শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা' আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

মুহাম্মদ (সাঃ)-আল্লাহর রাসূল

মুহাম্মদ (সাঃ)-সকল মানুষের জন্য উদাহরন, সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, ও আল্লাহর রাসুল

আল কোরআন - মহান আল্লাহ প্রদত্ত কিতাব

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

আমাদেরকে সরল পথ দেখাও

আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আল্লাহ নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু

সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

Labels: ,

মুসলমানদের প্রশংসনীয় চারিত্রিক গুণাবলী


ইসলামী শরীয়ত হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ জীবন পদ্ধতি যা সকল দিক থেকে সার্বিকভাবে মুসলমানের ব্যক্তিগত জীবনকে গঠন করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে এসব দিকের মধ্যে গুনাবলি শিষ্টাচার ও চরিত্রের দিকটি অন্যতম। ইসলাম এদিকে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। তাইতো আকীদা ও আখলাকের মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছে, যেমন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
“মুমিনদের মধ্যে পরিপূর্ণ ঈমানদার হচ্ছে সে ব্যক্তি, যে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।” [আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযি ]

সুতরাং উত্তম চরিত্র হচ্ছে ঈমানের প্রমাণবাহী ও প্রতিফলন। চরিত্র ব্যতীত ঈমান প্রতিফলিত হয় না বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁকে প্রেরণের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য হচ্ছে চরিত্রের উত্তম দিকসমূহ পরিপূর্ণ করে দেয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
 আমি তো কেবল চরিত্রের উত্তম দিকসমূহ পরিপূর্ণ করে দিতে প্রেরিত হয়েছি।  ইমাম আহমাদ ও ইমাম বুখারী আদাবুল মুফরাদে বর্ণনা করেছেন।
এ কারণেই আল্লাহ তাআলা উত্তম ও সুন্দরতম চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
 “নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।” [সূরা আল, কালাম : ৪]

কোথায় এ চরিত্র বর্তমান বস্তুবাদী মতবাদ ও মানবতাবাদী মানুষের মনগড়া চিন্তা চেতনায় ?
যেখানে চরিত্রের দিককে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে, তা শুধু সুবিদাবাদী নীতিমালা ও বস্তুবাদী স্বার্থের উপর প্রতিষ্ঠিত। যদিও তা অন্যদের উপর জুলুম বা নির্যাতনের মাধ্যমে হয়। অন্য সব জাতির সম্পদ লুন্ঠন ও মানুষের সম্মান হানীর মাধ্যমে অর্জিত হয়।

একজন মুসলমানের উপর তার আচার-আচরণে আল্লাহর সাথে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে, অন্য মানুষের সাথে, এমনকি নিজের সাথে কি ধরনের আচরণ করা উচিত ইসলাম তার এক অভিনব চকমপ্রদ চিত্র অংকন করে দিয়েছে। যখনই একজন মুসলমান বাস্তবে ও তার লেনদেনে ইসলামী চরিত্রের অনুসরণ করে তখনই সে অভিষ্ট পরিপূর্ণতার অতি নিকটে পৌঁছে যায়, যা তাকে আরো বেশি আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও উচ্চ মর্যাদার সোপানে উন্নীত হতে সহযোগিতা করে। পক্ষান্তরে, যখনই একজন মুসলমান ইসলামের চরিত্র ও শিষ্টাচার হতে দূরে সরে যায় সে বাস্তবে ইসলামের প্রকৃত প্রাণ চাঞ্চল্য, নিয়ম-নীতির ভিত্তি হতে দূরে সরে যায়। সে যান্ত্রিক মানুষের মত হয়ে যায়, যার কোন অনুভূতি এবং আত্মা নেই।

ইসলামে ইবাদতসমূহ চরিত্রের সাথে কঠোরভাবে সংযুক্ত। যে কোন ইবাদত একটি উত্তম চরিত্রের প্রতিফলন ঘটায় না তার কোন মূল্য নেই। আল্লাহর সামনে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় নামায একজন মানুষকে অশ্লীল অপছন্দ কাজসমূহ হতে রক্ষা করে, আত্মশুদ্ধি ও আত্মার উন্নতি সাধনে এর প্রভাব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
 “নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল, অপছন্দনীয় কাজ হতে নিষেধ করে।” [ সূরা আল-আনকাবুত :৪৫ ]
অনুরূপভাবে রোযা তাক্কওয়ার দিকে নিয়ে যায়। আর তাক্বওয়া হচ্ছে মহান চরিত্রের অন্যতম, যেমন- আল্লাহ তাআলা বলেন,
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে যেমনি ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যাতে তোমরা তাক্বওয়া লাভ করতে পার। [ সূরা আল বাকারা : ১৮৩ ]

  • রোযাঃ  অনুরূপভাবে শিষ্টাচার, ধীরস্থিরতা, প্রশান্তি, ক্ষমা, মুর্খদের থেকে বিমুখতা ইত্যাদির প্রতিফলন ঘটায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, “তোমাদের কারো রোযার দিন যদি হয়, তাহলে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে, হৈ চৈ না করে অস্থিরতা না দেখায়। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে লড়াই করে সে যেন বলে দেয় আমি রোযাদার। বুখারী ও মুসলিম

  • যাকাতঃ  অনুরূপভাবে অন্তরকে পবিত্র করে, আত্মাকে পরিমার্জিত করে এবং তাকে কৃপণতা, লোভ ও অহংকারের ব্যধি হতে মুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,“তাদের সম্পদ হতে আপনি সাদকাহ গ্রহণ করুন যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিমার্জিত করবেন।” [সূরা তাওবাহ ১০৩ আয়াত ]

  • হজ্জঃ আর হজ্জ হচ্ছে একটি বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণশালা আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা বিদ্ধেষ ও পঙ্কিলতা থেকে আত্মাকে পরিশুদ্ধি ও পরিমার্জনের জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন, “যে এ মাস গুলোতে নিজের উপর হজ্জ ফরয করে নিল সে যেন অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া বিবাদ হজ্জের মধ্যে না করে।” [সূরা আল বাকারাহ : ১৯৭ ]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
“যে ব্যক্তি অশ্লীল কথা-বার্তা ও পাপ কর্ম না করে হজ্জ পালন করল, সে তার পাপ রাশি হতে তার মা যেদিন জন্ম দিয়েছে সে দিনের মত নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এল।” [বুখারী ও মুসলিম]

ইসলামী চরিত্রের মৌলিক বিষয়সমূহ

১ সত্যবাদিতা:

আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যে সকল ইসলামী চরিত্রের নির্দেশ দিয়েছেন, তার অন্যতম হচ্ছে সত্যবাদিতার চরিত্র। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“হে ঈমানদারগণ আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা সত্যবাদীদের সাথী হও।” সূরা আত-তাওবাহ : ১১৯

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
“তোমরা সততা অবলম্বন গ্রহণ কর, কেননা সত্যবাদিতা পুণ্যের পথ দেখায় আর পূণ্য জান্নাতের পথ দেখায়, একজন লোক সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্যবাদিতার প্রতি অনুরাগী হয়, ফলে আল্লাহর নিকট সে সত্যবাদী হিসাবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।” মুসলিম

২ আমানতদারিতা :

মুসলমানদের সে সব ইসলামী চরিত্র অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার একটি হচ্ছে আমানতসমূহ তার অধিকারীদের নিকট আদায় করে দেয়া। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট আদায় করে দিতে।” সূরা আন নিসা : ৫৮

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট আল আমীন উপাধি লাভ করেছিলেন, তারা তাঁর নিকট তাদের সম্পদ আমানত রাখত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার অনুসারীদের মুশরিকরা কঠোর ভাবে নির্যাতন শুরু করার পর যখন আল্লাহ তাকে মক্কা হতে মদীনা হিজরত করার অনুমতি দিলেন তিনি আমানতের মালসমূহ তার অধিকারীদের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা না করে হিজরত করেননি। অথচ যারা আমানত রেখেছিল তারা সকলেই ছিল কাফের। কিন্তু ইসলাম তো আমানত তার অধিকারীদের নিকট ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে যদিও তার অধিকারীরা কাফের হয়।

৩ অঙ্গীকার পূর্ণ করা:

ইসলামী মহান চরিত্রের অন্যতম হচ্ছে অঙ্গীকার পূর্ণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন :
“আর অঙ্গীকার পূর্ণ কর, কেননা অঙ্গীকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।” সূরা ইসরা : ৩৪
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিশ্রতি ভঙ্গকরা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে গণ্য করেছেন।


৪ বিনয় :

ইসলামী চরিত্রের আরেকটি হচ্ছে একজন মুসলমান তার অপর মুসলিম ভাইদের সাথে বিনয়ী আচরণ করবে। সে ধনী হোক বা গরীব। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
“তুমি তোমার পার্শ্বদেশ মুমিনদের জন্য অবনত করে দাও।” সূরা আল হিজর : ৮৮

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
“আল্লাহ তাআলা আমার নিকট ওহী করেছেন যে, ‘তোমরা বিনয়ী হও যাতে একজন অপরজনের উপর অহংকার না করে। একজন অপর জনের উপর সীমালংঘন না করে।” -মুসলিম।

৫ মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার:

মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার উত্তম চরিত্রের অন্যতম। আর এটা তাদের অধিকার মহান হওয়ার কারণে, যে অধিকার স্থান হল আল্লাহর হকের পরে।আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
‘আর আল্লাহর ইবাদত কর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না, এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার কর।” [সূরা আন-নিসা : ৩৫ আয়াত]

আল্লাহ তাআলা তাদের আনুগত্য, তাদের প্রতি দয়া ও বিনয় এবং তাদের জন্য দু’আ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন :
“তাদের উভয়ের জন্য দয়ার সাথে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে আমাকে তারা লালন-পালন করেছেন।” [ সূরা আল ইসরা : ২৪ ]

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল,
‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার উত্তম আচরণ পাওয়ার সবচেয়ে বেশী অধিকারী ব্যক্তি কে ? তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ অত:পর জিজ্ঞেস করল তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেন, ‘তোমার মা।’ অতঃপর জিজ্ঞেস করল তার পর কে? তিনি উত্তর দিলেন, ‘তোমার মা।’ অতঃপর জিজ্ঞেস করল তার পর কে? উত্তর দিলেন, ‘তোমার পিতা।’ [বুখারী ও মুসলিম]

মাতা-পিতার প্রতি এ সদ্ব্যবহার ও দয়া অনুগ্রহ অতিরিক্ত বা পূর্ণতা দানকারী বিষয় নয় বরং তা হচ্ছে সকল মানুষের ঐক্যমতের ভিত্তিতে ফরযে আইন।

৬ আত্মীয়তার সর্ম্পক বজায় রাখা :

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামী চরিত্রের অন্যতম। আর তারা হচ্ছে নিকটাত্মীয়গণ যেমন, চাচা, মামা, ফুফা, খালা, ভাই, বোন প্রমূখ।
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ওয়াজিব, আর তা ছিন্ন করা জান্নাত হতে বঞ্চিত ও অভিশাপের কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
“ যদি তোমরা ক্ষমতা পাও, তাহলে কি তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে? তারা তো ঐ সব লোক যাদের প্রতি আল্লাহ অভিশাপ করেছেন। এতে তিনি তাদেরকে বধির করে দিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টি অন্ধ করে দিয়েছেন।” [সূরা মুহাম্মাদ : ২২-২৩]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
“আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না।” [বুখারী ও মুসলিম]

৭ প্রতিবেশীর প্রতি সুন্দরতম ব্যবহার:

প্রতিবেশীর প্রতি সুন্দরতম ব্যবহার হচ্ছে ইসলামী চরিত্রের অন্যতম। প্রতিবেশী হচ্ছে সে সব লোক যারা আপনার বাড়ীর আশে পাশে বসবাস করে। যে আপনার সবচেয়ে নিকটবর্তী সে সুন্দর ব্যবহার ও অনুগ্রহের সবচেয়ে বেশী হকদার। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আর মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার কর, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকীন নিকটতম প্রতিবেশী ও দূরবর্তী প্রতিবেশীর প্রতিও।” [সূরা আন-নিসা : ৩৬]

এতে আল্লাহ নিকটতম ও দূরবর্তী প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার করতে ওসিয়ত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ
‘জিবরীল আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে ওসিয়ত করতেছিল এমনকি আমি ধারণা করেনিলাম যে, প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকার বানিয়ে দেয়া হবে।’ [বুখারী ও মুসলিম]

অর্থাৎ আমি মনে করেছিলাম যে ওয়ারিশদের সাথে প্রতিবেশীর জন্য মিরাসের একটি অংশ নির্ধারিত করে দেবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু যর রা. কে লক্ষ্য করে বলেন,
‘হে আবু যর! যখন তুমি তরকারী পাক কর তখন পানি বেশি করে দাও, আর তোমার প্রতিবেশীদের অঙ্গীকার পূরণ কর।” [ মুসলিম]

প্রতিবেশীর পার্শ্বাবস্থানের হক রয়েছে যদিও সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি অবিশ্বাসী বা কাফের হয়।

৮ মেহমানের আতিথেয়তা:

ইসলামী চরিত্রের আরেকটি হচ্ছে মেহমানের আতিথেয়তা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী,
“যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।” [বুখারী ও মুসলিম]

৯ সাধারণভাবে দান ও বদান্যতা:

ইসলামী চরিত্রের অন্যতম দিক হচ্ছে দান ও বদান্যতা। আল্লাহ তাআলা ইনসাফ, বদান্যতা ও দান কারীদের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
“যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে অতঃপর যা খরচ করেছে তা থেকে কারো প্রতি অনুগ্রহ ও কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্য করে না, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাও করবে না।”   [সূরা আল বাকারাহ : ২৬২]

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
‘যার নিকট অতিরিক্ত বাহন থাকে সে যেন যার বাহন নেই তাকে তা ব্যবহার করতে দেয়। যার নিকট অতিরিক্ত পাথেয় বা রসদ রয়েছে সে যেন যার রসদ নেই তাকে তা দিয়ে সাহায্য করে।”  [মুসলিম]

১০ ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা:

ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা হচ্ছে ইসলামী চরিত্রের অন্যতম বিষয়। অনুরূপভাবে মানুষদের ক্ষমা করা, দুর্ব্যবহারকারীকে ছেড়ে দেয়া ওজর পেশকারীর ওজর গ্রহণ করা বা মেনে নেয়াও অন্যতম। আল্লাহ তাআলা বলেন :
“আর যে ধৈর্য্য ধারণ করল এবং ক্ষমা করল, নিশ্চয়ই এটা কাজের দৃঢ়তার অন্তর্ভূক্ত।”   [সূরা আশ শুরা : ৪৩]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
‘তারা যেন ক্ষমা করে দেয় এবং উদারতা দেখায়, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দেয়া কি তোমরা পছন্দ কর না?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “দান খয়রাতে সম্পদ কমে যায় না। আল্লাহ পাক ক্ষমার দ্বারা বান্দার মার্যাদাই বৃদ্ধি করে দেন। যে আল্লাহর জন্য বিনয় প্রকাশ করে আল্লাহ তার সম্মানই বৃদ্ধি করে দেন।” [মুসলিম ] তিনি আরো বলেন, “দয়া কর, তোমাদের প্রতি দয়া করা হবে। ক্ষমা করে দাও তোমাদেরও ক্ষমা করে দেয়া হবে।”   [আহমাদ]

