্রণাদায়ক মনে হয়। এটা সত্যিই ঘটে। আপনি যখন এরকম মানুষকে আল্লাহের বানীর কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন, তারা বিরক্ত হবে, উত্তেজিত হবে, যেন তাদের এটাতে এলারজি আছে। এর কারন? কারন তারা শয়তান কে তাদেরকে কব্জা করার সুযোগ দিয়েছে। তাদেরকে বিতাড়িত করতে হলে, প্রথমে যে কাজটি করতে হবে তা হল, তাদেরকে জ্বালানি সরবরাহ করা থেকে বিরত হওয়া। মিউজিক এর জ্বালানী। এভাবে উদ্দেশ্যহীন সময় নষ্ট করাটাই, শয়তান এর জ্বালানী। 

তারা এটাই পছন্দ করে যে, আপনি যেন সময় নষ্ট করেন। তারা এটাই ভালবাসে। কারন, আল্লাহ সমগ্র মানবজাতিকে একটি মাত্র সম্পদ, শুধু একটি মাত্র সম্পত্তি প্রত্যেককে দিয়েছেন, আর তা হল সময়। আর মিউজিক, টিভি, ইউটিউব, ফেসবুক, মাই স্পেস, টুইটার এসব কি? আপনি যদি এগুলোর পিছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করেন, এটা আপনার সময় নষ্ট করা ছারা আর কি হতে পারে? এটা আপনার সম্পদকে নষ্ট করে দিচ্ছে, আর শয়তান এর থেকে অন্য কোনকিছুই বেশি ভালবাসেনা। আল্লাহ’তালা আপনাদেরকে এই ধরনের প্রবৃত্তি থেকে বিরত থাকার শক্তি দান করুন। আমার পরামর্শ হল, আমি বার বার এই পরামর্শই দেই, তা হল- ভাল বন্ধু জোগাড় করুন। এমন বন্ধু জোগাড় করুন যারা এসবে আসক্ত নয়, এবং তাদের সাথে বেশি বেশি সময় কাটান। ইনশাল্লাহ আপনি নিজেকে এ ধরনের অভ্যাস থেকে মুক্ত করতে পারবেন।

0 comments
Labels: , , ,

সালাতঃ ব্যক্তিত্ব পরিবর্তনকারী এক ইবাদাত

হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার ইবাদাত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা আল-হাজ্জঃ আয়াত ৭৭)

(এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলছেন) আমি তোমাদের শিখিয়ে দেই কিভাবে আল্লাহকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হয়। ঠিক এভাবেই আল্লাহর মর্যাদার যথাযথ মূল্যায়ন করতে হয়। রুকূ’ কর এবং সিজদাহ কর। এই দুটি কাজই কিসের প্রতি ইঙ্গিত করছে? সালাত।

(আল্লাহ বলছেন) তোমার উচিত আমাকে যথোপযুক্ত স্বীকৃতি দেওয়া। আর এর জন্যে প্রথম পদক্ষেপ হল সালাত আদায় করা

আমরা আমাদের নামাযকে কতটা গুরত্ব দেই তা থেকে বুঝা যায় আমরা আল্লাহকে কতটা মর্যাদা দেই। আমরা কতটা সক্রিয় এবং সতর্ক ঘুম থেকে উঠে নামায পড়ার ব্যাপারে, মসজিদে যেতে কতটা আলসেমি লাগে, কুর'আনের তিলাওয়াত আকর্ষণীয় না হলে আমরা কতটা বিরক্ত অনুভব করি... এসব ব্যাপারই বলে দেয় আল্লাহর কাছে আমাদের অবস্থান কোথায়।

যে আসলে নামায সম্পর্কে জানে না, মুসলিমদের প্রার্থনার ব্যাপারে যার কোন ধারণা নেই... একজন Non-Muslim, সে যদি হঠাৎ করে কিছু মুসলিমদের নামায পড়তে দেখে তবে সে খেয়াল করবে এই মানুষগুলো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে অর্থাৎ তারা কারও প্রতি তাদের হীনাবস্থা প্রকাশ করছে। এরপর তারা মাথাসহ অর্ধেক শরীর ঝুঁকিয়ে ফেলে। ওয়াও! তারা আরও বিনয়ী হয়ে উঠেছে। তারপর যখন তারা দাঁড়িয়ে পড়ে এরপর কী হয়? সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে! তারা সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করছে! অন্য কথায় সে খেয়াল করবে আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে তারা প্রতিনিয়ত অগ্রসর হচ্ছে... তারা যার ইবাদত করছে তাঁর প্রতি তারা আরও বেশি আজ্ঞাবহ হচ্ছে।দেখে মনে হবে তারা তাদের প্রভুকে সম্মান প্রদর্শন করছে...আরও সম্মান প্রদর্শন করছে... আরও বেশি সম্মান প্রদর্শন করছে। সালাতের এই অগ্রসরতা আমাদের শিক্ষা দেয় যে আল্লাহর প্রতি আমাদের বিনয়াবনত অবস্থা বেড়ে উঠা উচিত, বিকশিত হওয়া উচিত।

মূল ধারণাটি হল, আমরা আল্লাহর যত ইবাদত করবো ততোই বিনয়ী হয়ে উঠবো। আর বিনয়ের সর্বোচ্চ অবস্থা ছিল সিজদাহ।এরপর যা করা উচিত... কারণ এই দুটি জিনিস (রুকূ ও সিজদাহ) মূলত সালাতের প্রতিই নির্দেশ করে। কিন্তু নামাযের মধ্যবর্তী অবস্থা গুলোতে কী করা উচিত? “নিজেদের আল্লাহর দাস হিসেবে দায়বদ্ধ কর এবং তোমাদের রবের ইবাদত কর” - অন্য কথায় রুকূ’ এবং সিজদাহ করা তো হল এখন নামায তো একমাত্র ইবাদত নয়। আপনারা জানেন ইবাদতের মানে এর চেয়ে অনেক বেশি।

ইবাদত এক ধরনের জীবনাচরণ। আমি একজন দাস। আমি এখানে দাসত্বের জন্যে এসেছি। আমি যেভাবে হাঁটি, যেভাবে কথা বলি, যেভাবে নিজের ব্যাপারে চিন্তা করি, অন্যের ব্যাপারে চিন্তা করি - এসবই ইবাদত। আপনার সম্পূর্ণ আচার-আচরণ পরিবর্তন হয়ে যায় নামাযের কারণে। নামায একজন মুসলিমের ব্যক্তিত্বের বড় একটা অংশ, কেবল তার আচরণের নয়। আমরা নামাযকে মুসলিমদের আচরণ হিসেবে দেখি। কিন্তু আসলে, দৈনন্দিন নামায আদায়ের কারণে এর সরাসরি প্রভাব থাকা উচিত আমাদের চিন্তাধারায়, আচার-আচরণে, আমাদের মানসিকতায়।

জোহর এবং আসর নামাযের মধ্যবর্তী সময়টা তে আমার চিন্তা প্রভাবিত হয়ে থাকবে জোহর নামাযকে ঘিরে। আসর এবং মাগরিব নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে আমার চিন্তাধারা অগ্রাধিকার পাবে আসর নামাযকে ঘিরে। এই পথেই একজন মুসলিম নিজেকে ইবাদতকারী হিসেবে পরিচিত করে। ইবাদতের মনোভাব গড়ে তোলা - নামাযের কাজ হল এটাই।

আপনারা দেখেছেন স্তম্ভগুলো একটা দালানকে কিভাবে ধরে রাখে? নামায আমাদের দিনকে সেভাবে ধরে রাখে। আর নামাযের মধ্যবর্তী সময়টা বলে দেয় আমাদের নামাযের মান কেমন ছিল। সালাত যদি অনুভবশূন্য হয়ে পড়ে, নামায যদি কেবল হৃদযন্ত্রের ব্যয়াম হয়ে পড়ে, নামায যদি কেবল সূরা ইখলাস আর সূরা কাওসার (সবচেয়ে ছোট সূরা) এর রিভিউ সেশন হয় কারণ আপনার হাতে এর চেয়ে বেশি সময় নেই।নামায যদি কেবল এতেই সীমাবদ্ধ থাকে তবে আপনি আপনার ব্যাক্তিত্বে কোন পরিবর্তন দেখতে পাবেন না।