১১  মানুষের মাঝে সমঝোতা ও সংশোধন:

ইসলামী চরিত্রের আরেকটি হচ্ছে মানুষের মাঝে সমঝোতা ও সংশোধন করে দেয়া, এটা একটি মহান চরিত্র যা ভালবাসা সৌহার্দ প্রসার ও মানুষের পারষ্পারিক সহযোগিতার প্রাণের দিকে নিয়ে যায়।আল্লাহ তাআলা বলেন:
“তাদের অধিকাংশ শলাপরামর্শের মধ্যে কল্যাণ নেই। কেবল মাত্র সে ব্যক্তি ব্যতীত যে সাদকাহ, সৎকর্ম ও মানুষের মাঝে সংশোধনের ব্যাপারে নির্দেশ দেয়। যে আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে এসব করে অচিরেই আমরা তাকে মহা প্রতিদান প্রদান করব।” [সূরা আন নিসা : ১১৪]

১২  লজ্জা:

ইসলামী চরিত্রের অন্যতম আরেকটি চরিত্র হচ্ছে লজ্জা। এটা এমন একটি চরিত্র যা পরিপূর্ণতা ও মর্যাদাপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের দিকে আহবান করে। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা হতে বারণ করে। লজ্জা আল্লাহর পক্ষ হতে হয়ে থাকে। ফলে মুসলমান লজ্জা করে যে, আল্লাহ তাকে পাপাচারে লিপ্ত দেখবে। অনুরূপভাবে মানুষের থেকে এবং নিজের থেকেও সে লজ্জা করে। লজ্জা অন্তরে ঈমান থাকার প্রমাণ বহন করে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
‘লজ্জা ঈমানের বিশেষ অংশ।’ [বুখারী ও মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, “লজ্জা কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসে না।” [বুখারী ও মুসলিম]

১৩  দয়া ও করুণা:

ইসলামী চরিত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হচ্ছে দয়া বা করুণা। এ চরিত্রটি অনেক মানুষের অন্তর হতে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে তাদের অন্তর পাথরের মত অথবা এর চেয়েও শক্ত হয়ে গেছে। আর প্রকৃত মু’মিন হচ্ছে দয়াময়, পরোপকারী, গভীর অনুভূতি সম্পন্ন উজ্জল অনুগ্রহের অধিকারী। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
“অত:পর সে তাদের অন্তর্ভূক্ত হয় যারা ঈমান এনেছে পরস্পর পরস্পরকে ধৈর্য্য ও করুণার উপদেশ দিয়েছে। তারা হচ্ছে দক্ষিণ পন্থার অনুসারী।”  [সূরা আল-বালাদ : ১৭- ১৮]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
“মুমিনদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, করুণা, অনুকম্পার উপমা হচ্ছে একটি শরীরের মত। যখন তার একটি অঙ্গ অসুস্থ হয় গোটা শরীর নিদ্রাহীনতা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।”  [মুসলিম]

১৪  ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা:

ন্যায় পরায়ণতা ইসলামী চরিত্রের আরেকটি অংশ। এ চরিত্র আত্মার প্রশান্তি সৃষ্টি করে। সমাজে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন প্রকার অপরাধ বিমোচনের দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা ইহসান ও নিকটাত্মীয়দের দান করতে নির্দেশ দেন।”   [সূরা আল নাহাল : ৯০]

আল্লাহ তাআলা বলেন :
“ইনসাফ কর, এটা তাক্বওয়ার অতীব নিকটবর্তী।”   [সূরা আল মায়িদা : ৮]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
“ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা আল্লাহর নিকট নূরের মিম্বরের উপর বসবে। তারা হল সে সব লোক, যারা বিচার ফয়সালার ক্ষেত্রে, পরিবার-পরিজনের ক্ষেত্রে এবং যে দায়িত্বই পেয়েছে তাতে ইনসাফ করে।”

১৫  চারিত্রিক পবিত্রতা:

ইসলামী চরিত্রের অন্যতম বিষয় হচ্ছে চারিত্রিক পবিত্রতা। এ চরিত্র মানুষের সম্মান সংরক্ষণ এবং বংশে সংমিশ্রন না হওয়ার দিকে পৌঁছে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন :
“যাদের বিবাহের সামর্থ নেই, তারা যেন চারিত্রিক পবিত্রতা গ্রহণ করে। যতক্ষণ না আল্লাহ তার অনুগ্রহে তাকে সম্পদশালী করেন।” [ সুরা আন নূর-৩৩ ]
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন,
“তোমরা আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের জিম্মাদার হও। তাহলে আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব। যখন তোমাদের কেউ কথা বলে সে যেন মিথ্যা না বলে। যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন যেন খেয়ানত না করে। যখন প্রতিশ্র“তি দেয় তা যেন ভঙ্গ না করে। তোমরা তোমাদের দৃষ্টি অবনত কর। তোমাদের হস্তদ্বয় সংযত কর। তোমাদের লজ্জাস্থান হেজাফত কর।” [ হাদীসটি তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন ]

ইসলামের এ সব চরিত্রে এমন কিছু নেই যা ঘৃণা করা যায়। বরং এসব এমন সম্মান যোগ্য মহৎ চারিত্রাবলী যা প্রত্যেক নিষ্কলুষ স্বভাবের অধিকারীর সমর্থন লাভ করে। মুসলমানগণ যদি এ মহৎ চরিত্র ধারণ করত তাহলে সর্বস্থান থেকে তাদের নিকট মানুষ আগমন করত এবং দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে তারা প্রবেশ করত যেভাবে প্রথম যুগের মুসলমানদের লেন-দেন ও চরিত্রের কারণে সে সময়ের মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেছিল।


লেখক : আদেল বিন আলী আশ-শিদ্দী / আহমদ আল-মাযইয়াদ     অনুবাদ : সাইফুল্লাহ আহমাদ 

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

0 comments
Labels: , ,

আমার ক্ষিপ্ত মুসলিম যুবক ভাইদের প্রতি


উস্তাদ নুমান আলী খান : মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক চলচ্চিত্র নির্মাণ ও ইউটিউবে সেটার ভিডিও প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় যখন সমগ্র মুসলিম বিশ্ব উত্তপ্ত, তখন উস্তাদ নুমান আলী খান আমেরিকার একটি মসজিদে মুসলিম যুবক ভাইদেরকে উদ্দেশ্য করে এই চমৎকার খুৎবা প্রদান করেন। খুৎবার অনুলিপি বিশেষ করে ILoveAllaah.com এবং QuranerAlo.com এর পাঠকদের জন্য উপহার স্বরূপ প্রবন্ধাকারে উপস্থাপন করা হল। মূল বক্তৃতা ও অনুলিপিতে সামান্য কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। আশা করি পাঠকবৃন্দ সেই ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। অনুবাদঃ কুরআনের আলো 
(আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা, রাসুল ও নবীগনের প্রতি সালাম জানিয়ে তিনি এই খুৎবা আরম্ভ করেন।)

আসসালামু আলাইকুম, আজ আমার ভেতরে এক মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। একদিকে আমি এই এলাকায় ফিরে আসতে পারায় আনন্দিত। সেই চেনা মুখগুলো আবার দেখার সুযোগ পাওয়ায় সত্যি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ বোধ করছি। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন আমার এই সফর তিনি কবুল করেন এবং আমার ও আপনাদের সবার জন্য কল্যাণকর করেন। অন্যদিকে আমাদের মুসলমানদের জন্য এটা একটা কষ্টকর ও সংকটময় সময়। কয়েক সপ্তাহ পর পরই এমন কিছু ঘটনা ঘটে যাচ্ছে যা আমাদের সবার মনকে আঁধার কালো করে দিচ্ছে। আমাদের সবাইকে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে। আর এখন তেমনই একটা সময় চলছে। আপনারা যারা নিয়মিত বিশ্বের খবরাখবর রাখেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কি বিষয়ে কথা বলতে যাচ্ছি। আপনারা অবশ্যই জানেন একটি অত্যন্ত নিম্নমানের জ্বালাময়ী ভিডিওর প্রতিবাদে পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া বিক্ষোভের কথা। যদিও কুরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই প্রসঙ্গেই আমার আজকের খুৎবার বিষয়ের অবতারণা; আমি শুরুতেই একটি কথা জানাতে চাই যে, যতদিন পর্যন্ত না মুসলমানরা এই ভিডিওটির প্রতি মনোযোগ দেওয়া শুরু করে, এই বিশেষ ভিডিওটির ৩০ টিও হিট সংখ্যা ছিল না। আর এরপর ব্যপারটি এমনই দিকে গড়িয়েছে যে, আমরা মুসলমানরাই এই কুরুচিপূর্ণ, বাজে, নিম্নমানের ফিল্মটির  সবচেয়ে বড় অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সি হিসেবে কাজ করছি। আর কেউ না, বরং আমরা নিজেরাই দুনিয়া জুড়ে এর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। এর আগে কেউ এর দিকে লক্ষ্যও করেনি।

 যাই হোক, আজকের খুৎবা আমি আমার ক্ষিপ্ত যুবক মুসলমান ভাইদেরকে উৎসর্গ করছি। আপনারা যদি ইতিমধ্যেই না জেনে থাকেন, জেনে রাখুন এই মুহূর্তে পৃথিবীতে জীবিত সমস্ত মুসলমান জনগোষ্ঠীর ৬২% মানুষের বয়স ৩০ বা এর নিচে। এই উম্মাহর একটি বিশাল অংশই যুবসমাজের। তাই, এই ক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদমুখর মুহূর্তে আমার আজকের এই খুৎবা আমার সেই সব মুসলিম ক্ষুব্ধ যুবক ভাইদেরকে উৎসর্গ করতে চাই। আমার সেই সব ভাইদেরকে যারা মনে করে, যখন আল্লাহর রাসুল (সাঃ) অপমানিত হন, তখন তারাও অপমানিত হন, এবং এই জন্য তাদের কিছু একটা করা উচিত। তাদের রক্ত রাগে টগবগিয়ে উঠে যখন আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর সম্পর্কে এমন অবমাননাকর কিছু বলা হয়। আমাদের নবী (সাঃ) এর সামান্যতম অপমানও আমাদের সমস্ত সুখ, আনন্দ কেড়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট; কারণ তাঁর প্রতি আমাদের ভালবাসা এতই তীব্র।

অন্য ধর্মের মানুষ প্রশ্ন করে- মুসলমানেরা কেন এত্ত ক্ষ্যাপা? যখন কেউ আমাদের যীশু খ্রিস্ট কে নিয়ে ঠাট্টা করে টিভি তে অনুষ্ঠান করে, কই আমরা খৃস্টানরা তো ক্ষেপে উঠি না ! মুসা কে নিয়ে তো অহরহ ঠাট্টা কৌতুক হয়, কই ইহুদিরা তো ক্ষেপে উঠে না ! হিন্দু ধর্ম নিয়ে তো সবসময়ই হাসি তামাশা করা হয়, কই হিন্দুরা তো ক্ষেপে ওঠে না ! তোমাদের মুসলমানদের সমস্যাটা কোথায়, তোমাদের নিয়ে কিচ্ছু বলা যায় না? তোমাদের কি বাক স্বাধীনতা বলতে কোন কিছু সম্পর্কে ধারণা নেই? তোমরা এত ক্ষেপে যাও কেন?

আর আমাদের উত্তর থাকে (এবং আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন আজকের খুৎবায় আমারও এই প্রশ্নের উত্তর বুঝি এই যে) – ‘তোমরা জানো না ভালবাসা কাকে বলে, তোমরা জানো না। তোমরা মনে কর তোমরা যীশুকে ভালোবাসো; কিন্তু আমাদের রাসুল (সাঃ) এর প্রতি ভালোবাসা তাঁর চেয়ে অনেক অনেক অনেক বেশী; এই কারণেই আমরা ক্ষেপে উঠি।’ কিন্তু এটা আমার আজকের উত্তর নয়।

যখন আমাকে প্রথমে প্রশ্নটা করা হয়, আমার জবাব হল- এটা কিভাবে সম্ভব যে যখন ঈসা (আঃ) কে নিয়ে ঠাট্টা করা হয়, তখন আমার রাগ হবে না? যখন মুসা (আঃ)কে নিয়ে তামাশা করা হয়, আমি রেগে উঠি না? মুসা (আঃ) হলেন সেই নবী যার কথা কুরআনে সবচেয়ে বেশী বার নাম ধরে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘মুহাম্মাদ’ নামটি চারবার, আর ‘আহমাদ’ নামটি একবার উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের মহানবী (সাঃ) কে কয়েকবারই নাম ধরে কুরআনে ডাকা হয়েছে। আর মুসা (আঃ)কে সত্তর বারেরও বেশী উল্লেখ করা হয়েছে। যখন মুসা (আঃ)কে খোঁচা দিয়ে ঠাট্টা করা হয়, তখন অনেক অনেক বেশী করা করা হয়। যখন ঈসা (আঃ) কে নিয়ে বিদ্রুপ করা হয়, তখনও অনেক অনেক বেশী করে করা হয়। তখন কোথায় থাকে আমাদের রাগ? ‘ওহ, ওটা ইহুদী খ্রিস্টানদের সমস্যা ।'এটা কি ‘ওদের’ সমস্যা? আমাদের সমস্যা না? কাজেই, প্রথমত আমরা যেভাবে আমাদের মানসিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করি, সেটাতেই আমাদের বড় ত্রুটি রয়ে গেছে। আমরা কোন কিছুকে অপমানজনক সমস্যা বলে সনাক্ত করার আগেই আমাদের ভেতরেই এখনো যথেষ্ট সমস্যা রয়ে গেছে। আপনারা বলতে পারেন- কিন্তু না না না, আল্লাহ রাসুল (সাঃ) কে বিশেষ সম্মান দিয়েছেন। আমি স্বীকার করি, অবশ্যই আল্লাহ হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)কে বিশেষ সম্মান দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহই কুরআনে বলেছেন-
 سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ ۞
وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ ۞
 “তারা যা আরোপ করে তা হতে পবিত্র ও মহান তোমার প্রতিপালক, যিনি সকল ইজ্জত- ক্ষমতার অধিকারী। আর শান্তি বর্ষিত হোক রাসুলদের উপর।” [সূরা আস-সাফফাত ১৮০-১৮১]
আল্লাহই বলেছেন- শান্তি বর্ষিত হোক রাসুলদের উপর।
 ক্ষিপ্ত মুসলমান যুবক ভাইয়েরা আমার, বক্তব্যের শুরুতে একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। আমাদের রাসুল (সাঃ) এর সম্মান, আভিজাত্য, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, মর্যাদা-এর কোন কিছুই আমরা তাঁকে দেই নি; এসব কোন মানুষের দেওয়া জিনিস নয়। এসব সেই উপরের আকাশ থেকে এসেছে। এসব আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে। পৃথিবীর কেউ এসব কেড়ে নিতে পারেনা। কুরআন এসেছে সেই আকাশ থেকে। মানুষ এর কপি পোড়াতে পারে, বিদ্রুপ করতে পারে, ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করতে পারে; কিন্তু এতে কোরআনের মর্যাদা কোন অংশে কমে যাবে না। কারণ কুরআন আছে লাওহে মাহফুজ এ। এর মর্যাদাহানি করা যায় না। এটা এ সব কিছুর ঊর্ধ্বে।