0 comments
Labels: , ,

আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী জীবন যাপন

"আর যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জিল এবং যা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, পুরোপুরি পালন করত, তবে তারা উপর থেকে এবং পায়ের নীচ থেকে (অর্থাৎ আসমানী বরকত এবং ভূ-গর্ভের নেয়ামত) ভক্ষণ করতো। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক লোক মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী এবং অবশিষ্ট বেশিরভাগ লোকই মন্দ কাজ করে যাচ্ছে।"

আজকের আলোচনায় সূরা মায়িদাহ এর ৬৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন, "ওয়া লাও আন্নাহুম আক্বামুত তাওরাতা ওয়াল ইঞ্জিল" - যদি ঐ লোকেরা তাওরাত এবং ইঞ্জিল প্রতিষ্ঠা করত (পুরোপুরি মেনে চলত)... আল্লাহ এখানে সেই সময়ের ইহুদি এবং খ্রীস্টানদের কথা বলছেন।

তাদের উপর তাওরাত এবং ইঞ্জিল নাজিল হয়েছিলো... যদি তারা সেই কিতাব মেনে চলত, "ওয়া মা উনঝিলা ইলাইহিম মিন রাব্বিহিম" - এবং অন্যান্য যেসব কিতাব তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে নাজিল করা হয়েছিলো সেগুলো মেনে চলত, "লাআকালু মিন ফাউক্বিহিম ওয়া মিন তাহতিহিম" - তাহলে তারা তাদের উপর থেকে আর তাদের নিচ থেকে আহার পেতো।

আল্লাহ বলছেন, যদি তুমি কিতাব প্রতিষ্টা কর, তাহলে শুধু জান্নাতেই সুখী জীবন পাবে না...যে বিষয়ে আগের আয়াতে ৬৫ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে, বরং এখানেও সুখী জীবন পাবে। তুমি উপর থেকে আর নীচ থেকে আহার পাবে। বিষয়টা এমন না যে আল্লাহর কিতাব মেনে চললে সবকিছু হারাতে হবে।

অনেক মানুষ মনে করে যদি তারা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী জীবন ধারণ করে তাহলে সে জীবন হবে দুর্বিষহ। জীবনে অনেক কিছু তাদের হারাতে হবে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন, হায় যদি তোমরা জানতে! আমি আসমানের রিযিকের দরজা খুলে দিতাম, জমিনের রিযিকের দরজা খুলে দিতাম। তোমরা শুধু সেসব ভোগ করতে, তোমরা বিলাসী জীবন পেতে... শুধু কী করতে হবে?

মাত্র একটা জিনিসই করতে হবে - আল্লাহ'র কিতাব মেনে চলতে হবে। সুবহানাল্লাহ! "মিনহুম উম্মাতুন মুক্বতাসিদাহ ওয়া কাছিরুন মিনহুম সাআ মা ইয়া'মালুন" -কিতাবী লোকদের অনেকেই ছিলো মোটামুটি ধরণের লোক। তারা খুব বেশি ধার্মিক ছিলো না। 'মুক্বতাসিদাহ' বলতে বোঝাচ্ছে যে তারা ঠিক আছে, তারা মধ্যমপন্থী। তারা ক্লাসের খুব ভালো ছাত্রও না আবার ফেল করা ছাত্রও না। মাঝামাঝি পর্যায়ের।

তার মানে আল্লাহ বলছেন যদি তোমরা মাঝামাঝি অবস্থানেও থাকতে পার তাহলেও আল্লাহ তোমাদের দেবেন। এরপর তিনি বলছেন,"ওয়া কাছিরুম মিনহুম" -তাদের অধিকাংশই- "সাআ মা ইয়া'মালুন" - তারা কতইনা খারাপ কাজ করেছে! কতইনা ভয়ানক সব কাজ করেছে। তুমি এমন কিছু লোক দেখবে যাদেরকে দেখে কখনোই মনে হবে না যে তারা কিতাবে বিশ্বাস করে। কখনোই মনে হবে না যে তারা ওহীর উপর বিশ্বাস রাখে। আমি এখানে কেবল ইহুদি আর খ্রীস্টানদের কথা বলছিনা, মুসলিমদের কথা বলছি।

আমরা কি ঐ লোকদের মত হয়ে গেছি? আমি কি ওদের মত হয়ে গেছি? আপনি কি ওদের মত হয়ে গেছেন? আমরা এমন কিছু কাজ করি যা দেখে মনেই হয় না এই লোকটা কিতাবে বিশ্বাস করে, এই লোকটা ওহীতে বিশ্বাস করে, আকাশ থেকে নাযিল হওয়া কোন গ্রন্থে বিশ্বাস করে, কোন কর্তৃপক্ষের আদেশ মেনে চলে। মাঝে মাঝে আমরা আল্লাহর বিধানের সাথে আপোস করে বসি, এরকম কিছু কথা বলার মাধ্যমে- দেখ ভাই আমাদের কাজ করে খেতে হয়... তোমারও তো কাজ করতে হয়।

আর এই আয়াতে আল্লাহ বলছেন যদি তুমি আমার কিতাব অনুযায়ী জীবন পরিচালনা কর তাহলে খুব-খুব ভালোভাবে থাকতে পারবে। ভালো জীবিকার তুমি কী বা দেখেছ? আমি তোমাকে জীবিকার এমন সব দরজা খুলে দেব যে তুমি জানতেই না যে তার অস্তিত্ব আছে। শুধু জান্নাতেই না-এখানেও! "লাআকালু মিন ফাউক্বিহিম ওয়া মিন তাহতিহিম"...আজ আমরা বলি মুসলিমরা মার খাচ্ছে। আমাদের সম্পদ ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে।

আমরা দুর্নীতিতে আসক্ত, দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক প্রয়োজনগুলো ও আমরা সঠিকভাবে পূরণ করতে পারি না। এই পৃথিবী মুসলমানদের দুর্দশায় জর্জরিত। সুবহানাল্লাহ।

কিন্তু আল্লাহ তায়ালা বলছেন যে , তোমাদেরকে যা করতে হবে তা হল – আমার দেয়া বই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা কর। তাহলে আমি বাকি সব কিছুর যত্ন নেব। তোমার অর্থনীতি ভাল হবে। সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে, চাকরি হবে, টাকা আসবে, খাবার আসবে, তোমার সন্তানের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে...।

সুতরাং এটা এমন কিছু যা আমাদের মেনে চলতে হবে। আমাদেরকে দুনিয়ার নেয়ামত প্রদান করা আল্লাহর কাছে কিছুই না। যদি আমরা জান্নাতের মানুষ হতে পারি তাহলে আল্লাহ দুনিয়াকে আমাদের পায়ের নিচে নিক্ষেপ করবেন। আর আমরা যদি এই দুনিয়ার পিছনে দৌড়াতে থাকি , এবং বস্তুগত বিষয়ের প্রতি, আমরা শুধু এই বিষয়গুলো নিয়েই পড়ে থাকি - যতক্ষণ এটা ঘটতে থাকবে আল্লাহ এই সমস্ত বিষয়গুলো ও আমাদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন। আর আপনি যদি পার্থিব এই সব অর্জন ও করেন, এটা আপনার জন্য কোন সুখ বয়ে আনবে না। এটা আপনাকে কোন প্রশান্তি দেবে না।

আর যখনি আমি-আপনি সিদ্ধান্ত নেই যে, আমাদেরকে হতে হবে পরকাল কেন্দ্রিক মানুষ, আমাদেরকে এই পৃথিবী তে পাঠানো হয়েছে মহত্তর উদ্দেশ্যে। এখানে থাকার চেয়ে ও বড় কোন উদ্দেশ্য রয়েছে আমাদের জীবনের। যখনি আমাদের এই উপলব্ধি হবে এবং আমরা আল্লাহর দেয়া বই অনুযায়ী জীবন যাপন করব, আমরা দেখতে পাব- আগে যে সব বিষয় অর্জন করা আমাদের কাছে বিশাল কিছু মনে হত তাই এখন সহজেই আমাদের কোলে এসে পড়ছে। একটার পর একটা, একটার পর একটা, সুবহানাল্লাহ।