 আমাদের রাসুল (সাঃ) এর সম্মান এর সব কিছুর ঊর্ধ্বে। সূরা ইসরা তে আল্লাহ সুবহানা ওয়াতা’য়ালা তাঁর রাসুল (সাঃ) কে মাকামে মাহমুদ বা সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান দিয়েছেন। আল্লাহ দিয়েছেন, কোন মানুষ দেয়নি। আর এই কারনেই আপনাদের ক্ষুব্ধ হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। যারা আল্লাহর রাসুল (সাঃ)কে অপমান করে কথা বলে আপনি তাদের উপর ক্ষিপ্ত হবেন না। আপনি তাদের জন্য করুণা করুন। আমাদের তাদের জন্য আফসোস বোধ করা উচিত, কতই না হতভাগা তারা! তারা  আমাদের মহানবী (সাঃ)এর কোন ক্ষতি করতে পারে না। তারা আমাদের দ্বীনেরও কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে না। তারা শুধু নিজেদের ক্ষতিই করছে। কিন্তু আজকের খুৎবায় আমি আরও কিছু বলতে চাই। আজ আমি ক্ষুব্ধ, সত্যিই ক্ষুব্ধ। কিন্তু আমি আজ ক্ষুব্ধ আমার যুবক মুসলমান ভাইদের প্রতি। আপনারা আল্লাহর দ্বীনকে রক্ষা করতে চান? তাঁর রাসুল (সাঃ)এর সম্মান রক্ষা করতে চান? তাহলে আগে তাঁর সম্পর্কে জানুন। যারা আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর মুখের উপর সরাসরি থুথু নিক্ষেপ করেছে তাদের চেয়ে বেশী আর কে তাঁকে অপমান করেছে বলুন? আর যারা তাঁকে সরাসরি মুখের উপর অভিশাপ দিয়েছে তাদের চেয়ে বেশী? আর তখন প্রতিটি দিন তারা তাঁকে সরাসরি নানান অপমানজনক নাম ধরে ডেকেছে। আর সেই অপমানগুলো কে সয়েছে? শুধু আল্লাহর রাসুল (সাঃ) না, তাঁকে নানা ভাবে অপমানিত হতে দেখছে শুনেছে তাঁরই সঙ্গে থাকা সাহাবাগণ (রাঃ)। এসব কিছু দিয়ে আল্লাহ আপনাকে, আমাকে একটা ব্যপারের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে চেয়েছেন। আর সেটি হল, আমরা যেমন আমাদের মহানবী (সাঃ) কে ভালবাসি, সম্মান দেই, শ্রদ্ধা করি, ঠিক তেমনি আপনাকে এই বিষয়টিও জেনে রাখতে হবে যে, কিছু মানুষ নবী রাসুলদের কে ঘৃণাও করবে। এতটাই ঘৃণা যে তারা নবী রাসুল দের অপমানও করবে। তারা নবী রাসুলদের কে নিয়ে পীড়াদায়ক, কুৎসিত, জঘন্য কথাও বলেছে, বলবে। আর সেই সব অপমানজনক কথাগুলো আমরা আজও কুরআনে বিশুদ্ধতম উচ্চারণে সুর করে তেলাওয়াত করি।

 وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُون
 “এবং তারা বলেঃ সে তো এক পাগল” (সূরা ক্বালামঃ ৫১)
 سَاحِرٌ كَذَّابٌ
 “এ তো এক জাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী” (সূরা মু’মিন/গাফিরঃ ২৪)
 এই সব আমাদের মহানবী (সাঃ) ও অন্যান্য নবী রাসুলগণকে (আঃ) বলা অপমানজনক কথা। কিন্তু আল্লাহ এই সব কথাও কুরআনে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আমরা সেগুলোকে সুর করে বিশুদ্ধতম উচ্চারণে তেলাওয়াত করি। কাজেই জেনে রাখুন, এটা নতুন কোন ঘটনা না – ‘কত বড় স্পর্ধা তারা আমাদের নবী (সাঃ) কে অপমান করে!’। আপনি কি বলতে চান? এসব তো সেই প্রথম থেকেই ঘটে আসছে। আপনি তাহলে কোন কুরআন পড়েন? আর তখন সেই সব সাহাবাগণ কি করেছিলেন? তারা কিভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন? একটা বিখ্যাত হাদীসের কথা আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, যা বেশ কয়েকটি বর্ণনায় এসেছে। একদিন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ও আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) একসাথে বসেছিলেন। কিছু লোক এসে আবু বকর (রাঃ)কে অপমান করা শুরু করল। অন্য এক বর্ণনায়, তারা আবু বকর (রাঃ) কে একবার নয়, দুইবার নয়, তিনবার অপদস্থ করল। তৃতীয়বারের সময় আবু বকর (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন, তিনি আর সহ্য করতে পারছিলেন না। কারণ তারা শুধু তাঁকেই অপমান করছিল না, তাঁর পরিবার, তাঁর মা, তাঁর বোন, তাঁর মেয়েদের নিয়েও অপমানজনক কথা বলছিল। জানেন তো ঐ লোকদের চরিত্র, তাদের মধ্যে কোন শ্রদ্ধাবোধ ছিল না। অন্য আরেকটি বর্ণনায় বলা আছে, তিনি তখনও বসে রইলেন। উঠলেন না।  লোকগুলি যখন ভাবল, এর তো কিছুই হচ্ছেনা, এর যথেষ্ট ধৈর্য। আমরা যদি এর নবীকে অপমান করে কথা বলি তাহলে অবশ্যই সে রেগে উঠবে। তাই তারা মহানবী (সাঃ) কে আবু বকর (রাঃ) এর সামনে অভিশাপ দিতে শুরু করল। আপনি আর আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কে ভালবাসি। কিন্তু আমরা কখনো তা আবু বকর (রাঃ) এর ভালবাসার সাথে তুলনা করতে যাবো না। কখনই না। আবু বকর (রাঃ) তখন মহানবী (সাঃ) এর অপমান আর সইতে পারলেন না। তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তিনি উঠে দাঁড়ানোর পর রাসুল (সাঃ)ও উঠে গেলেন। যে মুহূর্তে আবু বকর (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন, মহানবী (সাঃ)ও উঠে অন্য দিকে চলে গেলেন। এখন আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) দ্বিধায় পরে গেলেন, তিনি কি সেই লোকদের দিকে ফিরে উত্তর দেবেন, সেই আহাম্মকদের দিকে, নাকি তাঁর রাসুল (সাঃ)এর পেছনে যাবেন। তিনি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর পেছন পেছন গেলেন। আর জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি ভুল কিছু বলেছি? আমি কি কোন ভুল করে ফেলেছি? এই বর্ণনার কয়েকটি সংস্করণ আছে। রাসুল (সাঃ) বললেন- ‘তুমি যতক্ষণ বসে ছিলে, ফেরেশতারা আমাদের ঘিরে রেখেছিল। যেই মুহূর্তে তুমি রেগে গিয়ে উঠে দাঁড়ালে, ফেরেশতারা সেখান থেকে চলে গেল আর শয়তান এসে হাজির হল। আর যেখানে ফেরেশতারা থাকে না, সেখানে আমিও থাকি না।’ মহানবী (সাঃ) এর উত্তর ছিল এটা। রাসুল (সাঃ) এভাবে তাঁর সাহাবাগণ কে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন - যখন আমাকে অপমান করা হয়, এভাবে আচরন কর। ধৈর্যশীল হও, ধৈর্যশীল হও।

আমার তায়েফের ঘটনাটি মনে পড়ছে। তায়েফবাসীরা মহানবী (সাঃ) শুধু কথা দিয়েই কষ্ট দেয়নি; তারা প্রায় তাঁকে মেরেই ফেলেছিল। তারা পাথর ছুঁড়ে মারছিল, রাস্তার মাস্তানদেরকে পেছনে লেলিয়ে দিয়েছিল। রাসুল (সাঃ)এর পেছনে পেছনে ধাওয়া করছিল, পাথর ছুঁড়ে আঘাত করছিল। এদিকে রাসুল (সাঃ) এর ক্ষত বিক্ষত শরীর থেকে যখন রক্ত ঝরছিল, তিনি সেই রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই হাত দিয়ে তুলে ফেলছিলেন, কারণ তিনি জানতেন, তাঁর রক্ত মাটিতে পড়লে আল্লাহর গযব নেমে আসবে। তিনি চাননি যে এই মাটি সাক্ষ্য দিক যে তারা কোন নবীর রক্ত ঝরিয়েছে। রসুল (সাঃ) নিজেকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন না, তিনি চিন্তিত ছিলেন সেই লোকদের জন্য, তাদের জন্য তিনি নিজের রক্ত মাটিতে ঝরার আগেই ধরে ফেলছিলেন। আর শেষ পর্যন্ত যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল এই জনপদকে গজবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে কিনা, তিনি বললেন- না, হয়তো এদের মধ্য থেকে এমন সন্তান সন্ততি, বংশধর জন্মাবে যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে। এবং আপনারা কি জানেন- রাসুল (সাঃ) এর ইন্তেকালের পরে, মুসলিম উম্মাহ একটি বিশৃঙ্খল সময় পার করছিল যখন কিছু মানুষ ইসলাম কে সমর্থন করছিল, কিছু মানুষ সমর্থন করছিল না; শুধুমাত্র দুইটি জনপদেরর মানুষ এই দুঃসময়েও ইসলামকে দৃঢ় ভাবে আঁকড়ে রেখেছিল – মক্কাবাসীরা ও তায়েফবাসীরা। আবু বকর সিদ্দীকের খিলাফতের সময় ইসলামকে সুদৃঢ় রাখার ব্যপারে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিল এই তায়েফবাসীরাই; যা সেই সঙ্কট মুহূর্তে খুবই জরুরী ছিল। সেই তায়েফ এরই অধবাসীরা যারা এক সময় রসুল (সাঃ) কে প্রায় মেরেই ফেলছিল। রাসুল (সাঃ) তাদের উপর ক্ষিপ্ত হননি, তিনি তাদের জন্য আফসোস করেছেন। তাই তিনি তাদের জন্য দোয়া করেছেন। আজ তাদের প্রতি আমার মনোভাবও এটাই। যেই উম্মতের মধ্যে দয়া ও করুণা বিরাজমান তাদের মনোভাব হবে এই রকম। এটাই রাসুল (সাঃ) মনোভাব ও প্রতিক্রিয়া যখন বার বার আবু জেহেল তাঁকে অপমান করেছে। তারপরও তিনি দোয়া করে গেছেন, সুবহানাল্লাহ!

এই প্রসঙ্গে আরও একটা বিষয় আপনাদেরকে জানাতে চাই। মহানবী (সাঃ)কে এই বিষয়ে এভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যে- আপনি রেগে যাবেন না। আল্লাহ তা’য়ালা কুরআনে বার বার করে তাঁকে বলেছেন- যখন তারা অপমান করে, আপনি রেগে যাবেন না।
فَإِن كَذَّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَ رُسُلٌ مِّن قَبْلِكَ
 “অতঃপর যদি তারা তোমার প্রতি অসত্যারোপ করে, তবে তোমার পূর্বেও রাসুলগণকে অবিশ্বাস করা হয়েছিলো...”[সূরা আল ইমরানঃ ১৮৪]
আল্লাহ বলছেন, তারা আপনার প্রতি মিথ্যারোপ করেছে, অন্যান্য রসুলগণের বিরুদ্ধেও মিথ্যারোপ করা হয়েছিল; এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়।
 وَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ هَجْرًا جَمِيلًا
“লোকেরা যাই বলে, তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং উত্তম পন্থায় তাদেরকে পরিহার কর।” [সূরা মুজাম্মিলঃ ১০]
 ‘মা ইয়া ক্বূলূন’ আরবীতে একটি খুব শক্তিশালী কথা; যার অর্থ ‘যা কিছুই তারা বলুক ।' ভাষাবিদরা বলেন, এখানে ‘মা’ শব্দটি একটি অনিশ্চয়তা বোধক শব্দ। এখানে ‘মা’ এর পরিবর্তে যদি ‘আল্লাযী’ বলা হত তাহলে তা অনেক সুনির্দিষ্ট করে কিছুকে নির্দেশ করত। কাজেই যদি আয়াতটিতে কাফিরদের বলা কোন নির্দিষ্ট একটি কথার জবাবে ধৈর্য ধারণ করার কথা বলা হত তাহলে আয়াত টি হত- “ওয়াসবির ‘আলা আল্লাযী ইয়া ক্বূলূনা...।" কিন্তু এখানে বলা হয়েছে, “ওয়াসবির ‘আলা মা ইয়া ক্বূলূনা...” অর্থাৎ ‘তারা যা-কিছুই বলুক।' আজ তারা আপনাকে একটা কিছু বলে অপমান করছে, কাল অন্য কিছু বলবে; কিচ্ছু আসে যায় না, আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। এবং এই আয়াতে বর্তমান কাল ও ভবিষ্যৎ কাল দুইটাই বিদ্যমান। কাজেই, লোকেরা আজ যা কিছু বলছে, এবং কাল যা কিছুই বলুক, আপনি চিন্তিত হবেন না। আর লোকেরা শুধু রাসুল (সাঃ) কে অপমান করেই ক্ষান্ত হয়নি। আমরা জানি, যখন রাসুল (সাঃ) হিজরত করে মদিনায় গেছেন, তাঁর পরিবারকে নিয়েও অবমাননাকর কথা বলা হয়, মা আয়েশা (রাঃ) এর বিরুদ্ধেও অপমানজনক কথা রটানো হয়। কুরআনে এরকম অসংখ্য ঘটনার উল্লেখ আছে যেখানে বলা হয়েছে কিভাবে রাসুল (সাঃ) কে কাফিররা এমনকি মুসলমানবেশী মুনাফিকরাও অপমান অপদস্থ করেছে। দুনিয়াবী কোন কিছু লাভের আশা নবী রাসুলগণের মধ্যে নেই। কিন্তু মুনাফিকেরা এই বলে রাসুল (সাঃ) এর অপমান করেছে- তিনি যুদ্ধ করেন যাতে বেশী বেশী সম্পদ পেতে পারেন। মুনাফিকেরা অপমান করেছে। মুশরিক, কাফেররা অপমান করেছে। রাসুল (সাঃ) এর পরিবারকেও অপমান করেছে। তখন কোন প্রতিবাদ হয়েছিলো? মদিনার সাহাবাগণ, মুহাজির ও আনসারগণ – তাঁরা কি রাসুল (সাঃ) কে ভালোবাসতেন না? তাঁরা কি এইসব অপমান দেখেননি? তাঁরা কোন বাড়ি ঘরে আগুন লাগিয়েছিল? তাঁরা কোন গাড়ি মাড়িয়েছিল? তাঁরা কি রাস্তার কোন অমুসলিমকে দেখে বলেছিল- ঐ যে একজন ইহুদীকে দেখছি। ইহুদীরা অপমানজনক কথা বলেছে, চল ওকে মেরে ফেলি, একজন ইহুদীকে পেয়েছি।

 আমাদের কি হয়েছে? কি হয়ে গেছি আমরা? আপনারা এটাকে দ্বীনকে রক্ষা করা বলেন? আমি আপনাদের মতো ক্ষিপ্ত নই। আপনারা যদি এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আপনারা কুরআন ঠিক মতো পড়েননি। আপনারা যদি এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আপনারা রাসুল (সাঃ) কে জানেননি। আপনারা সাহাবাগণকে চেনেন না, আপনারা এই মানুষগুলোর আদর্শ সম্পর্কে অজ্ঞ। কি নিয়ে আপনাদের এত ক্ষোভ? এটা খুবই বেদনাদায়ক!