মহান আল্লাহ তায়ালা তার রিযিকের দরজা আমাদের সবার জন্য উন্মুক্ত করুক, এমন রিযিক যা আমাদেরকে তার কাছাকাছি নিয়ে যায়, এবং জান্নাতে আমাদের বাসস্থান তৈরিতে সাহায্য করে শুধু এই দুনিয়াতে নয়।

আল্লাহ আমাকে এবং আপনাদেরকে বরকত দান করুক। আসসালামুয়ালাইকুম ও রাহমাতুল্লাহি ও বারাকাতুহ ।


 Video link:
http://youtu.be/TJXH90tpRX4

0 comments
Labels: , , ,

আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তাআলা সম্পর্কে ধারণা

আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তাআলা অসীম দয়ালু রহমান অথচ, আমারা ছোট বেলায় আল্লাহ সুবহানাল্লাহ সম্পর্কে বিকৃত ধারণা পাই। সঠিক জ্ঞানের অভাবে পরিবার, সমাজ আমাদের আল্লাহ সম্পর্কে এমন ধারণা দেয় যেন, আল্লাহ প্রতি মুহূর্তে শাস্তি দিতে অপেক্ষা করছে।

ব্যথা পেলে বলা হয়, " এইযে আমার কথা শুনো নাই তো,এই জন্য আল্লাহ তোমাকে ব্যথা দিয়েছে। বুঝ এখন!"
চিন্তা করুন, বাচ্চারা কি ধারণা নিয়ে বড় হবে আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তাআলা সম্পর্কে?

ছোট বাচ্চা যদি কাউকে কুর'আন পড়তে দেখে, আগ্রহ ভরে যখন জিজ্ঞাসা করে কুর'আনে কি বলা আছে, তখন বলা হয় " তুমি যে এটা ঐটা কর, এইটার শাস্তি এই ,ঐটার শাস্তি ঐ।"
শাস্তি, গুনাহ, জাহান্নাম এই সব দিয়ে প্রাথমিক পরিচয় দেওয়া হয় আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তাআলা সম্পর্কে, খুবই দুঃখজনক।

অথচ, আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তাআলা নিজে কুর'আনে আর রহমান আর রাহিম দিয়ে নিজের পরিচয় শুরু করেছেন। আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা তা ঠিক কিন্তু সেই সাথে তিনি অত্যন্ত দয়ালু, ক্ষমাশীল। শাস্তি আর রহমাতের মাঝে রহমত সর্বদা প্রাধান্য পায় আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তাআলার কাছে। তিঁনি বান্দার ডাকে সাড়া দেন বান্দার যতই খারাপ অবস্থা থাকুক।

আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তাআলার এইসব পরিচয় আগে দিতে হবে নতুন প্রজন্মদের। আল্লাহর নাম খুব সম্মান আর সতর্কতার সাথে নেয়া উচিত আমাদের।

--- Bayyinah.tv তে উস্তাদ নুমান আলী খানের Quran with young adults সিরিজ থেকে অনুপ্রাণিত

আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তাআলার নাম "আর রহমান" নিয়ে উস্তাদ নুমান আলী খানের ছোট্ট আলোচনাঃ
www.youtube.com/watch?v=P53jYG5r4pQ


0 comments
Labels: , ,

ইস্তেগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) করার সুফল

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।



فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا
يُرْسِلِ السَّمَاء عَلَيْكُم مِّدْرَارًا
وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا


বাংলা ভাবার্থঃ “অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন,  তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন”। [ ৭১:১০-১২] 

English Translation:  “And said, 'Ask forgiveness of your Lord. Indeed, He is ever a Perpetual Forgiver. He will send [rain from] the sky upon you in [continuing] showers And give you increase in wealth and children and provide for you gardens and provide for you rivers”. [71:10-12]


কুরআনের উনত্রিশতম পারার অন্তর্ভুক্ত সুরা নুহের তিনটি (১০, ১১ এবং ১২)  আয়াত নিয়ে আলোচনা করবো। আল্লাহ্‌‘তালা যুগে যুগে বিভিন্ন কাওমের কাছে নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন। এই আয়াতে নুহ (আঃ) আল্লাহ্‌কে বলছেন, তিনি (আঃ) তাঁর কাওমের জন্য কি কি সম্পন্ন করেছেন বা তাদেরকে কীভাবে আল্লাহ্‌র দিকে আহ্বান করেছেন। এই ঘটনাটি কুরআনে অন্তর্ভুক্ত করার আল্লাহ্‌‘তালা মনস্থ করেছেন, কারণ এই আয়াতগুলোতে একটি চমৎকার শিক্ষা আছে। অন্তর থেকে আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করার সুফল এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশুদ্ধ ইস্তেগফার করলে কি পাওয়া যাবে বা লাভ করা যাবে? আপনি আল্লাহ্‌র কাছে ইস্তেগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) করছেন, স্বভাবতই বিনিময়ে আপনি আল্লাহ্‌র মার্জনা পাওয়ার আশা করবেন এবং ইন শা আল্লাহ্‌ পাবেন। কিন্তু ক্ষমাপ্রাপ্তি ছাড়াও আর বাড়তি কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে? আল্লাহ্‌ যখন আপনার ইস্তেগফার কবুল করেন, তখন মার্জনা করার সাথে সাথে তিনি বান্দার উপর দয়াপরবশত কিছু দুনিয়াদি সুবিধাও দান করেন। এই আয়াতগুলোতে সেটাই বলা হয়েছে। “ফাকুলতুস্ তাগফিরু রাব্বাকুম; ইন্নাহূ কা-না গাফফা-রা” অর্থাৎ ‘অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল’। একজন প্রকৃত ধর্মপ্রচারকদের যা কিছু করণীয় নূহ (আঃ) তার সব কিছুই প্রয়োগ করেন তার সম্প্রদায়ের হেদায়েতের জন্য। তিনি বারে বারে আল্লাহ্‌র বাণী পুণরুক্তি করেন, শোনান, প্রচারণা করেছেন,  প্রকাশ্যে ও গোপনে ব্যক্তিগত ভাবে আহ্বান করেছেন।  তিনি তাঁর কাওমকে আল্লাহ্‌র দরবারে অন্তর থেকে ক্ষমাপ্রার্থনা করার আবেদন করেন, এবং আশ্বস্ত করেন যে নিশ্চয় আল্লাহ্‌ বারে বারে ক্ষমাশীল। তিনি তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা করতেই থাকেন, করতেই থাকেন, করতেই থাকেন --- যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ক্ষমা চায়।

 নুহ (আঃ) আরও যোগ করেন যদি তোমরা ক্ষমাপ্রার্থনা কর তাহলে,  “ইউরসিলিস্ সামা-আ ‘আলাইকুম মিদরা-রা”, অর্থাৎ ‘তিনি তোমাদের প্রচুর রহমতের বৃষ্টি দেবেন’। লক্ষ্য করুন, নুহ (আঃ) এর কাওম এর জন্য কিন্তু বৃষ্টি ঠিকই এসেছিল। কিন্তু সেই বৃষ্টি রহমতের বৃষ্টি ছিল না, সেটা ছিল তাদের বরবাদের জন্য বৃষ্টি।  যদি তারা নূহ (আঃ) আহ্বানে কর্ণপাত করতো এবং আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনায়ন করতো, তবে আল্লাহ্‌র রহমতস্বরূপ বৃষ্টিপাত হতো। কিন্তু তারা নূহ্‌ নবীর আহ্বানে সাড়া দিলো না ফলে যে বৃষ্টি তাদের জন্য রহমত হতে পারতো, সেই বৃষ্টি তাদের জন্য অভিশাপরূপে আর্বিভূত হলো। প্রচন্ড বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হলো এক মহাপ্লাবন যা তাদের সকলকে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো। যখন কোন শহর বা দেশ খরা কবলিত হয় তখন মুসলিমদেরকে ইস্তেগফার করতে উৎসাহিত করা হয়। একবার দুর্ভিক্ষের সময় উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বৃষ্টির জন্য দোয়া করতে বের হলেন এবং শুধু  ইস্তেগফার করেই শেষ করলেন। সবাই বললো, “হে আমীরুল মু’মিনীন আপনি তো আদৌ দোয়া করলেন না”। তিনি বললেনঃ আমি আসমানের ঐসব দরজায় করাঘাত করেছি যেখান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয়। একথা বলেই তিনি সূরা নূহের এ আয়াতগুলো তাদের পাঠ করে শুনালেন। [ইবনে জারীর ও ইবনে কাসীর]