 ক্রোধ নিয়েই আমাদের সবার জন্য একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই। একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখাতে চাই বিষয়টা। যখন আল্লাহর রাসুল (সাঃ)এর অবমাননা করা হয়, তখন আল্লাহ বলেন, এটা আপনার অপমান নয়। ওরা আপনাকে বিদ্রুপ করছে না। ওরা অন্যায় করছে, ওরা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করছে। ওরা রাসুল হিসেবে আপনাকে অপমান করছে। আপনি কুরআন নিজ থেকে নিয়ে আসেননি, আপনি অপমানিত হবেন না। আপনি নিজে নিজে রাসুল হননি, আপনি নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেন নি যে আপনি একদিন রাসুল হবেন; আমি আপনাকে রাসুল হিসেবে নির্বাচন করেছি, আমি আপনাকে কুরআন দিয়েছি; কাজেই ক্রুদ্ধ হওয়ার অধিকার আমার, আপনি ক্রুদ্ধ হবেন না; এরা আমাকে অপমান করছে। ক্রোধ কে আল্লাহ নিজের করে নিয়েছেন। ক্রুদ্ধ হওয়া আল্লাহ সুবহানা ওয়াতা‘আলাকেই সাজে। আমার কিছু যুবক ভাই ভাবতে পারেন, যা আল্লাহ কে রাগিয়ে দেয়, তাতে আমাদেরও রেগে যাওয়া উচিত। তাহলে আপনাদের আরেকটু বুঝিয়ে বলি। একটি ছোট্ট উদাহরন দেই। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছি; আমরা মুলতঃ খৃস্টান জনগোষ্ঠী দিয়ে পরিবেষ্টিত। আমরা কুরআনে পাই, আল্লাহ বলেন-

“তারা বলে- করুনাময় আল্লাহ সন্তান গ্রহন করেছেন। তোমরা তো এক বীভৎস কথার অবতারণা করেছ। এতে যেন আকাশসমূহ বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খণ্ডবিখণ্ড হবে ও পর্বতসমূহ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে আপতিত হবে। যেহেতু তারা দয়াময়ের উপর সন্তান আরোপ করে।” [সূরা মারইয়ামঃ ৮৮-৯১]

 এখন কল্পনা করুন, এই বিল্ডিং এর ঠিক বাইরে একটি গির্জায় একজন লোক বলছে- আল্লাহর পুত্র আছে। আপনি কি কথাটি শুনতে পারবেন? না। কথার আওয়াজ কি দেওয়াল ভেদ করে আপনাদের কানে আসবে? না। আল্লাহ বলেন, প্রতিবার যখন এধরনের কথা উচ্চারিত হয়, এই আওয়াজ সমস্ত আকাশ মণ্ডলী ও পৃথিবীতে পৌঁছে যায়। সমগ্র সৌরজগৎ তা শুনতে পায়। এবং তা প্রায় বিদীর্ণ হয়ে যায়, খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যেতে চায়। এই সমগ্র বিশ্ব চরাচর তা সহ্য করতে পারে না। এটা প্রায় ধ্বংস হয়ে যেতে চায়। আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টি তখন এতটাই অপমানিত হয় যখন বলা হয় আল্লাহ সন্তান গ্রহন করেছেন। আমরা তা শুনি না। কিন্তু গায়েবের জগতে সমস্ত আকাশ মণ্ডলী ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। আল্লাহর কাছে এটা এতটাই অপমানজনক যখন কেউ বলে আল্লাহ সন্তান গ্রহন করেছে। এমন হল আল্লাহর ক্রোধ। এখন এই ক্রোধের কথাটি মাথায় রাখুন। একবার খ্রিস্টানদের একটি দল রাসুল (সাঃ) এর সাথে মদীনায় দেখা করতে এলো; তারা শুনেছে যে তিনি নাকি একজন রাসুল, এবং তিনি সেই রসুল যার কথা আগে তাদের কিতাবে বলা আছে। তাই তারা আমাদের রাসুল (সাঃ)কে দেখতে এলো। আর এই ঘটনাটি যেই সময়ের, সেই সময় এই লোকগুলো ঈসা (সাঃ) এর উপাসনা করত। আর আপনারা জানেন, সেই সময় কোন ‘হলিডে ইন’, ‘হিলটন’ বা ‘শেরাটন হোটেল’ ছিল না। তাহলে এই খৃস্টান লোকগুলো কোথায় উঠবে? তারা ছিল খৃস্টান পাদ্রী, বিশপ, তাদের ধর্মের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদল এরা। খৃস্টান ধর্মের রাজদূত এরা। কোথায় থাকবে তারা? রাসুল (সাঃ) সিদ্ধান্ত নিলেন, এরা মসজিদে-এ-নববী তে থাকবে। এরা কোথায় উপাসনা করবে? এরা উপাসনা করবে মসজিদে-এ-নববীতে, রাসুল (সাঃ) এর মসজিদে। এরা ইসলামের প্রথম শিক্ষাঙ্গনে এদের উপাসনা করবে। সেই স্থানে যেখানে ইসলামের শিক্ষা দেয়া হয়, তারই মাঝে এরা উপাসনা করবে। মদীনায় তাওহীদ প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে একদল লোক থাকবে এবং যীশু খৃষ্টকে রব বলে ডাকবে। আল্লাহ কি এতে খুশী হবেন না ক্রুদ্ধ হবেন? অত্যন্ত ক্রুদ্ধ। কিন্তু কার এখানে বিচলিত না হয়ে বরং নরম, নমনীয়, সৌজন্যবোধ সম্পন্ন, মহানুভব আচরণ করার কথা? রাসুল (সাঃ) এর। ক্রুদ্ধ হওয়ার অধিকার আল্লাহর আছে। আপনার এবং আমার নেই। আল্লাহ আপনার এবং আমার প্রভু। তাঁর অধিকার আছে তাঁর দাসদের উপর ক্রুদ্ধ হওয়ার। অন্য আরেকজন মানুষ তো আমার দাস নয়। সে আল্লাহর দাস। আমার যদি কিছু করার অনুমোদন থাকে, তা হলো বড়জোর আমি চিন্তিত হতে পারি, আফসোস করতে পারি। আল্লাহ কখনও তাঁর রাসূল (সাঃ) কে বলেননি- আপনি তাদের উপর ক্রুদ্ধ হবেন না। কারণ মহানবী (সাঃ) কখনও তাদের উপর ক্রুদ্ধ হননি, তিনি জানেন ইসলামের স্থান কোথায়। আল্লাহ তাঁকে বলেন- আপনি তাদের জন্য এত মনকষ্টে ভুগবেন না, তাদের জন্য এত আফসোস করবেন না। আল্লাহ এভাবে সান্ত্বনা দিয়েছেন তাঁর রাসুল (সাঃ) কে।

 আমাদের উম্মাহর আজ কি হয়েছে? প্রতিক্রিয়ার পর প্রতিক্রিয়া, প্রতিক্রিয়ার পর প্রতিক্রিয়াশীল একটি উম্মাহ। আমাকে মানুষের এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যে – কেন মুসলমানেরা এতো প্রতিক্রিয়াশীল? কেন তারা এত উত্তেজিত হয়ে যায়? আর মুসলমানেরা এর নানা রকম কারণ দেখানোর চেষ্টা করে। আমার খুৎবার শুরুতে তা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। আমরা আমাদের মহানবী (সাঃ) কে এত ভালবাসি, তাই আমরা এত উত্তেজিত হয়ে যাই। এই কারণে পাকিস্তান, লিবিয়া, মিশরের মতো মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে আমরা গাড়ি ভাংচুর করি, ঘরবাড়ি দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করি- কারণ আমরা রাসুল (সাঃ) কে ভালবাসি। এটা আপনাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ! আপনারা এই নিয়ে আছেন? অনেকেই হয়তো বলবেন- হ্যাঁ, কেন নয়? কারণ জানেনই তো, এটাই শুধু সমস্যা নয়, আরও অনেক সমস্যা আছে। আমি জানি, আরও অনেক সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে অসন্তোষ আছে। সবাই শুধু একটি সমস্যা নিয়েই প্রতিবাদ করছে না; সমস্যা মূল আরও ব্যপক এবং গভীর। কিন্তু যদি আপনি এবং আমি, অথবা অন্য কোন মুসলমান সেই সব সমস্যা একীভূত করে ইসলামকে ব্যবহার করে এরকম প্রতিবাদ, ভাংচুরের মাধ্যমে  সমাধান করার চেষ্টা করে বলি- ‘এগুলো দ্বীনের অংশ’, তাহলে এই কথায় আমাদের ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত।  ধরে নেই, মুসলমানেরা প্রতিবাদ করছে, ঠিক আছে। ধরে নেই, তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সামাজিক মূল্যবোধ এই সবকিছু নিয়ে সমস্যা আছে, ঠিক আছে। কিন্তু এতে ইসলামকে টেনে আনবেন না। আমাদের দ্বীনে এসব নেই। এর মধ্যে বিদ্বেষ, ঘৃণার অনুপ্রবেশ ঘটাবেন না। দ্বীন অনেক অনেক সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখে।
 বক্তব্যের শেষ প্রান্তে এসে আপনাদের চলে যাওয়ার আগে আরেকটি কথা জানাতে চাই। 

আবার, আমার যুবক মুসলমান ভাইদেরকে উদ্দেশ্য করে। আজকের দিনে এই পৃথিবীতে আমাদের কাজ হল দ্বীনকে নিজের মধ্যে ধারণ করে দ্বীনের প্রতিনিধিত্ব করা। মানুষকে জানানো যে ইসলাম আসলে কি। আপনার প্রতিবেশীরা কি জানে ইসলাম কি? না। এমনও অনেক মানুষ আছে যারা মসজিদের পাশেই ২০ বছর ধরে বসবাস করছে; অথচ তারা জানেও না ইসলাম কি। ‘মুসলমান লোকগুলো আসে, আমাদের বাগানে তাদের গাড়ি যেনতেন ভাবে পার্ক করে রেখে নামায পড়তে যায়, নামায শেষে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। আমরা শুধু জানি এরা প্রতিবেশীদের সাথে মেলামেশা করে না, প্রতিবেশীদের অপছন্দ করে; তাই প্রতিবেশীরাও এদের অপছন্দ করে।’  এই হল মুসলমানদের সম্পর্কে অমুসলিম প্রতিবেশীদের ধারণা। ইসলাম সম্পর্কে এটুকুই হল তাদের অভিজ্ঞতা। আরও দুঃখজনক ব্যপার কি জানেন? যে যুবসমাজ যারা এই নিম্নমানের মানের, কুরুচিকর, হীনবুদ্ধির ফিল্মটি দেখে উত্তেজিত হচ্ছে, সেই একই যুবসমাজ কখনও সম্পূর্ণ কুরআনটি জীবনে একবারও পড়ে দেখেনি। তারা কখনও আল্লাহর কিতাবটি পড়েও দেখেনি। আপনাদের সেইসব ভিডিও দেখার সময় আছে, আর আল্লাহর বইটি পড়ার সময় নেই? আপনারা বুঝতে পারছেন না আসল সমস্যাটি কোথায়? আসল কথা এটা না যে আমরা আমাদের রাসুল (সাঃ) কে বেশী ভালবাসি। আসল কথা হল আমাদের নিজেদের দ্বীন সম্পর্কে আমাদের মূল শিক্ষাটাই নেই। সেটাই সত্যিকারের সমস্যা। আমরা জানি না যে আমাদের দ্বীন আমাদেরকে সভ্যতা শেখায়, আমাদের শালীনতা শেখায়, আমাদেরকে ধৈর্যশীলতা শেখায়, আমাদেরকে অহেতুক প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধা দেয়, আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়, আমাদের আবেগতাড়িত হতে বাধা দেয়। আমরা সত্যিকারের দ্বীন জানলে আজ ল্যাবরেটরির ইঁদুর মতো হতাম না। আপনারা জানেন ওরা শুধুই টাকা কামাতে চায়। তাই ওরা জানে, মুসলমানদের আক্রমণ করে কিছু বানাও; তারপর দেখ- কেমন তোলপাড় হয়, আমরা কেমন করে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসি, কিভাবে হিট হয়ে যাই। কারণ মুসলমানেরা কি করবে তা তো জানাই আছে। ওরা হল ল্যাবের ইঁদুরের মতো; এদের নিয়ে খেলা করা যায়। একটু খোঁচা দিলেই এরা উত্তেজিত হয়ে যায়। আর আমরাও প্রতিবারই ওদের পাতা ফাঁদে পা দেই। আর এতে যদি কারও কিছু হয় তাহলে তা শুধু ওদেরই লাভ হচ্ছে।

আর হ্যাঁ, এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি আমরাই এবং আমাদেরই দাওয়াহ প্রচেষ্টার। এখন আমি যদি কাউকে ইসলামের ব্যপারে কোন দাওয়াহ দিতে যাই, আমি তাদের সাথে আল্লাহ্‌ সম্পর্কে কিছু বলতে পারব না, আমি তাদের সাথে আমাদের রাসুল (সাঃ) সম্পর্কে কিছু বলতে পারব না, আমি তাদের সাথে কুরআন সম্পর্কে কিছু বলতে পারবনা; প্রথমেই আমাকে ব্যাখ্যা করতে হয় যে, সব মুসলমানই আসলে ক্ষ্যাপা না। ওরা বলে, ‘আমি CNN দেখলাম তো মুসলমানেরা কি করে, দেখলাম ওরা পুলিশের সাথে কেমন দাঙ্গা ফ্যাসাদ করছে...ইত্যাদি, ইত্যদি’- পুরো আলোচনার মোড় ঘুরে যায়। দ্বীনের বিষয়ে আরও কিছু বলার উপায় আর থাকে না, কারণ আমাকে তখন কোন উত্তেজিত মুসলান ভাইয়ের বুদ্ধিহীন আচরণ সম্পর্কে কৈফিয়ত দিতে হয়। কোন অপরিণত মুসলমান ভাই সম্পর্কে যাকে সহজেই ইচ্ছামতন ব্যবহার করা যায়। আমরা আমাদের উম্মাহর যুবসমাজকে সঠিক শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। আবেগকে সামাল দিয়ে বুদ্ধিমত্তার সাথে আচরণ করার শিক্ষা। বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তাশীল আচরণ করার শিক্ষা।

আল্লাহ্‌ সুবহানা ওয়াতা’আলা মহানবী (সাঃ)কে করা সবচেয়ে অবমাননাকর কথাগুলোর সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত, চিন্তাশীল জবাব কুরআনে দিয়েছেন। এই হল আমাদের দ্বীন। কুরআনের দুই তৃতীয়াংশই হল এমন সব লোকের সাথে কথোপকথন যারা একে বিশ্বাসও করত না। রাসুল (সাঃ) কি করেছিলেন? এমন সব মানুষকে এটি শোনাচ্ছিলেন যারা একে অবিশ্বাস করত। আর ওরা জবাবে অপমান করত, সমালোচনা করত; আর এই নিয়ে আরও আলোচনা চলত, কেউ কাউকে হত্যা করার প্রচেষ্টা ছাড়াই। আর ওরা যখন মুসলমানদেরকে মেরে ফেলার চেষ্টা করত, মুসলমানগণ স্থির থাকতেন। এবং আল্লাহ্‌ কুরআনে এমন একটি পুরো সময়কালের কথা বলেছেন, যা ছিল মুসলমান ও মুশরিকদের মধ্যকার কথোপকথনের দশক। এমন একটা সময়ের কথা বলেছেন যখন মুসলমানেরা মদিনায় হিজরত করে। আপনাদের কি সেই নীতির কথা মনে পড়ে, ‘কুফফু আইদিইয়াকুম’ বা ‘অস্ত্র সংবরণ কর’? আপনাদের কি সেই সময়ের কথা মনে পড়ে যখন নির্দেশ ছিল- ‘যুদ্ধ নয় আলোচনা’? মনে পড়ে? আমাদের নিজেদেরকে সেই কথাগুলো স্মরণ করাতে হবে কারণ আল্লাহ্‌ সসুবহানা ওয়াতা’য়ালা নিজে তা বলেছেন। আমাদের এত প্রতিক্রিয়াশীল হওয়া থামাতে হবে। আমাদের এভাবে ভাবা বন্ধ করতে হবে- কুরআনের এইখান থেকে কিছু শিক্ষা নিলাম, ঐখান থেকে কিছু নিলাম। পুরো ছবিটা একসাথে বুঝতে চেষ্টা করুন যেটা আল্লাহ্‌ কুরআনে উপস্থাপন করেছেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আল্লাহ্‌ আমাদেরকে এই কিতাবের সঠিক জ্ঞান দান করেন। এসব কোনদিনও শেষ হবে না; এই সব অপরিণত প্রতিক্রিয়া, এই সব মূর্খতা ও অজ্ঞতা কখনও দূর হবে না যদি না আমরা আল্লাহর কিতাব থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহন করি। এই কিতাব শুধু আমাদের মনকেই প্রভাবিত করে না, এটা আমাদের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়।

 আল্লাহ্‌ যেন আমাদেরকে, আমাদের পরিবারকে, আমাদের সমস্ত উম্মাহকে সেই শিক্ষায় শিক্ষিত করেন যেমন শিক্ষা আমাদের প্রয়োজন। আল্লাহ্‌ যেন এই উম্মাহ কে অন্ধকার থেকে বের করে আনেন। আল্লাহ্‌ যেন আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা সাহসের সাথে সত্য বলতে পারে, এবং সময় হলে একে অপরের সাথে সভ্য ও সশ্রদ্ধ মতানৈক্যে লিপ্ত হওয়া জানে। এবং আল্লাহ্‌ যেন আমাদেরকে তাদের দলভুক্ত করেন যারা সত্যিকারভাবে এই দ্বীনের সৌন্দর্য ধারণ করতে পারে এবং তা তাদের প্রতিবেশী ও সমস্ত বিশ্বকে দেখাতে পারে। আমীন।

Source: http://www.quraneralo.com/to-my-angry-young-muslim-brother/
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

0 comments
Labels:

বছরের শ্রেষ্ঠ ১০ দিনে করণীয় ১০ আমল

আল্লাহ তা‘আলা দয়ালু। তাই তিনি আপন বান্দাদের তওবার সুযোগ দিতে ভালোবাসেন। তিনি চান বান্দারা ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করুক। এ উদ্দেশ্যে তিনি আমাদের জন্য বছরে কিছু বরকতময় ও কল্যাণবাহী দিন রেখেছেন- যাতে আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। আমরা পরীক্ষার দিনগুলোতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাই সবচে ভালো ফলাফল অর্জন করার জন্য। তবে কেন আখেরাতের জন্য এসব পরীক্ষার দিনগুলোতেও সর্বাধিক প্রচেষ্টা ব্যয় করব না? এ দিনগুলোতে আমল করা তো বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি নেকী ও কল্যাণ বয়ে আনে। এমন দিনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যিলহজ মাসের এই প্রথম দশদিন। এ দিনগুলো এমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেগুলোকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাতে আমলের প্রতি তিনি সবিশেষ উদ্বুদ্ধ করেছেন। এ দিনগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে শুধু এতটুকুই যথেষ্ট যে আল্লাহ তা‘আলা এর কসম করেছেন।

যে কারণে এই দশ দিন বছরের শ্রেষ্ঠ দশ দিন


. আল্লাহ তা‌আলা এর কসম করেছেন : আল্লাহ তা‌‘আলা যখন কোনো কিছুর কসম করেন তা কেবল তার শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদাই প্রমাণ করে। কারণ, মহা সত্তা শুধু মহা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েরই কসম করেন। আল্লাহ তা‌‘আলা বলেন,
‘কসম ভোরবেলার। কসম দশ রাতের।’ {সূরা আল-ফাজর, আয়াত : ১-২} আয়াতে ‘কসম দশ রাতের’ বলে যিলহজের দশকের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। এটিই সকল মুফাসসিরের মত। ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
এ মতটিই সঠিক।
২ এসবই সেই দিন আল্লাহ যাতে তাঁর জিকিরের প্রবর্তন করেছেন : আল্লাহ তা‌‘আ বলেন, ‘যেন তারা নিজদের কল্যাণের স্থানসমূহে হাযির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিজিক দিয়েছেন তার ওপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’ {সূরা আল-হজ, আয়াত : ২৮} জমহূর উলামার মতে, আয়াতে নির্দিষ্ট দিনসমূহ বলে যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনকে বুঝানো হয়েছে। এটিই ইবন উমর ও ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমার মত।
৩. রাসূলুল্লাহ দিনগুলোকে শ্রেষ্ঠ দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন : যিলহজের এই দিনগুলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন জাবির রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
‘পৃথিবীর দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিনগুলো হলো দশকের দিনসমূহ। অর্থাৎ যিলহজের (প্রথম) দশদিন। জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর পথে জিহাদেও কি এর চেয়ে উত্তম দিন নেই? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদেও এর চেয়ে উত্তম দিন নেই। হ্যা, কেবল সে-ই যে (জিহাদে) তার চেহারাকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।’ [মুসনাদ বাযযার : ১১২৮; মুসনাদ আবী ই‘আলা : ২০৯০]
৪. এই দিনগুলোর মধ্যে রয়েছে আরাফার দিন : আরাফার দিন হলো বড় হজের দিন। এটি ক্ষমা ও মাগফিরাতের দিন। জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও নাজাতের দিন। যিলহজের এই দশকে যদি ফযীলতের আর কিছু না থাকত তবে এ দিবসটিই তার মর্যাদার জন্য যথেষ্ট হত। এ দিনের ফযীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘আরাফা দিবসই হজ’। [তিরমিযী : ৮৯৩; নাসায়ী : ৩০১৬]
৫. এতে রয়েছে কুরবানীর দিন : কোনো কোনো আলিমের মতে কুরবানীর দিনটি বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো কুরবানীর দিন অতপর স্থিরতার দিন’। (অর্থাৎ কুরবানীর পরবর্তী দিন। কারণ, যেদিন মানুষ কুরবানী ইত্যাদির দায়িত্ব পালন শেষ করে সুস্থির হয়।) [নাসায়ী : ১০৫১২; ইবন খুযাইমা, সহীহ : ২৮৬৬]
৬. এ দিনগুলোতে মৌলিক ইবাদতগুলোর সমাবেশ ঘটে :
হাফেয ইবন হাজর রহিমাহুল্লাহ তদীয় ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেন,‘যিলহজের দশকের বৈশিষ্ট্যের কারণ যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এতে সকল মৌলিক ইবাদতের সন্নিবেশ ঘটে। যথা : সালাত, সিয়াম, সাদাকা, হজ ইত্যাদি। অন্য কোনো দিন এতগুলো ইবাদতের সমাবেশ ঘটে না।’ [ফাতহুল বারী : ২/৪৬০]

এই দশটি দিনের আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়

ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘এমন কোনো দিন নেই যার আমল যিলহজ মাসের এই দশ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? রাসূলুল্লাহ বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধে বের হল এবং এর কোনো কিছু নিয়েই ফেরত এলো না (তার কথা ভিন্ন) [বুখারী : ৯৬৯; আবূ দাউদ : ২৪৪০; তিরমিযী : ৭৫৭]
আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‘এ দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোন আমল নেই। তাই তোমরা এ সময়ে তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আল-হামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি করে পড়।’ [মুসনাদ আমহদ : ১৩২; বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪৭৪; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৪]
অন্য বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,যিলহজের (প্রথম) দশদিনের মতো আল্লাহর কাছে উত্তম কোনো দিন নেই। সাহাবীরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আল্লাহর পথে জিহাদেও কি এর চেয়ে উত্তম দিন নেই? তিনি বললেন, হ্যা, কেবল সে-ই যে (জিহাদে) তার চেহারাকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।’ [সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব : ২/১৫; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৩]
এ হাদীসগুলোর মর্ম হল, বছরে যতগুলো মর্যাদাপূর্ণ দিন আছে তার মধ্যে এ দশ দিনের প্রতিটি দিনই সর্বোত্তম। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনসমূহে নেক আমল করার জন্য তাঁর উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। তাঁর এ উৎসাহ প্রদান এ সময়টার ফযীলত প্রমাণ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনগুলোতে বেশি বেশি করে তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন ওপরে ইবন উমর রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ হয়েছে।
ইবন রজব রহিমাহুল্লাহ বলেন, উপরোক্ত হাদীসগুলো থেকে বুঝা যায়, নেক আমলের মৌসুম হিসেবে যিলহজ মাসের প্রথম দশক হল সর্বোত্তম, এ দিবসগুলোয় সম্পাদিত নেক আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। হাদীসের কোনো কোনো বর্ণনায় أَحَبُّ (‘আহাব্বু’তথা সর্বাধিক প্রিয়) শব্দ এসেছে আবার কোনো কোনো বর্ণনায় أَفْضَلُ (‘আফযালু’ তথা সর্বোত্তম) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। অতএব এ সময়ে নেক আমল করা বছরের অন্য যে কোনো সময়ে নেক আমল করার থেকে বেশি মর্যাদা ও ফযীলতপূর্ণ। এজন্য উম্মতের অগ্রবর্তী পুণ্যবান মুসলিমগণ এ সময়গুলোতে অধিকহারে ইবাদতে মনোনিবেশ করতেন। যেমন আবূ ছিমান নাহদী বলেন,
‘তাঁরা অর্থাৎ সালাফ তথা পূর্বসূরীগণ দিনটি দশককে অনেক বেশি মর্যাদাবান জ্ঞান করতেন : রমযানের শেষ দশক, যিলহজের প্রথম দশক এবং মুহাররমের প্রথম দশক।'

এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগানোর ১০টি উপায়

প্রতিটি মুসলিমের উচিত ইবাদতের মৌসুমগুলোকে সুন্দর প্রস্তুতির মাধ্যমে স্বাগত জানানো। যিলহজ মাসকে আমরা স্বাগত জানাতে পারি নিচের কাজগুলোর মধ্য দিয়ে : এ দশ দিন যে আমলগুলো বেশি বেশি করা উচিতঃ

১. এই দশটি দিন কাজে লাগাতে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা :
শুরুতেই যা করা সবার উচিত তা হল, এই দিনগুলোকে পুণ্যময় কাজ ও কথায় সুশোভিত করার দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করা। যে ব্যক্তি কোনো কাজের সংকল্প করে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন। তার জন্য সাহায্যকারী উপায় ও উপকরণ প্রস্তুত করে দেন। যে আল্লাহর সঙ্গে সত্যবাদিতা দেখায় আল্লাহ তাকে সততা ও সফলতায় ভূষিত করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন। {সূরা আল-আ‘নকাবূত, আয়াত : ৬৯}

২. হজ ও উমরা সম্পাদন করা : হজ ও উমরা এ দুটি হলো এ দশকের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। যারা এ দিনগুলোতে হজ আদায়ের সুযোগ পেয়েছেন তারা যে অনেক ভাগ্যবান তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহ যাকে তাঁর নির্দেশিত এবং রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত পন্থায় হজ বা উমরা করার তাওফীক দান করেন তার পুরস্কার শুধুই জান্নাত। কারণ, আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‘এক উমরা থেকে আরেক উমরা এতদুভয়ের মাঝের গুনাহগুলোর কাফফারা এবং মাবরূর হজের প্রতিদান কেবলই জান্নাত।’[বুখারী : ১৭৭৩; মুসলিম : ৩৩৫৫]
আর মাবরূর হজ সেটি যা পরিপূর্ণভাবে সম্পাদিত হয় রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত পন্থায়। যাতে কোনো রিয়া বা লোক দেখানো কিংবা সুনাম বা মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর মানসিকতা নেই। নেই কোনো অশ্লীলতা বা পাপাচারের স্পর্শ। যাকে বেষ্টন করে থাকে নেক কাজ ও পুণ্যময় আমল।

. সিয়াম পালন করা : মুসলমানের জন্য উচিত হবে যিলহজ মাসের এই মুবারক দিনগুলোতে যত বেশি সম্ভব সিয়াম পালন করা। সাওম আল্লাহর অতি প্রিয় আমল। হাদীসে কুদসীতে সিয়ামকে আল্লাহ নিজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহ বলেছেন, সিয়াম ছাড়া আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য; শুধু সিয়াম ছাড়া। কারণ, তা আমার জন্য। তাই আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢাল স্বরূপ।’[বুখারী : ১৯০৪; মুসলিম : ২৭৬২]
সাওম যে এক বড় মর্যাদাসম্পন্ন ও আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল তা আমরা অনুধাবন করতে পারি আমরাএ হাদীস থেকে। তবে রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিনের সাওমের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এর মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। আবূ কাতাদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,আরাফার দিনের সাওম আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিগত ও আগত বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন। [মুসলিম : ১১৬৩]
এ হাদীসের ভিত্তিতে যিলহজের নয় তারিখ সাওম পালন করা সুন্নত। ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহ বলেন, এসব দিনে সাওম পালন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুস্তাহাব। কোনো কোনো দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের মাঝে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, যিলহজ মাসের সাত, আট ও নয় তারিখে সাওম পালন করা সুন্নত। কিন্তু সাওমের জন্য এ তিন দিনকে নির্দিষ্ট করার কোনো প্রমাণ বা ভিত্তি নেই। যিলহজের ১ থেকে ৯ তারিখে যে কোনো দিন বা পূর্ণ নয় দিন সাওম পালন করা যেতে পারে।