তিনি (আঃ) আরও বলেন, “ওয়া ইউমদিদকুম বিআমওয়া-লিওঁ ওয়া বানীন” অর্থাৎ ‘তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন’; এবং  “ওয়া  ইয়াজ্ব‘আল লাকুম জান্না-তিওঁ ওয়া ইয়াজ্ব‘আল লাকুম আনহা-রা” অর্থাৎ ‘তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন’ । আল্লাহ্‌র নেয়ামতের কয়েকটি ধাপ এখানে উল্লেখ করা হয়েছে বৃষ্টি এবং শষ্য যা পরস্পর সম্পর্কিত, সম্পদ ও জনশক্তি [সন্তান-সন্ততি], সমৃদ্ধ বাগান, স্থায়ী নদীনালা --- সবই হচ্ছে কোন জাতির জন্য সমৃদ্ধির লক্ষণ।  একবার এক ব্যক্তি হাসান বাসরীর মজলিসে অনাবৃষ্টির অভিযোগ করলে তিনি বললেনঃ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। অপর এক ব্যক্তি দারিদ্রের অভিযোগ করলো। তৃতীয় এক ব্যক্তি বললোঃ আমার কোন ছেলেমেয়ে নেই। চতুর্থ এক ব্যক্তি বললোঃ আমার ফসলের মাঠে ফলন খুব কম হচ্ছে। তিনি সবাইকে একই জবাব দিলেন। অর্থাৎ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। লোকেরা বললোঃ কি ব্যাপার যে, আপনি প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগের একই প্রতিকার বলে দিচ্ছেন? তখন তিনি সূরা নূহের এ আয়াতগুলো পাঠ করে শুনালেন।

 ইসলাম এতো চমৎকার একটি দ্বীন যে এখানে মুসলিমদের জন্য পার্থিব সমৃদ্ধির প্যাকেজও আছে। আল্লাহ্‌র কাছে অন্তর থেকে বিশুদ্ধ ইস্তেগফার করুন, আল্লাহ্‌ সেই বান্দা বা জাতির জন্য পার্থিব আশীর্বাদ প্রেরণ করবেন। এই কল্যাণে সিক্ত হয়ে পরলোকের সুখশান্তির জন্য নিজেকে তৈরি করে নিবেন। সুবাহান’আল্লাহ! কতই না সুন্দর আমাদের এই দ্বীন! আপনাকে বৃষ্টি, অর্থ-সম্পদ, সন্তানসন্ততি,  সমৃদ্ধ নগরে সুখ-শান্তিতে বসবাস করা --- এর কোন কিছুই আলাদাভাবে চাইতে হবে না। আপনি শুধু অন্তর থেকে ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন। আল্লাহ্‌ এতো খুশী হবেন, তিনি সন্তুষ্ট হয়ে আপনার গুনাহ মার্জনা করবেন এবং তাঁর সাথে বোনাসস্বরূপ অন্য সব জিনিসও দেবেন। এইসব জিনিস আল্লাহ্‌র কাছে কোনই মুল্য রাখে না, কিন্তু আপনার কাছে অনেক মুল্যবান। আল্লাহ্‌‘তালার কাছে যেটা বড় ব্যপার সেটা হচ্ছে বান্দার আন্তরিক তাওবা। এই আয়াতে একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ্‌র কাছে কোনটা মুল্যবান এবং আমাদের কাছে কোনটা বেশী মুল্যবান?


আল্লাহ্‌‘তালা এখানে একশ্রেণীর মুসলিমদেরকে মেসেজ দিচ্ছেন। তারা মনে করে আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করার পর তো সেই একই গুনাহ আর করতে পারবো না। সুদ, ঘুষ, কালোবাজারি, নোংরা রাজনীতি, দুই নম্বরী ব্যবসা, হারাম জিনিস বেচা-কেনা, নোংরা বিনোদন জগতের তারকা -– এইসব কাজ যদি নাই করতে পারি তাহলে আমাদের অর্থ-খ্যাতি-সম্পদ-ঘরবাড়ী-বিলাসী জীবন কিছুই তো থাকবে না। পথের ফকিরে পরিণত হবো। আল্লাহ্‌র কাছে ইস্তেগফার করলে যদি ইনকাম বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বরং ক্ষমা চাওয়ার দরকার নাই। শেষ বয়সে হজ্জ করে এসে হিজাব পড়লে/ দাঁড়ি রাখলেই চলবে। এই শ্রেণীর মুসলিমদের আল্লাহ্‌ বলছেন, আল্লাহ্‌কে অসন্তুষ্ট করে অসৎ পথে যদি কেউ পার্থিব ‘সাফল্য’ খোঁজে তাহলে তাকে পাপের বোঝা নিয়ে একা পথ চলতে হবে। অপরপক্ষে, আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির জন্য যদি কেউ সৎপথে থাকে এবং সর্বদা নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে ইস্তেগফার করে। তাহলে আল্লাহ্‌ খুশী হয়ে মার্জনা করার সাথে সাথে তাকে অর্থ-সম্পদ-সন্তান-সমৃদ্ধ জীবন সবকিছুই দান করবেন।  আন্তরিক ইস্তেগফারকারী মুসলিমের সাথে সর্বদা আল্লাহ্‌র আশীর্বাদ থাকবে। সুবাহান’আল্লাহ!

 আল্লাহদ্রোহিতার আচরণ মানুষের জীবনকে শুধু আখেরাতেই নয় দুনিয়াতেও সংকীর্ণ করে দেয়। অপরপক্ষে কোন ব্যক্তি/জাতি যদি অবাধ্যতার বদলে ঈমান, তাকওয়া এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার পথ অনুসরণ করে তাহলে তা শুধু আখেরাতের জন্যই কল্যাণকর হয় না, দুনিয়াতেও তার ওপর আল্লাহর অশেষ নিয়ামত বর্ষিত হতে থাকে। মৃত্যু কখনো কড়া নেড়ে আসে না। তাই সময় থাকতেই আমরা সবাই যেন আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিনের কাছে ইস্তেগফার করি। আন্তরিকভাবে আল্লাহ্‌র কাছে ইস্তেগফার করলে আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাকে মার্জনা করেন। তিনি শ্রেষ্ঠ মার্জনাকারী, তিনি মার্জনা করতে ভালোবাসেন। আসুন আমরা সবাই আল্লাহ্‌র কাছে বিশুদ্ধ ইস্তেগফার করি। তাহলে আল্লাহ্‌‘তালা আমাদেরকে ক্ষমা করার পাশাপাশি ইহকাল ও পরকালের সাফল্য দান করবেন, ইন শা আল্লাহ্‌।


[নোমান আলী খানের কুরানিক জেমস (Quranic Gems) সিরিজের ঊনত্রিশতম পর্বের বাংলা ভাবার্থ। দ্রুত অনুবাদ করার কারনে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকাটাই স্বাভাবিক। আমার এই অনিচ্ছাকৃত ভুল আশাকরি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যা কিছু কল্যাণকর তার সম্পূর্ণই আল্লাহ্‌র তরফ থেকে, আর যা কিছু ভুল সেটি সম্পূর্ণ আমার। আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন আমার সেই ভুলগুলো মার্জনা করুন। তিনি পরম ক্ষমাশীল, অসীম দয়ালু। আল্লাহ্‌তালা আমাদের সকলকে কুরআনের আয়াতসমূহ বুঝে পড়ার তৌফিক দান করুন এবং  সঠিক মর্মার্থ বুঝে সেই ভাবে জীবনকে পরিচালিত করার মত হিকমাহ, সাহস ও ধৈর্য দিক।  ]


সোর্স অনুবাদ - সেফাত মেহজাবীন

(To watch the video go to: https://www.youtube.com/watch?v=Ugx4MZK3EGQ)

Source:https://www.facebook.com/smahjabeen/notes

0 comments