. সালাত কায়েম করা : সালাত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, সম্মানীত ও মর্যাবান আমল। তাই এ দিনগুলোতে আমাদের সবার চেষ্টা করা উচিত ফরয সালাতগুলো জামাতে আদায় করতে। আরও চেষ্টা করা দরকার বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করতে। কারণ, নফল সালাতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচে বেশি নৈকট্য হাসিল করে। আবূ হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কোনো অলির সঙ্গে শত্রুতা রাখে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার বান্দা ফরয ইবাদতের চাইতে আমার কাছে অধিক প্রিয় কোনো ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে পারে না। আমার বান্দা নফল ইবাদত দ্বারাই সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। এমনকি অবশেষে আমি তাকে আমার এমন প্রিয়পাত্র বানিয়ে নেই যে,আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে। সে আমার কাছে কোনো কিছু চাইলে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায় আমি তাকে অবশ্যই আশ্রয় দেই। আমি যে কোনো কাজ করতে চাইলে তাতে কোনো রকম দ্বিধা-সংকোচ করি না, যতটা দ্বিধা-সংকোচ করি মুমিন বান্দার প্রাণহরণে। সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে থাকে অথচ আমি তার বেঁচে থাকাকে অপছন্দ করি।’ [বুখারী : ৬৫০২]

৫. দান-সাদাকা করা : এ দিনগুলোতে যে আমলগুলো বেশি বেশি দরকার তার মধ্যে অন্যতম হলো সাদাকা। আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সাদাকা দিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে : হে মুমিনগণআমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা হতে ব্যয় করসে দিন আসার পূর্বেযে দিন থাকবে না কোনো বেচাকেনানা কোনো বন্ধুত্ব এবং না কোনো সুপারিশ। আর কাফিররাই যালিম। {সূরা আল-বাকারা, আয়াত : ২৫৪}
আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,কা সম্পদকে কমায় না, ক্ষমার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং কেউ আল্লাহর জন্য বিনয়ী হলে আল্লাহ তাকে উঁচু করেন।’ [মুসলিম : ৬৭৫৭]

৬. তাকবীর, তাহমীদ ও তাসবীহ পড়া : এসব দিনে তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাহমীদ (আলহামদু লিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া সুন্নত। এ দিনগুলোয় যিকর-আযকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, হাদীসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এ দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোনো আমল নেই। তাই তোমরা এ সময়ে তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আল-হামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি করে পড়।[বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪৭৪; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৪]
তাকবীরের শব্দগুলো নিম্নরূপ : (আল্লাহু আকবারআল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।) উল্লেখ্য, বর্তমানে তাকবীর হয়ে পড়েছে একটি পরিত্যাক্ত ও বিলুপ্তপ্রায় সুন্নত। আমাদের সকলের কর্তব্য এ সুন্নতের পুনর্জীবনের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত ব্যাপক প্রচারণা চালানো। হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে,
‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নতসমূহ থেকে একটি সুন্নত পুনর্জীবিত করল, যা আমার পর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, তাকে সে পরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে, যে পরিমাণ তার ওপর (সে সুন্নতের ওপর) আমল করা হয়েছে। এতে (আমলকারীদের) সওয়াব হতে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।’ [তিরমিযী : ৬৭৭]
যিলহজ মাসের সূচনা থেকে আইয়ামে তাশরীক শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ তাকবীর পাঠ করা সকলের জন্য ব্যাপকভাবে মুস্তাহাব। তবে বিশেষভাবে আরাফা দিবসের ফজরের পর থেকে মিনার দিনগুলোর শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ যেদিন মিনায় পাথর নিক্ষেপ শেষ করবে সেদিন আসর পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের পর এ তাকবীর পাঠ করার জন্য বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ ও আলী রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে এ মতটি বর্ণিত। ইবন তাইমিয়া রহ. একে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত বলেছেন। উল্লেখ্য, যদি কোনো ব্যক্তি ইহরাম বাঁধে, তবে সে তালবিয়ার সাথে মাঝে মাঝে তকবীরও পাঠ করবে। হাদীস দ্বারা এ বিষয়টি প্রমাণিত। [ইবন তাইমিয়াহ, মজমু‘ ফাতাওয়া : ২৪/২২০]

৭. পশু কুরবানী করা : এ দিনগুলোর দশম দিন সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কুরবানী করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর নবীকে কুরবানী করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন ও কুরবানী করুন।’ {সূরা আল-কাউসার, আয়াত : ০২}
এই দশদিনের অন্যতম সেরা প্রিয় আমল হলো কুরবানী। কুরবানীর পশু জবাই ও গরিবদের মধ্যে এর গোশত বিতরণের মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ হয়। এর দ্বারা গরিবদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ পায় এবং তাদের কল্যাণ সাধন হয়।

৮. গুনাহ থেকে দূরত্ব অবলম্বন করা : সৎ কর্মের মাধ্যমে যেমন আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয়, গুনাহের কাজের মাধ্যমে তেমন আল্লাহ থেকে আল্লাহর রহমত ও করুণা থেকে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। মানুষ তার নিজের করা অপরাধের কারণে কখনো আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। তাই আমরা যদি অপরাধ মার্জনা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রত্যাশী হই, তাহলে এ দিনগুলোতে এবং এর শিক্ষা কাজে লাগিয়ে বছরের অন্য দিনগুলোতে গুনাহ পরিত্যাগ করতে হবে। কেউ যখন জানতে পারেন কী বড় অর্জনই না তার জন্য অপেক্ষা করছে, তার জন্য কিন্তু যে কোনো কষ্ট সহ্য করা সহজ হয়ে যায়।

৯. একনিষ্ঠ মনে তওবা : তওবার অর্থ প্রত্যাবর্তন করা বা ফিরে আসা। যে সব কথা ও কাজ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অপছন্দ করেন তা বর্জন করে যেসব কথা ও কাজ তিনি পছন্দ করেন তার দিকে ফিরে আসা। সাথে সাথে অতীতে এ ধরনের কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে অন্তর থেকে অনুতাপ ও অনুশোচনা ব্যক্ত করা। যিলহজের শুভাগমনের আগে সবচে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার এ তওবা তথা সকল গুনাহ থেকে ফিরে আসার প্রতি। স্বার্থক তওবা সেটি যার মধ্যে তিনটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যথা- প্রথম. গুনাহটি সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা। দ্বিতীয়. গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। এবং তৃতীয়. এই গুনাহটি ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করা।

"বাস্তবেই এটি তওবার সুবর্ণ সময়। দয়াময় খোদা এ সময় বেশি বেশি তওবার তাওফীক দেন এবং অধিক পরিমাণে বান্দার তওবা কবুল করেন। তিনি ইরশাদ করেন, ‘তবে যে তাওবা করেছিল, ঈমান এনেছিল এবং সৎকর্ম করেছিল, আশা করা যায় সে সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (কাসাস : ৬৭)
"তিনি আরও ইরশাদ করেন, ‘বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ {যুমার : ৫৩}
অতএব হে মুসলিম ভাই ও বোন, আপনি এ দিনগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সচেষ্ট হোন। সময় চলে যাওয়ার পর আফসোস না করতে চাইলে যিলহজ মাস আসার আগেই এতে অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিন।

অন্য সাধারণ আমল বেশি বেশি করা : 

উপরে যে নেক আমলগুলোর কথা উল্লেখ করা হলো এসব ছাড়াও কিছু নেক আমল আছে যেগুলো দিনগুলোতে বেশি করা যায়ঃ
যেমন : কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, দু‘আ, দান-সাদাকা,
পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচার, আত্মীয়তার হক আদায় করা, মা-বাবার সখী-সখার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো,
সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা, সালামের প্রচার ঘটানো,
মানুষকে খাবার খাওয়ানো, প্রতিবেশিদের প্রতি সদয় আচরণ করা, মেহমানকে সম্মান করা,
পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা, অন্যকে কষ্ট না দেওয়া,
অপর ভাইয়ের প্রয়োজন পুরা করা, অসাক্ষাতে অন্য ভাইয়ের জন্য দু‘আ করা,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়া, পরিবার ও সন্তানদের জন্য অর্থ ব্যয় করা,
আরও যেসকল আমল করতে পারেন সেগুলো হল;
অধিনস্তদের প্রতি সদয় হওয়া,
ওয়াদা ও আমানত রক্ষা করা, হারাম জিনিস থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া,
সালাতগুলোর পরে আল্লাহর জিকির করা, সুন্দরভাবে অযূ করা, আযান ও ইকামতের মাঝখানে দু‘আ করা,
জুমাবারে সূরাতুল কাহফ পড়া, মসজিদে গমন করা, সুন্নত সালাতগুলো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আদায় করা,
ঈদগাহে গিয়ে ঈদুল আযহার সালাত আদায় করা, হালাল উপার্জন করা,
মুসলিম ভাইদের আনন্দ দেওয়া, দুর্বলদের প্রতি দয়ার্দ্র হওয়া, কৃপণতা পরিহার করা,
ভালো কাজে পথ দেখানো, ছেলে-মেয়েদের ‌সুশিক্ষা দেওয়া, কল্যাণকাজে মানুষকে সহযোগিতা করা ইত্যাদি।
এসবের প্রতিটিই ঈমান ও আল্লাহর মুহাব্বত বৃদ্ধি করে ফলে আল্লাহও তাকে বেশি ভালোবাসেন। এসবই একজন মুমিনের চরিত্র মাধুরীর অংশ। এসবের মাধ্যমে একজন মানুষ প্রকৃত মানুষে পরিণত হয়। আল্লাহ এসবের মাধ্যমে দান করেন আত্মিক প্রশান্তি- প্রতিটি আল্লাহ-ভোলা মানুষই যার শূন্যতায় ভোগে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে সেসব ব্যক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন যারা এই সুবর্ণ সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার করে। আমীন।
--------------------------------------------------------------------
মূল :যিলহজের প্রথম দশক : ফযীলত ও আমল
লেখক : আলী হাসান তৈয়ব
সম্পাদনা : ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সংকলন : সরল পথ

Book – কুরবানীর শিক্ষা – ফ্রি ডাউনলোড
http://www.quraneralo.com/book/Kurbanir%20Shikha.pdf


প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না
প্রবন্ধের লেখা  উৎস

http://www.banglaislam.net/best-10-days/ 

0 comments
Labels: , , ,

কোরআনের আলোকে বন্ধু, ঈমানদার ও জান্নাতীদের বৈশিষ্ট



কোরআনের আলোকে বন্ধু:

কোরআনের আলোকে  ঈমানদার :

কোরআনের আলোকে জান্নাতীদের বৈশিষ্ট  :
 

কোরআনের আলোকে ইমাজেন্সি নাম্বার সমুহ

0 comments
Labels:

নামাজে সিজদার বিভিন্ন দোয়া...

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই নামাজে সিজদার জন্য শুধু একটি দোয়াই শিখেছি। অথচ আমাদের রাসুল (সাঃ) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোয়া সিজদার সময় পড়েছেন এবং শিখিয়েছেন। আসুন এই সহজ দোয়াগুলো আমরা শিখে নিই এবং ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দোয়াগুলো যেকোনো একটি করে বিভিন্ন সময়ে পড়ি, যাতে নামাজের অতি অভ্যস্ততার কারণে অমনোযোগিতা আমরা দূর করতে পারি। সেই সাথে কিছু সুন্নাহ জাগ্রত করতে পারি।

১) سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى

“সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা”
অর্থঃ আমার মহান সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি। (তিনবার)
[সহীহ আত তিরমিযী ১/৮৩]

২)سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي

“সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়াবিহামদিকাল্লাহুম মাগফিরলী”
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমার রব্ব! তোমার পূত পবিত্রতা ঘোষণা করি (তোমার প্রসংশা সহ) হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ করে দাও।
[বুখারী ও মুসলিম]

৩) سُبُّوحٌ، قُدُّسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

“সুব্বুহুন ক্কুদ্দুসুন রব্বুল মালা-ইকাতি ওয়াররুহ”
অর্থঃ ফেরেশতাবৃন্দ এবং রুহুল কুদ্দুস (জিব্রাঈল আঃ) এর রব প্রতিপালক স্বীয় সত্তায় এবং গুনাবলীতে পবিত্র।
[মুসলিম ১/৫৩৩]

৪) اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ، وَصَوَّرَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

“আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়াবিকা ‘আ-মানতু ওয়ালাকা ‘আসলামতু সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাযী খলাক্কাহু ওয়াসাও ওয়ারাহু ওয়া শাক্কা সাম‘আহু ওয়া বাসারাহু তাবারকাল্লাহু আহসানুল খ-লিক্কীন”
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য সিজদা করেছি, তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছি, আমার মুখমণ্ডল (আমার সমগ্র দেহ) সিজদায় অবনমিত সেই মহান সত্তার জন্য যিনি উহাকে সৃষ্টি করেছেন এবং উহার কর্ণ ও চক্ষু উদ্ভিন্ন করেছেন, মহিমান্বিত আল্লাহ সর্বোত্তম স্রষ্টা।
[মুসলিম ১/৫৩৪]

৫) "سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرْوتِ، وَالْمَلَكُوتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ".

“সুবহানা যিল জাবারূতি ওয়াল মালাকূতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল ‘আযামাতি ”
অর্থঃ পাক পবিত্র সেই মহান আল্লাহ বিপুল শক্তির অধিকারী, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গরিমা এবং অতুল্য মহত্বের অধিকারী।
[আবু দাউদ ১/২৩০]

৬) اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ، دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلَانِيَتَهُ وَسِرَّهُ

“আল্লাহুম্মাগফিরলী যানবীকুল্লাহু, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আউওয়ালাহু ওয়াআ-খিরাহু ওয়া ‘আলানিয়াতা ওয়া সিররাহু”
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও, ছোট গুনাহ, বড় গুনাহ, আগের গুনাহ, পরের গুনাহ, প্রকাশ্য এবং গোপন গুনাহ।
[মুসলিম ১/৩৫০]

৭) اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ منْ عُقُوبَتِكَ، وَاَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আ’উযু বিরিদাকা মিন সাখাতিকা, ওয়া বিমু’আ-ফাতিকা মিন ‘উক্কুবাতিকা ওয়া ‘আউযু বিকামিনকা, লা-উহসী সানা-আন ‘আলাইকা আনতা কামা আসনাইতা ‘আলা নাফসিকা”
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাই তোমার অসন্তুষ্টি হতে তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে, তোমার শাস্তি হতে তোমার ক্ষমার মাধ্যমে, আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার গজব হতে। তোমার প্রশংসা গুণে শেষ করা যায় না; তুমি সেই প্রশংসার যোগ্য নিজের প্রশংসা যেরূপ তুমি নিজে করেছ।
[মুসলিম ১/৩৫২]

0 comments
Labels:

জানেন নাকি মোহাম্মদ (সঃ)কে না জানলে জেনে নিন



জানেন নাকি মোহাম্মদ (সঃ)কে? না জানলে জেনে নিন কারন আপনার না জানার কারনেই আপনার সামনে আপনার প্রিয় নবী আমাদের রাসুল হজরত মোহাম্মদ (সঃ) সর্ম্পকে মিথ্যা প্রচার করবে আর আপনিও ভাববেন আসলেই কি তাই? যেমন এখন করছে ছবিতে , ওয়েব সাইটে, ফেইসবুকে তাই আসুন মোহাম্মদ (সঃ) কে জানি তবেই না আমরা তাদের ভুল ভান্ঙাতে পারবো, তাদের বলতে পারবো আমি জানি মোহাম্মদ (সঃ) কে, এবং কেন তিনি বিশ্বসেরা মানুষ, সবার জন্য পথ প্রদর্শক, কেন আমেরিকা ও ইংল্যন্ডে ইসলামের দিকে মানুষরা সবচেয়ে আকর্ষিত হচ্ছে, আসুন মোহাম্মদ (সঃ) জে জানি ওনার জীবন ওনার আচরন সম্পর্কে নিজে জানি ও অন্যকে জানাই,



Documentary on Prophet Muhammad মোহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে কিছু ডকুমেন্টারি

Who was Muhammad?


The Message (1977)
https://www.youtube.com/watch?v=iiHQ3XuGSyg


[HD] [Full Movie] Muhammad - The Last Prophet (Animated Cartoon)
http://www.youtube.com/watch?v=JXStkLWtOP0



BBC DOCUMENTARY on The life of The last Prophet Muhammad (pbuh) 


Muhammad Legacy of Prophet "Documentry"





Islam: Empire of Faith. Part 1: Prophet Muhammad and rise of Islam (full; PBS Documentary)




The Life of Prophet Mohammed (peace be upon him)


The History Channel - Muhammad The Prophet




Who was Muhammad? By Non Muslims



মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে ব্লগ
লিখেছেন এস. এম. রায়হান , ২৩ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:২৮
Click This Link

বেঞ্চমার্ক মুহাম্মদ (স):। লাইফ ইজ বিউটিফুল। ট্রাই করেই দেখুন না। প্লিজ!
লিখেছেন পাললিক মন , ১০ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৯
Click This Link

ডিসিশন... কোনটি নিবেন??
লিখেছেন মেলবোর্ন ২৩ শে জুন, ২০১২ বিকাল ৩:২৯
Click This Link

BBC - The Life of Muhammad
লিখেছেন নাফাজি , ২০ শে জুন, ২০১২ রাত ১১:৪৫
Click This Link

সম্পদের লালসা ও বিবাহ Vs মুহম্মদ (সা).. সামুরাইয়ের যুক্তিখন্ডন
লিখেছেন কর্ণেল সামুরাই , ১৩ ই এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ২:১৯
Click This Link

রাসূল (সাঃ) এর সাথে বিয়ের সময় আয়শা (রাঃ) র বয়স ৬ বছর ছিল এটা এক বিরাট ঐতিহাসিক ভ্রান্তি।
লিখেছেন গুপী গায়েন ১৩ ই জুন, ২০১১ বিকাল ৪:৩০
Click This Link

0 comments
Labels: ,

রাসূল (সঃ)এর অবমাননা ও আমাদের করনীয়

ইসলামের শত্রুরা মহানবী (সাঃ) এর জীবদ্দশায়ই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের দ্বারা তাঁকে এবং তাঁর অনুসারীদেরকে কষ্ট দিতে কোন ত্রুটি করেনি।এখনো সে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। মহানবী (সাঃ) তাঁর ধৈর্য, মহত্ত্ব ও উদারতার দ্বারা শত্রুর এসব নিন্দা ও ঠাট্টা-বিদ্রুপ উপেক্ষা করে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন।আমাদের উচিত মহানবী (সাঃ)এর আদর্শকে সমুন্নত রেখে ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে এ ধরণের উস্কানির প্রতিবাদ করা।

আমাদের সবার পক্ষ হতে সমুচিত জবাব হবে রাসুল (সঃ) সর্ম্পকে জানা ও ওনার সর্ম্পকে পরিস্কার ধারনা রাখা, আর ওনার দেখানো পথ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

আর মোহাম্মদ (সঃ) এর অবমাননার জন্য কি করা যায় তা নিচের প্রতিবাদ সমুহে দেখুন:

কোরআন অনুযায়ী অবাঞ্চিত বাজে কথাবার্তা শুনলে বা দেখলে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিনি কারন দেখুন :
সুরা আল কাসাস সুরা নং২৮ আয়াত নং ৫৩ থেকে ৫৬ তে বলা হয়েছে " ৫৩:যখন তাদের কাছে এটা পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম। এটা আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য। আমরা এর পূর্বেও আজ্ঞাবহ ছিলাম।
৫৪: তারা দুইবার পুরস্কৃত হবে তাদের সবরের কারণে।তারা মন্দের জওয়াবে ভাল করে এবং আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।
৫৫: তারা যখন অবাঞ্চিত বাজে কথাবার্তা শ্রবণ করে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের জন্যে আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।
৫৬:আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তা’আলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন।

আরো দেখুন আল্লাহ বলেনঃ "আপনার পূর্বে কত রাসূলের সাথে ঠাট্টা করা হয়েছে। অতঃপর আমি কাফেরদেরকে কিছু অবকাশ দিয়েছি। , এর পর তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব কেমন ছিল আমার শাস্তি।" (সুরা আর-রাদঃ ৩২)

এবার দেখি কিছু ইসলামী স্কলারদের মতামত:
১। নোমান আলী খান:

২। শেখ আব্দুর নাসের জাগদা বলেনAbdul Nasir Jangda SAID:
মোহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে করা ভিডিও সম্পর্কে
ক। বিক্ষুব্ধ হওয়া এটা শুধু ঠিকই নয় বরং এটি আমাদের ঈমান ও মোহাম্মদ (সঃ) কে ভালবাসার বহিপ্রকাশও তাই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে

খ। আমরা আমাদের মহানবী (সঃ) কে সম্মান দেখাতে পারবোনা ওনার দেয়া শিক্ষাকে অপমান করে বা না মেনে আমাদের চিন্তা করতে হবে মোহাম্মদ (সঃ) এমন অবস্থায় কি করতেন, তিনি কি করেছিলেন যখন মক্কার লোকেরা ওনাকে জাদুকর বলেছিল, ওনাকে পাথর মেরেছিল ও অরো অনেক অপমান করেছিল?

গ। পৃথিবীতে সবসময়ে জ্ঞানহীন/অবিবেকী/মূর্খ লোক ছিল ও থাকবে তাই কোরআন আমাদের শিক্ষা দেয় তাদের হতে উপরে উঠতে / নিজের বিবেক কে কাজে লাগাতে চিন্তা করতে সর্বপরি তাদের বোঝাতে চেস্টা করতে।

ঘ। এই বিশ্বকে জানাতে হবে মোহাম্মদ (সঃ) কে ছিলেন , কেন তাকে আল আমিন বলাহয় কেন তিনি আমাদের এত প্রিয়, কেন তিনি মানবতার জন্য উদাহরন স্বরুপ আর এটা তখনই সম্ভব যখন আমরা ওনাকে নিজেরা জানবো ওনার আর্দশে জীবন গড়বো আর তা করতে হলে আগে আমাদের শিখতে হবে কোরআন থেকে ওনার জীবনী থেকে




শেখ আব্দুর নাসের জাগদার খুদবা রাসুল (সঃ) এর সম্মান এবং উনি কি ভাবে এমন পরিস্থতির মোকাবেলা করেন ডাউনলোড লিংক
Click This Link

৩। ডিসকভার ইসলাম: আলহামদুলিল্লাহ "ডিসকভার ইসলাম নামের একটি সংগঠন ১ লক্ষ ১০ হাজার কপি কোরআনের অনুবাদ ও মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী অমুসলিম দের মাঝে বিতরন করেছে ইংল্যন্ডে" এবার আপনি ভাবুন আপনি আমি যারা রাস্তা নেমে মিছিল করি বা কারো গাড়ি ভাংচুর করি তবে তাতে কি হয় এতে কি সেই লোকের যে ভিডিও বানালো বা কাটুন আকলো কোন ক্ষতি হবে না কি নিজেদের দেশের মানুষের সম্পদের ক্ষতি হবে, আর আমরা যদি মিছিল না করে মোহাম্মদ (সঃ) জীবনি ও কোরআন সবার জন্য জানার ও বোঝার ব্যবস্থা করি মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনী সাহাবা দের জীবনী নিয়ে ডকুমেন্টারি, ছবি ,বই প্রকাশ কে জবাব দেই সেটাই কি বেশি কাজে আসবে না?



 স্পোকেন ওয়ার্ড রিস্পন্স টু ইনোসেন্স অফ মুসলিম:

#MUHAMMAD | INNOCENCE OF MUSLIMS SPOKEN WORD | RESPONSE | HD







Sh. Khalid Yasin Responding to the Insults of Muhammad ﷺ

0 comments
Labels:

অর্থপূর্ন ও বরকতময় নামাজ / নামাজের খুশু বা একাগ্রতা পর্ব ১

আপনি কি নিজেকে কখনো খুব খারাপ সময়ের/ ডিফিকাল্ট সিচুয়েশনের মধ্যে পেয়েছেন?

আপনি কি নিজেকে কখনো যে কোন কিছুর খুবই প্রয়োজনিয়তায় অনুভব করেছেন / এমন কিছু খুব করে চাইছেন?

আপনি কি নিজেকে কখনো এমন মনে করেছেন যে কেহ আপনাকে কিছু বলেছে বা করেছে তার জন্য আপনি খুবই র্মমাহত, খুবই কস্ট পেয়েছেন, খুবই মন খারাপ হয়েছে?

আপনার যদি উপরোক্ত কোন প্রশ্নের উত্তর হ্য হয় এবং সম্ভবত আমাদের সকলেরই কোন প্রশ্নের সাথে মিলে এবং উত্তর হ্য হবে তবে তার সমাধান কি? কি করলে এই সকল সমস্যা গুলোকে মোকেবেলা করা যায়?

এর উত্তর খুবই সোজা একটি মাত্র শব্দে নিহিত রয়েছে? আর তা হলো সালাত বা নামাজ।

সালাত বা নামাজ হল এমন একটি মাধ্যম যার মাধ্যমে আমাদের কস্ট সমুহ দূর হয়, জীবন হয় সহজ সরল ও সুন্দর। সালাত বা নামাজ আমাদের মনের, আত্বার ও জীবনের প্রশ্ন , চিন্তা , ভাবনা ও কনফিউশনকে দূর করে জীবন কে পরিপূর্ন করে।

কিন্তু আরেকটি প্রশ্ন তখন আপনার মনে আসে, আমি নামাজ পড়ছি বা সালাত আদায় করছি গত ২০,৩০ বা ৪০ বছর যাবত, নামাজ/সালাত আমার জীবনে সেই উদ্দেশ্য পরিপুর্ন করতে পারেনি, সালাত বা নামাজ আমার জীবনে সেই প্রভাব ফেলতে পারেনি, আমি নামাজের সেই সুফল পাচ্ছিনা বা পাইনি।

তবে আমি কি ভাবে নামাজের সেই সুফল/অভিজ্ঞতা পেতে পারি , কিভাবে নামাজের সেই স্বাদ পেতে পারি? আমি কিভাবে নামাজের ক্ষমতা, শক্তি বা বিশালতা অনুভব করতে পারি? কিভাবে সালাত আমাদের জীবন সমৃদ্ধ করতে পারে?

আশ্চর্যজনকভাবে এসকল প্রশ্নের উত্তর ও একটি শব্দের মাঝে নিহিত রয়েছে আর তা হচ্ছে খুশু বা একাগ্রতা, এটা এমন এক শব্দ যা কোরআনে আছে হাদীসে আছে, এ সম্পকে আমরা অনেক খুদবা শুনি, এ সম্পর্কে অনেক লেকচার ও আটিকেল পাবেন বিভিন্ন ওয়েব সাইটে।

কিন্তু কোটি টাকার প্রশ্ন আমি কিভাবে খুশু পাব বা একাগ্রতা অর্জন করবো? আমি বুঝলাম খুশুর গুরুত্ব এবং আমার খুশু দরকার ? আমি কিভাবে খুশু কার্যে পরিণত করতে পারি, আমার নামাজে খুশুর উন্নয়ন করতে পারি?

এর সবচেয়ে ভাল সহজ ও দ্রুত উপায় হলো আমরা নামাজে কি পড়ি বা বলি তা জানা ও বোঝা, নামাজের ভাষা বোঝা ও হৃদয়ঙ্গম করা এটাই হচ্ছে খুবই দ্রুত ভাবে নামাজে খুশুর অভিজ্ঞতা পাওয়ার মাধ্যম আর এর ফলে নামাজ কে অনুভব করা ও নামাজের আসল অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়

খুশুর একটি সুন্দর উদাহরন হচ্ছে সুরা ফাতিহা। একটি হাদীস-হাদীসে কুদসি তে আছে যখন আমরা নামাজে সুরা ফাতিহা পড়ি বা তিলাওয়াত করি , প্রত্যেক আয়াত যখন বুঝে ভক্তি নিস্ঠা সহকারে এবং একনিষ্ঠতা ভালবাসা ও গড়জ সহকারে পড়ি তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়লা আমাদের সাড়া দেন/জবাব দেন / উত্তর দেন প্রতিটা আয়াতের। এটা একটা সংলাপ/কথোপকথন/মতবিনিময় মহান আল্লাহর সাথে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমরা নামাজে অমনোযোগী/ অন্যমনস্ক/ ভুলো মনে থাকি , এর ফলে আমরা কত সুন্দর চমকপ্রদ,অপরূপ,বিস্ময়কর সুযোগ হারাচ্ছি আমাদের সারা জীবন ধরে।

এটাই আমার অনুপ্রেরণা এই অর্থপুর্ন ও বরকতময় নামাজ সম্পর্কে লিখার ক্ষেত্রে, যাতে আমরা বুঝতে পারি আমরা সারা জীবন কি হারাচ্ছি এবং কেন নামাজের সুফল আমাদের জীবনে দেখতে পারছিনা এবং আমি একটি জিনিসই চাচ্ছি আপনাদের কাছ থেকে তা হলো একটি দিনের একটু সময় করে নামাজের নিগূঢ়তা, সোন্দের্য সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করার ইচ্ছা। আমরা দেখবো নামাজে ব্যবহ্যত প্রত্যেকটি শব্দের অর্থ, কেন তা ব্যবহার করা হয়েছে আর তার সুফল। আর এর মাধ্যমে আমরা পরিশেষে জানতে পারবো হজরত মুহাম্মদ (সঃ) আসলেই কি বুঝিয়েছিলেন যখন তিনি বলেন "জুইরাত কুররাতু আইনি ফিস সালাত"
অর্থ আমার চোখের শান্তি নামাজে স্থাপন করে হয়েছে। তখনই আমরা বুঝবো তিনি কি বুঝিয়েছিলান।

চিন্তা করে দেখুন আমরা কি রকম অন্ধকারে রয়েছি , আমরা নামাজ পরছি ১০ বছর ১৫ বছর বা ২০ বছর বা ৫০ বছর, কত সময় চলে গেছে অথচ আমরা নামাজের আসল সুফল বুঝতে পারিনি আমরা কি বলছি কি চাচ্ছি কি অনুরোধ করছি আমাদের মহান সৃস্টিকর্তার কাছে যখন আমরা নামাজে দ্বাড়াই।

আল্লাহ আমাদের কে নামাজের খুশুর মাধ্যমে সবাই কে সুফল দান করুন, আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাজের সেই ক্ষমতা ও তৈফিক দান করুন যেমনি ভাবে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) নামাজ আদায় করেছেন, যেভাবে তিনি ও তার সাহাবিরা নামাজের সুফল পেয়ে দুনিয়া ও আখিরাতে সাফল্য পেয়েছেন। আমিন

0 comments
Labels:

অর্থবহ ও বরকতময় নামাজ / নামাজের খুশু বা একাগ্রতা পর্ব ২

সফলতা যার পিছনে আমরা সবাই ছুটছি সেটা কোথায় পাব , কি ভাবে পাব ইসলাম কি বলে সফলতা সম্পর্কে ?

সাফল্যের পথে নিয়ে যায় খুশু বা একাগ্রতা: খুশু বা একাগ্রতা যখন আপনি এই শব্দটি শুনেন তখন প্রথম আপনার মনে কি আসে? সালাত বা নামাজ তাই না। তাহলে সাফল্য কোথায় উত্তর হবে নিশ্চই নামাজে বা সালাতে। আমরা দেখবো কিভাবে খুশু সফলতার সাথে সম্পর্কযুক্ত।

প্রথমে আমরা দেখবো সফলতা কি? সফলতা এমন কিছু যে যখন আমরা সফলতা শব্দটা শুনি আমরা আমাদের মনে কল্পনা করি, সবাই সফলতা নিজের মনে বিভিন্নভাবে কল্পনা করে থাকেন, যেমন কারো জন্য একটি বিশল বাংলা বা বাড়ি, কারো দামি গাড়ি, কারো হতে পারে কোম্পানির উচ্চতর কর্মকর্তা বা মালিক যার রবে প্রাইভেট জেট । অনেক তরুনের নিকট সাফল্য হলো তার নাম কোন জার্সির পেছনে লিখা যেমন জাতীয় দলের ক্রিকেটার বা ইংলিশ প্রমিয়ার লিগে খেলা কোন ফুটবলার হিসেবে নিজেকে কল্পনা করা। তার মানে সফলতাকে একেক জন একেক ভাবে অনুভব বা উপলব্ধি বা কল্পনা করেন

সাফল্যের বাস্তবিকতা বা সত্য বুঝতে হলে মুসলিম হিসেবে আমাদের দেখতে হয় কোরআনে এবং মহানবী (সঃ) সুন্নাহ বা তার জীবনীতে। আমাদের দ্বীন বলে সাফল্য কি? আমাদের প্রথমে উপলব্ধি করতে হবে যে আমরা সবাই সফলতা খুজছি। কেহ সকালে উঠে অফিসে বা কাজে , স্কুলে যায় না ব্যর্থ হওয়ার জন্য আমরা সর্বদা সফলতা কে খুজছি কোন কোন ভাবে সবাই এর পেছনে ছুটছি।

সাফল্যের বাস্তবিকতা বা সত্য বুঝতে প্রথমে বুঝতে হবে সফলতা শব্দটা কি বোঝায়, এটা একটা খুবই সুন্দর শব্দ আরবি ভাষায়, যে শব্দটা আল্লাহ সুবহানাহু তায়লা কোরআনে ব্যবহার করেছেন সফলতা বোঝাতে তা হলো "ফালাহ" এই ফালাহ শব্দটার মজার ব্যপার হলো ভাষাগত ভাবে এটা কৃষিকাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত। একজন কৃষকেও আরবিতে বলা হয় ফালাহ এখন আপনি চিন্তা করছেন যে এর সাথে সফলতার সম্পর্ক কি। আমরা জানি আমাদের জন্য সফলতা হলো জান্নাতে যাওয়া এর সাথে কৃষিকাজের সম্পর্ক কি হতে পারে। আমিতো কোন সম্পর্ক দেখি না? আসলে এখানেই আরবি ভাষার সৈন্দর্য এখানেই আল্লাহর ভাষার কোরআনের সৈন্দর্য।

দেখুন যখন একজন মানুষ কৃষিকাজ করে প্রথমত সে কি করে? সে মাটি কে রেডি করে তাই না যাকে বলে হাল চাষ বা মাটিকে ওলট পালট করা, আর মাটিকে ওলট পালট করার উদ্দেশ্য কি ? সেটা হলো যাতে মাটি নরম হয়, অস্কিজেন পায়, সুর্যের আলো ও পানি ভালভাবে মিশতে পারে তারপর সেখানে বিজ বুনলে তবে ফসল ফলে। ঠিক তেমনি ভাবে আল্লাহ সাফল্যকে বোঝাতে ফালাহ ব্যবহার করেছেন এইজন্য যে সাফল্য পেতে হলে ঠিক সেই মাটির মত মনটাকে উন্মুক্ত করতে হয় যাতে ঈমান, আমল ও তাকওয়া প্রবেশ করতে পারে মনের সাথে মিশতে পারে। কারন মনে ঈমান, আমল ও তাকওয়া মিশার পরই তা বাড়তে পাড়ে। ঠিক সেই ভাবেই একজন কৃষক তার মাটিতে যতটুকু পরিমান মিশাবে ততটুকু পরিমান ভাল ফসল উৎপন্ন হবে আর যে কম কাজ করবে ঠিক মত মাটি মিশাবেনা সময় মত পানি দিবেনা সে নিশ্চই ভাল ফসল পাবে না মানুষের মনও তাই যতটুকু ঈমান, আমল ও তাকওয়া মিশবে যতটুকু সে প্রেক্টিস করবে তার ফলাফলও সে রকমই হবে। তাই বলাযায় পরিণাম বা ফলাফল তাই হবে যতটুকু পরিমান চেষ্টা,প্রয়াস,উদ্যম,উদ্যোগ, খাটুনি আপনি করবেন। তাই আল্লাহ এত সুন্দর শব্দ আফালাহ ব্যবহার করেছেন

তাই আমরা যদি পুর্বের আলোচনায় ফিরে যাই আমরা সবাই সফলতা চাই
আর কোথায় সফলতা পাওয়া যায়, কি ভাবে পাওয়া যাবে আল্লাহ বলছেন "কাদা আফলাহাল মুওমিনুন" বিশ্বাসীরাই সফলকাম বা বিশ্বাসীরাই সফলতা পেয়েছে আর বিশ্বাসীদের কোয়ালিটি কি? তা হলো "আল্লাজিনা হুম ফি সালাতিহিম খাশিউন" আল্লাহ নামাজের সাথে যুক্ত করেছেন সফলতা।

কোরআনের আরেক সৈন্দর্য হলো এটি কিভাবে একটি সুরা হতে আরেকটি সুরাতে যুক্ত হয় দেখুন সুরা হাজ্জে সুরা নং ২২ আর এর পরের সুরা নং ২৩ হলো সুরাতুল মুমিনুন কিভাবে এই দুই সুরা যুক্ত হয়েছে তা দেখুন সুরা হাজ্জে শেষের দিকে আয়াতে আল্লাহ বলেন "ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু ইরকাউ ওয়াস সুজু ওয়াবুদু রাব্বাকুম আয়াফালুল খাইর লায়াল্লাকুম তুফলিহুন" يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।[সিজদার আয়াত] সুরা হাজ্জ:২২ আয়াত নং:৭৭

এবং শেষের আয়াতে বলেন: সুতরাং তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে শক্তভাবে ধারণ কর। তিনিই তোমাদের মালিক। অতএব তিনি কত উত্তম মালিক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী। সুরা হাজ্জ:২২ আয়াত নং:৭৮

আরো দেখুন পরের সুরা সূরা আল মু’মিনূন আল্লাহ বলেন
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ-মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে,
الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ-যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র;
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ-যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,
وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ -যারা যাকাত দান করে থাকে
সূরা আল মু’মিনূন ২৩ আয়াত নং:১-৪

লক্ষ্য করে দুখুন আল্লাহ কিভাবে সুরা হজ্জে শেষ করেছেন নামাজ ও যাকাত সম্পকে বলে আর পরের সুরা সূরা আল মু’মিনূন ও শুরু করেছেন নামাজ ও যাকাত সম্পর্ক বলে। তো দেখুন আল্লাহ বলেন নামাজ কায়েম কর যাতে সফল কাম হতে পার, তাই আমারা যারা সফলাতার দিকে ছুটছি আসল সফলতা পেতে হলে আমাদের সবার আগে সালাত বা নামাজের দিকে মনোযোগি হতে হবে।

তবে চলুন দেখি আল্লাহ কিভাবে নামাজ কে কোরআনে বর্ননা করেছেন, আল্লাহ বলেন "ওায়াকিমিস সালাতা লি জিকরি" আল্লাহ মুসা আলাহিস সালাম কে বলেন সালাত প্রতিস্ঠা কর আমার জিকিরের মাধ্যমে। আপনারা চিন্তা করতে পারেন জিকির কি ভাবে সালাতে সাথে সম্পর্ক যুক্ত বা জিকির কিভাবে সালাত হতে পারে, আমরা নামাজে জিকির করি তবে কিভাবে নামাজ/সালাতটাই জিকির হয়? দেখুন কতটা আকর্ষনীয় আমরা যদি একটু মনযোগ দেই একটু গভির ভাবে ভাবি যেই আয়াত গুলো আমরা পড়ে যাই তবে দেখবো কত শিক্ষা এর মাঝে রয়েছে। আপনি দেখবেন কিভাবে সবকিছু মিলে যায়, কিভাবে আপনার ঈমান আরো বাড়ে আরো মজবুত হয় শুধু মনযোগ দিয়ে পড়ার মাধ্যমে বোঝার মাধ্যমে।

জিকিরের একটি গুন কি? আপনি সমসময় করতে পারেন তাই না, কোন সময় বাধা নে আপনি যে কোন সময় করতে পারেন। আপমি যদি রোজার কথা বলেন তবে দেখবেন এটি সময় নির্ধারিত (সুর্য উদয় হতে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত) বা শুধু রমজান মাসে,হজ্জ তাও বছরে একবার এর একটি নিদ্দিস্ট মাসে ওমরা তাও নিদ্দিস্ট নগরিতে, যাকাত ও নিদ্দিস্ট বলাযায় আপনি বছরে নিদ্দিস্ট পরিমান দেন কিন্তু জিকির সবসময়ের জন্য, আল্লাহ সালাতুন জিকির পছন্দ করেন কারন সালাত ও জিকির একই গুন সম্পন্ন
দেখুন সূরা আল ইমরান ৩ আয়াত নং ১৯১

الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىَ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
"যাঁরা দাঁড়িয়ে, বসে, ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চিন্তা গবেষণা করে আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষযে, (তারা বলে) পরওয়ারদেগার! এসব তুমি অনর্থক সৃষ্টি করনি। সকল পবিত্রতা তোমারই, আমাদিগকে তুমি দোযখের শাস্তি থেকে বাঁচাও।"

আপাতদৃস্টিতে দেখলে মনে হবে এই আয়াতে শুধু জিকির বুঝিয়েছে আমরা কখনো মিলিয়ে দেখিনি আপনি দেখুন আমরা কিভাবে নামাজ পড়ি দাঁড়িয়ে, বসে এবং ধরুন কেহ যদি অসুস্থ থাকে বা হাসপাতালে তিনি কি শায়িত অবস্থায় নামাজ পড়েন না। সালাত হলো সর্বদা আল্লাহর দিকে যাওয়া আল্লাহকে স্বরন করা সর্বাবস্থায় সালাত বা নামাজ মানুষকে তার প্রভুর সাথে যোগ করে, আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে যায় তাই আল্লাহ বলেন তুমি সফলতা চাও তবে নামাজে মনোযোগো হও নামাজে নিয়মিত হও

দেখুন নামাজের মাধ্যমে কিভাবে সফল হওয়া যায় তার প্রমান সয়ং হজরত মুহাম্মদ (সঃ),
According to the Quran, Prophet Muhammad was the most excellent example for all of humanity। Even non-Muslim historians recognize him to be one of the most successful personalities in history. Read what the Reverend R. Bosworth-Smith wrote in "Mohammed & Mohammedanism" in 1946:

"Head of the state as well as the Church, he was Caesar and Pope in one; but, he was pope without the pope's claims, and Caesar without the legions of Caesar, without a standing army, without a bodyguard, without a palace, without a fixed revenue. If ever any man had the right to say that he ruled by a Right Divine, it was Mohammad, for he had all the power without instruments and without its supHead of the state as well as the Church, he was Caesar and Pope in one; but, he was pope without the pope's claims, and Caesar without the legions of Caesar, without a standing army, without a bodyguard, without a palace, without a fixed revenue. If ever any man had the right to say that he ruled by a Right Divine, it was Mohammad, for he had all the power without instruments and without its support. He cared not for dressing of power. The simplicity of his private life was in keeping with his public life."port. He cared not for dressing of power. The simplicity of his private life was in keeping with his public life."


While we are reviewing statements from famous non-Muslims about Prophet Muhammad, peace and blessings be upon him, consider this:

"Philosopher, orator, apostle, legislator, warrior, conqueror of ideas, restorer of rational dogmas, of a cult without images; the founder of twenty terrestrial empires and of one spiritual empire, that is Muhammad. As regards all standards by which human greatness may be measured, we may well ask, is there any man greater than he?"

[Lamartine, HISTOIRE DE LA TURQUIE, Paris, 1854, Vol. II, pp. 276-277.]


And then we read what George Bernard Shaw, a famous writer and non-Muslim says:

"He must be called the Savior of Humanity. I believe that if a man like him were to assume the dictatorship of the modern world, he would succeed in solving its problems in a way that would bring it much needed peace and happiness."

[The Genuine Islam, Singapore, Vol. 1, No. 8, 1936]


Then we found that K. S. Ramakrishna Rao, an Indian (Hindu) professor of Philosophy, in his booklet "Muhammad the Prophet of Islam" calls him the "perfect model for human life." Professor Ramakrishna Rao explains his point by saying:

"The personality of Muhammad, it is most difficult to get into the whole truth of it. Only a glimpse of it I can catch. What a dramatic succession of picturesque scenes. There is Muhammad the Prophet. There is Muhammad the Warrior; Muhammad the Businessman; Muhammad the Statesman; Muhammad the Orator; Muhammad the Reformer; Muhammad the Refuge of Orphans; Muhammad the Protector of Slaves; Muhammad the Emancipator of Women; Muhammad the Judge; Muhammad the Saint. All in all these magnificent roles, in all these departments of human activities, he is alike a hero."

0 comments